যেরো নো সৌকৌশি [মাঙ্গা সাজেশন] — Zahura Chowdhury Abonti

Zero no Soukoushi

মাঙ্গা সাজেশনঃ যেরো নো সৌকৌশি
চ্যাপ্টার সংখ্যাঃ ৩
স্ট্যাটাসঃ কমপ্লিটেড
জনরাঃ ড্রামা, মিস্ট্রি, শৌজো
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৮

কানাদে একজন পারফিউমিস্ট— নানা রকম ঘ্রাণের সংমিশ্রনে নতুন নতুন সুগন্ধী তৈরি করা তার পেশা। গন্ধ নিয়ে কাজ করতে হয় বলেই অন্য দশটা মানুষের তুলনায় তার নাকটা একটু বেশি তীক্ষ্ণ। খুব সহজেই ঘ্রাণের সামান্যতম তফাতও সে ধরে ফেলতে পারে। আর এই কারণেই মাঝে মাঝে তাকে ফেঁসে যেতে হয় অযাচিত বিভিন্ন প্যাঁচালো ঘটনায়। নিজ পেশার প্রতি ভালবাসা থেকেই কানাদে চেষ্টা করে প্রতিটা মানুষের জন্য তার সাথে মানানসই সুগন্ধী তৈরি করে দিতে। পারফিউম ফ্রিক এই মানুষ আপাতভাবে তেমন মিশুক না হলেও সম্পর্কে কাজিন আনাইসের সাথে তার বেশ সখ্যতা রয়েছে। কানাদে যেমন চায় সব ঝামেলা এড়িয়ে চলতে, আনাইস ঠিক তার উলটো। না পারতে তাই এসব অনাকাঙ্খিত ঘটনাতে জড়িয়ে যেতে হয় কানাদেকেও। আর নিজের সুনিপুণ দক্ষতায় সে বের করে আনে রহস্যের সমাধান।

৩ টি চ্যাপ্টারে তিনটি ভিন্ন মিস্ট্রির খোলাসা করা হয়েছে, যার মাঝে ব্যক্তিগতভাবে আমার পছন্দ সর্বপ্রথমটাই। একটু ভিন্নধর্মী এই মাঙ্গার কাহিনী বেশ ভাল ও ইউনিক। মাত্র ৩ চ্যাপ্টার বলে পড়তেও বেশি সময় লাগে না। আর এই মাঙ্গার খুবই আকর্ষণীয় দিক হচ্ছে এর আর্ট। খুব বেশি রকমের সুন্দর ও বেশ আনকমন এই আর্ট প্যাটার্নে রয়েছে খানিকটা ওয়েস্টার্ণ ধাঁচ। ৩ চ্যাপ্টারে ক্যারেক্টার ডেভেলাপমেন্ট এর খুব বেশি জায়গা নেই, সে চেষ্টাও মাঙ্গাকা করেননি। পুরো মাঙ্গাতে কানাদেকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে এবং তার চরিত্রটি আমার কাছে কাহিনীর সাথে বেশ মানানসই মনে হয়েছে। আনাইসকে মাঝে মাঝে অবাঞ্চিত মনে হলেও তারও প্রয়োজন ছিল বলেই মনে হয়। অল্প সময়ে বেশ আনন্দদায়ক এক মাঙ্গা বলেই মনে হয় আমার। কিছু কিছু জায়গা অবশ্য অনেক অস্বাভাবিক ও জোরপূর্বক কাহিনী মেলানোর জন্য করে দেয়া বলেও মনে হয়েছে; বিশেষ করে শেষ গল্পটাতে। কিন্তু সামান্য এই দোষ এড়িয়ে যেতে পারলে বেশ উপভোগ্য একটি মাঙ্গা এটি। হাতে সামান্য সময় থাকলে পড়ে দেখতে পারেন। সাথে মাঙ্গার লিঙ্ক দিয়ে দিচ্ছি:
http://mangafox.me/manga/0_no_soukoushi/

জুনজি ইতো হরর [মাঙ্গা সাজেশন] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

junji ito

ঈদ স্পেশাল সাজেশন

জুনজি ইতো হরর
বর্তমানে ভূতের গল্প বা মাঙ্গা পড়ে এখন অনেকেই আর ভয় পায় না :'( ! পাবে ক্যামনে !? দুপুর বেলাতে বা লাইট ফ্যান শহরে বইসা ভয়ের ঠিক আমেজ আসে না ! এবার ঈদে গ্রামে যারা গেছেন বা যাচ্ছেন তাদের বলি ! মোবাইলে করে জুনজি ইতো সমগ্র নিয়ে যাবেন । দুপুরে ঘোরাঘুরি , রাতে ফিরলেন । কুপির আলো জ্বলছে , বাইরে ঝিঝি পোঁকা , শেয়াল বা খাটাশ ডাকছে !অসাধারণ পরিবেশ । তখন মোবাইল খুলে শুরু করবেন ইতো পড়া । এই ইতো আবার কে অনেকেই ভাবছেন । ইতো হল হরর কমিকসের রাজাপুত্র । কত যে ফোবিয়া মানুষের আছে ! গর্তভীতি, পানিভীতি , পোকাভীতি , চুলের ভীতি আরও অনেক ।সেই ফোবিয়া নিয়ে ইউনিক আর্টের সাহায্যে ইউনিক সব হরর গল্প ফেদে বসেন । যার নমুনা দেখলে রক্ত ডিপফ্রিজের পানি মার্কা ঠান্ডা হতে বাধ্য ! স্পাইরাল নিয়ে উযুমাকি , জীবন্ত গ্রহ নিয়ে হেলস্টার রেমিনা , মাকড়সার মত পা বিশিষ্ট জম্বি মাছের আক্রমণ নিয়ে গিয়ো , ছলনাময়ী , লাস্যময়ী কামিনী ডাইনী মত তোমিয়ে এবং আরো অনেক ছোট ছোট চমকপ্রদ গল্প । তার কাহিনী হঠাত্‍ শুরু এবং হঠাত্‍ শেষ ! এবং আপনার দুঃস্বপ্নে কিছু একস্ট্রা এলিমেন্ট যোগ করবে ! তার মাঙ্গা পড়ার তার কাহিনী এবং হরর আর্টের এক ভয়ঙ্কর মোহ আপনাকে ঘিরে ধরবে 😀 পুকুড়ে সাতার কাটতে গিয়ে দেখবেন কিলবিলে পাযুক্ত মাছ সাতার কেঁটে চলে গেল , জানালার পাশে তোমিয়ের রিনরিনে হাঁসি , গাছের গুড়িতে স্পাইরাল গর্ত যা আপনাকে টেনে আধারে মিলিয়ে দেবে 😀 এক কথায় আপনার গ্রামে ভ্রমণকে থ্রিলিং ও আনন্দময় করে তুলবে 😀 !
বোনাস সাজেশন : সাথে বিভূতিভূষণের গল্পসমগ্র এবং হূমায়ুন আহমেদের সংকলিত ভৌতিক গল্পসমগ্রও পড়তে পারেন 😀
আপনার ঈদ আনন্দময় হোক ।

ভাহলিয়া নো হানামুকো [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Vahlia no Hanamuko

ভাহলিয়া নো হানামুকো
জানরাঃ হিস্টোরিক্যাল, ফ্যান্টাসি, রোমান্স, শৌজো
চ্যাপ্টারঃ ৪
ভলিউমঃ ১
মাঙ্গাকাঃ আকিযুকি সোরাতা
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৭৫
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮/১০

“আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমে” খ্যাত মাঙ্গাকা আকিযুকি সোরাতার ৪টি আলাদা ওয়ানশটের সংকলন ভাহলিয়া নো হানামুকো মাঙ্গাটি। খুব সম্ভবত ওনার প্রথম প্রকাশিত মাঙ্গা ছিল এটি। তবে এই মাঙ্গার হাত ধরেই ওনার মাঙ্গাকা হিসেবে আবির্ভাব হয়েছিল কিনা তা ঠিক নিশ্চিত না। ৪টি ওয়ানশট এবং সেগুলোর গল্পঃ

#১। ভাহলিয়া নো হানামুকো/হানামুকো’স ব্রাইডগ্রুম

রুজিরিয়া বংশের জ্যেষ্ঠ কন্যা ভাহলিয়া ছোট থাকতেই তার বাগদান হয়েছিল কালস্ড বংশের জ্যেষ্ঠ পুত্র জিরুর সাথে। কিন্তু বলা নেই কওয়া নেই হুট করেই জিরু নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এদিকে তাদের বিয়ের সময় ঘনিয়ে আসছে। তাই এক মাস আগে ভাহলিয়ার নতুন বাগদত্তা হল জিরুর ছোট ভাই লুসেল। কিন্তু বিকল্প হিসেবে লুসেলকে বিয়ে করতে রাজি নয় ভাহলিয়া। জিরুর জন্য অপেক্ষা করাটাও হবে বোকামি। তাই বাগদানের উৎসবমুখর পরিবেশের মাঝে রাত্রে বেলা ভাহলিয়া চুপটি করে বেড়িয়ে পড়ল জিরুর খোঁজে। সাথে যোগ দিল লুসেল।

#২। রিঊ নো মোরিউতা/লুলাবাই ফর এ ড্রাগন

“হেভেনলি ড্রাগন” হল সাগর এবং দ্বীপের রক্ষাকর্তা। ১৫০ বছর আগে এই স্বর্গের ড্রাগনরা হারিয়ে ফেলেছিল তাদের প্রাচীন বাসস্থান। এরপর পৃথিবীতে নেমে এসেছে এক ড্রাগনের সন্তান। লোককথা অনুসারে এই মানবরূপী ড্রাগন কিতো কিছু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে একদিন নতুন হেভেনলি ড্রাগন হিসেবে জেগে উঠবে। তারপর আবারও রক্ষা করবে পৃথিবীকে। কিতোর পূজারী শুয়েন আর আর কিতো অপেক্ষায় আছে সেই দিনটির যেদিন কিতো ড্রাগন হিসেবে জাগ্রত হবে।

#৩। গিনসেকাই নো শৌমেই/দ্যা স্নোকেপ’স এমব্লেম

এক তুষারময় প্রান্তরে আলযা একাকী বাস করে। হঠাৎ একদিন সেখানে অচেতন অবস্থায় তুষারের মাঝে পড়ে থাকতে দেখে এক মেয়েকে। জ্ঞান ফিরলে মেয়েটি জানায় তার নাম রিয়াহ এবং সে এসেছে দূরে দেখা যাওয়া জাদুর শহরটি থেকে। কিন্তু এতদূরে তুষারের ধূধূ প্রান্তরে সে কিভাবে হাজির হল সেটাই একটা রহস্য। আলযা জাদু ব্যবহার করতে মানা করে দেয় রিয়াহকে। জাদুর শহরে বেড়ে ওঠা রিয়াহ আবিষ্কার করে জাদুহীন পৃথিবীটাও কতটা সুন্দর হতে পারে। কিন্তু আলযা কেন জাদুকে এতটা অপছন্দ করে? রিয়াহ শরীরে আঘাত নিয়ে জাদুর শহরে থেকে কেমন করে এল এখানে? সেখানে ফিরে গেলেই বা কি হবে?

#৪। ওতোগিবানাশি নো ফুদে/দ্যা ব্রাশ অফ এ ফেইরি টেল

অনেক অনেক কাল আগে কোন এক গ্রামে নদী-নালা, হ্রদ আর তৃণভূমি ছিল। এখন শুধু সেই বিশাল সবুজ তৃণভূমিই গ্রামের ছবির মত সৌন্দর্য বহন করে। এই শুকিয়ে যাওয়া গ্রামটিকে ৩০০ বছর ধরে আগলে রেখে দেবতারা। এখানে একটি পবিত্র গাছের মূলের চারদিকের লেখাগুলো চুক্তি হিসেবে গ্রামটিকে দেবতাদের সাথে বেঁধে রেখেছে। সাসারা য়ূকেইয়ের দায়িত্ব মিশে যাওয়া লেখাগুলো আবার নতুন করে তুলি দিয়ে লিখে দেওয়া। একদিন তার কাজ করতে গিয়ে হঠাৎই গাছের ভেতর সে দেখা পেয়ে গেল জল দেবীর। একাকী জল দেবীর কথা বলার সঙ্গী হল য়ূকেই। কিন্তু যে কাজ করে য়ূকেই ভেবেছিল সে জল দেবীকে রক্ষা করছে ব্যাপারটা কি আসলেই তাই?

গল্পগুলো একটা অপরটার সাথে সম্পর্কহীন। তবে এই ছোট গল্পগুলো প্রতিটিই খুব সুন্দর। বেশির ভাগ ওয়ানশট পড়লে মনে হয় সেগুলো ওয়ানশট বানানোর জন্যই তৈরি হয়েছে। মাঝ খান দিয়ে কোন এক জায়গা থেকে শুরু হয়ে ধুমধাম কাহিনী আগায় তারপর শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এই ওয়ানশটগুলো পড়লে মনে হয় একটা পুরা মাঙ্গাই যেন এক চ্যাপ্টারে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে সেটা খারাপ অর্থে নয়। এটার প্রতিটা ওয়ানশটই নিজ নিজ আলাদা মাঙ্গা পাবার মত যোগ্য। একেকটা চ্যাপ্টার পড়ে অর্থহীন মনে হয় না। শৌজো হলেও এগুলো ঠিক রোমান্টিক না, রূপকথার গল্পের মত। পড়তে পড়তে আপনি গল্পের সাথে মিশে যাবেন। চরিত্রগুলোকে দেখলেও মনে হবে না যে তাদের নিজের কোন ব্যক্তিত্ব নেই। আর একটি চরিত্রের সাথে আরেক চরিত্রের সম্পর্ক, বন্ধন এগুলোও অল্পের মধ্যেই বেশ ভালোভাবে ফুটে উঠেছে। প্রতিটি গল্পের সেটিংও অভিনব। সাথে তো আকিযুকি সোরাতার জাদুকরী আর্ট আছেই! সাধারণত দেখা যায় যে সব মাঙ্গাকার আর্টই শুরুর দিকে ভয়াবহ থাকে। তারপর বছরের পর বছর আঁকতে আঁকতে তাদের আর্ট ভালো পর্যায়ে আসে। অবাক করা ব্যাপার হল এখানে সোরাতার আর্ট এত বেশি নিখুঁত আর চমৎকার যে দেখলে কেউ বলবে না এটা তার প্রথম মাঙ্গা। উনি যেন জন্ম থেকেই পেশাদার আর্টিস্ট!! তার চরিত্র এবং পোশাক-পরিচ্ছদ আঁকার যে নিজস্ব ধরণ আছে তাও একদম এখান থেকেই শুরু হয়েছে। গল্প, সেটিং, আর্ট, চরিত্র সবদিক থেকেই উনি এত নিপুণতার পরিচয় দিয়েছেন যে কয়েক বছর পর ভবিষ্যতে আকাগামি নো শিরায়ুকি-হিমের মত একটি অসাধারণ মাঙ্গা যে আমাদের উপহার দিতে যাচ্ছিলেন তার পুর্বাভাসই যেন দিয়ে দিয়েছিলেন। ব্যস্ততার মাঝে বা সময় কাটানোর জন্য যদি ছোট কোন মাঙ্গা পড়তে ইচ্ছে হয় তো পড়ে ফেলতে পারেন ভাহলিয়া নো হানামুকো। পড়লে পস্তাবেন না এই নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

৩৬০° ম্যাটেরিয়াল [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

360 Degree Material

৩৬০° ম্যাটেরিয়াল
অন্য নামঃ থ্রি-সিক্সটি ম্যাটেরিয়ালস, ৩৬০ ডিগ্রিস ম্যাটেরিয়াল

জানরাঃ শৌজো, রোমান্স, স্কুল লাইফ, ড্রামা
চ্যাপ্টারঃ ৩৩
ভলিউমঃ ৮
মাঙ্গাকাঃ মিনামি তৌকো
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৬০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৯

 

 

 

 

 

আপনি কি “সেকেন্ড লিড সিনড্রোমে” ভুগছেন? ঝিলিমিলি করা সুদর্শন তরুণদের চেয়ে তাদের ঝলমলে আলোয় ম্লান হয়ে যাওয়া পাশের ওই সাধাসিধে নম্র ছেলেটিকেই ভালো লাগে? আপনার হৃদয় কি ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে যায় যখন নায়িকা এই অভাগা ছেলেটিকে পাত্তা না দিয়ে প্রধান ছেলে চরিত্রের পিছে দৌড়াতে থাকে? তখন কি স্ক্রিনের দিকে কটমট করে তাকিয়ে বলেন ‘এই ছেমড়ি এটা কি করলি তুই?!! এত ভালো একটা ছেলেরে ছ্যাঁকা দিলি?! অন্ধ নাকি! আসো “*নাম বসান*”-কুন আমার বুকে আসো! ও তোমাকে মূল্য না দিলেও আমি আছি তোমার জন্য!!’ ইত্যাদি বিড়বিড় করে স্ক্রিনের দিকে হাত বাড়িয়ে দেন জড়িয়ে ধরার জন্য? তবে আপনাকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি এই রিভিউ পড়তে!

(সতর্কবার্তাঃ পুরো রিভিউটি পড়ার পর বুঝবেন কথাগুলো আংশিক সত্য। পাগলী রিভিউয়ার সেকেন্ড লিডের উপর ক্রাশিত হয়ে পুরো মাঙ্গাটিতে তাকে মূলবস্তু বানিয়েছে। আর কারো পাত্তা নেই!)

গল্পের শুরুটা পড়ার জন্য আহামরি কিছু না। ওতাকা মিয়ো একদিন ট্রেন স্টেশনে দেখতে পায় তার ক্লাসমেট তাকি সুনাও আনমনা হয়ে হাঁটছে। হাঁটতে হাঁটতে সে ট্রেন আসছে এমন সময় রেললাইনের খুব কাছাকাছি জায়গায় চলে যায় আর মিয়ো তার হাত টেনে ধরে থামায়। তাকির সাথে কথা বলে মিয়োর মনে হয় তাকি অদ্ভুত ধরণের ছেলে, যদিও সে নিজেই মিয়োকে অদ্ভুত বলে। পরদিন সকালে তাকি আবার মিয়োকে গাড়ির ধাক্কা খাওয়া থেকে বাঁচায়। এরপর থেকে তাদের স্কুলে কথাবার্তা, যোগাযোগ বাড়তে থাকে। তারপর শৌজো মাঙ্গায় যা হওয়ার ঠিক তাই হয়। গল্প নিয়ে আর তেমন কিছু বলার নাই। যা হওয়ার সব এরপরে আসে যেগুলো স্পয়লার হিসেবে নেওয়া যায়।

এই মাঙ্গাটি সস্তা শৌজো মাঙ্গায় যে সস্তা স্কুল লাইফ রোমান্স গল্পগুলো দেখায় ঠিক সেরকমই। একদম খাঁটি শৌজো যাকে বলে (খাঁটি শৌজো বলতে কিন্তু জনপ্রিয় শৌজোগুলো বুঝানো হয়নি। খাঁটি বলতে গাঁজাখুরি শৌজো মাঙ্গা যাকে বলে!)। তাহলে আমি একে ১০ এ ৯ দিলাম কেন? রিভিউয়ের প্রথম প্যারাটাতেই তার আভাস দিয়েছি। প্রধান চরিত্র দুইটি কিংবা শুধু তাদের গল্প কোনটিই আমাকে একদমই আকর্ষণ করতে পারেনি। আমার মাঙ্গাটি ভালো লাগার কারণ শুধুই পার্শ্ব চরিত্রগুলো এবং গল্পে তাদের অবদান। এই অবদান তাকি আর মিয়োর সম্পর্কে নয়; তাদের নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে, নিজেদের অনুভূতি নিয়ে যে দ্বন্দ্ব চলে তা নিয়ে। এই চরিত্রগুলোর নিজ নিজ কষ্টের কোন গল্প নেই। কিন্তু মাঙ্গার গল্পটিকে সাধারণ বাকি গল্পগুলোর মত এগুতে না দিয়ে মাঝে মাঝেই এলোমেলো করে দেওয়াই এই অবদান। প্রচলিত রীতি অনুসরণ করেও মাঙ্গাটি কিছুটা অগতানুগতিক।

প্রথমেই বলা যাক চরিত্রগুলোর কথা। তাকি আর ১০টা শৌজো মাঙ্গার নায়কদের সাথে কোন ভাবেই খাপ খায় না। খুব সুশ্রী, জনপ্রিয়, প্রতিভাবান, হাসিখুশি, বন্ধুসুলভ এই বিষয়গুলো কিছুতেই তাকির ক্ষেত্রে খাটে না। আবার সে প্লেবয় ধরণেরও না। তাকি আসলেই খুব অদ্ভুত। তাকে আনমনা, চুপচাপ, স্বল্পভাষী হিসেবে দেখা যায়। নিজের মত থাকতে পছন্দ করে, বেশ বই পড়ে। মিয়োর এমন কোন চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য নেই যা আলাদা করে বলার মত। সাদামাটা একজন মেয়ে, বন্ধুদের সাথে থাকতে পছন্দ করে, পরীক্ষা আসলেই পড়াশোনা নিয়ে টানাটানি অবস্থা। তবে শৌজো মাঙ্গার নায়িকা বলতে আমরা যা বুঝি ঠিক সেরকমও বলা যায় না। এই মেয়ে যা করেছে তা শৌজো মাঙ্গার ইতিহাসে কোন ভালো থেকে খারাপ মেয়ে চরিত্র করতে পারেনি। কোন শৌজো মাঙ্গার নায়িকার কাছ থেকে এমনটা কেউ কখনো আশাও করতে পারবে না। কর্মের দিক থেকে মিয়োর চেয়ে ন্যাকামো আর কান্নাকাটি করা মেয়েরাও মনে হয় ভালো হবে। তবে মেয়েটিকে অপছন্দ হলেও সেই পরিমাণ বিরক্তিকর লাগবে কি লাগবে না তা আপনার উপরেই নির্ভর করছে। তাকি আর মিয়োর সম্পর্কটাও একটু অন্যরকম। এদের মাঝে যে সম্পর্ক আছে এটা মাঝে মাঝে মনে হয় না অন্যদের সাথে তুলনা করলে। হুট করে একটা সম্পর্কে চলে যায় যেখানে কবে, কিভাবে অনুভূতি তৈরি হল তা পরিষ্কার হয় না।

কিন্তু আমার ভালো লেগেছে মারুই, আকানে, শিমিযু এই ছেলেমেয়েগুলোকে। মারুই য়ুউকি হল সেই ছেলে যার কথা শুরুতে বলছিলাম। এই মাঙ্গাতে মারুই আসলে প্রধান ছেলে চরিত্রগুলোর মত। দেখতে সুন্দর, খেলাধুলায় ভালো, মেয়েদের কাছে প্রিয়। তাকির মত চুপচাপ স্বভাব পছন্দ না, নাকি মারুই শৌজো নায়কদের মত বলে নাকি সেকেন্ড লিডদের প্রতি আমার দুর্বলতা বেশি এ কারণে আমার মারুইকে ভালো লেগেছে তা ঠিক নিশ্চিত না। কিন্তু এই চরিত্র গল্পে জড়িয়ে যাওয়ার পরেই আমি টানা মাঙ্গাটি গোগ্রাসে গিলেছিলাম! মারুইয়ের জন্যেই গল্পটি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে গেছে। তবে সেটা দুইবার ১৮০ ডিগ্রী করে! তাই নামের মতই মাঙ্গাটি ৩৬০ ডিগ্রী ঘুরে প্রচলিত নিয়মেই শেষ হয়েছে। মারুইকে খারাপ লাগা বা ভালো লাগা দুটার সম্ভবনাই অনেক বেশি। তবে যে চরিত্রটিকে সবাই পছন্দ করতে পারবে সে হল এবিহারা আকানে। প্রথমে সে যে রকম মানুষ হিসেবে ধারণা দিবে পরে দেখা যাবে মোটেও সে তেমন না। আকানে নায়িকা হলেই বোধ হয় বেশি ভালো হত।

কাহিনীর মাঝ থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক নাটকীয়তা আছে। আমার কাছে একটি বিষয় সবচেয়ে মজা লেগেছে। আমরা ভক্তরা কোন সিরিজে কোন কিছু পছন্দ না হলে কিংবা বুঝাই যায় হবে এমন কিছু দেখলেই অভিযোগ শুরু করি। অথবা কোন চরিত্র গল্পে প্রধান না বলে তার সাথে এমন অবিচার করা ঠিক না এসব বলে চেঁচামেচি করি। নিজেদের পছন্দমত শিপিং শুরু করি। কিন্তু আপনার ইচ্ছা যদি আসলেই পূরণ হত তাহলে কি ব্যাপারটা আসলেই ভালো হত? আপনি কি তখন আসলেই সেটা পছন্দ করতেন? এই জিনিসটা হারে হারে টের পাবেন এই মাঙ্গাটি পড়লে। শুরুর দিকে কমেন্ট সেকশনে মানুষকে যেটা সমর্থন করতে দেখেছি পরে সত্যি সত্যি সেটা ঘটতে দেখে আবার সেটা নিয়ে দুয়ো দিতে দেখেছি। পুরো ব্যাপারটা আমার কাছে বিনোদন লেগেছে! সাধারণ এই প্রথা একটুআধটু ভাঙ্গার জন্যেই বোধ হয় আমার উপভোগ করা হয়েছিল বেশ। তবে শেষে গিয়ে অনেক তাড়াহুড়া করে গল্পটি শেষ করা হয়েছে। এর চেয়ে আরেকটু সময় নিয়ে, সহজ একটা সমাপ্তি না দিয়ে আরেকটু নাটক করে যেরকম হওয়া উচিৎ ঠিক সেরকম করে কাহিনীর ইতি টানাটাই ভালো হত। হঠাৎ করেই কাহিনী শেষ হয়ে যায়।

৩৬০ ডিগ্রীস ম্যাটেরিয়াল কেন আমার এত ভালো লেগেছে এখনো আমি ঠিক ঠাওরে উঠতে পারি না। কারণ এর কিছু কিছু জিনিস পছন্দ করাটাই আসলে ভুল। আমারে মারুইকে ভালো লেগেছে, এই মাঙ্গাটি ভালো লেগেছে এবং এই বিষয়টা ভাবতেও আমি অস্বচ্ছন্দ বোধ করি। আমার মধ্যে অপরাধ বোধ কাজ করে!! সুতরাং বুঝতেই পারছেন, এটি বিতর্কমূলক একটি শৌজো মাঙ্গা। শৌজো মাঙ্গার বিশাল ভক্ত হলে তবেই এটা পড়ার কথা চিন্তা করতে পারেন। তারপরেও আপনার ভালো লাগবে না খুব খারাপ লাগবে তা পড়ার পরেই বুঝতে পারবেন।

Tomo chan wa onnanoko! [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Tomo chan wa onnanoko!

মাঙ্গা রিভিউ: তোমো চান তো দেখি মেয়ে ! (Tomo chan wa onnanoko!)

যাদের বাসায় প্রথমআলো রাখা হয় তাদের প্রত্যেকদিন সকালে উঠিয়া একটা কমন কাজ হল তাড়াতাড়ি মধ্যের পৃষ্ঠায় গিয়ে বেসিক আলী আর ন্যান্সি চেক করা। তো এই মাঙ্গা ডেইলি এক পৃষ্ঠা করে আপডেট হয় এবং সকালে উঠেই চেক করি যে এই মাঙ্গার আপডেট এসেছে কিনা! প্রাত্যহিক বিনোদোনের জন্য এক অসাধারণ মাঙ্গা।

এই মাঙ্গার মেইন চরিত্র হল তোমো আওয়িযাওয়া। সে হাইস্কুলে উঠে তার ছোটবেলার বন্দ্ধু এবং ক্রাশ জুনচিরোর কাছে প্রেম নিবেদন করে এবং উত্তর পায় ” কি যে বলিস দোস্ত! আমিও তোকে অনেক ভালোবাসি, আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড! ,, ! এই উত্তরের রহস্য কি!? তোমো চান পুরোদস্তর টমবয়। ভয়ানক শক্তি, ভয়ের ছিটেফোটা নাই এবং সবধরণের ন্যাকামি বিবর্জিত। জনচিরো কেবল মিডলস্কুলে উঠে আবিষ্কার করে যে তোমো মেয়ে কিন্তু তোমোকে অন্য সব ছেলেদের মত জিগরী দোস্ত হিসিবে দেখে। তোমো নানা উপায়ে জুনচিরোর মন গলাতে চায়। তাদের এই খেলা উপভোগ করে মিচকি পিচকি ডেভিল ইন নারীরুপ গান্ডোও এবং তাদের সাথে পরে যুক্ত হয় হাওয়াই মিঠাই, ননীর পুতুল গুল্লু ক্যারল। তাদের কথাবার্তা কাজকর্ম দেখে হাসবে না এমন লোক পাওয়া দুষ্কর।
আর্ট বেশ পরিষ্কার। চেহারার ভঙ্গীগুলো সেইই!! এবং এই মাঙ্গার সবচেয়ে ভালো জিনিস ডেইলী এক চ্যাপ্টার বা কখোনো ২ চ্যাপ্টার করে আপডেট হয়। চ্যাপ্টার ৩৩৯+ এবং অনগোয়িং। এইরকম হাইস্কুল রোমান্স কমেডি মাঙ্গা পাওয়া দুষ্কর। সকালটা তাই এক পশলা হাসি দিয়ে শুরু হোক 😀 !!! তো পড়া শুরু করে দিন তোমো চান তো দেখি মেয়ে!

আমার রেটিং: 9/10

Read Here: http://kissmanga.com/Manga/Tomo-chan-wa-Onnanoko

Download Cbr file: https://drive.google.com/folderview?id=0B6WGbrzJ5FC3UnU2Mk10LWVPdTg&usp=sharing

 

Densha Otoko [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Densha Otoko

ওটাকু বলতে জাপানে সাধারণত সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন , আনিমে , মাঙ্গা , ভিডিও গেমস নিয়ে দিনরাত ২৪ঘন্টা ডুবে থাকা লোককে বোঝায় । এরা সাধারণ লোকদের সাথে সহজে যোগাযোগ করতে পারে না । কিন্তু যদি কোন ওটাকু তার অবসেশন বিসর্জন দিয়ে বাস্তবতা ও সাধারণ জীবনে ফিরে আসে একটি ছোট্ট পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে ? এইরকম এক বাস্তব কাহিনীকে কেন্দ্র করে আঁকা মাঙ্গা হল ডেনশা ওটোকো ।
এই মাঙ্গার কেন্দ্রীয় চরিত্র হল এক ওটাকু । মাঙ্গা , ফিগারিন তার দুনিয়া । চাকরি করে এসেই ডুব দেয় তার ভার্চুয়াল দুনিয়ায় । পরণে অতিরিক্ত ঝোলা শার্ট , উস্কোখুশকো চুল , চোখে হালকা পাওয়ারের চশমা । তো একদিন পছন্দের ফিগারিন কিনে ট্রেনে ওঠে সে । যে সিটে বসে সে সেখানেই সুন্দরী এক তরুণী বসা ছিল । তো সে অত মনোযোগ দেয়নি । কিন্তু কিছুক্ষন পরে এক মাতাল এসে ঐখানের যাত্রীদের হয়রানি করতে থাকে বিশেষ করে ওই তরুণীকে । আমাদের নায়ক প্রথমে স্বভাবমতো চুপ করে থাকলেও একসময় প্রতিবাদ করে ওঠে ! মাতাল তাকে এই মারে তো সেই মারে কিন্তু তার আগেই কালেক্টর মাতালকে ধরে বের করে দেয় । তো ওই তরুণীসহ যাত্রীরা তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ যায় এবং যোগাযোগ নম্বর ও ঠিকানাও টুকে নেয় কয়েকজন । তো একদিন হঠাত্‍ করে তার বাসায় ওই তরুণী যার নাম হার্মিস কিছু কাপ উপহার পাঠায় ধন্যবাদ স্বরুপ । ন নায়কও সাহস করে তাকে ধন্যবাদ স্বরুপ ট্রিটে নিমন্ত্রণ করে । একে অপরের সাথে তাদের ভালো করে পরিচয় হয় এবং ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে । আর আমাদের নায়কও ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হতে থাকে । এবং তার এই দৈনন্দিন ঘটনা সে একটি অনলাইন থ্রেডে শেয়ার করে এবং ওই থ্রেডের সবাই তাকে উত্‍সাহ দিতে থাকে । আমাদের নায়ক কি পারবে এই সম্পর্ককে ফল প্রদান করতে ? আর তার নিজেরসহ আশেপাশে সকলের কি পরিবর্তন হবে ?!
সাধারণ একটি রোমান্স মাঙ্গা তবে খুবই ভালো লেগেছে । কাহিনী সিম্পল ভাবে এগিয়েছে ,কোন অপ্রয়োজনীয় টুইস্ট নেই । বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে বলে বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক । একজন অবসেসড ওটাকু থেকে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার ঘটনার অসাধারণ এক মাঙ্গা । আর্টস্টাইল সুন্দর! খুবই ভালো লেগেছে আমার কাছে , আশা করি আপনাদেরও ভালো লাগবে । সময় থাকলে পড়ে ফেলুন ২৭চ্যাপ্টারের মাঙ্গা ডেনশা ওতোকো ।
আমার রেটিং : ৭/১০

Read Online: http://kissmanga.com/Manga/Densha-Otoko-Net-Hatsu-Kakueki-Teisha-no-Love-Story

 

অনন্য মাঙ্গা আসর-৬ (Doctor Du Ming)

Du Ming 1
-Du Ming,How do you think I’ll Die?
-Hanging! To a tree like a dead leaf among others….
Your hair would cover your face and your hands
& Your hands would hang limply from your
Body.You would look like a puppet.It’d be
Wonderful………
-Du Ming,Look The flowers grow so well here…..
-It’s because Their Roots are bathing in the blood and excretions of the patients
একটি প্রশ্ন – “ What makes a person Pure?”
মানুষের Purity যাচাই করা যায় কিভাবে? যায় কি? আদৌ কি তা আমাদের পক্ষে সম্ভব? নাকি সে আমার কাছে কেমন তা দিয়ে আমরা তার ভালোমন্দ বিচার করি?
কিছু ঠুনকো “Not Making Sense” কথা মনে হলেও এ কথাগুলোর গুরুত্ব রয়েছে বটে।এমনই ঠুনকো প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হয় ১৯৯৬ ব্যাচের Anesthesia ‘র মেডিকেল পড়ুয়া ছাত্র Du Ming এর কাছে।যে ছুড়ে দিয়েছিল সে Zhang Qian…
সমগ্র কলেজব্যাপী এই Zhang Qian কে নিয়ে রয়েছে নানা কথা।মাত্র ১০ কুয়েই ( ১.৩১ ডলার) খরচ করলেই নাকি তাকে রাত্রীসঙ্গী বানানো যায়। তবুও এত বড় মেডিকেল কলেজে সে খুব একা……
ক্লিনিক্যাল মেডিসিন ‘১৯৯৪ ব্যাচের এই Zhang Qian প্রথম দর্শনেই মনে দাগ কাটে ডু মিং এর।হয়ত মনে ভাবনাও আসে — “যার নামে এধরনের জনশ্রুতি আছে তাকে দেখে কেন নিষ্পাপ মনে হল?” , এটা ডু মিং এর ফেস এক্সপ্রেশন দেখে আমার নিজস্ব ধারণা যদিও,মানহুয়া তে বলা নেই ……
প্রতিদিনের ক্লাস আর ল্যাব ফাঁকি (প্রকৃতপক্ষে ফাঁকি না) দিয়ে ছাঁদে শুয়ে থাকা ডু মিং এর , তারপর প্রায় প্রতিদিনই জাং কিয়ানের সাথে দেখা হওয়া এমন ই এক রোমান্টিক গল্প ……………
………………
………………
………………
………………
এটি নয়।
মানহুয়া : Doctor Du Ming
চাপ্টার : 15
ডাক্তারি পড়তে আসা ছাত্র ডু মিং,কলেজের “Slut” বলে পরিচিত জাং কিয়াং আর গল্পের শেষাংশের নায়িকা [হয়ত নায়িকা নন] ওয়াং ইয়াও – চরিত্র বলতে গেলে এই তিনটাই……
মানহুয়া টি সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই আর্টের কথা উঠে আসে। যারা মানহুয়া বা চাইনিজ কমিকের আর্ট স্টাইলের সাথে পরিচিত নন,তাদের কেবল আর্টের জন্য হলেও মানহুয়া টা পড়ে দেখা উচিত। আর্ট বেশ ভালো,বিশেষ মুহূর্তগুলোতে আর্ট মন কাড়ার মত হয়েছে……
শুরু স্লাইস অফ লাইফ-রোমান্স ভাইব নিয়ে,তবে হাইস্কুল না হয়ে মেডিকেল কলেজ বলে বেশ ম্যাচিউরড সংলাপ ও আবহ পাওয়া যাবে……
কিছুদূর যেতে না যেতেই হালকা কলেজ ড্রামা তারপর অত্যন্ত সাইকোলজিক্যাল এনভায়রনমেন্ট,আত্নহত্যা,খুন,এডাল্ট ও ট্রাজিক টুইস্ট গল্পের বেশ ভালো পটেনশিয়াল দাঁড় করিয়ে দেয় ……
এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল রয়েছে কিন্ত এচ্চি নয়।এচ্চি মূলত কেবল ফ্যানসার্ভিস ও নিছক হিউমর এবং কৌতুক উদ্রেক করার জন্য কাপড়ের বিচিত্র সজ্জা ও Nudity দেখায় – যা অনেক সময় অযৌক্তিক ও বিরক্তিকর হয়।কিন্ত এখানে যে এডাল্ট ম্যাটেরিয়াল গুলো এসেছে সেগুলো গল্পটি ডিমান্ড করে।কারণ আফটার অল নারী পুরুষের দৈহিক সম্পর্কও জীবনের একটা অংশ আর গল্প জীবনের সাদা-কালো সবকিছুর প্রতিচ্ছবি,হোক সে সম্পর্ক অনৈতিক বা নৈতিক……
মানহুয়া টি তাড়াহুড়ো করে পড়লে কিছু সমস্যা হতে পারে —
১- এন্ডিং না বুঝতে পারেন……
২-গল্পটাকে খাপছাড়া লাগতে পারে…… [Actually It’s Not]
৩-ডু মিং কে চরিত্রহীন ভাবতে পারেন
৪-টাইম রিএরেঞ্জমেন্ট যার কারণে ১ ও ২ ঘটতে পারে [নিচে ব্যাখ্যা করা হল]
কিছু চরিত্র আছে যারা খুব স্পর্শকাতর কথা খুব ঠান্ডা ভাবে বলতে পারে,ডু মিং তাদের মধ্যে একজন। একদম শুরুতে উল্লেখ করা দুটি সংলাপ পড়লেই আঁচ করতে পারা যাবে ডু মিং এর ব্যক্তিত্ব সম্পর্কে।এ কারণেই হয়ত খুব ভালো লেগেছে ডু মিং কে…………
একজন নারীর Virginity ই কি তার Purity মাপার প্যারামিটার?
আমরা মুখে যাই বলি,অনেকেরই কার্যকরী উত্তর হ্যাঁ।কিন্ত কখনো ভেবে দেখি কি কত ভিত্তিহীন আমাদের এই ধারণা।শরীরের কোন অঙ্গ উন্মোচিত হলেই যদি কোন নারী Impure হয়ে যায় তবে কি মানুষের আত্নার মূল্য নেই? — উত্তর খুঁজতে থাকুন,ভাবতে থাকুন……
মানহুয়াটিতে ডু মিং চরিত্রটির ইমেজ আপনার কাছে শুরুতে যা ছিল তা শেষে গিয়ে থাকবে না কোনভাবেই।চরিত্রটি বেশ লাইট Aura থেকে ক্রমাগত ডার্ক সাইডেড হয়ে গেছে,যে পরিবর্তনটা আনপ্রেডিক্টেবল। ডার্ক সাইডেড দ্বারা কি বুঝাচ্ছি তা কল্পনা না করে নিয়ে ১৫ চাপ্টার পড়ে ফেলাই শ্রেয়…
এছাড়া গল্পটাকে নিতান্ত ছোট পরিসরে জোর করে রাখার একটা প্রবণতা দেখা গেছে,মানে গল্পকে আরেকটু বিস্তৃত করা যেত কোনরকম অযথা লম্বা করা ছাড়াই।কেবল ৩ টি চরিত্রের মাঝে গল্প কে সীমাবদ্ধ না রেখে গল্পটার পরিসীমা বাড়ানো যেতে পারত…
এন্ডিং টা মনঃপূত হবে কি না হবে না সে প্রশ্নের চেয়ে বড় প্রশ্ন হল এন্ডিং টা আপনার কমন প্রেডিকটিভ সত্ত্বা অনুমান করতে পারবে কি না সেটা? শেষ হয়েও হল না শেষ – আবার এ পরিণতি কেন , না এন্ডিং এর ধরনটা এই দুই প্রকারের মাঝামাঝি,দুই ধরনের কোনটিই নয়……
পুরো গল্পটার বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল —
টাইম রিএরেঞ্জমেন্ট অর্থাৎ এই বলা হচ্ছে এখনকার কথা,আবার কোনরকম বলা কওয়া ছাড়াই ফ্ল্যাশব্যাক এ চলে যাওয়া।আবার হুট করে কয়েকদিন আগে,আবার বর্তমান এ।এ স্টাইলে কাহিনী বোঝার মাঝে একটা বেশ মজা আছে,কষ্ট করে বুঝে নিতে হয় দৃশ্যের টাইমলাইন।তবে বুঝতে না পারলে কাহিনীর আপাদমস্তক নিয়ে একটু কনফিউশনে ভুগতে হতে পারে……
মানহুয়া টি পড়া শেষ করে ফেললেও এর রেশ থেকে যাবে বেশ কদিন……
কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাবে মনের মধ্যে ,সেরকম কিছু প্রশ্ন উল্লেখ করে আমার লেখা শেষ করছি …… আশা করবো মানহুয়া টি পড়ার পর প্রশ্নের উত্তর সমেত কিছু রিএকশন পোস্ট দেখা যাবে ——–
১ম প্রশ্ন : মানহুয়া টি লেইম/খাপছাড়া লাগল? [উত্তর হ্যাঁ হলে বাকি প্রশ্ন স্কিপ করতে পারেন]
২য় প্রশ্ন : ডু মিং কেন এটা করল? কেন?
৩য় প্রশ্ন : জাং কিয়ান কি Pure নাকি Slut?
চতুর্থ ও শেষ প্রশ্ন : মানহুয়াটির শুরুতে “Our Obscruity in this Murky World” লেখার কারণ কী?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে যদি পান,তবে মানহুয়াটাকে উপভোগ করতে পারবেন।উত্তর যে অধিকাংশের সাথে মিলতে হবে এমন কথা নেই,যদি আপনার মন সায় দেয় যে আপনার উত্তর যথার্থ তবেই সে উত্তর সঠিক।
Du Ming 2

অনন্য মাঙ্গা আসর – ৫ (Boku no Hero Academia)

BnHA
কিং কিং সিটি,চীন
জন্ম হল এক শিশুর,যার সমগ্র শরীর থেকে বিচ্ছুরিত হতে লাগল আলো। এ কেমন নবজাতক?
স্বাভাবিক – অস্বাভাবিক নিতান্তই আপেক্ষিক। যে বৈশিষ্ট্য অধিকাংশের মাঝে খুঁজে পাওয়া যায় তাকেই স্বাভাবিক বলা হয়ে থাকে। এ মানুষের এক হাস্যকর যুক্তি। ঠিক এ উপায়েই তারা অসম্ভব-সম্ভব, ট্রাজিক-লিনিয়ার এর মধ্যে পার্থক্য করে থাকে।
ধীরে ধীরে সমগ্র পৃথিবীতে অস্বাভাবিক শিশুর জন্ম হয়ে উঠল সাধারণ ব্যাপার।আর এভাবেই আজকের পৃথিবী এমন অবস্থায় উপনিত হল যে —
৮০% মানুষের মাঝেই জন্মগতভাবে দেখা যায় সুপারপাওয়ার যা ৩-৪ বছর বয়সের দিকে প্রকাশ পায়।যা “Quirk” নামে পরিচিতি লাভ করে।
কিন্ত বাকি ২০% ……
তাদের গল্পটা কেমন…
সুপারন্যাচারাল এবিলিটি সূত্রপাত এর সুযোগে অপরাধ ও ক্রাইম ইফেক্ট তার ডালাপালা ছড়াতে আরম্ভ করলে জন্ম হয় হিরো কর্পোরেশন এর।হিরোদের জন্য স্কুল,ভার্সিটি থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা সেক্টরে সংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে ওঠে………
আর এই পৃথিবীতে সবার কাছে “Symbol of Jsutice” হয়ে ওঠে হিরোদের টপেস্ট র‍্যাংকে থাকা “ALL MIGHT” ………
এরকমই এক পৃথিবী যেখানে কোয়ার্ক ছাড়া জীবন অচলপ্রায়,সেখানে ইজুকু মিদোরিয়া জন্মেছে কোন কোয়ার্ক ছাড়া। এই রূড় সত্য জানতে পারে সে তিন বছর বয়সে……
ছোটবেলার বন্ধু,পরিবার সবার কাছে নিজেকে অসহায় মনে হয় ইজুকুর……
কিন্ত যে দুটো কথা পারত তাকে জীবনে ঘুরে দাঁড়াতে শেখাতে,সে দুটো শব্দ তাকে শোনালো তার পরিবার,বন্ধুদের কেউ না ……………
যে হিরো ইজুকুর ছোটবেলা থেকে আদর্শ,সমগ্র পৃথিবীর সিম্বল অফ জাস্টিস “ALL MIGHT” ই তাকে বিশ্বাস করতে শেখালো “You can become a Hero”
এরপর ইজুকুর প্রবেশ ঘটে তার স্বপ্নের হিরো একাডেমিক স্কুলে – “ Yuuei High” তে
আর এই স্কুলের পথ ধরে ইজুকুর হিরো হয়ে ওঠার গল্পই মাই হিরো আকাডেমিয়া……
বিখ্যাত গ্রাম সর্দার হওয়ার গল্পের ইতি টানার পর উইকলি শোউনেন জাম্পে প্রকাশিত হয় হোরিকোশি কৌহেই এর “Boku no Hero Academia” । মানুষজন ঠিক যেভাবে এইচিরো ওডার মুখে আকিরা সেন্সেই”এর প্রশংসা শুনে ওয়ান পিস কে ড্রাগন বলের সাথে তুলনা করতে শুরু করে ঠিক সেভাবেই হোরিকোশির মুখে মাশাসি’র প্রশংসা শুনে ও প্রথম কয়েক চাপ্টার পড়ে একে গ্রাম সর্দার ভেবে ভুল করে বসে হঠকারী ফ্যানসমাজ……
জনরা ট্যাগে শোউনেন বেশ বড়সড় করেই লেখা আছে ……
মাঙ্গার রিএকশন এর দিকে একটু দৃষ্টিপাত করা যাক—
প্রথম – (১০-১৪ চাপ্টার)
বাহ! দাত্তেবায়ো! তুমি গ্রামের সর্দার না,টপ হিরো হবে – তফাৎ টা কোথায়? । আরেকটা টিপিক্যাল ঝনঝনানি আসছে [দীর্ঘদিন ড্রপড]
(২০-৩০ চাপ্টার)
চুনিন এক্সাম!! হুবহু লুকানো পাতা নকল মারা হচ্ছে নাকি?
যাই হোক ফাঈটগুলো বেশ ইন্টেন্স!!
(৫০ চাপ্টারের পর)
………………
………………
………………
প্লাস আলট্রা!!!!
প্লাস আলট্রা!!!!
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে
পড়ার মাঙ্গা এটি নয়………
গল্পের বাকে বাকে অত্যন্ত উত্তেজনাকর ইন্টেন্স মুহূর্ত চলে আসছে……
(৭৮-৮০ চাপ্টারের দিকে)
আবার গ্রাম সর্দারের মত সাসকে ভাইকে গায়েব করে দিবা নাকি?
(৮৫-চলমান)
সেপুক্কু করা ছাড়া উপায় নেই(সন্দেহ করার অপরাধে) ,এক নিমেষে সব সন্দেহ দূর ……
খুঁজে পাওয়া গেল আরেকটি মাস্টারপিস মাঙ্গা…………
এই ছিল মাঙ্গাটা পড়ার সময়ে আমার রিএকশন,যখনই মনে হয়েছে গল্পটা সেই পুরোনো শিবের গীতের দিকে মোড় নিচ্ছে তখনই মাঙ্গাকা এমন প্লট টুইস্টের অবতারণা করেছেন যাতে পরবর্তী চাপ্টারের জন্য আগ্রহ জন্মানোটা স্বাভাবিক।
৮৯ চাপ্টার পর্যন্ত বের হওয়া মাংগাটি এখনো অনগোয়িং………
এপ্রিল ৩ থেকে শুরু হওয়া ১৩ এপিসোডের এনিমেটি মূল গল্পের PROLOGUE ও না, INTRODUCTION মাত্র……
সময় বের করে কষ্ট করে ৪০/৪৫ চাপ্টার পর্যন্ত যেতে পারলে বাকিটা আর কাউকে বলতে হবে না………
একশন সিকুয়েন্স গুলোর মাঝে অন্যরকম একটা ফ্লেভার পাওয়া যাবে।প্রতিটা ব্যাটল ই স্ট্রাটেজিভিত্তিক।বেশ ভালো কিছু সায়েন্টিফিক রেফারেন্স ও এসেছে কিছু কোয়ার্ক এর ক্ষেত্রে……
অনেকেরই ছিঁচকাঁদুনে মিদোরিয়াকে নিয়ে অনেক সমস্যা —
প্রথম প্রথম তাকে গ্রাম সর্দারের চেয়েও বেশি বিরক্তিকর লাগে,কিন্ত মিদোরিয়া চরিত্রের বেশ ভালো কিছু দিক আছে।প্রথমত,তার মাঝে বিখ্যাত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নেই।দ্বিতীয়ত,সে উপস্থিত বুদ্ধি খাটাতে সক্ষম।
সবচেয়ে ভালো দিকটি হল,মিদোরিয়ার ক্ষমতা যে কত কম তা শুরু থেকেই অঙ্গুলিসংকেত করা হয়েছে।আকস্মিক পাওয়ার আপ দিয়ে ব্যাপারটাকে তেজপাতা করা হয়নি……
মাঙ্গার আর্ট যতই চাপ্টার এগিয়েছে,ততই ভালো হয়েছে।বিশেষ করে কমব্যাট এনভায়রনমেন্ট এর আর্টস্টাইল Nurarihyon no Mago র মত পরিষ্কার হয়েছে।তবে এখানে বিস্ফোরণ সহ অন্যান্য ম্যাটেরিয়ালস চলে এসেছে যার কারণে হোরিকোশি কৌহেই কে স্যালুট দিতেই হবে……
যারা Katekeyo Hitman Reborn এর ভক্ত,তারা ব্যাপারটি ভালো বুঝতে পারবেন। প্রথম প্রথম বেশ বোরিং লাগলেও পরবর্তীতে শোউনেন জনরার “হিডেন জেম” খুঁজে পেয়েছি – এমন অনুভব হলে অবাক হওয়ার কিছুই থাকবে না।
৮৯ চাপ্টার অবধি ব্যাক্তিগত রেটিং – ৯.০
বেশ ভালো কিছু চরিত্র এসেছে যা ভিন্নমাত্রা এনেছে স্টোরিলাইনে।তবে গল্পের মেইন ভিলেইন কে এটা নিয়ে বেশ ঘোলা রহস্য ছিল।কখনো শিগারাকি,কখনো স্টেইন …… কিন্ত আসল উত্তর …….. মাঙ্গা পড়লে এই শূন্যস্থান নিজেই পূরণ করা যাবে।
স্পেশাল নোট :
মাঙ্গাতে মাঝে মাঝে দেয়া U.A. File গুলো না পড়লে কোয়ার্ক গুলোর ফুল এবিলিটি সম্পর্কে ধারনা পাওয়া যাবে না।তাই ওগুলা স্কিপ করা উচিত হবে না ………

Vinland Saga [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Vinland Saga 1কল্পনা করুন আপনি ১১শতকের দিকে নদীর পারে একটি ছোট্ট শহরের বাসিন্দা । সকালে উঠে নদীর পাড়ে ঘুরতে গেছেন । শীতের সকাল , কুয়াশায় মোড়া সবকিছু । সেই কুয়াশা ভেদ করে এগিয়ে আসছে কিছু জাহাজ । দম দম করে দামামা বাজছে । কিছুক্ষনের মধ্যেই বোঝা গেল যে তারা আর কেউ নয় , তারা হল ডেনিশ জলদস্যু অর্থাত্‍ ভাইকিং । অসুরের মত শক্তি , হাতে কারুকাজ খচিত অস্ত্র , মাথার শিংযুক্ত শিরস্ত্রাণ যেন তাদেরকে আরও অসুরীয় করে তুলছে । তারা এগিয়ে আসছে রক্তলোলুপ নেকড়ের দলের মত । যেন হিমদল চিরশীতের দেশ থেকে তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে । চোখের পলকে তারা হত্যা করছে , নারী ,পুরুষ , শিশু , বৃদ্ধ কারো রেহাই নেই । পুরুষদের দাস , নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে । ভাইকিংদের লক্ষ্য তিনটি : মদ , নারী ও যুদ্ধ । এই ভয়াল জাতটিকে নিয়ে বহু কাহিনীর প্রচলন আছে , বহু গান গাওয়া হয়েছে । আরে এদের নিয়ে মাঙ্গা হবে না তা কি হয় !? এই ভয়ডরহীন রক্তলোলুপ যোদ্ধাদের নিয়েই মাঙ্গা ভিনল্যান্ড সাগা ।

Vinland Saga 4এর কাহিনী ১১শতকের ইংল্যান্ডে ডেনিশ রাজা Sweyn Forkbeard এর আক্রমন এবং তার ২পুত্র Harlard আর Canute মধ্যে চলা সিংহাসনের খেল নিয়ে । এবং এর প্রধান চরিত্র বলা যায় থরফিনকে । ভাইকিং বীর আসকাল্যাড এর অধীনে এক কিশোর হিংস্র যোদ্ধা । তার লক্ষ্য একটাই আসকাল্যাডকে সম্মুখযুদ্ধে হত্যা করা , কেননা এই আসকাল্যাডই থরফিনের পিতার ঘাতক । জ্বী , থরফিন কাজ করছে তার পিতার ঘাতকের আন্ডারে । কাহিনী তো সবে শুরু । রাজপুত্র Canute এর মসনদে বসার অভিপ্রায় । থরকেল এর মত চরিত্র যার নিষ্ঠুরতা সীমাছাড়া কিন্তু তাকে ভাল না লেগে পারবে না । এক অসাধারণ কাহিনীর জন্য যে অসাধারণ চরিত্রের দরকার তা সবই আছে ।
প্রথম কথা হল মাঙ্গার আর্ট । এর আর্ট সেরা পাঁচে থাকার যোগ্য । প্রতিটা ক্যারেকটারের অভিব্যাক্তি , এক্সপ্রেশন নিঁখুত ভাবে দেখানো হয়েছে । প্রতিটা দৃশ্য ডিটেইলড । অস্ত্র , পোষাক , জাহাজ সবকিছুর ডিজাইন ডিটেইলড যেন বইয়ের মেইন কভারের আর্টের মত । বার্সাক এর কথা বারবার মনে পড়ে যায় কিছু জায়গায় এর আর্ট দেখলে ।
ভাইকিং ইতিহাস , তাদের জীবনযাত্রা , তাদের মানসিকতা ,সে সময়কার সমাজের জীবনধারার উপর একটা কোর্সই হয়ে যাবে এই মাঙ্গা পড়লে । এরকম নিঁখুত ইতিহাস ভিত্তিক মাঙ্গা আর পড়েছি কেবল কিংডম । যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি , Game of thrones অর্থাত্‍ মসনদে বসার খেল সবই আছে এই মাঙ্গায় ।

Vinland Saga 2
এই মাঙ্গার প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের ডেভলপমেন্ট চোখে পড়ার মতো । সবচেয়ে নির্মম যে তারও অতীত ছিল হৃদয় বিদারক । এবং সবই রুঢ় বাস্তবতার আলোকে ।তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্যারেকটার আসকাল্যাড ।
এই মাঙ্গা পড়ার সময় একরকম ঘোরে চলে যাবেন । যেন টাইম মেশিনে করে ভ্রমণ । খুবই কম মাঙ্গা এটা করতে পারে । তো এই মাঙ্গা না পড়ার কোন কারণ আমি দেখি না । পড়ে ভাল না লাগার কোন চান্স নেই ।
মাঙ্গার চ্যাপ্টার 127 টি এবং অনগোয়িং । রেগুলারলি আপডেট হয় ।
পড়তে পারেন এখানে :http://kissmanga.com/Manga/Vinland-Saga

পড়ার সময় Ensiferum বা Equilibrium এর যে কোন এলবাম ছেড়ে নিলে তো সোনায় সোহাগা ।
Ensiferum :https://www.youtube.com/watch…
Equlibrium:https://www.youtube.com/watch…

তো সময় থাকতে পড়ে ফেলুন অসাধারণ এক মাঙ্গা Vinland Saga!

Vinland Saga 5

Vinland Saga 3

ডিয়ার গ্রীন [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah

Dear Green

ডিয়ার গ্রীন

ধরণঃ ওয়ানশট
জানরাঃ ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
মাঙ্গাকাঃ সাকুরা আমইয়ূ
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৯০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮

মাত্র একটি চ্যাপ্টারের মাঝে কতটুকু গল্পই বা বলা সম্ভব? শৌজো ওয়ানশটগুলোতে সাধারণত নায়ক-নায়িকার ধুমধাম হঠাৎ দেখা হবে তারপর কিছু ঝক্কি-ঝামেলা পোহানোর পর মধুর মিলন হবে কাহিনী এখানেই শেষ। ভালো, নতুনত্ব থাকা গল্প পাওয়াই কঠিন। সেখানে অর্থপূর্ণ কোন ওয়ানশট মাঙ্গা তো আশা করাও ভুল। কিন্তু সাকুরা আমইয়ূ তার ডিয়ার গ্রিন মাঙ্গাটি মাত্র একটি চ্যাপ্টারেই তুলে ধরেছেন অর্থবহ একটি গল্প যেটির অভিজ্ঞতা বাস্তবে আমাদের সবারই কম-বেশি আছে।

কাউকে ভাইবোনের সাথে তুলনা করা আমাদের সমাজে নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। যখন এই তুলনা চলে তখন কেউ ভেবে দেখে না যে মানুষটিকে তুলনা করা হচ্ছে তার উপর তাদের মন্তব্য কি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অপর ভাই বা বোনটি যদি হয় মেধাবী, প্রতিভাবান তাহলে তো কথাই নেই। আওয়ি শুন এমনই এক হতভাগা মেয়ে যার সেই ছোটবেলা থেকে গুণী বড় বোনের সাথে তুলনা চলে। সারাক্ষণ এই তুলনা দেখতে দেখতে সে বিরক্ত। শুন বাঁশি বাজাতে পছন্দ করলেও বোনের কারণে তাও আত্মবিশ্বাসের অভাবে ঠিক মত চালিয়ে যেতে পারে না। সবকিছুর প্রতি উদাসীনতা, নিজের ইচ্ছামত চলা আর শহরের লুকানো এক সুন্দর জায়গায় একা একা বাঁশি বাজানো নিয়েই তার জীবন। সেখানে শুন একদিন একজন তরুণ ফটোগ্রাফারের দেখা পায়। এই ফটোগ্রাফারই শুনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে। সবকিছু থেকে পালিয়ে বেড়ানোর স্বভাব আর হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতার চেয়ে নিজেকে আরও ভালো করে তোলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সে বুঝতে পারে।

শুন চরিত্রটির সাথে অনেকেই নিজের মিল খুঁজে পাবেন। বোন হিসেবে আওয়ি মিয়ো ভালো লাগার মত যদিও খুব ক্ষুদ্র সময়ের জন্য তাকে দেখা যায়। আর ইয়োহসুকের মত অনুপ্রেরণা জোগানো মানুষ বোধ হয় প্রতিটি মানুষের জীবনেই দরকার।
মাঙ্গাটির আর্ট খারাপ না আবার খুব আহামরি কিছুও না। একদম সচরাচর শৌজো মাঙ্গায় যেরকম আর্ট দেখা যায় তেমনটাই।

৫৪টি পৃষ্ঠা দিয়ে মাঙ্গাকা একটি কথাই বলতে চেয়েছেন। নিজেকে সম্মান করতে শিখ, নিজেকে ভালবাসতে শিখ। বড় বড় মাঙ্গাতেও এরকম সুন্দর কোন বার্তা পাওয়া যায় না। তাই ওয়ানশট হলেও এটি পড়ার মতই একটি মাঙ্গা।