নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 4] — Rahat Rubayet

———— Naruto Fan Fiction- part:4 (last part)—————————-
———————————————————-
লর্ড জিরাইয়া আর নারুটোর সাথে পেইনের ব্যাটেলের কথা মনে পড়ল শিসুইয়ের। ও শুনেছে পেইনের লিডার নাগাটো মারা যাবার সময় নারুটোকে তার রিনেঙ্গান দিয়ে যায়, যা এতদিন পর অর্থাৎ আজ এওয়োক করে ও। কাঁধ থেকে ইটাচিকে নামিয়ে রেখে বলল,”তুমি বিশ্রাম নাও, ইটাচি “। ইটাচিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বডি ফ্লিকার এ নারুটর পাশে চলে যায় ও। কাধে হাত রাখে।
ওদিকে তখনও স্বাভাবিক হতে পারে নি নারুটো। শরীরের কাঁপুনিটা থেমেছে কেবল। ফিরে তাকালো একবার শিসুইয়ের দিকে। ভয়ানক চমকে ওঠে শিসুই। এ দৃষ্টি আগেও দেখেছে ও। হিংস্র বাঘ আঘাত হানার আগে এ দৃষ্টিতে তাকায়। ও বলতে গেল, “আমাদের একটা প্ল্যান ধরে এগোন উচিৎ”, কিন্তু বলতে পারলো না শিসুই।
তার আগেই নারুটো তার হাত উঁচু করলো। গমগম করে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর ,”চিবাকু টেন্সে(প্লানেটারি ডিভাস্টেশন)”। চোখের সামনে থেকে ধীরে ধীরে সব উপরদিকে উঠে যাচ্ছে। ওদিকে সাস্কে ভীষণ চমকে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্রাভিটি ফিল হারাতে শুরু করেছে। ওপর দিকে প্রচন্ড আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে ও। তাকিয়ে দেখল, ওপরে একটা ছোট গোলোকের মতো, নিচে থেকে সবকিছু উঠে গিয়ে তাতে জোড়া লাগছে। এমন কি পাথুরে মাটি ফেটে বিশাল বড় বড় টুকরো হয়ে জোড়া লাগছে তাতে। ছাড়া পেতে সুসানোর পাখা নিয়ে নানা কসরত করতে লাগলো ও।
কিন্তু কিছুতেই ছাড়া পায় না ভয়ঙ্কর ওই সিলিং জ্যুতসু থেকে। ধীরে ধীরে নাইনটেইল আর সুসানো সমেত চিবাকু টেন্সের ভেতর সেধিয়ে যায় সবচাইতে শক্তিশালী উচিহা ওই সাস্কে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখে ও। শারিঙ্গান দিয়ে চারপাশটা ভাল করে তাকিয়ে দেখে আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে তা জাজ করতে থাকে। ও খুব ভাল করেই জানে, নারুটো আর শিসুইকে এখনো মেরে ফেলা কোন ব্যাপারই না ওর জন্যে। স্রেফ এলিমেন্ট অফ সারপ্রাইজে ওকে আটকে দিয়েছে নারুটো। এর পরে আর তা হবে না। কিন্তু তার আগে তো এর থেকে বেরুনো চাই,…
হটাতই কোর অংশটার দিকে নজর গেল ওর। ওটাই তাহলে এই জ্যুতসুর উইক পয়েন্ট। ওটাকে যদি ভাঙ্গা যায়,…… আরে তাই তো। এখান থেকে বেরুতে হলে ওই কোর অংশটাই ভাংতে হবে। তাছাড়া কোন উপায় নেই। কিন্তু, কিভাবে? এখান থেকে তো নড়তেই পারছে না সাস্কে।একটাই উপায় আছে। হুম, ওটা ভাঙার জন্যে একটা জ্যুতসু কাস্ট করবে মনে মনে ঠিক করলো। কিন্তু তার জন্যে চাই ন্যূনতম প্রিপারেশান। অন্তত মিনিট খানেক সময় ওর লাগবে, ওই অস্বাভাবিক শক্তিধর জ্যুতসু কাস্ট করতে গেলে।
এর মাঝে নারুটো আর শিসুই দেখল, আকাশ হটাত করেই ভয়ঙ্কর কালো হয়ে গেল। কালো মেঘে ছেয়ে গেছে পরিষ্কার আকাশ। কি হচ্ছে বুঝতে পারার আগেই আলোর ঝলকানি দেখল ওরা ওপরে। ১ সেকেন্ড পরেই বজ্রপাতের শব্দ। পরমুহূর্তেই প্লানেটারি ডিভাস্টেশনের কোর অংশে আঘাত করে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, সাস্কের কিরিন নামক মারণাস্ত্র। সিলিং জ্যুতসু ভেঙে যেতেই সাস্কে বেড়িয়ে এল। তার সুসানো নেই এই মুহূর্তে। ওকে ধাতস্থ হবার সুযোগ দেয়া যাবে না, ভাবে নারুটো। শিসুইও একই কথা ভাবছে মনে মনে।
দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালো শিসুই। ও জানে এখোনো ওদেরকে আন্ডার-এস্টিমেট করছে সাস্কে। তাই শিসুই সুসানো বের না করলে সাস্কেও করবে না। কাজেই ওকে সুসানো বের করতে দিবে না,শিসুই তার আগেই একটা ওপেনিং বের করে দিতে হবে নারুটো কে। মূল আঘাতটা নারুটোই হানবে। বাতাসে ভেসে ডজন খানেক কুনাই ছুড়ল সাস্কের চারিপাশে শিসুই।
ওটা একটা ফাঁদ। দেখা যাক ফাঁদে পা দেয় কিনা সাস্কে। আর ওদিকে শিসুইকে কুনাই ছুরতে দেখেই সাস্কে ভাবল, নারুটো আর হোকাগের মতোই শিসুইও নিজেকে টেলিপোরট করবে কুনাই তে। ওখানেই ভুলটা করল ও। শিসুই টেলিপোরটার না, স্পেশালিস্ট বডিফ্লিকার। ওর বডি ফ্লিকার এতই দ্রুত যে টেলিপোরট বলে ভুল হয়। সাস্কে আধ-সেকেন্ডের জন্যে দ্বিধায় ভুগলো। কোন কুনাইতে নিজেকে টেলিপোরট করবে শিসুই?
ঠিক ওটুকুন সময়ই দরকার ছিল শিসুই এর। ও বডি ফ্লিকার দিয়ে সাস্কের ঠিক সামনে হাজির হল, সরাসরি বুকে বসিয়ে দিতে চাইলো ধারালো সোরড। এতো কাছ থেকে এত দ্রুত সরে যেতে পারবে না। নিজেই বুঝতে পারলো সাস্কে। তাই সে চেষ্টা না করে অদ্ভুতভাবে শরীরটা বাঁকাল, পরে যেতে দিল নিজেকে। ওর বুকে সোওরড ঢুকানো নয়, ওকে অফ গার্ড আর অফ ব্যালেন্সড করাই উদ্দেশ্য ছিল, শিসুই এর। বাকি কাজ টা নারুটো করবে, জানে ও।
কিন্তু অবাক হয়ে গেলো শিসুই, শক্তিশালী কোন জ্যুতসু কাস্ট হতে না দেখে। দেখল, সাস্কে কে পেছন থেকে পেঁচিয়ে ধরেছে নারুটো। স্রেফ শক্ত করে পেচিয়ে ধরে রেখেছে ও। কোন নিঞ্জ্যুতসু ইয়ুজ করতে দেখল না, শিসুই।
এদিকে ওর কান্ড দেখে সাস্কে হো হো করে হেসে ওঠে। বলে, ” কি হে নারুতো, তোমার নিনজ্যুতসুর ভান্ডার খালি নাকি হে? শেষতক এভাবে আমাকে কাবু করবে ভাবছ?” নারুটো কোন উত্তর দেয় না। আরো কিছু বলতে শুরু করতে গিয়েই থেমে যায় সাস্কে। দুর্বল বোধ করতে শুরু করেছে, ব্যাপার কি-কিছুই বুঝতে পারে না ও। নারুটোর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে হাসফাস করতে থাকে।
হটাত কুরামার গলা শুনতে পায়, গর্ধব বলে গালমন্দ করছে ওকে। রিনেঙ্গান এর আরেকটা পাওয়ার হচ্ছে, চাকরা এব্জরভিং। এখন তাই করছে নারুটো। নাইন টেইলের ইয়েন চাকরা শুষে নিচ্ছে দ্রুত। অনেক কষ্টে পাগলের মতন হাত-পা ছোড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখলো ও। তবে দ্রুতই মাথা খাটাল। কি করে মুক্তি মিলবে এর থেকে। সহজ সমাধানটা এতো দেরি করে মাথায় এল দেখে শাপ শাপান্ত করতে থাকলো নিজেকে। কিন্তু সময় নষ্ট করলো না মোটেই। নারুটোকে খুন করার এর চাইতে আর মোক্ষম সুযোগ হয় না। লাইটেনিং চাকরা রিলিজ করলো ও। হাতে আনলো চিদোরি সোওরড। ওই অবস্থায়ই পেছন দিয়ে নারুটোর বুকে গেথে দিল ।
নারুটোর বুকের বাম দিক থেকে ঢুকলো। পাজরের হার ২ টো সাথে সাথেই ভাংলো। নারুটো বুঝতে পারলো আর দেড় ইঞ্চি ভেতরে ঢুকলেই ওর হার্টের নাগাল পেয়ে যাবে সাস্কে। কিন্তু সবে মাত্র ইয়েন চাকরা শুষে নিল ও। এখনো ইয়াং চাকরাটা বাকিই রয়ে গেছে। কিন্তু, এ অবস্থায় তা নিতে পারবে বলেও মনে হচ্ছে না। কাজেই, তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিতে হল ওকে। হালকা স্বরে শুধু বলল “শিনরা টেন্সে”
সাস্কে ছিটকে ২০/২৫ হাত দূরে গিয়ে পড়ল। সাথে সাথেই উঠে দাঁড়াল। মাথাটা বোঁ বোঁ করে উঠলো যদিও, তবু, সুসানো এরাইজ করলো। আর ভুল করবে না ও।
ওদিকে নারুটো ঊঠে দারাবার শক্তিটুকুন পাচ্ছে না। বুক থেকে ক্রমাগত রক্ত ঝরে যাচ্ছে। নিচের স্বচ্ছ পানি লাল হয়ে গেছে ওর রক্তে। ওর ক্ষতটা বাধা দরকার। প্রচুর রক্ত ঝরছে ও থেকে। তাছাড়া, সাস্কের নাইন টেইলের অরধেকটা চাকরা নিয়ে নিলেও এখনো ভয়ানক শক্তিশালী ও।
এদিকে শিসুই একা হাতে সাস্কের সাথে ফাইট করে যাচ্ছে। প্রচন্ড শক্তিধর আক্রমণগুলো একের পর এক নিখাদ রিফ্লেক্স আর চাতুরতার সাথে ফাকি দিয়ে যাচ্ছে ও। সুসানো সহই দ্রুত বডি ফ্লিকার দিয়ে ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তের নোটিসে। এর মাঝেই নারুটোর সাথে একবার কথা হয়েছে ওর। নারুটো শুধু বলল, “তুমি শুধু একটা ওপেনিং বের করে দাও”
-“তুমি এই শরীরের কি ফাইট করবে?”, শিসুই অবাক হয়।
“তুমি শুধু ওর সুসানোর একটা ব্যবস্থা করো, বাকিটা আমিই সামলাবো” ওর দৃঢ়তা দেখে আর কিছুই বলে না, শিসুই। নিজের কাজে মন দেয়।
এর প্রায় মিনিট ১০ হতে চলল। সাস্কের গায়ে একটা আঁচরও কাটতে পারে নি শিসুই। ইতিমধ্যেই ওর চাকরা ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। তাই, নিজের শেষ এবং বিশেষ অস্ত্রটাই ইয়্যুজ করল ও। নারুটোর দিকে তাকিয়ে এক ফাকে ছোট্ট করে একটু মাথা ঝাঁকাল। যেন, ইশারায় তৈরি হয়ে নিতে বলল। জ্যুতসু টা আসলে খুবই এডভান্স লেভেলের বডি ফ্লিকার এর মতো। দেখলে শ্যাডো ক্লোন বলে ভুল হবে। সুসানো সমেত এই জ্যুতসু কাস্ট করায়, আসে পাশে ডজন খানেক সুসানো দেখলো সাস্কে।
ওদিকে নারুটোও তৈরি হল। কিন্তু, হটাতই দেখল, সাস্কে শিসুইকে উদ্দেশ্য করে একটা টেইল্ড বিস্ট বম্ব ছুড়ল। প্রত্যাশিতভাবেই শিসুই তা ডজ দিতেই গ্রামের দিকে ছুটলো তা। চোখে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে তাকিয়ে তাখে নারুটো। মনে মনে একটা কঠিন ডিসিশান নিয়ে নিল। সাস্কেকে আটকানোর এছাড়া কোন উপায়ও নেই।
আর ওদিকে হতভম্ব ভাব কাটিয়ে উঠেই চারপাশ থেকে সুসানোর চাকরা নিডল মারতে শুরু করলো। সাস্কে, ওর সুসানোর পাখা দিয়ে তা কোনরকমে এড়াতে চাইলো। কিন্তু, পারলো না। ক্রমাগত চাকরা নিডলে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকলো, ওর আল্টিমেট ডিফেন্স।
গ্রামের ভেতর কেবলই সবকিছু শান্ত করেছে ৩য় হোকাগে, ৪র্থ হোকাগে আর জিরাইয়া। তাই থার্ড হোকাগেকে সেখানে রেখে জিরাইয়াকে নিয়ে ফাইনাল ভ্যালীতে আসার জন্যে রওনা দেয় ওরা।
ঠিক সেই মুহূর্তেই সাস্কের সুসানোর একটা পাশ ওর সুসানোর ড্রিল মেশিনের-সদৃশ অস্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলেছে শিসুই। প্রায় একই সাথে দু’জন-নারুটো আর মিনাটো ফ্লাইং রাইজিন অর্থাৎ টেলিপোরট করল। মিনাটো জিরাইয়াকে নিয়ে ফাইনাল ভ্যালী তে আর নারুটো টেলিপোরট করে সাস্কে আর শিসুই এর ঠিক মাঝখানে পৌঁছে গেল।
এসেই মিনাটো আর জিরাইয়া দেখল, নারুটো হ্যান্ড ওয়েভ করছে। ওর হ্যান্ড সাইন দেখে দু’জনেই ভীষণ চমকে ওঠে। জিরাইয়া নড়ে উঠতেই মিনাটো ওকে বাধা দেয়। বলে,”জিরাইয়া সেন্সে, নারুটো ওর ডিসিশান নিয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখানো উচিৎ। আর তাছাড়া, আমাদের এখন আর কিছু করারও নেই। ”
জিরাইয়ার মুখ দিয়ে কথা সরে না। ওর চোখের পাতা শুধু বার কয়েক কেপে ওঠে। মুখ দিয়ে কোন শব্দ বেরোয় না।”
কিন্তু, ওদিকে সাস্কে ভয়ানক চমকে গেছে অন্য কারনে। নারুটো বাদে একমাত্র সেই দেখতে পাচ্ছে শিনিগামী কে। হুম, রিপার ডেথ সিল ইয়্যুজ করেছে নারুটো। সাস্কের হতভম্ব ভাব কাটবার আগেই সুসানোর ফাটল দিয়ে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেয় শিনিগামী।
একবার ঘুরে এরো সেননীনের দিকে তাকায় নারুটো। শুধু বলল,
“sorry Pervy sage. i’m not the child of prophecy. am just another utter disappointment. ”
মিনাটোর দিকে ফিরে বলল, “গোমেননা সাই, তো-চান”।
বলেই ধীরে ধীরে ঢলে পরলো। প্রায় একই সাথে সাস্কের প্রানহীন দেহও পরে গেল নিচে।
ধীরে ধীরে ফাইনাল ভ্যালীতে ডুবে যেতে থাকে ওদের মৃতদেহ। ডুবে যেতে থাকে আশুরা আর ইন্দ্রার রি- ইনকারনেশান।
(সমাপ্ত)
—————————————–
[স্পেশ্যাল থ্যাংকসঃ নিয়াজ রাশীদ]

Comments

comments