Kuroko no Basuke – Extra Game [মাঙ্গা রিভিউ] — Zahin Mobashshir

kuroko-no-basuke-extra-game

মাঙ্গা: Kuroko no Basuke – Extra Game
চ্যাপ্টার সংখ্যা: ০৮

কুরকো এনিমেটা যারা দেখেছেন তারা মনে হয় ইতিমধ্যেই শুনেছেন যে কুরকোর নতুন একটা মুভি আসতে পারে। সেই মুভিটা এই মাঙ্গা থেকে এডাপ্ট করা হবেই জানা গেছে।
মাঙ্গার কাহিনী তৈরি হয়েছে একটা ম্যাচকে কেন্দ্র করে।
আমেরিকা থেকে এক স্ট্রিট বাস্কেটবল দল এসেছে জাপানের অল-স্টার টিমের সাথে এক প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্যে। খেলা শেষে জাপানের সেই টিম খুবই দুর্বিষহভাবে হেরে যায়। কিন্তু আমেরিকার সেই স্ট্রিট বাস্কেটবল টিম ঐ টিমকে হারিয়েই ক্ষান্ত হয়নি বরং তাদেরকে যাচ্ছেতাই কথা শুনায় এবং গালিগালাজও করে। খেলাটা টিভিতে সরাসারি সম্প্রচার করায় পুরা জাপানের প্রায় সকলেই খেলাটি দেখে এবং এই ঘটনা চাক্ষুষ করে।
জেনারেশন অব মিরাকেলস এবং সাথে আমাদের লাইট আর শ্যাডোও খেলাটি দেখে এবং মনে মনে এর প্রতিশোধ নেওয়ার উপায় ভাবতে থাকে।
খেলার শেষে আমেরিকার সেই বাস্কেটবল টিমের কীর্তি তাদেরকে আনা হোস্টও চাক্ষুষ করেন এবং সেই হোস্ট হচ্ছে আমাদের খুবই পরিচিত সেইরিনের ম্যানেজার রিকোর পিতাজান। তিনি ঐ মুহুর্তেই “জ্যাবারওয়াক” তথা আমেরিকান স্ট্রিট বাস্কেটবল টিমকে আরেকটা ভিন্ন টিমের সাথে ম্যাচ খেলার চ্যালেঞ্জ করে।
নতুন গঠিত টিমটির নাম দেওয়া “ভোরপোল সোয়ার্ডস”।
টিমটির মেম্বার আমাদের পরিচিত সেই “জেনারেশন অব মিরাকেলস” এবং লাইট-শ্যাডো।
“কুরকো নো বাসুকে” এনিমের তিনটা সিজনে আমরা যত্ত মুভ এবং যত্ত কম্বিনেশন দেখেছি এবং মাঙ্গাটিতে তার সব কিছুই রয়েছে তার থেকে আরও অনেক অনেক গুন বেশি আছে। “ভোরপোল সোয়ার্ডস” এর প্রতিপক্ষও কম যায় না কিছুতেই। এদের সাথে লড়াই করতে সবাইকেই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়েছে।
কিন্তু……………………
শেষ রক্ষা কি পায় “ভোরপোল সোয়ার্ডস”
জানতে হলে পড়ে ফেলুন এই ছোট মাঙ্গাটি।
প্রথম চার চ্যাপ্টার একটু বোরিং লাগতে পারে কিন্তু তাই বলে পরের চ্যাপ্টারগুলা না পড়লে অসম্ভব ভুল করবেন ।
তাই আর দেরি না করে পড়া শুরু করে দিন এবং বাস্কেটবলের ম্যাজিকে মেতে উঠুন।
অনলাইনে পড়ার লিংক: http://kissmanga.com/Manga/Kuroko-no-Basuke-Extra-Game

Black Joke [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

black-joke

ডার্ক, গোর, নুইডিটি আর সেইনেনের সাথে রসিকতার মিক্সে যে মাফিয়া নিয়ে এমন মাঙ্গা আছে কেই বা জানতো!? আন্দাজে উড়াধুরা মাঙ্গা সিলেক্ট করে পড়ার সময় পাইলাম এই কালো হীরা! মাসুদ রানার চাই ঐশ্চর্যর কথা মনে পড়ছিল এই মাঙ্গা পড়ার সময়।

এই মাঙ্গার কাহিনী হল জাপান U.S.A এর ৫১নাম্বার রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। এবং সেখানের চলে মাফিয়াদের রাজত্ব। এই শহরে ড্রাগ চালান, দেহব্যাবসা সব লিগাল। জুয়াবাজি তো ডালভাত! তো এইখানে মূল ২ চরিত্র হল কিরা আর কোডামা, তারা এক ক্যাসিনোর ব্যাবস্থাপনায় যুক্ত। কিরা লম্বা, অতি সুদর্শন, চার্মিং, প্লেবয়, বহু ভাষায় পারদর্শী এবং শার্লকের মত অবজারভেশন ক্ষমতা। তার সহযোগী কোডামা। এর বডি যেন গ্রীক গড অফ ওয়ারের মত। শ্রীকান্তের ইন্দ্রের মত এর হাতের দৈর্ঘ এর হাটু পর্যন্ত। এবং তার মাথার চাইতে তার হাতের মুষ্টি বড়। তাদের বিভিন্ন মিশন নিয়েই কাহিনী।

আরও আছে স্যাডিস্টিক এসাসিন ললিতা আর পঙ্গু খুনে মাফিয়া বস আরও অনেক।
এই মাঙ্গাতে একটা ভালো বা সত্‍ ক্যারেক্টার নাই। সবাই শয়তান এবং সবাই ব্যাডাস! এইটার কাহিনী খুবই ইন্টারেস্টিং, কিরার বুদ্ধি আর কোডামার শক্তি দেখার মত জিনিস!!! তবে একটা কথা বলতে হচ্ছে এইটা প্রচুর ডির্স্টাবিং। এর আর্ট কাহিনীর সাথে পুরোপুরি মানায় । আর্ট ফ্রেশ এবং ডিটেইলড। এই মাঙ্গাতে অনেক রেফারেন্সও আছে যেমন পাল্প ফিকশান এবং ওল্ড বয়। নগ্নতা আর গোরে ভরা ফলে অনেকেরই ঘেন্না লাগতে পারে। তবে এর একশান এবং কিলিং সিনগুলা অস্থির। শিরদাঁড়া বের করে ফেলা, গুলি লেগে ধীরে ধীরে মগজ চোখ বের হয়ে যাওয়া, আইসক্রিমের চামচ দিয়ে চোখ তুলে ফেলা এইসব। এই মাঙ্গা পড়ার জন্য ১৬ প্লাস হওয়া উচিত এবং সবার হজম হবে না এটা আগেই বলে দিলাম, পরে বকতে পারবেন না কিন্তু! যার গোর, মাফিয়া এবং ইচ্চি ভক্ত তারা অবশ্যই পড়বেন। কমপ্লিট না। তবে আপডেট অনেক দেরীতে আসে। তবে এক বা ২ চ্যাপ্টারে এক একটা কাহিনী তাই পড়ে শান্তি আছে। আশা করি ভালো লাগবে পড়ে!

তোমোদাচি নো হানাশি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

tomodachi-no-hanashi

তোমোদাচি নো হানাশি
ইংরেজি নামঃ দ্যা সিক্রেট অফ ফ্রেন্ডশিপ
জানরাঃ ড্রামা, স্কুল, শৌজো, রোমান্স
চ্যাপ্টারঃ
মাঙ্গাকাঃ কাওয়াহারা আযুনে (গল্প), ইয়ামাকাওয়া আইজি (আর্ট)
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.২৩
ব্যক্তিগত রেটিং: ১০/১০

শৌজো মাঙ্গায় সাধারণত কি হয়? একটি মেয়ে এবং ছেলে তাদের মনের মানুষকে খুঁজে পায় তারপর চারপাশের সবকিছু ভুলে নিজেদের জগতে হারিয়ে যায়। আচ্ছা এবার ভাবুন তো, আপনিও জীবনে ঠিক এমনটি ঘটতে দেখছেন। না না, নিজেকে শৌজো মাঙ্গার নায়ক বা নায়িকা ভাবতে বলিনি তো! থামেন! বলছি আপনার কাছের কোন মানুষের কথা। তার জীবনে এমন কিছুর সূচনা দেখলে আপনার কি প্রতিক্রিয়া হবে? আপনি সুন্দেরের মত অস্বীকার করেন আর নাই করেন, জানা কথা আপনি মনে মনে হলেও ইয়ুনো গাসাইয়ের মত ইয়ান্দেরে মোডে গিয়ে পারলে আপনার কাছের মানুষের জীবনে হাজির হওয়া ওই মানুষটাকে কোপ দিয়ে আসবেন!! আর কাছের মানুষটা যদি হয় আপনার জিগরি দোস্ত তাহলে তো কথাই নেই! কেননা এই নতুন মানুষটিই এতদিনের চেনা ফ্রেন্ডটিকে আপনার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নিতে পারে। বাস্তবে যে এটা হয় তার অসংখ্য উদাহরণ আছে। এরূপ নিষ্ঠুর বাস্তবতায় বেঁচে থাকলে এইকো নামক মেয়েটিকে নিয়ে আপনার ঈর্ষা হবেই।

এইকো সাকামোতো বন্ধুত্ব নিয়ে এই মাঙ্গার প্রধান চরিত্র। তাকে কখনোই সম্পর্ক হয়েছে বলে বেস্ট ফ্রেন্ড হারিয়ে যাবে এই ভয়ে থাকতে হয় না। বরং ভয়ে থাকতে হয় তার উল্টোটা নিয়ে। সে শঙ্কিত কারণ তার জন্যেই তার ফ্রেন্ড মোয়ে হয়ত কখনও তার মনের মানুষ খুঁজে পাবে না। এমন না যে সে মোয়ের কাছে কোন ছেলেকে ঘেঁষতে দেয় না কিংবা সে খুবই সুন্দরী। মোয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি সুন্দর এবং অনেক ছেলেই তাকে পছন্দ করে। তাহলে সমস্যাটা কোথায়? প্রতিবার যখন কোন ছেলে মোয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় মোয়ে সবসময় একটি উত্তরই দেয়। সে রাজি হবে শুধু একটি শর্তে। সেই শর্ত হল তার চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার দিতে হবে এইকোকে। মোয়ের সাথে সময় কাটানো মানেই এইকোর সাথে সময় কাটানো। যেই ছেলে তার এই শর্তে রাজি হবে তাকেই বেছে নেবে মোয়ে। কিন্তু কোন ছেলেই বা রাজি হবে এমন প্রেমিকা পেতে যে তাদের ডেটিংয়েও তার ফ্রেন্ডকে নিয়ে হাজির হবে? তবু শেষমেশ কেউ একজন রাজি হয়েই গেল। “বন্ধুত্বের গল্প” মাঙ্গার গল্পটা শুরু হল এখানেই।

শুরুতেই আপনার মাথায় একটি প্রশ্ন ঘুরঘুর করবে। মোয়ে কেন এরকম অদ্ভুত শর্তে জুড়ে দেয় ছেলেদের কাছে? স্কুলে কিংবা আলাদা করে ঘুরতে বেরিয়েই তো সে এইকোকে সময় দিতে পারে। তার এরপরের কিছু আচরণও অনেক বাড়াবাড়ি লাগবে। এমনও মনে হবে যে এই মেয়ের মানসিকতায়ই সমস্যা আছে। কিন্তু এরপরেই আপনি এমন ভাবার জন্য দুঃখ করবেন। এরপরের দুই চ্যাপ্টারে যে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট হয়েছে এবং কাহিনী যেভাবে এগিয়েছে তা এক কথায় অসাধারণ। অন্যান্য মাঙ্গাগুলো ১০-২০ চ্যাপ্টারেও যা দেখাতে পারে না এই মাঙ্গা মাত্র ২ চ্যাপ্টারেই তা দেখিয়েছে। এত ছোট একটা মাঙ্গা যে পড়ছেন তা মনেই হবে না। মাত্র দুই এক দিনের কাহিনী দেখায়নি এখানে। দেখিয়েছে একটা সময় কালের ঘটনা। এবং তা খুব যত্ন নিয়েই তুলে ধরা হয়েছে। কোথাও কোন তাড়াহুড়া নেই। শুরুতে যেমনই লাগুক চরিত্রগুলোও প্রত্যেকেই ভালো লাগার মত। যেসব ছেলে ভাবে মেয়েরা শুধু ন্যাকামি এবং অন্যের সমালোচনা, কূটনামি করে বেড়ায় তাদের নারুগামি চরিত্রটি বেশ ভালো কিছু শিক্ষা দেবে। আর মোয়ে আমার খুব বেশি পছন্দের একটা চরিত্র।

এত কিছু বলার পরেও আপনি ভাবতে পারেন মাঙ্গাটি কেন পড়বেন। অল্প চ্যাপ্টার, ভালো গল্প আর ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আছে-বোঝা গেল। কিন্তু এই কথা হয়ত অন্য আরো মাঙ্গার জন্যেও শুনবেন। তাহলে এত মাঙ্গা থাকতে তোমোদাচি নো হানাশিই কেন পড়বেন? পড়বেন কারণ এখানে খুব দুঃখ-কষ্ট, কে কাকে পছন্দ করে এই নিয়ে বিশাল প্যাঁচ, ত্রিভুজ প্রেম, নায়িকার ক্ষতি করতে চাবে এমন হিংসুটে মেয়ে, বুলিং, অতিরিক্ত মিষ্টি প্রেম এসবের বালাই নেই। আছে শুধু বন্ধুত্বের উষ্ণ গল্প আর হালকা রোমান্স। এইকো আর মোয়ের মাঝে যে বন্ধন আছে তা দেখলে মন ছুঁয়ে যায়। ওদের বন্ধুত্বের মতই হওয়া উচিৎ প্রতিটি বন্ধুত্ব। পড়তে পড়তে আপনারও এমন বন্ধু পাওয়ার ইচ্ছা জেগে উঠবে। যদিও শৌনেন মাঙ্গাতে এসব অহরহ দেখা যায় তারপরেও এখানকার গল্পটি একদম অনন্য। একেবারে “রেয়ার জেম” যাকে বলে।

আর্টের দিক থেকে বিচার করলে ভালো না খারাপ বলা উচিৎ ঠিক নিশ্চিত না। অনেক হালকা দাগ দিয়ে আবছা আবছা করে ছবিগুলো আঁকা হয়েছে। সাধারণ সাদা-কালো এর চেয়ে ধূসর ভাবটা বেশি। যে কারণে তাকিয়ে থাকতে অস্বস্তি লাগতে পারে। তবে সবকিছুর গঠন, অবয়ব একদম যথাযথ। আবার শৌজো মাঙ্গার চিরচেনা আর্ট স্টাইলে যে বিশাল গোল গোল, জ্বলজ্বলে চোখ থাকে তা এখানে একেবারেই অনুপস্থিত। বরং এখানে অনেক ছোট আর কুতকুতে চোখ। তাই যাদের ওই সাধারণ শৌজো মাঙ্গার আর্ট পছন্দ না তাদের কোন সমস্যা হবে না। এই ক্যারেক্টার ডিজাইন মাঙ্গাটির সাথে বেশ মানিয়ে গেছে।

দুঃখের বিষয় এই মাঙ্গার শেষ চ্যাপ্টারটি আজ অব্দি স্ক্যানলেশন করা হয়নি। অদূর ভবিষ্যতে চতুর্থ চ্যাপ্টার স্ক্যানলেটেড হওয়ারও কোন আশা নেই। চ্যাপ্টার ৩ বেরিয়েছিল সেই ২০১৩ তে। তাই বলে মাঙ্গাটি না পড়ার কারণ নেই। ৩ নম্বর চ্যাপ্টার যেভাবে শেষ হয়েছে তা ছিল সন্তোষজনক। কাহিনী ওখানে শেষ ধরে নিলে কোন সমস্যা হবে না। শেষ চ্যাপ্টারে কি হতে পারে ওটা আগে থেকেই বুঝে নেওয়া যায়। তাই সমাপ্তিটা ফ্যানফিকশনের মত নিজের মনমত বানিয়ে নিতে পারবেন।

শেষ কথা, তোমোদাচি নো হানাশি আমার পড়া অন্যতম একটি অসাধারণ মাঙ্গা এবং আমার সবচেয়ে প্রিয় মাঙ্গাগুলোর একটা। শৌজো হিসেবে নয়, এটিকে নাকামা বা তোমোদাচি নিয়ে তৈরি মাঙ্গা হিসেবেই পড়বেন। সুতরাং ছেলে মেয়ের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। আশা করছি আপনারও আমার মত মাঙ্গাটি খুব ভালো লাগবে।

রুফিয়াসের মাঙ্গা থিওরি ৪ – নারুতো আর বোরুতো মাঙ্গা দুটি আলাদা ইউনিভার্সের গল্প

২০১৫ সালেই ৭২টি ভলিউমের মাধ্যমেই শেষ হয়েছিল নারুতো মাঙ্গার যাত্রা। তারপর মাঙ্গাকা মাসাশি কিশিমোতো এই মাঙ্গার জনপ্রিয়তার উপর বিশ্বাস রেখেই আমাদের উপহার দিয়েছিলেন নারুতো গাইডেন আর দা লাস্ট এবং বোরুতো মুভি। বলেছিলেন, এর পরে আর নারুতো আসবে না। নারুতোর গল্প ফুরলো, নটে গাছটা মুড়লো… যাইহোক, কিন্তু এই শেষ কথার পরেও কেন বোরুতো মাঙ্গার আবির্ভাব হল? কিশিমোতো কি তাহলে মিথ্যাচার করেছিলেন?আমার মনে হয়, বোরুতো দা নেক্সট জেনারেশন মাঙ্গা সম্পূর্ণ একটি ভিন্ন ইউনিভার্স। গল্পের ভিন্ন রিয়েলিটি। কিভাবে? বলছি।

বোরুতো মাঙ্গা পাব্লিশ করেছে শোনেন জাম্প, শুধুমাত্র নারুতোর জনপ্রিয়তার উপর ক্যাপিটালাইজ করার জন্য, এমন কি মাঙ্গাকা নিজে আর মাঙ্গা আঁকবেন না বলার পরেও অন্য মাঙ্গাকা জোগাড় হয়ে গেল সেই মাঙ্গা আঁকার জন্য। এখানে শোনেন জাম্প ম্যাগাজিনেরও কিন্তু নারুতোর উপর রাইটস আছে, তাই চাইলেই সেই রাইটস তারা ইউটিলাইজ করতে পারে। তাই, বোরুতো মাঙ্গা যে বের হবে এটা ছিল অনিবার্য। এই বরুতো মাঙ্গার প্রকাশ হবার উপলক্ষে মাঙ্গাকা কিশিমোতো একটা সাইড স্টোরি আঁকলেন মুতসুকি কে নিয়ে। মুতসুকি কে? ওরোচিমারুর ছেলে। যারা সাইড স্টোরিটা পড়েছেন তারা জানেন যে, ওরোচিমারুর দুই ছেলে আছে। বড় মুতসুকি, আর ছোটো মুতসুকি। বড় মুতসুকি প্রাপ্তবয়স্ক সেইজ নিঞ্জা। আর ছোটো মুতসুকি নারুতোর ছেলে বরুতোর সমবয়সী। আচ্ছা, তাহলে বড় মুতসুকি জন্ম হল কবে? ওরোচিমারু তো শিনোবি যুদ্ধের আগ পর্যন্ত কাবুতোর শরীরেই ছিল, তার আগে তো সে মুতসুকি কে জন্ম দিতে পারেন নি। তাহলে ?

বোরুতো অ্যানিমে থেকে মাঙ্গায় মাঙ্গায় সাসকের চুল এর ধরণ ও আলাদা। সারাদার ব্যাটেল গিয়ার মুভির থেকে আলাদা। কি জানি সামনে আরো কত কিছুর ভিন্নতা পাওয়া যায়। এমনকি এই ইউনিভার্সে হোকাগের অভিষেক অনুষ্ঠানে নারুতোর বদলে কোনোহামারু গিয়ে উপস্থিত হয়েছিল ( দা ডে নারুতো বিকেম হোকাগে মাঙ্গা স্পেশালে তাই দেখা যায়)তাহলে এমন কি হতে পারে, এই সকল পরিবর্তন আর প্লট হোল মাঙ্গাকা কিশিমোতোর নিজের পরিকল্পনা। তিনি কি নিজের গল্পের রিয়েলিটি থেকে বোরুতো মাঙ্গার রিয়েলিটির বিচ্যুতি ঘটানোর জন্যেই এই রকম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

এই মুহূর্তে আমার কাছে আর কোনো এভিডেন্স নেই, তবে থিওরিটি আজ হাইপোথেসিস হিসেবে রেখেই ইতি টানলাম।

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৮ (Vento Aureo)

দক্ষিণ ইতালির Naples এয়ারপোর্টে কুজো জোটারোর নির্দেশে কোইচি হিরোসে এসেছে হারুনো শিওবানা নামের একজনকে খুঁজতে —

হুম প্রথম বাক্যে কুজো জোটারোর উপস্থিতি দেখেই অনুমান করতে পারা যায় এটা জোজো ফ্রাঞ্চাইজির সাথে সম্পর্কিত। মূলত Vento Aureo হল হিরোহিকো আরাকি’র JoJo’s Bizarre Adventure এর গল্পের পঞ্চম ভাগ যেখানে প্রোটাগোনিস্ট একজন গ্যাংস্টার – ঠিক গ্যাংস্টার এখনো নন তবে গল্পের সাথে সাথে পুরোদস্তর মাফিয়ার শিরায় শিরায় প্রবেশ করতে থাকবেন ……

গল্পের টাইমলাইন ২০০১ – দুর্নীতি আর মাফিয়ার আগ্রাসনে আক্রান্ত ইতালি – সমগ্র দেশে বিকেন্দ্রীকরণ পদ্ধতিতে ছড়িয়ে আছে সুসংগঠিত মাফিয়া চক্র । আর প্রোটাগোনিস্ট জিওরনো জিওভানা’র জীবনের লক্ষ্যই হল গ্যাংস্টার হওয়া ……

vento-aureo-1

একটু টিপিক্যাল Thug স্টাইলে মাফিয়ার এক চক্রের সাথে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে জিওভানা – সেখান থেকে খুনোখুনি হয়ে গেলে এ খবর পৌঁছে যায় Higher Ups এর কাছে … গল্পের ধারাটা এখন পর্যন্ত বেশ টিপিক্যাল মাফিয়া স্টোরি আর বেশ প্রেডিক্টেবল মনে হচ্ছে তাই না?

কিন্ত আশ্বস্ত করতে পারি, আর যাই হোক টিপিক্যাল বা প্রেডিক্টেবল কথা দুটি ভেন্টো অরেওর ক্ষেত্রে ব্যবহার করাটা যথারীতি Insult মাংগাকার প্রতি। কারণ এই মাঙ্গা টিকে আঁকতে আঁকার স্কিলের চেয়ে বুদ্ধিমত্তা আর সৃজনশীলতার যে ভালো একটা ম্যাশ আপ আছে যা অধিকাংশ “Action” মাঙ্গা তেই থাকেনা ……

vento-aureo-2

স্ট্যান্ডের বিচিত্রতা রীতিমত Overwhelming ! স্ট্যান্ড কি বস্ত তা জানতে হলে চলে যেতে হবে জোজো ফ্রাঞ্চাইজির ৩য় পাখ্যান Stardust Crusaders এ …

এ ভাগের স্ট্যান্ড গুলো আগের সব জোজোর ভার্শন কে ছাড়িয়ে গেছে …

ওয়েস্টার্ন মিউজিকের আদলে বা স্বতন্ত্র ভাবে যে নামগুলো স্ট্যান্ডের পরিচয় তা শুনেই যেকোন একশন ফ্যান উচ্ছ্বসিত হবেন ……

পার্ট ৫ এ আমার সবচেয়ে পছন্দের ৭ টি স্ট্যান্ডের নাম উল্লেখ করা হল –

Gold Experience,Sticky Fingers,Man in the Mirror,The Walking Dead,Notorious B.I.G.,Metallica,King Crimson

vento-aureo-3

আর স্ট্যান্ডগুলোর এবিলিটি আর প্রয়োগ প্রচন্ড ভাবে সায়েন্টিফিক – একেকটি স্ট্যান্ড এর ক্ষমতা আর দুর্বলতা বের করে তাকে মোকাবেলা করা – এই এক জিনিস বারবার করালেও তার মাঝেই যে অনন্যসাধারণ Charisma কাজ করেছে যা বুঝতে হলে মাঙ্গা টি পড়তেই হবে ……

অধিকাংশ স্ট্যান্ড দেখেই মনে হবে এই স্ট্যান্ড তো Invincible ; একে হারানো সম্ভব না – ঠিক তখনই আরাকি সেন্সেই এমন এক স্ট্রাটেজি হাজির করবেন যে চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াতে আপনি বাধ্য……

গল্পের বাঁকে বাঁকে উত্তেজনা আর টুইস্টের পাশাপাশি প্রধান ভিলেইন এর মত কিছু চরিত্রের মাঝে সাইকোলজিক্যাল ব্রেকডাউন এর নমুনা দেখা যায় – সেটা হতে পারে নিজের পরিচয় গোপন রেখে পুরো পৃথিবী দখলে রাখার ইচ্ছা আর সেকারণে নিজের পরিবারকেও নিশ্চিহ্ন করে দেয়াতে রাজি থাকা ইত্যাদি ইত্যাদি ………

vento-aureo-4

জোজো ফ্রাঞ্চাইজির কিছু ট্রেডমার্ক বস্ত বরাবরই আছে – পোজ এর পরিমাণ একটউ কম লেগেছে আমার কাছে । তবে আরাকির হাতে রাগান্বিত অবস্থায় চরিত্রের মুখ বা ফেইস এক্সপ্রেশন সেই Macho বা ওভার দ্যা টপ স্টাইলেরই – সেটাতে কোন পরিবর্তন নেই। আছে কিছু সংযোজন – “ নারান্সিয়া আর মিসটার Boom Chaka Boom Chaka Chaka Boom” নাচ

যেকোন একশন প্রেমী দের জন্য এটা আদর্শ মাঙ্গা – একটানা বসে ২০৪৮ পেজ শেষ করতে না পারলেও টানা ৫/৬ দিন পড়তে পারলে সহজেই শেষ করতে পারবেন ……

vento-aureo-5

পার্ট ৪ না পড়লে কি সমস্যা হবে? একটু আধটু হবে বৈকি। শুরুতেই কোইচি হিরোসে কে চিনবেন না আর “অ্যারো” বস্তটি কোথা থেকে এল তা নিয়ে বিব্রত লাগতে পারে। তবে তা এঞ্জয়মেন্টের ক্ষেত্রে কোন প্রভাবি ফেলবে না ……

ফিমেইল ক্যারেক্টারের ড্রেস আপে একটু ভিন্নতা আছে এবার! এর আগে তেমন একটা গল্পের মেইন প্লটে ফিমেইল চরিত্র না এলেও এবারের গল্পের প্রায় অর্ধেক অংশই এক ফিমেইল চরিত্রের রেসকিউ নিয়ে – আর এবার পোশাক আশাক টা বেশ Modernized করা হয়েছে – অর্থাৎ জোজোর গল্পের টাইমলাইনের সাথে গল্পের এনভায়রনমেন্টের একটা সামঞ্জস্য রাখা হচ্ছে ……

আর মাঝে মাঝেই ভলিউমের কভারের পাশে হিরোহিকো আরাকি’র মাঙ্গা আকাকালীন কিছু অভিজ্ঞতা তিনি শেয়ার করেছেন – ওগুলো পড়ে দেখা যেতে পারে।

তবে এবারের গল্প পুরোটাই দক্ষিণ ইউরোপকেন্দ্রিক হওয়ায় পার্ট ৩ এর মত সার্বজনীন ফ্লেভার টা হয়ত পাওয়া যাবে না – তবে ফাইট গুলোর intensity আর উত্তেজনা সে অভাব অনেকাংশে পূরণ করে দিয়েছে ………

সর্বোপরি ভেন্টো অরেও কে ১০ এ ৯ এর উপর না দেয়াটাই অন্যায় হবে …

একটু অন্য ফ্লেভারের একশন উপভোগ করতে চাইলে পড়ে দেখতেই পারেন তবে তার আগে দেখে বা পড়ে নিতে হবে ফ্রাঞ্চাইজির বাকি ৪ অংশ –

::: JoJo’s Bizarre Adventure (2012) [Anime- 26 Episodes] অথবা

JoJo’s Bizarre Adventure : Battle Tendency আর Phantom Blood এ মাঙ্গা দুটি

::: JoJo’s Bizarre Adventure : Stardust Crusaders (2014-15) [Anime – 48 Episodes]

অথবা একই নামধারী মাঙ্গা

::: JoJo’s Bizarre Adventure : Diamond is Unbreakable [এটার এনিমে অনগোয়িং;চাইলে মাঙ্গা পড়তে পারেন তবে এটা না পড়েও সোজা পার্ট ৫ Vento Aureo পড়তে কোন বাঁধা নেই]

অনন্য মাঙ্গা আসর-৭ (Ayeshah’s Secret)

সৎমায়ের ক্রোধ কিংবা ফ্যামিলি কমপ্লেক্সিটি – পুরনো কনসেপ্ট,গৎবাঁধা ক্লিশে আর বিরক্তি উদ্রেককারী……

কিন্ত সাধারণ কোন কনসেপ্টকে চাইনিজ আর্টিস্ট Jing Zhang অসাধারণ কিছুতে পরিণত করার ক্ষমতা রাখেন…… ডক্টর ডুমিং তার পারফেক্ট উদাহরণ…..

ayeshahs-secret-1

এবারো এক চরিত্রকেন্দ্রিক গল্প – চরিত্রটি সম্পর্কে শেষ মুহূর্ত অবধি রহস্য আর সাইকোলজিক্যাল কলিশন ও জটিলতায় অঙ্গুলিসংকেত – অর্থাৎ প্যাটার্ন টা ডক্টর ডুমিং এর মত কিন্ত শিল্পগুণ বা সৃষ্টিকর্ম হিসেবে “Ayesha’s Secret” ডক্টর ডু মিং অপেক্ষা যোজন যোজন এগিয়ে………
পড়ার সময় যেন চরিত্র কথা বলে – আর্ট এতটাই জীবন্ত যে খুব সহজেই গল্পের মাঝে মিশে যেতে পারবেন……

ayeshahs-secret-2

আর Intense মুহূর্তে একটু হলেও Psychological Thrust অনুভূত হবে ……
আয়েশার মাঝে জীবনের নানা দিক,জীবনকে দেখার নানা দিক ই শুধু ফুটিয়ে তোলা হয়নি ,ভালোবাসার সংজ্ঞা,প্রতিহিংসা বা অদ্ভুত ভাবনা,Heartless নাকি realistic – বেশ কিছু প্রশ্নের উদ্রেক করেছে মানহুয়াটি ……

১১ চাপ্টারে দ্বিতীয় বিবাহ কে ফোকাসে রেখে আয়েশার মধ্য দিয়ে পাঠককে বেশ সংবেদনশীল এক উপবৃত্তে ঘুরিয়ে এনেছেন Jing Zhang ….
গল্প শুরু পরিবারের মাঝে সুখ খুঁজে পাওয়া দিয়ে – তারপর অসহায়ত্ব,নির্মম ষড়যন্ত্র,কে ভালো কে খারাপ বিচার করতে গিয়ে পাঠকের দ্বিধা,খুবি বড় একটি টুইস্ট যা হৃদযন্ত্রে বেশ আলোড়ন সৃষ্টিতে সক্ষম।বারবার অস্তিত্বের সংকটে ভোগা কিংবা মনের অজান্তে জন্ম নেয়া পরশ্রীকাতরতা কে সামনে রেখে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলেছে ড্রামাটিক ও হালকা ট্র্যাজিক ঘটনাচক্র ……

গুয়েন সাহেব আর মিস নরমার কোল আলো করে আসে আয়েশা – জন্ম দিয়েই ইহলীলা সাঙ্গ করেন নরমা।তারপর দ্বিতীয় বিবাহ করেন গুয়েন,ঘরে আসে লেডি সিলভিয়া,তিনি আবার তিন পুত্রের মাতা,স্বভাবতই আয়েশার প্রতি অবহেলার সূত্রপাত – ঘোলাটে হয়ে যায় পরিবারের জীবনযাত্রা

ayeshahs-secret-3

তারপর ই গল্পের চাকা ঘুরতে শুরু করে – ইংরেজি নভেলগুলোর এনভায়রনমেন্ট থাকাটা বেশ উপভোগ্য ছিল।এতকিছুর মাঝে আয়েশা রহস্যময় – কি সেই রহস্য? সেই রহস্য দিয়েই গল্প শেষ হয়।কিভাবে কি ঘটছিল তার উত্তর দুয়ে দুয়ে চার করে মিলিয়ে দেয়া হয় যেটা ডক্টর ডু মিং এও করা হয়েছিল ডু মিং এর কনফেশনের মাধ্যমে ……

ayeshahs-secret-4

মাঙ্গার সেরা চরিত্র Sean – সংলাপ,বাহ্যিক রূপ,চিন্তাভাবনা সবকিছুতেই সে অন্য উচ্চতায় – যদিও মূল স্টোরিলাইনে সে অনেকটা দর্শকের ভূমিকাই পালন করেছে……
ডক্টর ডু মিং এর চেয়েও বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে “Ayesha’s Secret”
আয়েশা চরিত্রটির কার্যক্রম থেকে কি তাকে স্বার্থপর বলা যায়?
সিলভিয়াকে কি সত্যিই গল্পের ভিলেইন বলা যায়?
ঠিক কি কারণে কাউকে ভালোবাসা উচিত?
আমরা মুখে যতই বলি মহৎ কথা অহিংস কথা,উপযুক্ত পরিস্থিতিতে কি পারতাম প্রতিশোধ না নিয়ে ক্ষমা করে দিতে?

ঠিক আমাদের চিন্তাভাবনার যে সংবেদনশীল জায়গাতে আঘাত করলে আমরা সিদ্ধান্ত নিতে বিচলিত হই সে জায়গা নিয়েই যেন ইচ্ছে করেই গল্প সাজিয়েছেন Jing Zhang – আর একারণেই হয়ত আয়েশার রহস্য পছন্দের ক্যালিবারে অনায়াসেই ঠাই পেয়ে গেছে ………

আর্ট খুবি উঁচু দরের,একটা কোট আকার সময় কোটের ভাঁজ এও কোন ভুল ছিল না,চোখের পাপড়িতেও কোন গলদ নেই – হাতে আঁকা না জানিয়ে কাউকে মুভির স্ক্রিনশট বললে অনায়াসেই বোকা বানানো যাবে ………

বেশ কঠিন কিছু কথা মনে হলেও মানহুয়াটি পড়ার সময় অনুভূতিটা এরকম জটিলই হবে – চাইলেও তাকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব না ………
প্যানেল টু প্যানেল আঁকার তারতম্য ও হয়নি এতটুকুও,আর আয়েশার ব্যাপারে একটা কথা – [চরিত্রটির প্রেমে পড়তে বাধ্য আপনি] – কারণ তাকে সেভাবেই আঁকা হয়েছে …………
মানহুয়াটি বেশ ডার্ক আর গভীর,লাইট কিছুই নেই।একটি সাধারণ সংলাপের মাঝেও লুকিয়ে আছে অনেককিছু ……
মানহুয়াটিতে রহস্য রহস্য গন্ধ থাকলেও শেষ অবধি রহস্যের চেয়ে সাইকোলজি আর ড্রামাটিক ভাইব পাওয়া গেছে ………

ayeshahs-secret-5

কোইযোরাঃ সেতসুনাই কোইমোনোগাতারি [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

koizora-setsunai-koimonogatari

কোইযোরাঃ সেতসুনাই কোইমোনোগাতারি
ইংরেজি নামঃ স্কাই অফ লাভ, লাভ স্কাই-স্যাড লাভ স্টোরি
জানরাঃ স্লাইস অফ লাইফ, ড্রামা, রোমান্স, শৌজো, ট্র্যাজেডি
চ্যাপ্টারঃ ৩০
ভলিউমঃ ১০
মাঙ্গাকাঃ হানেদা ইবুকি (অঙ্কন), মিকা (গল্প)
মাইআনিমেলিস্ট স্কোরঃ ৮.১৩
ব্যক্তিগত স্কোরঃ ৯/১০

শৌজো মাঙ্গা নিয়ে কমবেশি সবারই বিভিন্ন অভিযোগ শোনা যায়। যার মাঝে উল্লেখযোগ্য একটি হল আর যাই হোক, এসব মাঙ্গার কাহিনীতে বাস্তবতার ছোঁয়া নেই বললেই চলে। গল্প যখন অনেক দূর যাওয়ার পরে তাতে নাটকীয়তা আসে ঠিক ওই অংশগুলোর জন্যই স্লাইফ অফ লাইফ বলা হয়। কিন্তু কোইযোরা এমন একটি শৌজো মাঙ্গা যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তব জীবনের ঘটনা তুলে ধরে গেছে। শুরুটুকু পড়ে অন্তত মনে হয় যেন একটি বাংলাদেশী মেয়েরই সুপরিচিত প্রেমকাহিনী নিয়ে মাঙ্গাটি তৈরি করা হয়েছে। এই একটা মাঙ্গা পড়ে আমার মনে হয়েছে হয়ত আমাদের দেশের কোন মেয়েও এই গল্পের সাথে নিজের জীবনের সাথে মিলে খুঁজে পাবে। যদিও মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে তার সাথে মিল খুঁজে পাবে কম মানুষ এবং এই সংখ্যাটা যত কম ততই আসলে ভালো…

তাহারা মিকা খুব সাধারণ একজন মেয়ে। হাইস্কুলে উঠার পর সেও আর দশটা মেয়ের মত স্বপ্ন দেখে তার একটা বয়ফ্রেন্ড হবে, তার সাথে ঘুরতে যাবে এবং আর বাকি যা যা নিয়ে ভাবতে পারে একজন টিনএজার মেয়ে। মিকার বান্ধবী আয়া তাদের স্কুলের প্লেবয় নোযোমির সাথে ফোন নাম্বার বিনিময় করে। কিন্তু নোযোমির মিকার প্রতি আগ্রহ তাই সে আয়ার কাছে থেকে মিকার নাম্বার নেয়। মিকার সাথে সে যোগাযোগ করলে মিকা ব্যাপারটা খুব অপছন্দ করে। তাও নোযোমি মিকাকে ঘনঘন মেসেজ দিতেই থাকে। এদিকে আয়াও তার বান্ধবীর উপর অসন্তুষ্ট হতে থাকে মিকা তার পছন্দের ছেলেকে কেড়ে নিচ্ছে বলে। এরকম এক টানাপোড়নের মধ্যে একদিন আরেকটি নাম্বার থেকে মিকার ফোনে কল আসে। নোযোমি মাতাল অবস্থায় মিকাকে তার বন্ধুর বাসা থেকে ফোন দেয়। ফোন কাড়াকাড়ি করে নোযোমির বন্ধু সাকুরাই হিরোকি মিকার সাথে কথা বলে। হিরোর কণ্ঠ মিকার কাছে অনেক শান্ত আর নম্র মনে হয়, যেটা নোযোমির পুরো উল্টা। একদম স্বেচ্ছায় মিকা হিরোকে ফোন নাম্বার দেয়, ফোনে কথা বলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে দেখাও করে। দেখা করার সময় মিকা বুঝতে পারে যেহেতু হিরো নোযোমির বন্ধু তাই সেও অবশ্যই নষ্ট ধরণের ছেলে হবে। হিরোকে দেখে সে আবিষ্কার করে এই সেই ছেলে যে জুনিয়র হাইস্কুলে একজন ডেলিনকুয়েন্ট ছিল এবং যার বোন ইয়ানকী বলে গুজব শোনা যায়। হিরোকে দেখে মিকা অনেক ভয় পেয়ে গেলেও হিরোর কিছু স্নেহশীল আচরণ দেখে সম্পর্ক রাখবে ঠিক করে। ওই সময়ের ছোট্ট একটা সিদ্ধান্তই যে পরে তার জীবনটায় আমূল পরিবর্তন আনবে মিকা কি তা ঘুণাক্ষরেও টের পেয়েছিল?

অবশ্যই মিকা এটা তখন জানত না। জানলে হয়ত এই মাঙ্গাটাই আর আমরা পেতাম না। আপনি নিশ্চয়ই ভাবছেন তাহলে অন্য গল্প হত এখানে, আর তো কিছু না। কিন্তু তাহলে সেই গল্প নিয়ে মাঙ্গা তৈরি হওয়ার সম্ববনা থাকত না। কেননা মিকা তো এই মাঙ্গাতে সীমাবদ্ধ কোন চরিত্র না। সে যে রক্ত-মাংসেরই একজন সত্যিকারের মানুষ! জ্বী, কোইযোরা কোন লেখকের কল্পনায় মনের মাধুরী মিশিয়ে লেখা কোন গল্প না। এটি মিকা নামের একটি মেয়ের জীবনের সত্যিকারের ঘটনা অবলম্বনে লেখা। এ কারণেই শুরুতে “স্লাইফ অফ লাইফ” কথাটা তুলেছিলাম। তবে ভুলেও ভাববেন না এতে বাস্তবধর্মী উপাদান অনেক বেশি তাই নাটকীয়তা কম। এটায় যে পরিমাণ নাটকীয়তা আছে তা ১০টা কেন ১০০টা স্লাইফ অফ লাইফ, ড্রামা কিংবা শৌজো সিরিজ খুঁজলেও পাবেন না। সাধারণের তুলনায় এখানে এসব ১০ গুণ বেশি। আমার কষ্টের গল্প খুব ভালো লাগে কারণ তা মানুষের সত্যিকারের কষ্টগুলোকে তুলে ধরে। অনেকেই এসবকে “মেলোড্রামা” বলে উড়িয়ে দেয়। কিন্তু বাস্তবে যে এমন ঘটনা অল্প হলেও ঘটে তার সাক্ষাৎ উদাহরণ এই মাঙ্গাটি। একটা কথা আছে- “life is more than drama”। জীবন নাটকের চেয়েও বেশি কিছু। মিকার জীবনের গল্পটা এমনই যে সেটাকে বাস্তবের না বলে কোন নাটক কিংবা সিনেমার গল্প বলাটাই বেশি উপযুক্ত হত। এতদিন অনেক সিরিজকেই “ড্রামাটিক” উপাধি দিয়ে এসেছেন। তবে এই শব্দটার অর্থ আসলেই বুঝতে চাইলে কোইযোরা পড়ে দেখতে পারেন।

কোইযোরা কোনভাবেই স্বাভাবিক শৌজো মাঙ্গা ভেবে পড়তে যাবেন না। আর শৌজো হলেও কারও বয়স যদি ১৪/১৫ এরকম হয় তাহলেও এটা পড়া উচিৎ হবে না বলে আমি মনে করি। একটু ম্যাচিউরিটি আসার পরে এবং একটু বড় হলে পড়াটাই ভালো হবে। তার গুরুত্বটা উপরের কথা থেকে বুঝা সম্ভব না। এই মাঙ্গা পড়ার আগে কিছু বিষয়ে জেনে রাখা উচিৎ। তাই স্পয়লার হলেও সেগুলো বলতেই হচ্ছে। এখানে শারীরিক সম্পর্ক, ধর্ষণ, মাদক, প্রেগন্যান্সি এর মত অনেক বয়ঃপ্রাপ্তদের জিনিস রয়েছে। অতএব বুঝতেই পারছেন, এটা পড়তে হলে বুঝেশুনেই পড়তে হবে। আর আপনার নিতীবোধ যদি বেশি থাকে এবং টিনএজদের উল্টাপাল্টা পাগলামি, ছাগলামি দেখে বিরক্ত হন তবেও সাবধান থাকবেন। কেননা আমার মত আপনারও একদম শুরুতেই তাহলে মাঙ্গাটা ড্রপ করতে ইচ্ছা হবে। তবে এই মাঙ্গার এসব বড়দের জিনিসপাতি বিবেচনা করলে একে শৌজোর চেয়ে জোসেই বলাটাই ভালো হত। মিকা গল্পের শুরুতে হাইস্কুলে থাকে বলেই একে শৌজো ট্যাগ দেওয়া হয়েছে। যদিও পরে “জোসেই বয়সের” সময়ও আসবে।

চরিত্রগুলোর মধ্যে ইয়ূকে খুব ভালো লেগেছে। ইয়ূ অসাধারণ একজন মানুষ! এছাড়া আর কাউকে তেমন ভালো লাগেনি ওভাবে। কিন্তু ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশি ভালো ছিল। মাঙ্গাটা একদম প্রথম চ্যাপ্টারেই গল্পের মধ্যে ঢুকে যায় এবং পুরা ৩০ চ্যাপ্টার জুড়েই একের পর এক ঘটনা চলতে থাকে। দম ফেলার সময় দেয় কম। তারপরেও কাহিনীতে তাড়াহুড়া লাগেনি। তার একটা কারণ এর চ্যাপ্টারগুলো (সব কিনা মনে নেই) সাধারণ শৌজো মাঙ্গার একেকটা চ্যাপ্টারের চেয়ে অনেক বড়। যেহেতু এই মাঙ্গাটি তৈরিই হয়েছে মিকার গল্পটা সবার সামনে তুলে ধরার জন্য শুধু বিনোদনের জন্য তৈরি করার বদলে তাই এখানে সাধারণ মাঙ্গার মত কেয়ার-ফ্রি, মজার অপ্রয়োজনীয় চ্যাপ্টার তেমন একটা ঢুকায়নি। কিন্তু গল্পের গভীরতা বুঝার জন্য এবং চরিত্রগুলোকে বুঝার জন্য যখন যেমন সিরিয়াস বা মিষ্টি মুহূর্ত দেখানো দরকার তার সবই দেখিয়েছে। তবে পড়ার সময় বিভিন্ন জায়গায় এত রাগ উঠে চরিত্রগুলোর কিছু কিছু আচরণে যে মনে হয় এটা পড়ার কোন মানে নেই। কিন্তু সময় হলে তাদের আচরণগুলোর পেছনের কাহিনী জানতে পারবেন। এজন্যই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট বেশ পছন্দ হয়েছে। তারা নিজেদেরকে ব্যাখা করার সুযোগ পেয়েছে। আর তাই তাদের সাথে ইমোশনাল অ্যাটাচমেন্ট কাজ করে। ভালো লাগুক আর না লাগুক, তাদেরকে অনুভব করতে পারবেন।

এমন সিরিয়াস মাঙ্গাতে বড় বড় জ্বলজ্বলে চোখ আর চকচকে ব্যাকগ্রাউন্ড মানাবে না ঠিক। কিন্তু এর আর্ট যে একটু বেশিই বাজে! আর্ট নিয়ে খুঁতখুঁতে হলে আপনি ভুল জায়গায় চলে এসেছেন। দারুণ শারীরিক গঠন, সুন্দর চোখ, এলোমেলো চুল, ডিটেইল্ড ব্যাকগ্রাউন্ড এবং অন্যান্য মনোরম দৃশ্য এসবের কিছুই নেই এতে। একটা অ্যাভারেজ মাঙ্গার আর্টও এর থেকে ভালো হয়। তাই একটু কষ্ট করে আর্ট সয়ে নিতে হবে। শুধু গল্পটার স্বার্থে ব্যাপারটা মেনে নিয়ে পড়া চালিয়ে যেতে পারলে ভালো।

কোইযোরা প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৫ সালে সেল ফোন নভেল হিসেবে। শুধুমাত্র মোবাইলে পড়া যায় এমন এক ওয়েবসাইটে মিকা নিজেই তার আত্মজীবনী উপন্যাস হিসেবে লেখা শুরু করে। তখনই এটি জাপানের বেস্ট-সেলিং কামিং অফ এজ এবং রোমান্স উপন্যাসের খেতাব পায়। ২০০৬ এ এটি বই আকারে প্রকাশ হয় এবং এরপরে এর জনপ্রিয়তা এতই বেড়ে যায় যে এর একটি লাইভ অ্যাকশন মুভি, টিভি সিরিজ এবং মাঙ্গা আসে। উয়িকিপিডিয়াতে আবার মাঙ্গা ডেমোগ্রাফিক দেওয়া রয়েছে সেইনেন। যেটাই হোক এটার আনিমে আসেনি এটাই যা দুঃখ! লাইভ অ্যাকশন মুভিটি আমি দেখেছি। এখানে সব ঠিক থাকলেও মাঝে মিকার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় দেখাতে পারেনি। তাই মুভি দেখতে ইচ্ছুক হলেও মাঙ্গাটাই আগে পড়ে ফেলবেন। কিন্তু অবশ্যই এটা সবার জন্য নয়। বিচার-বিবেচনা করে যদি আপনার রুচির সাথে মিলে বা মানিয়ে নিতে পারেন তাহলে পড়বেন। তবে হ্যাঁ, এত জনপ্রিয়তা তো শুধু শুধু পায়নি কোইযোরা। ট্র্যাজিক গল্প বলে না, এরকম সত্যিকারের ভালোবাসার দেখলে যে কারোরই মন ছুঁয়ে যাবে। মিকাকে কি আসলে দুর্ভাগ্যবতী না সৌভাগ্যবতী বলে উচিৎ কে জানে! তবে এরকম ভাগ্য ১০০০ এ ১ জনেরও যে হয় না তা বলার অপেক্ষা রাখে না। মিকা, তুমি যেখানেই থাকো আশা করি সুখেই আছো।

ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

faster-than-a-kiss

ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস
জাপানী নামঃ কিস য়োরি মো হায়াকু
জানরাঃ রোমান্স, স্কুল, কমেডি, ড্রামা, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৫৮
ভলিউমঃ ১২
মাঙ্গাকাঃ তানাকা মেকা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১২
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

নিষিদ্ধ জিনিসের প্রতি আকর্ষণ বেশি কথাটা আমরা সবাই জানি। আনিমে এবং মাঙ্গা জগতে এসব নিষিদ্ধ জিনিস বলতে সাধারণত ইয়াওই, ইয়ুরি বা এ ধরণের এহেম এহেম মার্কা জিনিসই বোঝানো হয়। তবে এমন কিছু পেলে কেমন হয় যেটা কোন এক নিষিদ্ধ সম্পর্ক নিয়েই তৈরি কিন্তু পড়ার সময় বারবার মনে হবে না আপনি উল্টাপাল্টা কিছু পড়ছেন বরং খুব বেশি মিষ্টি আর নিষ্পাপ একটি গল্প বলেই মনে হবে? এমনই এক মাঙ্গা হল “ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস” যা গড়ে উঠেছে শিক্ষক-ছাত্রীর নিষিদ্ধ সম্পর্ককে নিয়ে।

বাবা-মা হারা অনাথ মেয়ে কাজি ফুমিনো। শেষ সম্বল বলতে আছে ফুমিনোর পিচ্চি ভাই তেপ্পেই যার বয়স আবার মাত্র ৪ বছর। যেই বয়সে বাবা-মায়ের আদর আর শাসনে বেড়ে ওঠার কথা সেখানে ফুমিনোর চিন্তা কিভাবে হাই স্কুল পাশ করবে আবার একই সাথে ছোট্ট ভাইটির দেখাশুনা করবে। এক আত্মীয় থেকে আরেক আত্মীয়ের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কারো বাড়িতে ঠাই হয় না এই দুই ভাইবোনের। হয়তবা পড়ালেখা ছেড়ে দিয়ে ভাইকে বড় করে তোলাই ছিল ফুমিনোর একমাত্র উপায়। কিন্তু কোন এক বিকেলে পালিয়ে গিয়ে পার্কে তেপ্পেইকে নিয়ে বসে থাকতে গিয়েই ভাগ্যটা পরিবর্তন হয়ে গেল। তার স্কুলের শিক্ষক ওজিরো কাযুমা-সেন্সেই ফুমিনোকে তার বাড়িতে আসতে বললেন। ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত ফুমিনো সেন্সেইয়ের এই করুণা দেখে তো তেলেবেগুনে জ্বলে উঠল। সে বলেই বসলো, সেন্সেইয়ের যদি এতই সহানুভূতি হয় তো ফুমিনোকে বিয়ে করে উনি ফুমিনো আর তেপ্পেইয়ের দেখভাল করার দ্বায়িত্ব নিয়ে দেখাক না কেন!! সেন্সেইও তার ছাত্রীর কাছে হারতে রাজি নন। উনি সাথে সাথেই ফুমিনোর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করলেন! সেন্সেই ঠাট্টা করছে না করুণা দেখাচ্ছে তা ভাবার মত অবস্থা নেই বলে ফুমিনো শুধু হাতখরচ পাওয়া আর তেপ্পেইকে বড় করার লক্ষ্যে সুযোগটা লুফে নিল। ব্যস, ফুমিনোর নতুন বাসস্থান হল ওজিরো-সেন্সেইয়ের বাসা। স্কুলে সর্বদা শিক্ষক-ছাত্রীর ভূমিকা পালন করলেও বাসায় এখন তারা স্বামী-স্ত্রী। তেপ্পেইসহ ৩ জনের এই ছোট্ট পরিবার এবং তাদের আশেপাশের মানুষদের নিয়েই ফ্যাস্টার দ্যান এ কিসের গল্প।

অনেকটা ঝোঁকের বশেই আমি এই মাঙ্গাটা পড়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু একটা ব্যাপারে শুরুতে আমি সন্দিহান ছিলাম। বিয়ের কারণে এই জুটির সম্পর্ক কতদূর নিয়ে যাবে এটা নিয়ে আমার প্রশ্ন ছিল। ভিতরে ভিতরে বিবাহিত হলেও এই সম্পর্কটা বেশি বাড়াবাড়ি পর্যায়ে নিয়ে যাবে কিনা এ নিয়ে সংকোচে ছিলাম। কিন্তু ওজিরো-সেন্সেই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শিক্ষক হিসেবে তার অবস্থানটার কথা কখনোই ভুলে যাননি। অনুভূতির বশে এখানে কোনভাবেই একজন শিক্ষক আর তার ছাত্রীর মাঝে যে সম্পর্ক থাকে তার মর্যাদাটা পুরোপুরি হারিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি। তাদের আসল সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকেই সেন্সেই তার একজন ছাত্রীকে পড়ালেখা থেকে ঝরে পড়া থেকে রক্ষা করেছিলেন। সেন্সেই নিজের ইচ্ছা আর অনুভূতিগুলোকে দমিয়ে রাখতেন ফুমিনো তার ছাত্রী এবং ফুমিনো যাতে কোন সমস্যায় না পড়ে শুধু এজন্যে। মাঙ্গাটির এই দিকটির প্রশংসা না করলেই নয়। আমার ভয়ের আরেকটি কারণ ছিল এই মাঙ্গার নামটি। নাম শুনে এতে কি না কি আছে ভেবেছিলাম! বিশ্বাস করেন, এই রকম ভুল ধারণা দেওয়া নাম খুব কমই আছে! একটা কিস যে এখানে কত বড় একটা বিষয় তা পড়লেই বুঝবেন। অন্যান্য স্বাভাবিক জুটিগুলোও ওজিরোx ফুমিনো’র মত এতটা “নিষ্পাপ” হয় না! এই নামের একমাত্র কারণ এত ঝড়ের গতিতে স্বামী-স্ত্রী হয়ে যাওয়া। তাই সাধারণত এ ধরণের নিষিদ্ধ সম্পর্কের গল্প আমার পছন্দ না হলেও এই মাঙ্গাটি যথেষ্ট ভালো লেগেছে।

বদমেজাজি, সহজেই মারামারিতে জড়িয়ে যাওয়া ফুমিনোর ধীরে ধীরে একজন সাধারণ টিনএজ মেয়ে থেকে মানসিকভাবে বেড়ে উঠা, দ্বায়িত্বশীল হওয়া এই ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্টটা ছিল চোখে পড়ার মত। ওজিরো-সেন্সেই আর ফুমিনো দুজনেরই কষ্টের পেছনের গল্প রয়েছে যা নিত্যদিনের ঘটনা না বলে বরং সত্যিকার অর্থেই গল্পটিকে ভালোভাবে বিকশিত হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। এছাড়া শৌমা, মার্গারেট, কুরোসাওয়া, কাজি পরিবার, ওজিরো পরিবার, র‍্যিঊ-সেন্সেই প্রভৃতি চরিত্র ড্রামা এবং কমেডি যোগ করেছে। জায়গায় জায়গায় বেশ ভালোই হাসিয়েছে চরিত্রগুলো। ড্রামার পরিমাণও সঠিক ছিল বলে মনে হয়েছে। বিরক্ত হওয়ার সম্ভবনা অনেক কম। মার্গারেট বা মেগ নায়িকার চিরচেনা শত্রু হতে গিয়েও হয়নি উল্টা শেষে বেশ ভালো একটা সাপোর্টিভ মেয়ে ছিল। যদিও মাঝে মাঝে শৌমাকে ধরে পিটাতে ইচ্ছা করবে আবার শৌমার জন্যই খারাপ লাগবে। সেই চিরাচরিত “থার্ড হুইল” ছেলে। আসলে আর ৮/১০টা শৌজো মাঙ্গার মতই সবকিছু আছে এখানে বলতে গেলে। সেই “স্পার্কলিং”, “বাবলি”, “ফ্লাফি” রোমান্টিক মুহূর্ত; স্কুলের বার্ষিক উৎসব, সমুদ্রে যাওয়া, পিকনিকে যাওয়া, ক্রিস্টমাস, নিউ ইয়ার ইত্যাদি। কিন্তু তারপরেও মাঙ্গাটি অনেক বেশি রকমের উপভোগ্য লাগে। এখানেই মাঙ্গাকার সার্থকতা।

শৌজো মাঙ্গার মোয়ে মোয়ে চোখের আর্ট এখানে শুধু তেপ্পেইয়ের জন্য প্রযোজ্য। বাকিদের ক্ষেত্রে এতটা মোয়ে ব্যবহার করা হয়নি। তবে দেখলে বুঝা যায় যে এটি শৌজো মাঙ্গা। আর্ট মোটামোটি ভালোই আছে। শুরুতে কাজ চালিয়ে নেওয়ার মত হলেও শেষের দিকে আরও বেশি গাঢ়, ঝকঝকে এবং বেশ সুন্দর ছিল। আর শৌজো মাঙ্গার “কিরা কিরা” ভাবের উপস্থিতিও আছে ভালমতো।

উম… কিছু কি বলতে ভুলে গেলাম? সবই তো বলেছি… ও হ্যাঁ! কিউটনেসের কথা বলা হয়নি। এই মাঙ্গার কিউটনেস! সেটা কিন্তু রোমান্সের কিউটনেস না। পুচকি তেপ্পেইয়ের কিউটনেস! ফুমিনোর স্কুলের বন্ধুরাই তেপ্পেইকে অ্যাঞ্জেল ডাকে। এই অ্যাঞ্জেলকে দেখে তারাই গলে যায় আর আপনি গলবেন না তা কি করে হয় বলেন! এতটুকু পিচ্চি যেভাবে তার বোনকে কেউ বিরক্ত করলে বাঁচাতে যায়, “মা-কুন” আর “বুন-চানের” জন্য কাগজের আংটি বানিয়ে দেয় আর ফুমিনো আর সেন্সেইয়ের মাঝের বন্ধনটাকে আরও দৃঢ় করে তা দেখলেই তেপ্পেইকে শক্ত করে জড়িয় ধরে চুমু দিতে ইচ্ছে করবে! এই ছোট্ট মানুষটাও গল্পে বেশ ভালোই ভূমিকা পালন করেছে।

সবমিলিয়ে ফ্যাস্টার দ্যান এ কিস আমার অনেক বেশি ভালো লেগেছে। ভালো না লাগলে অনগোয়িং অবস্থায় ড্রপ করে শেষ হওয়ার পর আবার পুরোটা নতুন করে পড়তাম না। একজন শৌজো ভক্তকে সন্তুষ্ট করতে যা যা দরকার তার সব উপাদানই এতে আছে। তাই শৌজো ভক্ত হলে বা শিক্ষক আর ছাত্রীর মাঝে সম্পর্ক নিয়ে গল্প ভালো লাগলে মাঙ্গাটি পড়ে ফেলবেন অবশ্যই।

দা ক্লিফ [মানহোয়া রিভিউ] — Rumman Raihan

the-flick

দুই বন্ধু মিলে গিয়েছিল এক পাহাড়ে হাইকিং করতে। সেখানে পাহাড়ের রাস্তা পেরিয়ে এক সংকীর্ণ চূড়ায় দাঁড়িয়ে দুজনে ক্যামেরা সেট করে ছবি তুলতে চাইলো। কিন্তু তাদের দুজনের ভারে পাহাড়ের ক্লিফ গেল ভেঙ্গে। দুজনে গিয়ে পড়ল নিচে।

নিচে বলতে পাহাড়ের পাশের এক কিনারে তারা গিয়ে পড়ল। সেই উঁচু কিনার থেকে না আছে নিচে নামার কোনো পথ, নেই উপরে উঠবার কোনো উপায়। এদিকে দুজনের মোবাইলে সিগন্যাল নেই, সাথে খাবার নেই। তাদের ২ সপ্তাহের জন্য পাহাড়ে ঘুরবার কথা ছিল, তাই কেউ তাদের খোঁজও করবে না। প্রচন্ড ক্ষুদা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি, তার উপর অসহনীয় শীত। সবকিছু মিলে জন্ম দেয় এক ভয়ঙ্কর পেরানয়ার। এই দুই বন্ধু কিভাবে বাঁচবে এখানে?

মাত্র ৯ চ্যাপ্টারের ছোট এই ভুতের গল্পে স্বল্প আঙ্গিকে ভয়, স্বার্থপরতা, অপরাধবোধ আর কাপুরুষতার উপস্থিতি পাওয়া যাবে। গল্পের শেষ অবধি অনিশ্চয়তা টিকিয়ে রাখা হয়েছে। গল্পটা তাহলে পরে ফেলুন, মাত্র কয়েক মিনিটই তো লাগবে 🙂

•Name: The Cliff
•Alternative Name: 절벽귀
•Genre: Horror, Suspense,Thriller, Webtoon, Manhwa
•Art and Story: Seongdae Oh
•Chapters: 09
•Status: Completed
•Similar Recommendations: Tales of the Unusual, The Red Book
•Published: July 1st, 2014 to August 3, 2014 in English Webtoons website. Formerly from July to August 2011
•Publisher: Line Webtoon/Naver corporation
•MAL Score: Not documented on MAL yet
•ট্রিভিয়াঃ এই লেখকের লেখা চলচ্চিত্র “হরর স্টোরিস ২” এ এই গল্পটির লাইভ অ্যাকশন দেখানো হয়েছে। মুভি লিঙ্কঃ https://youtu.be/Q53nx8iA69U

•ওয়েবটুন/মানহয়াটি পড়ুন এখানেঃ http://www.webtoons.com/en/thriller/the-cliff/ep-1/viewer?title_no=80&episode_no=1

Hatsukoi Zombie [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Hatsukoi Zombie

সবসময় সিরিয়াস কিছু পড়তে ভালো না লাগতেও পারে, তো টেস্ট চেইন্জ করার জন্য হালকা ইচ্চি, চাট্টিখানি ভালবাসা ভাব আর অনেকখানি হাসিযুক্ত কিছু খুজছিলাম তো পেয়ে গেলাম প্রথম প্রেমের জিন্দমড়া বা ফার্স্ট লাভ জম্বি! তো জানা যাক এই অনগোয়িং মাঙ্গার বিষয়বস্তু।
গল্পের নায়কের নাম তারো। সে হল এনার্জি সেভিং মানব, যে কাজ কোন ফল দেয় না, সেই কাজ সে করবে না। প্রেম পিরিতিও তার কাছে সময়ের অপচয়। আর এমন না যে সে অনেক পপুলার বা চেহারা সুরত ভালো। তার জীবন নরমাল ছকবাধা। তো একদিন মাঠে কিছু অন্যমনস্ক হইয়া যাওয়াতো তার দানবীনি বাল্যবন্দ্ধু এবিনোর হিট করা বেসবলের বাড়িতে ফিউজ আউট হয়ে যায়। তো ফিউজ অন হবার পরে সে মনে করে যে সে এক হিটে স্বর্গে চইলা গেছে, তার ধারণা আরও বদ্ধমূল হয় যখন একখানা সুন্দরী হুর টাইপের মেয়ে তার উপর ভাসতে ভাসতে আসে। তো হুর দেইখা চমক না কাটতেই নার্স আইসা আরও চমকায়া দেয় যে বাইচা আছে। আর পাশের হুররে ভূত মনে কইরা যেই না ছুটে বাইরে আসে। তখনই দেখে যে প্রত্যেক পোলার মাথার উপর একটা করে মেয়ে উড়তাছে এবং মেয়েগুলা তার চেনা। এবং মেয়েগুলো জ্বলজ্যান্ত তো পেত্নী হবার চান্সও নাই। এই ফাঁকে তারো আবার নিজের মাথার মেয়েটার দিকে তাকায়া দেখে যে, সে তার ছোটবেলার একমাত্র ক্রাশ ইভের মত দেখতে। কি হচ্ছে এসব! এই হুর/পেত্নীরা আসলে কি!? জানতে হলে পড়া শুরু করে দিন!
ইচ্চি বা হারেম ট্যাগ দেখে এড়িয়ে যাবেন না প্লিজ। প্রচুর মজাদার একখানা মাঙ্গা এইটা। আর্ট ফ্রেশ এবং সুন্দর। কাহিনী অতি প্যাচ বা অতি গতবাধাও না এবং সর্বশেষ, নায়ক ভাবমার লুইচ্চা সাধুও না! যা ইচ্চিতে বিরল। মজাদার এই মাঙ্গা এখনই পড়া শুরু করে দিন।

আমার নম্বর: সাড়ে ৭