নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 3] — Rahat Rubayet

———– Naruto Fan Fiction- part:3—————————-
————————————————————–
ফাইনাল ভ্যালীর পরিবেশ শান্ত-সমাহিত। কোন অস্থিরতা নেই কোথাও। তবে ভাল করে খেয়াল করলেই বোঝা যায়, বাতাসে একটা গুমোট ভাব। কোন ঝড়ের পূর্বাভাস যেন। প্রকান্ড দুই প্রতিমূর্তি মাদারা আর হাশিরামার পাশেই ছোট্ট একটা বিলের মতন। বিলের ওপর ঠায় দাড়িয়ে আছে সাস্কে আর নারুটো। সাস্কে নাইন টেইল-অর্থাৎ বিজু মোডে আর নারুটো সেইজ মোডে।
সাস্কের চোখে অবজ্ঞার দৃষ্টি। অবজ্ঞা করবে না-ই বা কেন? ভাবে সাস্কে। নারুটোর মতো ল্যুজারকে ইচ্ছে করলেই পিষে ফেলতে পারে ও। ভাবতে ভাবতেই নিজেকে নিয়ে গর্ব অনুভব করে সাস্কে। বলল,
“নারুতো, আমার সাথে ফাইট করে কি লাভ? তোমাকে খুন করতে ১মিনিট সময় লাগবে না আমার। তার চাইতে বরং আমার কাছে প্রানভিক্ষা চাও। এক সময়কার কমরেডের জন্য এটুকুন……..।”
“ইনাফ অলরেডি।” গমগম করে ওঠে নারুটোর কণ্ঠস্বর। মাথার লিফ-নিনজার সাইন সমেত হেডব্যান্ড টা শক্ত করে বেধে নেয়। তারপর একটা হাত মুঠি করে সামনে নেয় নারুটো। তারপর বলে,
” আমার গ্রামের নামে শপথ করে বলছি, সাস্কে। i will take you down.” বলেই হাতে থাকা কুনাই টা আলতো করে উপরে ছুড়ে দেয় নারুটো। অনেকটা খেলাচ্ছলে যেন। সাস্কে দেখলো কুনাইটা নিচে পরার আগেই হাওয়া হয়ে গেছে নারুটো। মনে মনে প্রমাদ গুনল। ও জানে ঠিক ঘাড়ের পেছনেই হাজির হবে নারুটো। বাকা একটু হাসল সাস্কে। ও এক ভুল ২ বার করে না। ঘাড়ের পেছনে নির্দয়ভাবে চিদোরি সোওরড চালিয়ে দিল। নারুটোর বুক বরাবর ঢুকল তা। বিস্ময়ে হা হয়ে গেছে নারুটো।
পরক্ষনেই ভুল ভাঙল সাস্কের। ওটা নারুটোর কাগে বুনশিন বা শ্যাডো ক্লোন ছিল। নারুটো তার কাগে বুনশিন কে টেলিপোরট করেছে। আর ওদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া কুনাইতে নিজেকে টেলিপোরট করে নিয়ে যায় পানির ভেতর। সাস্কের ঠিক নিচে থেকেই উঠে আসে আচমকা। হাতে ম্যাসিভ রাসেঙ্গান।
কিন্তু বিজু মোডে থাকায় তা সেন্স করতে পারলো সাস্কে। অনেকটা বাউলি কেটে একপাশে সরে যায় ও। তবুও ম্যাসিভ রাসেঙ্গানের একটা অংশ নাগাল পেয়ে গেল ওর। কিন্তু, গায়ে নাইন টেইল- চাকরা ক্লোক থাকায় সাস্কের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত কাটলো না, ভয়ঙ্কর ওই জ্যুতসু।
সাস্কে পাশ কেটে গেলে, নারুটোকে পুরোপুরি অফ-গার্ডে পেয়ে গেল সাস্কে। ও শুধু নারুটোর কব্জিটা ধরলো। নারুটো তাকিয়ে দেখলো, সাস্কের চোখে ক্রূঢ় হাসি। বুঝলো এই মুহূর্তে সড়ে যেতে হবে ওর। কিন্তু ততক্ষনে সাস্কে আমাতেরাসু কাস্ট করে ফেলল, ওর ওপর।
অসহ্য যন্ত্রণায় চেচিয়ে ঊঠল, নারুটো। ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো খাবি খেতে লাগলো। মাংস পোড়া উৎকট গন্ধ বেড়িয়েছে। পাগলের মতো শরীরে পানি লাগাতে থাকল। কিন্তু, কিছুতেই আগুন নেভেনা। ব্যথা-যন্ত্রনায় চোখে পানি চোলে আসে নারুটোর। হটাতই, বিদ্যুৎ চমকের মতন একটা কথা মাথায় চলে আসে নারুটোর। এতক্ষন ধরে পুড়তে থাকলে নিশ্চিতভাবেই মারা যাবার কথা ওর। কিন্তু, প্রচন্ড যন্ত্রনা স্বত্বেও হাত-পা ঠিকই নারাতে পারছে ও। নিজেকে তিরস্কার করল মনে মনে। এভাবে সাস্কের গেঞ্জ্যুতসুতে আক্রান্ত হওয়াটা চরম মূর্খতা। কি করে ছাড়া ভাবে এই যন্ত্রণাকর জ্যুতসু থেকে, ভাবতে থাকে নারুটো। এরো সেননীনের শেখানো চাকরা ব্লাস্ট করাটাও এখন পসিবল হবে না ওর পক্ষে। কোনভাবে যদি এর থেকে বের হওয়া যায়,……… আরে তাই তো। কোন ভাবে যদি ও সাস্কের নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে পারে, তবেই তো তা ব্রেক হবে।
সময় নষ্ট না করে, সেখান থেকেই ফ্লাইং রাইজিন ইয়্যুজ করল ও। একেবারে ইচিরাকুর দোকানের সামনেটায় চলে এল ও। মুহূর্তেই বেড়িয়ে এল গেনজ্যুতসু কাস্টার সাস্কের নিয়ন্ত্রণ-বলয় থেকে। এতে গেনজ্যুতসু সহজেই ভেঙে গেল।
পরপর দু’বার টেলিপোর্ট করল নিজেকে। পরক্ষনেই সাস্কের ঠিকে মাথার ওপরে পৌঁছে গেল। হাতে বেড়িয়ে এল রাসেঙ্গান। সাস্কের পিঠে সিমপ্লি বসিয়ে দিল ওই মারণাস্ত্র। সাস্কের নাইন টেইল চাকরা ক্লোক প্রায় পুরো আঘাতটাই ঠেকিয়ে দেয়। তবে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কার পুরোটাই টের পেল। বুল্ডোজার চালিয়েছে যেন ওর ওপর কেউ। ছিটকে ১০ হাত দূরে গিয়ে পরলো তবে উঠে দাঁড়াল সাথে সাথেই। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়েই থমকে দাঁড়ায় ও। হটাত, চিরচেনা কন্ঠের সেই ডাক শুনতে পেয়েছে ,”সাস্কে”।
ঘুড়ে তাকাতেই দেখল, ইটাচি আর শিসুই দাড়িয়ে আছে। ইটাচি বলতে থাকে,
“তুমি কোনোহার একজন শিনোবি। তোমার কাজ গ্রাম রক্ষা করা, ধ্বংস করা না। গ্রামের প্রত্যেক ক্ল্যান-প্রত্যেকে একে অন্যের ফ্যামিলি।”
সাস্কে অবাক হওয়ার ভান করে,”ফ্যামিলি??? তুমি কি করেছ তোমার ফ্যামিলির জন্যে? উপরন্তু, হোকাগের দাস হয়ে নিজের ক্ল্যানের ওপরই স্পাইগিরি করছ। শিসুইকে দিয়ে বাবা-মার ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে রেখেছ। আর যাই হোক, তোমার মুখে ফ্যামিলি শব্দটা মানায় না, ইতাচি। তার’চে আমাদের সাথে যোগ দাও। পুরো নিনজা সিস্টেমকেই আমরা নতুন করে গরে তুলবো।”
ক্লান্ত চোখে বেশকিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে ইটাচি। তারপর বলে,
“তুমি কি আমার উত্তরের অপেক্ষা করছো? তাহলে, তুমি জানো আমার উত্তর কি।
সাস্কে এখনো সুযোগ আছে। লর্ড হোকাগের সাথে আমি কথা,…………….­ ” ওকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয় সাস্কে। অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ৩জনের দিক তাকাল একবার। তারপর ফুলবডি কুরামা(নাইন টেইল শেপ) মোডে গেল। আর তারপর ফুলবডি আরমার্ড সুসানো দিয়ে তা ঢেকে দিল।
শিসুই আর ইটাচিও সুসানো এরাইজ করলো-ফুলবডি সুসানো। ইটাচির সুসানো লাল রঙের। এক হাতে টোতস্কা ব্লেড, আরেক হাতে ইয়াটা মিরর। শিসুই এর সুসানো সবুজ দেখতে। অয়েপন হিসেবে এক হাতে ড্রিল মেশিনের মতো কিছু একটা ধরা। তাছাড়া সুসানোর বুকে চাকরা নিডলস তো রয়েছেই। আর সাস্কের সুসানোর এক হাতে সোওরড। সুসানোর নিচে নাইন টেইল। ওদিকে নারুটো সামোন করল গামাকিচিকে। গামাচিকির শারীরিক গ্রোথ মানুষের মতো নয়। তাই গতবারের চাইতে এবার অনেক বেশিই বড় লাগছে ওকে।
সাস্কে শুরুতেই আক্রমন করল ইটাচিকে। সুসানোর পাখায় ভর করে ইটাচির ঠিক ওপরে এসেই হাল্কা মতন সোওরড টা ঘুরাল কেবল। সেই সাথে নাইন টেইলের লেজ গুলো দিয়ে প্রচন্ড বাড়ি বসালো শিসুইয়ের সুসানোর ওপর। নেই, মুহূর্ত আগেই সুসানো সমেত স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে ও। আর ওদিকে সহজেই সাস্কের সুসানো-সোওরডকে এরিয়ে গেল ইটাচি। হটাত, এক লাফে গামাকিচি সাস্কের ঠিক সামনেই চলে আসে। তার ওপর নারুটো। ওর হাতে উইন্ড স্টাইলের রাসেন-শুরিকেন। সাস্কেকে অফ-গারড পেয়েই আর এক সেকেন্ডও দেরি করে নি নারুটো। ওর সবচাইতে শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে চাইল সুসানোকে।
সাস্কের মাঙ্গেকিইয়্যু শারিঙ্গানের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তার পর্যবেক্ষণী ক্ষমতা। ইটাচি আর শিসুইকে আক্রমন করলেও ঠিকই খেয়াল করল নারুটো কে। সুসানোর আরেক হাট দিয়ে চেপে ধরলো নারুটোর ওই জ্যুতসু। প্রচন্ড শব্দে কানে তালা লেগে যাবার যোগাড়। হটাত, ঠিক সামনেই শিসুই সুসানো সমেত হাজির হল। সবকিছুই এত দ্রুত ঘটে গেল, সাস্কে প্রতিক্রিয়া দেখাবার সময় পেল না। তার আগেই শিসুই এর অজস্র চাকরা নিডলস আঘাত করতে থাকল সাস্কের সুসানোতে।
উপায়ন্তর না দেখে নাইন টেইলের লেজ দিয়ে প্রচন্ড আঘাত হানল, শিসুই এর সুসানো লক্ষ্য করে। কিন্তু তার আগেই গায়েব হয়ে গেছে যেন শিসুই। একই সাথে হাতের সুসানো-সোওরড দিয়ে ইটাচি কে আঘাত করে সাস্কে। ইটাচি অনায়াসে পাশ কেটে বেড়িয়ে যায়। ওদিকে ওকে অফ-গারড পেয়েই লাফিয়ে সামনে চলে এল গামাকিচি। নারুটো তার ওপর রাসেন-শুরিকেন হাতে দাড়িয়ে আছে। কাছে আসতেই আঘাত করল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল সাস্কে। একই ঘটনা এর আগেই ঘটে গেছে। এক হাতে নারুটোর জ্যুতসু ঠেকিয়েই প্রমাদ গুনলো। ঠিক এক সেকেন্ড পরেই শিসুই তার সবুজ সুসানো নিয়ে হাজির হল। সুসানোর বুক থেকে হাজার হাজার চাকরা নিডল বেড়িয়ে আসছে।
আসলে ইটাচি সাস্কের ওপর ইজানামি ইয়্যুজ করেছে। তাই বাস্তব দুনিয়ায় এক জায়গায় ঠায় দাড়িয়ে থাকলেও, সাস্কে তার মনের ভেতর একই লুপে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। যতক্ষন না সংশোধিত হচ্ছে ও, এর থেকে মুক্তি নেই কোন। এই জ্যুতসু আসলে ফেইট সিলিং বা ভাগ্য নির্ধারণী জ্যুতসু। ভয়ঙ্কর এই জ্যুতসু কাস্টারকে চরম মূল্যও দিতে হয়ে এর জন্যে। যে এই জ্যুতসু ইয়্যুজ করবে, তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। শর্তানুযায়ী ইটাচি তার একচোখ হারাল। ওর সুসানো ব্রেক হয়ে গেল তাতে।
সাস্কেকে এক জায়গায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে আর ইটাচির একচোখ সাদা হতে দেখেই যা বুঝার বুঝে নিল শিসুই। কিন্তু নারুটো, স্রেফ বোকা বনে গেছে ঘটনার আকস্মিকতায়। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই ইটাচি বলতে শুরু করলো,
“যত যাই হোক, দিনশেষে ও আমার ভাই। ওর যাবতীয় দায়ভার আমারই”, একটু থামল। তারপর যোগ করল, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, শিসুই।”
“i wonder!” হটাতই পেছন থেকে সাস্কের গলা শুনে ভয়ানক চমকে ওঠে ওরা তিনজন। সামনে ঠায় দাড়িয়ে থাকা সুসানো-শ্যাডো ক্লোন টা মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। “কি মনে করেছ আমাকে? অত সহজেই তোমার ফাঁদে পা দেবো?” বলতে থাকে সাস্কে,”আমি জানতাম তোমরা গেনজ্যুতসু টাইপ কিছু কাস্ট করবে। তাই……….” কথা শেষ না করেই থেমে যায় ও। সুসানো দিয়ে ঢাকা কুরামার আল্টিমেট অস্ত্র টেইল বিস্ট বম্ব তৈরি করছে। তারপর বলল, “একটা উপদেশ দিই। never underestimate an uchiha” বলেই ইটাচির দিকে ছুড়ে দিল তা।
তখনো হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে ওঠে নি ওরা কেউ। তবে শিসুই দ্রুত নড়ে উঠলো। ইটাচিকে টেইল বিস্ট বম্বের লাইন থেকে সরিয়ে নিল। কিন্তু, সাস্কের চোখে-মুখে পৈশাচিক হাসি থামে নি। কারন খুজতেই পেছনে তাকায় নারুটো। দেখল, ইটাচিকে মিস করা টেইল বিস্ট বম্ব গ্রামের একটা অংশ স্রেফ উরিয়ে দিয়েছে। কতজন মারা গেছে তার ইয়ত্তা নেই।
রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ-হতাশা আর ক্রোধের মিশ্র অনুভূতি খেলা করতে থাকে নারুটোর ভেতর। থরথর করে কাঁপছে ওর সারা শরীর। ক্রোধের অনুভূতিটা সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল। মাথার লাল চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত থরথর করে কাঁপছে। চোখ দুটো হিরের মতো জ্বলজ্বল করছে যেন। ওর নিল-সাদা চোখ দুটো ধীরে ধীরে রঙ বদলে বেগুনি রঙ ধারন করতে থাকে। তার সাথে অদ্ভুত এক প্যাটার্ন লক্ষ্য করল ইটাচি আর শিসুই। দেখা মাত্র চিনে ফেলল।
রিনেঙ্গান!!!!!!!!!
———————————————–

Comments

comments