“অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক দেশে ছিল এক লক্ষ্মী মেয়ে। তার নাম সিন্ডারেলা। সিন্ডারেলার বাবা তাকে খুব ভালবাসত। তাই তিনি ব্যবসার কাজে দূরে গেলে যেন সিন্ডারেলার অসুবিধা না হয়, সে জন্যে সিন্ডারেলার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা আবার বিয়ে করেন। এতে সিন্ডারেলা একজন সৎমা ও দুজন সৎবোন পায়। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস! বাবা দূর দেশে যাওয়ার পর সিন্ডারেলার সৎমা ও বোনেরা তাকে খুব অত্যাচার করা শুরু করল ….”
কি ভাবছেন? ওয়াল্ট ডিজনির সিন্ডারেলার কাহিনী এখানে কেন বলছি? তার কারণ হল, ওয়াল্ট ডিজনির চিরায়ত কাহিনী অবলম্বনে নব্বইয়ের দশকের তৈরি হয়েছিল চমৎকার একটা আনিমে। ছাব্বিশ পর্বের এ আনিমের নাম “সিন্ডারেলা মনোগাতারি”।
শুরুতেই মাই আনিমে লিস্ট থেকে কিছু অগুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেই-
Aired: Apr 4, 1996 to Oct 3, 1996
Genres: Adventure, Fantasy, Romance
Score: 7.52
Ranked: 1357
Episodes: 26
কাহিনীর শুরুটা সবারই জানা। শুধু সূচনা নয়, কাহিনীর আদ্যোপান্ত প্রায় সবকিছুই আসলে ওয়াল্ট ডিজনির কল্যাণে সবারই জানা। এ কারণে এই আনিমেটা চোখের সামনে পড়লেও হয়ত অনেকেই দেখতে আগ্রহী হননি। কিন্তু মনোগাতারির মাহত্ত্ব্য এখানেই। শুরুটা হয় প্রচলিত গল্পের মত করেই। এরপর ২য় এপিসোড থেকেই মোড় ঘুরে যায় দারুণভাবে। কখনো কি এই প্রশ্নটা মাথায় এসেছে; আচ্ছা, সিন্ডারেলাকে যে ওর সৎমা তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করে দিল, এরপর প্রিন্স চার্মিংকে এসেই কেন তাকে উদ্ধার করতে হবে? নিজের দুরবস্থা থেকে মুক্তির উপায় কি নিজেই খুঁজে নেয়া সম্ভব নয়? ঘরের কাজের মাঝে বা যে দুরবস্থাই হোক, তার মাঝে কি আনন্দ খুঁজে নেয়া যায়না? কিংবা জুতার মাপই কেন হবে একজন মানুষের জীবনসঙ্গী নির্ধারণের মাপকাঠি?? রাজকুমারের কি ভালবাসার অধিকার নেই? কেন এক রাতের সুন্দরী নাচের সঙ্গীকেই বাকি জীবনের সঙ্গী বানাতে হবে?
এই সব প্রশ্নের উত্তর আনিমেটি খুব সুন্দরভাবে দিয়েছে। রূপকথার গল্পের গতানুগতিক পথ অবলম্বন না করে আনিমেটি দেখিয়েছে, সিন্ডারেলার আত্মসম্মান কতটা মজবুত এবং সে কতটা বাস্তববাদী একটা মেয়ে। আরও দেখিয়েছে, রাজকুমার মানেই সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না আসা বিলাসিতায় মেতে থেকে জীবন কাটানো অকর্মণ্য ব্যাক্তি নয়। আমাদের গল্পের রাজকুমার তার প্রাসাদের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থেকে প্রজাদের সাথে দূরত্ব সৃষ্টি করে বসে থাকেনা।
সিন্ডারেলার সৎমা তার কাছ থেকে সব সুযোগ সুবিধা কেড়ে নেয়। তাতে দমে যায়না সে। বরং তার সামনে আসা চ্যালেঞ্জকে হাসিমুখে মোকাবেলা করতে বদ্ধপরিকর হয়। তাকে সাহায্য করার জন্যে তার “ফেইরি গডমাদার” মিস পল তার পোষা প্রাণীগুলোকে কথা বলার ক্ষমতা দিয়ে দেন। তাদের সাথে নিয়ে সিন্ডারেলা প্রতিদিন তার সৎমার তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার আশায় ধুলো দিয়ে প্রতিটা কঠিন কাজ সঠিকভাবে করে যেতে থাকে।
রাজকুমার চার্লস। “পান্না মহল” (Emerald Castle) এ তার বাস। রাজার একমাত্র সন্তান এবং উত্তরাধিকারী। তাকে রাজ্য পরিচালনার জন্যে তৈরি করে তুলতে রাজার চেষ্টার অন্ত্য নেই। অসিচালনায় রাজকুমারের তুলনা নেই। একদিন বন্ধু অ্যালেক্সকে রাজকুমার জানায় তার মনের কথা। এভাবে গতানুগতিক পথে শিখতে তার ভালো লাগছে না। যে রাজ্যটায় সে একদিন রাজত্ব করবে, সেই রাজ্যটাকে সে কাছ থেকে দেখতে চায়। রাজ্যের মানুষদের চিনতে চায়। আর তাই অ্যালেক্সের পুরনো কাপড় ধার নিয়ে প্রহরীদের ফাঁকি দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ছদ্মবেশী চার্লস বেরিয়ে পড়ত রাজ্য পরিদর্শনে।
এভাবে শহরে ঘুরতে ঘুরতে একদিন রাজকুমারের দেখা হয়ে যায় সিন্ডারেলার সাথে। বিভিন্ন ছোট ছোট ঘটনার মাধ্যমে আস্তে আস্তে তাদের দুজনের মাঝে বন্ধুত্ব সৃষ্টি হয়।
তারা দুজন একসাথে বিভিন্ন মজার এবং ইন্টারেস্টিং ঘটনার মধ্য দিয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা বাড়াতে থাকে। সিন্ডেরেলার অসুস্থতার সময় যেমন চার্লসকে ঘরের কাজ করা শিখতে হয়, তেমনি চার্লস সিন্ডারেলাকে শেখায় অসিচালনা।
সবশেষে বলব, যদি গতানুগতিক কাহিনীর বাইরের একটি রূপকথা দেখার ইচ্ছা থাকে, তাহলে এই আনিমেটি দেখে ফেলতে পারেন।























