নোট: আপনি যদি শুধু আনিমে দেখে থাকেন (যেটার সিজন টু বেরোতেও পারে), তাহলে আপনি মাঙ্গার কাহিনীর হয়ত ওয়ান থার্ডের মত দেখেছেন। আমি রিয়েকশন পোস্ট আন-স্পয়লারিশ রাখার চেষ্টা করব, তারপরেও কিছু স্পয়েল করে দিলে দুঃখিত।

প্রথমত, এটা একটা coming-of-age গল্প, সেইখানে অস্বীকার করার কিছু নাই। কিন্তু এটা আপনার এভারেজ কামিং-অফ-এজ মাঙ্গা না। সিনোপ্সিস দেখতে গেলে আপনি দেখবেন সেখানে লেখা –
কাসুগা তাকাও, যে অনেক গভীর সাহিত্যিক জিনিস-পত্র পড়ে। সে ক্লাসের সায়েকি নামে এক মেয়েকে পছন্দ করে, অনেকটা অবসেশনের পর্যায়েই, এবং একদিন হঠাত ঝোঁকের মাথায় সে সায়েকির gym clothes চুরি করে বসে। এবং এই সময়েই সে ধরা পড়ে ক্লাসের ‘সাইকো’ মেয়ে নাকামুরার কাছে। এখানে শুরু হয় নাকামুরার ব্ল্যাকমেইল।
আকু নো হানার সিনোপ্সিস পড়ে কোনভাবেই প্রকৃত গল্পের টোন সম্বন্ধে আইডিয়া পাওয়া সম্ভব না। পড়ে মনে হতে পারে একটা পার্ভার্টেড ধরণের গল্প হতে পারে। কিন্তু পুরো টোনটা আসলেই অন্যরকম। মাঙ্গায় অনেক বেশি লিটারেসি রেফারেন্স আছে, প্রায় কিছুই কমন পড়ে নি। তবে টোনটা, কমন anarchic টোনটা ধরা খুব একটা কঠিন না। আর সেটাই গল্পকে মূলত ড্রাইভ করে নিয়ে যায়। অন্যতম মূল চরিত্র, নাকামুরার মত চরিত্র হিস্ট্রিতে, ফিলসফিতে কম দেখা যায় না। যেন সে অনেক কাছ থেকে সোসাইটিকে দেখেছে। সমাজের মানুষের দৈনন্দিন জীবন, জীবিকার জন্য তাড়না, একটা রুটিনময় জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একইভাবে চলা, যে শহরে জন্ম সে শহর থেকে এক পাও বাইরে না দেওয়া, এসব কিছুই যেন তার কাছে অনেক অর্থহীন। আশেপাশের সকল মানুষকে তার মনে হয় ফাঁকা খোলসের মত।
এসব কিছু থেকেই বের হওয়ার ইচ্ছা তার। পারলে সে সাথে বের করে আনবে তাকাও কে। গল্পের প্রথম অংশ মূলত তার “Other side” এ যাওয়ার ইচ্ছা নিয়েই। আশেপাশের এই নর্দমার কীটদের মধ্য থেকে বের হয়ে, সে চলে যেতে চায় অন্য পারে। যেখানে এসব থাকবে না তার আশেপাশে।
চরিত্রায়নকে আমি বেশিই ভালো বলব। আমি পড়তে পড়তে মাঝে মাঝেই চিন্তায় পড়ে যেতাম, কোন চরিত্রটা বেশি ‘অসহ্য’, ক্যাওটিক। মাঙ্গাকা যা করতে চেয়েছেন ভালোমতই করেছেন মনে হয়। মূল চরিত্র, তাকাওকে একটা বিশাল সময় ধরে স্পাইনলেস একটা এম্পটি ক্রিচার ছাড়া কিছু মনে হয় না। মোটামোটিভাবে মাঙ্গার দ্বিতীয় ভাগের একটা সময়ের আগ পর্যন্ত কখনোই আমার তারে ভাল্লাগে নাই।
আর্টওয়ার্ক প্রথম দিকে জেনেরিক ও মিনিমাল ছিল। খুব আহামরি কিছু না। ধীরে ধীরে শেষের দিকে গিয়ে আর্টওয়ার্ক বেশ খানিকটা ইম্প্রুভ করে। তবে পুরো সময়েই যে জিনিসটা বেশ ভালো নজর কেড়েছে, তা হল ভিজুয়ালস।
আর শেষে এনজয়মেন্টের দিক দিয়ে বলব, পড়তে পড়তে যতই মেজাজ গরম হোক, রেখে দেওয়ার মত ছিল না। আকর্ষণ ধরে রেখেছে শেষ পর্যন্ত। গল্পের দ্বিতীয় পার্ট প্রথম পার্টের তুলনায় খানিকটা বেশি soothing ছিল, পরিবর্তনটা ভাল্লাগসে। পুরো গল্পে আমার সবচেয়ে প্রিয় চরিত্রের আবির্ভাবও মূলত এই সময়েই হয়।
সব মিলিয়ে বেশ বেশ ভালো একটা মাঙ্গা আকু নো হানা। তবে এটা স্বীকার করতেই হবে সবার জন্য না। আপনার যদি একটু ডার্ক ধরণের সাইকোলজিকাল গল্প ভালো লেগে থাকে তাহলে ট্রাই করে দেখতে পারেন। এ কথা মনে হয় এর আগে বলেছিলাম Goodnight Punpun এর ব্যাপারে।
MAL rating:
manga – 8.15
anime – 7.19
আমার মাঙ্গা রেটিং – 8.5
