Nihonkoku Shoukan [মাঙ্গা পরিচিতি] — Md. Anik Hossain

ইসেকাই কাহিনী এবং আধুনিক সমরাস্ত্রের ঝনঝনানি উপভোগ করতে আমি ব্যক্তিগতভাবে খুব পছন্দ করি। কিন্তু একই মাঙ্গায় যখন দুটো জিনিসই উপস্থিত থাকে, তখন আমার মাথা ঠিক থাকে না বলা বাহুল্য 🤣 ইসেকাই এবং আধুনিক সামরিক বাহিনীর কথা উঠলে প্রথমেই “Gate : Thus The JSDF Fought” সিরিজটির কথা আসবে। যারা Gate সিরিজটি পড়েছেন/দেখেছেন, এবং পছন্দ করেছেন, তাদের জন্য আদর্শ মাঙ্গা হতে পারে Nihonkoku মাঙ্গাটি।

মাঙ্গাটির কাহিনী অনেকটা এরকম-
রোডেনিয়াস নামক এমন এক মহাদেশ রয়েছে যেখানে মধ্যযুগীয় কয়েকটি দেশ একে অপরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত। যে মহাদেশের রাজ্য, সাম্রাজ্যগুলো একে অপরকে ঘায়েল করতে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে অলৌকিক জাদু, উড়ন্ত ড্রাগন। মহাদেশটিতে তেমনি একটা রাজ্য হচ্ছে Qua-Toyne. একদিন হঠাৎ করেই এই রাজ্যে দেখা মিলে কিম্ভূতকিমাকার এক উড়ন্ত ড্রাগনের। যেই লৌহে আবৃত ড্রাগনকে কেউ আগে কখনো দেখেনি। রাজ্যের তৎসংলগ্ন এলাকাতেও দেখা গেল অদ্ভুত এক বিদেশী যুদ্ধজাহাজের। যেটার আকার এতটাই বিশাল যে প্রথম দেখায় সৈন্যরা ভাবলো এটা হয়ত কোন ভাসমান দূর্গ!
হঠাৎ এসব নিদর্শন রাজ্যটিতে দেখতে পাওয়ার কারণ কি হতে পারে? কারণ তেমন কিছুই না। ইয়ে মানে পুরো জাপান একদিন হটাৎ করে রোডেনিয়াস মহাদেশে এসে পড়ে। তাই জাপান নিজেদের টহল উড়োজাহাজ এবং নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার ক্যারিয়ার দিয়ে নতুন পৃথিবীর হালচাল দেখছিল। অতি দ্রুত Qua-Toynen এবং জাপান নিজেদের মাঝে বন্ধত্বপূর্ণ সম্পর্ক, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময় ব্যবস্থা গড়ে তুলে। কিন্তু অতি শীঘ্রই Qua-Toyne তাদের বৃহৎ প্রতিবেশী সাম্রাজ্যের সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয় এবং বলতে গেলে ভালো রকম মার খেতে থাকে। এ পর্যায়ে তারা জাপানের শরণাপন্ন হয় এবং জাপান তার আধুনিক সামরিক শক্তি ব্যবহার করে মিত্র রাজ্যের সাহায্যে এগিয়ে আসে।
এই হলো মূল কাহিনী।

গল্পের মান এর ব্যাপারে যদি বলতে হয়, তবে বলবো খুব বেশি আশা রেখে না পড়াই ভালো। তেমন আহামরি না মোটেই। সমগ্র জাপানী ভূখণ্ড, মানুষজন হুট করে অন্য এক জগতে চলে আসার ব্যাপারটাও হাস্যকর বৈকি । আর্ট খারাপ না একদম । চরিত্র বলতে নির্দিষ্ট কোন নায়ক, নায়িকা, খলনায়ক নেই। খুব গভীর ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন তেমন চরিত্র মাঙ্গাটিতে নেই। আবার জাপানের সামরিক বাহিনীকে যেভাব মহান এবং সাধু হিসাবে দেখানো হয়েছে, সেটা অনেক ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি বলে মনে হতে পারে। তবে প্রথমেই যেমনটা বলেছিলাম, মধ্যযুগীয় ইসেকাই জগতের সামরিক বাহিনী বনাম আধুনিক বিশ্বের অত্যাধুনিক সব অস্ত্রে সজ্জিত একটা বাহিনীর লড়াই কেমন হতে পারে, সেটা অনুভব করার জন্য চমৎকার একটা মাঙ্গা হতে পারে এটি। মাত্র ১১ পর্ব বের হয়েছে এ পর্যন্ত। পড়া শুরু করে অল্প সময়ের মাঝেই Up to date হওয়া যাবে। তাই পড়ে দেখার অনুরোধ করলাম।

 

Comments

Leave a Reply