লার্নিং কানজি উইথ বাকারিন সামা – ৩৫তম পাঠ

****কানজি কানজি কানজি****

অনেকদিন পর আবার কানজি ফিরে এসেছে :3

আজকের কানজি “body” এর কানজি ….উচ্চারণ “কারাদা/তাই”

karada 2

এই কানজি টা ২ টা কানজির সমন্বয়ে তৈরি… মানুষের কানজি আর উৎসের কানজি.. এই ২ টা কানজি মিলিয়ে এই কানজির উৎপত্তি হয় …. মানুষের উৎস হল “দেহ”… এখান থেকে এই কানজির উৎপত্তি হয়েছে..

karada 2

“কারাদা” এর মিনিং হল “body”

“তাই রিওকু “- physical strength (body আর power এর কানজি পাশাপাশি বসে)

তাইইকু-  physical exercise

নিকু তাই – flesh (নিকু আর bodyর কানজি পাশাপাশি বসে)

দাইতাই – generally , on the whole (big আর body এর কানজি পাশাপাশি বসে)

book/origin এর কানজি পারলে এটাও খুব ইজি ….

আজকে এতটুকুই … মাতা নে 🙂

Ping Pong the Animation ও এর ইন্টারপ্রিটেশন — Abdullah Ar Rayhan

Ping Pong

|| Ping Pong the Animation নিয়ে আমার নিজের ইন্টারপ্রিটেশন ||

এক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে চার জন হাই স্কুল ছাত্রকে নিয়ে আবর্তিত একটি কামিং-অফ-এজ স্টোরি বলা যায় যেখানে আমরা দেখি কিভাবে পিংপং তাদের লাইফকে শেইপ করে। কিন্তু কিছুদূর দেখলেই যে কেউ বুঝবে যে এ অ্যানিমে তার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

শুরুটা হয় দুজন হাই স্কুল ফ্রেশার দিয়ে– ‘পেকো’ আর ‘স্মাইল’। পেকো-কে আপনি এক ধরণের ওয়ান্ডারবয় বলতে পারেন; আপাতদৃষ্টিতে খুব বেশি এফোর্ট দেয়া ছাড়াই যে গ্রেড স্কুল থেকেই প্রতিপক্ষদের নিয়মিত হারিয়ে আসছে, তার চরিত্র বেশ ইগো-সেন্ট্রিক। অন্যদিকে স্মাইল যদিও ভালো খেলে, সে পেকো-র ছায়ায়ই থেকেছে সবসময়। অথচ তাদের প্রথম ইন্টারস্কুল প্রিলিমিনারি টুর্নামেন্টে নজরটা স্মাইল-এর ওপরই বেশি পড়ে। চরিত্রগত দিক দিয়ে পেকো-র বিপরীত মেরুতে এর অবস্থান। সবসময় শান্ত, অনুত্তেজিত, রোবটিক। বাকি প্রধান চরিত্রগুলোর মধ্যে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কাজামা এবং চীন থেকে নির্বাসিত হওয়া কং।

এটুকু থেকে এটা স্পষ্ট যে অ্যানিমের সেটিং হাইস্কুল পিংপং but don’t let me fool you, it’s much more than that. You see, এটা কোন টিপিক্যাল স্পোর্টস অ্যানিমে না। পিংপংকে এখানে কেবল অনুঘটক বলা যেতে পারে। আপনি নরমাল স্পোর্টস অ্যানিমের মত এখানে কোন বিশেষ ট্রিক পাবেন না, কোন আগুনে rivalry পাবেন না (যদিও একেবারে যে নেই তা-ও নয় কিন্তু মূল গল্পের তুলনায় তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়)। এটি যতটা না খেলা নিয়ে, তার চেয়েও বেশি জীবন নিয়ে, নিজেকে খুঁজে পাওয়া নিয়ে। তবে এর মানে এই না যে এটায় স্পোর্টস এলিমেন্ট নেই। যথেষ্ট এক্সাইটিং মোমেন্টস আছে। স্পোর্টস এলিমেন্টগুলো ফিলোসফিক্যাল আর সাইকোলজিক্যাল অ্যাস্পেক্টগুলোর সাথে এত সুন্দরভাবে ব্যালেন্স করা হয়েছে যে বিস্মিত না হয়ে পারা যায় না।

যে তিনটা বৈশিষ্ট্য সিরিজটিকে ইউনিক করে তা হলো আর্ট স্টাইল, চরিত্রায়ন আর গল্পের গভীরতা। প্রথমেই মনে হবে যেন জীবন্ত একটা স্কেচবুক দেখছি। সাথে ওয়াটারকালার ব্যাকগ্রাউন্ড একটা পেইন্টিং ভাব এনে দেয়। যে আর্টিস্টিক অ্যাপ্রোচে অ্যানিমেশন করা হয়েছে তা থেকেই বোঝা যায় কত এফোর্ট দেয়া হয়েছে এর পেছনে। অনেকেই এমন আর্টস্টাইলে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ নাও করতে পারে কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল একটা ভিজ্যুয়াল ট্রিট। এমন একটা অ্যানিমের জন্য এরকম আর্ট পারফেক্ট মনে হয়েছে আমার কাছে। চরিত্রগুলোর মুভমেন্ট বেশ ভালোভাবে ফুটিয়ে উঠেছে; আর এ প্রথম কোন অ্যানিমে দেখে আমার কারেক্টারগুলোকে জাপানীজ মনে হলো। 😛 আর্ট ভালো না লাগলেও একবার স্টোরিতে ঢুকে গেলে আর bother করবে না এটা গ্যারান্টিড।

এত অল্প সময়ে এত পরিপূর্ণ চরিত্রায়ন সত্যিই ইম্প্রেস করার মত। আপনি এদের ওপর ক্রাশ খাবেন না, দিবাস্বপ্নও দেখবেন না; কিন্তু প্রতিটা চরিত্রের সাথেই আমরা কেউ না কেউ রিলেট করতে পারবো। এ চরিত্রগুলো বাস্তব থেকে তুলে আনা, আপনার আমার মতই মানুষ এরা, এবং এখানে তাদের দেখানোও হয়েছে মানুষ হিসেবেই। স্টোরি এগুনোর সাথে সাথে আমরা চরিত্রগুলোকে চিনতে শিখি, তাদের মনস্তত্ব ধরতে পারি, আর পিংপং খেলার মধ্য দিয়ে তাদের ডেভেলপমেন্ট দেখি। যেটা উল্লেখযোগ্য তা হলো, ছোটখাটো চরিত্রগুলোকেও বেশ ভালোভাবে ডেভেলপ করা হয়েছে, তাদের জীবন নিয়েও আমরা জানার সুযোগ পাই। অন্যান্য অ্যানিমের মত, এখানে দর্শককে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয় নি। ভালো-মন্দের কোন রেখা দেখানো হয়নি। কোন চরিত্রকে অপছন্দ করা যায় না, বরং যত ছোটই হোক, সবাই নিজ আলোয় উজ্জ্বল এবং আপনি তাদের অ্যাপ্রিশিয়েট করবেন।

মূলত character driven হলেও সিরিজের প্লট শুরু থেকেই মনোযোগ ধরে রাখে। গল্প নির্দিষ্ট কোন সরলরেখায় না এগিয়ে চরিত্রগুলোর ওপর ফোকাস করে। তাদের সমস্যা, তাদের মোটিভেশন, প্যাশন, সাইকোলজি এগুলোই বেশি গুরুত্ব পায় কাহিনীতে।

What drives us to be what/where we are? প্যাশন? উচ্চাকাংক্ষা? নিজেকে সবার ওপরে দেখতে চাওয়ার মনোবাসনা? নাকি যা করি তার প্রতি ভালোবাসা? অনেকটুকু সময় ধরেই এ প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা হয়।

আমরা দেখি পেকো-র নিজেকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন রূপে দেখার বাসনা, কং-এর জাপানে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকাংক্ষা, কাজামা-র নিজের এবং স্কুলের সম্মান ধরে রাখার দায়িত্ব, নিখাদ কঠোর পরিশ্রম আর চর্চা দিয়ে সাকুমা-র মেধাহীনতাকে ওভারকাম করার প্রচণ্ড ইচ্ছাশক্তি। কিন্তু এগুলোই কি সব? তবে স্মাইল কিসের দ্বারা তাড়িত হয়? এখানে এক্সপ্লোর করা কে হয় চরিত্রগুলো আসলে কারা, তারা কি করতে পারে, কি তাদের পরিচালনা করে। একেকটা এপিসোড যাওয়ার সাথে সাথে আমরা বুঝতে পারি। আমরা অনুধাবন করি যে পেকো, কাজামা, কং, সাকুমা- এরা আসলে আমরা নিজেরাই। প্রতিদ্বন্ধিতার মধ্য দিয়েও চরিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে ইন্টার-অ্যাকশন করার মধ্য দিয়ে এক অদ্ভুত রকমের বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে দেখি আমরা। শুনতে ক্লিশে মনে হলেও, এর ডায়নামিক্স অন্যরকম।

এত অল্প সময়ের মধ্যে এত কিছু কভার করা আসলেই দুঃসাধ্যের মত এবং অ্যানিমেটি এতে বিস্ময়কর রকমের সফল। ১১ এপিসোডেই কভার করা হয়েছে প্রায় দু বছরের স্টোরি, প্রধান চরিত্রগুলোর ব্যাকস্টোরি, জীবনের প্রতি তাদের ফিলোসফিক্যাল এবং সাইকোলজিক্যাল টেইক।

সাউন্ড আর মিউজিকের দিক দিয়েও কিন্তু বেশ ভালোভাবে উতরে যায় পিং পং দ্য অ্যানিমেশন। বিশেষ করে এন্ডিং সংটা স্কিপ করা এক প্রকার দুঃসাধ্য হয়ে উঠে পড়েছিল। আর বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাউন্ড মিক্সিং নজর কেড়েছে বিশেষভাবে। মেঝেতে প্লেয়ারদের জুতো ঘষার শব্দ, বলের আওয়াজ, খেলার সময় মুখ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়া শব্দ, ভয়েস অ্যাক্টিং- সব কিছুই পারফেক্টলি সিঙ্কড মনে হয়েছে।

মনোযোগ কেড়েছে এপিসোডের নামগুলোও। এগুলোর কোন আলাদা অর্থ আছে কিনা তা আমার স্বল্পজ্ঞানের কারণে বুঝে উঠতে পারিনি কিন্তু টাইটেলগুলো আসলেই বেশ আকর্ষণীয়, একটা লিটারারি ভাব আছে। দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য করে।

খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে এটি একটি deeply personal, philosophically surreal এবং visually metaphorical একটা কাহিনী যা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে টেবল টেনিসের মত বোরিং একটা স্পোর্টস দিয়ে ‘আন-বোরিং’ উপায়ে। এ অ্যানিমের অন্যতম প্লাস-পয়েন্ট হলো একে পরিপূর্ণ্রূপে উপভোগ করার জন্য পিংপং এর ‘পি’ ও জানতে হবে না দর্শককে।

অস্বাভাবিক আর্ট দেখে হয়তো অনেকেই অ্যানিমেটি দেখে না, which is a great shame, because it is one of the anime I truly enjoyed watching, and thinking and writing about. It has 8.68/10 on MAL but I somehow still think that it is underrated. আরো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলাম কিন্তু মাথায় আসলেও আঙ্গুলের ডগায় আসছে না। গুছিয়ে লেখা আমার কম্ম নয়। অনেক ল্যাকিংস আছে আমার লেখায়, গুরুত্বপূর্ণ অনেক কিছুই বাদ পড়ে গেছে, কিন্তু এত ভালো লেগেছে যে না লিখেও পারিনি। এনিমখোরদের প্রতি আমার রিকমেন্ডেশন হচ্ছে, আপনি যে জনরা-ই পছন্দ করুন না কেন এটি দেখুন।

[স্পয়লার সতর্কতা]
শুরুতে উদ্ধত দেখালেও শেষের দিকে গিয়ে পেকো-কে যেভাবে ‘হিরো’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে -যে কিনা জীবনের বাঁকেবাঁকে একটু একটু করে কয়েকজনের জীবন পরিবর্তন করে দিয়েছে- তা সত্যিই ভালো লেগেছে আমার। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে যেভাবে আত্নোন্নয়ন করেছে তা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। I liked that they didn’t make a big deal out of Peco and Smile’s final. ভালো লেগেছে লাস্ট এপিসোডে কাজামা আর স্মাইল এর রিইউনিয়ন। সত্যিই, নির্দিষ্ট একটি চরিত্রকে বিশেষভাবে পছন্দ বা অপছন্দ করা আসলেই কঠিন ছিল। কাজামা, সাকুমা, পেকো, স্মাইল- প্রত্যেক চরিত্রের সাথে রিলেট করতে পারাটা নিঃসন্দেহে এ অ্যানিমে ভালো লাগার অন্যতম কারণ।

Death Parrade [রিভিউ] — Mahedi Hasan

DP 1

Anime: Death Parade
Episode: 12
Genre: চিন্তাশীল মনোভাব, রম্য নেই বলা চলে ইত্যাদি
Rating (আমার কাছে ): 7/10

কেমন হবে যদি আপনাকে কোন বারে (পানীয় পান করার স্থান) নিয়ে যাওয়া হল এবং বলা হল আপনার জন্য সকল পানীয় বিনামূল্যে দেয়া হবে।
আপনি শুনে তো আহ্লাদে আটখানা, আপনি আপনার প্রিয় পানীয় পান করতে পারবেন ইচ্ছা মতো কিন্তু পয়সা দিতে হবে না।
কিন্তু ঝামেলার ব্যাপার হল এই যে, ইক্টু পরে বলা হলো আপনাকে একটা খেলা খেলতে হবে। খেলার প্রতিপক্ষ হবেন আপনার খুবই কাছের মানুষ।
সে যদি আপনার প্রিয় সুপার স্টার হয় তাহলে কেমন হবে?
বাহ! তাহলে তো খেলতেই হবে। এটি তে আর নতুন কি!
নতুনত্ব হচ্ছে এখানে,
খেলার জন্য কিছু নির্দেশনা মানতে হবে।
যা শুনে আপনার লোম খাড়া হয়ে যাবে।
নির্দেশনা গুলো হচ্ছে —
1. আপনাকে কেন এ বারে নিয়ে এসে আপপায়ন করা হচ্ছে তা বলা হবে না।
2. এখানে আপনাকে একটা খেলা খেলতে হবে।
3. খেলাটি লটারির মাধ্যমে খেলতে দেওয়া হবে।
4.(আসল নিয়ম) খেলার সাথে আপনার জীবন জুড়ে দেওয়া হবে। অর্থাৎ, আপনি যে খেলাটিই খেলবেন তার সাথে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হবে।
(উদাহরণ: আপনি যদি ডার্টস খেলেন তাহলে আপনার প্রতিপক্ষের ডার্টস এর ছকে আপনার শরীরের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দেওয়া হবে। আপনার প্রতিপক্ষ যদি তার ছকের এমন একটি অংশে আঘাত করে যেখানে হৃৎপিণ্ড এর ছবি থাকে তাহলে আপনি আপনার হৃৎপিণ্ড এ অস্থির ব্যাথা অনুভব করবেন।) (এক কথায় জীবন বাজি রেখে খেলা)
5. খেলা শেষ হওয়ার না পর্যন্ত আপনি এই বার থেকে বের হতে পারবেন না।

DP 2

এখন আপনার মনে প্রশ্ন আসছে যে, এত সুযোগ সুবিধা ভোগ করছি সেখানে আবার এই বিরক্তিকর খেলা। উফ, এ খেলা না খেললে হয় না! তাছাড়া এটি তো জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করার মত অবস্থা।

যখনই আপনি বারের ওয়েটারকে জিজ্ঞেস করবেন, এই খেলা না খেললে হয় না। তখনই ওয়েটার আপনাকে অনেকগুলো লাশ দেখাবে এবং বলবেন, এই যে লাশ গুলো দেখতে পারছেন। এরা খেলা খেলতে চান নি, তাই তাদের এই অবস্থা হয়েছে। আপনার ও এই অবস্থা হবে যদি আপনি খেলাটি না খেলেন অথবা খেলাতে হেরে যান।

খেলা শুরু হল, এটি স্বাভাবিক যে আপনি হারতে চাইবেন না। কারণ আপনি জানেন আপনি যদি হেরে যান তাহলে আপনাকে সেই লাশের সাথে থাকতে হবে। আপনি পাগলের মত খেলায় মনোযোগ দিবেন এবং প্রাণপণে জিততে চাইবেন। কিন্তু আপনার প্রতিপক্ষও নাছড়বান্দা । সে হারলে, সেও লাশে পরিণত হবে। এ কারণে খেলা আরও জমে উঠবে।

এ এনিমে তে প্রতিটি ক্যারেক্টারকে এমনই জীবন মরণ খেলা খেলতে দেখা যাবে।
এক এক জনের খেলাও হবে বিভিন্ন ধরনের।

খেলার ফলাফল কি? খেলাটি তে জিতলে কি পুরষ্কার পাওয়া যাবে? কিভাবে বারের লোকেরা পরাজিত ব্যক্তি কে লাশে পরিণত করেন? তাদের উদ্দেশ্য কি? এসব কিছু জানতে হলে আপনাকে এই এনিমের প্রথম পর্ব টি দেখতে হবে। যাতে আপনি প্রশ্নগুলো এর উত্তর জানার পাশাপাশি এনিমেটা দেখার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠবেন।

DP 3

Glass no Hana to Kowasu Sekai [মুভি রিভিউ] — Imamul Kabir Rivu

Glass no Hana to Kowasu Sekai

Name: Glass no Hana to Kowasu Sekai
Length: 1 hour 7 mins (movie)
Genres: Sci-Fi

কাহিনীটা হল অন্য এক ডিমেনশনে, যাকে “Box of Wisdom” বলা হয়। সেখানে আমার প্রধাণ দুই চরিত্র ডুয়াল এবং ডরথির বসবাস। এবং তাদের মূল কাজ হল সেখানে সব ভাইরাস মারা, কেন না তারা দুইজন হল অ্যান্টি-ভাইরাস। মোয়ের ভেতর যখন জাহাজ, ট্যাঙ্ক, অস্ত্র আরও অনেক কিছুই ঢুকানো হয়েছে তখন অ্যান্টি-ভাইরাস কি দোশই বা করলো। এভাবেই তাদের সাথে একদিন দেখা মিলে আরেকটি মূল চরিত্র রেমোর সাথে। তাদের কাছে আমাদের এই পৃথিবী হল তৃতীয় ডিমেনশন, তো এভাবেই তারা তিন জন মিলে এই পৃথিবীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে থাকে। কিন্তু, পৃথিবীকে শুধু সবকিছুই সুন্দর? এত কিছুর মাঝে তো পৃথিবীর নৃশংসতাও তাদের চোখে পরে। সব শেষে যা হয় আর কি ঘটনা ক্রমে পৃথিবীর ধ্বংসের দারপ্রান্তে চলে আসে, যার মূল কারণ সেই ভাইরাস। আর এই পৃথিবীকে বাচানোর দায়িত্ব পরে এক সফ্টওয়েরারের উপর এবং যার ভেতরই কি না, আমাদের মূল দুই চরিত্র অ্যান্টি-ভাইরাস। এত কিছুর মাঝেও রয়েছে অনেক অনাকাঙ্খিত প্লট টুয়িস্ট, তবে সেটা তো দেখে নেওয়ার দায়িত্ব আপনার।

আর্টটা খুবই অসাধারণ। A-1 Pictures-এর কাজ বরাবরই অসাধারণ। ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজটা এ সিরিজের সেরা জিনিশগুলোর একটা ছিল। পৃথিবীর প্রায় সব বিক্ষাত জায়গাই তুলে ধরেছে এবং অত্যাধিক সুন্দর করেই সেটা করেছে। শুধু তাই নয় “Box of Wisdom”-এর ব্যাকগ্রাউন্ডও ছিল চোখ ঝলসানো। ডার্ক মুহুর্তগুলোর অ্যানিমেশনের কাজ ছিল বলার মত। চরিত্রের ডিজাইন অনেক সুন্দর ছিল, চরিত্রগুলোকে বেশ কিউট করেই তৈরি করা হয়েছে। সব মিলায়, অত্যন্ত অসাধারণ আর্টওয়ার্ক যাকে কি না ১০-এ ৯-এর নিচে দেওয়াই যায় না।

BGM-গুলোও ছিল অ্যানিমেশনের পাশাপাশি অত্যাধিক মানের। শুরুতেই শুনতে পাবেন পিয়ানোর এক সূথিং শুর যেটা কি না এন্ডিং গানটারই পিয়ানো ভার্শন। এবং এই শুরটা এতটাই ভালো, শুরুতেই আপনার মন ভালো করে দিতে বাধ্য, যে কোন সময়ই শুনে ভাল্লাগবে এরকম একটি শুরই ছিল (https://goo.gl/jN2V6M)। শেষের দিকের BGM ও দৃশ্যের সাথে অত্যন্ত মানানসই হওয়াই, যতটুকু না ভালো লাগার কথা তার চেয়ে বেশি ভালো লেগেছে। আর এই মুভির সেরা জিনিশগুলোর একটি হল তার এন্ডিং সং ‘Yume no Tsubomi’ যেটা কি না গেয়েছে এই আনিমের মূল ৩ জন চরিত্রের সেইয়ূ তানেদা রিসা, সাকুরা আয়ানে এবং হানামোরি ইয়ুমিরি। সবারই ভালো লাগবে এমন গানই ছিল এই গানটা (https://goo.gl/vKoKLe)।

যখন কোন সিরিজ শুরুই হয় কায়ানোর অত্যাধিক মোয়ে কণ্ঠটা এবং রিসার সূথিং কণ্ঠটা দিয়েই, তখন সেই আনিমের চরিত্রগুলোর কণ্ঠটা ভালো লাগাই স্বাভাবিক। মূল দুই চরিত্রের কণ্ঠে ছিল তানেদা রিসা এবং সাকুরা আয়ানে। দুইজনের চরিত্রগুলোর মাঝেই বরাবর অনেক আনিমেতেই কোন না কোন রিলেশন থাকতে দেখা যায় যেমন রিজে-কোকোয়া (গোচিয়ুসা), কাওরি-সুবাকি (শিগাৎসু), মিয়োকৌ ক্লাস-সেন্দাই ক্লাস (কাঙ্কোলে) তাই এখানেও যে দুইজন অসাধারণভাবেই ডুয়াল এবং ডরথির কণ্ঠে সিঙ্ক্রোনাইজ করবে এটাই স্বাভাবিক। পাশাপাশি ছিল রেমোর সেইয়ূ হানামোরি ইয়ুমিরি, নতুন একজন সেইয়ূ তিনি এবং তার কণ্ঠের সাথে অপিরিচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক কেননা ১০টার বেশি রোল নেই তার, দ্বিতীয়তা কোন চেনা-জানা আনিমেতে উল্লেখযোগ্য চরিত্রেরও কণ্ঠ দেয় নাই তিনি। তার কণ্ঠটার মাঝে বেশ ভালো পরিমানেই কায়ানোর টান আছে, অন্তত আমার কাছে শুনে যতটা লেগেছে।

সবমিলায় এক ঘন্টার মাঝে বেশ উপভোগ্য একটা মুভি। সময় নিয়ে দেখে ফেলুন তবে মোয়ে ভালো না লাগলে, একটু বিবেচনা করে দেখা শুরু করাটাই ভালো। কেননা এই এক কারণে অনেকেরই একটা আনিমে যতটা উপভোগ করার কথা তার চেয়ে খুব কম উপভোগই করে। যদি মাদোকা মাজিকা, গাক্কৌ গুরাশির মত কোন আনিমে খুজতে থাকেন তাহলে আজই দেখে ফেলুন মাত্র ১ ঘন্টার এই মুভিটি।

Hanasaku Iroha [রিভিউ] — Arafin Shanto

Hanasaku Iroha 1Anime: Hanasaku Iroha
Genre: Slice of life; Romance
Studio: P.A.Works
Episode: 26
MAL RATING: 8/10
PERSONAL RATING: 8.57/10

কাজ! বা প্রফেশন! এটা আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, কাজ ছাড়া আমাদের জীবন কল্পনাতীত! আমাদের জীবনে বেচে থাকার অন্যতম এবং সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়েই রয়েছে কাজ! কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা আমাদের কাজ বা প্রফেশন কে কতটা গুরুত্বের সাথে নিয়ে থাকি! কতটা উপভোগ করি আমাদের প্রফেশনকে! আমাদের কাজের উপর শুধু আমাদের নয়; আরো অনেকের জীবন নির্ভর করতে পারে; কিন্তু আমরা কি সেই কাজটিকে নিজের মনের মত করে উপভোগ করছি!!!

অনেকটা এই ধরণের কাহিনী নিয়ে হানাসাকু ইরোহা এনিমেটি। যেখানে এনিমের প্রধান চরিত্র ১৬ বছরের বালিকা ওহানা মাতসুমায় কে তার মা টোকিও থেকে ওহানার নানীর কাছে পাঠিয়ে দেয়, কারণটা উহ্যই থাক!

ওহানার নানী আবার বিশাল এক হোটেলের মালকিন, যে হোটেলকে এনিমেতে আপনি কিসুই নামে চিনবেন, তো ওহানাকে বাধ্য হয়ে সেখানে যেতে হয় এবং সে পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হয় যাতে তাকে তাড়িয়ে দেয়া না হয়! ওহানা স্বভাবতই কিছুটা চঞ্চল এবং বাচাল প্রকৃতির, তাই সেই হোটেলে বন্ধু পেতে তার তেমন কষ্ট হয় না!! সেই সাথে চলতে থাকে তার কাজ। কিন্তু কিসুই তে কাজ করা মোটেও সহজ ব্যাপার নয়, কিসুই এর কর্মচারীর সংখ্যা অনেক কম, যদিও সেই কমসংখ্যক কর্মচারীদের মধ্যে যে একতা ও বন্ধুত্ব তা অনেক হোটেল এ দেখা যায় না, কিন্তু আসলেই কি শান্তিতে আছে কিসুই ইনন!! আশে-পাশের অন্যান্য বিশাল বিশাল হোটেলগুলোর চেয়ে ব্যাবসা ও পাবলিসিটির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে কিসুই। শুধু একতা বা সেবার মান দিয়ে কতদিন চলে! তার উপর কোন একজন সাংবাদিক কিসুই নিয়ে বিরূপ আর্টিকেল লিখে তাদের আরো বিপদে ফেলে দেয়!!! কি তার উদ্দেশ্য? কিসুই কি পারবে তার জায়গা পুন:প্রতিষ্ঠা করতে? কিন্তু কিভাবে?

জানতে হলে আপনাকে দেখতেই হবে এনিমিটি!!!

নিজের কাজকে কতটা উপভোগ করে করা যায়! এতে কেমন সাফল্য আসবে তা অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এনিমেটিতে! এনিমেটিতে রোমান্স ফ্যাক্টরটিকেও সুন্দরভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে, যেমন ওহানার টোকিও তে থাকা বয়ফ্রেন্ড কো, হোটেলের শেফ মিনচির সাথে আরেক শেফ তোহুরু এর একপেশে প্রেমের কাহিনী! কিছুক্ষেত্রে এনিমেটি কিছুটা একঘেয়ে লাগতে পারে; যেমন গল্পে ওহানাকে একটু বেশিই ফোকাস করা হয়েছে! আবার ওহানার ক্যারেক্টার ডেভেলাপিং নিয়ে আমার প্রশ্ন রয়েছে:-

ওহানাকে অতি অল্প সময়ের মধ্যে একজন সাধারণ বালিকা থেকে ম্যাচিউরড ওমেন এ রূপান্তর করাটা একটু বাড়াবাড়িই ছিল বটে। ওহানা ছাড়া অন্য চরিত্রগুলোকে মোটামুটি কম গুরুত্ব দেয়া হয়েছে! এসব ছোটখাট জিনিস বাদ দিলে এনিমিটি উপভোগ যোগ্য। এনিমিটির দুটো করে ওপেনিং ও এন্ডিং গান সবগুলোই আপনার ভাল লাগতে বাধ্য!!!

Hanasaku Iroha 2

Penguindrum-এ ট্রেনযাত্রাঃ হারানো দশক অথবা টোকিওর ত্রানকর্তা — Fahim Bin Selim

mawaru-penguindrum-large-end-card-characters-2091613238 (1)

Mawaru Penguindrum-এর অজনপ্রিয়তা সম্পর্কে সবচেয়ে বড় কারণ ধরা হয় এর দূর্বোধ্যতাকে – রূপক আর সাহিত্য-ঐতিহাসিক ঘটনার যোগসূত্র ব্যবহারে কুনিহিকো ইকুহারার স্বেচ্ছাচার। এক্ষেত্রে আপাত দৃষ্টিতে ব্যাপারটাকে ইডিওসিনক্রেসির কাতারে ফেলা যায়। যা একই সাথে এই অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সমালোচনাগুলোর একটি। কিন্তু ইকুহারার Revolutionery Girl Utena-তেও তো রূপকের ছড়াছড়ি ছিলো, তারপরও কেন সেটাকে অবিসংবাদিতভাবে ধ্রুপদী অ্যনিমের কাতারে ফেলা হয়, Penguindrum-এর ক্ষেত্রে যা কেবল কাল্ট স্ট্যাটাসেই সীমাবদ্ধ? সম্ভবত পশ্চিম, তথা জাপানের বাইরের অ্যানিমে দর্শকদের আপ্রোচটাই ভুল। বার্থেসের “ডেথ অফ দ্য অথর”-এর অনুসারে বলা যায়, “একটি লেখার সঙ্গতি তার উৎসের – লেখকের উপর নির্ভর করে না, বরং তা নির্ভর করে তার গন্তব্য – পাঠকের উপর।” Mawaru Penguindrum কোন বৈশ্বিক গল্প না, তা পুরোপুরি জাপানের ইতিহাসের উপর ভর করা, এর মানুষ আর তাদের অতীত, তাদের পরিস্থিতি, তাদের দূর্দশার মনোসমীক্ষণ। Utena-তে থাকা ধর্ম, পরিবার, বেড়ে ওঠা, জেন্ডার-রোল নিয়ে দেওয়া সামাজিক-ভাষ্য এখানেও উপস্থিত, কিন্তু কনটেক্সটটা সেটার মত জেনারালাইজড না। স্থান, কাল আর পাত্রে সুনির্দিষ্ট।

grimripper_revolutionary_girl_utena_ep34_remastered_r2j_dual_audio_9f960d6f-mkv_snapshot_03-22_2014-02-08_18-10-15

Penguindrum-এর ট্রেন যাত্রায় সঙ্গী হতে হলে আপনার যাত্রা শুরুর প্রথম স্টেশন হবে ১৯৮০-এর শেষ ভাগের জাপান। বিশ্বযুদ্ধ যখন প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্মৃতি, চার দশক পেছনে। জাপান দাঁড়িয়ে গেছে শক্তিশালী এক ভিত্তির উপর; সামাজিক, সংষ্কৃতিক আর অর্থনৈতিক – সব দিক থেকেই জাপানের বিস্তৃতি হতে লাগলো ক্রমাগত ফুলাতে থাকা এক বুদুবুদের মত। মানুষের জীবনযাত্রার মান বাড়তে থাকলো, তাদের চাহিদা বাড়তে থাকলো, সেই সাথে ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋনও। এবং এক্ষেত্রে যা হওয়া স্বাভাবিক, পুরোটাই ঘটলো অদূরদর্শী পরিকল্পনায়। এর পরের ব্যাপারটা হয়তো অর্থনীতিতে বিশেষজ্ঞ কেউ ভালো বুঝাতে পারবে, কিন্তু সাহিত্য আর রূপকের ব্যবহারে বলা যায় জাপানের অর্থনীতির বুদবুদটা, আর সব বুদবুদের অনিবার্য সমাপ্তীর সাথে মিলিত হলো। আর সেই বুদবুদের ভেতর থাকা মানুষেরা নতুন এক বাস্তবতার সম্মুক্ষীন হল। পরিণামটা হলো ভয়াবহ। পরিবর্তনটা হল বিপরীত। চাকরীর সংখ্যা কমলো, মানুষের আয় কমে গেলো, ইয়েনের দাম গেলো তলানিতে – কিন্তু নির্দিষ্ট একটা জীবন-ধাঁচের সাথে পরিচিত হয়ে যাওয়া মানুষেগুলোর চাহিদা কমলো না, তাদের প্রত্যাশাও। এক্ষেত্রে সরাসরি প্রথম আঘাতটা লাগলো সামাজিকভাবে – পরিবারে।

gg_mawaru_penguindrum_-_01_b8c345e7-mkv_snapshot_06-34_2011-07-11_17-16-19

প্রথম যাত্রাবিরতি বিংশ শতাব্দীর শেষ দশকে – জাপানের ক্ষেত্রে এই সময়টার জন্য বেশ গালভরা একটা নাম আছে – লস্ট ডেকেইড, হারানো দশক। ঐতিহাসিকভাবে জাপানের পারিবারিক কাঠামোটা বেশ শক্ত গাঁথুনির ছিলো, একসাথে কয়েক প্রজন্মের বসবাস ছিলো প্রথাগত। আশির শেষ আর নব্বইয়ের শুরুতে এই প্রথায় ভাঙন ধরতে শুরু করলো, পারিবারিক সম্পর্কগুলোতেও। আর্থিক সামর্থ্য বজায় রাখার চেষ্টায় মা-বাবারা উভয়ই কর্মক্ষেত্রে যাওয়া শুরু করলো। এবং অনুমিতভাবেই পশ্চিমের অনুরূপ জাপানে পরিবার বিচ্ছেদের সংখ্যাটাও হঠাৎ করেই বেড়ে গেলো(অগিনোমে পরিবার)। সন্তানেরা শৈশব থেকেই অপরিচিত, একাকী একটা পরিবেশে বেড়ে উঠতে লাগলো। “সফল” হওয়ার একটা চাপ তাদের উপরে বর্তালো। মা-বাবার অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণ করার চাপও(তাবুকি, ইউরি পরিবার) – তা নিজেদেরটা বিসর্জন দিয়ে হলেও। ডানা কেটে দেওয়ার পাখির মত, সাঁতার না পারা মাছের মত – অথবা দুটোই – স্থলে আটকে পড়া পেঙ্গুইনের মত! আর এই ধারণাটাকে এগিয়ে নিতে পরিবারের সাথে জোট বাঁধলো সমাজের নিষ্ক্রিয়তা আর ঘুনে ধরা এক শিক্ষাব্যবস্থা। ব্যাক্তিস্বাতন্ত্রবিহীন, যান্ত্রিক একটা জীবন। চাইল্ড ব্রয়লার!

ch

কিন্তু পরিবারের নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সম্পর্কে যখন শর্ত জুড়ে দেওয়া হলো, তখন পরিবারের সংজ্ঞা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটা সময় এসে পড়াটা স্বাভাবিক। জাপানের পদার্পন পোস্ট-মডার্নিস্ট এক জগতে। আর পোস্ট মডার্নিজমের কথা বলতে গেলে ট্রেনে নতুন এক যাত্রীর আসাটা জরুরী। হারুকি মুরাকামি।

দ্বিতীয় স্টেশন – জানুয়ারী, ১৯৯৫। জাপানে আঘাত হানলো ৬.৯ মাত্রার এক ভূমিকম্প – দ্য গ্রেট হানশিন আর্থকোয়াক। জাপানীদের মনোবলের ভিতটা নড়ে গেলো। আর মুরাকামি লিখলেন তার “after the quake” ছোটগল্প সংকলনের কালজয়ী গল্প “Super Frog Saves Tokyo”. গল্পের শুরুতেই আমরা মূলচরিত্র কাতাগিরিকে দেখি একদিন কাজ থেকে ফিরে নিজের ঘরে এক বিশাল বড় ব্যাঙকে আবিষ্কার করতে। “আমাকে ব্যাঙ বলবেন”, ব্যাঙটা বলে নিস্পৃহভাবে, ম্যাজিক রিয়ালিজমের ব্যাকরণ মেনে। কাতাগিরির উপর দায়িত্ব বর্তায় টোকিওকে রক্ষা করার। কাতাগিরি সারাজীবনই নিঃস্বার্থভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছে। তার পরিবারের বাকিদের জন্য নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিয়েছে, চাকরীর কঠিন দায়িত্ব নির্দ্বিধায় পালন করেছে। কিন্তু বদলে সে কখনোই কোন স্বীকৃতি পায়নি, তদ্বিপরীত, কাতাগিরির জীবনটা বরং একাকীত্বের। এখানেই যুক্তির ফাটল ধরে। পরিবার যদি তার সদস্যদের অসম্পূর্ণতাকে মেনে নিতে ব্যর্থ হয়, আব্র একই সাথে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যতার পায়ে শিকল পরিয়ে দেয়, তাহলে তার কার্যকারিতা কোথায়? কেবলই রক্তের সম্পর্কে? আপনি কী জন্য আরেকজন ব্যক্তির জন্য নিজের ভালোকে বিসর্জন দিবেন? জৈবিক তাড়নায়, পার্থিব উন্নতির লক্ষ্যে? নাকি পুরো ব্যাপারটাতেই ঐশ্বরিক পুরষ্কারের আকাঙ্ক্ষা নিহিত?

Penguindrum-এ ইকুহারা এই ধারণাটাকে আমূল বদলে দিলেন। কাতাগিরির পরিবারের সম্পূর্ণ বিপরীত, আমরা তাকাকুরা পরিবারের তিন ভাই-বোনের সাথে পরিচিত হই, যারা প্রকৃতপক্ষে কেউ কারো সাথে সরাসরি রক্ত-সম্পর্কিত না! কিন্তু তাদের সম্পর্কের গভীরতা একটি “আসল পরিবার”-এর তুলনায় কোন অংশেই কম না। একজন আরেকজনের জন্য জীবন বাজি রাখতে প্রস্তুত!

vlcsnap-2016-06-08-14h28m50s130

ট্রেনের কামরায় নতুন একজনের অতিথির আগমন – কেনজি মিয়াজাওয়া। কেনজি মিয়াজাওয়া তার “Night on the Galactic Railroad” গল্পে এই আত্নত্যাগের বিষয়টা বারবার ফিরিয়ে এনেছেন। মিয়াজাওয়ার মতে জীবনের সব গুলো ঘটনাই সম্পর্কযুক্ত, তা যত ছোটই হোক না কেন। নিয়তির বিচারে সব অংকের যোগফল শুন্য। এবং আপনি কেবল বড় একটা নাটকের অংশ মাত্র, যার চিত্রনাট্য আপনার হাতে নেই; তার লাল-সুতায় সবাই বাঁধা, এবং এর থেকে মুক্ত হওয়ারও কোন উপায় নেই। ভালো সবসময়ই থাকবে, খারাপ সবসময়ই থাকবে। বৃশ্চিক হওয়ার নিয়তি যদি অনিবার্যও হয়, কিন্তু তার প্রক্রিয়া আর কার্যকারণ আপনার হাতে, তা কুয়োয় পরে জীবন হারাবেন, নাকি আকাশে নক্ষত্রমন্ডল হয়ে জ্বলতে থাকবেন। জীবনের সমাপ্তী কেবল বেঁচে থাকাতেই না।

vlcsnap-2016-06-08-14h25m19s100

কাতাগিরির যেমন দায়িত্ব পরে “ওয়ার্ম”-এর হাত থেকে টোকিওকে বাঁচানোর – যাকে ব্যাঙ বর্ণনা করে, “মানুষের মনের সব অন্ধকারের সমষ্টি” হিসেবে, কিন্তু “ওয়ার্ম”-কে সরাসরি ভালো-খারাপের মানদন্দে ফেলা যায় না। “ওয়ার্ম” বরং জাপানের মানুষের সমষ্টিগত চেতনার অনুরূপ। কেউই তার জন্য দায়ী নয়, এবং একই সাথে সবাই দায়ী।

ট্রেনের চেয়ারগুলোতে কি কতগুলো খেলনা ভাল্লুক দেখা যাচ্ছে? আমাদের যাত্রার শেষ গন্তব্য ২০ মার্চ, ১৯৯৫। জাপান যখন লস্ট ডেকেইড পার হচ্ছিল, তখন তার ছায়ায় বেড়ে উঠেছে এক ভয়ংকর টেরোরিস্ট সংগঠন – ওম শিনরিকিও(পিং গ্রুপ!)। ওম শিনরিকিওর শুরুটা বুদ্ধিজম আর হিন্দুইজমের যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টায়। কিন্তু এক পর্যায়ে সেটা হয়ে গেল তাদের নেতা শোকো আসাহারার ব্যক্তিগত এক কাল্ট, যখন সে নিজেকে দাবি করলো “ক্রাইস্ট” হিসেবে। এ ধরনের পাগলাটে সংগঠনে যোগ দেওয়ার মত বোকামি কে করবে! কিন্তু সেটা করলো জাপানের সেরা, সেরা সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, শিক্ষকরা, শিক্ষিত ব্যক্তিরাই! তাদের মতে জাপানকে এর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী নির্মোহ, নির্জীব অবস্থা থেকে বাঁচাতে একটা “ধাক্কা”-’র প্রয়োজন ছিলো। ধাক্কাটা হবে টোকিওর নিচ দিয়ে চলে যাওয়া সুদীর্ঘ পাতাল-রেলপথে। হয়তো এতে অনেক মানুষ মারা যাবে – কিন্তু জাপানের সামগ্রিক “শুদ্ধির” জন্য এই বিসর্জনটা মেনে নেওয়াই যায়।

vlcsnap-2016-06-08-14h34m37s72

Penguindrum-এ ইকুহারা ওম শিনরিকিও-’র চিন্তাধারাটা বোঝার চেষ্টা করেছেন।তিন মূলচরিত্রের বাবা-মা-ই ওম শিনরিকিওর সদস্য! মুরাকামিকেও এই ব্যাপারটা ভাবিয়েছে, তিনি কেবল থট এক্সপেরিমেন্ট দিয়ে ফিকশনের “ওয়ার্ম”-এই পরে থাকেননি, সারিন গ্যাস অ্যাাটাক দ্বারা প্রভাবিত মানুষদের গল্প শুনেছেন, ওম শিনরিকিওর সদস্যদেরও। তারপর ১৯৯৭ সালে লিখলেন প্রায় শ’খানেক মানুষের সাক্ষাৎকার সম্বলিত নন-ফিকশন “Underground”. এই বইয়ের সাক্ষাৎকারগুলোতে জাপানের সেই সময়কার মানুষদের মানসিক অবস্থার একটা ধারণা পাওয়া। কেউ কেউ ছিলো যারা সকালবেলা এই দূর্ঘটনার মুখে পরেও, পরবর্তীতে কর্মস্থলে গেছে যেন কিছুই হয়নি, নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে আটকে থাকা রোবটের মত। কারো কারো আবার জীবন বদলে গেছে, পরিবারে বিচ্ছেদ ঘটেছে, সবকিছু নতুন করে দেখতে শিখায়(“after the quake”-এর “UFO in Kushiro” পড়তে পারেন)। মানুষের মূল্যবোধকে ভেতর থেকে খাওয়া অ্যাপ্যাথেটিক এক সমাজব্যবস্থা আর সরাসরি মানুষ হত্যা করতে প্রস্তুত এক ডুম’স ডে কাল্টের মধ্যে আপনি কীভাবে তুলনা করবেন?

“And the opposite of life is not death, it’s indifference.”
― Elie Wiesel

এই কাল্ট যখন আবার সেই সমাজব্যবস্থার কারণেই বেড়ে ওঠা, সেই সমাজেরই “সব অন্ধকারের সমষ্টি”? পাতালপথের নিচে বাড়তে থাকা “ওয়ার্ম”, কাধের পেছনে ভর করা এক ভূত, একটি অভিশাপ – “সানেতোশি”। কেউই তার জন্য দায়ী নয়, এবং একই সাথে সবাই দায়ী। এর ফলাফলটাও ভোগ করবে সবাই। “ওয়ার্ম” অথবা “সানেতোশি”-’র হাত থেকে টোকিওকে বাঁচানোর দায়িত্বটাও কাতাগিরি বা মোমোকোর একার নয়, কিন্তু কাতাগিরি এবং মোমোকোরও দায়িত্ব। তার বদলে কোন স্বীকৃতি না পেলেও। একটি ব্যাঙ অথবা একটি ডাইরী বাদে কেউ তাদের বীরত্বের কথা না জানলেও। শোকো আসাহারার মত কেবল ফাঁকা বুলিতেই না, ক্রুশেও যে বিঁধতে হবে একজন “ক্রাইস্ট”-কে।

চিরস্থায়ী ভালোর আশা করাটা বোকামি, কিন্তু খারাপের বিপক্ষে ভালোর লড়াইটাও চিরস্থায়ীই। বারবার ফিরে আসা – চাক্রিক। টোকিওর পাতালপথের রেললাইনের মত! তাই তো মোমোকোর পর আবার কানবা আর শৌমার জন্ম হয়। অংকের যোগফল শুন্য হলেও তা বের করার পথটা বদলে দেওয়াই যায়।

শুধু জাদুমন্ত্রটা মনে থাকলেই হবে।

mawaru_penguindrum_24_5

[১] কুনিহিকো ইকুহারা – অ্যানিমে পরিচালক; Penguindrum, Utena, Sailor Moon S, Yuri Kuma Arashi
[২] Revolutionary Girl Utena – ১৯৯৭ https://en.wikipedia.org/wiki/Revolutionary_Girl_Utena
[৩] লস্ট ডেকেইড – https://en.wikipedia.org/wiki/Lost_Decade_(Japan)
[৪] হারুকি মুরাকামি – জাপানী সাহিত্যিক; https://en.wikipedia.org/wiki/Murakami_Haruki
[৫] দ্য গ্রেট হানশিন আর্থকোয়াক – ১৯৯৫; https://en.wikipedia.org/wiki/Great_Hanshin_earthquake
[৬] after the quake – ২০০০, ছোটগল্প সংকলন; https://en.wikipedia.org/wiki/After_the_quake
[৭] কেনজি মিয়াজাওয়া – জাপানী সাহিত্যিক; https://en.wikipedia.org/wiki/Kenji_Miyazawa
[৮] টোকিও সাবওয়ে সারিন গ্যাস অ্যাটাক – ১৯৯৫; https://en.wikipedia.org/wiki/Tokyo_subway_sarin_attack
[৯] ওম শিনরিকিও – https://en.wikipedia.org/wiki/Aum_Shinrikyo
[১০] Underground – ১৯৯৭; https://en.wikipedia.org/wiki/Underground_(Murakami_book)

সামুরাই চ্যাম্পলু [রিভিউ] — Rafiul Alam

Samurai Champloo

“এইটা না এদো পিরিয়ডের কাহিনী? নামের মধ্যেই সামুরাই আছে যে জিনিসে সেটা কিভাবে ওয়েস্টার্ন হয়?”
ওয়েল টাইটেলেই ভেল্কিবাজি। চ্যাম্পলু শব্দের বাংলা অর্থ হল গুলানো । তাই এনিমেটি এদো পিরিয়ডের পটভূমির, কিন্তু মডার্ন কালচার আর হিপহপ ইনফ্লুয়েন্সড। বলা যায়, দা ভেরি ডেফিনিশন অফ ইউনিক এনিমে। চ্যাম্পলু এমন একটি এনিমে, যেখানে তরবারির কোপাকুপিতে লিটারেলি রক্তের বন্যা বয়ে যায়, কিন্তু তাতেও স্ক্রিনের থেকে চোখ সরাতে পারবেন না। ভায়োলেন্স, এক্সপ্লিসিটনেস ছাড়াও অনেক বেশি ম্যাচুর থিমের শো মনে হয়েছে। সামুরাই চ্যাম্পলু অনেক দিক থেকেই কাউবয় বিবপের অনেক কাছের আত্নীয়। যার মূল কারণ, উভয়েরই ডিরেক্টর ছিলেন ওয়াতানবে শিনোচিরো। আনিমেটি বর্তমানে বিলুপ্ত ম্যানগ্লোব স্টুডিও থেকে ২০০৪-৫ সালে এয়ার হয়। ২৪ মিনিটের মোট ২৬ টি এপিসোড। সম্পূর্ণ জাপানি সেটাপের গল্প হলেও সাবের চেয়ে ডাব বেশি ভালো লেগেছে।

Synopsis:
ঘটনার অন্যতম প্রোটাগনিস্ট ১৫ বছরের ফু কাসুমি একটি রেস্টুরেন্টে ওয়েট্রেস হিসেবে কাজ করে। একদিন সেই রেস্টুরেন্টে গুন্ডা পান্ডার দল ইচ্ছামত পেটপূজা করতে আসে। অবস্থা খারাপ হয় যখন ভুলক্রমে ফু একজনের মুখের উপর চা ফেলে দেয়। গুন্ডার দল ফু এর উপর চড়াও হয়, তার আঙুল কেটে ফেলবে বলে!
এখন ফুকে ফ্রি ডাম্পলিংয়ের চুক্তিতে বাঁচাতে আসে তরবার গুরু মুগেন। ব্রেকডান্সের তালে একাই গুন্ডার দলকে “কুপিয়ে” রক্তারক্তি কান্ড ঘটিয়ে দেয় সে। সেখানে থাকা জমিদারের (গভর্নর) ছেলেকেও ভয় পায় না সে। কিন্তু মারামারি আরও খারাপ আকার ধারন করে যখন সেখানে ঢুকে আরেক তরবার গুরু সামুরাই জিন। মাঝখান দিয়ে এক গুন্ডা রেস্টুরেন্টে আগুন ধরিয়ে দেয়। আগুন লাগলে সবাই জানে বাঁচলেও মারা যায় সেই জমিদারের ছেলে। ফলে সরকারি লাঠিয়াল বাহিনী জিন ও মুগেনকে বন্দি করে পরদিন পাব্লিক এক্সিকিউশন করার জন্য। তো সেই রাতে, তাদের বন্দিশালায় ফু এর আগমন ঘটে। ফু চুক্তি করে যে সে তাদেরকে পালানোর জন্য সাহায্য করবে, বিনিময়ে তাদের একজন সামুরাইকে খুজে দিতে হবে। পরদিন লংকাকান্ড বাধিয়ে জিন আর মুগেন এক্সিকিউশন থেকে পালায়। কিন্তু ফু তাদের পিছু ছাড়ে না। সে তার চুক্তি অনুযায়ী সেই সামুরাইকে খুঁজার জন্য মুগেন আর জিনকে শক্ত করে ধরে। মজার ব্যাপার হল, ফু সেই সামুরাই সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। শুধু জানে যে সেই সামুরাই থেকে নাকি সূর্যমূখী ফুলের ঘ্রাণ বের হয়। কিন্তু জিন আর মুগেন নিজেদের ফাইট নিয়ে ব্যস্ত। কয়েন দিয়ে টস করে ফু তাদের মারামারি থামায়। এবং চুক্তি হয়, সেই সূর্যমুখী সামুরাই কে না পাওয়া পর্যন্ত জিন আর মুগেন নিজেদের মাঝে ফাইট করতে পারবে না। অগত্যা মুগেন আর জিন, ফু এর সূর্যমুখী সামুরাই খোঁজে তার সহযাত্রী হতে রাজি হয়। শুরু হয় সূর্যমুখী সামুরাই অভিযান। এরপরের ঘটনাগুলো মূলত এপিসোডিক, কিন্তু মূল কাহিনী ঠিকই ফোকাসে থেকে আগাতে থাকে। এক্সাইটিং একশন সিনের সাথে ক্যারেক্টার ব্যাকস্টোরি রিভিল হতে থাকে। ফলে কয়েক এপিসোড পর চাইলেও ড্রপ দেয়া যায় না।

Theme setup, Animation and Music:
পটভূমি কেমন? সেটার এক লাইনের উত্তর হবে, “শিনোচিরোর চোখে এদো পিরিওড।”
এমন এক জাপানকে দেখানো হয়েছে, যেখানের মানুষজন চালচলনে উনিশ-বিশ শতকের কিন্তু মনের দিক থেকে ২১ শতকের। খুব লক্ষ করলে মডার্ন মিউজকের ইস্টার এগ ধরতে পারবেন। চ্যাম্পলুর আর্টওয়ার্ক, এনিমেশন বেস্ট অফ ২০০৪-৫। ব্যক্তিগতভাবে সেই সময়ের নন আই ক্যান্ডি কিন্তু রিয়েলিস্টিক মুভমেন্টের এনিমেশন আমার অনেক প্রিয়। আর চ্যাম্পলু সেই ধরনের আনিমেশনের ব্রান্ড এম্বাসেডর। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিককে সব দিক থেকে এক্সপ্লয়েট করা হয়েছে। এবং অবশ্যই তাতে হিপহপের ইনফ্লুয়েন্স লক্ষণীয় ছিল। তবে আমার প্রিয় হল এপিসোড ১৪ এর রিয়ুকিউয়ান মিউজিক, অবোকুরি ইউমি ট্র্যাকটি। মিউজিকের দায়িত্বে ছিলেন জাপানিজ হিপহপ গুরু, রেকর্ড প্রোডিউসার জুন সেবা (নুজাবেস)। তার করা এনিমের ওপেনিং ট্র্যাক, ব্যাটলক্রাই, আমার শোনা বেস্ট ওপেনিং গুলার একটি। মিনমির গাওয়া এন্ডিং গানটাও বার বার শোনার মত।

Characters setup:
১৫ বছরের হাসিখুশি মেয়ে ফু, রাফ এন্ড টাফ মুগেন এবং ঠান্ডা মাথার জিন, এই ত্রয়ীর এডভেঞ্চার নিয়েই সামুরাই চ্যাম্পলু। এপিসোডিক এনিমে বিধায় সাইড ক্যারেক্টরের অভাব নেই। “ব্যাড গাই” বা “গুড গাই”, যে যাই হোক না কেন, প্রতেকটি ক্যারেক্টার ডিজাইন ইউনিক। শুরুর থেকেই সবার আলাদা বৈশিষ্ট্যগুলো অনেক বেশি স্পষ্টভাবে নজরে আসবে। একই সাথে চরিত্রগুলোর একে অপরের সাথে সম্পর্কের বিল্ডাপ দেখানো হয়েছে।
ফাইনালি আমি বলব, সামুরাই চ্যাম্পলু সব দিক থেকেই ইউনিক একটি এনিমে যা সব রুচির দর্শকের কাছেই ভালো লাগবে। কারো দেখা মাস্টারপিস এনিমের লিস্টে চ্যাম্পলু না থাকার সবচাইতে গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা সম্ভবত “সে চ্যাম্পলু দেখে নি”।

Opening track:

https://www.youtube.com/watch?v=OobUV9q0aDA

OST Playlist:

https://www.youtube.com/watch?v=yS6uWWrjf8c&list=PL3E1DD4F30F9D8923

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 8.5/10
IMDb: 8.7/10
My Rating : 9.5/10

Piano no Mori [মুভি রিভিউ] — Abdullah Ar Rayhan

Piano no Mori 1

Piano no Mori || Piano Forest || The Perfect World of Kai

শিগাতসু এর ভূত মাথা থেকে তাড়াতে না পেরে নিয়মিতই খুঁজতে থাকি সিমিলার কিছু। আর এভাবেই পেয়ে গেছি এ মুভিটি। প্লটে কোন মিল না থাকলেও শেষের দিকে এসে শিগাতসু এর সাথে কিছু সিমিলারিটিজ লক্ষ করা যায়। বারবার কাওরি আর আরিমা-র স্টেজ পারফর্মেন্সের কথা মনে করিয়ে দেয়।

যা-হোক, অসাধারণ, ভিন্নরকম একটা মুভি দেখলাম। কেন্দ্রে থাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া দুই বালক যারা একই সাথে ঘনিষ্ট বন্ধু এবং প্রতিদ্বন্ধী।

প্রথমেই আছে মিউজিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে আসা ধনী পরিবারের সন্তান আমামিয়া সুহেই। বাবা বিখ্যাত কনসার্ট পিয়ানিস্ট। বাবার পায়ের ছাপ অনুসরণ করবে বলে খুব ছোটবেলা থেকেই স্ট্রিক্ট লেসন এর মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠেছে আমামিয়া। মুভির শুরুতেই দেখা যায় দাদীর অসুস্থতা উপলক্ষ্যে টোকিও থেকে গ্রামে শিফট করে আমামিয়া-র পরিবার। আরেকটি ছেলে হচ্ছে ইচিনোসে কাই। সবসময় কেয়ার-ফ্রি; সে মনের আনন্দে জঙ্গলের ভেতর একটি পুরোনো পিয়ানো বাজায়; ব্যাকগ্রাউন্ড খুবই ভিন্ন, অসচ্ছ্বল পরিবার। একজন এমনভাবে পিয়ানো বাজায় যেন তার জীবন নির্ভর করে এর ওপর, আরেকজন বাজায় অসাধারণ স্মৃতি আর পর্যবেক্ষণ থেকে।

শুরু থেকেই রহস্যময় প্লট আগ্রহ বাড়াতে থাকে। নতুন স্কুলে প্রথম দিনেই সহপাঠীরা আমামিয়া-কে চ্যালেঞ্জ ছূঁড়ে দেয় জঙ্গলের পিয়ানোটি বাজানোর জন্য। বলা হয়ে থাকে পিয়ানোটি অভিশপ্ত। বাজালেও এতে কোন শব্দ হয় না। স্কুল শেষে, একই স্কুলের ছেলে, কাই আমামিয়া-কে নিয়ে যায় জঙ্গলে। আমামিয়া ব্যর্থ হলেও কাই অদ্ভুত সুন্দর সুর তোলে একই পিয়ানোতেই। আর এভাবেই শুরু হয় এক শক্তিশালী বন্ধুত্বের। সাথে আরেক প্রধান চরিত্র, ওদেরই স্কুলের মিউজিক টিচার, আজিনো সোসুকের উপস্থিতিতে ভিন্ন মাত্রা পায় ওদের সম্পর্ক। গল্পটি এ দু’ বালকের বন্ধুত্ব, বন্ধন আর সাময়িক প্রতিদ্বন্ধিতার। ছোট্ট দুই মিউজিশিয়ানের নিজেদের পিয়ানো খুঁজে পাওয়ার গল্প।

2D মুভি হলেও অ্যানিমেশনে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছে Madhouse. চরিত্রগুলো জীবন পেয়েছে নিখুঁত অ্যানিমেশনের কল্যাণে; ইমোশনগুলো ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যথার্থভাবে। এক্সপ্রেশনগুলো ছিল অলমোস্ট রিয়েল (কাই-এর প্রাণখোলা হাসি দেখে আমি নিজেই হাসি থামিয়ে রাখতে পারিনি বেশ কয়েকবার– এতই প্রাণবন্ত ছিল চরিত্রগুলো)। সে সাথে জেলাসি, হতাশা, হিউমার আর বিষণ্নতাও ছিল যেখানে যতটুকু দরকার।

নামের মধ্যেই পিয়ানো দেখে অনেকেই হয়তো দ্বিধা করতে পারেন। কিন্তু আসলে সেভাবে না বোঝার মত কিছুই নেই এ মুভিতে। আমি নিজে মিউজিক তেমন বুঝি না, পিয়ানো তো নয়ই– তা-ও দারুণ উপভোগ করেছি মুভিটি। কিছু মুভি আছে না? মনের কোণে লুকিয়ে থাকা হালকা মাপের ইমোশনগুলো ছোটখাটো নাতিদীর্ঘ একটা রোলার কোস্টারে চড়ানোর মত করে জাগিয়ে তোলে আর শেষ হলেই ভালোলাগায় মনটা পরিপূর্ণ করে দেয়? এটি সেরকমই একটা মুভি।

বাই দ্য ওয়ে, ম্যাল স্কোর দেখে মুভিটাকে জাজ করবেন না। মুভিটা আন্ডাররেটেড। গ্রুপে কোন পোস্ট/মেনশন না দেখে একটু অবাকই হয়েছি।

Download link 560MB [1080p]: https://kat.cr/kamigami-piano-no-mori-bd-x264-1920-1080-aac-sub-gb-big5-jap-eng-dut-ger-fre-ita-mkv-t7059503.html

Piano no Mori 2

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিএকশন] — Abdullah Ar Rayhan

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu

[স্পয়লার-ফ্রি প্রতিক্রিয়া]

অ্যানিমেটা ওয়াচলিস্টে ছিল আগে থেকেই। গ্রুপের কভার ফটো দেয়ার সাথে সাথেই দেখা শুরু করে দিয়েছিলাম। শেষ করে মনে হলো কিছু অন্তত বলা উচিত।

এপিসোড সংখ্যাঃ ১৩
জনরাঃ জোসেই, ড্রামা
MAL স্কোরঃ ৮.৬৫/১০
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

অ্যানিমেটি দেখার সময় যা মনে হচ্ছিলো, গ্রীষ্মের এ তপ্ত গরমে এ যেন এক পশলা ঠান্ডা বাতাস। এক্সাম শেষ করে মূড ঠিক করতে এমন পারফেক্ট একটা অ্যানিমে দরকার ছিল।

শুরুতে একটি গম্ভীর মনে হলেও হতে পারে; তবে তা বিরক্তি তো জাগায়ই না, বরং আরো ভেতরে টেনে নিয়ে যায়। ৪৭ মিনিটের পাইলট এপিসোডটা প্লট সেটিং এর জন্য একদম যথার্থ। শুরুতেই দেখা যায় কারাগার থেকে বের হওয়া এক লোক যে কিনা ভেতরে থাকা অবস্থায় “শিনিগামি” নামে একটি রাকুগো শুনে এর পারফর্মার প্রবীণ ইয়াকুমো ইউরাকুতেই এর ভক্ত বনে যায় এবং তার শিষ্য হওয়ার জন্য উঠে পড়ে লাগে। ইয়াকুমো, যিনি কিনা কখনো শিষ্য নেননি এবং নেবেন না বলে পণ করেছিলেন, কি মনে করে একে শিষ্য হিসেবে নিয়ে নেন এবং নাম দেন ‘ইয়োতারো’। মাস্টারের ওখানেই তার সাথে দেখা হয় ‘কোনাতসু’ এর যে কিনা আরেক নামী রাকুগো পারফর্মার ‘সুকেরোকু’র একমাত্র মেয়ে। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই ইয়াকুমো’র কেয়ারে আছে কোনাতসু। ট্রেইনিং চলাকালে মাস্টার লক্ষ্য করেন সুকেরোকু’র স্টাইলের প্রতি ইয়োতারো’র ঝোঁক; আর সে সাথে আমরা দেখি কোনাতসু’র সাথে মাস্টারের শীতল সম্পর্ক যে তার বাবার মৃত্যুর জন্য ইয়াকুমো-কে দায়ী করে। এক রাতে মাস্টার ঠিক করেন দুজনকেই তাঁর আর সুকেরোকু’র অতীত শোনাবেন। এ হলো সংক্ষেপে পাইলট এর কাহিনী।
পরের এপিসোডেই আমরা চলে যাই অতীতে, মাস্টারের জবানিতে, যেখানে আমরা দেখি কিভাবে ইয়াকুমো আর সুকেরোকুর পরিচয় হয়, কিভাবে তারা একই মাস্টারের অধীনে বেড়ে ওঠে। মাঝে মাঝেই নাতিদীর্ঘ ‘রাকুগো’ পারফর্মেন্স। [রাকুগো এক প্রকার স্টোরিটেলিং যাতে একজন পারফর্মার স্টেজে বসে একা একা পারফর্ম করে যান। স্টোরিতে সবসময়ই একাধিক ক্যারেক্টার থাকে যা পারফর্মার নিজেই ভিন্ন ভয়েস আর অঙ্গভঙ্গি দিয়ে ফুটিয়ে তোলেন।]

এ অ্যানিমে কেবল দু’জন মানুষের গল্পই নয়। কেবল রাকুগোর গল্পই নয়। এতে আমরা দেখি কিভাবে ট্রানজিশন পিরিয়ডে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে একটা শিল্প (বিশেষ করে টেলিভিশন এর আবির্ভাবের কারণে রাকুগোর জনপ্রিয়তা নিয়ে শংকা দেখা দেয়)। আমরা দেখি শিল্পের চিরাচরিত দ্বন্ধ। কিকুহিকো-র (ভবিষ্যতের ইয়াকুমো) ট্রেডিশন আর পারফেকশনের প্রতি ঝোঁক, সিরিয়াস আর পরিশ্রমী মনোভাব; বিপরীতে সুকেরোকু’র ফান-লাভিং আর সময়ের সাথে মানিয়ে নেয়ার প্রবণতা। একজন মাস্টারদের প্রিয়, আরেকজন দর্শকদের। সে সাথে এটি জীবনের গল্পও। আমরা দেখি কিভাবে বিপরীতমুখী দুটি চরিত্র বাধা পড়ে যায় একে অপরের সাথে, কিভাবে তাদের মধ্যে গড়ে ওঠে আবেগময় গভীর বন্ধুত্ব (এপিসোড ৩ এর শেষের অংশটা পার্টিকুলারলি ইমোশনাল; চোখে পানি এনে দেয়)।

অ্যানিমের নামটা নিয়েই কিছু বলা যাক। Shouwa আর Genroku হচ্ছে দুইটা টাইম পিরিয়ড। Genroku ইরা (১৬৮৮-১৭০৩) থেকে রাকুগো জনপ্রিয়তা লাভ করতে থাকে [সম্ভবত], আর Shouwa ইরা (১৯২৬-১৯৮৯) এর মাঝামাঝি এসে এসে ‘রাকুগো’ টার্মটি পরিচিতি পায়। Shinjuu বা ডাবল সুইসাইড দেখেই শেষটা অনুমান করে ফেলা যায় (বিশেষ করে এপিসোড ৭ এর দিকে); তবে এটাকে ঠিক প্রেডিক্টিবিলিটি বলা যায় না। যে নিপুণ দক্ষতায় অনিবার্য সমাপ্তির দিকে দর্শককে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় তা-ই এ অ্যানিমের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।

শুরুর দিকে কিছুটা স্লো। এ অংশগুলো কারেক্টার বিল্ডিং এ ব্যয় করা হয় এবং অ্যানিমেটি তাতে বেশ সফল হয় সন্দেহাতীতভাবেই। স্টোরি আর কারেক্টার বিল্ডিং এ অ্যানিমের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। এমন ইনটেন্স আর সলিড স্টোরি খুব একটা দেখা যায় না, সে সাথে কিছু মন হালকা করে দেয়ার মুহুর্ত যে নেই তা নয়। পুরো অ্যানিমেতেই স্ক্রিন থেকে মনোযোগ সরানো কঠিন, তবে এপিসোড ৭ এর দিকে এসে গতি বেড়ে যায়।

আর্ট নিয়ে অভিযোগ করার সুযোগ নেই। ডিটেইলের দিকে বেশ মনোযোগ দেয়া হয়েছে। যেমন একটা দৃশ্যে মুহুর্তের জন্য দেখা যায় লাইটবাল্বের মৃদু আলোতে কিভাবে পোকামাকড় ভিড় করে, আরেকটা দৃশ্যে আমরা পানিভর্তি গ্লাসের মধ্য দিয়ে দেখতে পাই কিকুহিকো আর মিয়োকিচি কে। ইনসিগনিফিক্যান্ট একেকটা দৃশ্য কিন্তু মনে ছাপ ফেলে যায়।

মিউজিক আমাকে বিশেষভাবে নাড়া দিয়ে গেছে এ অ্যানিমেতে। Shamisen এর চিয়ারফুল টুংটাং যতবারই শুনেছি ততবারই মনে হয়েছে শহরের যান্ত্রিকতা ফেলে দূরে কোথাও চলে গিয়েছি, মন ভালো হয়ে গেছে প্রতিবারই। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকও মন ভরিয়ে দেয়ার মত। একটা দৃশ্যের কথা বলতেই হয়। ‘টেনেসি’ নামক একটা বারের দৃশ্য। কিকুহিকো আর সুকেরোকু আলোচনা করছিলো ভবিষ্যত নিয়ে। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতে থাকে জ্যাজ মিউজিক। এ ছোট্ট দৃশ্যেও যে মনোযোগ দেয়া হয়েছে তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।
ওহ, যেটা ভুলে গিয়েছিলাম; ভয়েস অ্যাক্টিং নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি কখনোই এবং তেমন কিছু জানিও না তবে আমার মনে হয়েছে অ্যানিমেটিতে অসাধারণ কাজ দেখিয়েছেন ভয়েস অ্যাক্টররা। রাকুগো তে এমনিতেই একজনকে বেশ কয়েক ভয়েসে কথা বলতে হয়, এক্ষেত্রে ভয়েস অ্যাক্টররাও কম দেখাননি। কন্ঠে এত বৈচিত্র্য দেখে প্রথমে ভেবেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন অ্যাক্টর দিয়ে করানো হয়েছে কিন্তু খোঁজ নিয়ে দেখলাম ইয়াকুমো’র বিশেষ অংশ ছাড়া বাকিদের ক্ষেত্রে প্রত্যেক কারেক্টারে একজনই কাজ করেছেন।

সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা সিরিজ। হয়তো বুক মোচড়ানো ইমোশন নেই, হার্ট অ্যাটাক করানোর মত ক্লাইম্যাক্স বা সারপ্রাইজ নেই, তবে ড্রামা হিসেবে একটা অ্যানিমের কাছে যা আশা করা যায় তার সবই আছে। হ্যাপি ওয়াচিং।

MM! [রিভিউ] — অনন্য রায়হান

mm 1

এক ফুতারো(Pig Boy) আর সেনপাই এর গল্প

Masochism শব্দটির সাথে অনেকেই পরিচিত, আবার অনেকে নন।
আমেরিকার সাইক্রিয়াটিক এসোসিয়েশনের Diagonstic & Statistical Manual অনুযায়ী Masochism একটি মানসিক রোগ– “which refers to the recurrent & intense sexual arousal from the act of being humiliated, beaten, bound, or otherwise made to suffer, as manifested by fantasies, urges or behaviors”

উদাহরণ দিয়ে ব্যাপারটা বোঝানো যাক–
এক ছেলেকে অনবরত মারধর, অত্যাচার, গালিগালাজ করা হচ্ছে অথচ তার মুখে হাঁসি এবং সে এটা উপভোগ করছে। এমনকি তার এ আনন্দ থেকে সে আরো বেশি করে প্রহার কামনা করছে।

ব্যাপারটাকে অদ্ভুত মনে হলেও কিছু মানুষের মধ্যে এ অদ্ভুত মানসিক ব্যাধি দেখা যায়। আমেরিকা ও মেক্সিকোতে এ রোগের রোগীর সংখ্যা একটু বেশিই।

এনিমে: MM!
এপিসোড: 12
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৪

সাডো তারোউ–
এক ছেলে যাকে কোন সুন্দরী মেয়ে—
আগুনে ফুটন্ত পানিতে চোবালে
৩ পাউন্ডের বেসবল ব্যাট দিয়ে আঘাত করলে
শরীরের জায়গায় জায়গায় গরম মোম ঢাললে
অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করলে
সে অদ্ভুত আচরণ শুরু করে; সে উপভোগ করতে শুরু করে এই অত্যাচার। শুধু তাই নয় তখন সে নিজ জ্ঞানেও থাকে না। অর্থাৎ কোন মেয়ে তাকে আঘাত না করলে তার মাঝে এ সিম্পটম্পস দেখা যায় না……

এখন তো হেভি সমস্যা–
তো সমাধানের জন্য সেকেন্ড ভলান্টিয়ারিং ক্লাবের শরণাপন্ন হতে হয় তারৌকে। আর সে ক্লাবের প্রেসিডেন্ট হলেন স্বঘোষিত কামি-সামা ইসুরুগি মিও।

ইসুরুগি মিও একটি নচ্ছার, খুবই খারাপ একটা মেয়ে– এটা চরিত্রটির প্রথম বা ফার্স্ট ইম্প্রেশন …… [১০-১১ এপিসোডের দিকে খুব বেশি ভালো লেগে যাবে]
এই সেকেন্ড ভলান্টিয়ার ক্লাবের আরেক সদস্য ইউনো আরাশিকো……
এক কথায় ইনি আংশিক ইনামি মাহিরু [Working এর]
আরো বেশি বলতে গেলে Androphobic; ছেলে দেখলেই স্টার প্লাটিনাম বের হতে থাকে…… [স্টার প্লাটিনাম: রেফারেন্স জোজোর বিজার ভ্রমণ]
তারৌ এর ফ্রেন্ড তাতসুকিচি হায়ামা–
ইনি আবার ক্রসড্রেসিং পছন্দ করেন, গলাও মেয়েদের মত। আফটার অল সেইয়ুও সাতৌ রিনা……
কিন্ত এই চরিত্রটি আরো মজার হয়ে ওঠে Personality Interchange এর মাধ্যমে – সেটা আবার কি? সব বলে দিলে এনিমেটা দেখে কী লাভ?
আর তারৌ এর মা ও বোন পুরো আজব ও গুবলেটে – অপ্রধান চরিত্র আর অনেকেরই বিরক্তিকর লাগতে পারে… রিভিউদাতার কেমন লেগেছে তা রিভিউদাতা জানাতে চান না ………
আর চরিত্র যদি বলতেই হয় তবে আছেন মিচিরু অনিগাওয়ারা……
ফিমেইল Badass

তারৌ এর Masochism সারিয়ে তুলতে শুরু হয় অভিযান! MM! এর গল্প এই অভিযান নিয়েই!

:- এচ্চি ট্যাগ আছে যে?? -:
মাইএনিমেলিস্ট সর্বজ্ঞানী, পরাক্রমশালী এমন যেহেতু নয় সুতরাং তাদের ট্যাগানো বেদবাক্য বলে মেনে নেয়া যায় না। থাক ট্যাগের উল্টাপাল্টা কার্যক্রমের উদাহরণ না টেনে সোজা বাংলায় কিছু কথা বলি……

এচ্চি বলতে যা বোঝায় তার কিছুই নেই এর মধ্যে………
আই রিপিট কিছুই নেই, এখন কিছু নব্য ইংরেজি গালি যদি এচ্চি ট্যাগ পায় আর একটু ডারটি জোক [খুবই সীমিত] যদি এচ্চি বলার জন্য এনাফ হয় তবে এটা এচ্চিই………..
এচ্চি ট্যাগ দেয়া অথচ সমতুল্য রিকমেন্ডেশন লিস্টে MAL এই উল্লেখ আছে Working! আর Toradora-এর নাম। এখন আমি যতদূর জানি এ দুটো এচ্চি নয়। আর টাইগার মুখের ভাষা আর MM! এর মিও র মুখের ভাষায় উনিশ বিশ পার্থক্য। [নোট ইট]
আরো পরিষ্কার করা যাক……
Working! যারা দেখেছেন তাদের জন্য এই তুলনা মূলক চার্ট –
MM! চরিত্র == Working! চরিত্র
সাডো তারৌ == তাকানাশি সোউতা
ইউনো আরাশিকো == ইনামি মাহিরু
মিচিরু অনিগাওয়ারা == শিরাফুজি কিয়োকো
সো ওয়ার্কিং আর তোরাডোরার টাইগার কমবো MM! এনিমেকে বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না………

একটু ফ্রিলিই বলি –
Nudity মোটেও নেই, কোন ডাইরেক্ট নেক্সট টু H মোমেন্ট নেই……
তারৌ এর মা আর বোনের কান্ড দেখে একে Incest ট্যাগিয়ে ফেলতে পারেন [আমিও এই ভুল করেছিলাম] কিন্ত দিনশেষে #‎ITS_NOWHERE_NEAR_INCEST

এনিমেটা শুরু এমনভাবে হয় যে মনে হবে বেশ মজাদার একটা সিরিজ হবে। প্লট দেখেই মনে হবে এতে নিশ্চয়ই সামনে এচ্চি থাকবে; কিন্ত সুখবর [আমার জন্য SADLY] সেরকম কিছু তো দূরে থাক, তার ধারকাছেও কোন ম্যাটেরিয়াল নেই……..

মাজখানের কিছুটা হারেম আর রোমান্স ভাইব আসে; কিন্ত তা মিলিয়ে যায় গল্পের সামনে আগানোয়…
আর এন্ডিং টা একে পিওর “স্লাইস অফ লাইফ” বলার জন্য এনাফ! অদৃষ্টের পরিহাস, সম্মানীয় MyAnimeList একে সল ট্যাগ দেননি……

:- ভয়েস এক্টিং ও OST -:
এনিমেটির সাউন্ড ডিপার্টমেন্ট এ কিছুতা আধিপত্য ই ছিল আয়ানা তাকেতাতসু’র। এনিমের অন্যতম প্রধান চরিত্র মিও’র ভয়েস এক্টিং ই কেবল নয়, ওপেনিং [দুটো ভারশন] আর শেষ এপিসোডের মন ঠাণ্ডা করে দেয়া এন্ডিং টিও তিনি গেয়েছেন…………
সেই সুন্দর এন্ডিং টি শুনে ফেলুন –
http://www.youtube.com/watch?v=rfX_Eot4Ya8

আর হেল্প! পু! পু! হচ্ছে এনিমেটির ওপেনিং –
দেয়া হল Hell’s Side আর Heaven’s Side দুই ভার্সনই

https://www.youtube.com/watch?v=TKH6d6PQv98

২য় হিভেন ভার্সন টিতে আয়ানা সানের সাথে কন্ঠ দিয়েছেন সাওরি হায়ামি, যিনি একইসাথে এনিমেটির ইউনো আরাশিকোর ও ভয়েস এক্ট্রেস।

আর নাতসুকো আসোউ এর “More! More! Lovers!” গানটা বেশ মজার! বেশ ভালো লেগেছে! কণ্ঠ অনেক অনেক ভাল!
লিংক :
https://www.youtube.com/watch?v=MMgFIAGTMso

:- পরিশেষে, হাসতে চাইলে কোন এক্সপেকটেশন ছাড়া বসে যান MM! দেখতে, উপভোগ করবেন আশা করি। আর এচ্চি বিতর্ক না হয় নিজে পরখ করেই দেখবেন; আর যদি আপনার কাছে এচ্চি মনে হয় তবে জানাবেন………

এটা নিয়ে রেটিং দিলাম না কারণ রেটিং অত্যন্ত সিরিয়াস ইস্যু আর এরকম গল্পের রেটিং দেয়া বোকামি; রেটিং এর মত ভারী জিনিসের জন্য বেশি লাইট আর কি……

mm 2