ভাহলিয়া নো হানামুকো [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Vahlia no Hanamuko

ভাহলিয়া নো হানামুকো
জানরাঃ হিস্টোরিক্যাল, ফ্যান্টাসি, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৪
ভলিউমঃ ১
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৭৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

“আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে” খ্যাত মাঙ্গাকা আকিযুকি সোরাতার ৪টি আলাদা ওয়ানশটের সংকলন ভাহলিয়া নো হানামুকো মাঙ্গাটি। খুব সম্ভবত ওনার প্রথম প্রকাশিত মাঙ্গা ছিল এটি। তবে এই মাঙ্গার হাত ধরেই ওনার মাঙ্গাকা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল কিনা তা ঠিক নিশ্চিত না। ৪টি ওয়ানশট এবং সেগুলোর গল্পঃ

#১। ভাহলিয়া নো হানামুকো/হানামুকো’স ব্রাইডগ্রুম

রুজিরিয়া বংশের জ্যেষ্ঠ কন্যা ভাহলিয়া ছোট থাকতেই তার বাগদান হয়েছিল কালস্ড বংশের জ্যেষ্ঠ পুত্র জিরুর সাথে। কিন্তু বলা নেই কওয়া নেই হুট করেই জিরু নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এদিকে তাদের বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। তাই এক মাস আগে ভাহলিয়ার নতুন বাগদত্তা হল জিরুর ছোট ভাই লুসেল। কিন্তু বিকল্প হিসেবে লুসেলকে বিয়ে করতে রাজি নয় ভাহলিয়া। জিরুর জন্য অপেক্ষা করাটাও হবে বোকামি। তাই বাগদানের উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝে রাত্রে বেলা ভাহলিয়া চুপটি করে বেড়িয়ে পড়ল জিরুর খোঁজে। সাথে যোগ দিল লুসেল।

#২। রিঊ নো মোরিউতা/লুলাবাই ফর এ ড্রাগন

“হেভেনলি ড্রাগন” হল সাগর এবং দ্বীপের রক্ষাকর্তা। ১৫০ বছর আগে এই স্বর্গের ড্রাগনরা হারিয়ে ফেলেছিল তাদের প্রাচীন বাসস্থান। এরপর পৃথিবীতে নেমে এসেছে এক ড্রাগনের সন্তান। লোককথা অনুসারে এই মানবরূপী ড্রাগন কিতো কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একদিন নতুন হেভেনলি ড্রাগন হিসেবে জেগে উঠবে। তারপর আবারও রক্ষা করবে পৃথিবীকে। কিতোর পূজারী শুয়েন আর আর কিতো অপেক্ষায় আছে সেই দিনটির যেদিন কিতো ড্রাগন হিসেবে জাগ্রত হবে।

#৩। গিনসেকাই নো শৌমেই/দ্যা স্নোকেপ’স এমব্লেম

এক তুষারময় প্রান্তরে আলযা একাকী বাস করে। হঠাৎ একদিন সেখানে অচেতন অবস্থায় তুষারের মাঝে পড়ে থাকতে দেখে এক মেয়েকে। জ্ঞান ফিরলে মেয়েটি জানায় তার নাম রিয়াহ এবং সে এসেছে দূরে দেখা যাওয়া জাদুর শহরটি থেকে। কিন্তু এতদূরে তুষারের ধূধূ প্রান্তরে সে কিভাবে হাজির হল সেটাই একটা রহস্য। আলযা জাদু ব্যবহার করতে মানা করে দেয় রিয়াহকে। জাদুর শহরে বেড়ে ওঠা রিয়াহ আবিষ্কার করে জাদুহীন পৃথিবীটাও কতটা সুন্দর হতে পারে। কিন্তু আলযা কেন জাদুকে এতটা অপছন্দ করে? রিয়াহ শরীরে আঘাত নিয়ে জাদুর শহরে থেকে কেমন করে এল এখানে? সেখানে ফিরে গেলেই বা কি হবে?

#৪। ওতোগিবানাশি নো ফুদে/দ্যা ব্রাশ অফ এ ফেইরি টেল

অনেক অনেক কাল আগে কোন এক গ্রামে নদী-নালা, হ্রদ আর তৃণভূমি ছিল। এখন শুধু সেই বিশাল সবুজ তৃণভূমিই গ্রামের ছবির মত সৌন্দর্য বহন করে। এই শুকিয়ে যাওয়া গ্রামটিকে ৩০০ বছর ধরে আগলে রেখে দেবতারা। এখানে একটি পবিত্র গাছের মূলের চারদিকের লেখাগুলো চুক্তি হিসেবে গ্রামটিকে দেবতাদের সাথে বেঁধে রেখেছে। সাসারা য়ূকেইয়ের দায়িত্ব মিশে যাওয়া লেখাগুলো আবার নতুন করে তুলি দিয়ে লিখে দেওয়া। একদিন তার কাজ করতে গিয়ে হঠাৎই গাছের ভেতর সে দেখা পেয়ে গেল জল দেবীর। একাকী জল দেবীর কথা বলার সঙ্গী হল য়ূকেই। কিন্তু যে কাজ করে য়ূকেই ভেবেছিল সে জল দেবীকে রক্ষা করছে ব্যাপারটা কি আসলেই তাই?

গল্পগুলো একটা অপরটার সাথে সম্পর্কহীন। তবে এই ছোট গল্পগুলো প্রতিটিই খুব সুন্দর। বেশির ভাগ ওয়ানশট পড়লে মনে হয় সেগুলো ওয়ানশট বানানোর জন্যই তৈরি হয়েছে। মাঝ খান দিয়ে কোন এক জায়গা থেকে শুরু হয়ে ধুমধাম কাহিনী আগায় তারপর শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই ওয়ানশটগুলো পড়লে মনে হয় একটা পুরা মাঙ্গাই যেন এক চ্যাপ্টারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা খারাপ অর্থে নয়। এটার প্রতিটা ওয়ানশটই নিজ নিজ আলাদা মাঙ্গা পাবার মত যোগ্য। একেকটা চ্যাপ্টার পড়ে অর্থহীন মনে হয় না। শৌজো হলেও এগুলো ঠিক রোমান্টিক না, রূপকথার গল্পের মত। পড়তে পড়তে আপনি গল্পের সাথে মিশে যাবেন। চরিত্রগুলোকে দেখলেও মনে হবে না যে তাদের নিজের কোন ব্যক্তিত্ব নেই। আর একটি চরিত্রের সাথে আরেক চরিত্রের সম্পর্ক, বন্ধন এগুলোও অল্পের মধ্যেই বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি গল্পের সেটিংও অভিনব। সাথে তো আকিযুকি সোরাতার জাদুকরী আর্ট আছেই! সাধারণত দেখা যায় যে সব মাঙ্গাকার আর্টই শুরুর দিকে ভয়াবহ থাকে। তারপর বছরের পর বছর আঁকতে আঁকতে তাদের আর্ট ভালো পর্যায়ে আসে। অবাক করা ব্যাপার হল এখানে সোরাতার আর্ট এত বেশি নিখুঁত আর চমৎকার যে দেখলে কেউ বলবে না এটা তার প্রথম মাঙ্গা। উনি যেন জন্ম থেকেই পেশাদার আর্টিস্ট!! তার চরিত্র এবং পোশাক-পরিচ্ছদ আঁকার যে নিজস্ব ধরণ আছে তাও একদম এখান থেকেই শুরু হয়েছে। গল্প, সেটিং, আর্ট, চরিত্র সবদিক থেকেই উনি এত নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন যে কয়েক বছর পর ভবিষ্যতে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মত একটি অসাধারণ মাঙ্গা যে আমাদের উপহার দিতে যাচ্ছিলেন তার পুর্বাভাসই যেন দিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যস্ততার মাঝে বা সময় কাটানোর জন্য যদি ছোট কোন মাঙ্গা পড়তে ইচ্ছে হয় তো পড়ে ফেলতে পারেন ভাহলিয়া নো হানামুকো। পড়লে পস্তাবেন না এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

Comments