The Story of Cinderella/Cinderella Monogatari: চেনা গল্পের অচেনা মোড়; লিখেছেন ইশমাম আনিকা

Cinderella-cinderella-monogatari-25018918-1024-768

 

“অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক লক্ষ্মী মেয়ে। তার নাম সিন্ডারেলা। সিন্ডারেলার বাবা তাকে খুব ভালবাসত। তাই তিনি ব্যবসার কাজে দূরে গেলে যেন সিন্ডারেলার অসুবিধা না হয়, সে জন্যে সিন্ডারেলার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। এতে সিন্ডারেলা একজন সৎমা ও দুজন সৎবোন পায়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বাবা দূর দেশে যাওয়ার পর সিন্ডারেলার সৎমা ও বোনেরা তাকে খুব অত্যাচার করা শুরু করল ….”

কি ভাবছেন? ওয়াল্ট ডিজনির সিন্ডারেলার কাহিনী এখানে কেন বলছি? তার কারণ হল, ওয়াল্ট ডিজনির চিরায়ত কাহিনী অবলম্বনে নব্বইয়ের দশকের তৈরি হয়েছিল চমৎকার একটা আনিমে। ছাব্বিশ পর্বের এ আনিমের নাম “সিন্ডারেলা মনোগাতারি”।

শুরুতেই মাই আনিমে লিস্ট থেকে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেই-

Aired: Apr 4, 1996 to Oct 3, 1996
Genres: Adventure, Fantasy, Romance
Score: 7.52
Ranked: 1357
Episodes: 26

hqdefault (1)

কাহিনীর শুরুটা সবারই জানা। শুধু সূচনা নয়, কাহিনীর আদ্যোপান্ত প্রায় সবকিছুই আসলে ওয়াল্ট ডিজনির কল্যাণে সবারই জানা। এ কারণে এই আনিমেটা চোখের সামনে পড়লেও হয়ত অনেকেই দেখতে আগ্রহী হননি। কিন্তু মনোগাতারির মাহত্ত্ব্য এখানেই। শুরুটা হয় প্রচলিত গল্পের মত করেই। এরপর ২য় এপিসোড থেকেই মোড় ঘুরে যায় দারুণভাবে। কখনো কি এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছে; আচ্ছা, সিন্ডারেলাকে যে ওর সৎমা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দিল, এরপর প্রিন্স চার্মিংকে এসেই কেন তাকে উদ্ধার করতে হবে? নিজের দুরবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নিজেই খুঁজে নেয়া সম্ভব নয়? ঘরের কাজের মাঝে বা যে দুরবস্থাই হোক, তার মাঝে কি আনন্দ খুঁজে নেয়া যায়না? কিংবা জুতার মাপই কেন হবে একজন মানুষের জীবনসঙ্গী নির্ধারণের মাপকাঠি?? রাজকুমারের কি ভালবাসার অধিকার নেই? কেন এক রাতের সুন্দরী নাচের সঙ্গীকেই বাকি জীবনের সঙ্গী বানাতে হবে?

এই সব প্রশ্নের উত্তর আনিমেটি খুব সুন্দরভাবে দিয়েছে। রূপকথার গল্পের গতানুগতিক পথ অবলম্বন না করে আনিমেটি দেখিয়েছে, সিন্ডারেলার আত্মসম্মান কতটা মজবুত এবং সে কতটা বাস্তববাদী একটা মেয়ে। আরও দেখিয়েছে, রাজকুমার মানেই সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসা বিলাসিতায় মেতে থেকে জীবন কাটানো অকর্মণ্য ব্যাক্তি নয়। আমাদের গল্পের রাজকুমার তার প্রাসাদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে প্রজাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে বসে থাকেনা।

 

Cinderella-cinderella-monogatari-33956575-636-462

 

সিন্ডারেলার সৎমা তার কাছ থেকে সব সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়। তাতে দমে যায়না সে। বরং তার সামনে আসা চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখে মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর হয়। তাকে সাহায্য করার জন্যে তার “ফেইরি গডমাদার” মিস পল তার পোষা প্রাণীগুলোকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে দেন। তাদের সাথে নিয়ে সিন্ডারেলা প্রতিদিন তার সৎমার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার আশায় ধুলো দিয়ে প্রতিটা কঠিন কাজ সঠিকভাবে করে যেতে থাকে।

রাজকুমার চার্লস। “পান্না মহল” (Emerald Castle) এ তার বাস। রাজার একমাত্র সন্তান এবং উত্তরাধিকারী। তাকে রাজ্য পরিচালনার জন্যে তৈরি করে তুলতে রাজার চেষ্টার অন্ত্য নেই। অসিচালনায় রাজকুমারের তুলনা নেই। একদিন বন্ধু অ্যালেক্সকে রাজকুমার জানায় তার মনের কথা। এভাবে গতানুগতিক পথে শিখতে তার ভালো লাগছে না। যে রাজ্যটায় সে একদিন রাজত্ব করবে, সেই রাজ্যটাকে সে কাছ থেকে দেখতে চায়। রাজ্যের মানুষদের চিনতে চায়। আর তাই অ্যালেক্সের পুরনো কাপড় ধার নিয়ে প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ছদ্মবেশী চার্লস বেরিয়ে পড়ত রাজ্য পরিদর্শনে।

large

এভাবে শহরে ঘুরতে ঘুরতে একদিন রাজকুমারের দেখা হয়ে যায় সিন্ডারেলার সাথে। বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে আস্তে আস্তে তাদের দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।

তারা দুজন একসাথে বিভিন্ন মজার এবং ইন্টারেস্টিং ঘটনার মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকে। সিন্ডেরেলার অসুস্থতার সময় যেমন চার্লসকে ঘরের কাজ করা শিখতে হয়, তেমনি চার্লস সিন্ডারেলাকে শেখায় অসিচালনা।

সবশেষে বলব, যদি গতানুগতিক কাহিনীর বাইরের একটি রূপকথা দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।

Cinderella.Monogatari_Cover

Koi Kaze:anime suggestion by Tasnim M hasan

আনিমেঃ কয়ি কাজে
জনরাঃস্লাইস অফ লাইফ
এপিঃ ১৩

সাইনপ্সিসঃ প্রোটাগনিস্ট সায়েকি হচ্ছে একজন রেগুলার জাপানিজ সেলারিম্যান, যার গার্লফ্রেন্ড রিসেন্টলি তাকে তার “কোল্ড পারসোনালিটির” জন্য ডাম্প করে গেছে। রাশ আওয়ারে অফিস যাবার পথে সায়েকির দেখা হয় এক বিমর্ষ হাইস্কুলার বালিকার। এনকাউন্টারটা বেশ সাধারন, কিন্তু সায়েকি বুঝতে পারে, আসলে তার গার্লফ্রেন্ড পুরোপুরি সঠিক নয়, তার ভেতরেও আবেগ-অনুভুতির অস্তিস্ব আছে।

কেন দেখবেনঃ নরমাল গ্রাফিক্স, সাধারন ওএসটি, কিন্তু এর স্টোরি প্রগ্রেস পুরোপুরি অন্য ধাঁচের, যেটার সাথে “গেম অফ থ্রন্স” এর হাল্কা মিল রয়েছে। এখন প্রশ্ন, একটা ‘সফট লাভ-স্টোরি বেজড’ স্লাইস অফ লাইফের সাথে কিভাবে আমি গেম অফ থ্রন্সের লিঙ্ক আপ করছি, তাই তো? দেখে ফেলুন, আর স্পয়লার দিচ্ছি না।

‘ব্ল্যাক ল্যাগুন’- রিভিউ- by Syed Tawsifuzzaman

নামঃ ব্ল্যাক ল্যাগুন

জানরাঃ অ্যাকশন, ক্রাইম ফিকশন,
ড্রামাl

ম্যাঙ্গাকাঃ রেই হিরই

পরিচালকঃ সুনাও কাতাবুচি

ম্যাল রেটিং- ৮.২৫

ম্যাল র্যাঙ্কিং- ২৫৩

আপনি কি হার্ডকোর অ্যাকশন পছন্দ করেন? আপনি কি গোলাগুলি দেখলে উচ্ছ্বসিত হন? রক্তাক্ত মানুষ দেখতে আপনার ভালো লাগে?

তাহলে আপনার জন্যই ব্ল্যাক ল্যাগুন। এই আনিমেটিতে এক এক এপিসোডে এক এক কাহিনী পাবেন যার প্রত্যেকটিই অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। যদিও এখানে নির্দিষ্ট কোন রাইভাল বা ভিলেন পাওয়া যাবে না যার সাথে শেষ পর্যন্ত লড়াই হবে। তবুও একেক এপিসোডে একেক ভিলেনও কম রোমাঞ্চকর নয়।

এর মূল কাহিনী হল একজন চাকুরীজীবী কে নিয়ে যার নাম ওকাজিমা রকুরো। যে দিনের পর দিন
তার বোরিং জব নিয়ে থাকে। তাকে বেশিরভাগ সময়ে তার উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে মাথা নত
করে চলতে হয়। তার এই একঘেয়ে জীবনকে পালটে দেয় একটি মাত্র সমুদ্র সফর।

পূর্ব চীন এর সমুদ্রপথে কোম্পানির একটি জরুরী ডকুমেন্ট নিয়ে যাত্রা করার সময় আধুনিক জলদস্যুদের হাতে পড়ে সে। এই জলদস্যুরা ল্যাগুন কোম্পানি নামে পরিচিত। তাদের হেড হল এক্স মেরিন লিডার ডাচ। এছাড়াও আছে রেভি নামের এক গান শুটার ও বেনি যে টেকনিক্যাল কাজ করে।

এই জলদস্যুদের সাথে পরিচিত হয়ে রকুরো বুঝতে পারে যে মানুষ কি পরিমাণ নিকৃষ্ট হতে পারে।
অবস্থা আরও বেগতিক হয়ে গেল যখন রকুরোর কোম্পানি ডকুমেন্ট ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে জলদস্যুদের মারার জন্য লোক পাঠাল এবং জলদস্যুদের সাথে রকুরোকেও খুন করার অর্ডার দিল।
এভাবেই কাহিনী এগোতে থাকে এবং বিভিন্ন পরিক্রমায় রকুরো পরবর্তীতে জলদস্যুদের সাথে যোগ দেয়।

এই আনিমেটিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যাকশন সিকুয়েন্স আছে। কাজেই যারা অ্যাকশন পছন্দ করেন
আনিমেটি যে তাদের ভালো লাগবে এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। তাই এই আনিমেটি আজ থেকেই দেখা শুরু করে দিতে পারেন, তাহলে উপভোগ করতে পারবেন হার্ডকোর অ্যাকশন থ্রিলার।

আমার নিজস্ব রেটিং – ৮

[এটা আমার প্রথম রিভিউ তাই আশা করি কোন ভুল হলে তা ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন।
পড়ার জন্য ধন্যবাদ!]

Black Lagoon Wallpaper

নোরাগামি- (Anime Suggestion)- by Torsha Fariha

দেখছি নোরাগামি নামের একটা অ্যানিমে।
জানরা- ফ্যান্টাসি, কমেডি, সুপারন্যাচারাল, রোমান্স।

এপিসোড নং- ১২ (বুঝতেই পারতেসেন মাঙ্গাতে কাহিনী আরো আছে  )

আমরা হয়তো জানি জাপানের অনেক রকম গড আছে। তাদের নিজস্ব শ্রাইন আছে যেখানে মানুষ জন কিছু পয়সা ফেলে নিজের উইশ প্রার্থনা করে।
তেমনি এক গডের নাম ইয়াতো যাকে সবাই ভুলে গেছে… যার নিজস্ব ভক্ত নেই, শ্রাইনও নেই। অবশ্য সে কাচের জারে টাকা জমাচ্ছে একদিন নিজের শ্রাইন বানাবে বলে  

এখন কথা টাকা কোথা থেকে পাচ্ছে সে?
সে বিভিন্ন জায়গায় সে স্প্রে দিতে লিখে আসে তার নাম, ফোন নাম্বার এবং বলা থাকে সে সব ধরনের কাজে আছে, বাথরুম ধোয়া থেকে শুরু করে আয়াকাশি দের মারা পর্যন্ত।  (চার্জ মাত্র ৫ ইয়েন  )

একদিন ইয়াতোকে বাঁচাতে গিয়ে প্রায় গাড়ির নিচে চাপা পড়তে বসে আমাদের নায়িকা হিয়োরি। এভাবেই পরিচয় তাদের।

প্রত্যেক গডেরই এক বা একাধিক শিনকি থাকে। শিনকি মানে হচ্ছে sacred treasure or weapon . আমাদের ফকির গড কোন মতে একটা শিনকি জোগাড় করে (আগের জন কান্নকাটি করে কন্ট্রাক্ট বাতিল করসে  ) । যার নাম ইউকিনে।

এভাবেই তিনজনের নানা রকম মজার মজার কাহিনী এবং সুন্দর সুন্দর ফাইট এর মধ্যে অ্যানিমে চলতে থাকে।

যারা দেখেন নাই অবশ্যই দেখবেন।  পিউর বিনোদোন  

ইয়াতো যখন সিরিয়াস থাকে তখন অনেক বেশি কুউউউউল লাগে দেখতে ♥। হিয়োরি মেয়েটাও ভালো। 
আর একটা কথা না বললেই না সেটা হল এই অ্যানিমের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের পুরাই ফ্যান হয়ে গেসি। বেশিইইই বস। 

যাই মাঙ্গা পড়তে 

One Shot: ‘Bokura no Ibasho’- by মোঃ মাইদুল ইসলাম মাহি

Lovely Complex মাঙ্গা না পড়লেও অ্যানিমে প্রায় সবাইই দেখেছে, বিশেষ করে যাদের কমেডি-রোমান্স জানরা পছন্দ তারা তো অবশ্যই। এর লাইভ অ্যাকশন মুভিও রিলিজ হয় ২০০৬ এ। সেই মুভিতে Atsushi Otani চরিত্রে অভিনয় করেন Koike Teppei. এই ব্যক্তি একাধারে অ্যাক্টর আর সিঙ্গার। Eiji wentz আর তেপ্পেই এর ডুয়ো একসাথে WaT (Wentz and Teppei) নামে পরিচিত। 

কিন্তু ওয়ান শটের আলোচনায় এদের কথা কেন?? কারণ আর কিছুই না… এই ওয়ান শটের কাহিনী যে এদেরই নিয়ে! মাঙ্গাকা Nakahara Aya তার ‘Lovely Complex’ মাঙ্গার লাইভ অ্যাকশন মুভিতে অভিনয় করা এই তেপ্পেই এর জীবনের কাহিনী থেকেই ওয়ান শটটি তৈরি করেছেন। সে হিসেবে এই গল্প তেপ্পেই এর জীবন থেকে নেওয়া।

কাহিনী সংক্ষেপঃ 
ওসাকাতে পরিবার ফেলে টোকিয়োতে চলে আসে তেপ্পেই গায়ক হবার স্বপ্ন নিয়ে। এইজির সাথে তার বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। চারিত্রিক অনেক পার্থক্য থাকলেও মিউজিক নিয়ে দুইজনের একই ভালোলাগা, একই স্বপ্ন। কিন্তু তাদের স্বপ্নপূরণের পথটা মসৃণ হয় না। অনেক পরিশ্রম আর লেগে থাকাটাও বিফল হয়ে পড়ে। সেই অবস্থা থেকে কীভাবে এই দুইজন সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে তাইই এখানে দেখানো হয়েছে।

MAL Rating: 7.14
Personal Rating: 8
Suggestion Priority: High

আর্টওয়ার্ক ভালো লেগেছে। কাহিনীর ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। তবে একটাই চ্যাপ্টার হবার কারণে কাহিনী বেশ দ্রুতই শেষ। তেপ্পেই-এইজির কঠিন পরিশ্রমের দিনগুলি জানার জন্যে তা মোটেও যথেষ্ট না। আরও কিছু চ্যাপ্টার থাকলে খুশি হতাম। তবে সব মিলিয়ে অখুশি না।

[NB: এই ওয়ান শট যে ট্রু স্টোরি নিয়ে করা তা জানতে পারার মূল কৃতিত্ব MAL এ এর উপরে থাকা একমাত্র রিভিউটি। এজন্যেই মূলত এটা নিয়ে আগ্রহী হওয়া] 

Movie Time With Yami – 03

howl

 

Name: Howl’s Moving Castle/Hauru no Ugoku Shiro 
Duration: 1 hour 57 minutes 
MAL Score: 8.74 
Ranked: 33 

এটিও স্টুডিও জিবলীর মুভি, অসামনেসে ভরপুর!! 

মুভিটির কাহিনী হ্যাটশপের কাজপাগল কর্মী সোফিকে নিয়ে, সারাদিন কাজের মাঝে ডুবে থেকে যে আনন্দ খুঁজে পায়। সাজগোজের পরোয়া করেনা, কিন্তু তার এক ধরণের অগোছালো সৌন্দর্য রয়েছে। এক রাতে তার হ্যাটশপে এসে হাজির হয় ডাইনী। সোফির হ্যাটশপকে তুচ্ছ করে সে। সোফি তাকে চলে যেতে বললে ডাইনী ক্রুদ্ধ হয়ে অভিশাপ দেয় সোফিকে। ডাইনীর অভিশাপে অদ্ভুত এক পরিবর্তন আসে সোফির মাঝে। অভিশাপ কাটানোর জন্য বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে সে, এক জীবন্ত কাকতাড়ুয়ার পরামর্শে চড়ে বসে জাদুকর হাউলের চলন্ত দুর্গে। জাদুকর হাউল আর তার অদ্ভুত সঙ্গীসাথীদের নিয়ে এগিয়ে চলে কাহিনী। 

আমার কাছে এই মুভির যা ভাল লেগেছে; প্রথমত এই অদ্ভুত জুটির অদ্ভুত সম্পর্ক বেশ লেগেছে। আর হাউলের চলন্ত দুর্গ খুব মজার একটা জায়গা, দেখে মজা পেয়েছি। পছন্দ তালিকায় বেশ ওপরের দিকেই থাকবে এ মুভিটি। 

২০০৪ সালের নভেম্বর মাসে মুক্তিপ্রাপ্ত এ মুভিটি বিভিন্ন সময়ে দর্শক এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। এটি স্টুডিও জিবলীর অন্যতম ব্যবসাসফল মুভিগুলোর মাঝে একটি এবং অ্যাকাডেমী অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনয়নপ্রাপ্ত। 

সুতরাং, হাতে তেমন কোন কাজ না থাকলে এই উইকএন্ডেই দেখে ফেলতে পারেন চমৎকার এই মুভিটি। 

Movie Download Link – 
http://kissanime.com/Anime/Howl-s-Moving-Castle-Dub 

Movie time with Yami প্রচারিত হচ্ছে প্রতি বৃহস্পতিবার। সেগমেন্ট সম্পর্কে আপনার যেকোন মতামত কমেন্টে জানাতে ভুলবেন না। আশা করি মুভির সাথে আপনার উইকএন্ড ভালো কাটবে !!

শিকড়ের সন্ধানেঃ পর্ব ৫

আজকের নাতিদীর্ঘ এপিসোডে আলোচিত হচ্ছে ফেইট স্টে নাইট আর ফেইট জিরোর হলি গ্রেইল আর সেবার, গিলগামেশ আর বার্সার্কারের ঐতিহাসিক ও মিথিক্যাল ব্যাকগ্রাউন্ড।

(কনটেন্ট কারটেসিঃ বিখ্যাত এনিমখোর ফারসিম আহমেদ।)

আলোচিত এনিমেঃ ফেইট জিরো, ফেইট স্টে নাইট, আনলিমিটেড ব্লেইড ওয়ার্কস, কার্নিভাল ফ্যান্টাজম (প্যারোডি)

হলি গ্রেইলঃ 

হলি গ্রেইল আসলে কি সেটা নিয়ে অনেক ধরণের মত রয়েছে, কারো মতে এটা হলো পাত্র, কাপ যা দিয়ে যিশু কোন কিছু পান করতেন, আবার কারো মতে এ হলো সেই পাত্র যাতে সেইন্ট পিটার যিশুর রক্ত সংগ্রহ করেছিলেন। গ্রেইলের তাৎপর্য আর ক্ষমতা নিয়েও মতভেদ রয়েছে, ধারণা করা হয় এটি যেকোন রোগ নিরাময় করতে পারে, আবার যে কাউকে অমরত্ব দিতে পারে, আবার কোন এক লিজেন্ড অনুযায়ী হলি গ্রেইল যার কাছে থাকবে তার কোন অমঙ্গল সম্ভব নয়, খ্রিষ্টপর প্রথম শতক থেকেই গ্রেইল হান্টিং খ্রিষ্টান কমিউনিটির কাছে খুব জনপ্রিয় একটা ব্যাপার, কিং আর্থার আর তার বিখ্যাত নাইটরাও অংশ নিয়েছিল গ্রেইল কোয়েস্টে, অংশ নিয়েছিল ১২-১৩ শতকের দিকে হঠাৎ করে প্রভাবশালী হয়ে উঠা নাইট টেম্পলাররা।

কিছু মুভি যেখানে হলি গ্রেইলকে ফিচার করা হয়েছেঃ

দ্যা কোয়েস্ট অব দ্যা হলি গ্রেইল (১৯১৫)

মন্টি পাইথন এন্ড দ্যা হলি গ্রেইল, কমেডি মুভি (১৯৭৫)

এক্সক্যালিবার (১৯৮১)

সেইবার/ কিং আর্থার 

ফেইট স্টে নাইট- ফেইট জিরো এনিমের বিপুল আলোচিত সেবার, চোখ ঝলসানো রুপবতী দুর্ধর্ষ এই যোদ্ধার পাস্ট লিংকেজ হিসাবে এসেছে আর্থার, ‘দ্যা ওয়ান্স এন্ড ফিউচার’ কিং অব ইংল্যান্ড। ব্রিটোনিয়ান হিস্ট্রিতে প্রায় ৬০০ শতকে কিং আর্থারের লিজেন্ড পাওয়া যায়। অর্ধেক রোমান, অর্ধেক ব্রিটিশ রক্তের অধিকারী আর্থার রোমান সাম্রাজ্য পরবর্তী ব্রিটেনকে রক্ষা করেন স্যাক্সন আগ্রাসন থেকে। আর্থার আর তার দুঃসাহসী নাইটদের বীরত্ব, সাহসিকতা, মহানুভবতার গল্প ছড়িয়ে আছে ব্রিটেনের অলিগলিতে।

আর্থার আর বিখ্যাত তরবারী এক্স-ক্যালিবার (যা কোন আঘাতেই ভাঙ্গে না) মোটামুটি সর্বজনবিদিত, কিং আর্থার তার জ্ঞানী উপদেষ্টা (কোন বর্ণনায় ম্যাজিশিয়ান) মার্লিনের পরামর্শে রহস্যময় লেকে খুঁজে পান এই এক্স-ক্যালিবার, আর এর স্ক্যাবার্ড যেকোন আঘাতের বিরুদ্ধে শিল্ড হিসাবে কাজ করতে পারে। আর্থার সর্বমোট ১২টি যুদ্ধ জয়ে নেতৃত্ব দেন ব্রিটেনকে। তার সবচেয়ে ট্রাস্টেড নাইট ল্যান্সিলট আর আত্মীয় মরড্রেডের বিদ্রোহ দমনে গুরুতর আহত আর্থার, তখন তাকে একটি ভেলায় করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়, তারপর আর কেউ তার খোঁজ পায় নি, কেউ বলে তিনি মারা গেছেন, আর কেউ বলে আর্থার এখনো জীবিত, ব্রিটেনের ভবিষ্যত কোন দূর্যোগে আবার ফিরে আসবেন তিনি ব্রিটেনকে জয়ের পথ দেখাতে, তাই তাকে বলা হয় ওয়ান্স এন্ড ফরেভার কিং

কিন্ত ফিরে আসার সময় যে তিনি সেবারের মত পরমাসুন্দরী রুপে আসবেন সেটা কিন্তু কোথাও বলা হয় নি !!

কিং আর্থার নিয়ে কিছু মুভিঃ

এক্সক্যালিবার (১৯৮১)

কিং আর্থার (২০০৪)- খুব ভালো, দেখা উচিত…

কেমেলট (টিভি সিরিজ, ২০১০)

লিজেন্ড অব কিং আর্থার (টিভি সিরিজ ১৯৭৯)

সিজ অব দ্যা সেক্সন্স (১৯৬৩)

দ্যা লাস্ট লিজিয়ন (২০০৭)

বার্সারকার/ হারকিউলিসঃ 

সম্ভবত আমাদের সবাই কমবেশি শুনেছি হারকিউলিসের নাম, মিথ, নাটক, মুভি, সিরিয়াল, গেইম বিভিন্নক্ষেত্রে অতি জনপ্রিয় শক্তিমত্তা আর বীরত্বের প্রতীক এই গ্রিক ডেমিগডকে তুলে আনা হয়েছে ফেইট স্টে নাইটের বার্সারকাররুপে…

হারকিউলিস মূলত গ্রীক ডেমিগড হেরাক্লসের রোমান নাম, কুইন অব আরগসের গর্ভে জন্ম নেওয়া দেবতাপুরী অলিম্পাসের অধিপতি বজ্রদেব জিউসের সর্বশেষ মনুষ্য সন্তান, অপ্রতিদ্বন্দ্বী শারীরিক শক্তির জন্য বিখ্যাত। হারকিউলিসের সর্বপ্রথম লিজেন্ড ছিল সম্ভবত কুখ্যাত মানুষখেকো নেমিয়ান লায়নকে খালি হাতে দমন করা, এছাড়াও হারকিউলিসের আছে বিখ্যাত ১২ লেবার (১২ টি কোয়েস্ট) যার মধ্যে অন্যতম হলো বহুমাথাওয়াল দানব হাইড্রা আর ভয়ংকর মিনাটর নিধন।

বার্সারকার চরিত্রে যেভাবে দেখানো হয়েছে হারকিউলিস তেমনই মাথামোটা, বদরাগী ছিল, তার বেশিরভাগ দুর্ভোগের কারণ তার বদমেজাজ আর বুদ্ধিশুদ্ধির অভাব, তবে বন্ধুবাৎসল আর মহানুভব হিসাবেও তার পরিচিতি রয়েছে। হারকিউলিস একমাত্র ডেমিগড যে মৃত্যুর পর পূর্ণ দেবতার স্থানে অধিষ্ঠিত হয়।

হারকিউলিসের কিছু মুভি ও টিভি সিরিজঃ 

হারকিউলিস ইউনিভার্সাল টেলিভিশন মুভিস (৫ টা মুভি, ১৯৯৪)

হারকিউলিস (১৯৯৭)

লিজেন্ড অব হারকিউলিস (২০১৪)

দ্যা লিজেন্ডারি জার্নিস অব হারকিউলিস (টিভি সিরিজ, ১৯৯৮)

ইয়াং হারকিউলিস (টিভি সিরিজ, ৯৮-৯৯)

গিলগামেশ/দ্যা কিং অব হিরোসঃ 

গিলগামেশ, ফেইট সিরিজের অন্যতম প্রভাবশালী চরিত্র কিন্তু সরাসরি গ্রীক-এশিয়ান মিথ থেকে এসেছে, খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে রাজত্ব করা উরুকের (ব্যবিলন, বর্তমান ইরাক-দামেস্ক-সিরিয়া) রাজা। কথিত আছে, গিলগামেশ পুরো পৃথিবী জুড়ে তার রাজত্বকে সম্প্রসারিত করতে পেরেছিল, ইসলামী হিস্ট্রিতে একই টাইমলাইনে এরকম এক অত্যাচারী পুরো পৃথিবীর রাজা বখত-নসরের (কিংবা নমরুদ) উল্লেখ পাওয়া যায় যার সাথে খুব মিলে যায় এই গিলগামেশের।

গিলগামেশ আসুরিক শক্তির অধিকারী, তীব্র অহংকারী ও অত্যাচারী রাজা ছিল, তার অত্যাচারের নমুনা বলতে গেলেঃ উরুকের সমস্ত তরুণদের ধরে এনে বাধ্যতামূলক অসহ্য কায়িক পরিশ্রম করাত সে, আর তরুণীদের বিয়ের রাতে তার সাথে থাকতে হত, দেব-দেবীদের ও মানত না সে। দেবতারা তাকে শায়েস্তা করার জন্য পাঠান বনমানুষ এনকিদোকে, কিন্তু প্রচন্ড যুদ্ধের পর এনকিদো গিলগামেশের সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হয়, দু’জনে মিলে তারা বেরিয়ে পড়ে ভয়ংকর সব এডভেঞ্চারে, এর মধ্যে রয়েছে বুল অব হেভেন আর বনের অপদেবতা শামাস দমন।

ঘটনাক্রমে এনকিদো মারা গেলে গিলগামেশ শোকে অভিভূত হয়ে পরে, সে সমস্ত রাজত্ব-অহংকার-সৈন্যসামন্ত ছেড়ে বেরিয়ে পড়ে জীবনের অর্থ অন্বেষণে আর অমরত্বের খোঁজে (এইখানে আবার আরেক পৃথিবীবিজয়ী সিকান্দার জুলকারনাইনের সাথে মিল রয়েছে), কিন্তু দীর্ঘ সাধনার পরও অমরত্বের সন্ধানে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ১২৬ বছর রাজত্ব করার পর মারা যায় গিলগামেশ।

সমসাময়িক সমস্ত বীরদের চাইতে বেশি শক্তিশালী ছিল গিলগামেশ, আর সব ধনীর ধন এক করলেও তার সমান হত না, তাই তাকে বলা হয় কিং অব হিরোজ…।

 

Yami Shibai-(Anime Suggestion)- by Fuad Hassan

অ্যানিমেই সাজেশন :

আপনারা যারা মিথ, রুমর, হরর স্টোরি অথবা জাপানিজ আরবান লেজেন্ড পছন্দ করেন তারা এই সিসনে ফলো করতে পারেন 4 minutes duration er ‘Yami Shibai 2nd Season’ (http://myanimelist.net/anime/22537/Yami_Shibai_2nd_Season). এর 1st season হচ্ছে Yami Shibai (http://myanimelist.net/anime/19383/Yami_Shibai), 13 টা এপিসোড এর এই ছোট সিরিসের প্রতিটা পর্ব মাত্র 4 minutes duration এর।

Yami Shibai কাহিনিসংক্ষেপ :

প্রতিদিন বিকাল ৫ টার সময় একটা লোক সাইকেলে করে ছোট ছেলেমেয়েদের প্লেগ্রাউন্ডে আসে ভূতের গল্প বলার জন্য । এই গল্প ‘কামিকিবাশি’ (Kamikibashi) এর আকারে বলা হয়। কামিকিবাশি হচ্ছে পেপার ফিগার আর স্ক্রল ব্যবহার করে গল্প বলার জাপানিজ ট্র্যাডিশনাল টেকনিক। সিরিসটা এপিসোডিক, প্রতিটা এপিসোডেই নতুন গল্প। অ্যানিমেশন টাও ‘কামিকিবাশি’ টাইপ এর। মাত্র ৪ মিনিট এর এপিসোড একটা দেখলেই বুঝতে পারবেন। কাহিনিগুলাও যথেষ্ট ভয়ের, সাউন্ড এফেক্ট ও ভালো। অ্যানিমেশন টা বেশ ডার্ক, এইটার সাথে কাহিনি বলার স্টাইল আর সাউন্ড এফেক্ট মিলিয়ে বেশ ভালো একটা ভৌতিক আবহ সৃষ্টি করে। প্রতিটা কাহিনি ই বেশ ইন্টারেস্টিং একবার শুরু করলে না শেষ করে উঠতে ইচ্ছা করবে না। এন্ডিং সং টাও বেশ ক্রিপি, সং টা হাতসুনে মিকু (ভোকাল সিনথেসাইযার) দিয়ে করা।

MAL rating: 7.19
আমার rating : 8
MAL link: http://myanimelist.net/anime/19383/Yami_Shibai

15

 

ড়িভিউঃ Pokemon Origins – by Zakaria Mehrab

ইহাকে রিভিউ বলিলে রিভিউ এর অপমান হইবে , তাই আমি ইহাকে বলছি ড়িভিউ । ইহাই আমার প্রথম (এবং হোপফুলি শেষ) ড়িভিউ , তাই আশা করি ক্ষমাসুন্দর ও সুন্দরী দৃষ্টিতে দেখিবেন

ড়িভিউঃ Pokemon Origins

আপনি কি একজন দুর্ভাগা পোকেমন ফ্যান? জন্ম জন্মান্তর থেকে রিপিট হওয়া এপিসোড, এশ কেচাম এর বলদামি এবং হিন্দি মেগাসিরিয়াল কে হার বানানো এক একটি আর্ক দেখতে দেখতে আপনার “ছাইড়া দে মা কাইন্দা বাচি” অবস্থা ? তাহলে আপনার, হ্যাঁ আপনার জন্যই Production I.G., Xebec এবং OLM Inc. বানিয়েছে পোকেমন অরিজিন । মূলত নিনটেনডো এর পোকেমন ফ্র্যাঞ্চাইজি ; মেইনলি পোকেমন রেড এন্ড ব্লু গেম এর কাহিনী অবলম্বন এ বানানো এই আনিমে (মতান্তরে ওভিএ) মাত্র ৪ এপিসোড এর ; জি হ্যাঁ , ভুল পড়েননি , মাত্র চার এপিসোড এ পোকেমন এর একটি আর্ক সমাপ্ত করে তারা দেখিয়ে দিয়েছে অনন্ত জলিল বাদ এ আরও অনেকেই অসম্ভব কে সম্ভব করার ক্ষমতা রাখেন । ৪টি এপিসোড এর প্রত্যেকটি ভিন্ন ভিন্ন পরিচালক কর্তৃক পরিচালিত ।

বরাবরের মত কাহিনী শুরু হয় মাথায় ছিট ওয়ালা এক প্রফেসর এর বুড়ো বয়সের ভীমরতি কে কেন্দ্র করে, তার একদিন শখ হয় সকল বন্য জীবজন্তুর উপর তথ্য সংগ্রহ করার , এ জন্য সে নিয়োগ দেয় পাড়ার ছোটা মস্তান লাল মিয়া এবং তার নাতি নিলু আহমেদ কে , শুরু হয় চরম (এহেম) উত্তেজনাপূর্ণ, রোমাঞ্চকর এক অভিযান । এদিকে তাদের কাজে বাধা দেয়ার জন্য রয়েছে কুখ্যাত পোচার গ্রুপ রকেট সংঘ , লাল মিয়া কি ফাইরবে সকল বাধা অতিক্রম করে ন্যাশ্নাল হিরু হইতে ?? ফাইরবে কি সে বন্য প্রাণী ধরিয়া ধরিয়া তাহার টেনিস বলের স্টক শেষ করিতে ? জানতে হইলে আর দেরি না করে এখন ই মাত্র ৪ টি এপিসোড ডাউনলোড করে দেখা শুরু করে দিন পোকেমন অরিজিনস ।

এ প্রসঙ্গে বলে রাখি , আপনি যদি মাথা খাটানো এবং অপূর্ব সব কৌশল এ পরিপূর্ণ ব্যাটল উপভোগ করতে চান তাহলে আপনাকে হতাশ হইতে হবে , এখানে সবকিছুই হইবে হার্ডকোর ; ধুমধাড়াক্কা এবং বাংলা সিনেমা হইতে অনুপ্রাণিত, ঐখানে ছেলে মেয়ে গান গাইতে গাইতে স্কুল কলেজ ভার্সিটি পার হইয়া যায় , আর এইখানে লাল মিয়া বাইক দিয়া যাইতে যাইতে হয়ত দুই তিন টা জিম জিতিয়া ফালাইছে, এক দুইটা ঘুষিতেই হয়ত অপোনেনট এর পোকেমন কুপোকাত করিয়া লাইছে । আবার আপনি যদি জেসি এবং জেমস এর বেশ বড় ভক্ত হইয়া থাকেন তাইলেও এই জিনিস আপনাকে শান্তি দেবে না । তবে গেম এর সবচেয়ে মেমরেবল মুহূর্তগুলো আমার মতে ভালভাবেই ফুটে উঠেছে ৪টি এপিসোডে । সবদিক বিবেচনা করে বলতে পারি “দেইখা ফালান , কি আকা গেবনে“ ? ভালো লাগার ই কথা , না লাগলেও সমস্যা নাই, ৪ টা এপিসোড ই তো !! আপনার ফিল যাতে ওভারলোড না হইয়া যায় সেই দিক বিবেচনা করেই স্টুডিও তিনটি ডিসিশন নিয়ে নিয়েছে যে তারা আর পঞ্চম কোন এপিসোড বানাচ্ছে না

MAL babaji’s rating: 8.07
personal rating: 7.0

এক ঢিলে দুই- (Shounen Anime Suggestion)- by Mohaimenul Haque

Ao no exorcist (blue exorcist)

যারা টিভি সিরিজ দেখেন তাদের কাছে Winchester ভ্রাতৃদ্বয়কে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই । ভুত, দানো , ঘউল , ডিমনদের বিরুদ্ধে তাদের নায়কোচিত লড়াই এবং একই সাথে নিজেদের ভ্রাতৃত্ববোধের টানাপড়েন নিয়ে বানানো এই সিরিজ যারা দেখেছেন তারাই জানেন কি আকর্ষণ ছিল এর মধ্যে । এনিমে জগতে প্রায় তেমন গল্প নিয়েই বানানো হয়েছে ao no exorcist এবং শোনেন এনিমে হিসেবে চমৎকার । প্রথম দিকের পর্ব গুলো যেন supernatural এর স্মৃতিকেই ফিরিয়ে আনছিল । সাথে স্কুল লাইফ যুক্ত হয়ে হ্যারি পটারের কথাও মনে করিয়ে দিচ্ছিল ।
মূল চরিত্র satan এর ছেলেরা । কিন্তু তারা অর্ধেক মানুষও বটে । তাদের যুদ্ধ satan এর বিরুদ্ধে , আবার তাদেরকে সকলের বিশ্বাসও অর্জন করতে হবে । satan এর ছেলে হওয়ায় তাদের প্রতি আছে সবারই অবজ্ঞা । FMAB এর মত এখানেও আছে দুই ভাইয়ের সম্পর্কের রসায়ন (অবশ্যই সেভাবে তুলনীয় নয়) ।
Rin Okumura ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দের চরিত্র । অন্যান্য চরিত্র গুলোও ভালো লেগেছে । Winchester ভাইয়েরা যেমন হান্টার , okumura ভাইরা হল exorcist . বাকি কাহিনী অনেকটাই এক । শেষের দিকে মনে হয় কিছুটা inuyasha র ছোঁয়াও পেয়েছি ।

Buso renkin

Nobuhiro watsuki নামটার জন্যই buso renkin দেখার একটা সুপ্ত ইচ্ছা ছিল । animax এ একসময় দেখাত , কিন্তু তখন কোন কারণে পুরোটা দেখা হয়নি । মাঝে মাঝে দু’ একটা এপিসোড দেখে ভালই মনে হচ্ছিল । এপিসোড সংখ্যা বেশি না হওয়ায় ডাউনলোড করে ফেললাম এবং প্রথম পর্ব দেখার পর অনুভূতি “নাহ! পটেনশিয়াল আছে ।”
একটা শোনেন এনিমের মধ্যে আপনি কি আশা করেন ? অবশ্যই একজন আদর্শ শোনেন । তাহলে আমার কথা বিশ্বাস করুন এই এনিমের protagonist Kazuki muto একজন আদর্শ শোনেন । নিজের জীবন দিয়ে হলেও সে রক্ষা করবে পৃথিবীকে , তার বন্ধুদেরকে , কোন বিপদই সে গ্রাহ্য করে না , চরম শত্রুকেও পরিণত করে মিত্রতে !!! shounen এনিমেতে যা যা থাকা দরকার তার সবই পাবেন এখানে ।সাথে আছে মিষ্টি মধুর romance এর ছোঁয়া ।আর কাজুকি মুটো আমার প্রিয় চরিত্র তো বটেই ।

দুটো এনিমেরই পরিণতি দেখে হতাশ । blue exorcist এ আন্দাজ করতে পারছিলাম কি হবে । তারপরও ডিমন-মানুষের প্রেম , দুই জগতের শান্তি পূর্ণ সহাবস্থান,satan এর মানবিক অনুভূতি – এগুলো আর কতকাল ?
Buso renkin এ একটা শক্তিশালী ভিলেন চরিত্রের অভাব বোধ করেছি । আমার কথা ভুল বুঝবেন না ।এই এনিমেতেই এনিমে জগতের অন্যতম powerful (literally speaking!! ) চরিত্র দেখান হয়েছে – একদম supreme being বলতে যাকে বোঝায় । কিন্তু শুধু গায়ের জোরে কি আর ভিলেন হওয়া যায় ?

আর কথা বাড়িয়ে লাভ কি ? Shounen genre যদি আপনি পছন্দ করেন তবে এক্ষনি দেখতে বসে পড়ুন ।