Movie Time With Yami – 09

m9

Name- Piano No Mori / The Perfect World of Kai / Piano Forest
Duration- 1 hour 40 minutes
MAL Score- 7.94
Ranked- 578
Genre- Adventure, Comedy, Drama, Music, School

মাঝে মাঝে কিছু মুভি সামনে পড়ে, দেখার পর একধরণের শান্তি আসে মনে, যেটাকে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না। এই মুভিটা দেখে সেরকমই লেগেছিল। অল্প সময়ের মাঝেই মনে ছাপ ফেলে দিয়েছে।

পিয়ানো নো মোরি। অর্থাৎ পিয়ানোর জঙ্গল। নামটা পড়ার পর ভেবেছিলাম হয়ত অতিপ্রাকৃত কিছু অথবা জঙ্গলের রহস্য টাইপের কিছু হবে। দেখার পর বুঝেছি, যা আশা করছিলাম তেমন কিছু না, তবে আবার একদিক থেকে আশা পূরণও হয়েছে। জাপানের এক গ্রামাঞ্চলের একটি জঙ্গলে পড়ে থাকা এক ভাঙ্গা পিয়ানো নিয়ে এ মুভিটির কাহিনী।

আমামিয়া সুহেই, একজন বিখ্যাত পিয়ানিস্টের সন্তান। এলিমেন্টারি স্কুলে পড়ে সে। তার দাদীর অসুস্থতার কারণে কিছুদিনের জন্যে তাদের পরিবারকে টোকিও ছেড়ে আসতে হয় গ্রামে। বিখ্যাত পিয়ানস্টের সন্তান হওয়ার কারণে সুহেই নিজেও ছোটবেলা থেকে কঠোর চর্চা করে ভালো পিয়ানিস্ট হওয়ার জন্যে। এ জন্যে গ্রামে এসেও পিয়ানো চর্চা চালিয়ে যায় সে।

তার নতুন স্কুলের কিছু দুষ্টু ছেলে তাকে বলে জঙ্গলের ভেতরে পড়ে থাকা ভাঙ্গা পিয়ানোর কথা, যেটা থেকে কেউ কখনো শব্দ বের করতে পারেনি। প্রচলিত আছে যে পিয়ানোটা অভিশপ্ত। তারা সুহেই কে চ্যালেঞ্জ করে সেই পিয়ানোটা বাজানোর জন্যে। এতে রেগে যায় তারই আরেক সহপাঠী কাই। সে বলে, পিয়ানোটা মোটেই অভিশপ্ত নয়, এবং সে নিজে পিয়ানোটা বাজিয়েছে অনেকবার। এ নিয়ে দুষ্টু ছেলেদের সাথে মারামারি লাগে কাই এর।

স্কুল ছুটির পরে কাই সুহেইকে আমন্ত্রণ জানায় পিয়ানোটা নিজের চোখে দেখার জন্যে। প্রথমে দ্বিধা করলেও, কৌতূহলী সুহেই রাজি হয়ে যায় এবং দেখতে যায় সেই পিয়ানো। এবং তারপরেই সে আবিস্কার করে একটি অদ্ভুত তথ্য, যা তার এতদিনের কঠোর পরিশ্রমের মানেই পাল্টে দেয়।

কিছু কাজ আমরা করি ভালো লাগে তাই। আবার কিছু কাজ আমরা করি কারণ আমাদের তা করতেই হবে। এই দুয়ের যদি মেলবন্ধন হয়, তাহলে ফলাফল যেকোনো দিকেই যেতে পারে। সবসময় আমরা যা করি, তার ফল তখনি না পেলেও, কোথাও না কোথাও তার ফল পাওয়া যায়ই। এই মুভিটা দেখে সেটা আরেকবার উপলব্ধি করেছি।

র‍্যাঙ্ক দেখে বা রেটিং দেখে যে সবসময় ভালো খারাপ বিচার করা যায়না, তার একটি উদাহরণ এই মুভিটি। আর যাদের পিয়ানো শুনতে ভালো লাগে, তাদের আরও বেশি ভালো লাগবে এটা।

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এবং আমার অত্যন্ত পছন্দের এই মুভিটি।

Movie Download Link –
http://kissanime.com/Anime/Piano-no-Mori

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 08

DB

Name- Death Billiards
Duration- 25 minutes
MAL Score- 8.05
Ranked- 445
Genre- Game, Psychological, Thriller

এই আনিমেটি খুব একটা পরিচিত না, আমার কাছে এটাকে অনেকটা ডায়ামন্ড ইন দ্য রাফ মনে হয়েছে।

কাহিনী শুরু হয় একটি বারে। একজন স্মৃতিভ্রষ্ট বৃদ্ধ মানুষ নিজেকে হঠাত একটি বারে আবিষ্কার করেন। একজন সুন্দরী বারটেন্ডার তাকে এগিয়ে নিয়ে পৌছে দেয় কাউন্টারে, যেখানে আরও একজন বারটেন্ডার আছে এবং স্যুট পরিহিত একজন মধ্যবয়সী লোক বসে আছেন। বৃদ্ধ এবং লোকটি, দুজনেই বারে আসার আগের ঘটনা মনে করতে চেষ্টা করে, কিন্তু খুব আবছাভাবে অল্পকিছু কথা ছাড়া আর কিছুই তারা মনে করতে পারেনা।

কাউন্টারের বারটেন্ডার তাদের জানায় যে তাদের দুজনকে এখন একটা গেম খেলতে হবে। এই গেম খেলার জন্য তাদের যে জিনিষটা বাজি ধরতে হবে, তা হল- তাদের জীবন !!

খেলার নিয়ম নরমাল বিলিয়ার্ড খেলার মতই। কিন্তূ খেলায় হারজিতের পরিণতি কি, বা কোন বল গর্তে ফেললে কি হতে পারে, এসব কিছুই জানাতে রাজি নয় বারটেন্ডার। কোন কিছু না জেনেই তারা দুজন খেলায় নামতে বাধ্য হয়। চলতে থাকে অনিশ্চয়তার খেলা।

২৫ মিনিট। যেকোন আনিমে সিরিজের একেকটা এপিসোড প্রায় এই লেনথের হয়। এতটুকু সময়ে একটা পরিপূর্ণ গল্প বলা এবং সেই প্রচেষ্টায় সফলভাবে উতরে যাওয়া খুব একটা সহজ কাজ নয়। কিন্তু এই মুভিটি এই অল্প সময়ের মাঝে মুভিটির বক্তব্য খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছে। আর এতে চিন্তাাভাবনা করার মত বেশ ভালো উপাদান আছে, যা দর্শককে অনেকক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখে।

মুভিটি ২০১৩ সালে আনিমে মিরাই এর ইয়াং অ্যানিমেটর ট্রেনিং প্রজেক্ট এর আন্ডারে ম্যাডহাউস এর প্রযোজনায় নির্মিত। এর কাহিনী লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন Yuzuru Tachikawa.

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এবং আমার অত্যন্ত পছন্দের এই মুভিটি।

Movie Download Link –

http://kissanime.com/Anime/Death-Billiards

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – 07

 

gXTAi

Name- Nausicaä of the Valley of the Wind / Kaze no Tani no Nausicaa
Duration- 1 hour 57 minutes
MAL Score- 8.48
Ranked- 105
Genre- Adventure, Fantasy

কাহিনীর শুরু একটি ভয়াবহ যুদ্ধের ১০০০ বছর পরে, যেই যুদ্ধের পরিণতিতে পৃথিবী ৭ দিন আগুনে পুড়েছে, ধ্বংস হয়েছে সভ্যতা। বেশিরভাগ এলাকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে বিষাক্ত জঙ্গল, যেখানে বাস করে বড় বড় ভয়ংকর কীট। এই জঙ্গলের কোন কিছুর স্পর্শ মানুষের জন্য বয়ে আনতে পারে করুণ পরিণতি। অল্প কিছু জায়গা, যা এখনো বিষের কবলে পড়েনি, সেসব জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে বাস করে মানুষ।

এরকমই একটা এলাকা হল ভ্যালি অফ উইন্ড। এখানে বাস করে একটি গোত্র, যারা একটি লিজেন্ডে বিশ্বাস করে। তাদের যখন চরম বিপদ এসে হাজির হবে, তাদের রক্ষাকর্তা আসবে নীল পোষাক পরে, সোনালী মাঠের ওপর দিয়ে।

এই গোত্রের রাজকুমারী নওসিকা। চটপটে, প্রাণবন্ত নওসিকাকে তার গোত্রের সবাই ভালবাসে। সে তার নিজের গ্লাইডারে চড়ে বিষাক্ত জঙ্গলে ঘুরে বেড়ায়, আর খুঁজে বের করতে চেষ্টা করে দূষণ থেকে পরিত্রাণের উপায়।

নওসিকাদের এলাকায় একদিন হঠাৎ আক্রমণ করতে আসে অন্য আরেকটি গোত্র। তারা ভ্যালি অফ উইন্ড এবং এর কাছে অবস্থিত কীটের জঙ্গলের শান্তি নষ্ট করে, তান্ডব চালায় ইচ্ছামত। নওসিকার ওপর দায়িত্ব পড়ে নিজের গোত্রকে বাঁচানোর এবং একইসাথে তাদের এলাকাকে ধ্বংস থেকে বাঁচানোর।

মুভিটি প্রকৃতি এবং মানুষের সম্পর্ক, অযথা কলহের পরিণতি এবং একইসাথে মন থেকে আসা ইচ্ছার শক্তিকে খুব সুন্দরভাবে দেখিয়েছে। জিবলীর রাজকুমারীরা বরাবরই অসাধারণ, নওসিকাও তার ব্যতিক্রম নয়। আমার সবচেয়ে পছন্দ হয়েছে লিজেন্ডের অংশটুকু, বেঁচে থাকার জন্য সবারই এমন একটা আশা প্রয়োজন।

১৯৮৪ সালের মার্চ মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত এ মুভিটিকে ধরা হয় অনেকটা স্টুডিও জিবলীর ভিত্তি হিসেবে। এই মুভির সাফল্যের হাত ধরেই যাত্রা শুরু হয় এই বিখ্যাত স্টুডিওর।

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি।

Movie Download Link –
http://kissanime.com/Anime/Kaze-no-Tani-no-Nausicaa

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Mind Game review by Fahim Bin Selim

মাইন্ড গেম[Mind Game](২০০৪)
অ্যানিমে ফিল্ম
১ ঘন্টা ৪৪ মিনিট
জনরাঃ অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, রোমান্স, সাইকোলজিক্যাল, দেমেন্তিয়া
মূল(মাঙ্গা): রবিন নিশিকি
প্রযোজকঃ স্টুডিও ফোর সি
পরিচালকঃ মাসাকি ইউয়াসা

ছোটবেলা থেকেই নিশি মিয়নকে পছন্দ করে। আর এখন এই ২০ বছরের জীবনে তার স্বপ্ন দুটো – নামকরা মাঙ্গাকা হওয়া আর মিয়নের ভালোবাসা পাওয়া করা।
কিন্তু সমস্যাও দুটো – বড়, নামকরা মাঙ্গাকা হওয়ার পথটা অনেক বন্ধুর; পদে পদে মুখ থুবড়ে পরা। আর এক বর্ষাস্নাত সন্ধ্যায় ছোটবেলার ভালোবাসা মিয়নের সাথে দেখা হওয়ার পর যখন সে অবশেষে তার অস্ফুট ভালো লাগার কথা ব্যক্ত করল, তখন জানতে পারল যে মিয়ন ইতিমধ্যেই আরেকজনের বাগদত্তা! ব্যার্থতা আর গ্লানিতে অভিভূত নিশির রাতটা এখানে শেষ হলেও চলত।
মিয়নদের ইয়াকিতোরি রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর ঘটনাচক্রে সে মুখোমুখি হয়ে গেল দুই ইয়াকুজার সাথে।
তারপর “কামিসামা”-র সাথে।
আর এক বৃদ্ধ লোকের সাথে। এমন এক জায়গায় যেখানে সাধারনত বৃদ্ধ লোকেরা থাকে না। কোন মানুষই থাকে না…

“হার মেনো না; বাঁচো!” – এটা হল মাইন্ড গেমের উপজীব্য। খুবই পরিচিত লাগছে? পরিচিত লাগারই কথা। সেই আশির দশকের ফ্রিজার সামনে দাঁড়ানো গোকু আর হালের পেইনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নারুতো; আর মাঝখানে শ’খানেক গতানুগতিক অ্যানিমে হার না মানার জয়গান গেয়ে গেছে; আর জীবলীর ফিল্মগুলো জীবনের সৌন্দর্য দেখিয়েছে বারবার। কিন্তু মাইন্ড গেম আর যাই হোক গতানুগতিক না। ধারেকাছেও না। বরং যদি আপনি “এঞ্জেল’স এগ” বা “তেক্কোন কিনক্রেট” দেখে না থাকেন, তাহলে বলতে হবে এর মত অ-গতানুগতিক, ভিন্নধারার ফিচার লেংথ অ্যানিমে ফিল্ম হয়তো আপনি দেখেননি।

মাইন্ড গেম হয়তো জীবন পাঠ শেখাবে;সূক্ষ্ণভাবে। আর তার মূল কাহিনীর আবহ ডার্ক। কিন্তু এটা আর যাই হোক কোন গুরু-গম্ভীর ফিল্ম না। বরং ইতিমধ্যেই যদি তাতামি গ্যালাক্সিতে ইউয়াসার ডার্ক হিউমারের সাথে পরিচিত হয়ে থাকেন, তবে জানুন এক দশক আগেও তার রসাত্ববোধ কোন অংশে কম ছিল না। এই মুভিতে মানুষ মারা যাবে, ইয়াকুজাদের তাড়া খাবে আর নিগির্ণ হবে বড় এক তিমি দ্বারা – কিন্তু আগাগোড়া এর কৌতুকাবহ বজায় থাকবে। সবসময়।

আর এই উদ্ভট, অ-সাধারন অ্যানিমের সাথে ইউয়াসার উদ্ভট, অ-সা্ধারন আর্টস্টাইল যেন নিঁখুত সামঞ্জস্যতাপূর্ণ। ইউয়াসার পরিচালনার প্রথম অ্যানিমে। আর সময়ে সময়ে সেই আর্টস্টাইলও বদলাবে; নন-অ্যান্থোলজিক্যাল অ্যানিমে বা স্পেস ড্যান্ডির মত ব্যতীক্রম বাদে যা কল্পনাও করা যায় না; তাও আবার একটি নির্দিষ্ট কাহিনী নিয়ে গড়ে ওঠা ফিচার লেংথ ফিল্মে! স্টূডিও ফোর ডিগ্রি সেলসিয়াসের জগতে স্বাগতম!

মাইন্ড গেম শুরু হবে জমকালো ভাবে আর শেষ হবে – সম্ভবত অ্যানিমে ফিল্মের ইতিহাসে সবচেয়ে রক্তগরম আর অ্যাড্রেনালিন তুঙ্গস্পর্শী করা – এক ফিনালে দিয়ে। আর এর মাঝখান সময়টা জুড়ে এক ভূতূড়ে জগৎ। হয়তো কিছুটা ধীর গতির। আর লাইভ-অ্যাকশন ছাড়িয়ে অ্যানিমেশনে সিনেমাটোগ্রাফির অসাধারনত্ব আর বাক্স ভরা সৃজনশীলতায় পূর্ণ।
এড আর অ্যালের ট্রুথের সাথে দেখা হওয়ার দৃশ্য দেখেছেন – এখানে দেখবেন খুব আলাদা, কৌতুকপ্রদ আর চিন্তাদ্দীপক এক সাক্ষাত, ‘দ্য ওয়ান’-এর সাথে। অনেক “ভালোবাসা”-‘র দৃশ্য দেখেছেন, আদিমতার – আর এখানে তার উপস্থাপনা সৌন্দর্য, শৌল্পিকতার।

মাইন্ড গেম সবার ভালো লাগার মত জিনিস না। ইউয়াসা সবার ভালো লাগার মত জিনিস না। আর তাই তার অন্যান্য সব কাজের মতই মুক্তির ১০ বছর পরও এটার কোন ডাব বের হয়নি। বিগত দশকের অন্যতম প্রভাব রাখা অ্যানিমে ফিল্ম হওয়ার পরও, অন্যতম শ্রেষ্ট ডেব্যু ফিল্ম হওয়ার পরও। মাইন্ড গেম – তার নামের যথার্থতা পুরণে অবশ্য আপনার মাথার সাথে কোন জটিল দাবা খেলায় নেমে পরবে না; মাইন্ড গেমের কাহিনী জটিলতা নিয়ে না। বরং মাইন্ড গেম জীবন নামক খেলার গল্প, বেঁচে থাকার গল্প – স্বপ্ন ভাঙা, ভালোবাসা হারানো, ইয়াকুজাদের হাতে পরা…মরে যাওয়া এবং তারপরও বেঁচে থাকার গল্প।

সম্মাননাঃ
* ওফুজি নোবুরো অ্যাওয়ার্ড – মানচিনি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড
* গ্র্যান্ড প্রাইজ – জাপান মিডিয়া আর্টস ফেস্টিভাল (হাউল’স মুভিং ক্যাসলকে হারিয়ে)
* সেরা ফিল্ম, সেরা পরিচালক, সেরা স্ক্রিপ্ট (জ্জুরি) – ফ্যান্টাসিয়া ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০০৫, কানাডা
* সেরা ফিল্ম, সেরা গ্রাউন্ডব্রেকিং ফিল্ম (অডিয়েন্স) – ফ্যান্টাসিয়া ফিল্ম ফেস্টিভাল ২০০৫, কানাডা

রেটিংঃ
মাইঅ্যানিমেলিস্টঃ ৭.৯৫
রটেন টমেটোসঃ ৯৪% ফ্রেশ
আমার রেটিংঃ ৮২/১০০

‪#‎ইউয়াসা‬

সাইকো পাস – সিস্টেম সিবিল এবং বাস্তবতার সংঘর্ষ; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

maxresdefault

 

এপিসোড সংখ্যা- ২২
জনরা- একশন​, সাই-ফাই, পুলিশ​

আমাদের পৃথিবী সাধারণত যে নিয়মটা ফলো করে- অপরাধ আগে ঘটবে, তারপর অপরাধীকে শাস্তি দেয়া হবে। অপরাধের প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দেয়া যাবেনা। কিন্তু কখনো কি কারও মনে হয়েছে, যদি এরকম কোন ব্যবস্থা থাকত যে কোন অপরাধ ঘটার আগেই সেটাকে কোনভাবে ঠেকানো যাবে? বা এমন কোন যন্ত্র থাকবে, যা দিয়ে স্ক্যান করে অপরাধ ঘটার আগেই অপরাধীকে সনাক্ত করে তাকে বিরত করা যাবে?

আমাদের আনিমেটির কাহিনী ভবিষ্যতে, যখন এইরকম একটি যন্ত্র আসলেই আবিষ্কৃত হয়েছে। এবং শুধু আবিষ্কার বললে ভুল হবে, জাপানে এই যন্ত্রেরই রাজত্ব চলছে। যন্ত্রের নাম সাইকো পাস, আর পুরো ব্যাবস্থাটার নাম সিবিল সিস্টেম। প্রত্যেকটা মানুষের একটা করে সাইকো পাস রয়েছে। এটা দিয়ে তাদের অপরাধ প্রবণতা পরিমাপ করা হয়। যদি অপরাধ প্রবণতা কোন কারণে বিপদসীমা অতিক্রম করে তাহলে তার সাইকো পাস ঘোলাটে হয়ে যায় এবং রাস্তায় রাস্তায় বসানো শত শত স্ক্যানারে তা ধরা পড়ে। সেই মানুষটিকে চিকিৎসা দেয়া হয়, যাতে তার সাইকো পাস ঘোলাটে থেকে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। আর যদি বোঝা যায় যে তার সাইকো পাস কোনভাবেই আর ক্লিয়ার হবেনা, তাহলে তাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করা হয়। দেশে কোন আইন আদালত নেই, পুলিশদের হাতেও এখন আর পিস্তল বা রিভলবার নেই, আছে ডমিনেটর। এই যন্ত্র সাইকো পাসকে স্ক্যান করে অপরাধের মাত্রা নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী কাজ করে। কেউ বড় কোন অপরাধ করতে চেষ্টা করলে ডমিনেটর তাকে এলিমিনেট করে দেয়, আবার অপরাধ ছোট হলে বা অন্য কোন কারণে সাইকো পাস ঘোলা হলে প্যারালাইজড করে দেয় যাতে তাকে চিকিৎসা দেয়া যায়। বিচার করার সব দায়িত্ব এখন সিবিল সিস্টেমের।

এই সময়ে জাপানের পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ইন্সপেক্টর হিসেবে যোগ দেয় আকানে সুনামোরি। এরপর সে পরিচিত হয় ডমিনেটর যন্ত্রটার সাথে এবং তার কলিগ ইন্সপেক্টর এবং এনফোর্সারদের সাথে। এনফোর্সার তাদের বলা হয়, যাদের সিবিল সিস্টেম সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, কিন্তু ইন্সপেক্টরের খবরদারিতে রেখে তাদের অপরাধ প্রবণতাকে কাজে লাগানো হয় অপরাধী ধরতে। তাদের সাথে আকানে সুনামোরি কাজ করতে থাকে এবং দক্ষতা অর্জন করতে থাকে।

কিন্তু যত সময় যেতে থাকে, সমস্যা দেখা দেয়। একটা যন্ত্র কি আসলেই অপরাধী সনাক্ত করার সর্বশ্রেষ্ঠ উপায়, বা যন্ত্র যাকে সুপ্ত অপরাধী হিসেবে সনাক্ত করেছে, সে কি আসলেই অপরাধী, নাকি অন্য কোন কারণে তার সাইকো পাস ঘোলা হয়েছে… এই প্রশ্নগুলো উকি দিতে থাকে। আবার উল্টো প্রশ্নও সামনে এসে পড়ে। যদি কখনো এমন হয়, কোন মানুষ এমন উপায় খুঁজে বের করে ফেলেছে, যাতে তার সাইকো পাস সবসময় পরিষ্কার থাকে, তাহলে কি হবে? তার মাঝে যদি সিবিল সিস্টেম অপরাধ প্রবণতা খুঁজে না পায়, তাহলে তাকে কিভাবে ধরা হবে??

এভাবে বেশ ইন্টারেস্টিং একটা প্লট নিয়ে এবং খুব চমৎকার কিছু ক্যারেক্টার নিয়ে গড়ে উঠেছে সাইকো পাস আনিমেটি। প্রতিটা ক্যারেক্টার অত্যন্ত যত্ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আনিমেটি তার প্রমিস ধরে রেখেছে বলে আমি মনে করি। শিনিয়া কোগামি চরিত্রটি আমার পছন্দের চরিত্রের তালিকায় খুব দ্রুতই জায়গা করে নিয়েছে।

এই আনিমের আরেকটা ব্যাপার উল্লেখ না করাটা অন্যায় হবে, তা হল এর ওএসটি। প্রতিটা গান পাল্লা দিয়ে সুন্দর এবং মনে ছাপ ফেলে দেয়। আমার ব্যাক্তিগত পছন্দ প্রথম এন্ডিং সং “নামায়ে নো নাই কাইবুতসু বাই ইগোইস্ট”। শোনার পর থেকে ইনফিনিট লুপে দিয়ে রেখেছি।

খুব জলদি এই আনিমেটার সেকেন্ড সিজন বের হতে যাচ্ছে, কাজেই যারা এখনো প্রথম সিজন দেখেননি, তারা দেখে ফেলতে পারেন। আর যারা দেখেছেন তারা তো সবাই জানেনই এটা কতটা ভালো একটা আনিমে!

সাইকো পাস

Movie Time With Yami – 06

-Gin-and-Hotaru-hotarubi-no-mori-e-36865029-1600-1112

Name- Hotarubi No Mori E / Into the Forest of Fireflies’ Light
Duration- 44 minutes
MAL Score- 8.71
Ranked- 36
Genres- Drama, Romance, Shoujo, Supernatural

আনিমে মুভি দেখতে গিয়ে একটা ব্যাপার খুব খেয়াল করেছি, স্পিরিট, প্রকৃতি, এগুলোর কামিসামা (গড) এই ব্যাপারগুলোকে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। আর অসম ভালবাসা যে কত নিষ্ঠুর হতে পারে মাঝে মাঝে, আমার মতে মুভিগুলোতে সেই বৈচিত্র্য আরও বেশি ফুটে ওঠে। আজকের মুভিটিও তেমনই হৃদয়স্পর্শী।

মুভিটির কাহিনী হোতারু নামের এক মেয়েকে নিয়ে। সে প্রতি বছর গরমের ছুটিতে গ্রামে বেড়াতে যায়। খুব আগ্রহ নিয়ে এই ছুটিটার জন্য অপেক্ষা করে সে। কারণ, তার জন্য গ্রামে অপেক্ষা করে থাকে গিন।

হোতারু যখন খুব ছোট ছিল, তখন একবার জঙ্গলে হারিয়ে গিয়েছিল সে। তার কান্না শুনে তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসে গিন। হোতারুকে পথ দেখিয়ে জঙ্গল থেকে বের হতে সাহায্য করবে সে, শর্ত একটাই, গিনকে স্পর্শ করা নিষেধ! কারণ, মানুষের স্পর্শ পেলেই যে অদৃশ্য হয়ে যাবে সে!

ভালবাসা কষ্টের, কিন্তু ভালবাসতে অক্ষম হওয়াটা আরও বেশি কষ্টের। সেই অক্ষমতার মাঝেও এক ধরণের অদ্ভুত আকাংখা মিশে থাকে, আর এই মুভির এই ব্যাপারটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি স্পর্শ করেছে। শেষ দশ মিনিট দেখার সময় নিশ্বাস নিতে ভুলে গিয়েছিলাম।

২০১১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এ মুভিটি বিভিন্ন সময় জাপানে এবং বাইরে অনেক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং পুরষ্কারও জিতেছে। মুভিটিকে অনেকেই জিবলীর কাজের সাথে তুলনা করে থাকেন, কারণ দেখতে দেখতে এটিকে জিবলী মুভি বলে ভুল হতে পারে; যদিও এটি Brain’s Base এর মুভি।

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এবং আমার অত্যন্ত পছন্দের এই মুভিটি।

Movie Download Link –

http://kissanime.com/Anime/Hotarubi-no-Mori-e

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

Movie Time With Yami – Guest Corner!

 

ryougi_shiki-1567283

[এটা একটা স্পেশাল পর্ব, আজকের সাজেশন লিখেছেন আমাদের গ্রুপের Kara no Kyoukai ব্র্যান্ড রিপ্রেসেন্টেটিভ Subarno Hossain.]

Name: Kara no Kyoukai/Garden of Sinners – Borderline of Emptiness
Range: 8 movies and 3 specials.
MAL score (total average): 8.08

এটা ঠিক রিভিউ না, বরং যারা সিরিজটা দেখেননি, তাদের জন্য কিছুটা প্রিভিউ বলা যেতে পারে। এটা Type-MOON (যারা Fate/Stay Night তৈরি করেছেন) এর প্রথম কাজ। এটা প্রথম লেখা শুরু হয় সেই ১৯৯৮ সালে, এবং প্রথম মুভিটা বের হয় ২০০৭ সালে। এই আনিমেটাকে বলা যেতে পারে ‘চরিত্র-বিষয়ক’ একটি আনিমে, কারণ এখানে প্লট অথবা সেটিং এর চেয়ে চরিত্রদের ওপরই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আপনার যদি এই আনিমের প্রথম মুভি ভাল লাগে, তাহলে আপনি পরের মুভি দেখবেন সেখানে ঘটনা কি ঘটে তা জানতে নয়, বরং শুধুমাত্র আনিমের মূল চরিত্র কি করে, তা জানতে।

Kara no Kyoukai এর মূল চরিত্র রিওগি শিকি (Ryougi Shiki), যার রহস্যময় ব্যবহার এবং আচার-আচরণ চোখে পড়ার মত। সংক্ষেপে, শিকি দেখতে মেয়ের মত হলেও তাকে ছেলেই বলা যেতে পারে। এমন না যে তাকে সাধারণ Tomboy বলা যাবে… কারণ তার চরিত্রের শুধু ১টি নয়, ৪ (হ্যাঁ, চার) টা দিক আছে! কোনটা কি আমি তা বললাম না, মুভি দেখে বুঝতে পারলেই ভাল হবে। তার এই দ্বৈত সত্ত্বার সাথে তার রয়েছে এক আলৌকিক ক্ষমতা, যার নাম “Mystic Eyes of Death Perception”; এগুলো তার জীবনে কি প্রভাব ফেলে, এটিই এই আনিমের মূল লক্ষ্যবস্তু।

তার সাথে রয়েছে আরও কিছু চরিত্র, যার মধ্যে আছে ককুতউ মিকিয়া (Kokutou Mikiya) যাকে বলা যেতে পারে শিকির একমাত্র ‘বন্ধু’, এবং আওযাকি তউকো (Aozaki Touko), একজন জাদুকর যার বিশেষত্ব পুতুল বানানো। প্রতিটা মুভিতে একটা ভিন্ন antagonist রয়েছে, এবং মজার বিষয় হল সব সময় তা নাও থাকতে পারে।

তাহলে মুভির প্লটটা আসলে কি? এই প্রশ্নের কোন সহজ উত্তর নেই, কারণ এটা psychological or mystery হিসেবে বলা হলেও আনিমেটাকে একটা খুবই উন্নত ‘Slice-of-Life’, অথবা অন্তস্তলে, simple Romance ও বলা যেতে পারে। প্রত্যেকটা মুভির একটা করে আলাদা বিশেষত্ব রয়েছে, যার প্রভাব অন্য মুভিতেও ভিন্নভাবে পড়ে। সেটা দেখার পরেই বোঝা যাবে।

আমার নিজের মতে, মুভিগুলোর সবচেয়ে অসাধারণ বিষয় চরিত্র নয়, বরং ওএসটি, আর্টওয়ার্ক এবং অ্যানিমেশনের গুণগত মান মিলে কিভাবে একটা মনমাতানো অভিজ্ঞতা তুলে ধরে। Ufotable সবসময় উচ্চ মানের আনিমে তৈরি করে থাকে, কিন্তু আমার মতে Kara no Kyoukai তাদের ‘Magnum Opus’. কালাফিনার মিউজিক এখানে seamlessly integrate করা হয়েছে, এবং প্রত্যেকটা সিনে একটা অন্য লেভেলের আবহ তৈরি করেছে।

Movie Download Link –
http://kissanime.com/Anime/Gekijouban-Kara-no-Kyoukai-The-Garden-of-Sinners

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

The Night of Taneyamagahara movie suggestion by Tahsin Faruque Aninda

Studio Ghibli এর এই শর্ট ফিল্মটা তৈরি হয়েছে still image ব্যবহার করে।

এক রাত্রে চারজন মজুর এক মাঠে আগুন পোহাচ্ছে। তিনজন নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন জিনিস নিয়ে আলোচনা করছে, অন্যজন ঘুমের ঘোরে চলে যাচ্ছিল। এমন সময়ে কোন কিছুর শব্দে সবার মনযোগ সেইদিকে চলে যায়। জেগে থাকা তিনজন শব্দের সেই উৎসের খোঁজে চলে গেলেও অন্যজন আবার ঘুমিয়ে পরে। এরপর সে চলে যায় স্বপ্নের রাজ্যে, দেখে বিভিন্ন অলৌকিক জিনিস।

একদম স্বাভাবিক শুনতে কাহিনীটি, তবে execution হয়েছে অন্যান্য আনিমে থেকে বেশ আলাদাভাবে। Art film বলা যেতে পারে, তবে এর মধ্যে একটা অন্যরকম টান আছে। এর মধ্যে একটা meditative ভাব আছে, ধ্যানের রাজ্যে চলে যাবার মত মনে হয় এটা দেখতে গেলে।
আবার মুভিতে খুবই সুন্দর একটি গান আছে:
https://www.youtube.com/watch?v=AuBgt_psqvg

Still image ব্যবহার করে বানানো মুভি, আর পুরাটা একজন ন্যারেট করেছেন। আসলে এটি Kenji Miyazawa এর একটা রচনা, সেটা পুরাটা গল্পের মতন পড়ে গিয়েছেন ন্যারেটর। বিভিন্নজনের ভয়েস বিভিন্ন ভাবে দিয়েছে।

মুভিটা দেখতে গেলে মনে হয় একদম গ্রামের সেই ধীর-সুস্থির জীবনের কাহিনী। খুবই স্লো আগায়। এজন্যে হয়তো সবার জন্যে উপযুক্ত মুভি নয় এটি।

সবার উপযুক্ত না হবার কারণে যা হয়, প্রচন্ড রকমের underrated একটা মুভি হয়েছে এটি। Different কিছু দেখতে ইচ্ছা করলে এটি try দিতে পারেন

MyAnimeList Rating: 5.95/10
আমার রেটিং: 8/10

Eve no Jikan anime suggestion by Monirul Islam Munna

Genre: Sci-Fi, Slice of Life
৬টা ONA আর ১টা মুভি

ভবিষ্যতে হয়তো এমন একটা সময় আসবে আমাদের দৈনন্দিন কাজে আমরা রোবট ব্যবহার করবো। ঘরের কাজ থেকে, মার্কেট থেকে কেনাকাটা, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের কার কি লাগবে তার দেখভালও করবে এই রোবট। প্রযুক্তির উন্নতির এমন পর্যায়ে চলে গেছে যে এই রোবটগুলো দেখতে হুবহু মানুষের মত। এমন কি কথা বলার ভঙ্গি, এক্সপ্রেসন দেখে সাধারণ চোখে মানুষ থেকে এদের পৃথক করা দুষ্কর। তাই রোবটের মাথার উপর থাকে এক বিশেষ ধরণের রিং যা দেখে বোঝা যায় কে রোবট আর কে মানুষ।
গল্পের অন্যতম প্রধান চরিত্র ‘রুকুও’, হাই স্কুলের ছাত্র। ছোট বেলা শিখে আসছে রোবটরা শুধুই যন্ত্র, মানুষের থেকে তারা আলাদা। রিকুওর ঘরের সাধারণ কাজের জন্য ছিল তাদের নিজেদের রোবট ‘সেমি’। কিন্তু একদিন সেমির ডাটা চেক করতে গিয়ে একটু ভিন্নতা দেখতে পান রিকুও। সেই ডাটার সুত্র ধরে এক রহস্যময়ী ক্যাফের সামনে হাজির হয় সে, যেই ক্যাফের একমাত্র রুল হল ‘ মানুষ এবং রোবটের সাথে একইরূপ আচরণ করতে হবে’ ……… আর এখান থেকে এগুতে থাকে কাহিনী।

সাই ফাই আর স্লাইস অফ লাইফের বেশ ভালো একটা সংমিশ্রণ, সাথে কিছু রহস্যও আছে! তাই বেশ ভালোই লাগছে এনিমেটা।

১ম এ ৬টা ওএনএ বের হয় পরে মুভিটা রিলিজ পায়। মুভিটা আসলে ঐ ৬টা ওএনএ কে একত্র করে, সাথে অল্প কিছু সিন যোগ করে বানানো। তাই শুধু মুভিটা দেখলেই হয়ে যাবে।

MAL rating: ONA –> 8.38 / Movie—>8.41
আমার রেটিংঃ ৮.৫

Short anime ending- A discussion by Subarno Hossain

 

ছোট ছোট এনিমে, এবং তাদের সমাপ্তির শিল্প।

আমরা সবাই জানি যে আজকাল এনিমের এয়ারিং স্টাইল বিভিন্ন রকমের। কিছু এনিমে কয়েকশ এপিসোড ধরে চলতে থাকে, যাদেরকে আমরা লং-রানার হিসেবে চিনি। কিছু আছে ৫০, ৩০ অথবা ২৫-২৬ এপিসোড, যা আমরা কিছুটা স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ধরে নেই। আবার এর চেয়ে ছোট হল ১০-১২ এপিসোডের এনিমে। তার চেয়েও কম রয়েছে অল্প কিছু এপিসোডের OVA, আর মুভি গুলো তো আছেই। আমার এই লেখার মূল উদ্দেশ্য হল, ছোট এনিমের প্রতি আমার ভালবাসা অল্প কথায় প্রকাশ করা।

ব্যক্তিগতভাবে আমার ছোট এনিমে অনেকটাই বেশি প্রিয়, যার কিছু কারণ রয়েছে। প্রথমত, এগুলো দেখতে খুব একটা সময় লাগে না। একবার দেখা শুরু করলে কয়েক দিনের মধ্যেই শেষ করে ফেলা যায়। বড় বড় এনিমে মাসের পর মাস দেখলেও অনেক সময় শেষ কি, বরং মাঝামাঝিও যাওয়া যায় কি না আমার সন্দেহ রয়েছে। তাই অল্প সময়ের মধ্যে এনিমে দেখে ফেলার শ্রেষ্ঠ উপায় ছোট এনিমে। দ্বিতীয়ত, অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে এনিমে কোম্পানির একটা এনিমেশন এর জন্য নির্ধারিত একটা budget থাকে। যখন এপিসোড নাম্বার কম থাকে, তখন প্রতিটা এপিসোডে বেশি পরিমাণ খরচ করা যায়, যার ফলে আর্ট, এনিমেশন এর মান, সাউন্ড এবং voice acting – সবকিছুই একটু উন্নত মানের হয়। কিন্তু যা আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়, তা হল ছোট এনিমের সমাপ্তি।

অনেকেই বলেন যে, এনিমে ছোট হলে সমাপ্তিটা ভাল হয়না। আমার মতে এই ধারণাটা ভুল। ছোট এনিমেতে দুই…না, তিন রকমের সমাপ্তি হতে পারে। এক হল পরিসমাপ্তি, যেখানে এনিমে ঠিকঠাক মত শেষ হয়, প্রায় সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয় এবং দর্শকদের মাঝে একটি পূর্ণতার অনুভূতি সৃষ্টি করে। এরকম কিছু এনিমের উদাহরণ (আমি নিজে যা দেখেছি) – Ano Hana (11 ep), Another (12 ep), Hellsing Ultimate (10 OVAs), Eden of the East (11 ep + 2 movies), Hotarubi no Mori e (1 Movie) Midori no Hibi (13 ep) and Redline (1 Movie), যার সাথে আরও অনেক মুভি যোগ করা যাবে।
এরপর রয়েছে খোলা সমাপ্তি, যেখানে এনিমে শেষ হলেও আসল কাহিনী শেষ হওয়া তো দূরের কথা, বরং এরপর কি হতে পারে, তা দর্শকের উপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়। সাধারণত এগুলোর মজা এই ওপেন-এন্ড থেকেই উপভোগ করা যায়। কিছু উদাহরণ হল – Angel Beats (13 ep), Black Cat (23 ep), Danganronpa (13 ep), Death Billiards (1 Movie), Devil May Cry (12 ep), Elfen Lied (13 ep), Katanagatari (12 ep), Kyoukai no Kanata (12 ep), Mahou Shoujo Madoka Magika (12 ep + Movie) etc.
এবং শেষ প্রকার টা হল বলা যেতে পারে… Continuing Ending। এটা সাধারণত বুঝাচ্ছে যে এনিমেটা আসলে শেষ নয়, এবং সামনে আরও আসছে, যা নতুন সিজন-এর দ্বারা প্রকাশিত হয়। খোলা সমাপ্তির সাথে এর তফাত হল যে এখানে যে কেউ সহজেই বুঝতে পারে যে, এভাবে এনিমে শেষ হতে পারে না…অসম্ভব। এখানে উদাহরণ দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে করছি না, কারণ বেশিরভাগ ছোট এনিমের প্রথম সিজন এমন।

তাই আমরা বলতে পারি, যেমন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছিলেন ছোট গল্পের ক্ষেত্রে, যে ছোট এনিমের ব্যাখ্যা হলঃ “ ছোট প্রাণ, ছোট ব্যথা, ছোট ছোট দুঃখ কথা, নিতান্তই সহজ সরল, সহস্র বিস্মৃত রাশি, প্রত্যহ যেতেছে ভাসি, তারই দুই চারিটি অশ্রুজল। নাহি বর্ণনার ছটা, নাহি ঘটনার ঘনঘটা, নাহি তত্ত্ব, নাহি উপদেশ, অন্তর অতৃপ্ত রবে, সাঙ্গ করি মনে হবে, শেষ হইয়াও হইল না শেষ।”
কারণ এখানে গল্প শেষ হলেও তো আমাদের মনের মাঝে চলতেই থাকবে, তাইনা?