Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

অনেকদিন ধরে কিছুই দেখতে পারছিলাম না। কোন এনিমের দুটো এপিসোড দেখে আর কন্টিনিউ করতে পারছিলাম না। ধৈর্য হচ্ছিল না মনোযোগ দিয়ে কিছু দেখার। এরকম এক অবস্থায় যখন এটা সেটা খুঁজছিলাম তখন World Masterpiece Theater এর সন্ধান পাই। এবং randomly একটা বাছাই করে দেখতে বসি।

My Daddy Long Legs

Watashi no Ashinaga Ojisan (My Daddy Long Legs) এনিমে টি Jean Webster এর Daddy Long Legs এর উপর ভিত্তি করে বানানো হয়েছে। এক অনাথ মেয়ের জীবন ও তার স্বপ্ন-আকাঙ্খা নিয়ে এই এনিমে।
খুব ছোটবেলায় Judy Abott এর বাবা-মা তাকে এক চার্চের সামনে রেখে যায়। তার পাশেই John Grier নামের অনাথাশ্রমে তার জায়গা হয়। এই অনাথাশ্রমের ডিরেক্টর Mrs Lippet. ছোটবেলা থেকেই জুডি অনেক বেশি চঞ্চল ও ক্লামসি ছিল। যেকোন কাজেই কোন না কোন অঘটন ঘটাত। এর জন্য মিসেস লিপেটের বকাবকি তো আছেই। তবে ছোট বাচ্চাদের কাছে সে বেশ জনপ্রিয় ছিল। প্রতিটা দিনই আনন্দে কাটত। কিন্তু তারপরও একটা সুপ্ত বাসনা ছিল। সে এই অনাথাশ্রম থেকে বের হতে চায়, নিজের মত করে বাঁচতে চায়। একসময় একটা সুযোগ ও আসে। অনাথাশ্রম এবং রেপুটেড কিছু স্কুলের ট্রাস্টি মেম্বারদের জন্য লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। তারা একজনকে বাছাই করবে এবং তার পড়াশোনা ও মাসিক এ্যালাউয়েন্সের ভার বহন করবে। কিন্তু জুডি খেয়ালের বশে অনেক ভুল করে ফেলে। তার হাত থেকে এই সুযোগ চলেই যেত কিন্তু ঐদিন রাতে তার ত্রানকর্তা হয়ে আসে John Smith যে কিনা ট্রাস্টি মেম্বারদের একজন। যেহেতু এ্যানোনিমাসলি পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়েছিল তাই খুবই কমন এই নাম দিয়েই জুডির কাছে পরিচয় দেয়া হয়েছিল। যদিও জুডির সাথে সাক্ষাৎ হয়নি। এবং পরবর্তী সময়ে সব ধরণের যোগাযোগ পালন করা হত তার সেক্রেটারি Walter Griggs এর মাধ্যমে। যাহোক, এর পর Lincoln Memorials High School এ শুরু হয় নতুন জীবন।
নতুন শহরে এসে নতুন এক পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অনেক বেগ পেতে হয়েছিল জুডি কে। তার রুমমেট Julia Pendleton ও Sallie Mcbride দুজনই এলিট সমাজের বাসিন্দা। জুলিয়া খুব ইগোয়িস্ট আর নিজের বংশ নিয়ে খুব বড়াই করে। সে তুলনায় স্যালি চুপচাপ কিন্তু মিশুক। তার পরিবারও খুব অমায়িক। জুলিয়া সবসময় জুডিকে অপদস্থ করতে চায় আর স্যালি দুজনকে শান্ত করতে চায়। একসময় দেখা যায় তারা খুব ভাল বন্ধু হয়ে যায়। তবে জুডি কিন্তু কখনোই তার ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা জানায়না। তারা শুধুই জানে জুডির একজন গার্ডিয়ান যাকে সে ‘Watashi no Ashinaga Ojisan’ বলে ডাকে। জুডি প্রায়ই তাকে চিঠি লিখে। তার জীবন কেমন যাচ্ছে বা যেকোন কিছুর জন্য পরামর্শ সবকিছু জানায়।
জুডির এই ধনী এলিট সমাজের মানুষের প্রতি সবসময় এক বিতৃষ্ণা কাজ করত। অনাথাশ্রমে থাকার সময় সে দেখেছে তাদের প্রতি কেমন করুণা করা হত। কিন্তু এই ধারণা বদলে দেয় Jervis Pendleton. জুলিয়ার চাচা। পেন্ডেল্টন বংশের অন্য সবার মত নাকউঁচু নয় সে। কোন অহংবোধ নেই। খুব সৎ, অমায়িক আর খামখেয়ালি মানুষ। জার্ভিসকে ভাল লেগে যায় সাথে সাথে। ভাল লাগার মতই এক চরিত্র। তার ব্যাক্তিত্বের এই সরলতা দেখে জুডির ধারণা বদলে যায়। একসময় সে জার্ভিসকে পছন্দ করাও শুরু করে। কিন্তু যখনই সে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখনই তার সবকিছু ঘোলাটে হয়ে আসে। জার্ভিস যদি জুডির ফ্যামিলি হিস্ট্রি জানে হয়ত সে তাকে আর মেনে নিবেনা। এর মধ্যে জুডি তার প্যাশন ঠিক করে। জুডি যতই চঞ্চল হোক না কেন তার লেখার হাত বেশ ভাল ছিল। তার লেখা essay ই তাকে এই স্কুলে পড়ার সুযোগ দেয়। একজন এ্যাস্পায়ারিং রাইটার হিসেবে স্কুলেও সে পরিচিতি পায়। এরপর সে ম্যাগাজিনে তার ছোট গল্প পাঠানো শুরু করে। প্রথমবার ছাপালেও পরে তার লেখা রিজেক্ট হয়। নিজের প্রতি হতাশা ঘিরে ফেলে তাকে। আবার অন্যদিকে দেখা যায় সে নিজের খরচ চালানোর জন্য টিউশন শুরু করে। সে স্বাধীন হতে চায়। অন্যের উপর নির্ভর করে থাকা – এই ব্যাপারটা সে মানতে পারেনা। কিন্তু জন স্মিথ তাকে নিষেধ করে দেয়। এর কারণে সে তার ‘বাবা’র প্রতি মনঃক্ষুণ্ণ হয়ে চিঠিও দেয়। এরকম মানসিক টানাপোড়ন আর চড়াই উৎরাই পার হয়ে তার গ্র্যাজুয়েটের দিন ঘনিয়ে আসে। যেহেতু কামিং অফ এজ স্টোরি, তাই পুরো গল্প জুড়ে জুডির মানসিক অবস্থা, চিন্তা ভাবনা এবং তার মানসিক পরিপক্কতা সবকিছুর চিত্র পাওয়া যায়। অনেক কিছুই রিলেটেবল মনে হয়। অনেককিছু মনে হয় আমি নিজেই ফেস করছি।
এই এনিমের যে বিষয়টা সবচেতে ভাল লেগেছে তা হল জুডির চিঠিগুলো। খুব ইন্টারেস্ট নিয়ে পড়েছি। মানে জুডি পড়ে শোনায় আর কি। আর শুধু জুডি নয়, জুলিয়া ও স্যালির মানসিক পরিবর্তন ও অবাক করে দেয়। আর টিনেজ বয়সের প্রেম যখন সিরিয়াস হয়ে যায়, সেই ট্রানজিশনটাও ভাল লেগেছে। অনেক মোমেন্ট ছিল যখন জুডির ব্লাশিং দেখে নিজেই ব্লাশড হয়েছি। জুডির সাথে সাথে যেন নিজেও আরেকটু বড় হয়েছি। আর সবচেয়ে বড় কথা এই গল্পের হ্যাপি এন্ডিং। যদিও বেশকিছু জায়গা ক্রিঞ্জওয়ার্দি ছিল কিন্তু এমন সুখের সমাপ্তির কাছে তা কিছুই না।
এই এনিমে দেখার দুটো ওয়ে আছে। ১৪/১৫ এপিসোডের পরে স্পয়লার জেনে ফেলা আর নাহয় শেষ এপিসোড পর্যন্ত অপেক্ষা করা। আমি এ্যাক্সিডেন্টলি স্পয়লার জেনে গেছিলাম। প্রথমে ব্যাপারটা নিয়ে খুব বিরক্ত হলেও পরে মজাই পেয়েছিলাম। এবং মনে হল শুধুমাত্র স্পয়লার জানার কারণেই আরও বেশি উপভোগ করতে পেরেছি। মন ভালো করে দেয়ার মতই এনিমে।

Comments

comments