Sakib’s Hidden Gems – Episode #36

আনিমে: Koto Aitheria no Izakaya Nobu (Isekai Izakaya: Japanese Food From Another World)

জানরা: ইসেকাই, স্লাইস অফ লাইফ
এপিসোড সংখ্যা: ২৪ (১৪ মিনিটের এপিসোড)
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/34420/Isekai_Izakaya__Koto_Aitheria_no_Izakaya_Nobu
 
জাপানের কিয়োতোতে আছে “ইযাকায়া নোবু” নামের একটি পানশালা। এর দায়িত্বে আছে অভিজ্ঞ মাস্টার শেফ নোবু, আর সুন্দরী পরিচারিকা শিনোবু। বাইরের দিক থেকে সবই সাধারণ লাগলেও এই পানশালার পিছনের দরজা দিয়ে নাকি চলে যাওয়া যায় অন্য আরেক জগতে! গল্পের একেকটি পর্বে ঐ অন্য জগত থেকে ভিন্ন ভিন্ন খদ্দের আসে পান করতে, আর সাথে সুবিধামত হাল্কা খাওয়াদাওয়া করতে। ইযাকায়া নোবু ওদের কখনো হতাশ করে না। একেকটি পর্বে একেক রকম সুস্বাদু খাওয়া ও তার রেসিপি আমরা পেয়ে যাই।
 
আনিমেটির ভিজুয়াল ও ক্যারাক্টার ডিজাইন যথেষ্ট ভালো। বেশ হাসিখুসির একটা আমেজ বজায় থাকে। সুস্বাদু খাবার গুলো দেখে জিভে জল এসে যায়। আর একটা ইন্টারেস্টিং দিক হলো, গল্পের শেষে একটা লাইভ একশন পার্ট থাকে। সেখানে জাপানের যেকোন একটা বারে নিয়ে যাওয়া হয়। গল্পে দেখানো ডিশটি সেখানে দেখানো হয়। কোন কোন সময় তার প্রস্তুত প্রণালীও জানা যায়।
 
আপনি যদি ভোজনরসিক হন, বা জাপানের বারের প্রতি যদি আগ্রহ থাকে, বা স্রেফ হাল্কা স্বাদের ছোটখাট আনিমের খোঁজে থাকেন, তাইলে এই আনিমেটি চেখে দেখতে ভুলবেন না যেন।
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #35

আনিমে: Layton Mystery Tanteisha: Katri no Nazotoki File

জানরা: মিস্টেরি, কমেডি
এপিসোড সংখ্যা: ৫০
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/37023/Layton_Mystery_Tanteisha__Katri_no_Nazotoki_File
 
এপিসোডিক এই ডিটেকটিভ আনিমেটির কেন্দ্রীয় চরিত্র হল প্রখ্যাত গোয়েন্দা প্রফেসর লেইটন এর মেয়ে কাত্রিয়েল লেইটন। কাত্রিয়েল যখন ছোট, তখন ওর প্রিয় বাবা এক জটিল রহস্যের সমাধান করতে গিয়ে নিরুদ্দেশ হন। বাবার অনুপস্থিতিতে ওনার ডিটেকটিভ এজেন্সির দায়ভার কাঁধে তুলে নেয় কাত্রিয়েল। তার সহকারি নোয়াহ মিলে ও একের পর এক রহস্যের সমাধান করে। আর একই সাথে নিরুদ্দিষ্ট বাবার সন্ধান করে।
 
গল্পের রহস্যগুলির মান বেশ ভালো। যুক্তির প্রয়োগ ঠিকঠাক, আর ফাঁকফোকর চোখে পড়ে না বললেই চলে। প্রতিটি এপিসোডের মধ্যে দর্শকদের ক্লু দেওয়া হয়, যাতে কাত্রিয়েলের সাথে ওরাও নিজে নিজে সমাধানের সুযোগ পায়। আর চেষ্টা করলে কিন্তু অনেকগুলি নিজে থেকে পারাও যায়।
 
আনিমেটাতে আগাগোড়াই একটা হাল্কা ও মজার আমেজ বজায় রাখা হয়েছে। আর্টস্টাইল দেখলে ওয়েস্টার্ন কার্টুনের কথাই মনে পড়ে বেশি। আর নায়িকা কাত্রিয়েল খুব মনকাড়া ও মজাদার চরিত্র। স্বনামধন্য ভয়েস এক্টর কানা হানাযাওয়ার কণ্ঠে চরিত্রটি বিশেষভাবে প্রাণ পেয়েছে।
 
হাল্কা স্বাদের আনিমে বা ভালো ডিটেকটিভ আনিমের খোঁজে থাকলে এটা ট্রাই মেরে দেখতে পারেন।
 
Layton
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #34

আনিমে: Aria

জানরা: স্লাইস অফ লাইফ, ফ্যান্টাসি, সাইফাই
এপিসোড সংখ্যা: ১৩ + ২৬ + ১ + ১৩ + ১ = ৫৪
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/477/Aria_the_Animation
 
দূর ভবিষ্যতের কথা। “ম্যান-হোম” এ (মানে এখনকার পৃথিবী) বসবাসকারী মানুষেরা “অ্যাকুয়া” (মানে মঙ্গল গ্রহ) কে বসবাসের উপযোগী করেছে। পানিতে টলমল আকুয়ার একটি শহর হল “নিও-ভেনেযিয়া”, যা মূলত ইতালির ভেনিস শহরের আদলে নির্মিত। ম্যান-হোম থেকে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মিযুনাশি আকারি নিও-ভেনেযিয়াতে এসেছে। সে এখানে একজন “প্রিমা উন্ডিনে” (মানে ছোট নৌকা বা গন্ডোলা চালক) হতে চায়। তো সেজন্য সে আলিসিয়া নামক এক প্রফেসনাল উন্ডিনের কাছে প্রশিক্ষণ নেয়। ওর একজন প্রফেসনাল উন্ডিনে হয়ে উঠা নিয়েই গল্প।
 
এই এপিসোডিক আনিমেটি মূলত ইয়াশিকেই বা Healing Anime এর কাতারে পড়ে। বেশ ধীরলয়ের ও মনোরম এই আনিমেটি সারাদিনের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। আকারি ও ওরই মত শিক্ষানবিশ উন্ডিনে আইকা ও অ্যালিসের সাথে আমরাও অ্যাকুয়ার কোলাহলমুক্ত ও মধুর পরিবেশটা উপভোগের সু্যোগ পাই। মনমুগ্ধকর ওএসটি শুনে মনটা কেমন উদাস হয়ে যায়। আর খুব সুন্দরভাবে ডেভেলপ করা চরিত্রগুলিকে একান্ত আপন বোধ হয়। গল্পের ফাঁকে বেশ কিছু লাইফ লেসন ওয়ালা সংলাপ ও আছে – যা শুনলে ভালো লেগে যায়।
 
ব্যস্ততার ফাঁকে, অন্য আনিমে দেখার ফাঁকে এক-দুইটা এপিসোড করে দেখবেন। আশা করি ভালো লাগবে।
[দেখার সিরিয়ালঃ Aria the Animation -> Natural -> Arietta -> Origination -> Avvenire]
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #33

আনিমে: Saraiya Goyou (House of Five Leaves)

জানরা: ড্রামা, হিস্টোরিকাল, সেইনেন, সামুরাই
এপিসোড সংখ্যা: ১২
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/7588/Saraiya_Goyou
 
সামুরাই যুগের কাহিনী। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আকিতসু মাসানোস্কে নামের এক সামুরাই। ও খুব ভালো তলোয়ারবাজ। কিন্তু তবুও ও যারই দেহরক্ষী হতে যায়, সে-ই ওর অত্যন্ত মুখচোরা স্বভাবের জন্য বিরক্ত হয়ে ওকে চাকুরিচ্যুত করে। জীবিকার সন্ধানে হন্যে হয়ে পড়ে মাসানোস্কে শেষে ইয়াইচি নামক এক রহস্যময় লোকের দেহরক্ষী হয়। কিন্তু পরে সে জানতে পারে যে, ইয়াইচি হল Five Leaves নামক এক দুর্বৃত্ত দলের লিডার। ওরা মূলত সমাজের উচ্চস্তরের কিন্তু খারাপ লোকদেরকে টার্গেট করে পয়সা কামায়। কিন্তু সেটা জেনেও মাসানোস্কে ইয়াইচিকে না করতে পারে না, কারণ সে একবার কথা দিয়ে ফেলেছে। এরপর সে Five Leaves দের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে।
 
সেটিং ইউনিক হলেও বেশ সোজাসাপ্টা। আসলে গোটা আনিমেটাই সোজাসাপ্টা। একটা শান্ত, স্নিগ্ধ আবেশ পাওয়া যায় এই আনিমেটি দেখলে। ব্যাকগ্রাউন্ড আর্ট খুবই সুন্দর, চোখে লেগে থাকে। চরিত্রগুলিও যেন পরিবেশের সাথে নিপুণভাবে মিশে যায়। সাউন্ড খুবই আরামদায়ক। সামুরাইদের গল্প মানেই যে মারমার কাটকাট নয়, ওদেরকে নিয়েও যে একটি শান্ত ও মধুর পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় – তা এই আনিমেটি দেখলে বোঝা যায়।
 
ধীরলয়ের ও আরটিস্টিক একটি শো-এর অভিজ্ঞতা পেতে চাইলে এটি চেখে দেখতে পারেন। আশা করি নিরাশ হবেন না।
 
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #32

আনিমে: Uchuu Kyoudai (Space Brothers)

জানরা: স্পেস, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন, সাইফাই, কমেডি
এপিসোড সংখ্যা: ৯৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/12431/Uchuu_Kyoudai

মুত্তা ও হিবিতো দুই ভাই। ছোটবেলা থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া। এডভেঞ্চার প্রিয় দুভাই সুযোগ পেলেই এখানে সেখানে চলে যেত, আর পরিবেশ ও প্রকৃতিকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করত। তো এক রাতে এইরকমই এক অভিযানে তারা হঠাত করে আকাশে এক অদ্ভুত উড়ন্ত বস্তুর (ইউএফও) দেখা পেল। সেটি কয়েক পাক ঘুরে সাঁই করে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। তাই দেখে ডানপিটে স্বভাবের হিবিতো হুট করে বলে বসে, “আমি বড় হয়ে নভোচারী হব, চাঁদের মাটিতে পা রাখব।”। একই সাথে মুত্তাও হয়তো এমন কিছুই ভাবছিল। কিন্তু বড় ভাই হিসেবে মুত্তা সবসময় চাইতো ছোট ভাইয়ের চাইতে এগিয়ে থাকতে, আর তাকে পথ দেখাতে। তাই সে বলে বসে, “আমি মঙ্গল গ্রহে যাবো”।

সময় যায়, ওরা বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু ছোটবেলার স্বপ্ন কী আর পূরণ হয় সবার? হিবিতো যেখানে নভোচারী হয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে গমন করছে, সেখানে মুত্তা একটা অটোমোবাইল কোম্পানিতে চাকুরি করছে। আর সেখান থেকেও নিজেরই ভুলে বিতাড়িত হয়ে এখন সে বেকার। ও কী পারবে নিজের জীবনকে বদলে দিতে? ও কী পারবে হিবিতোর “বড় ভাই” হতে? ও কী পারবে নিজের আসল স্বপ্ন পূরণ করতে?

আনিমেটির প্রোডাকশন ভ্যালু বেশি। মানে অডিও-ভিজুয়াল চমকপ্রদ। ওএসটির ব্যবহারও ঠিকঠাক। পেসিং যথাযথ। তবে শেষমেশ এর গল্পটাই এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একেবারে শুন্য থেকে কীভাবে একজন নভোচারী হয়ে উঠা যায়, তা এই আনিমেতে সময় নিয়ে ও যত্নের সাথে বাস্তবসম্মতভাবে দেখিয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র ছাড়াও পার্শ্বচরিত্র গুলিকেও ভালো লেগে যায়। ওদের সুখ দুঃখের সমব্যথী হওয়া যায়। এছাড়া আনিমেটির কমেডিক মুহূর্তগুলিও বেশ মজাদার।

সবাইকে আমি এই আনিমেটি সাজেস্ট করলাম। আর পরের গল্প জানতে মাঙ্গা পড়তে পারেন।

Sakib’s Hidden Gems – Episode #31

আনিমে: Kareshi Kanojo no Jijou (Kare Kano, His and Her Circumstances)

জানরা: শৌজো, রোমান্স, কমেডি, স্কুল, স্লাইস অফ লাইফ
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/145/Kareshi_Kanojo_no_Jijou
 
 
গল্পের কেন্দ্রবিন্দু হল হাইস্কুলের প্রথম বর্ষের ছাত্রী ইউকিনো মিয়াযাওয়া। একদম ছোটবেলা থেকেই ওর শখ হল সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা আর সবার প্রশংসা কুড়ানো। এর জন্য সে দিনরাত খেটে একই সাথে লেখাপড়া ও সিলেবাসের বাইরে অন্যান্য কাজে নিজেকে গড়ে তুলেছে। সে স্কুলের সবার সামনে একজন আদর্শ ছাত্রীর ইমেজ রক্ষা করে চলে, আর বাসায় আসলে তা ঝেড়ে ফেলে। তো এইসময় হঠাত করে ওর সামনে উপস্থিত হয় আরেকজন “আদর্শ ছাত্র” আরিমা সৌইচিরৌ। আরিমার কাছে পরীক্ষায় প্রথম স্থান হারিয়ে ইউকিনো রেগেমেগে আরও বেশি করে পড়াশুনো করতে থাকে ও পরের পরীক্ষায় ঠিকই প্রথম স্থান দখল করে। কিন্তু তার প্রত্যাশার বিপরীতে আরিমা হাসিমুখে তাকে অভিনন্দন জানায়। এভাবেই ইউকিনোর কাছে আরিমা বেশ কৌতূহলের বস্তু হয়ে ওঠে। কিছু সময় পর ঘটে আরেকটি ঘটনা – আরিমা ইউকিনোর কাছে কনফেস করে বসে! আবার ইউকিনোর অসাবধানতায় আরিমা ওর আসল রুপটিরও সন্ধান পেয়ে যায়। এরপর ইউকিনো কী করবে? আরিমা আর ইউকিনোর মধ্যে কি ট্যালেন্ট ছাড়াও আরও অনেক দিক দিয়ে মিল আছে? ইউকিনো কি পারবে নিজেকে বদলাতে?
 
গল্পটি প্রচলিত রমকম গুলির চাইতে একদম আলাদা। ঐ বয়সে প্রেমে পড়লে একটি মেয়ে বা ছেলের মধ্যে মানসিক দিক দিয়ে যা যা চলে, তা নিখুঁতভাবে ও সাহসিকতার সাথে ফুটে উঠেছে। খুব ভালো কিছু সংলাপ, নিপুণ চরিত্রায়ন, বাস্তবসম্মত লেখনী, দারুণ পেসিং, ও দারুণ সব সাইড ক্যারাকটার আর্ক এই আনিমেটিকে রমকম হিসেবে (প্রায়) পূর্ণতা দিয়েছে। দারুণ এন্ডিং গান, খুব সুন্দর ওএসটির ব্যবহার ও অনন্য উপস্থাপনা আনিমেটিকে প্রানবন্ত করে তুলেছে। আর অবশ্যই এর পিছনে কিছুটা হলেও বিখ্যাত পরিচালক হিদেয়াকি আন্নোর (ইভাঞ্জেলিওন) অবদান আছে।
 
আনিমেটির কম রেটিং-এর প্রধান (নাকি একমাত্র?) কারণ হল- আনিমেটিতে খুব বেশি পরিমাণে রিক্যাপ এপিসোড, ফিলার, ও উদ্ভট কিছু জিনিসপাতি আছে। আর মাঝপথে আনিমেটি শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এইসব ত্রুটি সত্ত্বেও অসাধারণ, অ-সা-ধা-রণ এই আনিমেটি সব্বাই দেখবেন কিন্তু। আর সামনের ঘটনা জানতে মাঙ্গা তো আছেই।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #30

আনিমে: Wangan Midnight

জানরা: একশন, মোটরস্পোর্টস, সেইনেন
এপিসোড সংখ্যা: ২৬
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2608/Wangan_Midnight
 
হাইস্কুলের শেষ বর্ষের ছাত্র আসাকুরা আকিওর গাড়ির দিকে খুব ঝোঁক। পড়াশুনায় মন না দিয়ে সারাদিন পার্ট টাইম কাজ করে ওর গাড়ির পিছনে খরচ করে, আর রাতের বেলায় শহরের ওয়ানগান নামের হাইওয়েতে হাই স্পিডে গাড়ি চালিয়ে বেড়ায়। গতির নেশায় উন্মত্ত আকিওর লক্ষ্য হল তার চাইতেও ফাস্ট ড্রাইভার, ওয়ানগানের সম্রাটখ্যাত শিমা তাতসুইয়াকে রেসিং এ হারানো। তো একদিন হঠাত সে খবর পায় যে, একটা স্যাল্ভেজ ইয়ার্ডে একটা Nissan S30Z Fairlady গাড়ি পড়ে আছে। সে গাড়িটা দেখতে যায়। প্রথম দেখাতেই ওর গাড়িটাকে ভালো লেগে যায়। গাড়িটার আবার নাকি পুরান ইতিহাস আছে। এর আগে বেশ কয়েকজন ড্রাইভার গাড়িটা চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করেছে, কিন্তু গাড়ির তেমন ক্ষতি হয়নি। এজন্য গাড়িটার নাম হয়ে গিয়েছে “শয়তান Z”। কিন্তু গাড়িটা চালিয়েই আকিও নির্দ্বিধায় সেটা কিনে ফেলে। এখন ও কি পারবে গাড়িটার বদনাম ঘোচাতে? সে কি পারবে ওয়ানগানের সম্রাট হতে?
 
এই আনিমের সাথে Initial D এর অনেক সাদৃশ্য থাকায় অনিচ্ছাসত্তেও তুলনা এসে পড়ে। ঐ আনিমের মত এটাতেও গাড়ীগুলোকেই আকর্ষণীয় করে দেখান হয়েছে। ক্যারাকটার ডিজাইনগুলো কেমন কেমন। ভিজুয়ালও তেমন আহামরি কিছু না। তবে গল্প বেশ জমাটি। গল্পের স্পিড ভালো, বেশ ভালো রাইভালরি আছে। ধুম ধারাক্কা ওএসটি আছে। তবে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল – Initial D তে ড্রাইভারের টেকনিকের উপর ফোকাসটা যেমন বেশি, এইটাতে গাড়ির Specification আর টিউনিং এর উপর ফোকাসটা ততই বেশি। আর প্রফেসনাল রেসিং এর জগতে এইটাই আসলে বেশি বাস্তবসম্মত। এতে একই সাথে রেসিং আনিমে হিসাবে এর মান যেমন বেড়েছে, তেমনি আনিমেটার টার্গেট অডিয়েন্স ও বোধহয় কিছুটা কমে গিয়েছে। কারন গাড়ি নিয়ে আগ্রহ না থাকলে এই আনিমে অত একটা বোধহয় উপভোগ করা যায় না।
 
এই টাইপের আনিমেতে আগ্রহী যারা, তারা রেসিং নিয়ে বানানো অন্যতম সেরা এই আনিমেটি চেখে দেখতে পারেন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #29

আনিমে: 𝘠𝘰𝘮𝘪𝘨𝘢𝘦𝘳𝘶 𝘚𝘰𝘳𝘢: 𝘙𝘦𝘴𝘤𝘶𝘦 𝘞𝘪𝘯𝘨𝘴

জানরা: মিলিটারি, ড্রামা, সেইনেন, স্লাইস অফ লাইফ
এপিসোড সংখ্যা: ১২ + ১
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/798/Yomigaeru_Sora__Rescue_Wings
 
“ট্রুথ ইজ স্ট্রেঞ্জার দ্যান ফিকশন” – আপনি কী এই প্রচলিত কথাটিতে বিশ্বাসী? আপনি কী রিয়ালিস্টিক আনিমের আশায় বসে থাকেন, যেগুলোতে চরিত্রদের জীবন-মরণ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় আর কঠিন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়? জীবনের কঠোর বাস্তবতার সাথে পরিচয় করানোর মত আনিমেগুলি কী আপনার পছন্দের? তাইলে এটি এমন একটি আনিমে, যা আপনি একেবারে কোনভাবেই মিস করতে পারবেন না!
 
জাপানি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (জে এস ডি এফ) এয়ার রেস্কিউ বিভাগের কার্যকলাপ নিয়ে এই আনিমের গল্প। গল্পের মূল চরিত্র কাযুহিরো উচিদার শৈশব স্বপ্ন ছিল ফাইটার পাইলট হবার (শিশুকালের বেশ কমন কিছু লক্ষ্যগুলির একটি, তাইনা?)। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে রেস্কিউ বিভাগের হেলিকপ্টার চালকের কাজ নিয়েই সন্তুষ্ট হতে হয়। সে বেশ অখুশিমনে সেখানে জয়েন করে। কিন্তু অচিরেই নিজের কাজের মর্যাদা সম্পর্কে তার ধারনা পালটে যায়। কাকে রেখে কাকে বাঁচাই – এই ধরণের কঠোর কিছু সিদ্ধান্তের মুখোমুখি হয় সে। আর ধীরে ধীরে একজন দায়িত্বশীল যুবক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলে সে।
 
আনিমেটির আর্ট, সাঊন্ড, আর এনিমেশন – সবই এর অসাধারন গল্পের মর্যাদা রাখতে পেরেছে। এয়ারক্রাফটগুলি ডিজাইন করতে সিজিয়াই ব্যবহার করা হলেও কোয়ালিটি বেশ ভাল।
 
মিলিটারি কথাটা শুনলে আমাদের মানসপটে সচরাচর সশস্ত্র যুদ্ধের ছবি ভেসে ওঠে। কিন্তু যুদ্ধ ও প্রতিরক্ষা ছাড়াও সেনাবাহিনীর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল দুর্যোগে বা কোন অন্য বিপদ থেকে মানুষকে উদ্ধার করা। তুলনামূলক লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এই বিষয়টি উঠে এসেছে এই আনিমেটিতে।
 
একটি স্লাইস অফ লাইফ আনিমে যে কত ভাল মানের হতে পারে – এই আনিমেটি তার একটি সুন্দর উদাহরণ। তাই এই তুলনামূলক ছোট্ট আনিমেটি ট্রাই করে দেখতে পারেন।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #28

আনিমে: 𝘝𝘦𝘳𝘴𝘢𝘪𝘭𝘭𝘦𝘴 𝘯𝘰 𝘉𝘢𝘳𝘢 (𝘛𝘩𝘦 𝘙𝘰𝘴𝘦 𝘰𝘧 𝘝𝘦𝘳𝘴𝘢𝘪𝘭𝘭𝘦𝘴)

জানরা: শৌজো, ড্রামা, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ৪০
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/338/Versailles_no_Bara
 
ফ্রান্স, ১৭৫৫ সাল। রাজা ও রানির রক্ষীবাহিনীর প্রধানের ঘরে জন্ম নিল ফুটফুটে এক কন্যাসন্তান। কিন্তু কন্যা হওয়ায় অসন্তুষ্ট বাবা সিদ্ধান্ত নিলেন, একে ছেলের মত মানুষ করবেন। তাই ওর নাম দিলেন অস্কার। অস্কার নিজেও ছেলেদের মত পোশাক পরে, আর অসিচালনায় পারদর্শী হয়ে ওঠে। এভাবে কেটে যায় ১৪টি বছর। দৃশ্যপটে আবির্ভাব ঘটে গল্পের দ্বিতীয় মূল চরিত্রের – অস্ট্রিয়ার রাজকুমারী ও ফ্রান্সের যুবরাজের হবুপত্নী ম্যারী আঁতোয়ানেতের। অস্কারের অসিচালনার কথা শুনে ফ্রান্সের রাজা ওকে আঁতোয়ানেতের দেহরক্ষী হিসেবে নিযুক্ত করেন। দুই জগতের দুই কিশোরী এভাবেই একে অপরের কথা জানতে পায়, ও তাদের জীবনটাই বদলে যায়। তারপর কাহিনী এগুতে থাকে আর মাত্র বিশ বছর পর ঘটা ফরাসি বিদ্রোহের দিকে।
 
বেশ পুরনো এই আনিমেটি খুব যত্নের সাথে বানানো হয়েছে। ভিজুয়াল আর ক্যারেক্টার ডিজাইন তখনকার শৌজো আনিমের মত, বেশ ভাল লেগে যায়। সুন্দর মিউজিকের ব্যবহার আছে। ওপেনিং গানটা ভাল। কাহিনী বেশ হৃদয়বিদারক গোছের। তবে এর ঐতিহাসিক দিকটাই সবচেয়ে বেশি উল্লেখযোগ্য। আনিমেটিতে তৎকালীন ইউরোপের অভিজাত সমাজ, রাজপরিবার, ও সাধারণ সমাজের আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আনিমেটি দেখে ম্যারী আঁতোয়ানেত সম্পর্কে প্রচলিত ধারনায় কিছু পরিবর্তন ঘটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
 
একটি হিস্টোরিকাল ক্লাসিক আনিমের স্বাদ পেতে চাইলে ট্রাই করে দেখুন না।
 

Sakib’s Hidden Gems – Episode #27

আনিমে: 𝓡𝓸𝓶𝓮𝓸 𝓷𝓸 𝓐𝓸𝓲 𝓢𝓸𝓻𝓪 (𝓡𝓸𝓶𝓮𝓸’𝓼 𝓑𝓵𝓾𝓮 𝓢𝓴𝓲𝓮𝓼, 𝓡𝓸𝓶𝓮𝓸 𝓪𝓷𝓭 𝓽𝓱𝓮 𝓑𝓵𝓪𝓬𝓴 𝓑𝓻𝓸𝓽𝓱𝓮𝓻𝓼)

জানরা: এডভেঞ্চার, স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, হিস্টোরিকাল
এপিসোড সংখ্যা: ৩৩
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/2559/Romeo_no_Aoi_Sora
 
আনিমেটি বিখ্যাত সুইডিশ উপন্যাস “Die schwarzen Brüder (“The Black Brothers)” এর আলোকে বানানো হয়েছে। গল্পটি ঊনিশ শতকের, স্থান হচ্ছে ইতালির সীমান্তবর্তী সুইজারল্যান্ডের ছোট একটি গ্রাম। সেই গ্রামে বাবা, মা, ও ছোট দুইটি ভাইকে নিয়ে থাকত দশ বছরের ছেলে রোমিও। অভাব-অনটন ও ধারদেনার সংসারে রোমিও নিজের সাধ্যমত চেষ্টা করত বাবা-মাকে সাহায্য করে ওদের সবার মুখে হাসি ফোটাতে। কিন্তু একদিন তাদের গ্রামে যমদূতের মত ও শয়তানি বুদ্ধিতে ভরা এক দাসব্যবসায়ীর আগমন হল। লোকটার চক্রান্তে রোমিও অর্থের বিনিময়ে তার সাথে ইতালির মিলান শহরে চিমনি পরিষ্কারকের কাজ করতে যেতে বাধ্য হল। পথে সে পেল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু আলফ্রেডোকে। মিলানে গিয়ে নানা লোকের অত্যাচার যেমন তাকে সইতে হল, তেমনি জুটে গেল তারই মত চিমনি পরিষ্কারক কিছু বন্ধু। তাদের সাথে রোমিও তার এক নতুন জীবন শুরু করল।
 
আনিমেটি জুড়ে একটি শান্ত, সুন্দর স্নিগ্ধতা আছে। আনিমেটি ধীরগতির, ওএসটিগুলি বেশ ভাল। হিস্টোরিকাল আনিমে হিসেবেও বেশ সার্থক এটি; তৎকালীন ইউরোপের একটি স্পষ্ট খন্ডচিত্র পাওয়া যায়। তবে গল্পের আবেগঘন দিকটাই যেন সবচেয়ে বেশি মনে থাকে ও মনে গাঁথে। আনিমেটিতে হাসি-খুশির কিছু মোমেন্ট থাকলেও মূলত এটি বেশ দুঃখের কাহিনী। আপনার চোখে পানি আসাটা অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
 
পুরনো ভিজুয়ালে ও বিয়োগাত্মক কাহিনীতে আপত্তি না থাকলে দেখে ফেলুন।