Coffee With Asif (CWA): পর্ব ৫ – The Wolf Children Ame and Yuki – মুভি রিভিউ

Wolf Children

[The Wolf Children Ame and Yuki – মুভি রিভিউ]

Hana- ১৯ বছর বয়স্ক এক মেয়ে হটাত করেই তার জীবনের ভালবাসা খুজে পায়। তার ভালবাসার মানুষ kare – সবার থেকে একটু আলাদা; একজন নেকড়ে মানুষ (wolf man); এবং তার গোত্রের সর্বশেষ সদস্য। তা সত্ত্বেও তারা পরস্পরকে ভালবেসে কাছে আসতে শুরু করে এবং একটা পরিবার গড়ে তোলে। কিন্তু কিছুদিন পরেই এক ট্রাজিক ঘটনায় মারা যায় kare;yuki’র সাথে রেখে যায় এক মেয়ে-yuki আর এক ছেলে-Ame কে। যাদের দুজনই স্বতঃস্ফূর্তভাবে এবং মাঝে মাঝে নিয়ন্ত্রণহীনভাবেই নেকড়ে-মানুষ জগতে আসা যাওয়া করতে পারে। শহরের চারদেয়ালের মাঝে এদেরকে বড় করা অসম্ভব হয়ে পড়ায় hana বাচ্চাদের নিয়ে একরকম পালিয়ে আসে পাহাড়ের কাছে এক বিরান গ্রামে। এখানেই শুরু হয় বাচ্চাদের নিয়ে তার সংগ্রামের গল্প; yuki আর ame’র নিজেদেরকে খুজে পাবার গল্প; নিজেদের ভবিষ্যৎ ডিসাইড করার গল্প !!!!

Studio Ghibli এনিমেটেড মুভির জগতে মোটামুটি একটা স্ট্যান্ডার্ড সেট করে দিয়েছে; এবং তাকে ধরাছোঁয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু Mamoru Hosodaর নির্দেশনায় Madhouse Studios এর এই মুভিটা সেই স্ট্যান্ডার্ডকে খুব সফলতার সাথেই চ্যালেঞ্জ করেছে।

মুভির মুল হাইলাইটগুলার মধ্যে ছিল – ন্যারেটিভ স্টাইল – মোটামুটি একটা অবিশ্বাস্য গল্প বেশ বিশ্বাসযোগ্য উপস্থাপন এবং এর ন্যুনতম সংখ্যক চরিত্র – প্রত্যেকটা চরিত্রই fully developed।

গল্পে বেশ কিছু চমৎকার মুহূর্ত আছে; যেখানে রীতিমত আবেগের রংধনু খেলা করে। Ame আর yuki র সরলতা; তাদের সংগ্রাম; ame’র তার ক্লাস থেকে ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাওয়া; সংলাপহীন বেশ অনেকগুলো মুহূর্ত – দুর্দান্ত !!!

দিনশেষে The Wolf Children Ame and Yuki তাই জীবনের গল্প বলা; সংগ্রামের গল্প বলা; হাসি কান্না আর দৈনন্দিন জীবন জাপনের খুনসুটিতে বেচে থাকার গল্প; একটা must watch মুভি !!!

Coffee With Asif (CWA): Sports Corner – পর্ব ৪ – Over Drive

Over Drive

এনিম – Over Drive

রিলেটেড স্পোর্টস – সাইক্লিং
অবস্থা – Completed
টোটাল এপি সংখ্যা – ২৬
রিলেটেড এনিম – Yowamushi Pedal

স্টোরি লাইন

“আমাদের বাই সাইক্লিং ক্লাবে জয়েন করে ফেল” – ফুকাজাওয়া; শিনোজাকি মিকোতোর সিক্রেট ক্রাশ মিকোতোকে বলে।

দুর্ভাগ্যক্রমে হাই স্কুল স্টুডেন্ট হওয়া সত্ত্বেও মিকোতো বাইসাইকেল চড়তে জানে না (আমিও জানি না; শরমের কথা বার্তা :/ ); যে কোন খেলাধুলায়ই তার সফলতা শুন্যর কোঠায়(আমারও 🙁 )। তারপরেও ফুকাজাওয়ার কথা মত ক্লাব সমন্ধে কোন আইডিয়া না নিয়েই সে বাইসাইকেল ক্লাবে জয়েন করে। দুই সেনপাই ইয়োসকে আর তেরাও এর সাথে সাইকেলের পেডালের চাপ দিতেই তার সামনে খুলে যায় অন্য এক জগত; নিজেকে আবিষ্কার করে নতুন ভাবে !!! চুড়ান্ত ব্যার্থতা আর আনন্দ হাসি কান্না সকল আবেগের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হয় চুড়ায় !!!

কেন দেখবেন –

অনেক এনিমের অনেক পর্বই মাঝে মাঝে রিভিশন দেওয়া হয়; এর মধ্যে ওভার ড্রাইভের ১৮ তম পর্ব সবার উপরে। এই পর্বটা কতশত বার যে দেখসি তার হিসাব নাই !!! কেন দেখবেন এ একটা কথাই শুধু বলতে পারি – ২৬ পর্বে শেষ হওয়া স্পোর্টস এনিমগুলার মধ্যে আমার সবচেয়ে, সবচেয়ে প্রিয় এনিম ওভার ড্রাইভ। 🙂

কেন দেখবেন না-

শুরুটা ভাল রকম স্লো; ১ম ৮-৯ পর্ব শুধু সেটাপ। যদিও এর পুরোটাই সুদে আসলে পুষিয়ে দিয়েছে শেষ ৭-৮টা পর্ব; ২৬ পর্বের একটা এনিমের জন্য তারপরেও এইটা একটা serious sin. এছাড়া আবেগ; স্টোরিলাইন সব কিছুই খানিকটা চাইল্ডিশ (most of the sports anime ই তাই); তারপরেও চাইল্ডিশ জিনিসে এলার্জি থাকলে সিরিজটা এভএড করে যাওয়াটাই উত্তম !!!

Opening Song- https://www.youtube.com/watch?v=BtNA5ubzps8

এইটা আসলে একটা AMV এর লিঙ্ক; গানটা সিঙ্গেলভাবে পাইলাম না বলে AMV টাই দিলাম। AMV টা প্রোবাবলি one of the worst (আমার বানানোগুলা হিসাবে আন্তেসি না; তাইলে দুনাইয়ার কারোরই লাস্ট হবার কোন চান্স নাই 😀 ); তবে গানটা যে কোন এনিমে শোনা আমার সবচেয়ে প্রিয় গানগুলোর একটা; কারণটা এনিমের ১৮তম পর্ব শেষ করতে পারলেই পরিষ্কার হয়ে যাবার কথা !!!

পাব্লিক রিএকশন (গৌরব রয়):-

Eyshild 21 যাদের ভালো লাগছে , OVer drive তাদের মনে হয় ভালও লাগবে বলে আশা রাখি।২৬ এপিসোডের একটা এনিম।কাহিনি খুব ফাস্ট ।সাইক্লিং নিয়ে।এবং খুব বড় না।কিন্তু আমার মনে হয়ছে যে কাহিনি পুর্নতা পেয়ছে ।এক রাতের মদ্ধে দেখে শেষ করে ফেলা যাওয়ার মত এনিমে। আর্ট স্টাইল যথেস্ট ভাল। নায়ক্টার সাথে হিট্ম্যান রিবর্ন এর সুনা এর মিল আছে ।নায়ক কে অতি মাত্রায় জিনিয়াস দেখায় নাই ।আর অবাস্তব করে নাই কাহিনি টা।তবে নায়কের নায়ক সুল্ভ কিছু জিনিশ তো থাকেই,এবং সেটার বহিপ্রকাশ অনেক ভাল ছিল। ব্যাস্ততা এর মাঝএ দেখে অন্তত মনে হবে যাক সময় টা মনে হয় নস্ট হয়নি…….

আমার রিএকশন-

বস বস এবং বেশি বস !!!  

ছায়া অবলম্বনে-

অন্য সব টিপিকাল ২৬ পর্বের স্পোর্টস এনিমের মতই; পুরো ফর্মুলা মেনেই করা; শুধু ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের দুর্দান্ত ব্যাবহার এই সিরিজটাকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

রেসিং ট্রিভিয়া- 

# প্রথম বাই সাইকেল রেস হয় আনুমানিক ১৮৬৮ সালে; প্যারিসে। প্রায় ১২০০ মিটারের রেস ছিল এটি।  

# জেমস মুর নামক জনৈক ভদ্রলোক এই রেসটি জিতে নিএছিলেন।  

# L’auto নামক ম্যাগাজিনের বিক্রি বাট্টা বাড়াতে ১৯০৩ সালে প্রথম আয়োজন হয় সাইক্লিং এ সবচেয়ে মর্যাদাশীল প্রতিযোগিতা Tour de France এর ।

# প্রায় ২১ দিন ব্যাপি চলা এই প্রতিযোগিতার বর্তমান ভার্শনে বিভিন্ন ধাপে পাড়ি দিতে হয় প্রায় ৩২০০ কিমি পথ।

# দুই বিশ্বযুদ্ধ ছাড়া প্রতিবছরই আয়োজন হয়ে আসছে এই প্রতিযোগিতার।

# ২১ দিন এবং ৩২০০ কিমি পথ হলেও শেষ পর্যন্ত কিন্তু বিজয়ী নির্ধারণ হয় সেকেন্ড বা মিনিটের পার্থক্যেই !!! ১৯৮৯ সালে ১ম এবং ২য় স্থান অধিকারীর মধ্যে সময়ের পার্থক্য ছিল ৮ সেকেন্ড !!!

 

– CWA প্রচারিত হচ্ছে প্রতি শুক্রবার; এনিমখোরে!! আমাদের আর কোথাও কোন শাখা নেই !!! স্পোর্টস এনিম নিয়ে আপনার যে কোন আবদার; আবেদন; আহ্লাদ; হুমকি; জিজ্ঞাসা – সব কিছুই জানাতে পারেন আমাদের; আমরা তার সমাধান দেবার চেষ্টা করব কোন না কোন সময় ইনশাল্লাহ !!! আমাদের সাথেই থাকুন !!!

Coffee With Asif (CWA): Sports Corner – পর্ব ৩ – Dan Doh!!

Dan Doh 1

এনিম – Dan Doh!!

রিলেটেড স্পোর্টস – Golf
অবস্থা – Completed
টোটাল এপি সংখ্যা – ২৬
রিলেটেড এনিম – None

 

স্টোরি লাইন

তাদামিচি আওবা (ডাকনাম Dan Doh)কে ঘিরেই আবর্তিত হয় সিরিজটি। Dan Doh এবং তার দুই বন্ধু স্কুলের বেসবল টিমের সেরা খেলোয়াড়। কিন্তু স্কুলের প্রধান শিক্ষকের সাথে একটা ঘটনার পর তারা গলফের জগতের সাথে পরিচিত হয়। শিঞ্জি মিকিয়াসু; একজন সাবেক প্রো গলফার তাদেরকে বেসিক ট্রেনিং দেন। তার বিশ্বাস; একদিন এই ছেলেরা তাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারবে। Dan Doh যখন থেকেই প্রতিযোগিতামুলক ইভেন্টগুলোতে অংশ নিতে থাকে ততই তার বন্ধুত্বসুলভ স্পিরিট; নিষ্ঠা; সততা আশেপাশের লোকজনের মধ্য থেকে সেরাটা বের করে আনে এবং তার বন্ধু হতে থাকে !!!

কেন দেখবেন

গলফ নিয়ে আমার মতে এর চেয়ে আনন্দদায়ক উপায়ে কোন সিরিজ বানানো সম্ভব না !!! এই সিরিজ দেখার পর আমি গলফ এর নিয়ম কানুন সমন্ধে অনেক কিছুই জানতে পারসি; তাছাড়া পুরো সিরিজটাই অন্যান্য যে কোন স্পোর্টস এনিম সিরিজের মতনই আনন্দদায়ক। “গলফ মানুষ খেলে ক্যামনে” – জাতীয় প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার জন্য হইলেও এই সিরিজটা দেখাটা আসে।

 

কেন দেখবেন না-

যারা Prince of Tennis দেখেছেন তারা এই এনিমটার সাথে বেশ কিছু বিষয়ে মিল পাবেন। প্রথম বিষয় – কথা নাই বার্তা নাই খুব বেশি জিনিয়াসের আগমন; যেইটা আমার প্রচন্ড বিরক্ত লাগে। ২য় বিষয় হচ্ছে; মাত্র ২৬ পর্ব হওয়ায় ক্যারেক্টারগুলো খুব বেশি ডেভেলপ করতে পারে নি; আমার মতে খুব সহজেই এইটা ৭০+ পর্ব করা যেত। এতে যেটা হয় ক্যারেক্টারগুলোর প্রতি খুব একটা মায়া জন্মায় না। কেমন যেন একটা ছাড়া ছাড়া ভাব ক্যারেক্টারগুলোর মধ্যে।

 

৩য় বিষয় হচ্ছে স্টরিলাইন বেশ কিছু জায়গা খাপছাড়া। যেমন এক জায়গায় রোমান্টিক করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কাহিনী বলে দিচ্ছি না; তবে দেখলেই বুঝবেন জায়গাটা একটু খাপছাড়া মনে হয়েছে; কেন জানি মনে হচ্ছিল কাহিনীতে ওইটার প্রয়োজন ছিল না ।

আরেকটা বিষয় হচ্ছে আবেগের ঘাটতি।

যাদের গলফ নিয়ে আগে থেকে কিছুটা হলেও ধারণা আছে তাদের জন্য সাবধানবাণী-

আপনার যদি আগে থেকেই গলফ সমন্ধে আইডিয়া থাকে বা গলফ খেলোয়াড় হয়ে থাকেন; তবে নিজ রিস্ক নিয়ে দেখবেন। কারণ এই সিরিজে জনাব Dan Doh সাহেব যা করেন তা Tiger woods কেও লজ্জায় ফেলে দিবে; ফান না; সিরিয়াস !!!

 

 

Opening Song: https://www.youtube.com/watch?v=5oPI-5HjuSA

 

আমার রিএকশনঃ 

“২৬ পর্বে আনন্দের সহিত গলফ শিখুন” বিজ্ঞাপন দিতে পারে এই সিরিজটা। খেলার কিছু বেসিক রুলস জানার জন্য এবং খানিকটা আগ্রহ জন্মানোর জন্য পারফেক্ট !!!

 

ছায়া অবলম্বনেঃ  

Prince of tennis – আমি বাম হাতেই এই জগতের সেরা প্লেয়াররে কাইত কইরা ফেলতে পারি; আর ডান হাতে খেলুম কুন দুক্ষে !!!

 

 

– CWA প্রচারিত হচ্ছে প্রতি শুক্রবার; এনিমখোরে!! আমাদের আর কোথাও কোন শাখা নেই !!! স্পোর্টস এনিম নিয়ে আপনার যে কোন আবদার; আবেদন; আহ্লাদ; হুমকি; জিজ্ঞাসা – সব কিছুই জানাতে পারেন আমাদের; আমরা তার সমাধান দেবার চেষ্টা করব কোন না কোন সময় ইনশাল্লাহ !!! আমাদের সাথেই থাকুন !!!

 

অ্যানিমের ইতিহাস ২ – ১.৯৯ তম পর্বঃ এ স্পেস অডিসি

ষাটের দশকে Astroboy প্রথম অ্যানিমে হিসেবে টেলিভিশনে প্রচার হওয়ার পর অনেকটাকাল সাই-ফাই আর ফ্যান্টাসী অ্যানিমে ছোটপর্দা শাসন করেছে। অতিপ্রাকৃত ক্ষমতা সম্পন্ন অথবা আদর্শবান সব মূল চরিত্র। ভালো আর খারাপের স্পষ্ট ব্যাবধান থাকা গল্প। অ্যানিমে ছিল বিনোদনের এক ভিন্নধর্মী মাধ্যম যা উপভোগ করতে পারতো পরিবারের সবাই।

যার ধারাবাহিকতায় ১৯৬৯ সালে শুরু হল “ওয়ার্ল্ড মাস্টারপিস থিয়েটার”। Dororo, Moomin’, Anderson Monogatari, Rocky Chuck অথবা তাকাহাতার Heidi – প্রথমে Zuiyo Eizo আর পরে Nippon TV তে প্রতি রবিবার সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ বরাদ্ধ ছিল Mushi Production এর অ্যানিমেশনে তৈরি বিশ্বের জনপ্রিয় সব ধ্রুপদী গল্পের জন্য।

সত্তরের শুরুতে আরো একটা জিনিস যা জনপ্রিয়তা পাওয়া শুরু করল তা হল, স্পোর্টস অ্যানিমে। TIger Mask, Kyojin no Hoshi-’র পর, ১৯৭০ সালে ওসামু দেজাকির পরিচালনায় শুরু হল Ashita no Joe. ইকি কাজিওয়ারার মাঙ্গা অবলম্বনে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত চলা ৭৯ পর্বের প্রথম মৌসুমে ছিল জো ইয়াবুকির শুন্য থেকে শীর্ষে ওঠার এক অনবদ্য কাহিনী। কিন্তু অ্যানিমের পরবর্তী বিশাল জাগরনটা আরো তিন বছর পরের।

১৯৭৩ সালে প্রযোজক ইয়োশিনোবু নিশিজাকি প্রথম সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী এক অ্যানিমের পরিকল্পনা শুরু করেন। যার গল্প হবে গতানুগতিক অ্যানিমে থেকে তুলনামূলক জটিল আর পরিণত। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এই অ্যানিমের হওয়ার কথা ছিল “Lord of the Flies”-এর আন্তঃমহাকাশীয় পূনর্বণনা। যাতে পৃথিবী রক্ষার এক অন্তীম মহাকাশীয় যাত্রায় সঙ্গী হবে বিভিন্ন দেশের ছোট ছোট বাচ্চারা। কিন্তু পরবর্তীতে মাঙ্গাকা লেইজি মাৎসুমোতো এই প্রকল্পে যোগদান করায় প্রাথমিক গল্পের প্লট আমূল বদলে গেল ১৯৭৪ এ প্রচার শুরু হওয়া অ্যানিমেতে।

“ ২১৯৯ সাল। পৃথিবী দূর মহাকাশের অ্যালিয়েন জাতি “গামিলাস”-দের আক্রমনের শিকার। পৃথিবীপৃষ্ট বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যাওয়া এখন মানবজাতি আবাস গেড়েছে ভূতলে, কিন্তু সেখানেও ক্রমশ বিকিরনের কারণে তাদের সমাপ্তী ক্ষনীয়ে আসছে। এমন সময় সাহায্যের হাত বাড়ালো ইস্কান্দার গ্রহের রাণী স্টারশা। পথ বাতলে দিলো পরিত্রানের। মানবজাতিকে মোকাবেলা করতে হবে গ্রহে গ্রহে ওঁত পেতে থাকা শত্রুর আক্রমন, পাড়ি দিতে হবে হাজার হাজার আলোকবর্ষ, আর সময়-কালের বাধা; পৌছতে হবে বৃহৎ ম্যাজেলানিক মেঘ-এর কাছে থাকা ইস্কান্দার গ্রহে। যেখানে অতিবুদ্ধিমান ইস্কান্দারিয়ানদের কাছে আছে গ্রহ পূনর্জীবিত করার ক্ষমতা থাকা – কসমো ডিএনএ। “

ডার্ক, ইমোশোনালি ড্রামাটিক, কাহিনীপ্রবাহে ধারাবাহিক;বাস্তব-ত্রুটিপূর্ণ, মোরালি অ্যাম্বিগিউয়াস চরিত্রের আনসাম্বল – জায়ান্ট রোবট, সুপার রোবট আর সুপার হিউম্যান থেকে বের হয়ে এসে Space Battleship Yamato সাই-ফাই অ্যানিমে জগতে প্রথম এক নতুন ধারার সূচনা করলো – স্পেস অপেরা। ইয়ামাতো পেল তুমুল জনপ্রিয়তা। এবং তা শুধু জাপানেই না।

১৯৭৭ এ বের হওয়া Star Wars-এর রেষ কাটতে না কাটতেই ১৯৭৯ সালে ইয়ামাতো আমেরিকায় প্রচার শুরু হল “Star Blazers” নামে। ইউরোপীয়ান আর লাতিন দেশগুলোও পিছিয়ে ছিলো না। ইতালীতে একই নামে, গ্রীসে “Spaceship Argo”, স্পেন আর লাতিন আমেরিকায় “Starship Intrepid” আর ব্রাজিলে “Star Petrol” নামে প্রচার হওয়া ইয়ামাতো অ্যানিমের জনপ্রিয়তা নিয়ে গেল বিশ্বব্যাপী, নতুন এক প্রজন্মের কাছে।

প্রথম প্রচারিত ২৬ পর্বের সিজনের পর সিকুয়াল হিসেবে বের হয়েছে আরো দুটি সিজন এবং চারটি মুভি। আর এর পর তৈরি করার চেষ্টা হয়েছে আরো কয়েকটি রিবুট। প্রথম প্রচারের তিন দশক পরও ইয়ামাতোর জনপ্রিয়তার রেশ কমেনি একটুও। ২০১২ প্রথম ২৬ পর্বের মূল গল্পের পূনর্বর্ণনা হয়ে ইয়ামাতো ফিরে এসেছে, Space Battleship Yamato 2199 নামে।

শুধু অ্যানিমের জনপ্রিয়তা বিশ্বব্যাপী বিস্তৃত করায় ইয়ামাতো্র অবদান সীমাবদ্ধ ছিল না, অ্যানিমে ইন্ড্রাস্ট্রিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সূচনা এর মাধ্যমেই। ইয়ামাতোই প্রথম অ্যানিমে বা মুভি যা জাপানের Seiun Award জয়লাভ করেছিল। Gundam, Macross, Legend of the Galactic Heroes, Space Runaway Ideon কিংবা একই মাঙ্গাকার Galaxy Exoress 999 Space Pirate Harlock-এর মত স্পেস অ্যাডভেঞ্চার আর স্পেস অপেরা অ্যানিমে ‘৭০ আর ‘৮০ জুড়ে জাপানের টিভি শাসন করেছে। যে পথটা বাতলে দিয়েছিল ইয়ামাতোই।

Gundam আর Macross-এর আগে, Harlock আর Legend of the Galactic Heroes-এর আগে, Star Wars আর Battlestar Galactica-’র আগে ইয়ামাতো সাই-ফাই ভক্তদের জন্য দিয়ে গেছে মহাকাশে মহাকাব্যিক এক যাত্রার গল্প। আর ইয়ামাতো দেখে বড় হওয়া, অনুপ্রানিত হওয়া এক প্রজন্ম আর কয়েক দশক পর অ্যানিমের হাল ধরেছে নিজেরাই। যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নামটা সম্ভবত আনো হিদেয়াকি।

11169559_959241624107655_3981340516219597846_o

 

অ্যানিমের ইতিহাস (অথবা অমরত্বের অপ্রত্যাশিত বর্ত্ম) – ১.৯৮৯ তম পর্বঃ আমরা কী নিয়ে কথা বলি, যখন আমরা কথা বলি ওসামু তেজুকাকে নিয়ে

শিন তাকারাজিমার সাফল্যের পর তেজুকা পেশাদার মাঙ্গাকা হওয়ার পথে পা বাড়ালেন।
১৯৪৯ সালে তেজুকা লিখলেন এক সাই-ফাই, গোয়েন্দা গল্প। Metropolis. যা পরবর্তীতে হয়েছে ২০০১ সালের একই নামের অ্যানিমে ফিল্ম এর অনুপ্রেরণা।

পরবর্তী বছর বেরোল তার অন্যতম জনপ্রিয় কাজ, Jungle Emperor. আমেরিকায় যা Kimba The White Lion নামে পরিচিত। এটাই ছিল তেজুকার সর্বপ্রথম “সিরিয়ালাইজড” মাঙ্গা। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৪, চার বছরে এই মাঙ্গার বের হয়েছিল তিনটি ভলিয়্যুম। কিম্বা হয়ে উঠল আইকনিক এক চরিত্র।

১৯৫১ সালে তেজুকা লিখলেন Captain ATOM. এই মাঙ্গাতেই প্রথম আবির্ভাব ঘটে তেতসুয়ান অ্যাটমের। পরবর্তী বছর তিনি লিখলেন এর সিক্যুয়েল, Tetsuwan Atom. তেতসুয়ান অ্যাটমের সাফল্য ছাড়িয়ে গেল তাঁর আগের সব কাজকে। যেকোন মাঙ্গার আগের সব সাফল্যকে। অনেকটা হঠাৎ করেই মাঙ্গা হয়ে ঊঠল যেন জনসাধারনের গ্রহনযোগ্য একটি বিনোদনের মাধ্যম। ছোটবড় সবাই অপেক্ষা করত সপ্তাহের সেই দিনের জন্য যখন নতুন চ্যাপ্টার মুক্তি পাবে। এই সাফল্যের জোয়াড়ে চড়েই তেতসুয়ান অ্যাটম প্রকাশিত হয়েছে টানা ১৬ বছর ধরে।

প্রায় একই সময়, ১৯৫৩ সালে প্রথম প্রকাশ হওয়া শুরু হয় তেজুকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ, Princess Knight. তাকারাজুকা গীতিনাট্যের কথা মনে আছে? যেখানে নারী-পুরুষ সব চরিত্রে অভিনয় করত মহিলারা? মেয়েদের ছেলের মত পোশাক পড়া, রাজকন্যা আর রাজপুত্রের গল্প, প্রিন্সেস নাইট হল সর্বপ্রথম শৌজো মাঙ্গার। প্রিন্সেস নাইটে তেজুকা বললেন এক “জেন্ডার বেন্ড”
প্রোটাগনিস্ট প্রিন্সেস স্যাফায়ারের গল্প, যার দেহে ছিল একই সাথে দুটো আত্নার সহাবস্থান, একটি ছেলে এবং একটি মেয়ের। যার প্রভাব লক্ষনীয় তার অনুগামী জনপ্রিয় শৌজো মাঙ্গায়, অ্যানিমেতে।

সময় যত যেয়েছে তেজুকার চোখ বড় বড় চরিত্রের, “কার্টুনীয়”, সাধারণ বিনোদনের গল্প গুলো হয়েছে আরো গভীরতা পূর্ণ, কখনো ডার্ক, আর তাঁর আঁকা হয়েছে আরো বাস্তবিক।
১৯৫৬ সালে তেজুকা আঁকা শুরু করলেন, তাঁর নিজের মতে যা তাঁর সেরা এবং সবচেয়ে উচ্চাভিলাষী কাজ, Hi no Tori(Phoenix). নিজের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যা তেজুকা লিখে গেছেন এবং তা এখনো অসম্পুর্ণ। ফিনিক্সের গল্প; স্থান-কালের এক অনবদ্য যাত্রা, ভিন্ন যুগ আর ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন সব মানুষের গল্প; যাদের যোগ সূত্র অমরত্ব লাভের আকাঙ্ক্ষা।

তেজুকার আরেকটি সমালোচকদের দ্বারা প্রশংসিত কাজ হল, Buddha. বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্টাতা গৌতম বুদ্ধের জীবনি, যাতে অবশ্যই ছিল তেজুকার নিজস্ব ছোঁয়া। ২০০৪-২০০৫, টানা দুই বছর বুদ্ধ জিতেছে আইসনার অ্যাওয়ার্ডস, আন্তর্জাতিক বিভাগে।
ড.ওসামু তেজুকা তার চিকিৎসা বিদ্যার জ্ঞান কাজে লাগালেন তার পরবর্তী কাজে। Black Jack, এক প্রতিভাবান শল্য চিকিৎসকের গল্প। ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৩ পর্যন্ত টানা দশ বছর ব্ল্যাক জ্যাক প্রকাশিত হয়েছে।
আশির দশকের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কাজ, Adolf. ত্রিশের দশকের জার্মানীর তিন অ্যাডলফের গল্প; যাদের একজন এক সাধারণ জার্মান, একজন ইহুদী আর একজন স্বয়ং স্বৈরশাসক!

তেজুকা কাজ করতেন সপ্তাহে ৫ দিন, তার নিজস্ব এক অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে;যেখানে ঢুকতে পারত কেবল তার স্ত্রী। এমনকি তার এডিটরও না। বছরে মাত্র গড়ে ৬০ দিন থাকতেন নিজের বাসায়, পরিবারে সাথে। তিনিই শুরু করেন মাঙ্গাকাদের অ্যাসিটেন্ট রাখার প্রচলন, যা একই সাথে যেমন সাপ্তাহিক সিরিয়ালাইজেশনের কাজ সহজ করে দিলো, তেমনি উদীয়মান মাঙ্গাকাদের পেশাদার কাছ থেকে শেখার সু্যোগ করে দিলো। যা আজো অনুসরন করা হয়।

১৯৮৯ সালে পাকস্থলীর ক্যান্সারে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত ওসামু তেজুকা লিখেছেন ৭০০ ভলিয়্যুম আর প্রায় দেড় লাখ পৃষ্ঠার মাঙ্গা! ১৯৮৫ তে তার ৪০ বছরের মাঙ্গাকা জীবন উপলক্ষে এনএইচকে তে প্রচারিত এক ডকুমেন্টারিতে তিনি বলেছিলেন তিনি লিখে যেতে চান আরো চল্লিশ বছর। কারণ তার এখনো অনেক, অনেক গল্প বলা বাকি। ওসামু তেজুকা আরো চল্লিশ বছর বাঁচেন নি, ফিনিক্সের অমরত্বের গল্পও শেষ করে যেতে পারেননি, কিন্তু তার মাত্র ৬১ বছরের জীবনে তিনি মাঙ্গার ইতিহাসকে যতটা বদলে দিয়েছেন, তাতে কি তিনি নিজে অমরত্ব নিশ্চিত করে যাননি?

“Foreign visitors to Japan often find it difficult to understand why Japanese people like comics so much. One explanation for the popularity of comics in Japan is that Japan had Osamu Tezuka, whereas other nations did not.”

10959489_913106612054490_6674192471629459510_n

 

অ্যানিমের ইতিহাস যোকু শৌ – ১.৯৪৮ তম পর্বঃ ওসামুশি(-শি)

“You should work doing the thing you like most of all.”

২০ বছর বয়সে যখন ওসামু তেজুকা জীবনের এক সন্ধিক্ষনে পৌছলেন, চিকিৎসক না মাঙ্গাকা, কোন নেশাটাকে পেশা হিসেবে নিবেন তা নিয়ে দোদুল্যমান, তখন এটাই ছিল তাঁর মায়ের উপদেশ। দুই পেশার প্রতিই তার ভালোবাসা আর সম্মান ছিল। যদিও সামাজিকভাবে মাঙ্গাকা হওয়া সেসময় যেমন খুব একটা সম্মানের পেশা ছিল না, আর সম্মানীটাও ছিল সেরকমই কম। কিন্তু যদি আসলেও পারিবারিক চাপে তুলনামূলক ভালো আর্থিক ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে মাঙ্গাকা হওয়ার স্বপ্ন বিসর্জন দিতেন, তাহলে ভাবুন তো মাঙ্গার ইতিহাসটা কতটা বদলে যেত?
অ্যানিমের ইতিহাস?
জাপানের ইতিহাস, তাদের পুরো সংস্কৃতিও কি না?

তিন সন্তানের সবচেয়ে বড়, ওসামু তেজুকার জন্ম ৩ নভেম্বর, ১৯২৮; ওসাকা প্রিফেকচারের তোয়োনাকা শহরে। কিন্তু তাঁর বেড়ে ওঠা হিয়োগো প্রিফেকচারের তাকারাযুকা শহরে। ছোট ওসামু তেজুকার ভালোবাসার বিষয় ছিল তিনটি।

পোকা সংগ্রহ।
থিয়েটার। তার মায়ের সাথে তাকারাযুকা থিয়েটারে তাকারাযুকা গিতীমঞ্চনাটক দেখতে যাওয়া। তাকারাযুকা থিয়েটারের মঞ্ছস্থ হত রোমান্টিক সব গল্প, রাজকন্যা আর রাজপুত্রের গল্প। কিন্তু মজার বিষয় এর অভিনেত্রী-“অভিনেতা” সবাই ছিলেন মেয়ে। এমনকি পুরুষ চরিত্রেগুলোতেও।
আর বাসায় তার বাবার সংগ্রহের কমিকস আর কার্টুন। তেজুকার আগ্রহী চোখ নিবিদ্ধ থাকতো ওয়াল্ট ডিজনী আর ম্যাক্স ফ্লাইসার(পপাই, বেটি বুপ, সুপারম্যান) এর অনবদ্য অ্যানিমেশনে। তার দুই অনুপ্রেরণা।
জ্বলজ্বল করা বড় বড় সব চোখের চরিত্রের কার্টুন।
বাম্বি, মিকি মাউস, পপাই।

তেজুকা কমিকস দ্বারা এতটাই মুগ্ধ হলেন যে এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় বর্ষেই নিজে তা আঁকা শুরু করলেন। কিন্তু বাদ সাধল ভাগ্য। যে হাত দুটো দিয়ে তিনি বছর বছর পরে আঁকবেন Black Jack, সেই হাতদুটোই সংক্রমণের ফলে এত ফুলে গেল যে তা হারানোর যোগাড়। চিকিৎসকের নিবিড় পরিচর্যায় তেজুকা সুস্থ হয়ে উঠলেন। তবে এ ঘটনা তার মনে বড় একটা প্রভাব ফেলল। তেজুকা মাঙ্গা লেখা চালিয়ে গেলেন ঠিকই, কিন্তু একই সাথে ভর্তি হলেন ওসাকা ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল ফ্যাকাল্টিতে। কলেজের প্রথম দিকেই, মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার প্রথম মাঙ্গা প্রকাশ পেল ছোটদের পত্রিকায়, চার-প্যানেলের এক মাঙ্গা, The Diary of Ma-chan.
[http://i.imgur.com/OqWZzNk.jpg]

তার কাজে পশ্চিমের অনুপ্রেরণা ভালোভাবে প্রকাশ পেল তার পরবর্তী মাঙ্গায়, ১৯৪৭ এ। ছোটবেলায় যেসব ধ্রুপদী গল্প পড়ে বড় হয়েছেন, তেমনই একটি, Tressure Island এর গল্পে নিজের ছোঁয়া লাগিয়ে তিনি লিখলেন The New Tressure Island/Shin Takarazima। যা আগের সব মাঙ্গার থেকে আলাদা ছিল তার অসাধারন গল্পবুঁনট, সিনেমাটিক দৃশ্যায়ন আর দ্রুতগতির কাহিনীর কারণে। Shin Takarazima জনপ্রিয়তা জাপান জুড়ে ছড়াল, তা বিক্রি হল হটকেকের মত। প্রায় ৪ লাখ কপি!
[http://i.imgur.com/DWoL60k.jpg]

“পোকা সংগ্রাহক” তেজুকা অবশ্য তার এই ভালোবাসাটাও ভুললেন না। Osamushi বা Ground Beetle এর নামে রাখলেন নিজের ছদ্মনাম।
মেডিকেল স্কুলের পাঠ শেষ হল। কিন্তু “ডক্টর ওসামু তেজুকা” চিকিৎসাবিদ্যা বাদ দিয়ে যুদ্ধ-পরবর্তী জাপানের মানুষের জীবনকে পরিবর্তনের দায়িত্ব নিলেন।
মাঙ্গার প্যানেলে।

10451023_911098545588630_673127875041019372_n

 

All Fiction 2 (Eid Special Edition): Top 5 Anime Duo Review

ঈদ উপলক্ষে স্পেশাল কিছু লেখার ইচ্ছা ছিল। সবাই কত আর্টওয়ার্ক আর ঈদ মোবারক পোস্টাচ্ছে, তাই আমিও আর চুপচাপ থাকতে পারলাম না। অল ফিকশন ২য় ইস্যু পুরোপুরি পোস্ট করতাম, কিন্তু লেখালেখিই এখনো শেষ হয়নি, ইমেজ+হাইপারলিঙ্ক ইন্সারটিং তো পরের কথা। স্পর্শ গেছে গ্রামের বাড়ি, ও না আসলে অল ফিকশনের কাজও আগানো যাচ্ছে না, মূল ইস্যু প্রকাশ করতে দেরি হবে। তাই ঈদ উপলক্ষে আমার ‘টপ ৫ অ্যানিমে Duo রিভিউ’ পোস্ট করছি, অল ফিকশনের ২য় ইস্যুর ঈদ স্পেশাল হিসেবে। পরে এই লিস্টটাকে আরও সম্প্রসারিত করে স্পর্শকে নিয়ে টপ মাঙ্গা Duoদের সহ ডকটাকে সমৃদ্ধ করবো।

প্রথমেই বলে নিই, অনেকেই Duo বলতে Couple মনে করে ভুল করে, কিন্তু Duo আর Couple পুরাপুরি ভিন্ন ব্যাপার। এ বিষয়ে আর বিস্তারিত নাহয় আরেকদিন বলবো। খুবই অল্প অ্যানিমে দেখেছি, তাই বেশি ক্যারেক্টার চিনিনা, অনেক বস ডূও ক্যারেক্টার বাদ পড়লে দুঃখিত। মেইন্সট্রিম অ্যানিমে ক্যারেক্টারদের এই লিস্টের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

1. Vash the Stampede and Nicholas D. Wolfwood
Anime: Trigun

ট্রাইগানের ভক্তদের কাছে এই ডূওর নাম উচ্চারণ করা মানেই একগাদা ফিলস ট্রিপ। বহু চড়াই-উৎরাই এবং লড়াইয়ে এই ডূওর ব্যাক টু ব্যাক ফাইট ভোলা যায় না। ওয়েস্টার্ন সাই-ফাই অ্যানিমে ট্রাইগানে এই দুই দোস্তর অতুলনীয় বন্দুকবাজি আর মানুষ খুন না করে বিশাল বিশাল ফাইট জেতার অ্যাবিলিটি সবসময় চোখে লেগে থাকার মত। ভাশের চিরহাস্যোজ্জল মুখ এবং প্যাসিফিজম, আর নিকের বিশাল ক্রুশ, যার মধ্যে থাকতো পিস্তল থেকে শুরু করে রকেট লঞ্চার এবং আরও নানাজাতের অস্ত্র, এমন এক্সেন্ট্রিক() ডূও খুব কমই আছে।তাই আমার তালিকায় এই দুজনের স্থান সবার উপরে।

2. Edward Elric and Alphonse Elric
Anime: FMA and FMAB

মৃত মাকে ফিরিয়ে আনার প্রয়াসে বড় ভাই এডওয়ার্ড হারায় এক হাত, আর ছোটভাই আলফনসে হারায় তার সম্পূর্ণ দেহ। ছোটভাইয়ের হারানো দেহ ফিরে পাওয়া এবং অনেক অজানা প্রশ্নের জবাব পাবার লক্ষ্যে স্টেট অ্যালকেমিস্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে কিশোর এডওয়ার্ড। পুরো অ্যানিমেজুড়েই আমরা দেখতে পাই দুই ভাইয়ের সংগ্রাম, মন উথালপাথাল করা এক অনবদ্য কাহিনী। হমুনকুলাসদের সাথে ফাইট, অ্যালকেমির হাজারো রহস্য উদঘাটন, তাদের পিতার অতীত, মায়ের মৃত্যু… এবং হমুনকুলাসদের ফাদারের সাথে শেষযুদ্ধ, অন্তঃপ্রাণ এলরিকভাইদ্বয় নিঃসন্দেহে সর্বকালের সেরা অ্যানিমে ডূওদের তালিকায় সবচেয়ে উপরের দিকে থাকবে।

3. Natsume and Madara
Anime: Natsume Yuujinchou

নাতসুমের মৃত্যুর পর তার ‘ইউজিনচো‘ পাবার লক্ষ্যে তার আমরণ দেহরক্ষী হতে রাজি হয় ভয়ঙ্কর শক্তিশালী ইয়োকাই মাদারাইউজিনচো হল ইয়োকাইদের নামসম্বলিত এক বই, যে বইয়ের সত্যিকার মালিক ওই ইয়োকাইদের ডাকলে সাথে সাথেই ইয়োকাইরা হাজির হয়। আর মাদারা হল গোলগাল বিড়ালের ছদ্মবেশী প্রচণ্ড শক্তিশালী বিশাল এক নেকড়েসদৃশ ইয়োকাই। সারাক্ষণই নাতসুমেকে মৃত্যুহুমকি দিতে থাকা মাদারার খুনসুটি আর আশ্চর্য রকমের শান্ত, অনাথ কিশোর নাতসুমের সাথে ইয়োকাইদের নানা কাহিনী, নাতসুমে এবং তার দাদির অতীত উন্মোচনের মাধ্যমে এগোতে থাকে গল্প। নাতসুমেকে ক্ষতিকর ইয়োকাই ও তাদের শাপশাপান্ত থেকে রক্ষা করা, সময়ে সময়েনাতসুমের সাথে রাগ-অভিমান করা আহ্লাদী বিড়াল মাদারার দুষ্টামি… এ যেন ‘অন্তরে মধু, মুখে বিষ’। স্লাইস অফ লাইফের বেস্ট ডূওদের মধ্যে এই ডূও অবশ্যই থাকবে, এবং তারা স্থান করে নিয়েছে আমার লিস্টের ৩ নম্বরে।

4. Isaac Dian and Miria harvent
Anime: Baccano!

আইজ্যাক এবং মিরিয়া। যতটা না কাপল, তার চেয়ে বেশি ‘ডূও’ এই স্যাটায়ারিক জুটি তাদের প্রাণবন্ত কার্যকলাপের দ্বারা বাকানো’ অ্যানিমের প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত মাতিয়ে রেখেছে। তাদের কাণ্ডকারখানা বাচ্চাদের মত মনে হতে পারে, কিন্তু এর মাঝে লুকিয়ে আছে গভীর কিছু অর্থ(স্যাটায়ার এক্সপ্লেইন করার মত বোকামি আমি করতে চাইনা, নিজ যোগ্যতায় বুঝে নিন)। সামান্য ব্যাপারকে অসামান্য লেভেলে নিয়ে যাওয়া, আবার ছোটোখাটো বিষয়গুলো বুঝতে ভুল করে ‘তিলকে তাল করা, তালকে মাকাল করা’ এই জুটি বেদম হাসাবে আপনাকে, তাদের আদিখ্যেতা আর ফালতু কাজ করার উদ্দীপনা তাদেরকে রেখেছে আমার ডূও লিস্টের ৪ নম্বরে।

5. Mashiro Moritaka and Takagi Akito
Anime: Bakuman

মাশিরো মোরিতাকা, তাকাগি আকিতো, দুই মাঙ্গা আর্টিস্ট বন্ধুর মাঙ্গাকা হয়ে ওঠার অনবদ্য কাহিনী বাকুমান। প্রতিভাবান আর্টিস্টমাশিরোকে প্রচুর জোরাজুরি করে তার টীমআপ করতে রাজি করায় মাশিরোর ক্লাসমেট তাকাগি। ধীরে ধীরে তারা ‘আশিরোগি মুতোউ‘ নামে একের পর এক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে থাকে, ওয়ান শট মাঙ্গা সাবমিট করতে থাকে। এবং প্রচুর চেষ্টার পর তারাশউনেন জ্যাকের(জাম্পের বাকুমান ভার্শন) রেগুলার মাঙ্গাকা হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করে। শত প্রতিকুলতার মোকাবিলা করে তারা তাদের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়ে যায়, এবং শেষ পর্যন্ত তাদের নিরলস পরিশ্রম সফলতার মুখ দেখে। মাশিরো এবং তাকাগি হল পারফেক্ট ডূওর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্বপ্নপূরণের পথে নিরন্তর কাজ করে যাওয়া, মাঙ্গাকাদের জীবনের নানা দিক অতীব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এই ডূও।

Movie Time With Yami – 43

maxresdefault

Name: Tamako Love Story
Duration: 1 hr. 18 min.
MAL Score: 8.21
Ranked: 296
Genres: Comedy, Romance, Slice of Life

এই মুভিটি তামাকো মার্কেট নামক ১২ এপিসোডের আনিমেটির সিক্যুয়াল। আনিমে না দেখে থাকলে যদিও কাহিনী বুঝতে অসুবিধা হবে না, তবে আনিমেটি দেখা থাকলে ভাল, কারণ এতে পুরো মজাটা পাওয়া যাবে। বলা যায়, আনিমের কাহিনী এই মুভিতে শেষ হয়েছে।

বানি মাউন্টেনে সবার জীবন স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলেছে। সবাই নিজের নিজের জীবনে এগিয়ে যেতে ব্যাস্ত। তামাকো এবং তার বন্ধুদের হাইস্কুল জীবন প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। জীবনের মোড়ে আরেকটি নতুন পথে পা বাড়ানোর জন্যে সবাই আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছে।

আর সবার মতই মোচিজৌ ও তৈরি হচ্ছে জীবনের পথ খুঁজে নিতে। তার ইচ্ছা টোকিও তে গিয়ে পড়াশুনা করবে। কিন্তু যাওয়ার আগে সে কোনকিছু অপূর্ণ রেখে যেতে চায় না। অত্যন্ত জরুরী একটা কাজ তাকে করে যেতে হবে। তার বাল্যবন্ধু তামাকোকে তার মনের কথাগুলো জানাতে হবে।

মুভিটির সবচেয়ে ভাল দিক হল, এটি আনিমেটির অসমাপ্ত কাহিনীটিকে বেশ সুন্দরভাবে শেষ করে। আনিমেতে তামাকোর বাল্যবন্ধু মোচিজৌ তেমন স্ক্রীনটাইম পায়নি, কিন্তু মুভিটিতে মোচিজৌ এর অনুভূতি, তামাকোর প্রতি তার ভাললাগা, তার দায়িত্ববোধ; সবকিছুই সুন্দরভাবে দেখানো হয়েছে। মোটামুটি সবগুলো চরিত্রের ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, এটা আরেকটা ভাল দিক। তামাকোর কিউটনেস এবং এয়ারহেড স্বভাবেরও ডেভেলপমেন্ট হয়েছে, যা দেখে আরও ভাল লেগেছে!!! সেইসাথে প্রোপোজ সিনটা আমার খুব পছন্দের দৃশ্যগুলোর মাঝে একটি। কিয়োটো অ্যানিমেশনের চমৎকার আর্ট এবং মানানসই সাউন্ডট্র্যাক মুভিটিকে আরও সুন্দর করেছে। আর সেইসাথে দেরা চানের গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স তো আছেই!

তাই, তামাকো মার্কেট আনিমেটি দেখে নিয়ে এই মুভিটি দেখে ফেলুন, আর এয়ারহেড তামাকোর কিউটনেস উপভোগ করুন!!

Movie Download Link-
http://kissanime.com/Anime/Tamako-Love-Story

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Once Again [Manhua] Review

review poster 4

 

Genre: Drama, Romance, Slice of Life, Josei
Chapter: 7
Volume: 1
Author: Feng Xi, Shen Lei, BUDDY

 

Yuan Ge তার কর্মজীবনে এত বেশি সময় দেয় সারাক্ষণ, সাংসারিক জীবন বলতে যেন কিছুই নেই।
ঘুম থেকে উঠে অফিসে চলে যায় স্ত্রীর ঘুম ভাঙবার আগে, রাত্রে বাসায় ফেরত আসে স্ত্রী ঘুমিয়ে যাবার পরে। সকাল বেলায় আগে থেকে প্রস্তুত করে রাখা ঠান্ডা নাস্তাই যেন তাকে মনে করিয়ে দেয় তার একজন স্ত্রী আছে। দুই জন ঘুমায় দুই আলাদা রুমে। এইটুকু বাদ দিলে Yuan Ge এর জীবনের বাকি অংশ দখল করে রাখে অফিসের ব্যস্ততা। নিজেকে উজাড় করে দিয়ে অফিসে সাফল্যের আদর্শ উদাহরণ হিসাবে গড়ে তুলে নিজেকে। এমন সময়ে একদিন অফিসে কর্মরত থাকা অবস্থায় তার নিকট স্ত্রীর মৃত্যুর খবর চলে আসে।

বেশ কিছুদিন ধরে অসুস্থ থাকা স্ত্রীর অসুস্থতার কথা যেন সেই সময়ে মনে পড়ে তার। স্ত্রীর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করে যেন বৈবাহিক জীবনের সব দায়িত্ব পালন করেছে বলে মনে করে, এবং আবার তার কর্মজীবনে ফেরত চলে যায় – এতটুকু সারা ফেলে না তার মনে।

Yuan Ge দক্ষতার কারণে যেকোন মানুষের চেহারা বা চালচলন দেখেই তাকে একদম পড়ে ফেলতে পারে, বুঝে নিতে পারে তার দক্ষতা কিরকম, কিংবা তার সাথে খাতির জমালে লাভ হবে না লোকসান। এমন অবস্থায় একদিন ট্রেনে চলার সময়ে এক স্কুলপড়ুয়া মেয়ের দিকে তার দৃষ্টি পড়ে যায়। মেয়েটিকে কোনভাবেই যেন বুঝে উঠতে পারে না সে, খোলা বইয়ের মত সবাইকে পড়তে পারতো যেই Yuan Ge, সে কিনা এই অচেনা মেয়েটিকে দেখে কোন হিসাব মিলাতে পারে না! টিনেজ মেয়েটির মধ্যের শিশুসুলভ ব্যাপার-স্যাপার যেন তাকে আরও বেশি অবাক করে তুলে। বউ থাকার পরেও যেখানে বউকে কিংবা অন্য কোন মহিলার প্রতি বিন্দুমাত্র দৃষ্টি দিত না, সেই Yuan কিনা এখন প্রতিদিন ট্রেনে চড়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে কখন মেয়েটি ট্রেনে উঠবে, তার দিকে এক পলক তাকাতে পারবে! ধীরে ধীরে একসময়ে Yuan টের পায় নিজের বয়সের প্রায় অর্ধেক বয়সী এই মেয়ের প্রতি তার অন্যরকম এক আকর্ষণ তৈরী হয়। বুঝতে পারে সে মেয়েটির প্রেমে পড়ে যায়।

একদিন আর ধৈর্য্যের বাঁধ ধরে রাখতে না পেরে মেয়েটির পিছু নেয় সে, উদ্দেশ্য তার সাথে একটু কিছু কথা বলা, তাকে আরেকটু জানা। মেয়েটির পিছু পিছু আসতে আসতে Yuan এসে পরে মেয়েটির স্কুলে – এবং অবাক হয়ে লক্ষ্য করে এটি সেই স্কুল যেখানে সে ছোটবেলায় পড়তো। হঠাত করে সে নিজের স্কুল জীবনের স্মৃতিতে চলে যায়, এবং সাথে সাথে যেন তার পুরা দুনিয়া ওলট-পালট হয়ে যায়! যে স্ত্রীকে জীবিত থাকাকালে একটুও সময় দিতে পারতো না, মৃত্যুর পরেও যেই স্ত্রীর জন্যে তার মন ভারাক্রান্ত হয় নি, এখন এতদিন পর স্ত্রীর সাথে জীবনের প্রতিটি মুহুর্ত চোখের সামনে ভেষে উঠে। পুরানো দিনগুলি জাপটে ধরে তাকে, এবং Yuan আবিষ্কার করে জীবনের সবচেয়ে সুন্দর মুহুর্তটুকু কিভাবে তার হাতছাড়া হয়ে যায়।

চরিত্র: ৯/১০

৭ চ্যাপ্টারের এই মানহুয়াটির মূল চরিত্র Yuan Ge, যাকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে সমগ্র কাহিনীটি। অল্প কয়েকটি চ্যাপ্টার হলেও এরই মধ্যে তার চরিত্রের দিকগুলি সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলা হয়েছে, প্রত্যেক চ্যাপ্টারের সাথে সাথে তার উপলব্ধি ও চারিত্রিক বিস্তৃতি চোখে পরার মত।

এছাড়াও গল্পের মূল চরিত্রের মধ্যে পরে স্কুল পড়ুয়া মেয়েটি, এবং Yuan-এর সদ্য অতীত স্ত্রী।

আর্ট: ৮/১০

শৌজো বা জোসেই ধাঁচের মাঙ্গার মতই আর্টস্টাইল, খুব বিশেষ কিছু নয়। তবে মূল চরিত্র বাদে বাকি কারও চেহারাই তেমন দেখানো হয় না, দেখালেও সেখানে Yuan তাদেরকে কী হিসাবে দেখছে সেটাই উল্লেখ থাকে শুধু।

গল্প: ৯/১০

অল্পের মধ্যে মন ছুঁয়ে যাবার মত একটি রোমান্টিক গল্প। বিশেষ করে শেষ দিকে এসে গল্পের টুইস্ট মনে সাড়া জাগাবে সহজেই।

উপভোগ্যতা: ৯.৫/১০

গল্পের আবর্তনের সাথে সাথে নায়কের প্রতি সমর্থন, সহমর্মিতা, বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও একটি করুণ পরিসমাপ্তি – একটি সফল উপভোগ্য ছোট রোমান্টিক গল্পে পরিণত করেছে একে।

MyAnimeList রেটিং: ৭.৯৬/১০
আমার রেটিং: ৯.০/১০

আমার পড়া সবচেয়ে সুন্দর রোমান্টিক গল্পগুলির মধ্যে পরবে unique এই গল্পটি।

MyAnimeList Link: http://myanimelist.net/manga/65923/Once_Again

মাঙ্গাটি পড়ুন এখানে: http://mangafox.me/manga/once_again/

Movie Time With Yami – 42

Sword-of-the-Stranger-Wallpapers-2

Name: Sword of the Stranger / Stranger: Mukou Hadan
Duration: 1 hr. 43 min.
MAL Score: 8.45
Ranked: 131
Genres: Action, Adventure, Historical, Samurai
 
মুভিটির কাহিনীর সময়কাল জাপানের সেঙ্গোকু পিরিয়ডে। জীবন যেখানে অনিশ্চিত, প্রতি পদে লুকিয়ে আছে মৃত্যুর ভয়াল থাবা। যুদ্ধ এবং ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে কোনমতে প্রাণ নিয়ে বেঁচে আছে মানুষ।
 
এই সময়ে জাপানের পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছে এক নামহীন রোনিন। ঘটনাক্রমে একটি শ্রাইনের কাছে রোনিন দেখতে পায় এক ছোট্ট বালক এবং তার পোষা কুকুরকে। কিছু লোক বালকটিকে ধরে নিয়ে যেতে চেষ্টা করছিল। তাকে বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর আহত হয় তার পোষা কুকুর। রোনিন বালকটিকে সাহায্য করে। বিভিন্ন ছোটখাট ঘটনার মাধ্যমে শিরাতো শহরের দিকে তাদের যাত্রা শুরু হয়।
 
মুভিটির কাহিনী ধীরস্থির কিন্তু একটি সুনির্দিষ্ট গতিতে এগোয়, সেঙ্গোকু পিরিয়ডের আবহটা খুব চমৎকারভাবে ফুটে ওঠে এতে। সোর্ডফাইটগুলো অত্যন্ত আকর্ষণীয়, সেইসাথে প্রধান চরিত্রগুলোর সাথে একাত্ম হয়ে যেতে খুব বেশি সময় লাগেনা। পার্শ্বচরিত্রদের এই মুভিতে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেই, তবে এতে গল্পটি উপভোগ করতে কোন অসুবিধা হয় না।
 
মুভিটির আর্টওয়ার্ক ছিমছাম, পরিষ্কার, সেঙ্গোকু আমলের আবহটা যত্ন নিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সোর্ডফাইটের দৃশ্যের অ্যানিমেশন আরও বেশি ভাল, আর আর্টে বেশ গাঢ় একটা আভা রয়েছে, যা অনিশ্চয়তা এবং বিপদের অনুভূতিটা আরও ভালভাবে ফুটিয়ে তোলে। আর সেইসাথে রয়েছে মানানসই ওএসটি।
 
তাই হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে দেখে ফেলতে পারেন এই চমৎকার মুভিটি।
 
Movie Download Link-
 
 
Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!