তাতামি গ্যালাক্সি লিখেছেন Fahim Bin Selim

স্প্রিং মৌসুম শেষের দিকে। কোন অ্যানিমেটা আপনার সবচেয়ে ভালো লেগেছে? সিজনের সবচেয়ে কম জনপ্রিয় অ্যানিমেগুলোর মধ্যে পড়লেও, এই গ্রুপের নিয়মিত সদস্য হলে পিং পং-এর নাম আপনার চোখে এড়িয়ে যাওয়া বেশ দুঃসাধ্য এক ব্যাপার। অ্যানিমেটা কি ফলো করছেন? নাকি প্রথম পর্বে আর্টস্টাইল দেখেই দমে গেছেন? এরকম জঘন্য বাচ্চাদের মত আকা আর্টের অ্যানিমে বানানো লোকদের গুষ্টি উদ্ধার করেছেন? সিজনের সবচেয়ে পোলার ওপিনিয়নের অ্যানিমে।

কিন্তু এই লেখা পিং পং নিয়ে না, তারও চার বছর আগের এক অ্যানিমে নিয়ে। কিন্তু আরো কিছুটা পিছে যাওয়া যাক। পিং পং নিয়ে উচ্চাকাংক্ষীদের একটা বড় অংশের কাছে অবশ্য আর্টস্টাইলটা বেশ পরিচিত। কারণ কী? কারণ হল মাসাকি ইউয়াসা।

১৯৬৫ সালে জন্মানো ইউয়াসা, ১৯৯০-এ অ্যানিমেশন ডিরেক্টিং-এর কাজ শুরু করলেও ২০০৪ পর্যন্ত তার বলার মত কাজ ছিলো ক্রেয়ন শিন-চান, মাই নেইবার ইয়ামাদাস-এর অ্যানিমেশন ডিরেকশন আর ক্যাট সুপ অ্যানিমের স্ক্রিপ্ট রাইটিং। ২০০৪ সালে মাইন্ডগেম অ্যানিমে মুভি দ্বারা সর্বপ্রথম তার পরিচালনার জগতে প্রবেশ। তার সেই “বাচ্চাদের হাতে আঁকা আর্ট” আর পাগলাটে এক কাহিনী নিয়ে যা বানালেন তা আমঅ্যানিমেজনতার কাছে খুব একটা জনপ্রিয় না হলেও সমালোচকদের কাছে হয়েছিল বেশ সমাদৃত; মাইন্ডগেম জয় করল ২০০৪ সালের জাপান মিডিয়া আর্টস অ্যাওয়ার্ড আর স্বল্পসংখ্যক কিছু সমঝদার ভক্ত। দুই বছর পর তিনি পা রাখলেন টিভির দুনিয়ায়। ২০০৬ এর কেমোনোজুমে আর ২০০৮ এর কাইবা শুধু তার ভক্ত সংখ্যা বৃদ্ধিই করল না, কাল্ট স্ট্যাটাস এনে দিল। গ্র্যান্ড প্রাইজটা না পেলেও এক্সিলেন্স প্রাইজ জেতা কাইবা আর তার প্রতিগামী কেমোনোজুমে সমালোচকদের বাহবাটাও পেল।
কিন্তু ইউয়াসা ততোদিনে মাত্র হাত মকশোয় ব্যাস্ত ছিলেন। ২০১০ সালে তোমিহিকো মরিমির উপন্যাস অবলম্বনে বানালেন তার এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয় ও শ্রেষ্ঠ কাজ – ইয়োজোহান শিনওয়া তাইকেই – তাতামি গ্যালাক্সি!

আমাদের মূল চরিত্র কলেজ ড্রপ আউট। তার নাম আপাতত না জানলেও চলবে। মূল চরিত্র যুবক এক মধ্যরাতে রামেন স্ট্যান্ডে খেতে গেলে তার সাথে সাক্ষাত হল স্বঘোষিত এক “বিবাহের দেবতা”-র সাথে। দুই বছর আগে “রোজ-কালার্ড” সময়ের স্বপ্নে বিভোর হয়ে কলেজ জীবনে পদার্পণ, কিন্তু বাস্তবে পদেপদে ব্যার্থতায়
বিধ্বস্ত, নস্টালজিয়ায় দগ্ধ আর হয়ত বা স্থান-কালের পরবাস্তবতায় অভিভূত যুবক তখন শুরু করে তার বিগত দুই বছরের স্মৃতিচারন। যার অংশ এক বিচিত্র বন্ধু, এক সিনিওর বড় ভাই, এক জুনিওর ইঞ্জিনিয়ারিং ইস্টুডেন্ট আর “বিবাহের দেবতা” নিজেই! আর পুরো অ্যানিমে জুড়েই তারা ফিরে আসবে ভিন্ন আঙ্গিকে, চরম বৈচিত্র্যে…বারবার। কাহিনী এর থেকে বেশি না জানাটাই শ্রেয়।
আচ্ছা তাতামি গ্যালাক্সীর মূল চরিত্রের নামে আসা ফিরে আসা যাক। তা না জানলেও চলবে কারণ আসলে অ্যানিমে/উপন্যাস কোন জায়গায়ই সেটার উল্লেখ নেই! আর এটাই গল্পের ন্যারেটিভের সবচেয়ে চমতকার দিক – উত্তম পুরুষে বর্ণণা! ১১ পর্বের অ্যানিমে, যেখানে স্মৃতিচারক হিসেবে প্রতিটি ঘটনায়ই মূল চরিত্র উপস্থিত, সেখানে একবারও তার নামের উল্লেখ নেই, আর তা “ওয়াতাশি(আমি)”-তেই সীমাবদ্ধ। উপন্যাসীয় গল্প বর্ণণার ছাপ স্পষ্ট।

10455125_783679804997172_1716562847502976753_n

এর প্রেক্ষিতে আরেকটি ব্যাপারও না বললেই নয়। ইউয়াসা অরিজিনাল ক্রিয়েশনে(কাইবা) যেমন সিদ্ধহস্ত তেমনি সোর্সের অ্যাডাপটেশনে নিজের ছাপ রেখে যাওয়া কিন্তু একই সাথে সোর্স ম্যাটেরিয়ালের অরিজিনালিটি বজায় রাখাতেও সমান পারদর্শী(তাতামি, মাইন্ডগেম, পিং পং)। তবে তা শুধু পারফেক্ট এক্সিকিউশনেই সীমাবদ্ধ না। সকল বিনোদন মাধ্যমে দেখা যায় ৯০% ক্ষেত্রে কোন অ্যাাডাপটেশন তার সোর্সের সম্পুর্ণ মহাত্ব ফুটিয়ে তুলতে পারে না। সেখানে চমতকার সব কাহিনীর সোর্সের অসাধারনত্বকে ছাড়িয়ে যাওয়ার একটা বদঅভ্যাস ইউয়াসার মাঝে বিদ্যমান।

আর এখানেই তার সেই নিজস্ব “ছাপ রেখে যাওয়া”। প্রথমত অবশ্যই সেই “বাচ্চাদের আঁকা” আর্ট স্টাইল, ইউয়াসা আর্ট স্টাইল – ফ্রি ফ্লোয়িং, ফ্লেক্সিবল আর পাগলাটে – তার বানানো সব অ্যানিমেগুলোর জন্য এর থেকে আলাদা আর কিছু হয়ত চিন্তাও করা যায় না।
ভিজুয়ালাইজেশন, মোটিফ আর বিজিএমের সুনিপুন ব্যবহার। বিশেষ করে কাইবার ওএসটিটা শুনে দেখতে পারেন। এরকম ঘোরলাগা, জেঁকে ধরা শান্তিময় বিষণ্ন ওএসটি খুব বেশি পাবেন না।
সাধারণ সব দৃশ্যকে অসাধারন করে দেখানোর অনন্যসাধারন ক্ষমতা – তার সিনেমাটোগ্রাফি আপনাকে বারবার মুগ্ধ করবে।

সবার সবকিছু ভালো না লাগাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু শুধু আর্টস্টাইলের জন্যই যদি তাতামি গ্যালাক্সী আর পিং পং -এর মত অ্যানিমে আপনার ড্রপলিস্টে পরে তাহলে বলতে হয় খুবি দুর্ভাগ্য। বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা এবং প্রতিভাবান অ্যানিমে পরিচালকের আন্ডাররেটেড আর আন্ডারএপ্রিশিয়েটেড একগুচ্ছ অ্যানিমে থেকে নিজেকে বঞ্চিত করা মানুষের বিশাল তালিকায় নিজের নামটাও যোগ করলেন শুধু।

তাতামি গ্যালাক্সি(২০১০)
পর্ব সংখ্যা: ১১
ব্যাপ্তি: ২৩ মিনিট/পর্ব
মূল: তোমিহিকো মোরিমি
পরিচালক: মাসাকি ইউয়াসা
প্রযোজক: ম্যাড হাউস
মাই,অ্যানিমে,লিস্ট রেটিং: ৮.৫৮(#৭০)
আমার রেটিং: ৮৮/১০০

* শুধু তাতামি গ্যালক্সীর রেকমেন্ডেশন লেখতে বসলেও, বাকিগুলোর কথা না বললে সেগুলোর অপমানই হয়।

মাইন্ডগেম(২০০৪): এরকম ইনোভ্যাটিভ অ্যানিমে মুভি আর একটাও পাবেন না। শেষ ২০ মিনিটে আপনার টেস্টোস্টেরোন আকাশচুম্বী না হলে বলতেই হবে আপনি জীবনে অনেক বেশিই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার সম্মুক্ষীন হয়েছেন। ৮৫/১০০

কাইবা(২০০৮-১২ পর্ব): সাইফাই রোমান্সের এমন মেলবন্ধনে শুধু স্টাইনস;গেইটৈ হয়ত এর সাথে তুলনীয় হতে পারে। ৮৬/১০০

পিং পং(২০১৪-১১ পর্ব): পিং পং ‘খেলা’ নিয়ে অ্যানিমে। কিন্তু স্পোর্টস জনরার চেয়েও বেশি কিছু। ৮৩/১০০(আপাতত)

নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন ট্রল রিভিউ লিখেছেন Fahim Bin Selim

শিনজি ইকারি যোগ দিল “এঞ্জেল” নামক পৃথিবী আক্রমনকারী অ্যালিয়েন দমন প্রতিষ্ঠান নার্ভে। পিতার কাছ থেকে চিরকালই অবহেলার শিকার শিনজি কি পারবে ইভাঙ্গেলিয়ন ইউনিট ওয়ানের অতিমানবিক ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুষ্ট ‘অ্যালিয়েন’-দের হাত থেকে পৃথিবীকে বাঁচাতে? তার বাবার সমীহ পেতে? কেই বা হবে বেস্ট ‘গার্ল’? নাগিসা, আয়ানামি, ল্যাংলী নাকি কাৎসুরাগি?

অ্যাকশন, পেট ফাটানো হাসির, হারেম আর সাইফাই ভালোবাসেন; আর নিওন জেনেসিস ইভাঙ্গেলিওন দেখবেন না তা কি হয়? রোমান্স আর ইনটেনস ইমোশন – ক্ল্যাসিক এক রোমান্টিক অ্যানিমে হতে আর কি লাগে। আর অসাধারণ এন্ডিংটা আপনাকে ফিলের ‘সাগরে’ ভাসিয়ে দিবে, চোখের কোনে পানি না আসলে বলতে হবে আপনি অন্য ধাতের মানুষ।

10484617_786011101430709_8801167921370553859_nরোমান্টিক অ্যানিমের গুরু হিদেয়াকি আনোর এই অ্যানিমেটা বদলে দিয়েছিল অ্যানিমে জগতের গতিপথই। যার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে পরে তৈরী হয়েছে সিরি য়ারু জিকেন রেইনু আর তাকু নো রাইজের মত অসাধারণ সব অ্যানিমে। এই বন্ধতে গা এলিয়ে দিয়ে রিলাক্স হয়ে দেখার মত অ্যানিমে এটার মত আর একটাও পাবেন না। তাহলে অপেক্ষা কেন?

অ্যানিমের ইতিহাস – পঞ্চম পর্বঃ বিশ্বজয় – চেনা জগত; লা এইচ ট্রিও– ফাহিম বিন সেলিম

ষাটের দশকে শুধু টিভিতে অ্যানিমের জাগরণের গান।
ওসামু তেজুকা আর তার মুশি প্রোডাকশন শুধু অ্যাস্ট্রো বয়েই থেমে থাকেননি। সেটা তো ছিল মাত্র শুরু। ১৯৫৯ আর তারপর ১৯৬৩ তে মাইটি অ্যাটম বা আরো বেশি জনপ্রিয় নাম, অ্যাস্ট্রো বয়ের নতুন যে সিরিজ শুরু হল সেগুলোর ধারাবাহিকতায় ১৯৬৫ সালে তেজুকা তার নিজের লেখা মাঙ্গা জাঙ্গল এম্পেররের অ্যানিমে তৈরি করেন; যা সারা বিশ্বে আরো বেশি পরিচিত কিম্বা – দ্য হোয়াইট লায়ন নামে(Kimba – The White Lion)।
আফ্রিকার অরন্যের বেড়ে উঠা লিও(ইংরেজিতে কিম্বা) আর তার অভিযান নিয়েই তৈরি এই ৫২ পর্বের সর্বপ্রথম পুর্নরঙ্গিন অ্যানিমে। মাত্র এক বছরের মাথায় এটা আমেরিকায়ও মুক্তি পায়। আর এভাবেই জাপান থেকে সুদূর যুক্তুরাস্ট্র হয়ে সারাবিশ্বে অ্যানিমে প্রসার শুরু হল। যা পরবর্তীতে অনুদিত হয়েছে ইতালি, ফ্রেঞ্চ, স্প্যানিশ, কাতালান, ডাচ, জার্মান সহ বিভিন্ন ভাষায় আর প্রচারিত হয়েছে শ’ কয়েক দেশে – হয়ত বাংলাদেশ টেলিভিশনের পর্দায়ও আপনি তা দেখে থাকবেন। যা আজ পর্যন্ত, এই প্রজন্মের কাছে না হলেও এবং অ্যানিমে হিসেবে তেমন প্রচার না থাকলেও, অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাব বিস্তারকারী অ্যানিমে।

আর এসব অ্যানিমে শুধু জাপানই নয়, বিশ্বব্যাপী ছোট ছেলেমেয়েদের ‘চাইল্ডহুড’ বদলে দিচ্ছিল চিরদিনের জন্য। তেজুকার এসময়ের আরো একটি উল্লেখযোগ্য কাজ প্রিন্সেস নাইট, সর্বপ্রথম সৌজো, ম্যাজিকাল গার্ল জনরার অ্যানিমে। তবে তেজুকা যে একাই সব করছিলেন তা না, জাপানের ‘ডিজনী’ তোয়েই অ্যানিমেশন আর অন্যান্য নতুন গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোও বসে ছিল না। ১৯৬৩ সালেই প্রচারিত হয় জাইগেন্টর(Gigentor), আমেরিকার সেসময়কার বেশ জনপ্রিয় এক ‘কার্টুন’; যা মাত্র এক বছরের মাথায় আমেরিকা আর অর্ধদশক না পেরোতে পা রেখেছিল ডাউন-আন্ডারে। টিভি ডৌগার ম্যারিন বয়(Marine Boy), তোয়েই-এর সাইবর্গ ০০৯(Cyborg 009) এর পাশাপাশি ‘৬০-এর সবচেয়ে বড় নাম, তাতসুয়োকো প্রোডাকশনের – মাক গোগোগো(Mach GoGoGo)। টিনেজার স্পীড আর তার মাক ফাইভের রক্তগরম, শিরদারা আর হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেওয়া সব রেসিং। সাথে আছে রহস্যময় রেসার এক্স। ওহ, অ্যানিমেটার ১৯৯৭ সালের রিমেক, ২০০৮-এর কার্টুন রিমেক নেক্সট জেনারেশন অথবা একই সালের হলিউড লাইভ অ্যাকশন ফিল্ম হয়ত দেখে থাকবেন। অ্যানিমেটা বিশ্বব্যাপী পরিচিত স্পীড রেসার(Speed Racer) নামে।

আর এসব অ্যানিমে দেখে বড় হওয়া প্রজন্ম কয়েক দশক পর আনবে নতুন এক মেলবন্ধন। জাপান, আমেরিকা – অ্যানিমে, হলিউডের মাঝে। তবে সে অনেক পরের গল্প।

টিভির কাছে স্তিমিত হয়ে গেলেও হলে তখনো অ্যানিমে মুভি বের হওয়া বন্ধ হয়নি। কিন্তু ১৯৬৯ সালে মাঙ্গার জনক, আধুনিক টিভি অ্যানিমের জনক, তেজুকা যা বানালেন তার কথা কেউ ভাবতেও হয়ত পারেনি। ১৯৬৯ সালের জুনে জাপানের হলগুলোতে বেরোল ওয়ান থাউজ্যান্ড এন্ড ওয়ান নাইটস(1001 Nights), হ্যা আলাদিনের সেই ধ্রুপদি কাহিনী। কিন্তু তেজুকার হাতে এই চেনা কাহিনীটাই আমূল বদলে গেল। শব্দ আর চিত্র গ্রহনের অনন্য পরিচালনায় তৈরি হল অনবদ্য মুভি, তাতে আছে শিল্পের ছোয়া আবার যৌনতা আচড়। আর-এক্স রেটেড, আনসেন্সরড – ওয়ান থাউস্যান্ড এন্ড ওয়ান নাইটস হয়ে গেল সর্বপ্রথম অ্যানিমেটেড পর্নোগ্রাফি – হেন্তাই। যদিও তা বর্তমানের ‘হেন্তাই’-শব্দটার ব্যবহারিক অর্থের সাথে মিলে না। বাগদাদ, অ্যাামাজন অথবা আলিবাবার ও ৪০ চোরের গুহা পার হয়ে এ অ্যানিমে পরিবেশন করবে বাস্তব আর স্বপ্নের এক অসাধারন সমাহার।

শুধু এখানেই অবশ্য শেষ না, পরের বছর বেরোল ক্লিওপেট্রা – দ্য সেক্স কুইন(Cleopetra The Sex Queen) আর ১৯৭৩-এ ২৩তম বার্লিন ফিল্ম ফেস্টিভালে মুক্তি পেল বেলাডোনা অফ দ্য স্যাডনেস(Belladona of the Sadness)। সবগুলোই আর-এক্স হেন্তাই।

আর এভাবেই টিভির জাগরন আর থিয়েটারে বড়সড় একটা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে ‘৭০-এ পা রাখল অ্যানিমে। কাতসুদো সাশিন আর কুমো তো চুরিপ্পুর মত অজানা এক জগত পেরিয়ে এজায়গাটা সাধারন অ্যানিমে ভক্তদের কাছে অবশ্য বেশ পরিচিত। ১৯৭০-এর অনেক অ্যানিমেই আমাদের হয়ত আমাদের প্রিয়, বারবার দেখা। আবার হয়ত কারো দেখা সেগুলোর সাম্প্রতিককালে প্রচারিত রিমেক। নামগুলো শুনেই হয়ত মুখে ক্ষীন একটা হাসির আভাস দেখা দিবে। অ্যানিমে এখন বিশ্বব্যাপী, অ্যানিমে এখন বিশ্বজয়ী।

কারণ ‘৭০-এ অ্যানিমে জগতে পা রাখবে –
লুপিন দ্য থার্ড, আশিতা নো জো, ফিউচার বয় কোনান, মাজিঙ্গার জি, গ্যালাক্সি এক্সপ্রেস ৯৯৯, রোস অফ ভার্সাইলেস, স্পেস ব্যাটলশিপ ইয়ামাতো, মোবাইল স্যুট গুনদাম।
ডোরেমন!

// জাপান থেকে আমেরিকায় অ্যানিমের প্রভাব, প্রচার ও প্রসার সম্পর্কে বেশ ভালো একটা ডকুমেন্টারি – অ্যানিমে ড্রয়িং এ রেভ্যুলুশন। দেখতে পারেনঃ http://www.veoh.com/watch/v15806437gxSnEpdK?h1=anime+drawing+a+revolution //

 

অ্যানিমের ইতিহাস – চতুর্থ পর্বঃ স্নেক এন্ড সাসকে – নিউক্লিয়াস এন্ড অ্যাটম – ফাহিম বিন সেলিম

 

1781574_734068656624954_453149461_o

অ্যানিমের গল্প বলতে গেলে মাঙ্গাকে তো বাদ দেওয়া যায় না! লেখা-আঁকার যুগলবন্ধী প্রচলিত ছিলো বহু আগে থেকেই। কিন্তু অ্যানিমের মত “মাঙ্গা”-র প্রসার ভালোভাবে শুরু হল যুদ্ধের পর। ১৯৪৭ সালে নতুন সংবিধান অনুযায়ী জাপানে সকল সেন্সরশীপ নিষিদ্ধ হয়ে যাওয়ায় সাহিত্য, বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমের মত মাঙ্গা-অ্যানিমেতেও ভিন্নধারার সূচনা ঘটল। ১৯৪৫ থেকে ১৯৫২ পর্যন্ত যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠনের সময়গুলোতে, আমেরিকার তত্বাবধায়নে থাকার কারণে তাদের সংস্কৃতি দ্বারা অনুপ্রানিত হওয়াকেও একটা কারণ হিসেবে বলা যায়। মার্কিন সুপার-হিরো কমিকস জাপানীদের জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা ছিল। অনুপ্রানিত হলেও, জাপান অবশ্য তা অনুসরন করল না।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রসঙ্গ এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হলেও সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ-শান্তির প্রভাবটা বেশ ভালোভাবেই লক্ষনীয় ছিল। ১৯৫১ সালে, প্রথমবারের মত ‘সুপার হিরো’-দের কাহিনী জাপান নিজেদের আদলে বলা শুরু করল। ওসামু তেজুকা, যাকে বলা হয় আধুনিক অ্যানিমের নিউক্লিয়াস মাঙ্গার ধর্মপিতা, আঁকা শুরু করেন Tetsuan Atom(Mighty Atom), যেটা অধিক পরিচিত Astro Boy নামে।
আধুনিক আরেকটি উল্লেখযোগ্য মাঙ্গা অবশ্য তারও আধ-দশক আগে শুরু হয়েছে। ১৯৪৬ সাল থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে যা প্রকাশিত হয়! ১৯৭৪ সালে মাঙ্গা প্রকাশ শেষ হওয়ার পাঁচ বছর আগেই অবশ্য তার অ্যানিমে প্রচারও শুরু হয়ে গিয়েছিল, ১৯৬৯ সালে। এবং তা আজ অবধি চলছে!
ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘকালব্যাপী এবং সর্বাধিক প্রচারিত পর্বের অ্যানিমে, মাচিকো হাসেগাওয়ার – Sazae-san।

এই Astro Boy আর Sazae-san কেই বলা যায় যথাক্রমে আধুনিক শৌনেন-সেইনেন আর শৌজো-জোসেই জনরার অ্যাডাম-ইভ।

অ্যানিমের গল্পে ফিরে আসা যাক। ১৯৪৮ সালে আলোর মুখ দেখল “জাপান অ্যানিমেটেড ফিল্ম” স্টুডিও। প্রথম দিকে তেমন উল্লেখযোগ্য কোন কিছু তৈরী করতে না পারলেও, ১৯৫৬ সালে তোয়েই কোম্পানী এই স্টুডিওকে কিনে নেওয়ার পর অবস্থা পাল্টে যায়। নতুন নাম হয় – তোয়েই অ্যানিমেশন। মাত্র দুই বছরের মাথায় তারা বের করে প্রথম রঙ্গিন জাপানিমেশন এবং সর্বপ্রথম আধুনিক “অ্যানিমে” – The Tale of the White Serpent, ১৯৬১ সালে যা সর্বপ্রথম অ্যানিমে হিসেবে আমেরিকায় মুক্তি পায়। প্রথম আধুনিক অ্যানিমে হিসেবে বিবেচিত হলেও বর্তমান-প্রচলিত অ্যানিমে থেকে ডিজনীর রুপকথার গল্পগুলোর সাথেই এটার বেশি মিল খুঁজে পাওয়া যাবে। এবং যথাযথ কারণেই এই মুভিটি তোয়েই অ্যানিমেশনকে এনে দেয় “প্রাচ্যের ডিজনী” উপাধি।
শুধু রঙই নয়, জাপানের তৎকালীন অ্যানিমেশন প্রযুক্তির একেবারে চূড়ান্ত ব্যবহার করা হয় এই চলচ্চিত্রে। কিন্তু চমকপ্রদভাবে তাইজি ইয়াবুশিতা আর কাজুহিকো ওকাবে পরিচালিত এই অ্যানিমে তৈরী করতে লেগেছিল মাত্র ৮ মাস! একসাথে কাজ করেছিল সাড়ে তের হাজারেরও বেশি কর্মী!

তার পরের বছরই ইয়াবুশিতা আবার আকিরা দাইকুবারার সাথে মিলে তৈরী করেন Magic Boy, যার জাপানী নাম Shounen Sarutobi (না, হিরুজেনও না, আসুমাও না, এমনকি কোনোহামারুও না) Sasuke [  ]!
এই অ্যানিমেও ডিজনীর গতবাধাঃ লোকগাথা-রুপকথা-গান-কথাবলাপশুপাখি ফর্মুলা অনুসরন করেছিল। ৮৪ মিনিটের এই দ্বিতীয় রঙ্গিন অ্যানিমে The Tale of the White Serpent-এর সাথে একই বছর আমেরিকায় মুক্তি পায়।

প্রতিবছর একটি মুভির ধারাবাহিকতায় ১৯৬০ সালে ওসামু তেজুকার My Son Goku মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে তৈরী হয়, Alakazam the Great। তেজুকা আবার মাঙ্গাটি এঁকেছিলেন ষোল শতকের চাইনিজ উপন্যাস Journey to the West এর অবলম্বনে। তোয়েই অ্যানিমেশনের পক্ষ থেকে তেজুকাকে পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হলেও, তেজুকার ভাষ্যমতে স্টুডিওতে তার গমন বিজ্ঞাপনের জন্য ছবি তুলতে যাওয়া পর্যন্তই। তবুও এই মুভির কারণেই অ্যানিমেশনের প্রতি প্রথম তাঁর আগ্রহ জন্মায়। আর ১৯৬১ সালে অসন্তোষ আর সৃজনশীল অসামঞ্জস্য, যে কারণেই হোক, তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে চুক্তি শেষ হওয়ার সাথে সাথেই তেজুকা নিজেরই একটা স্টুডিও খুলে বসলেন!
তোয়েই অ্যানিমেশনের সাথে সাথে কাঁধে কাঁধে পাল্লা দেওয়ার জন্য – মুশি প্রোডাকশন।

মাঙ্গার মতোই অ্যানিমেতেও আমেরিকানদের অনুসরন না করে জাপানের স্বকীয় আখ্যান বর্ণণা করতেই তিনি বেশী মনোযোগী হলেন। ১৯৬৩ সালে নতুন বছরের প্রথম দিনে জাপানের টেলিভিশন ইতিহাস পাল্টে গেল চিরদিনের জন্য।
হলের বড় পর্দার গন্ডি পেড়িয়ে অ্যানিমেশনের যাত্রা শুরু হল টিভির চারকোনা বাক্সে। আর মাঙ্গার মতই এখানেও প্রথম নামটি হল – Astro Boy!

 

অ্যানিমের ইতিহাস – তৃতীয় পর্ব: ওয়ার এন্ড পিস – ফাহিম বিন সেলিম

1796548_730218773676609_649659517_n

ত্রিশের দশক। জাপানীজ অ্যানিমেশন ততদিনে ডিজনীর কাছে ব্যাবসায়িক খেলায় হেরে দেশীয় চলচ্চিত্র বাজারের আধিপত্য হারিয়েছে। হলের বড় পর্দায় ব্যাবসায়িক অ্যানিমেটেড ফিল্মের পরিবর্তে তারা দায়িত্ব নিয়েছে শিক্ষা-জনসচেতনতা মুলক আর বিজ্ঞাপন-প্রচারণামুলক ভিডিও তৈরীর। জাপান সরকার এসময় সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ প্রবর্তন করায়, সেন্সরশিপ অনেক কঠোর হয়ে গেল।

তারা জাপানী চেতনা আর জাতীয়তা বাদে উদবুদ্ধ সিনেমা তৈরী করা পরিচালকদের অগ্রাধিকার দেওয়া শুরু করল। এ অভিব্যক্তি আরো জোড়ালো হল ১৯৩৯-এর চলচ্চিত্র আইন প্রণয়নের পর। ছোট ছোট অ্যানিমে ফিল্ম কোম্পানীগুলো একত্রিত হয়ে বড় বড় স্টুডিও গড়ে তুলল। আবার সো চিকুর মত বৃহত্তর স্টুডিও লাইভ অ্যাকশনের পাশাপাশি অ্যানিমে ফিল্ম বের করা শুরু করল। আর এই সোচিকুর সহায়তায় কেনজো মাসাওকা(Chikara to Onna no Yo no Naka) ১৯৪৩ সালে তৈরী করেন Kumo to Churippu[The Spider and the Tulip](১৯৪৩)-র মত মাস্টারপিস[যা ২০০১ সালে প্রকাশিত অ্যানিমেজের সর্বকালের সেরা অ্যানিমের তালিকায় ৪র্থ স্থান দখল করে ]।

যুদ্ধ শুরু হল। আর এসময় সকল স্টুডিওর একত্রিকরণের ধারাবাহিকতায় মাত্র ৩ টি বড় স্টুডিও অবশিষ্ট থাকল, আর এবার তারা সেনাঅর্থায়নে সিনেমা তৈরী করা শুরু করল। আর যুদ্ধকালীন সময় আমেরিকানরা যেমন কমিক আর কার্টুনের চরিত্র ব্যাবহার করে প্রোপাগান্ডা চালিয়েছিল, পুরোনো চরিত্রদের যুদ্ধের সাজে সাজানো অথবা নতুন চরিত্রই তৈরী করা(সবচেয়ে বড় উদাহরণ Captain America); জাপান ও তার সৈন্য আর সাধারণ জনতাকে এই কঠিন সময় পার করতে সাহায্য নিল অ্যানিমের।

১৯৪৩ সালে মিতসুয়ো সেও(Ari-chan) গেইজুতসু এইগাশার প্রযোজনায়, জাপানের লোকগাথার সাথে চলমান যুদ্ধের আবহকে কাজে লাগিয়ে তৈরী করেন Momotaro’s Sea Eagles. [মজার ব্যাপার হল, আমেরিকান সমসাময়িক কার্টুন আর কমিকসে যেমন প্রতিপক্ষ হিটলার অথবা জাপানী সেনাদের আবির্ভাব ঘটা শুরু করল, তেমনই জাপানীরাও তাদের জবাব দেওয়া শুরু করল। যেমন এই অ্যানিমেতে বহুল জনপ্রিয় কার্টুন পপাই এর চরিত্র ব্লুটোকে দেখা যায় একজন সাধারণ মাতাল হিসেবে।] ৩৭ মিনিটের এই অ্যানিমেকে বলা যায় ফিচার লেংথ অ্যানিমেশনের পথে প্রথম সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ।

মাত্র দুই বছর পরই সেও তৈরী করেন এর সিকুয়্যেল, এবার সোচিকুর প্রযোজনায় – Momotaro’s Divine Sea Warriors. ৭৩ মিনিটের এই অ্যানিমে ফিল্মটিই সর্বপ্রথম ফিচার লেংথ জাপানিজ অ্যানিমেশন। ১৯৪১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ডিজনী মুভি Fantasia দ্বারা অনুপ্রানিত হয়ে তৈরী হওয়া এই দুটি মুভির উপরের প্রোপাগান্ডার আর যুদ্ধের ভয়াবহতার চাদরের আড়ালে ছিল শান্তি আর আশার বার্তা।

যুদ্ধে পরাজিত হলেও তাই জাপানীরা নিজেদের সমৃদ্ধ অতীত, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর সৃজনশীলতা প্রকাশের নতুন এক মাধ্যমের খোঁজ পেল। ধংসস্তুপ থেকে জাপানের নবজাগরনের সাথে নতুন শুরু হল অ্যানিমেরও।
আরো বৃহৎ, আরো ভালোভাবে!

যারই ধারাবাহিকতায় ১৯৪৮ সালে সূচনা ঘটল জাপানের ডিজনী – তোয়েই অ্যানিমেশনের।
আর এই তোয়েই অ্যানিমেশনই অ্যানিমের ইতিহাসকে বদলে দিবে সবচেয়ে বড়ভাবে। শুধু প্রথম রঙ্গিন অ্যানিমে অথবা সর্বপ্রথম “আধুনিক” অ্যানিমেই নয়; হালের জনপ্রিয় সব অ্যানিমেগুলোতেও তারা রাখবে অবদান, দশক দশক পর এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকেই তৈরী হবে –
Seint Seiya, Space Captain Harlock, Toriko, Sailor Moon…
Slam Dunk, One Piece…
Dragon Ball Z!

// ছবি Kumo to Churippu-র //
// Momotaro’s Divine Sea Warriors লিঙ্ক: https://www.youtube.com/watch?v=me5bFtkEAso //

 

Planetes anime review by Fahim Bin Selim

 

পৃথিবীর আকর্ষন থেকে বেরিয়ে মহাকাশের অসীমতায় পা রাখা মানুষের আজীবন স্বপ্ন। “To see what no one has seen before, to go where no one has gone before”।

২০৭৫ সাল। মানুষ এখনো পৃথিবীর কাছের প্রতিবেশীদেররও মোটামুটি আপন করে নিয়েছে। পৃথিবী আর চাঁদের কক্ষপথজুড়ে ঘুরছে সব স্যাটেলাইট আর স্পেস স্টেশন। এমনকি চাঁদে আছে বিশাল এক শহর; চিকিৎসাকেন্দ্রের পাশাপাশি যা মহাকাশে ভেসে বেড়ানো মানুষদের অবকাশযাপনের বেশ জনপ্রিয় এক জায়গা! বিভিন্ন মহাকাশযানে করে পৃথিবী, চাঁদ আর এসব স্টেশনের মাঝে মানুষের যাতায়াত এখন নিত্তনৈমত্তিক ঘটনা। মঙ্গলেও পরেছে মানবপদরেখা!
কিন্তু যেখানে এতোশত জিনিস, সেখানে আবর্জনা তো থাকবেই। মহাকাশীয় সংঘর্ষে তৈরী হওয়া এসব আবর্জনা স্পেস ডেভেলপমেন্টে এক বিশাল বাধা। আর এসব আবর্জনা পরিষ্কারের দায়িত্বে যারা নিয়োজিত, তারাই – ডিব্রি(Debris) কালেক্টর।

স্পেস স্টেশনগুলোতেই আছে হাজারো কোম্পানী। তারই একটি – “টেকনোরা”-‘র ডিব্রি সেকশনে নতুন যোগদান করল আই তানাবে, অত্যুৎসাহী এক জাপানী যুবতী। তার নতুন কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে যা ধারনা ছিল তা প্রথম দেখায়ই আমূল বদলে গেল। জীবনের ঝুঁকি রেখে মহাকাশের সব বিপদ আপদ থেকে মানুষকে বাঁচানোর দায়িত্বে উজাড় করে দেওয়া সব মানুষ – নায়কোচিত সম্মানই তো পাওয়ার কথা! কিন্তু মানুষের প্রেজুডিস মনে হয় কখনই বদলায় না। আর সেরকমই “গার্বেজ কালেক্টর”-দের প্রতি মানুষের নাক সিটকানোটাও স্বভাবটাও হয়তো বদলায়নি, তা একবিংশ শতাব্দীর তিন-চতুর্থাংশ পার করার পরই হোক আর পৃথিবীর অভিকর্ষকে উপেক্ষা করা এক জগতেই হোক।
এই নতুন জায়গায় তানাবের তার সহকর্মীদের, অচেনা অনেক মানুষ, মহাকাশের জিরো গ্র্যাভিটি আর নিজেকে নতুন ভাবে আবিষ্কার করা; রাজনীতি, জীবন, স্বপ্ন আর ভালোবাসার গল্প – প্লানেটিস।

প্লানেটিস সাই-ফাই অ্যানিমে। হার্ড সাই-ফাই। আগের সব সাইন্স-ফিকশন অ্যানিমেগুলো যেখানে সুপারহিউম্যান, রোবট-অ্যান্ড্রয়েড, স্পেস অপেরা আর টাইমট্রাভলের “ফিকশন”-এই সীমাবদ্ধ। সেখানে প্লানেটিস অনেকাংশেই বাস্তব! প্লানেটিসকে অবশ্য টাইম ট্রাভেলের উপাধি দেওয়াই যায়। কোন টাইম মেশিনে করে ৬১ বছর পরের পৃথিবীতে গেলে হয়তো প্লানেটিসের জগতটাতেই আপনি পা রাখবেন।
বাস্তবতার কথা বলা হচ্ছিল, সে সম্পর্কে বলা যাক। ওজনহীন পরিবেশ বা মহাকাশে ভেসে বেড়ানোর চিত্রায়ন আবার হেটে চলার উপযোগী কৃত্রিম গ্র্যভিটি তৈরী করা ঘুড়ন্ত স্পেস স্টেশন, স্পেস অর্বিটাল পরিবর্তনের ভেক্টর, বায়ুশুন্য স্থানের শব্দহীনতা, চাঁদের ১/৬ গ্র্যাভিটিতে অধিক বর্ধন অথবা বিভিন্ন স্পেস ডিজিস মাত্র কয়েকটি উল্লেখ করা বিষয়। জাক্সার(JAXA) সহায়তা নেওয়ায় তাই এই অ্যানিমে প্রায় নিখুঁত এক মহাকাশ জীবনের অভিজ্ঞতা দিবে। এটা তো গেল টেকনিক্যাল বিষয়।

প্লানেটিস ড্রামা-রোমান্স অ্যানিমে। এবং অনেকাংশে স্লাইস অফ লাইফও বলা যায়। শুধু সাইন্সের এতো চমৎকার এক্সিকিউশনের জন্য যদি এটা মনে রাখার মত একটা অ্যানিমে হতে পারে তাহলে এর জীবনঘনিষ্ঠতা বৈজ্ঞানিক ব্যাপার-স্যাপারকেও ছাড়িয়ে যায়। বিশাল এক আনসাম্বলের, এতগুলো চরিত্রের, এত বাস্তবিক ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট আমার দেখা অন্যতম, যদি না সবচেয়ে সেরা হয়। প্রথম কোরের এপিসোডিক পর্বগুলোর(যার সব চরিত্রই কোন না কোনভাবে মূল কাহিনীকে আরো শক্তিশালী করেছে) ভিত্তিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে দ্বিতীয়াংশের ইনট্রিগিং স্টোরি আর্কটা। সবকিছুর শেষে আছে মনে রাখার মত এক এন্ডিং।

প্লানেটিস বেশ চিন্তাদ্দীপকও। তানাবে আর হাচিমাকির নিজ নিজ স্বপ্নের পেছনে ছোটা আর তার মাঝে ভালোবাসার ছোয়া; ফি, ইউরি, এডেল আর অন্যান্য ডিব্রি সেকশনের সহকর্মীদের জীবন অভিপ্রায়; একদিকে অজানা আর নতুন শক্তি-বাসস্থানের খোঁজে মহাকাশের দূরে আরো দূরে যাওয়ার গল্প আর তার আড়ালে ক্যাপিটালিজম, টেরোরিজম আর রাজনীতির কালো ছায়া। প্লানেটিস আপনাকে ভাবাবে। বেশ ভালোমতই।

পৃথিবীর আকর্ষন থেকে বেরিয়ে মহাকাশের অসীমতায় পা রাখা মানুষের আজীবন স্বপ্ন। “To see what no one has seen before, to go where no one has gone before”।
শৌনেন, সুপারন্যাচারাল আর টিন-ড্রামা রোমান্সের ক্লিশের বাইরেও অ্যানিমে মাধ্যম যে ভিন্নধর্মী সব অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিতে পারে তার উৎকৃষ্ট এক উদাহরন প্লানেটিস। বলে রাখতে পারি, প্লানেটিস “is nothing like what you have seen before” আর প্লানেটিস “went where no anime has gone before.”

কাহিনীঃ ৯;১৩ পর্ব এপিসোডিক, ১৩ পর্বের আর্ক
মিউজিকঃ ৮;২৬ পর্বে একটা মাত্র ওপেনিং আর একটা এন্ডিং; ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিকের ব্যবহার অসাধারন।
আর্ট/অ্যানিমেশনঃ অসাধারন আর্ট। ভিসুয়্যালি স্টানিং। হলিউডের গ্র্যাভিটি দেখে যদি আপনার চোখ চকচক করে তাহলে মনে রাখুন অ্যানিমেশনে লাইভ অ্যাকশনের মত কোন বাধাধরা নেই।
ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্টঃ আমার দেখা অন্যতম সে।
ইনট্রিগঃ প্রথম কোর ৭ – দ্বিতীয় কোর ৯।
এন্ডিংঃ নিখুঁত।

প্লানেটিস
পর্বঃ ২৬ (২৫ মিনিট/পর্ব)
জনরাঃ সাই-ফাই, রোমান্স, ড্রামা, স্পেস
সালঃ ২০০৩-২০০৪
প্রোযজকঃ সানরাইজ
সেন্সরঃ পিজি-১৩
মাই অ্যানিমে লিস্ট রেটিংঃ ৮.৪২ (#১৪৪)
আমার রেটিংঃ ৯১/১০০ (#৩)

Planetes anime reaction post by Fahim Bin Selim

অনেক জায়গায় লেখা দেখলাম মাঙ্গাটা নাকি মাস্টারপিস, অ্যানিমে অ্যাডাপটেশন নাকি খুবি খারাপ। তাই অ্যানিমে দেখা শেষে উইকি থেকে মাঙ্গার সিনোপসিস দ্রুত পড়ে নিলাম। আমার মনে হয় গল্পটা অ্যানিমেতে টিউনিং করে আরো ভালোভাবে শেষ করা হয়েছে।

অ্যানিমের ভিতরের কথা বললে, এতো বড় পরিসরে, এতগুলো চরিত্র নিয়ে এইটাই সম্ভবত আমার দেখা সবচেয়ে ইমোশোনালী রিয়েলস্টিক অ্যানিমে। হাচিমাকিকে শেষের দিকে খুবি বিরক্তিকর লাগা শুরু হলেও সেইনেন অ্যানিমেতে ফেইরিটেল রোমান্স আশা করাটাও হয়তো বোকামি।

ড্রামা, প্রেম, রাজনীতি আর সাইন্স-ফিকশন; কিন্তু ফিকশনটা ডালপালা ছড়ানো অবাস্তব না, নিকট ভবিষ্যত বলাই ভালো। অসাধারন কাহিনী, অসাধারন আর্ট আর এন্ডিংটাও চিরদিন মনে থাকার মত। খুব সহজেই আমার সেরা পাঁচে ঢুকে গেল।

সেরা হার্ড সাই-ফাই অ্যানিমে এবং খুবই, খুবই আন্ডাররেটেড।

“Every ship needs a homeport to get back to.” :’)

অ্যানিমের ইতিহাস – দ্বিতীয় পর্বঃ জনাব ওয়াল্টারের এম্পায়ার বিজনেস, ব্রেকিং সাইলেন্স এবং ফ-অ্যানি-লা – ফাহিম বিন সেলিম

কিতায়ামা সেইতারোর কথা মনে আছে?
জাপানিমেশনের একের দশকের তিন পথিকৃৎদের মধ্যে একজন। নিজের ব্যাক্তিগত স্টুডিও থেকে তিনি ১৯১৮ সালে মুক্তি দিয়েছিলেন Urashima Tarou. কিন্তু দুইয়ের দশকের প্রথমেই বড় একটা বিপর্যয় ঘটে গেল ― ১৯২৩ সালের টোকিও মহাভূমিকম্প। আর এতে তার স্টুডিওর অধিকাংশই ধ্বংস হয়ে যায়। যার কারণে এসময়ে তাঁর অধীনে থাকা শিষ্যরা চারিদিক ছড়িয়ে পড়ে নিজেরাই আলাদা আলাদা স্টুডিও খোলা শুরু করল।

১৯২৩ সালে আরেকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটল, প্রায় সাত হাজার মাইল পশ্চিমে ― শিকাগোর ২২ বছর বয়সী এক যুবকের হাত ধরে। The Walt Disney Company-র সূচনা।

ডিজনীর বড় বাজেটের উন্নতমানের অ্যানিমেটেড সিনেমা শুধু আমেরিকা নয় বরং সারাবিশ্বেই একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তুলল। জাপানও তার ব্যাতক্রম ছিল না। আর ডিজনীর অ্যানিমেটেড সিনেমাগুলোর সাথে জাপানের অ্যানিমেটররা রীতিমত হিমশিম খেতে শুরু করল। একদিকে ডিজনীর ফিল্মগুলো ইতোমধ্যেই বাইরে থেকে প্রচুর লাভ করে আসায়, শুধু আসল উশুল করতে পারলেই হত বলে, জাপানে বেশ স্বল্পমূল্যের টিকেটে থিয়েটারগুলোতে চলা শুরু করল। তার উপর তাদের তুলনামুলক বিশাল কোম্পানীর শব্দের কারুকাজ, সেলুলয়েডে ফ্রেমে রঙ্গিন অ্যানিমেশন আর পরিচালনার কাজ ছিলো বেশ উন্নতমানের। তাই শুধু লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলেই জাপানের নির্মাতাদের কম বাজেটে সিনেমা তৈরী করে আরো কম মূল্যে বাজারে ছাড়তে হত।

স্বল্প আয়ের ফলাফল হত পরবর্তীতে আবারো স্বল্প বাজেট। আর তা দিয়ে সাধারণ কাট-আউট ব্যাকগ্রাউন্ড আর হাতে আঁকা ছবির অ্যানিমেশনে আবারো তৈরী হত নিম্নমানের ফিল্ম(ব্যায়বহুল সেলুলয়েডের ফিল্মের তুলনায়)। স্বল্প বাজেট-নিম্নমান-স্বল্প আয়-স্বল্প বাজেটঃ ব্যার্থতার এই চক্র থেকে বের হতেই পারছিল না জাপানের নির্মাতারা।

২০ আর ৩০-এর শুধু ব্যার্থতার হাজারো গল্পের মধ্যেও দুজন নির্মাতার নাম উল্লেখ না করলেই নয়। কেনজো মাসাওকা আর মিৎসুয়ো সেও।
মাসাওকা ১৯৩৩ সালে তৈরী করেন Chikarato Onna no Yo no Nako, সর্বপ্রথম সবাক অ্যানিমে! এর পরের বছরই বের হয় সম্পূর্ণ সেল অ্যানিমেশনে তৈরী প্রথম অ্যানিমে Dance of the Chigamas.
আর ১৯৪১ সালে মিৎসুয়ো মাল্টিপ্লেন ক্যামেরা ব্যাবহার করে বানান Ari-chan.

তবে ব্যাতিক্রম অবশ্যই উদাহরণ নয়। আর্থিক সমর্থনের অভাবে এধরনের মান বজায় রাখা সম্ভব ছিলো না। আর সে কারণেই হলে বের হওয়া দেশীয় অ্যানিমেটেড সিনেমার সংখ্যা অনেকটা কমে গেলো। বরঞ্চ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন, রাজনৈতিক আর শিক্ষা-জনসচেতনতামূলক প্রচারণা ভিডিওর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল অ্যানিমে। এক্ষেত্রে জাপানের শিক্ষা বিভাগ একটা উল্লেখযোগ্য ভুমিকা পালন করেছিল।

দুই দশকের ক্রান্তিকাল শেষে ততদিনে অবশ্য আবার বদলের মুখোমুখি এসে পড়েছিলো অ্যানিমে।
শুধু অ্যানিমে না, পুরো পৃথিবীতেই বিরাট এক পালা বদল ঘটবে।
আর তা শুরু হবে চারের দশকের সূচনাতেই।
আর তাতে অবদান রাখবে ― দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ! 

/দুঃখিত অনেক খুঁজেও এই তিনটার কোন ভিডিও লিঙ্ক খুঁজে পেলাম না, কয়েকটা স্ক্রিনশট বাদে – ছবিটি Chikarato Onna no Yo no Nako-এর/

 

1901900_721282971236856_868206932_n

অ্যানিমের ইতিহাস প্রথম পর্ব – ফাহিম বিন সেলিম

পশ্চিমের অ্যানিমেশন যখন বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকেই যাত্রা শুরু করেছে, তখন জাপানও খুব একটা পিছিয়ে ছিলো না। Katshudou Shashin[Moving Picture] (১৯০৭) কে ধরা হয় প্রথম অ্যানিমে ফিল্ম, সম্ভবত ব্যাক্তিগত অথবা পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের লক্ষ্যে যা তৈরী হয়েছিল। কার তৈরী, তা অবশ্য অজানা। মাত্র ৩ সেকেন্ডের।

রাজনৈতিক ক্যারিকেচারিস্ট/কার্টুনিস্ট ওতেন শিমোকাওয়া, জাপানিজ অ্যানিমেশনের অন্যতম অগ্রদূত, একের দশকে ৫ টি অ্যানিমেটেড ফিল্ম তৈরী করেন তেনকাৎসু কোম্পানীর প্রযোজনায়। এর মধ্যে ছিলো Imokawa Mukuzo Genkanban no Maki (১৯১৭), প্রথম বাণিজ্যিকভাবে তৈরী অ্যানিমে, ২০০৫ সালে Katshudou Shahsin আবিষ্কারের পূর্বে যেটাকে ধরা হত সর্বপ্রথম অ্যানিমে।

একের দশকের আরো দুই পথিকৃৎ জুনিচি কৌইচি এবং সেন্তারো কিতায়ামা।

কার্টুনিস্ট এবং জলরঙ্গে দক্ষ আঁকিয়ে কৌইচি ১৯১৬ সালে কোবায়াশি শোকাই-এ যোগ দিয়ে একে একে তৈরী করেন প্রায় ১৫ টি মুভি। তাকে বলা যায় এই সময়ের সবচেয়ে কুশলী অ্যানিমেটর।

শিমোকাওয়া বা কৌইচির মত কিতায়ামা অবশ্য কোন বাণিজ্যিক স্টুডিওর হয়ে কাজ করতো না। বরং নিজের ব্যাক্তিগত স্টুডিওতেই চকবোর্ড পেইন্টিং আর পেপার পেইন্টিঙ্গের কলাকৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি বেশ কিছু অ্যানিমে তৈরী করেন। 

কৌইচির Namakura Gatana(১৯১৭)-র সাথে তার Urashima Tarou(১৯১৮) ২০০৭ সালে আবিষ্কৃত হয় এক অ্যান্টিক মার্কেটে।

প্রথম দিককার মাত্র কয়েক মিনিটের নির্বাক এসব অ্যানিমে দিয়ে জাপান যখন অ্যানিমেশন জগতে যাত্রা শুরু করেছে, সীমিত সামর্থের মধ্যে শত বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে এগিয়ে চলেছে – দুইয়ের দশকে পা রাখতেই তখন বাণিজ্যিকভাবে তাদের সামনে এসে পরলো আরেক বিশাল বাঁধা। আন্তর্জাতিক এক মহা প্রতিদ্বন্দ্বী।

ডিজনি!

Katshudou Shashin – THE First Ever Anime: 

www.youtube.com/watch?v=i1bUwGkdBrU&desktop_uri=%2Fwatch%3Fv%3Di1bUwGkdBrU

Mawaru Penguindrum review by Fahim Bin Selim

অ্যানিমে রিভিউঃ মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম(২০১১)
পর্বঃ ২৪
প্রযোজকঃ ব্রেইন্স বেস, সেনতাই ফ্রেমওয়ার্কস
জনরাঃ কমেডি, রহস্য, সাইকোলজিকাল, ড্রামা
লেখক ও পরিচালকঃ কুনিহিকো ইকুহারা
ব্যপ্তিঃ ২৪ মিনিট/পর্ব
সেন্সরঃ আর ১৭+ ভায়োলেন্স ও প্রোফ্যানিটি

২০১১-র কথা বললে আপনার কোন অ্যানিমেটার কথা মনে পড়বে? স্টাইন্স;গেট? আনো হানা? মাদোকা ম্যজিকা? অনেকে হয়ত মিরাই নিকির কথাও বলবেন। মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম এর কথা কি কারো মাথায় আসবে? অনেকে হয়ত নামটাই আজ প্রথম শুনলেন।

পরিণতি(ফেইট) বলে কী আসলেই কিছু আছে? আপনি জীবনের যাই করেন, শুধু আপনিই নন;আপনার আসেপাশে যা ঘটছে, জগতের সকল সকল ঘটনা, সকল বাছাই(চয়েস) আর তার কার্যকারণের(কনসিকুয়েন্স) সকল সরলরেখাই কি একটি নির্দিষ্ট বিন্দুগামী?
নাকি নিয়তি(ডেসটিনি) বিকৃত করা যায়, বদলানো যায়? চক্রাকারে ফিরে আসা যায় অথবা পালটে দেওয়া যায় গন্তব্য বিন্দুটাই?

শৌমা আর কানবা তাকাকুরা শুধু চেয়েছিল তাদের বোন হিমারির সুস্থতা, যার মৃত্যু কিনা সময়ের ব্যাপারমাত্র। অপেক্ষার দিন গোনা কোন বিকেলে তিন ভাইবোন অ্যাক্যুরিয়ামে ঘুরতে গেলে, এবং বিভিন্ন ঘটনাচক্রে সেখানেই যখন অবশেষে অনিবার্যের মুখোমুখি হতে হল, তখন হিমারির সদ্য কেনা পেঙ্গুইনের হ্যাটটা যেন ত্রানকর্তারুপে হাজির হল। কোন জাদুবলে তাকে মৃত্যু থেকে ফিরিয়ে আনল সেটা। তবে তা কেবলই সাময়িকের জন্য। এবং অবশ্যই শর্তসাপেক্ষে।
শৌমা আর কানবা জানতে পারল যে হিমারিকে বাচিয়ে রাখতে হলে তাদের খুঁজে বের করতে হবে রহস্যময় “পেঙ্গুইনড্রাম”। কিন্তু তারা যা জানে না তা হল – জাপানের পাতালপথে আক্ষরিক ট্রেন যাত্রার পাশাপাশি, তাদের জীবনেরও এক স্টেশন থেকে আরেক স্টেশনের এই যাত্রায় তারা মুখোমুখি হবে একটি রহস্যময় ডাইরীর, একেক পর এক অদ্ভুত সব চরিত্র, যাদের প্রত্যেকেরই আছে ভিন্ন ভিন্ন জীবন অভিপ্রায় আর ঘটনাবহুল অতীত। আর তারা এটাও জানে না যে, এসব কিছুর সাথে তাদের অতীতটাও বেশ ভালোভাবে দলা পাকানো।

পেঙ্গুইনড্রাম হল নিয়তি, পরিণতি আর ভালোবাসার গল্প। একটি রহস্য গল্প যার রহস্য একেবারে শেষ পর্ব পর্যন্ত আবৃত থাকবে, এবং শেষ হওয়ার পরও কিছু রহস্য আপনার জন্য বাকি রেখে যাবে। পরিচালনার চাতুর্যতাপুর্ণ, শৌল্পিক এবং কুনিহিকো ইকুহারার পুর্ববর্তী অন্যান্য কাজগুলোর(রেভুল্যুশনারী গার্ল উতেনা, সেইলর মুন এস) মতই ― অতিমাত্রায় প্রতীকি(সিম্বোলিক)। মাঝে মাঝেই আপনি হারিয়ে যাবেন বাস্তব আর কল্পনার মাঝে, বুঝতে পারবেন না আপনার চোখের সামনে দিয়ে ঘটে যাওয়া দৃশ্যগুলো কি সত্যিই চরিত্রগুলোর সাথে ঘটছে নাকি তা কেবলই মেটাফোরিকাল।
প্রতিটি দৃশ্যেই(এমনকি ওপেনিং এবং এন্ডিং গান চলার সময়গুলোতেও) লুকিয়ে থাকা ― তার ফোকাসিং, মুভমেন্ট অথবা ব্যাকগ্রাউন্ডের ― হাজারো সাংকেতিক অভিব্যক্তি, ট্রেন যাত্রাগুলো, এমনকি পর্ব বা চরিত্রগুলোর নামও কোন না কোনভাবে মুল আখ্যানের সাথে সম্পর্কযুক্ত কোন অর্থবহন করে। আর এর মুল কাহিনীর কনসেপ্ট, ফেট-ডেসটিনি-স্যাক্রিফাইস আবার দুটি গল্প ― কেনজি মিয়াজাওয়ার “নাইট অন দ্য গ্যালাকটিক রেইলরোড” আর হারুকি মুরাকামির “সুপার-ফ্রগ সেভস টোকিও” দ্বারা অনুপ্রানিত।
এর চমৎকার, দুর্বোধ্য কিন্তু একই সাথে তুলনামুলক “বাস্তবিক”(একই গোত্রীয় ইভাঞ্জেলিয়ওন, এরগো প্রক্সি অথবা সিরিয়াল এক্সপেরিমেন্ট লেইনের তুলনায়) প্লট, অসাধারণ সব চরিত্র, ওপি-ইডি-বিজিএম আর নিখুঁত(অন্তত আমার কাছে) একটা সমাপ্তির পর ― কাহিনী যদিও আপনার মাথার উপর দিয়ে যায় ― রহস্য আর জটিল প্যাচে মোড়ানো কাহিনীর ভক্তদের তবুও ভালো লাগার অনুভুতিটা পাবার কথা।ইভাঞ্জেলিয়ন, প্রক্সি যেখানে ২০ পর্বের আপাত সাজানো গল্প, শেষের দুইতিনটা পর্বে তাসের ঘরের মত দুমড়ে ফেলে, কচি কচি করে কেটে, তা তুলে পুরিয়ে, মাটি চাপা দিয়ে আসে; সেখানে পেঙ্গুইনড্রামের নবম পর্ব থেকেই এই “অত্যাচার” শুরু হয়। অনেকে হয়ত সেখানেই থেমে যাবেন।
আবার পুরোটা শেষ করার পরও মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রাম চরম বৈপরিত্যপুর্ণ অ্যানিমে। কারো দেখার শেষে অনেক ভালো লেগে যাবে(আমার মত), আবার কারো কাছে মনে হবে সময়ের-সম্পুর্ণ-অপচয়।
আর এ সবকিছু নিয়েই তৈরী মাওয়ারু পেঙ্গুইনড্রামকে মাস্টারপিস বললে বেশি বলা হবে না। হয়ত কিছুটা আন্ডাররেটেড, এবং অনেক অনেক আন্ডারএপ্রিশিয়েটেড। তবে অবশ্যই সবার প্লেটের খাবার নয়।যদি আকর্ষনীয়, ভিন্নধাচের আর মাথাঘুরিয়ে দেওয়া কোন অ্যানিমে দেখতে চান, তাহলে এখনই টিকেট কেটে চড়ে বসুন নিয়তির এই উথাল পাতাল যাত্রায়।

মাইঅ্যানিমেলিস্ট রেটিং: ৮.১৯(#২৮৫)
আমার রেটিং: ৯.৪৭