মাঙ্গা এবং আনিমে সাজেশন: Ajin — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ajinঅমরত্ব! মানুষের জীবধনের সবচেয়ে আকাঙ্খিত জিনিস। প্রাচীনকালে নরবলি, রক্তপান, দেবতার পূজা, শয়তানের পূজা, আলকেমি কত কিছুর না মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অমরত্ব পাবার জন্য। কিন্তু একদল লোক দুনিয়াতে জন্ম নিল যারা অমর। রোলার দিয়া চাপা দিন, বড় ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করুন, পুড়িয়ে দিন। লাভ নেই, আবার বেচে উঠবে। এদের আর্সেনালে আরেক অস্ত্র আছে। কালো ভূত যা সাধারণ মানুষের কাছে অদৃশ্য। তো এই আজিনদের অমরত্বের কারণে তাদের মানুষ বলে বিবেচনা করা হয় না। এদের ধরে টর্চার চালানো হয় যা সবচেয়ে স্যাডিস্ট সাইকোও ভেবে বের করতে পারবে না। তো এইরকম একজন আজিন কেই কে নিয়েই কাহিনী যে সদ্য ট্রাকচাপা পড়ে আবিষ্কার করে সে আজিন।
তো এসব বকর বকর বাদ দিয়ে আসল কথায় আসি। আপনি আজিন দেখবেন বা পড়বেন কেন!? পড়বেন সাতোউয়েয় জন্য। দেখতে নিরীহ বুড়ো ভালমানুষ। যেন এইমাত্র মর্নিংওয়াক করে আড্ডা দিয়ে বাসায় ফিরবে। কিন্তু এই ভালো মানুষ সাউতো একজন স্যাডিস্ট সাইকো যার হাতে ইমারটলিটির গিফট এবং ক্ষুরধার বুদ্ধি আছে। কেই কে রিসার্চ সেন্টার থেকে বের করে আনা, ভালো মানুষ মার্কা অভিনয়, এবং রক্তপিপাসা আপনার কাছে ভালো লাগতে বাধ্য। মাঙ্গায় তার প্লেন নিয়ে তেলেসভাতি কখোনো ভুলবো না। সাউতোর লক্ষ্য কি?! আসলে কোন লক্ষ্য নাই। নোলানের ডার্ক নাইটে আলফ্রেডের এক বিখ্যাত উক্তি “কিছু লোক দুনিয়াতে খালি জ্বলতে দেখেতে চায়, আর কিছু না,,। সাইতো আর জোকার একই ঘরের মানুষ। ভায়োলেন্স এদের প্রেরণা।

এনিমেটা CGI বলে অনেকে পছন্দ করছে না কিন্তু এই ইফেক্টই আজিনের উপযোগি। বিশেষ করে এনিমের হরর বা গোথিক টাইপের সাউন্ডট্র্যাক। বিষেষ করে আজিন প্রাণ ফিরে পাবার সময় যে কড় কড় শব্দ হয়। এই এনিমের মেইন ক্যারেকটার কেই আর অন্যগুলোও অস্থির। মাঙ্গাটা অবশ্যই ফলো করবেন। আর্ট কাহিনী অনেক ভালো। টোকিও ঘুউল রে এর পরে সবচেয়ে অস্থির সাইকো হরর মাঙ্গা পড়ছি আজিন!
মাঙ্গা অনগোয়িং, আনিমে কমপ্লিট তবে এন্ডিং চেইন্জ কর দিসে। ফলো করার মত জিনিস এটা।
দশে এটা নয় সহজেই পাবে। আশা করি সবার ভালো লাগবে!

Boku dake Ga Inai Machi (Erased) [Review] — Ashraful Ribat

Erased 1

অ্যানিমে: Boku dake Ga Inai Machi (Erased)
এপিসোড: 12 (complete)
জন্রা: fantasy/thriller/Seinen

গার্লফ্রেন্ড এর কন্টিনিউয়াস রিকুয়েস্ট এর জালায় শেষ পর্যন্ত দেখতে বসি বর্তমানে বিখ্যাত এবং বছরের অন্যতম সেরা অ্যানিমে *Boku dake Ga Inai Machi* বা ইংরাজিতে *Erased*
যদিও *Boku dake ga inai machi (僕だけがいない街 ..এর মানে হল :- The Town Where Only I am Missing).

 

 

 

কাহিনীঃ মাংগাকা Kei Sanbe এর মাস্টারপিস মাংগা *বোকু দাকে গা ইনাই মাচি* অবলম্বনে নির্মিত। ২৯ বছর বয়সি ফুজিনামা সাতোরু কে কেন্দ্র করে কাহিনী গড়ে ওঠে যার এক আশ্চর্য ক্ষমতা আছে। তার আশেপাশে কোনো মারাত্মক কিছু ঘটলে সে টের পায় আর সে অতীতে সেটা ঘটার ঠিক পূর্বমুহূর্তে চলে যায়, আর সেই ঘটনাটাকে পরিবর্তন করে। সে তার এই টাইম ট্রাভেলিং-কে Revival বলে। প্রত্যেকবার এই revival হওয়ার ঠিক আগে তার আশেপাশে একটা নীল মথ/প্রজাপতি উড়তে দেখা যায়। তার এই revival হতে থাকে ততোক্ষন পর্যন্ত, যতোক্ষন পর্যন্ত ওই মারাত্মক ঘটনা ঘটার কারণটা মুছে না যায়। (হয়তো এজন্যই এর আরেক নাম Erased?)

Erased 2

তো সাতোরু সান একদিন তার *ইয়োকাই* মা-এর সাথে বাজার করে বাড়ি ফিরতে থাকে ( সাতোরু তার মা কে *ইয়োকাই/ ভূত বলে… কারন তার মা ৫২ বছর বয়সী হলেও দেখতে ঠিক যেন ১৮ বছর আগের মতো… চেহারায় বয়সের কোন ছাপ নেই।) বাজার থেকে মা-র সাথে ফিরছে… হঠাৎ তার revival হল। সাতোরু খোঁজা শুরু করল কি সমস্যা, কি এমন ঘটতে চলেছে, কিন্তু এতো খুঁজেও পেল না কেন revival টা হল। কিন্তু সাতোরুর মা ঠিকই কিছু একটা টের পেল। শুধু তাই নয়, সাতোরুর মা তখনি খুঁজে পেল কে আসল খুনি, যে আজ থেকে ১৮ বছর আগে ৩ টা বাচ্চাকে খুন করেছিল। আর এ জন্যই সাতোরুর অনুপস্থিতি তে খুনি এসে খুন করে গেল সাতোরুর মা কে। সাতোরু বাসায় ফিরে দেখল তার *ইয়োকাই মা মরে মেঝেতে পরে আছে। লাশ উল্টাতেই রক্ত তার হাতে লেগে গেল। আর এমন সময় এলো তার প্রতিবেশী মহিলা, যিনি তা দেখে সাতোরু কে খুনি ভেবে পুলিশ ডাকলেন। সাতোরুর revival ঘটল… কিন্তু এইবার সে চলে গেল ১৮ বছর আগে। যেখানে সে এলিমেন্টারি স্কুলবয়। সেখানে সে দেখা পেল তার পুরনো বন্ধুদের, কেনয়া, হিরোমি, কুমি, সাচিকো আর অবশ্যই হিনাজুকি কায়ো।
সাতোরু নিজের কাছে প্রতিজ্ঞা করে, সে শুধু তার মাকে বাচাঁবেই না, সেই সাথে ১৮ বছর আগে খুন হওয়া ৩ জনকে বাঁচাবে… সেই সাথে তাদের খুনিকেও খুঁজে বের করবে। প্রচন্ড করুন ও নির্মম ভাগ্যের অধিকারিণী হিনাজুকি কায়ো কে বাচাঁনোর চেষ্টা শুরুর মধ্যদিয়েই সে শুরু করে তার মিশন। এর পর চলতে থাকে কাহিনী যা বাঁকে বাঁকে মোড় নিতে থাকে বিভিন্ন দিকে। এই পুরো সময় তার বিশ্বস্ত বন্ধুদের সাথে সাথে তাদের সাহায্য করতে থাকে *ফাদারলি ফিগার* Yashiro সেনসেই। এই অমায়িক পিতৃতূল্য সেনসেই টি তাদের কতই না সাহায্য করেন।

Erased 3

অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর সাতোরু তার মিশন সাকসেসফুলি শেষ করে…কিন্তু…

নাহ্… কিন্তুটা নাহয় নাই বললাম যারা দেখেনি তাদের খাতিরে..? *sigh*
কাহিনীর আরেক চমকপ্রদ ক্যারেকটার কাতাগিরি আইরি যার প্রয়োজনীয়তা আমরা শেষ মুহূর্তে দেখতে পাই ।

অনেকের মতে এই অ্যানিমে টার এন্ডিং ভালো হয়নি। আমি বলব এর এমন চমৎকার এবং কম্পলিকেটেড এন্ডিং এর জন্যই বরং সবাই একে মনে রাখবে অনেকদিন। এমন দুঃখ মেশানো বাস্তবতার বেড়াজালে ঘেরা এই ফ্যান্টাসি অ্যানিমেটি, যা গল্পের মুল নায়কের ফিলিংসগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করে, যেন প্রটাগনিস্টের ফিলিংসগুলো আপনার নিজের ফিলিংস। যা হয়তো আমার মতোই আপনারো চোখের কোনে আপনারি অজান্তে এনে দিতে পারে অশ্রুবিন্দু।
ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্ট প্রশংসনীয়… আর স্টোরির কথা আলাদা করে নাই বললাম।আর অবশ্যই opening এবং ending সং দুটো সত্যিই *heart touching*..বিশেষ করে ending song টা (সায়ুরি-র : Sore wa Shiisana Hikari no Youna) যা আমার অশ্রুবিন্দুর কারন ছিল।

Erased 4

অ্যানিমেটা দেখে এতোই আবেগভুত হয়ে পরলাম যে লিখে ফেললাম রিভিউটি। যারা এখনো দেখেননি তারা দ্রুত দেখুন। আর যারা দেখেছেন তাদের জন্য আরেকটি বিষয়। কেউ কি পুরনো opening এবং নতুন opening খেয়াল করেছেন? প্রথমে opening song এ সাতোরু ছিল… কিন্তু পরে তাকে opening song এর ভিডিওটি থেকে মুছে দেয়া হয়।
[link of comparison between old Op & new Op :https://www.youtube.com/watch?v=wJ2ZteesF5Y]

সবশেষে আমার বাকা জিএফ-কে অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাই এই অ্যানিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।
আমার পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০

Erased 5

Jin-Roh: The Wolf Brigade [Movie Review] — Rafiul Alam

Jin-Roh 1

“That’s the nature of counterintelligence. The side which correctly anticipates the moves of the other and strikes first has the advantage.”

৯০ দশকের মুভি, মামোরু ওশি, প্রোডাকশন আইজি। রিংস এনি বেল?
-ঘোস্ট ইন দ্যা শেল?
-ঠিক। কিন্তু আজকে যে আনিমের কথা বলব, তা উপরের তিনটি শর্তই পূরণ করেছে, কিন্তু Gits এর মত দর্শকপ্রিয় হতে পারেনি একদমই।
জিন রো (উলফ ব্রিগেড) মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালের নভেম্বরে। জাপানে তার পরের বছর।রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণ , সিম্বোলিজমের ব্যাবহার ও এবং ওশির নিজস্ব স্টাইলের দৃশ্যায়নের কারণে মুভিটি অনন্য শৈল্পিকতা লাভ করেছে, যার কারণে আর দশটি এনিমের সাথে সরাসরি তুলনায় যাওয়া কঠিন। এনিমেটির সিনেমাটোগ্রাফি, ক্যারেক্টার ডিজাইন এবং এবস্ট্রাক্ট শটগুলো খুবই রিয়েলিস্টিক ছিল। একই সাথে আমার কাছে “ফুড ফর থট” ধরনের কোন এনিমে সাজেশন চাওয়া হলে জিন রো এর নাম সবার আগে বলব, নির্দ্বিধায়।

Synopsis : সময়টা ৫০ এর দশক। অল্টারনেটিভ হিস্টেরিক টাইমলাইন, যেখানে জাপান জার্মানির কাছে পরাধীন । ঘটনার শুরুতে ছোট্ট করে একটা ন্যারেশন দেয়া হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী জাপান ঘুরে দাড়ানোর জন্য কি করে এবং তার সামগ্রিক ফলাফল কি ধরনের হয় তার উপর। যাতে বলা হয় জাপানের দ্রুত, আগ্রাসী অর্থনৈতিক বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাপক শ্রেণি বৈষম্য ও বেকারত্ব দেখা দেয়। ফলে সরকার বিরোধী দাঙ্গা দেখা দেয় নিয়মিতভাবে, এবং সময়ের সাথে সাথে বিপ্লবীরা আরও সংগঠিত হতে থাকে। চূড়ান্ত পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে গঠন করা হয় “Kerberos Panzer Cops” বা এলিট পুলিশ স্কোয়াড। তো একদিন দাঙ্গা ভয়াবহ রূপ নেয়। স্ক্রীণে একটি বাচ্চা মেয়েকে দেখা যায়, যে কিনা বিপ্লবীদের স্পাই। মেয়েটির সহায়তায় পুলিশের উপর বোমা নিক্ষেপ করে দাঙ্গাবাজরা। যাতে পরিস্থিতি আরও এলোমেলো হয়ে যায়, কেরবেরস স্কোয়াড আন্ডারগ্রাউন্ডে হামলা চালাতে বাধ্য হয়। জার্মান অস্ত্র MG-13 মেশিনগান, নাইট ভিশন গগলস ও পুরু আর্মরের নিচে প্রশিক্ষিত যোদ্ধাদের সামনে বিপ্লবীদের অবস্থা হয় ফাদে পড়া ইঁদুরের মত। গোলাগুলির মাঝে সেই মেয়েটি পালিয়ে যাওয়ার চেস্টা করে, কিন্তু কেরবেরস বাহিনীর এক সদস্যের হাতে পড়ে যায়। এখন মুক্তির একমাত্র উপায় হিসেবে আত্নঘাতী বোমা বিস্ফোরণ করে সে। এরপর ন্যারাটিভ বিপরীত দিকে ঘুরে যায়। সেই কেরবেরস পুলিশ,যার কাছে মেয়েটি ধরা খেয়ে যায়, সে তার মুখোশ খুলে। হতবাক, বিভ্রান্ত। জানা যায় তার নাম কাজুকি ফুসে। উপরের থেকে তার উপর নির্দেশ ছিল মেয়েটিকে গুলি করার জন্য। তার বিবেকের কারণে সে পারেনি। কিন্তু দিনশেষে এটা একটি ভুল। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে পুরো স্কোয়াডকে তার খেসারত দিতে হত। ভাগ্য খুবই ভাল থাকায় শুধু সামান্য চোট পায় কাজুকি। কিন্তু মনের ভিতর ঝাঁকুনি দিয়ে যায়। সে বোঝার চেস্টা করে, “কেন?”। এতসব সহিংসতা, এত দৃঢ় প্রতিজ্ঞা, কিসের আশায়? যা জীবনের চেয়েও মুল্যবান?
আত্না শান্ত করতে সে মেয়েটির ধ্বংসাবশেষে শ্রদ্ধা জানাতে যায়। সেখানে পরিচিত হয় মেয়েটির বড় বোন কেই আমেমিয়ার সাথে। তাদের মাঝে এক অন্যরকম সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এইখানেই সবচেয়ে ইন্টেরেস্টিং মেটাফরের আগমণ ঘটে। সিনেমার মূল স্টোরির সমান্তরালে Little Red Riding hood গল্পটির বর্ণনা করা হয়। সময়ের সাথে দর্শক বুঝতে পারবেন যে তা দিয়ে কি বোঝানো হচ্ছে।

Theme setup, Animation and Music : আনিমেতে সরাসরি একবারও বলা হয়নি যে জাপানকে জার্মানি দখল করে নিয়েছে। কিন্তু আকারে ইংগিতে বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরা হয়েছে। মুভিটিতে ৫০ দশকের জাপান, তখনকার চূড়ান্ত শাসন ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার চিত্র দক্ষতার সাথে তুলে ধরেছেন ডিরেক্টর হিরুয়ুকি। তৎকালীন সমাজের বাস্তবতা ভিন্ন পরিস্থিতিতে কিরকম হতে পারে, তার উপাস্থাপনা এক কথায় ইনজিনিয়াস ছিল। ল্যান্ডস্কেপ ও এবস্ট্রাক্ট সিনগুলো ছিল ক্ষুরধার। যেন কোন গল্প বলতে চাচ্ছে। আরও অবাক লেগেছে জেনে, যে এত মুগ্ধকর সিনেমাটোগ্রাফির সিনেমার ফ্রেমগুলি নাকি হাতে আঁকা। এবার আসি মিউজিকে, দায়িত্বে ছিলেন সবার প্রিয় ইয়োকো কানো। সিনগুলোর সাথে মিউজিক খাপ খাওয়ানো হয়েছে, কোন জোরাজুরি নেই। কথোপকথনের সময় ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন শব্দ ছিল না, বরং সাইলেন্ট পজ ছিল। ফলে দর্শককে আরও মনযোগী হতে হয়।

Characters Setup : নায়ক, নায়িকা আর দুই পক্ষের লোকজন। অনেক বেশি এলিমেন্ট নেই। কিন্তু এই কয়েকজন মানুষের সম্পর্ক চমৎকারভাবে দেখানো হয়েছে। চরিত্রগুলো বাস্তব। তারা টু ডাইমেনশনাল, স্টেরিওটিপিকাল, ক্লিশে কোন ফিলসফির কারণে গতিশীল না। সবারই এজেন্ডা আছে, ইচ্ছা আছে, নিজস্ব মোরালিটি আছে। তাদের মাঝে ভাল আর খারাপের দাগ টানতে পারবেন না। জিন রো আপনাকে এমন একটা জগতে নিয়ে যাবে, যেখানে দিনশেষে কোন এট্যাকার আর ভিক্টিম নেই। যেখানে মানুষের না পাওয়ার তিক্ততা আছে। কিন্তু কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবেন না। কারণ আপনি ক্লান্ত।

Overall Rating :
MyAnimeList.net: 7.87/10
IMDb:  7.6 /10

Jin-Roh 2

Behind the Voices – 19

 

Yonaga Tsubasa

ইয়োনাগা সুবাসা সাধারণত ছোট ছেলে অথবা কিশোর এরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য ব্যপকভাবে পরিচিত । তার কণ্ঠতেই আলাদা একটা বাচ্চাদের মত টান আছে এবং এর জন্যেই এরকম চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ায় তার এত দক্ষতা । তার ট্র্যাপ চরিত্রেরও কণ্ঠ দেওয়ার খ্যাতি আছে । তবে ইয়োনাগা সুবাসা কিন্তু অনেক পরিচিত কণ্ঠ অভিনেতাদের তুলনায় বয়সে বড় ।

ইয়োনাগা সুবাসা সবচেয়ে বেশি পরিচিত তার Free! আনিমেটিতে নাগিসা চরিত্রটির জন্য । তবে এছাড়া তার আরও বেশ কিছু চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিতি আছে, চরিত্রগুলো হল Cardfight Vanguard!-এর সেন্দৌ আইচি, Ookiku Furikabutte-এর রেন মিহাশি, Chihayafuru-এর ডেস্কতোমু এবং Arcana Familia-এর নোভা । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল Yowamushi Pedal-এর মানামি, Tasogare Otome x Amnesia-এর তেইচি নিয়া, Free!-এর নাগিসা Chihayafuru-এর ডেস্কতোমু এবং Donten ni Warau-এর চূতারৌ ।

তিনি এখনও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে ঢুকেন নাই । তবে Free!, Arcana Familia এবং Yowamushi Pedal এই আনিমেগুলোর কাস্টের সঙ্গে দলীয়ভাবে আনিমেগুলোর কয়েকটি এন্ডিং গেয়েছেন ।

তার জন্ম জানুয়ারি ১৫, ১৯৮৪ এবং সেইয়ূ ইয়ুকা নিশিগাকির সঙ্গে তিনি বিবাহিত । তার কণ্ঠ অভিনয়ের কাজ বেশ ভালোই লাগে, তাই সামনে তার আরো ভালো ভালো রোল দেখবো এ নিয়ে আশাবাদী ।

Yonaga Tsubasa

 

Tanaka Rie

তানাকা রিয়ে তার আবেদনময়ী কণ্ঠের জন্য ভক্তদের সবচেয়ে বেশি পরিচিত । একসময় প্রতি সিজনেই ভালো পরিমাণ রোল পেলেও আজকাল তার রোল একেবারেই নেই । তবে একজন দক্ষ কণ্ঠ অভিনেত্রীর ভাবমূর্তি সে আগেই গরে নিয়েছেন ।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল Mobile Suit Gundam Seed-র ল্যাকাস ক্লাইন, Chobbits-র চি এবং ফ্রেয়া, Hayate no Gotoku-র মারিয়া, Rozen Maiden-র সুইগিন্তৌ । কিছু আনিমেতে একাধিক রোলও দিয়েছেন তিনি, তার এক উদাহরণ হল Katekyo Hitman Reborn! । এই আনিমেটিতে মূলত বিয়াঙ্কির কণ্ঠ দিলে পাশাপাশি হিবার্ড এবং উরির কিউট কণ্ঠও সে দিয়েছে । এছাড়া কুকুর এবং বিড়াল পালার জন্যও তার খ্যাতি আছে । তার অনেক রোলই আমার বেশ পছন্দ । আনিমে ইন্ডাস্ট্রির সাথে সে জড়িত ১৯৯৭ সাল থেকে । হাইস্কুল শেষ করার পরপরই, সে টোকিয়োর এক নামকরা আনিমেশন কম্পানির সাথে কাজ করে এবং তার কিছু চরিত্রের গানের রোলটাও সে নেয় ।

তবে সবচেয়ে পছন্দের রোল হল ৩ টা Katekyo Hitman Reborn!-এর বিয়াঙ্কি, Girls und Panzer-এর নিশিযুমি মাহো এবং Hayate the Combat Butler-এর মারিয়া । এছাড়া Chobbits-এর চি এবং Tears to Tiara-এর ওক্টাভিয়া এই দুইটা রোলও বেশ পছন্দ ।

অনেক আনিমের ইন্সার্ট সং, ওপেনিং এবং এন্ডিং গেয়েছেন তিনি । তবে এমনে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে জড়িত হয়ে তিনি তেমন একটা সাফল্য পায় নাই । সে এই পর্যন্ত 24 Wishes এবং Garnet নামক এই দুইটা অ্যালবাম বের করেছেন । এছাড়া তিনি Steel Angels নামক এক গায়িকাদের গ্রুপের সদশ্য, যার বাকি দুইজন সদশ্য এনোমোতো আৎসুকো এবং কুরাতা মাসায়ো এই দুইজন সেইয়ূ ।

তার জন্ম ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৯ এবং কণ্ঠ অভিনেতা কৌইচি ইয়ামাদেরার সঙ্গে বিবাহিত । তিনি একজন অসাধারণ কণ্ঠ অভিনেত্রী এবং অনেক নতুন তাকে রোল-মডেল হিসেবে দেখে ।

Tanaka Rie

Behind the Voices – Special Episode 01

 

Akasaki Chinatsu

আকাসাকি চিনাৎসুর অভিষেক কায়ানো আই, মায়া উচিদা এবং তানেদা রিসা তাদের সঙ্গে প্রায় কাছাকাছি সময়েই। রোলের পরিমাণ তুলনা করলে তাদের তুলনায় অনেক পিছিয়ে আকাসাকি চিনাৎসু। তাদের তুলনায় নাম-ডাকও তেমন নেই । তবে চিনাৎসুর কিছু কিছু সলিড রোল আছে যার মাঝে তিনি নিজের সেরাটা দিয়েই পার্ফম করেছে এবং এমনভাবে তুলে ধরেছে যে সেই চরিত্রটি তার চেয়ে আর কেউ ভালোভাবে তুলে ধরতে পারবে না। অন্তত এই রোলগুলোর জন্য আকাসাকি প্রশংসনীয়।

তার সেরা রোলগুলো হল Shokugeki no Souma-র অ্যালিস নাকিরি এবং Chuunibyou demo Koi ga Shitai-র নিবুতানি শিঙ্কা। তার করা রোলগুলোর মাঝে আমার সবচেয়ে পছন্দ Love Lab-এর মাকি নাৎসুয়ো। চরিত্রটা তার চেয়ে সুন্দর করে তুলে ধরতে পারবে না আর কেউ, অন্তত আমার তা মনে হয়। এছাড়া Oreshura-র হারুসাকি চিওয়া এবং Gingitsune-র ইকেগামি ইয়ুমি এই দুটো রোল বেশ পছন্দের সাথে Shokugeki no Souma-র অ্যালিস নাকিরি এবং Chuunibyou demo Koi ga Shitai-র নিবুতানি শিঙ্কা তো আছেই।

মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির সাথে তেমনভাবে জড়িত নয়। তবে Chuunibyou demo Koi ga Shitai, Fantasia Doll এবং Oreshura-র ওপেনিং/এন্ডিং সেই আনিমেগুলোর কাস্টের সাথে গেয়েছেন।

তার জন্ম August 10, 1987। এতদিন পর্যন্ত খুব বেশি একটা ক্ষ্যাতি না থাকলেও আজ-কাল বেশ নামডাক শুনা যাচ্ছে তার।

Akasaki Chinatsu

 

Takamori Natsumi

তাকামোরি নাৎসুমি এমন একজন সেইয়ূ যার নামডাক একেবারেই নেই বললে চলে । তার মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা মানুষ মনে রাখবে এরকম রোল আছে আর খুব কমই এমন সব রোল পান তিনি। তবে তার যে কয়টা চরিত্র চিনি ওর থেকে যাচাই করলে বেশ ভালো কণ্ঠ অভিনয়ই করেন তিনি সাথে তার কণ্ঠটা কিছুটা ব্যতিক্রমী।

তার জনপ্রীয় রোলগুলো হল Another-র মিসাকি মেই, Sakurasou no Pet na Kanojo-র কামিগুসা মিসাকি এবং Highschool DXD-র সৌনা সিট্রি। অথচ এই তিনটা চরিত্রের স্বভাব তিন রকম, আনিমে ৩টি দেখা থাকলেই বুঝতে পারবেন কি বুঝাইসি। তার সবচেয়ে পছন্দের রোল আমার Sakurasou no Pet na Kanojo-র কামিগুসা মিসাকি আর ১ পর্বের জন্য হলেও SKET Dance-এ মিসাকি নামের চরিত্রটিও আমার বেশ ভালো লেগেছে (এই মহিলা কয়টা মিসাকি করে, মাত্তাকু) সাথে Highschool DXD-র সৌনা সিট্রি রোলটাও ভালো লাগসে। Jojo’s Bizzare Adventures: Stardust Crusaders-এর কোন এক পর্বে পলনারেফের সাথে কিছুখনের জন্য জৌতারোও ছোট হয়ে যায় তখন সেই পিচ্চি জৌতারোর কণ্ঠও দিয়েছিলেন তিনি, তবে জৌতারোর আসল সেইয়ূ হল ওনো দাইস্কে। Girls und Panzer-এর মুভিতেও তার একটি রোল আছে, St.Gloriana-এর নতুন সদশ্য রোজ হিপ (Blu-ray বাইর হইয়া গেসে নেটে এখনো আসে না কেন)।

Sakurasou no Pet na Kanojo, Houkago no Pleiades, Denki ga Honya-san, Pretty Rhythm এই আনিমেগুলোর ওপেনিং অথবা এন্ডিংয়ে তার কণ্ঠ ছিল। তার জন্ম February 14, 1987। সব মিলিয়ে ভালো কণ্ঠ-অভিনেত্রী, সামনে তার আরও রোল দেখতে চাই।

Takamori Natsumi

আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Akagami no Shirayuki-hime 1

আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে
ইংরেজি নামঃ রেড-হেয়ারড স্নো হোয়াইট
জানরাঃ হিস্টোরিক্যাল, ফ্যান্টাসি, শৌজো, রোমান্স, ড্রামা
অবস্থাঃ চলমান
চ্যাপ্টারঃ ৭৪+
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৪১
ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০

রূপকথার গল্প কার না ভালো লাগে? এমন কাউকে বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না যে ছোটবেলায় রূপকথার গল্প পড়ে, শুনে কিংবা দেখে বড় হয়নি। সে সময় রাজকন্যা, রাজপুত্র, রাজা, রাণী, রাজপ্রাসাদের গল্পগুলো কতই না আকর্ষণীয় লাগত। শিশুমনের কল্পনার রাজ্যে এগুলোই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে থাকত। তবে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠার পর সেই আকর্ষণটা আর তেমন থাকে না। এসব বর্তমানে অলীক ব্যাপার নিয়ে কল্পনার রাজ্যে গা ভাসানোর জন্য যে আমরা খুব বড় হয়ে গেছি! ওসব আর মানায় না। তবু বুকের গভীরে কোথাও হয়ত সেই ভালোলাগাটা রয়েই যায়। ছোট কাউকে গল্পের বই পড়তে দেখলে এখনো স্মৃতিকাতর করে তুলে। তবে যদি এমন এক রূপকথার গল্প পাওয়া যায় যা এই বয়সেও সমানে আপনার আকর্ষণ ধরে রাখতে পারে তাহলে নিশ্চয়ই মন্দ হয় না। আর মানের দিক থেকে তা যদি হয় আর দশটা সাধারণ গল্পের চেয়েও ভালো তাহলে তো সোনায় সোহাগা! এমনই এক রূপকথার মাঙ্গা আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে।

তানবারুন রাজ্যে বাস করে শিরায়ুকি নামের এক মেয়ে। শিরায়ুকির চুল লাল বর্ণের যা অনেক বিরল। এই বিরল চুলই বিপক ডেকে আনে শিরায়ুকির জন্য। তানবারুনের পাগলাটে স্বভাবের রাজপুত্র রাজি লালচুলো শিরায়ুকির কথা জানতে পারে। তাকে প্রস্তাব দেয় কনকিউবাইন হবার। কিন্তু শিরায়ুকি যে কারো হাতের পুতুল নয়। স্বাধীনচেতা শিরায়ুকি নিজেকে রাজপুত্রের হাতে সঁপে দিতে রাজি নয়। সে বেঁচে থাকতে চায় নিজের মত করে। তাই সে এই বিপদ ডেকে আনা লম্বা লাল চুল কেটে ফেলে তার নিজের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় পাশের রাজ্য ক্লারিনেসে। সেখানে গভীর বনে দেখা পায় তারই সমবয়সী এক তরুণ ছেলে যেনে্র। সাথে যেনের দুই সঙ্গী মিতসুহিদে আর কিকি। শুরুতে সদাসতর্ক থাকা যেনের সাথে শিরায়ুকির সাথে ঝামেলা বাঁধলেও আস্তে আস্তে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবু লাল রঙ যেন তার ভাগ্যের পিছু ছাড়ে না। শিরায়ুকির উদ্দেশ্যে রাজপুত্র রাজির পাঠানো আপেল খেয়ে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হল যেন্। এখন যেনকে কিভাবে বাঁচাবে শিরায়ুকি? আর যেনে্র আসল পরিচয়ই বা কি? কি করছিল সে এই গভীর বনে?

শুরুর দিকে গল্পটি শিরায়ুকি আর যেনে্র দৈনন্দিন জীবন নিয়ে চলতে থাকে। শিরায়ুকির নিজের পায়ে দাঁড়ানোর দৃঢ় ইচ্ছা আর যেনে্র সাথে তার সম্পর্কের অগ্রগতিই থাকে গল্পের মূলবিন্দু। শুধু এতটুকুর জন্যেই মাঙ্গাটি চালিয়ে নেওয়া যায়। তবে একটু একটু করে আরো নতুন জিনিস যোগ হতে থাকে। ছোট ছোট ঘটনাগুলোকে আর্কে ভাগ করে নেওয়া যায়। এরপর থেকেই গল্পটি পরিপূর্ণ রূপ পায়। যেনে্র সাথে শিরায়ুকির সম্পর্কটার জন্যেই অন্তত মাঙ্গাটির একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে যেখানে গল্পটিকে পৌঁছাতে হবে। তাই বর্তমানে মাঙ্গাটি খুব সুন্দরভাবে আগাচ্ছে। কাহিনী দিনকে দিন আরো জমজমাট হয়ে উঠছে।

Akagami no Shirayuki-hime 2

আকা-শিরাকে অনন্য করে তুলেছে এর প্রতিটি চরিত্র। অবশ্যই এক্ষেত্রে সবার আগে শিরায়ুকির কথা বলতে হয়। শিরায়ুকি খুব ভালো, নম্র, ভদ্র একজন মেয়ে। কিন্তু তাই বলে সে সাধারণ শৌজো নায়িকাদের মত স্যাকারিন দেওয়া মিষ্টি মেয়ে না যে অল্পতেই প্রতারিত হবে আর ভেঙ্গে পড়বে। শিরায়ুকিকে রক্ষা করার জন্য আক্ষরিক অর্থেই রাজপুত্র আছে। কিন্তু সে কখনোই তাদের সাহায্যের অপেক্ষায় থাকে না। কারো কাছেই সে মাথা নোয়াবার নয়। নিজের জীবনের পথ সে নিজে বেছে নিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে শিরায়ুকির অন্য একটি দিক আমার তার চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। এখানে অন্য কোন মেয়ে হলে নিশ্চিত কোন এক সময় যেনকে বাংলা সিনেমার মত করে বলত ‘কিন্তু আমাদের সামাজিক অবস্থান যে যোজন যোজন দূরে। আমাদের এ সম্পর্ক কেউ মেনে নেবে না। না, আমি আর এ সম্পর্ক আগাতে দিতে পারি না। তুমি আমাকে ছেড়ে দাও যেন। তাহলে তুমি ভালো থাকবে!!’। শিরায়ুকি এ ধরণের কথাবার্তা কখনো বলেনি এবং সামনেও বলার সম্ভবনা নেই। তার মানে এও না যে সে নিজের সামাজিক অবস্থান ভুলে গিয়ে দাম্ভিকতার পরিচয় দিয়েছে। বরং সে তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এমন এক জায়গায় পৌঁছুতে চায় যাতে একদিন সে যেনে্র পাশে দাঁড়াতে পারে। তার হয়ত টাকাপয়সা, সামাজিক মর্যাদা বা জৌলুস নেই কিন্তু বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে সে ঠিকই ওপরে উঠে আসে।

বাকি চরিত্রগুলোও কেউ কারো চাইতে কম যায় না। রাজপুত্র, প্রভু, ছোট ভাই বা প্রেমিক যেকোন ভূমিকাতেই যেন্ উয়িস্তালিয়া অনেক আন্তরিক, দায়িত্বশীল আর চিন্তাশীল। সেক্ষেত্রে ওবি একজন রহস্যময় ভৃত্য হলেও যেনে্র কাছে হেরে যায়নি। যেন্ এবং সবাইকে নিয়ে সবসময় দুষ্টামি করা কিন্তু বিশ্বস্ত ওবি বরং জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেক উপরেই আছে। কোন এক ব্যাখাতীত কারণে ওবিকে একটু বেশিই ভালো লাগে। মিতসুহিদে আর কিকির মজার অগ্রগতি দেখার জন্যেও অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন। এই দলটার বাইরে আছে রাজপুত্র ইযানা। শুরুতে আমি শিরায়ুকি আর যেনে্র পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে ভেবে ইযানাকে একটুও পছন্দ করিনি। কিন্তু মাঙ্গা যত এগিয়েছে তত বুঝেছি ইযানা আসলে কেমন মানুষ। সে কি পদক্ষেপ নিচ্ছে আর কেন নিচ্ছে তা বুঝতে পারার পর ইযানাকে তারিফ করতেই হয়। আসলে এখানে অপছন্দ করার মত এমন কোন চরিত্র নেই। আর রাজপুত্র রাজি? ধীরে ধীরে তার মাঝে এতটাই পরিবর্তন আসে যে তাকে নিয়েও আর হাসাহাসি করা যায় না।

আকা-শিরার আর্ট খুব বেশি সুন্দর। আনিমেতে মাঙ্গার একই আর্ট ব্যবহৃত হয়েছে। অ্যানিমেশন যথেষ্ট সুন্দর ছিল। তাও মাঙ্গাতে আর্ট দেখতে আনিমের চেয়ে অনেক গুণ বেশি সুন্দর লাগে। আর্ট দেখলে শুধু আর্টের জন্যেই মাঙ্গা পড়তে ইচ্ছে হবে। আকা-শিরাতে এর নিজস্ব জগতটার জন্য মাঙ্গাকা নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের বাড়ি-ঘর আর পোশাক-আশাকের নকশা করেছেন। এই দিকটি চোখে পরার মত।

এই মাঙ্গাটি এত বেশি ভালো আর নিখুঁত যে এতে দোষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। সমস্যার মধ্যে একটি রাজপ্রাসাদে যত সৈন্যসামন্ত, চাকর-বাকর আর হোমরাচোমরা ব্যক্তিদের ব্যস্ত চলাফেরা দেখা যাওয়ার কথা তা দেখা যায় না এটাই উল্লেখ করা যায়। সেই তুলনায় রাজপ্রাসাদ পুরা ফাঁকা ফাঁকা লাগে। কেউ কেউ রাজপরিবারের কথাও বলতে পারে। যেন আর ইযানা ছাড়া রাজপরিবারের কাউকে দেখা যায় না। কিন্তু সেটা শুধু শুরুতে। মাঙ্গা যত এগিয়েছে তত নতুন সব চমক এসেছে। কিন্তু পরে গিয়ে রোমান্স আগে যা ছিল তার চেয়ে অনেক কমে যায়। অনেকেই এটা নিয়ে অভিযোগ করে। তবে আমার মতে এভাবে শুধু মিষ্টি প্রেমের গল্পকে কেন্দ্র না করে বরং বাস্তবধর্মীভাবে কাহিনী আগাচ্ছে। এতে মাঙ্গাটি আরও বেশি সমৃদ্ধ হয়েছে।

এর আনিমের দ্বিতীয় সিজনটি কিছুদিন আগেই শেষ হল। দুটি সিজনই বেশ ভালোভাবেই মাঙ্গাকে অনুসরণ করেছে। তবু একজন মাঙ্গাপড়ুয়া হিসেবে মনে হয়েছে কিছু একটা নেই। আর দ্বিতীয় সিজন যেখানে শেষ ওখানেই আরও চমকপ্রদ সব ঘটনার শুরু। তাই আনিমে যাদের ভালো লেগেছে তাদের জন্য মাঙ্গা পড়া অত্যাবশ্যক। তবে আনিমেতে মাঙ্গার চ্যাপ্টার আগাপিছা করে অনেক চ্যাপ্টার মিলে একেকটি পর্ব বানান হয়েছে। তাই কোথা থেকে মাঙ্গা শুরু করা উচিত এটা বলা কঠিন। আনিমের শেষ পর্বটি ছিল চ্যাপ্টার ২৯, ৩০ থেকে। তবে চ্যাপ্টার ৩১, ৩২ থেকে আগেই আনিমে বানান হয়েছে। চ্যাপ্টার ৩৩-এ এরপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ শুরু। তাই ওখান থেকেই শুরু করতে পারেন।

প্রতিটি জানরারই কোন কোন সিরিজ থাকে যা ওই জানরার সচরাচর সিরিজগুলোর থেকে আলাদা এবং অসাধারণ হয়। আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে এমনই একটি মাঙ্গা। তথাকথিত জীবনের টুকরা শৌজো মাঙ্গা থেকে এই রূপকথার মাঙ্গা অন্য স্তরের। আনিমে আসার আগ পর্যন্ত এটি ছিল মাঙ্গা জগতের লুকান রত্ন। এখন আর চোখের আড়ালে না থাকলেও রত্নই রয়েছে। তাই সুযোগ পেলে অবশ্যই একবার এই কল্পনার রাজ্যে ডুব দিয়ে আসতে পারেন।

Akagami no Shirayuki-hime 3

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart [Movie Review] — Okkhor Zaman

Anthem of the Heart

Kokoro ga Sakebitagatterunda/The Anthem of the Heart

জনরা: ড্রামা
MAL রেটিং: 8.34
আমার রেটিং: 8.50
সময়: ১ঘন্টা ৫৯ মিনিট

আমরা নিজেদের মুখের শব্দকে ইচ্ছামত ব্যাবহার করি। বন্ধুদের সাথে আড্ডায় বা বিভিন্ন জায়গায় আমরা একে অন্যের নানা ভাবে আলোচনা সমালোচনা করি।।

কিন্তু কখন ও কি ভেবে দেখেছেন এই সব ছোট ছোট কথা একজন মানুষের জীবনে কত্ত বড় প্রভাব ফেলতে পারে!?

এমন ই চিন্তাকে মাথায় রেখে মুভিটার গল্পের শুরু মুভিটার মূল চরিত্র Jun Naruse। চঞ্চল দুরন্ত এই ছোট্ট মেয়েটি তার মনের সব অনুভূতি গুলো সবাইকে জানাতে চায়। কিন্তু Jun এর জীবন এক কষ্টকর অধ্যায় শুরু হয় যখন সে তার বাবাকে স্থানীয় এক ‘লাভ হোটেল’ এ অন্য এক মহিলার সাথে দেখে তা না বুঝেই তার মাকে বলে দেয়। ফল স্বরূপ তার বাবা মায়ের ডিভোর্স হয়ে যায়। বাবা মায়ের ডিভোর্স এর জন্য সে নিজেকে দায়ী করে।
এরপর কাছের এক পাহাড়ে সে এক Egg Prince এর দেখা পায়। এবং সে Egg Prince এর কাছে মিনতি করে যাতে তার কথার দ্বারা আর কেউ কষ্ট না পায়। Egg Prince, Jun কে curse দিয়ে তার কথা বলার ক্ষমতা কেড়ে নেয়। এর পর জুনের জীবনের বেশ কয়েক বছর কেটে যায়…..

সে এখন হাই স্কুলে পড়ে সেই Curse এর কারণে সে এখন ও কথা বলে নি, বলতে পারে না। তবে কাহিনী এক নতুন মোড় নেয় যখন তাদের টিচার Jun সহ আরো ৩ জনকে community outreach ইভেন্ট এর দ্বায়িত্ব দেয়। এখানেই Jun এর সাথে Takumi Sakagami এর বন্ধুত্ব হয় এবং সে আস্তে আস্তে Jun এর কথা বলার ক্ষমতা পুনরায় ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে…….
এভাবেই কাহিনী শেষের দিকে অগ্রসর হতে থাকে…..

মুভিটা আনোহানা অ্যানিমের টিম দ্বারা তৈরী। এটিতে কথা না বলতে পারা মানুষের কষ্ট চমৎকার ভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটিতে বেশ কিছু মোটিভেশনাল পার্ট ও আছে। তবে এন্ডিং টা অনেকের কাছে একটু ঝাপসা লাগতে পারে। কিন্তু ওভার অল চমৎকার একটা মুভি…..

না দেখে থাকলে এক্ষুণি বসে যান।

Bakemono no Ko/ The boy and the Beast [Movie Review] — Urmi Nishat Nini

Bakemono no Koমুভি: Bakemono no Ko/ The boy and the Beast
My anime list rating: 8.5/10
My personal rating: 9/10
লেখক এবং ডিরেক্টর: Mamoru Hosoda

কাহিনি বেশ ভিন্ন ধরনের। গল্পের শুরু নয় বছরের এক ছেলে রেন কে দিয়ে।যার মা মারা গিয়েছে রোড এক্সিডেন্ট এ। অনেক আগেই বাবা আর মায়ের ছাড়াছাড়ি হয়ে গিয়েছে।বাবার সাথে কোন যোগাযোগ নেই। মা মারা যাওয়ার পর রেন তার গার্ডিয়ানদের সাথে থাকতে প্রত্যাখান করে। পালিয়ে চলে আসে একা, রাস্তায় কয়দিন ভবঘুরের মত ঘুরে। এমন সময় সে রাস্তায় ২ জন “Beast” এর দেখা পায়, যাদের মধ্যে একজন তার সাথে কথা বলে এবং হটাৎ করে তার সাথে যেতে বলে। অবাক রেন এর ঘোড় কাটতে না কাটতে ওই ২ জন অদৃশ্য হয়ে যায়।
এরপর পুলিশের হাত থেকে পালাতে পালাতে একসময় হঠাৎ রেন ওই beast কে আবার দেখতে পায়। কিছুটা দোটানা আর কৌতূহলের বশে সে পিছু নেয়। তারপর এসে ঢুঁকে এক অদ্ভুত এলাকায়, যেখানে সব বাসিন্দা হল ওই কথা বলা , বৃহৎ আকৃতির প্রাণী বা Beast। সেই Beast কে রেন খুজে পায়।তার নাম হল Kumatetsu.
Kumatetsu তার শিষ্য হিসেবে মানুষ্ কে, মানে রেনকে বেছে নেয়। Kumatetsu মাস্টার হতে চায় বটে, কিন্তু তার মাঝেও ছেলে মানুষি এখনও রয়ে গেছে। রেন প্রথমে থাকতে না চাইলেও পরে থেকে যায়।
শুরু হয় রেন আর কুমাতেতসু এর কাহিনি।এটা অন্য কাহিনির মত নয়, যে master শিখাচ্ছে আর student শুধুই শিখছে। এখানে master আর student ২ জন ই একে অপর থেকে শিক্ষা নেয়। শুধু শিক্ষা নেওয়ার মাঝে গল্প সীমাবধ্য না। এর মধ্যে গল্প না না দিকে মোড় নিতে থাকে। পুরোটা সময় গল্প দর্শকদের ধরে রাখার মত। কাহিনি এর শেষে হতাশ হবেন না। 🙂
হাতে সময় থাকলে মুভিটা দেখে ফেলুন। এনিমেশন হল স্টুডিও chizu এর যারা “The Girl who Leapt Through The time”, “Wolf Children” এর মত মুভি বানিয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় এনিমেশন বেশ দেখার মত। আমার আসলেই ভালো লেগেছে মুভিটা।মুভিতে মিউজিক ও সুন্দর।

Love Lab [Anime Review] — Imamul Kabir Rivu

Love Lab 1

[ANIME REVIEW]

Anime – Love Lab
Episodes – 13
Genre – Romance, Comedy, School

এই ধাঁচের আনিমের কাহিনী সবসময়ই বেশ সিম্পল হয়, লাভ ল্যাবও তার ব্যতিক্রম নয় । কাহিনীর মুলত মাকি এবং রিকো এই দুই চরিত্রকে ঘিরেই গড়ে উঠে । কাহিনীর শুরুটা হয় ঠিক রিকো কোন এক কাজে স্টুডেন্ট কাউনসিল রুমে ঢুকেই মাকির এক ডার্ক সিক্রেট বের করে ফেলে । সেখান থেকেই শুরু হয় আমাদের মূল দুই চরিত্র মাকি এবং রিকোর ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা । অন্তত টাইটেলের সাথে মিলিয়ে কাহিনীটা রেখেছে । শুধু যে এ দুইজনকে নিয়েই তা কিন্তু না, পর্যায়ক্রমে আনিমেটির ৫ জন প্রধাণ চরিত্রের বাকি ৩ জনও চলে আসে । কাহিনী মূলত স্টুডেন্ট কাউন্সিলদের ভালোবাসা নিয়ে গবেষণা এটা বলেই চালিয়ে দেওয়া যায় ।

তবে আনিমেটির কাহিনীতে ব্যতিক্রম কিছুও আছে । সাধারণত এই সকল আনিমের কোন নির্দিষ্ট কাহিনী থাকে না অনেকটা খাপছাড়া গতিতে চলে শেষ হয়ে যায় কিন্তু লাভ লাব কিন্তু তা নয় । পুরো ১২ টা পর্ব মনে হবে খাপছাড়া কিন্তু ১৩ নম্বর পর্বটা বেশ ব্যতিক্রমধর্মী একটি পর্ব ছিল এবং আনিমেটা যেভাবে শেষ করেছে তাকে আমার মতে পার্ফেক্ট এন্ডিং বললেও চলে । যদিও এর দ্বিতীয় সিজন অবশ্যই চাই ।

Love Lab 2

আনিমেটার মত মন খুলে হাসানোর মত আনিমে খুব কমই আছে, সিরিয়াস মুহূর্তেও হাসাবে । তবে পুরা আনিমেতেই যে ফাইজলামি সেটা বললে ভুল, অনেক মুহূর্তও ছিল যেখানে আপনার মন অনেকটা খারাপ করে দিবে অথবা চিন্তায় ফালায় দিবে । কিন্তু তাদের ফাইজলামিগুলো দেথার মত ছিল । কাহিনীটা যত পর্ব যাবে তত ভালো হতে থাকবে, তত বেশি উপভোগ্য হতে থাকবে ।

আনিমের ওপেনিংটা বেশ আনন্দদায়ক, এন্ডিংটাও ভালো ছিল । মিউজিক এবং আর্ট দুইটাই আনিমেটির উপযোগী এক পার্ফেক্ট মূড তৈরি করায় সক্ষম ছিল ।

আনিমেটির কাস্টে মাৎসুয়োকা ইয়োশিৎসুগু, হায়ামি সাওরি, সুগিতা তোমোকাজু, হিদাকা রিনা, উচিয়ামা কৌকি এদের মত বড় বড় নাম ছিল ঠিকই কিন্তু সব পার্শ চরিত্র হিসেবে, যাদের স্ক্রিনটাইম অনেকটা পর্বের মাঝে অল্প কিছু সময়েই সীমাবদ্ধ । মূল ৫ জন চরিত্রের মাঝে তানাহাশি এবং এনোর সেইয়ূ মিনাসে ইয়োরি এবং সাকুরা আয়ানেরই বেশ নামডাক আছে আর এই দুই চরিত্রের কণ্ঠ অভিনয়েও বরাবরের মতই তারা অসাধারণ ছিল । মাকির কণ্ঠে আকাসাকি চিনাৎসুর কাজ নির্ভুল ছিল । সাথে রিকোর কণ্ঠে নামাকুরা মানামির কাজও বেশ প্রশংসনীয় এবং খুব বেশি একটা রোল নেই তার কিন্তু এরপর যে কয়টা রোল পেয়েছে তার বেশিরভাগই রিকোর ধাঁচের চরিত্র তো বুঝে নিন এই রোলটা তার কতটা অসাধারণ ছিল । তাইচি ইয়ৌ-এরও মিজুশিমার রোলটা বেশ ভালো ছিল, উনি যে কয়টা রোল করেছে সবগুলোর ক্ষেত্রেই এই গভীর স্বরটাই ব্যবহার করেছে তাই ধরতেও অসুভিধা হয় না যদিও রোল করেছেই খুব কম ।

সব মিলায় আমার মতে উপভোগ করার জন্য পার্ফেক্ট জিনিশ, তাই সময় নিয়ে দেখে ফেলুন লাভ ল্যাব নিশ্চিত পছন্দ করবেন ।

Love Lab 3

Gintama [Anime Review] — Asiful Alam Ayon

Gintama

এনিম: গিনতামা
এপিসোড: ৩১৬
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং
স্টুডিও: Sunrise Inc.
ম্যাল রেটিং: 9.33
ব্যক্তিগত রেটিং: 9.89

মাংগাকা হিদেয়াকি সোরাচির অনবদ্য সৃষ্টি এই গিনতামা। ২০০৩ সালে মাঙ্গা আর ২০০৬ সালে প্যারোডি এনিম হিসেবে মুক্তি পায় এটি। এরপর থেকে এর মোট তিনটি সিজন ও দুইটি মুভি মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে ম্যালের (myanimelist) শীর্ষ দশের মধ্যে পাঁচটি স্থানই দখল করে রেখেছে গিনতামা।
অনেকেই মনে করেন গিনতামার কোন স্টোরি নেই। কিন্তু, এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। গিনতামার স্টোরি আছে এবং এটা যেকোন শৌনেন এনিমের সাথে পাল্লা দেওয়ার মতই।

সিনোপসিস: যখনকার কথা তখন এডো পিরিয়ড। আমান্তোরা (এক ধরনের এলিয়েন) আক্রমণ করে বসল মানবজাতির উপর। শুরু হল যুদ্ধ। যুদ্ধে যোগ দিল সামুরাইরা। কিন্তু যুদ্ধের এক পর্যায়ে বাকুফু (সরকার) বিশ্বাসঘাতকতা করে আমান্তোদের কাছে আত্নসমর্পণ করে। তারপরেও যুদ্ধ চালিয়ে যায় সামুরাইরা। যদিও ক্রমেই আমান্তোদের অত্যাধুনিক অস্ত্রের সামনে অসহায় হয়ে পড়ে তারা। তা সত্ত্বেও একজন সামুরাই ছিল যে কিনা পাথরের মত অবিচল। সাদা চুলের সেই সামুরাই, যার ডাকনাম শিরোইয়াশা (white demon) আজো অনেকের শরীরে শিহরণ এনে দেয়, বারবার যে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল শত্রুকে আক্রমণ করতে তিনিই আমাদের গল্পের নায়ক সাকাতা গিনতোকি। কিন্তু, এক সময় যুদ্ধ শেষ হয়। আমান্তোদের পুতুল হয়ে যায় বাকুফু। সামুরাইদের কাতানা কেড়ে নেওয়া হয়। সর্বত্র এখন আমান্তোদের প্রভাব।
সাকাতা গিনতোকিকে কেউ আর শিরোইয়াশা নামে চিনে না। কাবুকিচোর এক বাড়ির দ্বিতীয় তলায় তার অফিস। নাম ইয়োরোজুয়া (odd jobs)। অফিসের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান সে। সাথে সামুরাই কাম ওটাকু শিনপাচি শিমুরা আর কাওয়াই কাগুরা-চান। “আমরা সব করি” এটার মানেই ইয়োরোজুয়া। শিনপাচি আর কাগুরাকে নিয়ে গিনতোকির জীবনে আসে পরিবর্তন। হাস্যরসে ভরা তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের কাহিনী নিয়েই গিনতামা।
গিনতামা ভালো লাগে এই দুইটা পার্টের অর্থাৎ অতীত আর বর্তমানের মিশ্রণের জন্যই। সিরিয়াস আর্ক যখন চলে তখন সবকিছুতেই সিরিয়াস ভাইব। সিরিয়াস আর্ক গুলা (বেনিজাকুরা আর্ক, কাবুকিচো আর্ক, শোগুন অ্যাসাসিনেশন আর্ক ইত্যাদি) না দেখলে আপনার বিশ্বাসই হবে না মজার মজার এই চরিত্র গুলা এতটা সিরিয়াস হয়ে উঠতে পারে!! আর এই মেইন প্লটের আর্ক গুলা ছাড়া বাকি পুরোটা সময় গিনতামা আপনাকে দিয়ে যাবে নিখাদ বিনোদন!! কিছু পর্বের শেষের মিনি স্পেশাল “গিনপাচি সেনসেই” যেমন আপনাকে পেটে হাত দিয়ে হাসাবে তেমনি মানানসই সাইন্ডট্র্যাকের সাথে দুর্ধর্ষ মারামারিগুলো আপনাকে যেন নিয়ে যাবে এনিমের গহীনে আর করে তুলবে উত্তেজিত। (তবে চিন্তার কারণ নেই, উত্তেজিত হয়ে হাতের চাপে গ্লাস ফাটিয়ে ফেলার মত ঘটনা ঘটবে না xD ) গিনতামার স্টোরিতে আপনি কখনো কোন খুঁত খুঁজে পাবেন না, কেন জানেন? কারণ আপনাকে হাসাতে হাসাতে সেই ভুল তারা সংশোধন করে ফেলবে।

আর্টওয়ার্ক: আর্টওয়ার্ক এমন আহামরি কিছু না আবার খারাপও না। নিজেরাই নিজেদের আর্টওয়ার্ককে ট্রল করে। আসলে হাস্যরসে আর মারামারিতে আপনি এতটাই মগ্ন হয়ে থাকবেন আর্টওয়ার্ক নিয়ে খুব একটা ভাববার অবকাশ পাবেন না।

মিউজিক: গিনতামাকে মিউজিকে আমি দশে দশ দিব। নামকরা সব গায়ক আর ব্যান্ডদের দিয়ে গাওয়ানো সাউন্ডট্র্যাক আর গান গুলা আপনার ভালো লাগতে বাধ্য। প্রত্যেকটা গানই বারবার শুনতে মন চাইবে।

গিনতামার ভয়েস ক্যাস্টও ফেলনা না। আছেন অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সুগিতা তোমোকাজু (জোসেফ জোয়েস্টার, সাকাতা গিনতোকি এদের সেইয়ু) আর আমাদের অনেক চেনা ও প্রিয় ক্যারেক্টারের (আলফন্স এলরিক, আইসাকা তাইগা, হ্যাপি, কাগুরা ) ভয়েস দেওয়া কুগিয়ামা রিয়ে।

গিনতামা কেন দেখবেন তার কারণ বলি এবার। গিনতামা দেখবেন সাকাতা গিনতোকির জন্য। আর কোন শৌনেন এনিমের প্রোটাগোনিস্ট গিনতোকির মত নাক খুঁটে না!! xD সাকে পান করে কথায় কথায় মাতাল হয় না!! গিনতোকি আমার দেখা চরিত্রগুলার মধ্যে অন্যতম ব্যাডঅ্যাস। এছাড়াও এনিমটাতে ঐতিহাসিক শিনসেনগুমি আর ওনিওয়াবানশুর দেখা পাবেন । খুব কম এনিমেতেই যাদের দেখানো হয়েছে। প্রধান তিন চরিত্র গিনতোকি, শিনপাচি, কাগুরা ছাড়াও অনি নো ফুকুচো (Demon Vice Chief) তোশিরো হিজিকাতা, গরিলা কনদো ইসাও, স্যাডিস্টিক শৌগো ওকিতা, মাতসুদাইরা, শোগুন শিগেশিগে, ইয়ান্দেরে হোস্টেস ওতায়ে, শিনোবি মাসো (M) সাচ্চান, সুন্দেরে সুকুয়ো, এন্টি রেবেল ফ্যাকশনের নেতা কাতসুরা প্রত্যেকটা চরিত্রই আপনার মধ্যে এক ধরনের ইম্প্রেশন ফেলতে বাধ্য। গিনতামায় কোন সুস্থ মস্তিষ্কের ক্যারেক্টার আপনি খুঁজে পাবেন না বললেই চলে। এই জন্যেই গিনতামা দেখা আবশ্যক।

[অনেকেই ৩০-৪০ এপিসোড দেখে গিনতামা ড্রপ করেন। তাদের অনুরোধ করব পুরোটা দেখতে। তা নাহলে পরে আফসোস করবেন। আগে পুরোটা দেখেন তারপর যত খুশি গিনতামার সমালোচনা করেন আমার কোন সমস্যা নাই।]