One Outs [রিভিউ] — Naziur Rahman Nayem

One Outs

WRITTEN BY: SHINOBU KAITANI
DIRECTED BY: YŪZŌ SATŌ, TADAO IWAKI
ORIGINAL RUN: 2008-2009
GENRE: PSYCHOLOGY, STRATEGY, WIT, SPORTS
PERSONAL RATING: 9.5/10

এনিমেটি মূলত বেসবলকেন্দ্রিক ও এরসাথে যুক্ত হয়েছে গেম্বলিং ও সাইকোলজিক্যাল বিষয়াদি। এনিমেটির প্রতিটি পর্বে তাই রয়েছে সাইকোলজিক্যাল ও স্ট্র্যাটেজিক্যাল ব্যাখ্যা ও টুইস্ট। এখন তাহলে এর একটু ভেতরে প্রবেশ করা যাক।
 
জাপানের ওকিনওয়া নামক স্থানে যেখানে খেলোয়াড়রা প্রফেশনাল বেসবল থেকে একটু অন্য আঙ্গিকে বেসবল খেলে থাকে। এবং এ খেলাতে চলে মিলিয়ন মিলিয়ন ইয়েনের গেম্বলিং অর্থাৎ জুয়া। এ খেলার নাম তাই বেসবল নয়, এর নাম ওয়ান আউট।
 
খেলার নিয়মও বেসবল থেকে বেশ ভিন্ন। নিয়মটি পিচার অর্থাৎ যে বল ছোড়ে সে যদি নির্দিষ্ট জায়গায় বল ছুড়ে পরপর তিনবার ব্যাটসম্যানকে স্ট্রাইক করাতে পারে তথা মিস করাতে পারে তাহলে তার বিপক্ষে যারা বাজি ধরেছে তার সব ইয়েন তার। অন্যদিকে ব্যাটসম্যান যদি একটি বলও হিট করতে পারে এবং তার বল যদি বেসবলের ইনফিল্ডের সীমানা অতিক্রম করে তাহলে সে জয়ী এবং তার বিপক্ষের ইয়েনগুলো সব তার হয়ে যাবে।
 
তো দুজন বেসবল খেলোয়াড় যারা লায়াকুন টিমের হয়ে প্রফেশনাল বেসবল খেলে থাকে যাদের টিমে একজন পিচারের স্বল্পতা দেখা দিলে ওকিনওয়া গ্রাউন্ডের একজন গেম্বলার তাদের পিচারের সন্ধান দেবার নাম করে তাদের ফিল্ডে নিয়ে গেলে তারা এই জুয়া খেলার খপ্পরে পড়ে যায়। তার আগে একটু বলে নেওয়া ভালো লায়াকুন টিমের সেলিব্রিটি টাইপের একজন খেলোয়াড় আছে যার নাম হল কোজিমা। এই খেলোয়াড়টি হল এমন একজন দূর্ভাগা ব্যাটসম্যান যে সব ধরনের খেলায় জয়ী হলেও নিজের টিমের হয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ ট্রফি জেতাতে পারেনি। তার সারাজীবনের আফসোস এটি।
 
তো লায়াকুন টিমেরই দুজন খেলোয়াড় ওকিওয়া ফিল্ডে গেলে তারা বাজি লাগায় এমন একজন পিচারের বিরুদ্ধে যে কীনা এ পর্যন্ত একটি বাজিও হারেনি। এই পিচারটির নাম হল তকুচি তোয়া। মূলত এই হল এনিমেটির মূল চরিত্র। এ চরিত্রটি সম্পর্কে কিছু বলা যাক।
 
তকুচি তোয়া প্রফেশনালি একজন গেম্বলার ও মানুষের সাইকোলজি সম্পর্কে তার বেশ ধারণা রয়েছে। আর এই ধারণা দিয়ে সে বেসবলের ওয়ান আউট গেমের বাজিতে সকলকে কুপোকাত করে দেয়। তার প্রতিটি বাজির স্ট্র্যাটেজি সাইকোলজিক্যাল ট্রিকে ভরপুর। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সবকিছু সেট করে নিয়ে সে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়।
 
তো এরপর যথারীতি বাজি শুরু হয়ে যায়। ঐ দুজন খেলোয়াড়ের মধ্যে একজন তকুচি’র বিপক্ষে ব্যাটসম্যানের পক্ষ হয়ে ৪০০০ ইয়েনের বাজি লাগিয়ে গো হারা হেরে যায়। এরপর এই সব অর্থ হারানোর ব্যাপারটা জানতে পারে দূর্দান্ত বেসবল ব্যাটসম্যান কোজিমা। সে পরবর্তীতে আসে এর শোধ নিতে ও বেসবল নিয়ে জুয়া খেলে প্রফেশনাল বেসবলের অসম্মান করার সমুচিত শিক্ষা দেবার জন্য।
 
কিন্তু এখানেও সেই তকুচি তোয়ার ট্রিকের কাছে তাকে নাস্তানাবুদ হতে হয় ও ৪ লক্ষ ইয়েন বাজি সে হেরে যায়। এরপর কোজিমা দূরে কোন জঙ্গলে চলে যায় ও সেখান থেকে আরও অনুশীলনের পর ফেরত আসে আবার তকুচি তোয়ার সাথে ওয়ান আউট গেম খেলার জন্য। বলে নেওয়া ভাল যে এ গেমটি আবার তকুচি তোয়ার নিয়মে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ধাঁচে সংঘটিত হয়।
 
তকুচি তোয়া বাজি আগে বলে যে যদি সে তার বল কেবলমাত্র টাচ করতে পারে তাহলে সে জিতে যাবে। এ নিয়ম মেনে নিয়ে কোজিমা তার প্রথম গেম হারার পর আরও অনুশীলন করে আসে দ্বিতীয় গেমের জন্য। গতবারের গেমে চরম অপমানের পর এবারের গেমে সে তার ক্যারিয়ারকে বাজি ধরে। যদি সে হারে তাহলে তাহলে সে বেসবল খেলা থেকে রিটায়ার্ড করবে। আর তকুচি জিতে গেলে কোজিমা তার জুয়া খেলার হাত ভেঙ্গে দিবে।
 
এমন একটা থমথমে অবস্থায় বাজির দুটি বল হয়ে যায় এবং দুটিই স্ট্রাইক হয়। পরবর্তী শেষ বলটির জন্য ওকিনওয়া মাঠের চারদিকে তখন টানটান উত্তেজনা, কী জানি কী হয় কেউ জানে না। যথারীতি তৃতীয় বলটি গেল কোজিমা এবারও বলটি ব্যাট দিয়ে হিট করতে পারলো না। সবাই তকুচির জয়ে যখন লাফাচ্ছে তখন তকুচি বলল কোজিমা জিতে গেছে। কেননা সে ব্যাট দিয়ে বল আঘাত না করলেও হাত দিয়ে বল ঠেকিয়েছে আর নিয়মানুযায়ী বল টাচ করতে পারলেই হল সেটা ব্যাট কিংবা যা দিয়েই হোক না কেন।
 
এ হিসেবে তোয়া স্বীকার করে নেয় যে তার এ খেলার জীবনে এটাই তার প্রথম হার। সে চাইলে তার হাত ভেঙ্গে দিতে পারে। এই বলে সে তার হাত কোজিমার দিকে হাত বাড়িয়ে দেয়। কোজিমাও তার হাত ধরে,,,,
 
কী ভাবছেন কাহিনী এটাই,,, না কাহিনী এটা নয়, এটা কেবল কাহিনীর শুরু।
 
কোজিমা, তকুচির হাত ধরে বলে তোমার এ হাত ভাঙ্গার জন্য নয়, এ হাত হলো প্রফেশনাল বেসবল খেলার জন্য। তুমিই আমাদের টিমে খেলবে ও তোমার মনস্তাত্ত্বিক ভেলকীবাজি দেখিয়ে চ্যাম্পিয়নশীপ টুর্নামেন্টে টিম লায়াকুনের হয়ে খেলবে। এভাবে তকুচি তোয়া সুযোগ পেয়ে যায় ওয়ান আউট গেম থেকে প্রফেশনাল গেম খেলার। তারপর কোজিমা টিমের মূল যে ম্যানেজার তার সাথে তাকে বলে তকুচিকপ টিমে নেবার জন্য।
 
কিন্তু ম্যানেজার প্রথমে তকুচিকে নিতে চায় না তার উদভ্রান্ত ও কেয়ারলেসনেস আচরণের জন্য। এরপর তকুচি তোয়া অদ্ভুত এক প্রস্তাব দিয়ে বসে। প্রস্তাবটি হল যতজনকে সে আউট করবে তার প্রতিটি আউটের জন্য তাকে ৫ মিলিয়ন ইয়েন দিতে হবে। অন্যদিকে সে যত রান খাবে তার বিনিময়ে ম্যানেজারকে সে ৫০ মিলিয়ন ইয়েন দিবে। এভাবে একটা ওয়ান আউট কনট্রাক্ট সাইন হয় ম্যানেজার ও তকুচির মধ্যে।
 
ম্যানেজার প্রচন্ড ধূর্ত ও লোভী প্রকৃতির লোক। নিজের টিম বারবার লাস্টে আসার পরও কেবলমাত্র বাজিতে জেতার জন্য সে তকুচিকে যত প্রকার ফাঁদে ফালানো যায় তার ব্যাবস্থা করে। আর তকুচি! সেও কম নয় প্রতিটা ফাঁদের জবাব সে পাক্কা সাইকোলজিক্যাল মাস্টারমাইন্ডদের মত করে একের পর এক ম্যানেজারকে রিটার্ন করতে থাকে।
 
সেইসাথে কন্ট্রাক্ট অনুযায়ী তরতর করে তার ইয়েন বেড়ে গিয়ে ৪.৬ বিলিয়নে গিয়ে দাঁড়ায়।
 
এখন হয়তো ভাবছেন আমি স্পয়লার দিয়ে ফেলছি। কিন্তু নাহ! এ এনিমের স্পয়লার দেওয়া মোটেই সম্ভব নয়। কারণ কীভাবে তকুচি তোয়া ট্রিক প্রয়োগ করে ভেলকী দেখাচ্ছে তার বিশ্লেষণ এই এনিমে না দেখলে আপনারা বুঝতেই পারবেন না। কিছুটা শার্লক হোমসের মত অপরাধী কে তা আন্দাজ করা গেলেও কীভাবে যে অপরাধী নির্দিষ্ট ব্যক্তিটিই হবে তার ব্যাখ্যার জন্য আপনাকে শেষ পর্যন্ত যেমন গল্পগুলো পড়তে হয়, তেমনভাবে এই এনিমে আপনাকে শেষ পর্যন্ত দেখতে হবে।
 
মোট ২৫টি এপিসোড রয়েছে এ এনিমেটিতে। তবে শেষে এটা যেন অসম্পূর্ণই থেকে যায়। এরজন্য আপনার মাঙ্গা কমিক পড়তে হবে। তাহলে আপনি শেষ অব্দি কী হল এই কৌতূহল মেটাতে পারবেন।
 
এই এনিমেটি দেখতে দেখতে অনেক নতুন নতুন সাইকোলজিক্যাল পার্সপেক্টিভ আমি খুঁজে পেয়েছি। এনিমেটির মাঝে কোন রংচংয়ে ব্যাপার নাই, কোন ইমোশনের আদিখ্যেতা নাই। পুরোদমে প্রাকটিকাল ও স্ট্র্যাজেজিক্যাল। আর ব্যাখ্যার কথা কী আর বলব! এককথায় অসাধারণ। এনিমেটি দেখতে দেখতে বারবার মনে পড়ে যাচ্ছিল চীনা দার্শনিক লাওৎসু ও “Art of War”- এর লেখক সানজু’র কথা।
 
আর মনে পড়বে নাইবা কেন এইসব ট্যাকটিকগুলোর জন্য তো এনারা ওস্তাদ। কিছু কিছু মার্ক করে রাখবার মত। নিচে একটু উল্লেখ করছি সেগুলো-
 
তকুচি তোয়াকে যখন তার টিমমেটরা এসে তাদের বিপক্ষদলের অতীতের বীরত্বপূর্ণ রেকর্ড দেখাচ্ছিল ও এরকম বলাবলি করছিলো যে, ওরা এত ভালো খেলে, আমরা কী পারব ওদের সাথে? এমন সময় তকুচি বলে যে, ” দেখো তোমরা আজকে যাদের সাথে খেলতে নামবে ওরা হল আজকের দল।
 

যেগুলো তোমরা আমায় দেখাচ্ছো ওগুলো অতীতের কাহিনী। তাই আমাদের প্রতিযোগিতা অতীতের টিমের সাথে নয়, আজকের টিমের সাথে। তাই অতীতের রেকর্ড ঘেঁটে ভীত না হয়ে বরং আজকের ওদেরকে দেখো ও ওদের দূর্বলতাগুলো খুঁজে বের করো। অতীত দেখে বৃথা আতঙ্কিত হয়ে ওদের আজকের দূর্বলতাকে দৃষ্টিগোচর হতে দিও না।

 

আরেক জায়গার একটি ঘটনাতে যখন লায়কুন টিম এখনও জিতে নি তবে জিতে যাবে এমন একটি মুহূর্তে টিমের সবাই উল্লাস করতে আরম্ভ করে দিলো তখন তকুচি তাদেরকে বলে, “আমরা এখনও জিতে যাইনি বিজয়ের আগে বোকারাই তা সেলিব্রেট করে।” এখানে এই কথাটা সানজু’র আর্ট অব ওয়ারের সাথে মিলে যায়।

 
সবশেষে একটা চরম ট্রিকি টিমের সাথে লায়াকুন টিমের খেলা হয়। এটা ছিল তাদের হোম গ্রাউন্ড। ফলে তারা পুরো স্টেডিয়ামে তাদের ষড়যন্ত্রের জাল বিছিয়ে রেখেছিল। এটা টিমের প্রায় সবাই জেনে বিপক্ষ টিমকে দোষারোপ করলেও তকুচি বলে যে তাদের ওপর দোষারোপ না করে ওদের চালাকি ও ষড়যন্ত্রকে কীভাবে ওদের থেকে ভালো কোন ট্রিক দিয়ে কিংবা বলা যায় চোরের উপর বাটপারি অথবা টিট ফর ট্যাট আকারে কীভাবে ফেরত দেয়া যায় তা করাটাই সমীচিন।
 
এভাবে দূর্বল হয়ে দোষারোপ করলে ওদের এতে কিছু যাবেও না আসবেও না; উল্টো আমরা চ্যাম্পিয়নশীপ থেকে বেরিয়ে যাবো। তাই খেলায় জিততে হলে ওইভাবে তোমাকে জাল বিছাতে হবে।
 
এতক্ষন যা বললাম তা কিছুই নয়। এ এনিমের মূল আকর্ষণ হলো এর সাইকোলজিক্যাল ব্যাখ্যাগুলো। আর প্রতিপক্ষকে কীভাবে হতভম্ব করে দেয় তকুচি তা দেখবার মত।
 
সবশেষে এই এনিমেটি বেসবল খেলাভিত্তিক হলেও এর প্রতিটি মুহূর্তে আপনি থ্রিল, রোমাঞ্চ, রহস্যের স্বাদ পাবেন। একটা স্পোর্টস জনরার এনিমেকে যেভাবে সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার আকারে রূপ দেওয়া হয়ে হয়েছে তা সত্যিই অনবদ্য।

Comments

Leave a Reply