সাইতামা x ইটাচি উচিহা [ফ্যান ফিকশান ক্রসওভার(প্যারোডি)] — Rahat Rubayet

সুপার হিরোরা ভিলেইনদের সাথে মারামারি করবে, পিটিয়ে লাশ বানিয়ে প্যাকেট করে দেবে এটাই অলিখিত নিয়ম। একা একা না পারলে আরো দশটা হিরোর সাহায্য নিবে। এটলিস্ট জাস্টিস লিগ আর এভেঞ্জারস থেকে তাই শিখেছি আমরা। কিন্তু, এক হিরোকে আরেক হিরোর সাথে লড়তে সচরাচর দেখা যায় না। Assosiation of Super-heroes Fans নামক এক সংগঠন আবার এক কাঠি সরেস। তারা প্রায় সকল এনিমে, মাঙ্গা, কমিক থেকে সবচাইতে শক্তিশালী একজন হিরো/ক্যারেক্টার কে আমন্ত্রন জানিয়ে এক কম্পিটিশানের আমন্ত্রন জানিয়েছে।
সেই কম্পিটিশানের ফাইনাল আজ। ফাইনালে উঠেছে নারুটো থেকে উচিহা ইটাচি আর অভাররেটেড পাঞ্চ ম্যান থুক্কু, ওয়ান পাঞ্চ ম্যান থেকে সাইতামাতামা।
ওয়েল, নারুটো থেকে সবচাইতে শক্তিশালী হিসেবে জুবি মাদারা তার ব্যাগ আর রিনেঙ্গান প্যাক করে রেডি হচ্ছিল। নারুটো আর সাস্কে বাইরে দাড়িয়ে উশখুশ করলেও কিছু বলার সাহস পাচ্ছিল না। এমন সময়, ইতাচি এসে মাদারার মাথায় এক চাটি মেরে বসিয়ে দিয়ে তার হাত থেকে সেই ইনভাইটেশান কার্ড নিয়ে হাঁটা শুরু করলো। মাদারা ভয়ে ভয়ে বলতে শুরু করে,
“ইটাচি সেনপাই, আপনি কেন কষ্ট করে আসতে গেলেন? আমি নিজেই আপ্নার বাসায় গিয়ে দিয়ে আসতাম।”
ইটাচি মুখে কিছু না বলে অগ্নিদৃষ্টি হানলো জুবি রিকোডু সেন্নিন মাদারার ওপর, যা আক্ষরিক অর্থেই ছিল অগ্নিদৃষ্টি। কারন, ইটাচির আমাতেরাসুর আগুন ধরে গেল মাদারার গায়ে। টেন টেইল সমেত ইটাচির আমাতেরাসুতে ভস্মীভূত হল রিকোডু সেন্নিন মাদারা। মারা যাবার সময় শুধু বলল,”মাথ্যে ইথা যো হাশিরামা!”
ইটাচি ইনভাইটেশান কার্ড টা নিয়ে সাস্কের দিকে ঘুরেই বলল, “সাস্কে, তোমার জন্যে আমি এই চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা এনে দেব। এরপর আর কেউ এডওয়ার্ড এলরিককে আমার থেকে সেরা ভাই বলতে পারবে না।”
এতো গেল ইটাচির কম্পিটিশানে আসার ফিলার। সাইতামার আসার কারনটা বলা যাক এবার। ওর বিষয়টা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারন, এই কম্পিটিশান জিতলেই, সে C র‍্যাঙ্ক থেকে এক লাফে S র‍্যাঙ্ক হিরো হয়ে যাবে। এতে ওর এলাউন্সও বাড়বে। আর তার ফলে ওকে ছাড়সমেত কেনাকাটার জন্যে শপিং মল চষে ফেলতে হবে না। সাইতামাকে চিয়ার আপ করার জন্যে গ্যালারিতে বসে আছে মুমেন রাইডার, অত্যন্ত সুপুরুষ পুরিপুরি প্রিজনার আর সাইতামার একমাত্র শিষ্য জেনোস।
পুরিপুরি প্রিজনার চুপচাপ বসে থাকলেও মুমেন রাইডার সাইতামার জন্যে “হিরো হিরো” বলে চিৎকার করে কি এক জ্ঞান গেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জেনোসের এসব দিকে মন দেবার সময় নেই মোটেই। সে ব্যস্ত তার সেন্সের অপোনেন্টকে স্ক্যান করতে। ইটাচির ফুলবডি স্ক্যান করে এসে চোখের কাছে আস্তেই চারদিকে এরোর ম্যাসেজ দেখতে পায় জেনোস। কিছু বুঝে উঠার আগেই ইটাচির গেনজ্যুতসুতে তলিয়ে যায় রোবোটিক দেহসম্পন্ন জেনোস। যদিও যারা চাকরা ইয়্যু করে না, তাদের ওপর গেনজ্যুতসু কাজ করে না। তবুও সামহাউ তা কাজ করল।
ওদিকে ইটাচিকে সমর্থন দিতে গ্যালারীতে দেখা যাচ্ছে সাস্কে আর শিসুই উচিহাকে। বুড়ো ধামরা এক ছোকরা যদি এক গাড়ির কোম্পানির নাম বলে চিৎকার করতে থাকে, তবে তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেয়ার নিয়ম। শিসুই আর থাকতে না পেরে, সাস্কেকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা সাস্কে। তোমার কি মনে হয়, কে জিতবে?”
-“কেন? নি-সান। ওই টেকো লোকটাকে হারাতে এক মিনিট টাইম লাগবে না নি-সানের।”
“কেন তোমার এমন মনে হল সাস্কে?” কিছুটা বিরক্তি মিশিয়ে জানতে চাইল শিসুই।
-“কেন আবার? কিশিমোটো সেন্সেই হিমসেলফ সেইড দ্যাট,……”
মাঝপথেই হাত তুলে ওকে থামিয়ে দেয় শিসুই। তারপর বলে,”আচ্ছা সাস্কে। তোমার নি-সান যেন আমার সাথে ব্যাটেলে কয়বার জিতেছে?”
সাস্কে হাতের কড় গুনতে থাকে,”১,২,৩,৪,…” হটাতই মুখ টা কালো হয়ে যায় ওর। কিন্তু, দৃঢ় গলায় বলল, “তাই বলে ওই টাকলুটা নি-সানের জন্যে কোন ম্যাচই না”
-“বাকা,… আই মিন, বোকা! ওই চকচকে টাকটাই ইটাচির গেনজ্যুতসুর বিরুদ্ধে ওর প্রধান অস্ত্র। ইটাচি এর জন্যেই গেনজ্যুতসু কাস্ট করতে পারবে না। কারন, তা সাইতামার ওই চকচকে টাকে লেগে রিফ্লেক্ট করবে। উলটো ইটাচি নিজেই নিজের জ্যুতসুর স্বীকার হবে।”
সাস্কে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সাইতামার দিকে।
ওদিকে ব্যাটল শুরু ইঙ্গিত দিল রেফারি ইযায়া ওরিহারা। ম্যাচ হচ্ছে একটা বিশাল উপত্যকার মতন জায়গায়, যার চারিপাশে স্টেডিয়ামের মতন করে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জায়ান্ট স্ক্রিনও আছে দর্শকের সুবিধার জন্য। কমেন্ট্রির দায়িত্ব রয়েছে হিসোকা আর গিনতোকির ওপর। আজকের ফাইনাল ম্যাচের আগে এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষার মতোই ২৮ দিনের মতো গ্যাপ পায় ওরা প্রিপারেশানের জন্যে। সে জাজ্ঞে।
লড়াই শুরু হয়ে গেল। কিন্তু, একি!! সাইতামা তখন তার বেল্ট ঠিক করছে। ইটাচি থমকে দাড়িয়ে ওকে জাজ করতে থাকে ওর শারিঙ্গান দিয়ে। এর পরে অ্যাটাকে যাবে কেয়ারফুল্লি।
সাইতামা বেল্ট পরিষ্কার করতে থাকে।

সাইতামা বেল্ট পরিষ্কার করে ওর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে একটু মাথা ঝাকায় । যার অর্থ, সে রেডি। এরপর, হটাতই ইটাচির একেবারে সামনে এসে পরে। সাইতামা নিরাসক্ত শুরে শুধু বলল, “কঞ্জিকিউটিভ নরমাল পাঞ্চো”
ইটাচি দেখলো সাতামা লুফির থার্ড গিয়ার ইয়্যুজ করলো যেন। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও সাইতামার শক্তি আর এজিলিটি দেখে প্রশংসার সুরে বলল, “উইদ আউট অ্যা ডাউট ইয়্যু আর স্ট্রং, বাট নট ম্যাচিউরড”। বলেই কাক হয়ে উড়ে যেতে থাকে ও। ওদিকে সাইতামা কঞ্জিকিউটিভ নরমাল পাঞ্চ দিতে গিয়েই বোকা বনে যায়। কাকে পাঞ্চ করবে এই মহাশক্তিধর এক ঘুষি-মানব? ইটাচি তার আগেই স্রেফ উড়ে গেছে ওখান থেকে। শুধু অবাক হওয়ার এক্সপ্রেশান দেখা যায় সাইতামার চোখেমুখে। মুখে শুধু বলল, “ও……..”
পাঞ্চ থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সাইতামা। ইটাচি বুঝলো এটাই তার মোক্ষম সময় আঘাত হানার একই সাথে অপনেন্টকে রিড করার। হ্যান্ড সাইন ওয়েভ করে বল্লল, “ফায়ার স্টাইল, ফিনিক্স ফ্লাওার জ্যুতসু”
অবাক হয়ে পুরো গ্যালারী দেখল, ফিনিক্স পাখির মতোই ইটাচির মুখ দিয়ে বিশাল আগুনের গোলা ছুটে গেল সাইতামার দিকে। ওদিকে কিছু বুঝে উঠবার আগেই সাইতামা দেখলো তার দিকে ভয়ঙ্কর রকমের আগুন তেড়েফুড়ে আসছে। ইটাচি দেখল, মুহূর্তের নোটিসে হাওয়া হয়ে গেছে সাইতামা। ও জানে এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না ওই টেকো লোকটা। আক্রমনে যাবেই। তাই সাথে সাথেই সুসানো এরাইজ করলো ও। ওর লাল রঙ্গা সুসানোর এক হাতে ইয়াটা মিরর অন্য হাতে টোতস্কা ব্লেইড।
চোখের কোনে হালকা নড়াচড়া ধরা পরতেই, ইয়াটা মিরর টা সেদিকে পেতে দিল ও। ইয়াটা মিররের বিশেষত্ব হল, তা যে কোন নিনজ্যুতসুকেই কাউন্টার করতে পারে তার আরেকটা চাকরা নেচার দিয়ে। কিন্তু, পিউর এনার্জির কথা আলাদা। তবে এক ঘুষি মানবের ভয়ানক “নরমাল পাঞ্চ” তা ঠেকিয়ে দিতে পারল কোনোমতে। তবে এর পেছনে ইটাচি ফ্যানদের কারসাজি ছিল নাকি সাইতামার ঘুষি আসলেই অতটা পাওয়ারফুল না, সে বিতর্কে না যাই।
ঘুষিটা ঠেকিয়ে দিতে দাতে দাত বাড়ি খায় ইটাচির। কিন্তু, একি!! পুরো গ্যালারি লক্ষ্য করলো একটা ঝোড়ো বাতাসের গতিতে কিছু একটা প্রচন্ড গতিতে ছুটে বেড়িয়ে যায় গ্যালারী থেকে। সবাই তাকিয়ে দেখল, সাইতামার টিকিটিও নেই ব্যাটেল গ্রাউন্ডে।
নিয়মানুযায়ী মঠে প্রতিযোগী ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে সে ডিস্কোয়ালিফাইড হয়ে যাবে। রেফারি, ইযায়া অরিহারা গুনতে শুরু করে, “১,…..২” দুই গুনে শেষও করতে পারে না, তার আগেই ঠিক ইটাচির পেছনে ধুমকেতুর বেগে হাজির হল সাইতামা। দ্রুত নড়াচড়া ধরা পড়ল ক্যামেরায়। ইটাচির ব্রেইন নড়াচড়া করার জন্যে শরীরে সিগ্ন্যাল পাঠানোর সময়টুকু পায় না। এইটুকুন সময়ের ভিতরেই পুরো পৃথিবী একবার প্রদক্ষিণ করে এসেছে এই C র‍্যাঙ্ক হিরো সাইতামা। তার ডান হাতটা ওর পিঠের ৪ ফিট দূরে এনেই থামিয়ে দিল সাইতামা।
প্রচন্ড ধাক্কায় ইটাচি যেন স্রেফ উড়ে গেল, গ্যালারীর কাছাকাছি জায়গায় মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ল। সুসানো আগেই ভেঙে গেছে ওর। ঊঠে দাঁড়াতে গিয়ে টলতে থাকে। অনেকটাই বিধ্বস্ত লাগছে ওকে। আর রেফারি ইযায়া তখন মিটিমিটি হাসছে। হাঁসতে হাঁসতেই মনে মনে বলল, “অয়েল নাউ। ডাজেন্ট হী রিমাইন্ড মি এবাউট শিজ্যু-চান?”
পরবর্তী ৫মিনিট ইটাচি ক্রমাগত তাইজ্যুতসু স্কিল এর প্রদর্শনী দেখিয়ে গেল। সাইতামা ওর একের পর আঘাতগুলো ঠেকিয়ে দিতে থাকে। কিন্তু, পালটা কোন আঘাত ইচ্ছে করেই হানছে না, নাকি তার ফুসরত পাচ্ছে না, তা নিয়ে খুনোখুনি বেধে গেছে গ্যালারিতে।
তবে, ওদিকে ইটাচি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। যেভাবেই হোক এডওয়ার্ড এলরিক কে পেছনে ফেলে সেরা ভাইয়ের তকমা তার চাই-ই চাই। তার জন্যে ট্রফিটা সাস্কে কে উপহার দেবে। এতে যদি তার ইজানামি ইয়্যুজ করতে হয়, তবে তাই করবে ও। হুম, ইযানামিই ইয়্যুজ করবে ও। ইজানামি তে একটা চোখ হারাবে সে। কিন্তু তাতে কি? নাগাটোর কাছে থেকে তার রিনেঙ্গান টা ছিনিয়ে নেয়া ওর জন্যে 1-2 এর ব্যপার।
ইটাচি দাড়িয়ে দাড়িয়ে চিন্তা করছিল। ওকে দাঁড়াতে দেখেই, সাইতামাও দাঁড়িয়ে পড়লো। এক আঙ্গুল দিয়ে কান চুলকাতে থাকে ও। তারপর সে আঙ্গুল দিয়ে আবার নাক চুলকাতে শুরু করল, সবশেষে পশ্চাতদেশ। ঠিক সে মুহূর্তেই ইজানামি কাস্ট করল ইটাচি।
এতে যা হবার তাই হল। সাইতামা, কান, নাক আর পশ্চাতদেশ চুলকানোর ভেতর একটা লুপে আটকে গেল। বাড়বার ঘুরে ফিরে একই কাজ করতে থাকল সে। মনে মনে হাসলো ইটাচি। ওর কাছে হার স্বীকার না করা পর্যন্ত এই লুপ থামবে না। বাস্তব জগতে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকাতেই, হটাত সাইতামা লক্ষ্য করলো ওর গালে একটা মশা বসে রক্ত খেতে শুরু করে দিয়েছে। আর যাই হোক, সাইতামা মশা সহ্য করতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গেই টাশশশশ! করে চড় বসাল নিজের গালেই। মশাটা মারা পড়ল তৎক্ষণাৎ।
আর ওদিকে ইটাচি অবাক হয়ে দেখল, স্রেফ মশা মারতে গিয়ে ওর ইজানামি ব্রেক করে ফেলেছে ওই C র‍্যাংক হিরো সাইতামা। আর ইজানামি ইয়ুজ করার সাথে সাথেই ওর এক চোখ সাদা হয়ে গেছে। তার সাথে সাইতামার সেই চার ফিট দূরে থামিয়ে দেয়া ঘুষির এফেক্ট দুইয়ে মিলে কাবু করে ফেলেছে ইটাচিকে। মুখ থেকে গলগল করে রক্ত বেরুতে থাকে ওর। হাটু গেরে বসে পড়ল।
দেখতে পেয়েই ছুটে এল সাইতামা। “তুমি অসুস্থ! ওয়ে, জেনোসে! ওকে হাস্পাতাল নিতে হবে!” বলে চিৎকার করে ও। ফিরল, ইটাচির দিকে।
ইটাচি যেন মৃদুস্বরে বলতে থাকে,”বাস্টার্ড! ইয়্যু অয়্যারন্ট ইভেন ফাইটিং!”
ম্যচ রেফরি ম্যাচ সমাপ্ত গোষনা করতেই গ্যালারী চঞ্চনল হয়ে উঠলো আবার।
আর ওদিকে কমেন্টেটোর গিন্তোকি বলতে থাকে, “ইভেন ইফ আর দ্যা মেইন ক্যারেক্টার অফ ইয়োর শো, ইয়্যু স্টিল মেয় ডাই। আই বেটার বি কেয়ারফুলাত্তাবায়ো”
——————–­সমাপ্ত————–­———–
বিঃদ্রঃ সকল ইটাচিটারডদের জন্যে ফিকশানটা উৎসর্গ করা হল!
(আই বেটার বি কেয়ারফুল, দাত্তেবায়ো wink emoticon )

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি- পর্ব ৩: বারসার্ক- কাস্‌কার অনুপস্থিতিতে গাটস্‌ এর ব্যাভিচার

Berserk Guts
ইয়ে মানে, আমি জানি আমি বারসার্কের ফ্যানডম এ নতুন। কিন্তু তার পরেও একটা বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাই। অনেকের কাছেই এই কথাটি শুনেছি এবং বিরক্ত হয়েছি। কথাটি হল, গাটস্‌ কাস্‌কার সাথে চিট করেছে।
বারসার্ক মাঙ্গার প্রথম ভলিউম এর প্রথম চ্যাপটার এর প্রথম দৃশ্যটি কি? দৃশ্যটি হল গাটস্‌ একজন নারীর এর সাথে মিলিত হচ্ছে। কিন্তু পরক্ষনেই সেই নারীটি একজন অ্যাপোস্টল/রাক্ষসীর রূপ নেয় এবং গাটস্‌ কে বলে যে সে তার ফাঁদে বন্দী হয়েছে। তখন গাটস্‌ বলে , ফাঁদে আমি বন্দী হইনি, হয়েছ তুমি। আর তার বাম হাতের লুকানো গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেয় রাক্ষসীটার চেহারা। দৃশ্যটি আসলেই ব্যাডঅ্যাস। কিন্তু গাটস্‌ তো কাস্‌কাকে ভালোবাসে। তার পরেও সেই অ্যাপোসটল এর সাথে কিভাবে মিলিত হতে পারল?
গাটসের জীবনের একমাত্র পণ হল সকল অ্যাপোস্টল হত্যা করা। তার লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য গাটস্‌ যে কোনো কিছু করতে প্রস্তুত। আগুনের উপর ঝাপিয়ে পরে, শত্রুর তলয়ার কামড়ে ধরে, শত ফিট উপর থেকে মাটিরে পরে, যেভাবেই হোক সে লক্ষ্য হাসিল করে ছাড়বে।আরে ভাই, বারসার্কের দুনিয়াটা হল এমন এক ব্যাভিচারের জায়গা, সেখানে গাটসের এই আর অ্যাপোস্টলের সাথে মিলিত হওয়া, এইটা তো কিছুই ছিল না। এভ্রিথিং ইয ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার। গাটসের ওয়ার হল অ্যাপস্টলদের সাথে ।
যেই অ্যাপস্টলটির সাথে গাটস মিলিত হয়েছিল সেটি ছিল সম্ভবত একটি সাকিউবাস। সাকিউবাস হল এক ধরণের মহিলা শয়তান :P। অথবা অপদেবী, যে কিনা পুরুষদেরকে রাতের বেলা সিডিউস করে ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এক্লিপস্‌ এর সময় করকাস এর মৃত্যু হয়ে ছিল ঠিক এই রকম এক সাকিউবাস এর হাতে। সাকিউবাস দের ক্ষমতাই হল সিডিউস করা। গাটস্‌ কে সিডিউস করার পরেই হয়ত তারা মিলিত হয়েছিল এবং গাটসের সেখানে হয়ত কোনোই ইচ্ছা ছিল না।
আর গাটস্‌ তো শুধুই কাসকাকেই ভালোবাসে। যেই গাটস্‌ কখনো কাউকে তার নিজের গায়ে ছুঁতেই দিতে চায় না, সে কিভাবে কাসকার সাথে চিট করবে। আর শেষ কথা হল, end justifies the means। গ্রিফিথ সারাজীবন অন্যের চোখে ভালো হয়ে থাকলেও শেষে যা করেছে তার জন্যই সবাই তাকে ঘৃণা করে। গাটস্‌ তাই যতই হিংস্রতার অবলম্বন করুক, তার শেষ কাজটা সম্পন্ন হলেই হল।

Kokou no Hito [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Kokou no Hito 9

কল্পনা করুন, দুর্ভেদ্য তুষারঝড় ভেদ করে বেয়ে চলছেন এক দুর্গম পাহাড়ের খাজ। আপনি পুরোই একলা , তাপামাত্রা মাইনাসের ডিগ্রি চল্লিশেরও নিচে । অসহ্য অমানুষিক পরিশ্রম করে আপনি অবশেষে পৌছালেন পাহাড়ের চূড়ায় । ভোর হয়েছে , হাইপোর্থামিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আপনার হাত পায়ের আঙ্গুল অবশ হয়ে গিয়েছে কিন্তু আপনার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । আপনার চোখের সামনে সূর্য উঠছে এবং তার আলো পাহাড়ের তুষারে প্রতিফলিত হয়ে চারিদিকে এক মুগ্দ্ধকর আবহ তৈরী করছে । আপনি যেন সারা পৃথিবীর রাজা , আরোহন করেছেন আপনার সিংহাসন । এই অনুভূতির সাথে পরিচিত একমাত্র পাহাড় বাহকরা যাদের আমারা ক্লাইম্বার বলে চিনি । এটাকে একধরণের স্পোর্টসও বলা যায় , কিন্তু এ খেলা হল জীবণ মরনের খেলা , একটি সুতোর ডগায় আপনার জীবন ঝুলছে । কিন্তু যাদের শরীরে এই ভয়ঙ্কর খেলার নেশা ঢুকে যায় তখন তাকে আর কিছুতেই থামানো যায় না । এইরকম অসাধারণ এক স্পোর্টস নিয়ে Shinichi Sakamoto এবং Yoshirō Nabeda এর লেখা আর সাকামতোর আঁকা সেইরকমই এক অসাধারণ মাঙ্গার কথা বলব যার নাম কোকু নো হিতো মানে THE CLIMBER ।

Kokou no Hito 7 Kokou no Hito 12
মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্রের নাম মোরি বুনটারো । রিসেন্টলি সে এক নতুন স্কুলে ট্রান্সফার হয়ে এসেছে । প্রথম দেখায় তাকে মনে হবে এন্টিসোশ্যাল টাইপের কিন্তু ভাল করে লক্ষ্য করে দেখা গেলে বোঝা যায় যে সে আসলে নিসঃঙ্গ নেঁকড়ে মানে লোন উলফ । তো প্রথম দিনই ক্লাসের বুলি প্লাস ক্লাইম্বার মিয়ামটো এর সাথে ঝামেলা পাকিয়ে বসে এবং তার ছুড়ে দেওয়া চ্যালেন্জ নিয়ে খালি ড্রেনেজ পাইপ বেয়ে স্কুলের ছাদে উঠতে যায় , তীরে এসে তরী ডুবতে বসে যখন ছাদের কাছে এসে তার শক্তি ফুড়িয়ে যায় , কিন্তু কেউ তাকে সাহায্য করার আগেই সব শক্তি জড়ো করে দেয় এক লাফ এবং লাফ দিয়েই ছাদের কার্নিশ ধরে ফেলে । তার এই সহজাত ক্লাইম্বিং ক্ষমতা চোখে পড়ে এক শিক্ষক যোগ ক্লাইম্বার ওনিশি সেন্সের এর চোখে । তখন সে মোরিকে বলে এক ক্লাইম্বিং প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে । ক্লাইম্বিং এর খুটিনাটি শিখায় । এখন আপনার ভাবছেন ” এই আবার এল , আরেকটা নরমাল গতবাধা স্পোর্টস মাঙ্গা ,, কিন্তু আপনি বিশ্বাস করবেন না এর কিছু চ্যাপ্টার পরই কাহিনীর অসাধারণ ৩৬০ ডিগ্রি টার্ণ । সাইড ক্যারেকটারগুলোর ইউনিক ডেভলপমেন্ট এবং বিস্ময়কর পরিণতি । মোরির ধীরে ধীরে হওয়া বিবর্তন । ওর ডে টু ডে লাইফ । বাকি কাহিনীর টুইস্ট মাঙ্গা পড়ে জানতে হবে ।
এই মাঙ্গাকে খালি স্লাইস অফ লাইফ মাঙ্গা হিসেবে পড়া যয় । জীবনের নির্মম বাস্তবতাকে বেশ নিখুত ভাবেই মাঙ্গাকা দেখিয়েছেন ! কাহিনীর পেসিং , ক্যারেকটার ডেভলপমেন্ট , বব মার্লির উপস্থিতি সব মিলিয়ে এক কথায় অসাধারণ একটি মাঙ্গা । মাঙ্গার আর্ট বলতে গেলে বার্সাক , ভ্যাগাবন্ডের কাছাকাছি লেভেলের। অতিরিক্ত ডিটেইলড , চেহারার ইম্প্রেশন গুলো এবং মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দগুলোকে প্রতীকি আর্টের মধ্য দিয়ে দেখিয়েছেন যা এক কথায় অসাধারণ । কাহিনীর মধ্যে একবার ডুবে গেলে সহজে বের হতে পারবেন না । ১৭০ চ্যাপ্টারের এই অসাধারণ মাঙ্গাটি একবার একটু ট্রাই করে দেখুন । আপনার অবশ্যই ভালো লাগবে ।
এই মাঙ্গাকে আমি ১০ এ ১০ দেব ।

Kokou no Hito 1 Kokou no Hito 2 Kokou no Hito 3 Kokou no Hito 4 Kokou no Hito 5

Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu [রিভিউ] — Asiful Alam Ayon

ShouwaGen 1

এনিম: Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu/ Shouwa and Genroku Era Lovers’ Suicide Through Rakugo
(দাঁড়ান, দাঁড়ান, নাম দেখেই উল্টো দিকে দৌড় দিবেন না। আগে পুরোটা পড়ুন তারপর সিদ্ধান্ত নিন।)

জনরা: হিস্টোরিকাল, ড্রামা, জোসেই
এপিসোড: ১৩
ম্যাল রেটিং: ৮.৭
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮.৮
রিলিজ: জানুয়ারি, ২০১৬- এপ্রিল, ২০১৬
উৎস: মাঙ্গা
স্টুডিও: Studio Deen

প্লট: একসময়ের জনপ্রিয় রাকুগো আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। রাকুগো হল এক ধরনের শিল্প যার মাধ্যমে একজন শিল্পী একটি গল্পকে এবং গল্পের বিভিন্ন চরিত্রগুলোর সংলাপ উত্তম পুরুষে অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করেন। বর্তমানে রাকুগোর অষ্টম প্রজন্মের প্রধান হলেন Yurakutei Yakumo VIII যিনি বন্ধুর কাছে Bon প্রেয়সীর কাছে Kiku-san নামে পরিচিত। হঠাৎ একদিন Yotaro নামের এক তরুণ তার কাছে এসে বলে সে ইয়াকুমো সেনসেই এর রাকুগোর পাঁড় ভক্ত এবং প্রচুর অনুনয় বিনয় করে তাকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণের জন্য। সারা জীবন অসংখ্য মানুষের এমন অনুরোধকে প্রত্যাখান করে আসলেও কেন জানি এই তরুণের অনুরোধ ফেলতে পারলেন না তিনি। গ্রহণ করলেন শিষ্য হিসেবে, থাকতে দিলেন নিজের বাড়িতে। রাকুগোর প্রতি তরুণটির ভালোবাসা আর তার প্রতি তার পালিত কন্যার ঘৃণা দেখে একদিন ঠিক করলেন নিজের জীবনের কাহিনী খুলে বলবেন তাদেরকে। রাকুগোর মাধ্যমে শুরু করলেন তার জীবনের গল্প বলা, রাকুগো শিল্পী হয়ে উঠার জন্য তার সংগ্রাম আর জীবনযুদ্ধের এক গল্প… তার জীবনের এ গল্প নিয়েই এগোতে থাকে কাহিনী…

হারুকো কুমোতার লেখা অনন্য এই প্লটটির উপরে ভিত্তি করে নির্মাণ করা হয় এনিমটি। এই এনিমের মজার একটি বিষয় হলো বর্তমান থেকে কিভাবে যে আপনাকে অতীতে নিয়ে যাবে আপনি টেরই পাবেন না। এনিমের পথিমধ্যে আপনার হঠাৎ মনে হবে “একি! গল্পতো বর্তমান দিয়ে শুরু হয়েছিল…!”
এনিমের মূল আকর্ষণ আর
চমকগুলা এই অংশেই।

চরিত্র: এনিমটাতে আপনি পাবেন অসাধারণ সব চরিত্র। একদিকে কিকুর সংগ্রামময় জীবন আর আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব, আবার অন্যদিকে ফ্রি স্টাইল জীবন যাপন করা বন্ধু সুকেরোকুর সম্পূর্ণ বিপরীত ব্যক্তিত্ব। আর আছে সুন্দরী ললনা মিয়োকিচি যাকে আপাতদৃষ্টিতে বাজে বিরক্তিকর একটা চরিত্র মনে হলেও তাকে ছাড়া গল্পের পূর্ণতা আসে না। প্রচুর ক্যারেক্টার ডেভলপমেন্ট রয়েছে এনিমটাতে।

রাকুগো শিল্প আর একেক সময়ে একেক দিকে মোড় নেওয়া চমকে ভরা কিকুর জীবন এনিমটাকে নিয়ে গেছে সম্পূর্ণ অন্য এক স্তরে।

আর্টওয়ার্ক: খুব সুন্দর আর্ট লক্ষ্য করা যাবে এখানে যা মোটেই মার্কামারা বা সস্তা না। দেখলেই বুঝতে পারবেন এনিমটার আর্টওয়ার্ক আর দশটা এনিম থেকে একটু আলাদা। ব্যাকগ্রাউন্ড গুলি যেন জাপানের ঐতিহাসিক পিরিয়ডের ভাইব দিয়ে যাবে…

মিউজিক: মিউজিক নিয়ে খুব বেশিকিছু বলার নেই। ওপেনিং আর এন্ডিং সং এক কথায় পারফেক্ট ছিল। শুনলেই বুঝতে পারবেন কেন একথা বলা.. . বিভিন্ন সময়ের সাউন্ডট্র্যাক আর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গুলোও ছিল ভালো লাগার মতো।

এনিমটাতে পাবেন মেধাবী কিছু কণ্ঠ অভিনেতাদের, যাদের নাম না উল্লেখ করলেই নয়। আছেন সহকারী চরিত্রের রোলের জন্য বিখ্যাত এবং অ্যাওয়ার্ড পাওয়া সেইয়ু আকিরা ইশিদা যিনি গিনতামার Katsura Kotaro এর ভয়েস দিয়েছেন । কণ্ঠ অভিনয় ছাড়াও অন্যান্য আরো অনেক ক্ষেত্রে মেধার পরিচয় দেওয়া কইচি ইয়ামাদেরা এবং ইয়োতারোর কণ্ঠ দিয়েছেন অনেক বিখ্যাত চরিত্রের (যেমন: Gilgamesh, Kogami Shinya) কণ্ঠ দেওয়া অভিজ্ঞ ও গুণী সেইয়ু তোমোকাজু সেকি।

গল্পের গাম্ভীর্যতার কারণে অনেকের কাছে এনিমটা ভালো নাও লাগতে পারে। তবে এনিমটাতে দেখানো বিলুপ্তপ্রায় রাকুগো আর এতে যুক্ত শিল্পীদের সংগ্রাম আপনাকে নতুন করে ভাবাবে, আধুনিক নানা বিনোদন মাধ্যমের ভীড়ে কি বিলুপ্ত হতে চলেছে না আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিগুলোও? কত শিল্পীর পরিশ্রমের ফসলে সমৃদ্ধ এককালের জনপ্রিয় আমাদের দেশীয় শিল্প সংস্কৃতিগুলোকে বাঁচানোর জন্য কি করতে পারি আমরা? আপনার এই চিন্তার দ্বার খুলে দিতে সাহায্য করবে Shouwa Genroku Rakugo Shinjuu. অতএব, সময় নষ্ট না করে দেখে ফেলুন উইন্টার ২০১৬ এর অন্যতম এই সেরা এনিমটি।

ShouwaGen 2

Children who chase Lost voices [মুভি রিভিউ] — Urmi Nishat Nini

Children who chase Lost voices

মুভিঃ Children who chase Lost voices
Director: Makoto Shinkai
IMBD rating: 7.3/10
Personal rating : 7.9/10
Production company: CoMix Wave

জীবনের একটা অংশ হল মৃত্যু। কিন্তু হঠাৎ করে প্রিয় কেউ মারা গেলে সেটা মেনে নেওয়া কঠিন। তারপরও, যারা বেঁচে আছে তাদের নিয়ে জীবনে খুশি থাকা উচিত, এই বার্তাটাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা এই ছবিতে।

Director Makoto Shinkai, যিনি “Garden of Words”, ” Five centimeters per second” তৈরি করেছেন। ছবির শুরু আসুনা নামের এক middle স্কুলের মেয়েকে দিয়ে, যে তার মা’র সাথে থাকে, বাবা মারা গিয়েছে। মা হাসপাতালে কাজের জন্য বাসায় থাকেন না প্রায় সময় ই। আসুনা একা থাকে, একাই সব কাজ করে। তার বাসার পাশে পাহাড়ে নিজস্ব একটা জায়গা আছে, যেখানে সে তার অবসর সময় কাটায়। হঠাৎ একদিন আসুনা স্কুল থেকে আসার পথে মুখমুখি হয় এক প্রানির, যা আকারে বিশাল, উদ্ভট। সুন নামের এক অদ্ভুত ছেলে তাকে বাঁচায় এই প্রানির হাত থেকে। পরে আসুনা জানতে পারে , সুন এসেছে “Agartha” নামক এক জায়গা থেকে। ওইদিন ই সুন মারা যায়। সুন মারা যাওয়ার পর স্কুলের নতুন আসা শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই এর কাছ থেকে খবর মিলে “Agartha” নামক জায়গা আসলেই আছে, যা মাটির নিচে, মৃত মানুষকে ফিরে পাওয়া যায় ওখানে। এই শিক্ষক মরিসাকি সেন্সেই তাঁর স্ত্রিকে হারিয়েছেন ১০ বছর আগে। তিনি তাঁর স্ত্রী কে ফিরিয়ে আনতে চান। এর মধ্যে ঘটনাপ্রবাহে আসুনা, মরিসাকি সেন্সেই প্রবেশ করে “Agartha” তে। আসুনা ফিরিয়ে আনতে চায় সুন কে, আর মরিসাকি সেন্সেই তাঁর অকালে মৃত্যুবরণ করা স্ত্রী কে। শুরু হয় ২ জনের adventure.

নানা ঘটনা, আর উত্তেজনার মধ্যে চলে পুরো সময় কাহিনি। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক শোনার মত। দেখে ভালো লাগে। সময় থাকলে দেখে ফেলতে বলব এইটা।

Atama Yama [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Atama Yama

Atama Yama (Mount Head)- ৭৫তম এ্যাকাডেমি এওয়ার্ড এ শর্ট ফিল্ম এনিমেশন ক্যাটাগরি তে মনোনয়নপ্রাপ্ত ১০ মিনিটের মুভি। গতানুগতিক ধারা থেকে অনেকটাই আলাদা এই মুভি। গ্রাম-গঞ্জে যেমন সুর করে পুঁথিপাঠ করা হয়, অনেকটা তেমনই করেই রাকুগো-টেলার তাকেহারু কুনিমোতো তার দরাজ কন্ঠে গল্পের কাহিনী এগিয়ে নিয়ে যায়। সেই সাথে পুরো মুভি জুড়ে শামিশেনের সুর অন্যরকম আবহের সৃষ্টি করে। মুভিটায় আমরা মানবমনের গভীর ভয়,উৎকন্ঠা কিংবা আত্মগ্লানির এক মিশেল দেখতে পাই।
ছোটবেলায় আমরা কম-বেশি সবাই বড়দের বলতে শুনেছি ফলের বিচি খেলে নাকি মাথায় গাছ উঠবে। যার কারণে কোনসময় ভুল করে খেয়ে ফেললে ভয়ে সারারাত ঘুম হতো না। এই মুভির প্রধান চরিত্র এক মধ্যবয়সী কৃপণ লোক যিনি কিনা কাউকে ধার দেন না এবং কোন জিনিস যতই ফেলনা হোক না কেন তা ব্যবহার করতে চান। যার কারণে তার বাড়িভর্তি আবর্জনার স্তূপ। যাই হোক একদিন তিনি কিছু চেরীফল মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি সেগুলো ঝুড়ি করে বাসায় নিয়ে আসেন। তো একটি চেরী খাওয়ার পর তিনি চিন্তা করেন, বিচিটা শুধু শুধু নষ্ট হবার চেয়ে বরং খেয়েই ফেলি। তো কিছুক্ষণ পর দেখলেন তার মাথায় চেরীফলের গাছ উঠছে। তিনি একবার কাটেন। কিন্তু লাভ হয়না বরং গাছটি বেড়ে উঠতে থাকে। তো একসময় তিনি ব্যাপারটা মেনে নেন। গাছটি চেরীফুলে ভর্তি হয়ে যায় এবং এর খ্যাতি চারদিক ছড়িয়ে পড়ে। তখন লোকটির মাথা হয়ে উঠে পিকনিক স্পট। সব ভালই চলছিল। একদিন ভীড় বেড়ে যায়। লোকটির মন-মেজাজও খারাপ হতে থাকে। একসময় সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গেলে তিনি গাছটিকে উপড়িয়ে ফেলেন। এরপরের কাহিনী নিজেকেই জানতে হবে। এটা লিখে বোঝানো সম্ভব না।

এবার গূঢ় অর্থটি ব্যাখ্যা করি। লোকটির মাথা যখন প্রথম পিকনিক স্পটে পরিণত হয় তখন কিন্তু লোকটির লাভ ই হয়। কারণ দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ জায়গাটি দেখতে আসে। যার ফলে লোকটি ফায়দা নিতে পারে। একসময় দেখা যায় মানুষ ঐ জায়গাটি যথেচ্ছ ব্যবহার করছে, ফলস্বরূপ পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। এবং একসময় লোকটি গাছটি উপড়ে ফেলতে বাধ্য হয়। এখন চেরীব্লসমের জায়গায় নিজেদের মেধা ও মননের কথা একটু চিন্তা করি। আমাদের প্রত্যেকের মেধা আলাদা। এই মেধা যদি মানবজাতির কল্যাণে কাজে আসে তবেই সার্থক। অনেকসময় দেখা যায় এই কল্যাণের পথ পাড়ি দেবার সময় আমাদের অন্য কোন মাধ্যমের দ্বারস্থ হতে হয়। অর্থাৎ আমাদের মেধাকে কাজে লাগিয়ে অন্য কোন মাধ্যম মানব কল্যাণকর কাজে তৎপর হয়। একসময় এই মেধা তাদের স্বেচ্ছাসারীতার কাছে বলি হয়। অনেকটা আমাদের মেধাস্বত্ব কিনে নেবার মত। কিন্তু এর ফলাফল হয় মারাত্মক। যার কারণে আমরা এমন সব হঠকারী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হই যা কখনই কাম্য নয়। একসময় নিজের মেধা নিজের কাছেই অচেনা মনে হয়। ফলে আমরা ক্রমাগত অন্ধকারে ডুবতে থাকি। মানবমনের এই অন্তর্কলহ ফুটে উঠেছে এই মুভিতে।
ওয়েল, আমি এই মুভির সব রিভিউ দেখেছি। কিন্তু আমার চিন্তা-ভাবনার সাথে এর অন্যান্য রিভিউগুলোর কোন সাদৃৃশ্যই নেই। তাই নিজের কাছে নিজের প্রশ্ন আমি কি আসলেই এর তাৎপর্যটা ধরতে পেরেছি?

এই মুভি একেকজনের কাছে একেকরকম লাগতে পারে। তাই আপনার জীবনে যদি সময়ের মূল্য না থাকে এবং গভীর ভাবনায় ডুবে যেতে চান তাহলে আপনার জন্য একদম পারফেক্ট এই মুভি।

Ajin [এনিমে রিভিউ] — Amor Asad

Ajin 1

Ajin: অসাধারণ! মাইন্ডব্লোয়িং!
*** (স্পয়লার নেই ) ***

মানবজাতির টলারেন্সের ইতিহাস খুব একটা সুখকর নয়। যেকোন যুগে যখনই কোন অজ্ঞাত সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে, কঠোর, ভয়াবহ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্ধযুগ আগে ইউরোপজুড়ে উইচ হান্টের স্বীকার হয়েছিল হাজারে হাজারে নারী; বিভিন্ন নতুন নতুন রোগ আর মহামারীর পিছে জাদুটোনার কালোহাত দেখিয়ে পুড়িয়ে মেরেছে তাঁদের – তাও চার্চের সম্মতি বা ইশারা থাকায় পবিত্র দায়িত্ব মনে করে।
বিজ্ঞানের যাত্রার শুরু থেকেই প্রাচীন বিজ্ঞানী এবং দার্শনিকদের অত্যাচার থেকে হত্যা পর্যন্ত করা করেছে। এ উপমহাদেশেও অতীতে বহুত প্রচলিত রীতি ছিলো যা এখন শুনলে গা শিউড়ে ওঠে। বর্তমান পৃথিবীতে এমনকি আমাদের দেশেই কাছাকাছি ঘটনা থেকে সাদৃশ্যতা দেখানো যাবে – সেদিকে আর না যাই।

মোট কথা, মানুষ যেটা বোঝে না – সেটাকে দুমড়ে মুচড়ে ধ্বংস করে ফেলতে উপক্রম হয়; অনেকে এতে তুষ্টিও খুঁজে পায়। ব্যপারটা আপাতদৃষ্টিতে নিষ্ঠুর আর অবিবেচক বলে মনে হলেও; এই রেসপন্সের মূল কারণ হচ্ছে – ভয়।
অগ্রসরমান সভ্যতা আর সামাজিক শুভবোধের দোঁহাই দিয়ে নিজেদের আসল বৈশিষ্ট্য ধামাচাপা দিয়ে রাখি বটে, কিন্তু আদতে আমরা এই গ্রহের টপ প্রিডেটর। তাই যদি অন্য কোন স্পেসিস বা এনটিটি আমাদের অবস্থানের জন্যে হুমকিস্বরূপ হয়ে দাঁড়ায় – সম্মিলিত ভয় থেকে সমস্বরে ‘kill them all” উচ্চারিত হওয়া আমাকে অবাক করবে না।

এধরণের একটা প্লটে নির্মিত Ajin, পার্থক্য হচ্ছে এখানে মানবজাতির জন্যে হুমকিস্বরূপ প্রজাতি আসলে মানুষের বিবর্তিত একটা রূপ, যেখানে এই আলাদা মানুষরা অমরনশীল – না, ঠিক অমর নয়, মৃত্যুর পর পরই পুনঃজীবন লাভ করে। এদের আলাদা একটা ক্ষমতাও রয়েছে।

ইমরটালিটি বা অমরনশীলতা অর্জনের চেষ্টা প্রাচীনকাল থেকে বহু সভ্যতার বিভিন্ন কাল্ট, ব্লাক ম্যাজিক চর্চাকারীদের মধ্যে প্রচলিত। স্বভাবতই সাহিত্য, সিনেমা বা অন্যান্য শিল্প মাধ্যমেও উঠে এসেছে। স্রেফ অ্যানিমে ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেই বহুত রেফারেন্স দেয়া যাবে। Ajin কোন দিক দিয়ে আলাদা?

ইমরটালিটির বেশীরভাগ চিত্রায়নের সাথে আজিনের পার্থক্য হচ্ছে এটা ভিত্তিহীন ফ্যান্টাসি না; বরঞ্চ সাইন্স ফিকশন – এবং গল্পকথন একেবারেই স্বতন্ত্র। পরিচালক এবং লেখক খুব যত্নের সাথে সবকিছু ব্যাখ্যা করতে না গিয়ে অর্ধেকটা দর্শকের দুয়ে দুয়ে চার মেলানোর ক্ষমতার উপর ছেঁড়ে দিয়ে গল্পের প্রয়োজন অনুসারে কাহিনী এগিয়েছেন। এধরণের অ্যানিমেতে এই চর্চাটা খুব উপভোগ্য হয়।
সেই সাথে প্রতি এপিসোডের মেকিং প্রায় নিখুঁত বলা যায় – সাসপেন্স/মিস্টেরি আর সাই-ফাই সিরিজ হিসেবে প্রতি এপিসোডে টান টান উত্তেজনা বজায় রেখেছে Ajin. সেই সাথে যোগ হয়েছে রক্তে দোলা দেয়া ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক।

এছাড়াও Ajin পছন্দ করার আরো কিছু কারণ আছে।
অপ্রয়োজনীয় চরিত্র একেবারেই নেই বলতে গেলে, পার্শ্ব চরিত্রগুলোর প্রতি ফোকাস করা হয়নি বিনা দরকারে, প্রধান চরিত্রকে দুনিয়ার সেরা মানব আর শুভবুদ্ধির ডিপো হিসেবে দেখানো হয়নি, হাঁটতে চলতে দুধের বাচ্চাদের কড়া জীবনবোধ মার্কা দর্শন চিপকাতেও দেখা যায় না। এসব জিনিষ অ্যানিমেতে কষ্ট করে সহ্য করে যাই; বলাই বাহুল্য Ajin দেখতে গিয়ে তৃপ্তির হাঁসি কান পর্যন্ত পৌঁছেছে।

আমার রেটিং – ৮.৫/১০

পুনশ্চঃ সিরিজের ভিলেনকে আমার কাছে অ্যান্টিহিরো মনে হয়। তাঁর দৃষ্টিকোণ একেবারে ফেলনা না এবং টিকে থাকার লড়াইয়ে একাত্মতা ঘোষণা করতে পারি।
পুনশ্চ ২ঃ Don’t care about the art style, never did, never will. This is a trivial issue and we really don’t watch animes to praise animation style, do we?

Ajin 2

Ping Pong The Animation রিভিউ — Zahin Mobashshir

Ping Pong

কোন এনিমেকে পার্ফেক্ট কখন বলবেন?

যদি এনিমেটি দেখে আপনার খায়েশ মিটে?

যদি এনিমেটি দেখে তৃপ্তি পান?

যদি এনিমেটি দেখার সময় অন্যসব কিছু ভুলে যান এবং এরপরের এপিসোড না দেখে উঠতে পারেন না?

সবার উত্তর কখনওই এক হবে না, হওয়াটাই বরং অস্বাভাবিক।

Ping Pong The Animation

এপিসোড সংখ্যা: ১১

Genre: Psychological, Seinen, Sports.

এনিমেটির কাহিনী একদমই সাধারণ। দুই বন্ধু পিং পং তথা টেবিল টেনিস খেলতে ভালবাসে। তাই দুইজনেই স্কুলের টেবিল ট টেনিস ক্লাবে অংশ নেয়। একজন অনেকদিন হইল টেবিল টেনিস খেলে যার নাম Yukata Hoshino। তার প্রতিভা নিয়ে ক্লাবের কারও কোন সন্দেহ নেই কিন্তু প্রতিভা থাকলে যা হয়, অহংকারে পরিপূর্ণ Hoshino এর মন। তার মতে তার থেকে ভাল কোন প্লেয়ার থাকতেই পারে না। অহংকারবশত তাই সে নিয়মিত প্রাক্টিসে যায় না এবং খবরদারি করে ঘুরে বেড়ায়। অন্যদিকে তারই বন্ধু Makoto Tsukimoto। এই ব্যক্তি টেবিল টেনিস খেলা নতুন শুরু করলেও সে কখনওই প্রাক্টিস ফাকি দেয়া না এবং নিয়মিত খেলেই যায়।

দুই বন্ধুর পিং পং খেলার কাহিনী নিয়েই এনিমেটি এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে ইন্টার হাই টেবিল টেনিসে গিয়েই তাদের জীবনের ঘুড়ি পালটায় যায়।

এবার আগের কথায় ফিরে আসি।
এনিমেটি দেখার পরে অনেককেই রিকমেন্ড করেছিলাম। কেউই এখন পর্যন্ত বলল না যে এনিমেটি অসাধারণ ছিল।
সবার মতামত মিলবে তা হওয়া সম্ভবপরও নয়।

এনিমেটি যে কারনে আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে তার প্রধান কারন ছিল এর জনরা। একটা স্পোর্টস এনিমেতে কি করে সাইকোলজিক্যাল জনরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে?!!!

এই প্রশ্নের উত্তর যারা খুঁজে পেয়েছেন তাদের কাছেই কেবল এনিমেটির স্বার্থকতা ধরা পড়েছে।

এনিমেটির জনরায় সাইকোলজিক্যাল অন্তর্ভুক্ত করার কারন খুঁজে পাওয়ার কারনেই এটা আমার কাছে মাস্টারপিস লেগেছে।

এবার আপনারাও এই ১১ পর্বের এনিমেটি দেখে যাচাই করে দেখতে পারেন।

ডেনগেকি ডেইযি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Dengeki Daisyডেনগেকি ডেইযি
অন্য নামঃ ইলেকট্রিক ডেইযি
জানরাঃ মিস্টেরি, কমেডি, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৮০
ভলিউমঃ ১৬
মাঙ্গাকাঃ মোতোমি কিয়োওসুকে
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৫৭
মাইআনিমেলিস্ট র‍্যাংকিং: ১০০
মাইআনিমেলিস্ট পপুলারিটিঃ ২২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯.৫

শৌজো-এই জানরাটার প্রতি ছেলে হোক, মেয়ে হোক, শৌজো ভক্ত হোক না হোক সবারই কেমন জানি একটা চুলকানি আছে! কেননা প্রায় প্রতিটা শৌজোতে একই কাহিনী। টানা দেখতে বা পড়তে থাকলে বিরক্ত হওয়াই স্বাভাবিক। মানুষ যতই বলুক এটা আলাদা, অন্যরকম নায়িকা; শেষ পর্যন্ত এগুলো সেই বহুল ব্যবহৃত রোমান্স নির্ভর স্কুল জীবনের গল্প। শুধু কোনটা একটু ভাল কোনটা একটু খারাপ। কিছু নতুনত্ব আছে আকাতসুকি নো ইয়োনা, আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে, সাইয়ুনকোকু মোনোগাতারি’র মত সিরিজগুলোতে যেগুলো আবার সবই হিস্টোরিক্যাল রোমান্স। কিন্তু বর্তমান প্রযুক্তির যুগেই কোন হাইস্কুল পড়ুয়া মেয়ের গল্প যেটাকে আমি “ওয়ান অফ এ কাইন্ড” বলতে বাধ্য হচ্ছি তা হল ডেনগেকি ডেইযি। হাইস্কুল পড়ুয়া নায়িকা থাকলেও এটি পুরোপুরি রোমান্স নির্ভর কোন মাঙ্গা নয়। এরকম কাহিনীর দ্বিতীয় কোন আনিমে বা মাঙ্গা বোধ হয় এখন পর্যন্ত খুঁজে পাবেন না।

কুরেবায়াশি তেরু যখন মিডেল স্কুলের ছাত্রী তখন তার একমাত্র আত্মীয় তার বড় ভাইটিও ক্যান্সারে মারা যায়। শেষ সম্বল হিসেবে তেরুকে দিয়ে যায় একটি সেলফোন। এই সেলফোনে রয়েছে ডেইজি নামের একজনের ই-মেইল এড্রেস। ডেইজির দায়িত্ব সকল বিপদে-আপদে তেরুকে তার সর্বস্ব দিয়ে রক্ষা করা। যদিও ডেইযি কে, দেখতে কেমন এসব বিষয়ে তেরু কিছুই জানে না। মাঙ্গার কাহিনী শুরু যখন তেরু হাইস্কুলে উঠেছে। একদিন ভুলে সে তার স্কুলের জানালার কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে বল দিয়ে। স্কুলের পরিচারক কুরোসাকি তাসুকু তেরুকে ধরে নিয়ে যায় কারণ তেরু গরিব বলে টাকার বদলে তার দেহ দিয়ে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে…

ঠিক এখানে এসে লিখতে গিয়ে খুব হাসি আসছে। পুরা বাংলা সিনেমা বাংলা সিনেমা লাগছে! আসলে উপরের জানরাগুলো বা কাহিনীর বর্ণনা কোনটাই মাঙ্গাটি কি ধরনের বা কি নিয়ে তা নিয়ে তো ধারণা দেয়ই না বরং আরো চরম আকারের ভ্রান্ত ধারণা দিয়ে বসে। তাই বাংলায় শুদ্ধভাবে লেখার চেষ্টাটা আপাতত বাদ দিলাম! এই সোনালী চুলের গুন্ডা ধরণের স্কুল জেনিটর কুরোসাকি তেরুকে তার সার্ভেন্ট বানিয়ে তেরুকে দিয়ে কামলা খাটায়। এই নিয়ে অতিষ্ঠ তেরু তাই যখন তখন কুরোসাকিকে বলে “গো বাল্ড কুরোসাকি”। মানে কুরোসাকি টাকলা হয়ে যাক! কিন্তু কুরোসাকির আসল লুকানো পরিচয় সে একজন হ্যাকার। শুধু যেন তেন হ্যাকার নয় তাও। সেই বিখ্যাত থুক্কু কুখ্যাত হ্যাকার ডেইযি!! কুরোসাকির সাথে পরিচয়ের পর থেকেই তেরুর জীবনে আমূল পরিবর্তন আসে। অচেনা সব মানুষের টার্গেট হয়ে দাঁড়ায় সে। যখন তখন ভয় কারো আক্রমণের, কিডন্যাপ হয়ে যাবার। এই সব মানুষ চায় শুধু একটি জিনিস। তেরুর সেলফোন। জিনিয়াস ইঞ্জিনিয়ার কুরেবায়াশি সোইচিরো মৃত্যুর আগে সেই সেলফোনে রেখে গেছে এমন গুরুত্বপুর্ণ কিছু যার পিছনে হন্য হয়ে সবাই ছুটছে। কিন্তু তেরু কুরোসাকি কিংবা বাকিদের সাহায্যেও সহজে তা খুঁজে বের করতে পারে না। কি এমন সেই তথ্য যার জন্য তেরুর স্বাভাবিক জীবন হয়ে উঠছে দুর্বিষহ?

এতটুকু পড়ে নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন মাঙ্গাটি একটি নির্দিষ্ট ঘটনাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। অল্প অল্প করে পুরো মাঙ্গা জুড়েই রহস্য উদঘাটন হতে থাকে। তাই কাহিনী ঝুলে যায়নি কোথাও। এখানে শৌনেন মাঙ্গার মত কিছু সিরিয়াস কাহিনী চলে তারপর আবার লাইটহার্টেড হয়ে যায় একটু আনন্দ দেওয়ার জন্য। অনেকটা আর্কের মতই। আসলে এই মাঙ্গাটি যদি একটু পরিমার্জন করে প্রধান চরিত্রকে মেয়ে না হয়ে ছেলে বানান হত তবে এটাকে শৌনেন কিংবা সেইনেন ট্যাগ দিলেও বোধ হয় আমি অবাক হতাম না। মাঝে মাঝে ভুলেই যেতে হয় যে এটি একটি শৌজো মাঙ্গা! আর তার অন্যতম একটি কারণ হল এর রোমান্টিক অংশটা অনেক স্লো। রোমান্স যে অনেক কম ঠিক তা না কিন্তু খুব ধীরে ধীরে সময় নিয়ে এখানে রোমান্সের অগ্রগতি হয়। যখনই চোখে পড়ার মত অগ্রগতি হতে যায় ঠিক তখনই আটকে যায় তা। তাই রোমান্টিক শৌজো ফ্যানদের মাঝেই মাঝেই হতাশায় মাথার চুল ছিঁড়তে বা টেবিল উল্টাতে ইচ্ছা করলেও কিছু করার নেই! তবে ধীরে আগানটা আসলে গল্পটার জন্য ভালো ছিল। যখন যেটার জন্য উপযুক্ত সময় ঠিক তখনই সেটা হয়েছে। তাই বলে ভাবার কারণ নেই এটা সবসময় খুব গুরুগম্ভীর ধরণের। এখানে কমেডি দৃশ্যগুলো দেখলে হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে যায়। কমেডি সবচেয়ে কমন একটা জানরা হলেও এতটা হাসাতে পারে না সব আনিমে, মাঙ্গা। মাঙ্গাকা মোতোমি কিয়োওসুকে মাঙ্গার পেজে সাইড নোট হিসেবে অনেক কিছু লেখেন তার পাঠকদের জন্যে। এই সাইড নোটগুলো আরও হাসির খোরাক যোগায়।

তবে একটি জিনিস বলে রাখা ভালো। চ্যাপ্টার ৪০ এর দিকে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ পায়। এবং ঠিক এখানেই অনেকগুলো চ্যাপ্টারের ট্রান্সলেশন ভয়াবহ বাজে। এই চ্যাপ্টারগুলো রিপ্লেস করা হয়েছে বা দ্বিতীয় কোন ট্রান্সলেশন আছে কিনা আমার জানা নেই। যদি থাকে তো বেঁচে গেলেন। না থাকলে এখানে কাহিনী বুঝতে অনেক সমস্যা হবে। কিন্তু চিন্তার কারণ নেই। সামনের চ্যাপ্টারগুলোতে ওই ঘটনাগুলো আবার উঠে আসে তাই এখন না বুঝলেও পরে সব বুঝতে পারবেন।

অনেক দিক দিয়েই কুরোসাকির সাথে মেইড-সামা’র উসুই তাকুমির মিল পাওয়া যায়। আবার দুজনে দেখতেও অনেকটা একই রকম যে কারণে কেউ কেউ চিনতে ভুল করে। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমার কুরোসাকিকে উসুইয়ের চেয়েও বেশি ভালো লেগেছে। তার কারণ হল কুরোসাকি “মানুষের মতই একজন চরিত্র”। শৌজো হিরোদের বাস্তবতার কাছাকাছি লাগে খুব কম। তারা শুধু যেন রোমান্স নিয়েই ব্যস্ত। সেখানে কুরোসাকির জীবন, সংগ্রাম, আবেগ, অনুভূতি, ব্যক্তিত্ব, স্বভাব-চরিত্র সবকিছুই অন্যরকম আর বাস্তবধর্মী। একজন মানুষ হিসেবে কুরোসাকির অনুভূতিগুলো আসলেই অনুভব করা যায়। তেরুও পছন্দনীয় একটা মেয়ে। তেরুকে যেসব ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় এসবের কিছুর মধ্যে দিয়েই যেতে হয় না সাধারণ শৌজো মাঙ্গার প্রধান মেয়ে চরিত্রগুলোকে। তাও তারা “ড্যামসেল ইন ডিস্ট্রেস” খেতাব পেয়ে যায়। সেখানে তেরুকে অগণিত বার কুরোসাকি আর বাকিদের বাঁচাতে হলেও কখনই তাকে অকর্মা মনে হবে না। আবার সে যে খুব শক্তিশালী, একাই ১০০ টাইপ তাও না। কিন্তু তারপরেও তেরু নিজের মত করে যা পারে করে যায়। কাণ্ডজ্ঞান নামক জিনিসটা তার মাঝে আছে! তেরুকে আমার কাছে খুবই ইউনিক লেগেছে। তাই বিরক্ত হওয়ার সুযোগ খুব কম। সাধারণ মাঙ্গার মত প্রধান দুই চরিত্রের কচকচানিতে এখানে বাকি চরিত্রগুলোও হারিয়ে যায়নি। বরং আশেপাশের মানুষগুলোও কমবেশি সমান গুরুত্ব পেয়েছে এবং শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজ নিজ রোল প্লে করেছে। তার মাঝে আছে রিকো, মাসুদা, আনদোও, হারুকা, কিয়োশি, রেনা, সোইচিরো এবং অবশ্যই আকিরা।

মোতোমি কিয়োওসুকে’র আঁকার নিজস্ব স্টাইল আছে। আর্ট দেখে শৌজো মাঙ্গা বুঝা গেলেও বাকি শৌজো মাঙ্গার মত সব একই রকম লাগে না। ডেনগেকি ডেইযির শুরুতে আর্ট মোটামোটি ভালই ছিল। শুধু প্রথম চ্যাপ্টারের প্রথম পেজেই কভারে তেরুর ছবিটা দেখে কোন না কোন ফালতু মাঙ্গা ভেবে উড়ায় দিতে ইচ্ছা করেছিল। তারপর যত চ্যাপ্টার গেছে আর্ট ভালো থেকে আরও ভালো হয়ে উঠেছে। খুবই সুন্দর এবং ওয়েল ডিটেইল্ড আর্ট। তবে আর্টের বিষয়ে একটা কথা উল্লেখ না করলেই নয়। কমেডির জন্য চিবি নয় বরং নানান ধরণের আজব এবং মজার সব ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন আর পোজ ব্যবহার করে হয়েছে। ডায়ালগগুলো এমনিতেই হাসির তার উপর এই ড্রয়িংগুলো ব্যাপারগুলোকে আরও বেশি হাস্যকর আর নাটকীয় করে তুলে। একেকটি চরিত্রের অঙ্গভঙ্গি দেখার পর হাসি থামান কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্য শৌজো মাঙ্গাগুলোর মত এত নামডাক না শুনলেও মাঙ্গার ওয়েবসাইটগুলোতে শৌজো জানরা সার্চ দিলে এবং হট রিড মাঙ্গার তালিকায় ডেনগেকি ডেইযির নাম দেখতে পাবেন। সবচেয়ে ভালো শৌজো মাঙ্গাগুলোই আনিমে অ্যাডাপ্টেশন পায় না। আনিমে না আসলেও এই মাঙ্গা চোখের আড়ালে থেকে গেলে তা হবে দুঃখজনক। আপনার যাই পছন্দ হোক এরকম ইউনিক একটা মাঙ্গা মিস করলে নিজেই পস্তাবেন। তাই মাস্ট রিড মাঙ্গার তালিকায় অবশ্যই এই মাঙ্গাটি রাখবেন। আর মাঙ্গাটি পড়ার সময় সিন্ডি লপারের টাইম আফটার টাইম গানটি শুনতে পারেন। এই গানটির সাথে ডেনগেকি ডেইযির যোগসূত্র আছে। আশা করা যায় আপনি সময়টা দারুণ উপভোগ করবেন। আর এটি অনায়াসে আপনার সেরা মাঙ্গা তালিকায় ঢুকে গেলেও তা অবাক করার মত কিছু হবে না!

Behind the Voices – 20

 

Shimazaki Nobunaga

অনেক সেইয়ূই বলে “ঠাণ্ডা মেজাজের অথবা চুপচাপ চরিত্রের কণ্ঠ দেওয়া বেশ সহজ কাজ, কোন ব্যাপার না” । তবে এই ধরণের চরিত্র তুলে ধরতেও যে এক ধরণের আলাদা দক্ষত্যা লাগে তা দেখিয়েছেন শিমাজাকি নোবুনাগা । অনেক ধরণের চরিত্র করলেও সাধারণত চুপচাপ স্বভাবের চরিত্রগুলো অসাধারণভাবে তুলে ধরার জন্যই তার খ্যাতি মূলত ।

তার কণ্ঠ অভিনয় শুরু ২০০৯ থেকে, যদিও সে বছর মাত্র একটা রোল পায় সে । ২০১২ থেকে শুরু হয় তার সফলতা, সে বছর ৪ টা রোল পায় তিনি যার মধ্যে ২টা মূল চরিত্র এবং আরেকটি ছিল বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র । এর বছরগুলো থেকেই সে কম-বেশি ভালো রোল পেতে থাকে । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল হারু (Free!), ইজুমি শিনিচি (Parasyte), ফুরুয়া (Ace of Diamond) এবং শিদৌ ইৎসুকা (Date a Live) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল হারু (Free!), সাকুরাই (Kuroko no Basket), সৌজি (Ore, Twintails ni Narimasu) এবং ফুরুয়া (Ace of Diamond) । Ace of Diamond, Free!, Nijiro Days এই আনিমেগুলোর এন্ডিং তিনি আনিমেগুলোর বাকি সেইয়ূদের সাথে গেয়েছেন এবং Tari Tari আনিমেটিতে একটা ইন্সার্ট সং তার গাওয়া ।

তার জন্ম ৬ ডিসেম্বর, ১৯৮৮। সামনে আরও ভালো ভালো রোল পাবেন তিনি সেই আশায় রইলাম।

Shimazaki Nobunaga

 

Kishio Daisuke

কিশিয়ো দাইস্কের তার পুরো ক্যারিয়ার জুরে সব ধাঁচের রোলই অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন কম-বেশি । কিন্তু তিনি সাধারণত প্লে-বয় স্বভাবের অথবা সুদর্শন পুরুষ এসকল চরিত্রগুলোতে কাজ করার জন্যই বেশ পরিচিত । তার কণ্ঠ বলার স্বরের মাঝেই একরকম কেমন জানি আলাদা ভাব আছে ।

তার কণ্ঠ অভিনেতা হিসেবে অভিষেক ১৯৯৬ সালে এবং তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোল হল Vampire Knight-এর কানামে কুরান । সে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তার শৌজো এবং রিভার্স হারেম আনিমের রোলগুলো দিয়েই । তবে অন্য জনরার আনিমেগুলোতেও তার বেশ ব্যতিক্রমি চরিত্র আছে যেমন ক্রাউযার-সানের সাধারণ ভার্শন (Detroit Metal City), ইতাকু (Nurarihyon no Mago), আওনো সুকুনে (Rosario + Vampire) ।

আমার মতে তার সেরা রোল হল নেগিশি (Detroit Metal City), চরিত্রটিকে সাধারণত ভয়ঙ্কর ব্যক্তিত্বেই ( ক্রাউজার-সামা ) চিনে থাকি আমরা তবে তার সাধারণ সেই হাস্যকর ব্যক্তিত্ব যেভাবে তুলে ধরেছে কিশিয়ো দাইস্কে, কাজটা বেশ অসাধারণ ছিল । এছাড়া তার আরও কিছু রোল আমার বেশ পছন্দের সেগুলো হল ইমাদোরি (School Rumble), ইতাকু (Nurarihyon no Mago), নাৎসুমে (Beelzebub), কুরামা (Kamisama Hajimemashitae), হাওয়ার্ড লিঙ্ক (D.Gray-Man), যাজি (Tegami Bachi) ।

তিনি La Corda D’Oro, Kamisama Hajimemashita, Shounen Hollywood, Rosario + Vampire, Cluster Edge, Diabolik Lovers এই আনিমেগুলোতে উইনিটের সাথে ওপেনিং/এন্ডিং অথবা তার চরিত্রের হওয়ে ইন্সার্ট সংগুলো গেয়েছেন ।

তার জন্ম ২৮ মার্চ, ১৯৭৪ । আজ কাল আর নতুন করে কোন রোল করেন না তিনি আর তিনি ভেটেরান সেইয়ূ হিসেবেই পরিচিত এখন সবার কাছে । তিনি এখন নতুন কণ্ঠ অভিনেতাদের কাছে রোল-মডেল ।

Kishio Daisuke

 

Ishihara Kaori

ম্যাজাই আনিমেটি যারা দেখেছেন তাদের নিশ্চই আলাদিন চরিত্রটির কণ্ঠ বেশ কিউট লেগেছেন, এরকম একটা কণ্ঠের নৈপুণ্যতার কারণেই সবচেয়ে বেশি পরিচিত হল ইশিহারা কাওরি । তার কণ্ঠে তীক্ষ্ণ টান রয়েছে এবং বেশির ভাগ সময়ই পার্শ চরিত্রের রোল করে থাকলেও, যে কয়টা করেছেন ওর মাঝেই নানা রকম চরিত্রই ছিল ।

তার কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে অভিষেক ২০১০ সালে এবং সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন আলাদিন(Magi) চরিত্রটি দিয়েই । আলাদিন বাদে তার আরেকটি উল্লেখযোগ্য রোল হল তানিগাওয়া কান্না (Ano Natsu de Matteiru) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল সাকুরাদা কানাদে (Joukamachi no Dandelion), আলাদিন (Magi) এবং রোজালি (Cross Ange) ।

তার গানের ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ ‘YuiKaori’ এই সেইয়ূ ইউনিটটি যার আরেক মেম্বার ওগুরা ইয়ুই । YuiKaori-র অংশ হয়ে তিনি Joukamachi no Dandelion-এর ওপেনিং এবং Kiss x Sis-এর এন্ডিং গেয়েছেন । Kono Naka ni Hitori, Imouto ga Iru! এবং Rinne no Lagrange এই দুইটি আনিমের এন্ডিং তিনি গেয়েছিলেন এবং আরেকটি সেইয়ূ গ্রুপ Stylips-এর মেম্বারও ছিলেন তিনি যাদের হয়ে তিনি Highschool DXD-এর এন্ডিং এবং Saki:Episode of Side-A-এর ওপেনিম গেয়েছিলেন । তিনি Stylips-এর হয়ে একটা এবং YuiKaori-এর হয়ে তিনটা অ্যালবাম এই পর্যন্ত রিলিজ করেছেন ।

তার জন্ম ৬ আগস্ট, ১৯৯৩ । তার কণ্ঠটা বেশ কিউট, তার আরো রোল পাওয়া দরকার ।

Ishihara Kaori

 

Ogura Yui

ললি জিনিশটা এখন আনিমের চরিত্রগুলোর মাঝে একটা আলাদা আইকন হয়ে দারিয়েছে, এই কথা সবাই মানে । এই চরিত্রগুলোর কথা-বার্তার ধরণই অনেক সময় সাধারণ চরিত্রগুলোর তুলনায় আলাদা হয়, আর এদের আনিমের মাঝে দেখা না পাওয়ায় আজ-কাল বিরল একটা বিষয় । এই ধরণের চরিত্র নির্ভুলভাবে তুলে ধরায় যাদের দক্ষ হিসেবে গণ্য করা হয়, তাদের একজন ওগুরা ইয়ুই । তার কণ্ঠটা বেশ নরম, অনেকটা হিদাকা রিনার কণ্ঠের মতই শুনাবে । সুধু কণ্ঠ দিয়ে নয়, তার ললি চরিত্রগুলো তুলে ধরার দক্ষতা দিয়েও অনেকে তাকে হিদাকা রিনার সাথে তুলনা করেন । “হিদাকা রিনা কে ?”, তিনি হল এমন একজন যাকে ধরা হয় যে ললি চরিত্রগুলো সবচেয়ে ভালো করে তুলে ধরতে পারেন এমন এক কণ্ঠ-অভিনেত্রী । তবে আজ-কাল আনিমেগুলোতে মিনাসে ইনোরি তার নাম-ডাক সব কেড়ে নিয়ে যাচ্ছে ।

তার কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক ২০০৯ সালে । এরপর বেশ কিছু আনিমেতে মূল চরিত্র হিসেবে রোল করে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন, যেমন আলিস (Kamisama no Memochou), সুৎসুকাকুশি সুকিকো (Hentai Ouji to Warawanai Neko) । তার কণ্ঠটা আমার কাছে বেশ কিউট লাগে এবং তার করা পছন্দের রোলগুলো হল কোকোনা (Yama no Susume), হিনাতা (Ro-Kyu-Bu), ফুসে মিদোরি (Black Bullet), আথেনা (Campione!), সাকুরাদা হিকারি (Joukamachi no Dandelion) এবং ক্রিস (Cross Ange) ।

তার গানের ক্যারিয়ারের এক বড় অংশ ‘YuiKaori’ এই সেইয়ূ ইউনিটটি যার আরেক মেম্বার ইশিহারা কাওরি । YuiKaori-র অংশ হয়ে তিনি Joukamachi no Dandelion-এর ওপেনিং এবং Kiss x Sis-এর এন্ডিং গেয়েছেন । Aquarion Evol, Campione, Oreimo 2, Unbreakable Machine Doll, Saikin Imouto no Yousu ga Chotto Okashiinda ga, Ro-Kyu-Bu!, Seiken Tsukai no World Break এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং-এ তার কণ্ঠ ছিল । তিনি আরেকটি সেইয়ূ গ্রুপ Stylips-এর মেম্বারও ছিলেন এবং ইশিহারা কাওরির সঙ্গে একসাথেই Stylips ত্যাগ করেছিলেন, তাদের হয়ে তিনি Highschool DXD-এর এন্ডিং এবং Saki:Episode of Side-A-এর ওপেনিম গেয়েছিলেন । তিনি Stylips-এর হয়ে একটা এবং YuiKaori-এর হয়ে তিনটা অ্যালবাম এই পর্যন্ত রিলিজ করেছেন ।

তার জন্ম ১৫ আগস্ট, ১৯৯৫ । তার সবচেয়ে বড় পরিচিতি কিন্তু সেইয়ূ নয় বরং আইডল হিসেবে । আজকাল ললি চরিত্রগুলোর কণ্ঠ-অভিনয়ে দক্ষ এরকম সব কণ্ঠ-অভিনেত্রীদের পরিমান বেড়ে যাচ্ছে, ওগুরা ইয়ুই এবং তাদের মাঝে রোল পাওয়ার রেসটা দেখতে বেশ ইন্টারেস্টিং হবে ।

Ogura Yui