Sakib’s Hidden Gems – Episode #32

আনিমে: Uchuu Kyoudai (Space Brothers)

জানরা: স্পেস, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন, সাইফাই, কমেডি
এপিসোড সংখ্যা: ৯৯
MAL লিঙ্ক: https://myanimelist.net/anime/12431/Uchuu_Kyoudai

মুত্তা ও হিবিতো দুই ভাই। ছোটবেলা থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে খুব ভালো বোঝাপড়া। এডভেঞ্চার প্রিয় দুভাই সুযোগ পেলেই এখানে সেখানে চলে যেত, আর পরিবেশ ও প্রকৃতিকে কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করত। তো এক রাতে এইরকমই এক অভিযানে তারা হঠাত করে আকাশে এক অদ্ভুত উড়ন্ত বস্তুর (ইউএফও) দেখা পেল। সেটি কয়েক পাক ঘুরে সাঁই করে চাঁদের উদ্দেশ্যে পাড়ি দেয়। তাই দেখে ডানপিটে স্বভাবের হিবিতো হুট করে বলে বসে, “আমি বড় হয়ে নভোচারী হব, চাঁদের মাটিতে পা রাখব।”। একই সাথে মুত্তাও হয়তো এমন কিছুই ভাবছিল। কিন্তু বড় ভাই হিসেবে মুত্তা সবসময় চাইতো ছোট ভাইয়ের চাইতে এগিয়ে থাকতে, আর তাকে পথ দেখাতে। তাই সে বলে বসে, “আমি মঙ্গল গ্রহে যাবো”।

সময় যায়, ওরা বড় হয়ে ওঠে। কিন্তু ছোটবেলার স্বপ্ন কী আর পূরণ হয় সবার? হিবিতো যেখানে নভোচারী হয়ে চাঁদের উদ্দেশ্যে গমন করছে, সেখানে মুত্তা একটা অটোমোবাইল কোম্পানিতে চাকুরি করছে। আর সেখান থেকেও নিজেরই ভুলে বিতাড়িত হয়ে এখন সে বেকার। ও কী পারবে নিজের জীবনকে বদলে দিতে? ও কী পারবে হিবিতোর “বড় ভাই” হতে? ও কী পারবে নিজের আসল স্বপ্ন পূরণ করতে?

আনিমেটির প্রোডাকশন ভ্যালু বেশি। মানে অডিও-ভিজুয়াল চমকপ্রদ। ওএসটির ব্যবহারও ঠিকঠাক। পেসিং যথাযথ। তবে শেষমেশ এর গল্পটাই এর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। একেবারে শুন্য থেকে কীভাবে একজন নভোচারী হয়ে উঠা যায়, তা এই আনিমেতে সময় নিয়ে ও যত্নের সাথে বাস্তবসম্মতভাবে দেখিয়েছে। গল্পের প্রধান চরিত্র ছাড়াও পার্শ্বচরিত্র গুলিকেও ভালো লেগে যায়। ওদের সুখ দুঃখের সমব্যথী হওয়া যায়। এছাড়া আনিমেটির কমেডিক মুহূর্তগুলিও বেশ মজাদার।

সবাইকে আমি এই আনিমেটি সাজেস্ট করলাম। আর পরের গল্প জানতে মাঙ্গা পড়তে পারেন।

রিভিউ কন্টেস্ট এন্ট্রি [২০১৫] #২: Uchuu Kyoudai — Hussain Shoykot Ash

আনিমে- উচু কিওদাই / স্পেস ব্রাদার্স

জনরা- কমেডি, সাই-ফাই, স্পেস, স্লাইস অফ লাইফ, সেইনেন
এপিসোড- ৯৯ টি
মাই আনিমে লিস্ট স্কোর- ৮.৬১

ছোটবেলা থেকেই আমাদের অসীম আগ্রহ মহাকাশের প্রতি, আকাশের তারা আর চাঁদ কিন্তু সবাইকেই আকর্ষণ করে, মনের মাঝে কিন্তু সবারই কখনও না কখনও এমন প্রশ্ন এসেছেই যে, আচ্ছা, আকাশের তারা কিভাবে ভেসে থাকে? চাঁদ এত কাছে আর সূর্য এত দুরে কেন? হয়ত বাবা-মাকে প্রশ্ন করে কিছু জানা গেছে, কিন্তু অনেক কিছুই অজানাই রয়ে গেছে। সময়ের সাথে সাথে হয়ত মন থেকেই মুছে গেছে কথা গুলো। আরেকটু বড় হওয়ার পর হয়ত শোনা গেছে যে মহাকাশে মানুষ গেছে। তাদের আবার এস্ট্রোনট বলে। তখন থেকেই মনের ভেতর হয়ত উঁকি দিয়েছে যে আমিও এস্ট্রোনট হতে চাই, কিন্তু জ্ঞানের অভাবেই হোক আর পরিবারের চাপেই হোক ভুলে গেছি মনের ভেতরের সেই আকাঙ্ক্ষাটাকে। আবার হয়ত কেউ এখনও এস্ট্রোনট হতে চায় কিন্তু জানেনা কিভাবে কি করে হতে হয়। আবার অনেকে আমার মত থাকতে পারেন যারা জানতে চান কেমন জীবন এস্ট্রোনটদের? তারা কেমন মানুষ? কি করতে হয় তাদের? চাঁদে গিয়ে তারা কি করে? আচ্ছা চাঁদে তারা কি ধরণের বিপদে পড়তে পারেন? আচ্ছা, আমি যদি এস্ট্রোনট হতাম, তাহলে আমার জীবনটা কেমন হত? হ্যা, এই সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আছে এই আনিমেটাতে, স্পেস ব্রাদার্স এমন একটা আনিমে যেটা দেখলে এই সকল উত্তর এমনিতেই পাওয়া যাবে, বা কেউ যদি মহাকাশ সম্পর্কে আগ্রহ না থাকা সত্ত্বেও দেখে, তাও সে মহাকাশের প্রতি একটা অজানা আগ্রহ অনুভব করবে।

এতো গেল কেন দেখবেন এই আনিমেটা। এখন আসা যাক এই আনিমের স্টোরিতে- এখানে দুই ভাইয়ের কথা বলা হয়েছে (নাম স্পেস ব্রাদার্স যেহেতু, দুই ভাইয়ের কথা কল্পনা করে নেওয়া যায়) তবে এরা কিন্তু একভাই এক স্পেসে আরেকভাই আরেক স্পেসে এমন না, বরং দুই ভাই এই পৃথিবীরই মানুষ। তাহলে মনে প্রশ্ন আসতে পারে, নাম স্পেস ব্রাদার্স কেন? আসছি সেই কথায়, ছোটবেলায় দুই ভাই নাম্বা মুত্তা আর নাম্বা হিবিতো একটা অদ্ভুত উজ্জ্বল আলো বিশিষ্ট জিনিস দেখতে পায়। কিছুক্ষণ পরেই যদিও সেই বস্তু চোখের আড়ালে খুব দ্রুত আকাশের দিকে চলে যায়, দুই ভাইয়ের মনে প্রশ্ন জাগে, এটা কি ছিল? মনে করে এটা বোধহয় এলিয়েন সসার ছিল। শুরু হয় মহাকাশের প্রতি আগ্রহের সূচনা। যদিও এই আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও কিভাবে যেন নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে বড় ভাই এস্ট্রোনট হওয়ার স্বপ্ন থেকে সরে যায়। ছোট ভাই লেগে থাকে সেই ছোটবেলায় দেখা স্বপ্নের পিছনে, দেখা পায় সেই আশ্চর্য স্বপ্নের, এস্ট্রোনট হওয়ার সেই দীর্ঘ অসম্ভবপ্রায় স্বপ্ন। জাক্সা থেকে নাসাতে চাঁদে যাওয়ার জন্য ট্রেনিং নিতে থাকে সে। এখানে আপনারা দেখতে পারবেন এস্ট্রোনটদের কিভাবে প্রশিক্ষণ দেয়। এবার আসি বড় ভাইয়ের কথায়। স্বপ্ন ভুলতে শুরু করেছিল সে, নিজের প্রতি অবিশ্বাসের কারণে, কিন্তু যে অফিসে সে কাজ করত সেখানে বস তার ছোট ভাইকে নিয়ে তামাশা করলে মেরে বসে সে বসকে। সহজেই চাকরি হারাতে হয় সেকারণে, অন্য কোথাও চাকরি পাওয়াও অসম্ভব, কারণ, অফিসের বসকে যে মারতে পারে তাকে চাকরি দিতে ভয় পাওয়াই স্বাভাবিক সবার। এমন সময় ছোট ভাই হিবিতো বড় ভাইকে তার স্বপ্নের কথা মনে করিয়ে দেয়। যেহেতু কাজ কাম নেই, মুত্তা আর কি করবে স্বপ্নকে আবার জাগ্রত করতে এস্ট্রোনট হওয়ার পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অংশগ্রহণ করে, শুরু হয় এস্ট্রোনট হওয়ার যুদ্ধ।

এখান থেকে যারা জানতে চায় এস্ট্রোনট কিভাবে বাছাই করে বা কিভাবে ধাপে ধাপে একজন মানুষ এস্ট্রোনট হয়, তারা ভাল ধারণা পাবে, কেননা মুত্তাকে অনেকগুলা পরীক্ষা যে দিতে হবে নিজেকে প্রমানিত করার জন্য, স্বপ্নকে পাওয়ার জন্য। এখন যেই প্রশ্নটা মনে আসছে সেটা হল, তাহলে চাঁদে এস্ট্রোনটরা কি করে? কিসব বিপদে পড়ে? তা কিভাবে জানবো? এক ভাই তো এস্ট্রোনট হওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ নিচ্ছে, আরেকভাই এস্ট্রোনট হবে তাই পরীক্ষা দিচ্ছে। ব্যাপার না, একটু ধৈর্য্য ধরে দেখুন, এস্ট্রোনটদের নিয়ে সবকিছু পরিস্কার করে দেখিয়ে দেওয়া আছে আনিমেটাতে। মোটামুটি এই হল এই আনিমের স্টোরিলাইন। তবে এই এনিমের সবচাইতে ভাল লাগতে পারে যে জিনিসটা আপনাদের তা হল দেখার সময় কখনও এমন মুহূর্তে পরবেন যে না হেসে পারবেন না। কখনও আবার মন খারাপ করার মত অবস্থাই পরবেন, হয়ত কেদেও দিতে পারেন কে জানে? তবে যে জিনিসটা আপনি এই এনিম থেকে আবিস্কার করবেন তা হল এইটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে, যেইটা এই এনিমের সবচাইতে বড় বিশেষত্ব।

এবার আসি গ্রাফিক্স, ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড, ওপেনিং আর এন্ডিং গানের দিকে- স্পেস ব্রাদার্সের গ্রাফিক্স খুবই সুন্দর। মহাকাশ, নাসা, জাক্সা, এস্ট্রোনটদের প্রয়োজনীয় সকল জিনিস খুব সুন্দর ও নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে। এর গ্রাফিক্স এমন যে আপনি দেখার সময় এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করবেন। ব্যাকগ্রাউন্ডে যে স্লো মিউজিক ব্যাবহার করা হয়েছে তা প্রতিটা মুহূর্তের সাথে মানানসই। ওপেনিং আর এন্ডিং গানগুলো অসাধারণ রকম সুন্দর। যে গানগুলা ব্যবহার করা হয়েছে চোখ বন্ধ করে শুনে দেখতে পারেন, ভাল না লেগে যাবেনা।

স্পেস ব্রাদার্স আসলেই অসাধারণ একটি আনিমে। যদি কোন নতুন আনিমে খুঁজছেন দেখার জন্য বা সুন্দর একটা আনিমে দেখতে চান তাহলে আমি এই আনিমেটাকে দেখার কথা বলবো, দেখলেই বুঝবেন এই আনিমেটা কতটা সুন্দর। তাই হাতে কোন কাজ না থাকলে দেখা শুরু করে দিন আনিমেটা।

2 Uchuu Kyoudai

আনিমে সাজেশন: Space Brothers [Uchuu Kyoudai] — Shafiul Munir

2

সর্বকালের সেরা স্লাইস অব লাইফ কোনটি?

গিন নো সাজি? ক্লানাড? হানি এন্ড ক্লোভার? উসাগি ড্রপ? মুশি শি? বাকুমান? সাকামিচি নো আপালোন? নোডামে ক্যাণ্টিবেলে? আরিয়া?

এভাবে ভেবে কোনকিছু বের করাটা এক টাইপ বোকামি মনে হতে পারে, কারণ কারো একটা ভালো লাগলে, কারো আরেকটা ভালো লাগবে, এ ব্যাপারে একমতে আসাটা খুব বেশি কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়াবে…
আচ্ছা, ধরলাম তারপরো আমরা এমন কিছু একটা খুঁজে বের করতে চাই…

বেসিক ক্রাইটেরিয়া?
১) জীবনের একটা অংশ তুলে আনবে… স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ, আনন্দ, কষ্টের যাতনা, আশা, হতাশা সবকিছু সাথে করে…
২) অসাধারণ সব ক্যারেক্টার থাকবে, যারা দৈনন্দিন জীবনকে খুব কাছ থেকে অনুভব করার সুযোগ করে দিবে…আর মেইন ক্যারেক্টারগুলা এক্সট্রাঅর্ডিনারী হবে অনেক অনেক দিন মনে রাখার মত।
৩) একই সাথে হাসাবে-কাঁদাবে, ক্লিশে ভাবে না, খুব ক্লাসি ভাবে
৪) খুব গতিময়, একই সাথে ইমোশনাল আর চমকপ্রদ একটা কাহিনী থাকবে…
৫) শুরু হয়েই টুসটাস শেষ হবে না, এট লিস্ট কিছুদিন পরে থাকবার সুযোগ দিবে
৬) খুব সুন্দর কিছু ওএসটি থাকবে, একটু মিউজিক, একটা উত্তেজনা, কিছুটা মোচড়, চড়াই-উতরাই তো বাঞ্চনীয়…
আরো কিছু ব্যাপার সেপার হয়ত চলে আসবে…অনেক অসাধারণ এনিমেই আছে যারা এসবের বেশ কিছু ফুলফিল করে নিজেদের উঠিয়ে আনে সেরাদের ক্লাবে, কিন্তু সেরাদের সেরা কে হতে পারে…?

আমার নিজের জন্য একটা উত্তর আমার কিন্তু আছে, সেটা হলো, ‘স্পেইস ব্রাদারস…উচো কিয়োদাই’, হ্যাঁ, এটাই সর্বকালের সেরা স্লাইস অব লাইফ… যারা দেখেছেন, তারা বুঝতে পারছেন কেন, আর যারা দেখেননি, এখনি দেখে ফেলুন…

প্রতিটা মুহূর্ত উপভোগ করবেন এটার, গ্যারান্টি দিতে পারি। আর ৯৯ টা এপিসোড কিভাবে কেটে যাবে বুঝে উঠাও যাবে না, শেষ হলে মনে হবে আরো কিছু কেন হলো না…

3

5

4

Uchuu Kyoudai রিভিউ — Gourab Roy

11

আকাশ ছোয়ার স্বপ্ন কার না থাকে ছোট বেলায়? ছোট কালে কতই না শুনেছি,আয় আয় চাঁদ মামা টিপ দিয়ে যা,নাটক সিনেমা কখনো কখনো বাস্তবে ও দেখছি অনেকেই তাদের প্রেয়সি কে বলে ওঠে,” তোমার জন্য আমি চাঁদ এনে দেব”(ইল্লোজিকাল যদিও)।তা সেই চাদে যাওয়ার স্বপ্নের বীজ অনেকি বুন্তে পারেন,কিন্তু কতজন সেটা লালন করতে পারেন??
স্বপ্ন কে সত্যি করার সাহস কজনার থাকে?

12
হু থাকে কারো কারো।”স্পেস ব্রাদার্স” বা ”উচু কিওদাই” এনিমে তে রয়েছে এই আজন্ম লালিত স্বপ্নের বাস্তবায়ন,এনিমের সাদামাটা নায়ক নানবা মুত্তা!(:v)সে একজন মেকানিকাল ইঞ্জিনিয়ার(ইয়েই)।ছোট বেলা সেও স্বপন দেখেছিল চাদে যাওয়ার তার ছোট ভাই হিবিতোর সাথে।কিন্ত হিবিতো পারলেও তার সে স্বপ্ন পূরণ আর হয়ে ওঠেনা।অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে ধাপে ধাপে অধরা কে ধরার অদম্য বাসনা নিয়ে কিভাবে একজন সুপার পাওয়ারলেস ,নাকামা পাওয়ার হীন মাটির মানুষ চাদের বুড়িকে জয় করেছিল সে বাস্তব্ধর্মী গল্প গাথা আছে এই এনিমে তে।
কেন দেখবেনঃ ম্যাল রেটিং 8.67
আমার রেটিং ১০/১০

9

10
বোরিং হোয়ার মত কোন এপিসোড নেই,সাস্পেন্স এ ভরপুর যেন প্রতি নিয়ত আপনি শার্লক হোমসের এসিস্টেন্ট,সাথে আছে কাওয়াই কুকুল ”আপো”,মুত্তার সীমাহিন কমেডি যা চার্লি চ্যাপ্লিন কে ও নস্যি বানিয়ে দেয়,এমন সব রোমান্টিক সিনারি যা রোমিও জুলিয়েট দেখলে হয়ত লজ্জায় মাথা মুড়িয়ে ফেলত,এবং আরো কত কি যেটা দেখলেই ভাব্বেন ইশ আগে কেন দেখিনি।অনেক চরিত্রের সমাবেশ,এবং সব গুলোই গুরুত্বপূর্ন। হৃদয়গ্রাহি ব্যকগ্রাউন্ড মিউজিক এবং ওপেনিং এবং এন্ডিং সংস।অন্যতম আমার দেখা সেরা স্লাইস অব লাইফ” স্পেস ব্রাদার্স দেখে ফেলুন আর দেরি না করেই”
এক তুড়িতেই যেন সময় কেটে যাবে

8

স্পেস ব্রাদার্স-নতুন এক ভুবন by Monirul Islam Munna

 

মাত্র ১২ এপিসোড দেখেছি , কিন্তু এনিমেটা নিয়ে লিখতে প্রচণ্ড ইচ্ছা করল, তাই লিখতে বসে গেলাম 

খুব কম এনিমের ১ম এপিসোড দেখেই মনে ধরে যায়, ‘স্পেস ব্রাদার্স’ সেই বিরল লিস্টের ১ম দিকে থাকবে কোন সন্দেহ নেই। এনিমেটার মধ্যে কেমন যেন একটু আলাদা স্বাদ আছে, প্রতি এপিসোড দেখলেই একই রকম একটা তৃপ্তি পাওয়া যায়, আর কেন যেন মন ছুঁয়ে যায়।

এনিমেটা মুলত ২ভাই ‘নানবা মুত্তা’ আর ‘নানবা হিমিত’কে নিয়ে। ছোট থেকেই ২জনের মন জুড়ে ছিল, আমাদের মাথার উপর বিস্তর এই রহস্যময়ই মহাশুন্য। কখনও মহাশূন্য নিয়ে কিছু দেখলেই কে পায় তাদের, এর মধেই হারিয়ে যেত ২জন!!! যে ছোট্ট মনের মধ্যে খেলনা ,খেলাধুলা নিয়ে মেতে উঠার মজার স্মৃতি ভরপুর থাকার কথা, সেই মনের মধ্যে শুধু ভিড় করছে মহাশূন্য নিয়ে খুঁটি নাটি কত তথ্য,কত রহস্য। একদিন রাতে আকাশের মধ্যে গোলাকার কি যেন একটা দেখতে পেল ২জন, ধরেই নিল কোন ‘UFO’ দেখেছে ওরা। সে দিন পন করেই বসলো, ২জনকেই নভোচারী হতেই হবে।

ছোটবেলায় থেকে মুত্তা মেধার জ্যোতি ছড়ালেও, ছোট ভাই হিমিত,বড় ভাই মুত্তার চেয়ে একটু পিছিয়ে ছিল। একটু কম মেধাবী থাকলেও, প্রতি পদক্ষেপে হিমিতর ছায়ার মত হয়ে থাকতো মুত্তা। পড়ালেখার খুঁটিনাটি ধড়িয়ে দেওয়া, মেথে সাহায্য সবই করতো মুত্তা। আস্তে আস্তে ভালো করতে শুরু করল হিমিত। কিন্তু বড় ভাই মুত্তারও একটা আদর্শ ছিল, ‘বড় ভাই হিসেবে কখনও পিছিয়ে থাকা যাবে না ছোট ভাইয়ের থেকে, অবশ্যই এগিয়ে থাকতে হবে।’ কিন্তু সময়ের সাথে হিমিত নভোচারী হয়ে গেলেও, পিছিয়ে পরে মুত্তা। পিছিয়ে থাকলেও অনেক বছর পর আবার নভোচারী হওয়ার এক সুযোগ পায় মুত্তা। কিন্তু এতো দিন পর, এতো প্রতিযোগিতার মধ্যে, কঠিন পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে নভোচারী হওয়ার ছোট বেলার সেই পন কি রক্ষা করতে পারবে মুত্তা??

এনিমেটার এপ্রোচটা খুবই উনিক লেগেছে আমার কাছে, সাথে মুত্তা চরিত্রের ভয়েস এক্ত্যরও প্রশংসা না করে পারলাম না। ইমসনটা এমন ভাবে ফুটিয়ে তুলে ভয়েস শুনেই হাসতে বাধ্য হবেন!! সাথে এনিমেজুড়ে রহস্যময়ই মহাকাশ, ‘NASA’,’JAXA’ আরও কত কিছু জানতে পারবেন। নতুন এক ভুবনের সাথে জড়িয়ে ফেলে এনিমেটা।

space brothers – স্বপ্নের পথে জীবনের অলি গলিতে… by Asiful haque

“An earnest failure has meaning.”

প্রথমেই একটা কুইজ দিয়ে শুরু করা যাক। খুব সহজ কুইজ; ভয় পাবার কিছুই নেই। ধরুন; আপনাকে জিজ্ঞেস করা হল – খুব বেশি না ভেবে এই মুহূর্তে খুব জনপ্রিয় কয়েকটা এনিমের নাম বলুন; ওয়ান পিস, নারুতো, শিঙ্গেকি নো কিওজিন, ফেয়ারি টেইল বা হান্টার এক্স হান্টার – এইরকম কয়েকটা নামই নিশ্চয়ই মাথায় আসবে? এবার একটু চিন্তা করে দেখুনতো; এই এনিমগুলোর জনপ্রিয়তার কারণ কি কি? সুপার পাওয়ার; হ্যান্ডসাম হিরো কিংবা সুন্দরী নারী – ঘুরে ফিরে কম বেশি এগুলোই নয় কি? কিন্তু একটা এনিম জনপ্রিয় হতে; ফার্স্ট ক্লাস হতে কি এগুলো খুব জরুরি? নাহ; এগুলো হয়ত “মেইন্সট্রিম” তকমা গায়ে লাগানোর জন্য জরুরি; কিন্তু এনিম সুন্দর হতে এগুলোর কোনটাই দরকারি না। সেই জন্যই হয়ত কাইজি কিংবা স্পেস ব্রাদারের মত নাম না জানা কিন্তু অত্যন্ত চমৎকার কিছু সিরিজ আমাদের অগোচরেই থেকে যায় !!!!

সার সংক্ষেপ – আমরা অযথা ঘুরাঘুরি না করে মুল কথায় ফিরে আসি। আমাদের আজকের প্রতিযোগী থুক্কু আলোচিত এনিম “space brothers” – জাপানিজে যেইটাকে আদর করে ডাকে “uchuu kyoudai” :D :D কাহিনীর সারসংক্ষেপে জানা যায়; মুল চরিত্র ৩২ বছর বয়স্ক নানবা মুত্তা যিনি শরতের এক সুন্দর সকালে নিজ অফিসে নিমগ্নচিত্তে কাজ করছিলেন। হটাত করেই বসের রুমে ডাক পরে উনার। কথায় কথায় বস মুত্তা সাহেবের মহাকাশচারী ছোটভাই হিবিতোকে নিয়ে বেফাঁস কথা বলে বসেন। আর যায় কোথা !! জিদান সাহেবের অনুকরণে বসকে মাথা দিয়ে ঠু মেরে বসেন মুত্তা সাহেব। ফলশ্রুতিতে ৩২ বছর বয়সে এসে শুধু চাকরিই হারালেন না; বসের কল্যাণে সকল অটোমোবাইল প্রতিষ্ঠানে ব্ল্যাকলিস্টেডও হয়ে পড়লেন। এ সময় ছোট ভাই এর উপদেশে মুত্তা সাহেবের মা উনার সিভি ড্রপ করে দিলেন জাপানিজ মহাকাশচারী নির্বাচন পরীক্ষায়; আশ্চর্যজনকভাবে প্রাথমিক বাছাই পর্বও উৎরে গেলেন আমাদের মুত্তা সাহেব। তারপর কি হল? একদম ছোটবেলায় আকাশ আর চাঁদ তারা নিয়ে মাতোয়ারা দুই ভাই এর মাঝে মহাকাশচারি হবার যেই সঙ্কল্প ছিল – তা কি পূরণ হবে? দুই ভাই কি পারবে এক সাথে মহাকাশে ঘুরে বেড়াতে; এক সাথে চাঁদের বুকে পা রাখতে?

কেন দেখবেন – একজন সহজ সরল সিম্পল মাইন্ডেড মেল প্রোটাগনিস্ট; যে কিনা বেশ ভাল কিছু বন্ধু এবং হেল্পফুল একটা ফ্যামিলির সহায়তা নিয়ে কিছু বড় চ্যালেঞ্জ পার হয়ে আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যায় – সম্ভবত অন্যতম ক্লিশে স্টোরিলাইনের ক্যাটাগরিতে ফেলে দেওয়া যায়। এখন তাহলে প্রশ্ন আসতে পারে; আমার এই এনিমটা নিয়া তাইলে এতো লাফালাফির কারণ কি? যারা আমাকেএনিমখোর গ্রুপ থেকে চেনেন; তারা হয়ত ইতিমধ্যেই অবগত যে গ্রুপে আমি এই সিরিজ নিয়ে একাধিক পোস্ট এবং কমেন্টে আলাপ করেছি। এই এনিমটার সবচেয়ে স্ট্রং পয়েন্ট আমার কাছে রিফ্রেশিং স্টোরি টেলিং স্টাইল। প্রায় প্রত্যেক পর্বের ৩৫-৪০% ই ফ্ল্যাশব্যাক (আরে উলটা ঘুইরা দৌড় দিয়েন না; বুঝসি তো ফ্ল্যাশব্যাক শিপ্পুডেন দেখা অতাকু সিদুরে ফ্ল্যাশব্যাক শব্দ শুনলেই ভয় পায় !!! ) – এইখানে দুই ভাই এর স্বপ্ন; তাদের স্পেস সেন্টারে সময় পেলেই ট্যুর; পরিচিত একজনের টেলিস্কোপে প্রতি রাতে আকাশ আর চাঁদ তারা দেখে মুগ্ধ হওয়া; পাহাড়ের উপর উঠে ক্যামেরা নিয়ে দুই ভাই এর দীর্ঘ প্রতিক্ষা; বড় ভাই এর মাঝপথে হাল ছেড়ে দিয়ে নিজেকে বুঝ দিয়ে অন্য পেশায় মন বসানো; ছোট ভাই এর হার না মানা সঙ্কল্পে লক্ষ্য পূরণের সাফল্যগাঁথা – উচ্ছল এবং প্রাঞ্জল একটা গল্পগাঁথা। অতামুটি একটা ফিক্সড এবং ভাল পেইসে গল্প এগিয়েছে; সেই সাথে চমৎকার সাউন্ডট্র্যাক; কেরেক্টার ডেভেলপমেন্ট; চমৎকার আর্ট স্টাইল – সব মিলিয়ে একটা বেশ উপভোগ্য এনিম।

কেন দেখবেন না – আপনি যদি কোন এক ছুটির দিনে আরাম করে বিছানায় হেলান দিয়ে বাইরে বৃষ্টি উপভোগ করতে করতে কফি কাপে চুমুক দিতে দিতে বাস্তবের খুব কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সহজ কিন্তু সুন্দর একটা গল্প দেখার এবং শোনার খুব বেশি একটা ভক্ত না হন; তবে এই সিরিজ টি খুব সম্ভবত আপনার জন্য নয় !!!

শুরু করেছিলাম মুত্তার একটা কোট দিয়ে; শেষটাও তার একটা কোট দিয়েই করা যাক –
“When you build something, you must be ready to spend time and money on failure. The best materials won’t always yield the best results. However, if you build something by improving on failure, you’ll end up with good results.”

 

uchuu kyoudai – space brothers by Asiful Haque



নানবা মুত্তা; বয়স ৩২।

শরতের এক সুন্দর সকালে নিজ অফিসে নিমগ্নচিত্তে কাজ করছিলেন। হটাত করেই বসের রুমে ডাক পরে উনার। কথায় কথায় বস মুত্তা সাহেবের মহাকাশচারী ছোটভাই হিবিতোকে নিয়ে বেফাঁস কথা বলে বসেন। আর যায় কোথা !! জিদান সাহেবের অনুকরণে বসকে মাথা দিয়ে ঠু মেরে বসেন মুত্তা সাহেব। ফলশ্রুতিতে ৩২ বছর বয়সে এসে শুধু চাকরিই হারালেন না; বসের কল্যাণে সকল অফিসে ব্ল্যাকলিস্টেডও হয়ে পড়লেন। এ সময় ছোট ভাই এর উপদেশে মুত্তা সাহেবের মা উনার সিভি ড্রপ করে দিলেন জাপানিজ মহাকাশচারী নির্বাচন পরীক্ষায়; আশ্চর্যজনকভাবে প্রাথমিক বাছাই পর্বও উৎরে গেলেন আমাদের মুত্তা সাহেব। তারপর কি হল? একদম ছোটবেলায় আকাশ আর চাঁদ তারা নিয়ে মাতোয়ারা দুই ভাই এর মাঝে মহাকাশচারি হবার যেই সঙ্কল্প ছিল – তা কি পূরণ হবে? দুই ভাই কি পারবে এক সাথে মহাকাশে ঘুরে বেড়াতে; এক সাথে চাঁদের বুকে পা রাখতে?

( এই এনিমটা সাজেস্ট করার জন্য মৌনতা আপুকে বিশাল বিশাল থ্যাঙ্কস। সুপার পাওয়ার কিংবা কিউট নারী ক্যারেক্টার কিংবা স্মার্ট প্রোটাগনিস্ট ছাড়া ৩২ বছর বয়স্ক বেকার এক সাধারণ মানুষকে নিয়ে যে এত্ত সহজ কিন্তু সুন্দরভাবে একটা সিরিজ করা যায়; আমার ধারনাই ছিল না !!! এবং এইরকম একটা অনগোইং সিরিজ এর কথা আমি জানতামই না !! আপাতত ৭৩ পর্ব পর্যন্ত রিলিজ পেয়েছে; সবার জন্যই হাইলি রিকমেন্ডেড !!!   )