The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-3); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-3
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হিডেন লিফ ভিলেইজ এর প্রবেশমুখের সদর দরজায় দাঁড়িয়ে আছে টোবিরামা সেঞ্জু। এই অসময়ে হোকাগের সহোদরের আগমনের কারন সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারনা না থাকায় উশখুশ করতে থাকে ২ প্রহরি। তবে এটুকু আন্দাজ করে নিতেই পারছে গ্রামে নিশ্চয়ই কোন মান্যবর ব্যক্তি আসবে- যাকে অভিবাদন জানাতেই হয়ত টোবিরামার ছুটে আসা।
টোবিরামা স্বভাবসুলভ গম্ভীরতায় একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বহুদূর গাছে ঘেরা মেটো পথ টার দিকে। গাছের ঝাঁর দু’পাশ দিয়ে রাস্তাটাকে বুকে আগলে রেখেছে যেন। সন্ধ্যা পরতে শুরু করেছে। ঝিঁঝিঁর ডাকের সাথে সাথে দমকা বাতাসের এক একটা ঝাপটা গাছগুলোর ভেতর দিয়ে খেলা করে যেতে থাকে যেন। সাথে উড়িয়ে আনছে কাঁচা-সবুজ পাতা আর হালকা কিন্তু অদ্ভুত একটা গন্ধ। দমকা বাতাসের ঝাঁপটা খুব যে উপভোগ করছে টোবিরামা তেমন কিন্তু না। মাথায় রাজ্যের চিন্তার জাল শাখা-প্রশাখা মেলেছে। দুশ্চিন্তার লাগাম টেনে ধরতে চাইছে বারবার।
বুকে হাত বেঁধে ডান হাতের তর্জনী নাচাতে নাচাতেই খেয়াল করল পরিচিত দু’জন মানুষের চাকরা। শিমুরা আর সারুটোবি হেটে যাচ্ছে উত্তর দিকটায়। কি নিয়ে যেন তর্ক জুড়ে দিয়েছে শিমুরা, সারুটোবির সাথে। হটাত ওর দিকে চোখ পরতেই মিইয়ে গেল দুজনে। দ্রুত বাজারের দিকটায় পা চালিয়ে মিশে গেল ভিরের মাঝে।
আবার বাইরের দিকে মন দিল আগন্তকের উদ্দেশ্যে। হান্টার এসোসিয়েশনের প্রধান, আইজ্যাক নেতেরো ধির পায়ে খড়মের শব্দে ছন্দ মিলিয়ে হেটে আসছে যেন। তার পাশেই তার অদ্ভুতদর্শন সচিব। কিন্তু আর কাউকে না দেখে কিছুটা অবাকই হল টোবিরামা। তবে আরো অবাক হল পেছন দিকে তার ভাই হাশিরামার উপস্থিতি টের পেয়ে। নেতেরোকে স্বাগতম জানাতে সে নিজেই এসে পরেছে। প্রহরীরাওকম অবাক হয় নি। প্রথমে হোকাগের ভাই আর এরপর স্বয়ং হোকাগে- অবাক হওাটা স্বাভাবিক বৈকি।
প্রাথমিক কুশল বিনিময় শেষেই নেতেরোকে নিয়ে গ্রাম দেখতে বের হয় হাশিরামা। বিশ্রামের কথা বলতেই হেসে উড়িয়ে দেয় নেতেরো। । বাজারের দিকে এসেই একটা খাবারের দোকানে গিয়ে ঢুকে দু’জন। ওঁরা যে গ্রাম দেখতে বের হয়েছে কথাটা গ্রামে ভালই ছড়িয়ে গেছে গ্রামে। আর তাছাড়া ডার্ক কন্টিনেন্টের কথা না জানলেও হান্টাররা শিনোবি ওয়ার্ল্ডে এটাক করতে পারে, এমন একটা কথা চেপে রাখা যায় নি- কাজেই সবাই কিছুটা ভয় আর চাপা গুঞ্জন তুলেছে আজকের নেতেরোর এই সফর নিয়ে। খাবার এর দোকানে বসেও তার আঁচ অনুভব করতে পারছে হাশিরামা।
খাবার শেষ করে গ্রামের আধেকটা চক্কর দিয়ে এসে ওকে নিয়ে গ্যাম্বলিং এর আসরে বসে হাশিরামা। আর সবার মত টোবিরামা আর মাদারা কেউই ঠিক বুঝে উঠতে পারে না। আজকের এই সফরের বিষয়বস্তুর জন্যই কেউই হালকা কোন খোশ মেজাজি গল্প আর আমোদের কথা আশা করবে না। টোবিরামা দূর থেকে ওদের ফলো করতে করতে উশখুশ করলেও কিছু বলে না। ওদিকে গ্যাম্বলিং শেষ করে নদীর ধারে টায় কিছুটা সময় কাটিয়েই নেতেরো কে নিজের বাসায় নিয়ে চলে আসে হাশিরামা।
হালকা পানীয় নিয়ে দুজনেই যখন বারান্দায় দাঁড়িয়ে আলাপ চালাতে থাকে- টোবিরামা ঠিকি করে এবারে সে গিয়ে নিজেই কাজের কথা পারবে। ইচ্ছে করলেই সরাসরি বারান্দায় চলে যেতে পারে সে ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করে। কিন্তু অতিথির প্রতি অভদ্রতা দেখানো হতে পারে ভেবে, পায়ে হেটেই বড়ো ভায়ের কামড়ার দিকে এগোয় সে। দরোজার হাতলে হাত রেখেই বুঝলো লক করা নয়, কেবল ভেজানো রয়েছে। খুলতে গেলেই- কিছু কথা কানে আসে তার-
“তোমার বাসা থেকে গ্রামের এই ভিউটা সবথেকে সুন্দর”, বলতে থাকে নেতেরো।
হাশিরামা জবাব দেয়, “সুন্দর আর রাখতে পারলাম কই, বলো? ” জুয়োর টেবিলে টাকাগুলো হেরে হাশিরামার চোখে একটু ক্লান্তি ভর করেছে বলে মনে হতে থাকে নেতেরোর। বাতাসে ওর চুলগুলো উড়িয়ে নিয়ে যেতে থাকে। কিন্তু তার মাঝেও নেতেরো স্পস্ট দেখতে পায় হাশিরামার চোখের তাঁরা যেন ঝিক করে ওঠে সেকেন্ডের সিকিভাগ সময়ের জন্যে।
নেতেরো মুখে হাসিটুক ধরে রেখে বলে, “ডোন্ট য়োরি, আম স্টিল এলাইভ!”
কথাবার্তা এটুকুন শুনেই উল্টো ঘুরে দাঁড়ায়।। করিডোর দিয়ে ফিরে যাবার সময় মাদারার সাথে চোখাচোখি হল ওর। দেয়ালের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সে। ওর মত মাদারাও শুনতে পেয়েছে কথাগুলো।

 

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-2); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-2
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

হান্টার এ্যাসোসিয়েশনের বোর্ড মিটিং চলছে। চেয়ারম্যান আইজ্যাক নেতেরো ছাড়া বাকি উপস্থিত ১২ জন হল জোডিয়াক। বিশেষ বিশেষ প্রয়োজনে জরুরী কোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে তখন এমন বোর্ড মিটিং এর ডাক দেয় নেতেরো। আজ তেমন একটি বিশেষ প্রয়োজন। প্রয়োজন জরুরী এক সিদ্ধান্ত নেবার। হুম, ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করার ব্যপারে সিদ্ধান্ত।
বোর্ড মিটিং এর শুরু থেকেই বেশিরভাগ সময়ই Dog, Pig আর Monkey (জোডিয়াক) তর্ক করে চলেছে। Dog আর Pig এর বক্তব্য মোটামোটি এমন যে- যেহেতু ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করার জন্য না গেলে সরকার হান্টার এ্যাসোসিয়েশন বিলুপ্তির প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়েছ, কাজেই এছাড়া তাদের হাতে খুব একটা উপায়ও যে আছে এমন কিন্তু না। তার থেকে ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করে সরকার কেও সন্তুষ্ট করা সম্ভব আবার তা থেকে কিছুটা বেনিফিট হান্টার এসোসিয়েশনও পাচ্ছে।
কিন্তু, Monkey বাধা দিয়ে বলে ওঠে, .”নিনজা ভিলেজগুলো কে এটাক করা মানে শুধু শুধু প্রাণহানি”
Pig অধৈর্যসুরে বলে, “আহা, ওদেরকে আক্রমণ করতে হবে কেন? ওদের কে একটা প্রপোজাল দিতে যাচ্ছি আমরা শুনলেই তো”
-“কিন্তু নিনজা ভিলেইজ গুলো তা হতে দেবে কেন? ওয়েস্টারন এন…. ”
–“যদি ওরা কিছুতেই আপোষে না আসে,ওয়েল….” কথা শেষ না করে কাধ ঝাঁকায় Dog. Pig ওর অসমাপ্ত কথাটা শেষ করলো যেন, “আসলে, কথা হচ্ছে গিয়ে- আমাদের হাত বাঁধা, কাজেই অন্য কোন উপায়ও খোলা নেই আমাদের কাছে।”
বাকিদের দিকে তাকাতেই দেখলো সবাই সম্মতি জানাচ্ছে, আসলেই আর কোন উপায় নেই ওদের সামনে খোলা। মাথা ঘুরিয়ে টেবিলের একেবারে শেষের আর মাঝখানের চেয়ারে বসে থাকা নেতেরোর দিকে তাকায় সবাই, কিছু শুনবার আশায়। মিটিং এর শুরু থেকে একটা কথাও বলে নি, চেয়ারম্যান।
কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর, নিস্তব্ধতা ভাংলো Rabbit, “তুমি যেহেতু তোমার ডিসিশান আগেই নিয়ে রেখেছো, সেক্ষেত্রে শুধু শুধু এই বোর্ড মিটিঙ এর কি কোন প্রয়োজন ছিল?”
উত্তরে নেতেরো এবারেও নিশ্চুপ। স্মিত একটা হাসি স্বভাবসুলভ ভাবে এটে রয়েছে তার মুখে। মিটিং শুরু হবার আগেই, হাশিরামার কাছে চিঠিটা পাঠিয়ে দিয়ে এসেছে সে। কি বলবে সে?

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero (Part-1); Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction — Rahat Rubayet

The Battle between 2 Bodhisattva‬: Hashirama vs Netero Part-1
[Naruto & Hunter x Hunter Crossover Fanfiction]

লেকের শান্ত পানিতে নীল আর সাদা আকাশের প্রতিবিম্ব ভাসছে। ছোট ছোট ঢেউ একটা আরেকটার গায়ে ভাংতেই তাতে আকাশের প্রতিচ্ছবি কাঁপতে থাকে। থেকে থেকে টুপ করে শব্দ হচ্ছে একটু পর পর এখানে সেখানে। লেকের পাশেই একসারি ওক গাছের সবুজ পাতা ডালপালা মেলে বাতাসের তালে নাচছে যেন। মাথার ওপর পরিষ্কার আকাশ থাকলেও মেঘের সাদা ছোটোখাটো স্তুপ এখানে সেখানে ছুটে যেতে থাকে ধীরে। অদ্ভুত সুন্দর একটা পরিবেশ, সবকিছুই যেন কেমন গোছানো আর পরিপাটি করে রাখা।
লেকের ধারে পাটাতনে পা মেলে বসে আছে হাশিরমা সেঞ্জু। একটু ব্যবধানেই ছালতোলা এক গাছের গায়ে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ওর প্রানপ্রিয় বন্ধু মাদারা উচিহা। কেউ কিছু বলছে না-চুপ করে আছে বহুক্ষণ। পাটাতনে মর্মর শব্দ হতেই পিছনে ফিরে ছোট ভাই টোবিরামাকে দেখতে পায় হাশিরামা। কিছু না বললেও বড় ভাই-হাশিরামার দিকে তাকিয়ে একটু মাথা ঝাঁকাল সে। উঠে দাঁড়িয়ে মাদারার দিকে একবার তাকাল কি মনে করে। তারপর ধির পায়ে নিজের অফিসকক্ষের দিকে ফিরতে উদ্যত হয়। সেখানেই বাকি ৪ গ্রামের কাগেরা উপস্থিত হয়েছেন।
হাশিরামা ভেতরে ঢুকে নিজের হ্যাটটা খুলে টেবিলে রাখল। তারপর চেয়ারে বসে বাকি ৪ কাগের দিকে তাকায় শান্ত চোখে। সবার চোখেই কিছুটা উৎকণ্ঠা দেখতে পেল। কাঁধের পাশেই টোবিরামা দাড়িয়ে।
প্রথমেই সুচিকাগে কথা বলে ওঠে,”আমাদের আজকের এই মিটিংএর বিষয়ের সাথে যেহেতু পুরো নিনজা ওয়ার্ল্ডের স্বার্থ জড়িত, আমার মনে হয় না এ বিষয়ে আমাদের কোন বিভেদ থাকতে পারে।”
হাশিরামার মুখের স্বভাবসুলভ হাসি মুছে গিয়ে অস্বাভাবিক গম্ভিরতা ভর করেছে। কি বলতে গিয়েও বলল না, মিজুকাগে কথা বলতে শুরু করায়। “আমরা মূল প্রসংগে যাই। আমি আমার গুপ্তচরের কাছে খবর পেয়েছি হান্টার এ্যাসোসিয়েশন ডার্ক কন্টিনেন্ট এক্সপ্লোর করতে চায়। আর আমার মনে হয় আমরা সবাই জানি তার অর্থ কি।”
এবারে কাজেকাগে কথার যোগান দেয় তার সাথে “তার অর্থ ডার্ক কন্টিনেন্টের ওয়েস্টার্ন সাইড ওপেন করলে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে নিনজা ওয়ার্ল্ড তথা আমাদের গ্রাম গুলোর ওপর”, এর আগে ডার্ক কন্টিনেন্টের ইস্টার্ন সাইড দিয়ে এক্সপ্লোর করতে চাইলে যে নারকীয় তাণ্ডবলীলার সূচনা হয় তার দিকেই ইঙ্গিত করল বুঝি।
এবারে হাশিরামা কথা বলতে শুরু করে,”আমার মনে হয় না নেতেরো থাকাবস্থায় ‘তেমন কিছু’ হবে নিনজা ওয়ার্ল্ডে নেতেরোকে আমি চিনি ও……।”
থামিয়ে দিয়ে রাইকাগে বলতে থাকে, “তখনো কিন্তু নেতেরো হান্টার এ্যাসোসিয়েশনেই ছিল।”
“‘তেমন কিছু’ যদি হয় তবে বিষয়টা আমি হ্যান্ডেল করবো”,কথা শেষ করতে পারে না হাশিরামা- তার আগেই টোবিরামা হাতে এক কাগজ নিয়ে আসে ওর কাছে। চিঠি পাঠিয়েছে নেতেরো। হান্টার এ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে একটা প্রপোজাল পাঠিয়ে চিঠি। শিনোবি ভিলেজ গুলো যদি তাদের পাশের ডার্ক কন্টিনেন্টের ওয়েস্টার্ন সাইড ওপেন করতে বাধা না দেয়, সেক্ষেত্রে তাদেরকে প্রযুক্তিগত ভাবে ‘ব্যাপক উন্নতি’র ব্যবস্থা করবে হান্টার এ্যাসোসিয়েশন।
তাছাড়াও ছোট্ট আরেকটা চিরকুটে নেতেরো তার হিডেন লিফ সফরের আগ্রহের কথা জানিয়েছে।

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 4] — Rahat Rubayet

———— Naruto Fan Fiction- part:4 (last part)—————————-
———————————————————-
লর্ড জিরাইয়া আর নারুটোর সাথে পেইনের ব্যাটেলের কথা মনে পড়ল শিসুইয়ের। ও শুনেছে পেইনের লিডার নাগাটো মারা যাবার সময় নারুটোকে তার রিনেঙ্গান দিয়ে যায়, যা এতদিন পর অর্থাৎ আজ এওয়োক করে ও। কাঁধ থেকে ইটাচিকে নামিয়ে রেখে বলল,”তুমি বিশ্রাম নাও, ইটাচি “। ইটাচিকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই বডি ফ্লিকার এ নারুটর পাশে চলে যায় ও। কাধে হাত রাখে।
ওদিকে তখনও স্বাভাবিক হতে পারে নি নারুটো। শরীরের কাঁপুনিটা থেমেছে কেবল। ফিরে তাকালো একবার শিসুইয়ের দিকে। ভয়ানক চমকে ওঠে শিসুই। এ দৃষ্টি আগেও দেখেছে ও। হিংস্র বাঘ আঘাত হানার আগে এ দৃষ্টিতে তাকায়। ও বলতে গেল, “আমাদের একটা প্ল্যান ধরে এগোন উচিৎ”, কিন্তু বলতে পারলো না শিসুই।
তার আগেই নারুটো তার হাত উঁচু করলো। গমগম করে উঠলো ওর কণ্ঠস্বর ,”চিবাকু টেন্সে(প্লানেটারি ডিভাস্টেশন)”। চোখের সামনে থেকে ধীরে ধীরে সব উপরদিকে উঠে যাচ্ছে। ওদিকে সাস্কে ভীষণ চমকে গেছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই গ্রাভিটি ফিল হারাতে শুরু করেছে। ওপর দিকে প্রচন্ড আকর্ষণ অনুভব করতে থাকে ও। তাকিয়ে দেখল, ওপরে একটা ছোট গোলোকের মতো, নিচে থেকে সবকিছু উঠে গিয়ে তাতে জোড়া লাগছে। এমন কি পাথুরে মাটি ফেটে বিশাল বড় বড় টুকরো হয়ে জোড়া লাগছে তাতে। ছাড়া পেতে সুসানোর পাখা নিয়ে নানা কসরত করতে লাগলো ও।
কিন্তু কিছুতেই ছাড়া পায় না ভয়ঙ্কর ওই সিলিং জ্যুতসু থেকে। ধীরে ধীরে নাইনটেইল আর সুসানো সমেত চিবাকু টেন্সের ভেতর সেধিয়ে যায় সবচাইতে শক্তিশালী উচিহা ওই সাস্কে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও মাথা ঠান্ডা রাখে ও। শারিঙ্গান দিয়ে চারপাশটা ভাল করে তাকিয়ে দেখে আর তীক্ষ্ণ বুদ্ধি দিয়ে তা জাজ করতে থাকে। ও খুব ভাল করেই জানে, নারুটো আর শিসুইকে এখনো মেরে ফেলা কোন ব্যাপারই না ওর জন্যে। স্রেফ এলিমেন্ট অফ সারপ্রাইজে ওকে আটকে দিয়েছে নারুটো। এর পরে আর তা হবে না। কিন্তু তার আগে তো এর থেকে বেরুনো চাই,…
হটাতই কোর অংশটার দিকে নজর গেল ওর। ওটাই তাহলে এই জ্যুতসুর উইক পয়েন্ট। ওটাকে যদি ভাঙ্গা যায়,…… আরে তাই তো। এখান থেকে বেরুতে হলে ওই কোর অংশটাই ভাংতে হবে। তাছাড়া কোন উপায় নেই। কিন্তু, কিভাবে? এখান থেকে তো নড়তেই পারছে না সাস্কে।একটাই উপায় আছে। হুম, ওটা ভাঙার জন্যে একটা জ্যুতসু কাস্ট করবে মনে মনে ঠিক করলো। কিন্তু তার জন্যে চাই ন্যূনতম প্রিপারেশান। অন্তত মিনিট খানেক সময় ওর লাগবে, ওই অস্বাভাবিক শক্তিধর জ্যুতসু কাস্ট করতে গেলে।
এর মাঝে নারুটো আর শিসুই দেখল, আকাশ হটাত করেই ভয়ঙ্কর কালো হয়ে গেল। কালো মেঘে ছেয়ে গেছে পরিষ্কার আকাশ। কি হচ্ছে বুঝতে পারার আগেই আলোর ঝলকানি দেখল ওরা ওপরে। ১ সেকেন্ড পরেই বজ্রপাতের শব্দ। পরমুহূর্তেই প্লানেটারি ডিভাস্টেশনের কোর অংশে আঘাত করে ছিন্নভিন্ন করে দিয়েছে, সাস্কের কিরিন নামক মারণাস্ত্র। সিলিং জ্যুতসু ভেঙে যেতেই সাস্কে বেড়িয়ে এল। তার সুসানো নেই এই মুহূর্তে। ওকে ধাতস্থ হবার সুযোগ দেয়া যাবে না, ভাবে নারুটো। শিসুইও একই কথা ভাবছে মনে মনে।
দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালো শিসুই। ও জানে এখোনো ওদেরকে আন্ডার-এস্টিমেট করছে সাস্কে। তাই শিসুই সুসানো বের না করলে সাস্কেও করবে না। কাজেই ওকে সুসানো বের করতে দিবে না,শিসুই তার আগেই একটা ওপেনিং বের করে দিতে হবে নারুটো কে। মূল আঘাতটা নারুটোই হানবে। বাতাসে ভেসে ডজন খানেক কুনাই ছুড়ল সাস্কের চারিপাশে শিসুই।
ওটা একটা ফাঁদ। দেখা যাক ফাঁদে পা দেয় কিনা সাস্কে। আর ওদিকে শিসুইকে কুনাই ছুরতে দেখেই সাস্কে ভাবল, নারুটো আর হোকাগের মতোই শিসুইও নিজেকে টেলিপোরট করবে কুনাই তে। ওখানেই ভুলটা করল ও। শিসুই টেলিপোরটার না, স্পেশালিস্ট বডিফ্লিকার। ওর বডি ফ্লিকার এতই দ্রুত যে টেলিপোরট বলে ভুল হয়। সাস্কে আধ-সেকেন্ডের জন্যে দ্বিধায় ভুগলো। কোন কুনাইতে নিজেকে টেলিপোরট করবে শিসুই?
ঠিক ওটুকুন সময়ই দরকার ছিল শিসুই এর। ও বডি ফ্লিকার দিয়ে সাস্কের ঠিক সামনে হাজির হল, সরাসরি বুকে বসিয়ে দিতে চাইলো ধারালো সোরড। এতো কাছ থেকে এত দ্রুত সরে যেতে পারবে না। নিজেই বুঝতে পারলো সাস্কে। তাই সে চেষ্টা না করে অদ্ভুতভাবে শরীরটা বাঁকাল, পরে যেতে দিল নিজেকে। ওর বুকে সোওরড ঢুকানো নয়, ওকে অফ গার্ড আর অফ ব্যালেন্সড করাই উদ্দেশ্য ছিল, শিসুই এর। বাকি কাজ টা নারুটো করবে, জানে ও।
কিন্তু অবাক হয়ে গেলো শিসুই, শক্তিশালী কোন জ্যুতসু কাস্ট হতে না দেখে। দেখল, সাস্কে কে পেছন থেকে পেঁচিয়ে ধরেছে নারুটো। স্রেফ শক্ত করে পেচিয়ে ধরে রেখেছে ও। কোন নিঞ্জ্যুতসু ইয়ুজ করতে দেখল না, শিসুই।
এদিকে ওর কান্ড দেখে সাস্কে হো হো করে হেসে ওঠে। বলে, ” কি হে নারুতো, তোমার নিনজ্যুতসুর ভান্ডার খালি নাকি হে? শেষতক এভাবে আমাকে কাবু করবে ভাবছ?” নারুটো কোন উত্তর দেয় না। আরো কিছু বলতে শুরু করতে গিয়েই থেমে যায় সাস্কে। দুর্বল বোধ করতে শুরু করেছে, ব্যাপার কি-কিছুই বুঝতে পারে না ও। নারুটোর হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে হাসফাস করতে থাকে।
হটাত কুরামার গলা শুনতে পায়, গর্ধব বলে গালমন্দ করছে ওকে। রিনেঙ্গান এর আরেকটা পাওয়ার হচ্ছে, চাকরা এব্জরভিং। এখন তাই করছে নারুটো। নাইন টেইলের ইয়েন চাকরা শুষে নিচ্ছে দ্রুত। অনেক কষ্টে পাগলের মতন হাত-পা ছোড়া থেকে নিজেকে বিরত রাখলো ও। তবে দ্রুতই মাথা খাটাল। কি করে মুক্তি মিলবে এর থেকে। সহজ সমাধানটা এতো দেরি করে মাথায় এল দেখে শাপ শাপান্ত করতে থাকলো নিজেকে। কিন্তু সময় নষ্ট করলো না মোটেই। নারুটোকে খুন করার এর চাইতে আর মোক্ষম সুযোগ হয় না। লাইটেনিং চাকরা রিলিজ করলো ও। হাতে আনলো চিদোরি সোওরড। ওই অবস্থায়ই পেছন দিয়ে নারুটোর বুকে গেথে দিল ।
নারুটোর বুকের বাম দিক থেকে ঢুকলো। পাজরের হার ২ টো সাথে সাথেই ভাংলো। নারুটো বুঝতে পারলো আর দেড় ইঞ্চি ভেতরে ঢুকলেই ওর হার্টের নাগাল পেয়ে যাবে সাস্কে। কিন্তু সবে মাত্র ইয়েন চাকরা শুষে নিল ও। এখনো ইয়াং চাকরাটা বাকিই রয়ে গেছে। কিন্তু, এ অবস্থায় তা নিতে পারবে বলেও মনে হচ্ছে না। কাজেই, তৎক্ষণাৎ সিদ্ধান্ত নিতে হল ওকে। হালকা স্বরে শুধু বলল “শিনরা টেন্সে”
সাস্কে ছিটকে ২০/২৫ হাত দূরে গিয়ে পড়ল। সাথে সাথেই উঠে দাঁড়াল। মাথাটা বোঁ বোঁ করে উঠলো যদিও, তবু, সুসানো এরাইজ করলো। আর ভুল করবে না ও।
ওদিকে নারুটো ঊঠে দারাবার শক্তিটুকুন পাচ্ছে না। বুক থেকে ক্রমাগত রক্ত ঝরে যাচ্ছে। নিচের স্বচ্ছ পানি লাল হয়ে গেছে ওর রক্তে। ওর ক্ষতটা বাধা দরকার। প্রচুর রক্ত ঝরছে ও থেকে। তাছাড়া, সাস্কের নাইন টেইলের অরধেকটা চাকরা নিয়ে নিলেও এখনো ভয়ানক শক্তিশালী ও।
এদিকে শিসুই একা হাতে সাস্কের সাথে ফাইট করে যাচ্ছে। প্রচন্ড শক্তিধর আক্রমণগুলো একের পর এক নিখাদ রিফ্লেক্স আর চাতুরতার সাথে ফাকি দিয়ে যাচ্ছে ও। সুসানো সহই দ্রুত বডি ফ্লিকার দিয়ে ভ্যানিশ হয়ে যাচ্ছে মুহূর্তের নোটিসে। এর মাঝেই নারুটোর সাথে একবার কথা হয়েছে ওর। নারুটো শুধু বলল, “তুমি শুধু একটা ওপেনিং বের করে দাও”
-“তুমি এই শরীরের কি ফাইট করবে?”, শিসুই অবাক হয়।
“তুমি শুধু ওর সুসানোর একটা ব্যবস্থা করো, বাকিটা আমিই সামলাবো” ওর দৃঢ়তা দেখে আর কিছুই বলে না, শিসুই। নিজের কাজে মন দেয়।
এর প্রায় মিনিট ১০ হতে চলল। সাস্কের গায়ে একটা আঁচরও কাটতে পারে নি শিসুই। ইতিমধ্যেই ওর চাকরা ফুরিয়ে এসেছে প্রায়। তাই, নিজের শেষ এবং বিশেষ অস্ত্রটাই ইয়্যুজ করল ও। নারুটোর দিকে তাকিয়ে এক ফাকে ছোট্ট করে একটু মাথা ঝাঁকাল। যেন, ইশারায় তৈরি হয়ে নিতে বলল। জ্যুতসু টা আসলে খুবই এডভান্স লেভেলের বডি ফ্লিকার এর মতো। দেখলে শ্যাডো ক্লোন বলে ভুল হবে। সুসানো সমেত এই জ্যুতসু কাস্ট করায়, আসে পাশে ডজন খানেক সুসানো দেখলো সাস্কে।
ওদিকে নারুটোও তৈরি হল। কিন্তু, হটাতই দেখল, সাস্কে শিসুইকে উদ্দেশ্য করে একটা টেইল্ড বিস্ট বম্ব ছুড়ল। প্রত্যাশিতভাবেই শিসুই তা ডজ দিতেই গ্রামের দিকে ছুটলো তা। চোখে আতঙ্ক আর ভয় নিয়ে তাকিয়ে তাখে নারুটো। মনে মনে একটা কঠিন ডিসিশান নিয়ে নিল। সাস্কেকে আটকানোর এছাড়া কোন উপায়ও নেই।
আর ওদিকে হতভম্ব ভাব কাটিয়ে উঠেই চারপাশ থেকে সুসানোর চাকরা নিডল মারতে শুরু করলো। সাস্কে, ওর সুসানোর পাখা দিয়ে তা কোনরকমে এড়াতে চাইলো। কিন্তু, পারলো না। ক্রমাগত চাকরা নিডলে ক্ষতবিক্ষত হতে থাকলো, ওর আল্টিমেট ডিফেন্স।
গ্রামের ভেতর কেবলই সবকিছু শান্ত করেছে ৩য় হোকাগে, ৪র্থ হোকাগে আর জিরাইয়া। তাই থার্ড হোকাগেকে সেখানে রেখে জিরাইয়াকে নিয়ে ফাইনাল ভ্যালীতে আসার জন্যে রওনা দেয় ওরা।
ঠিক সেই মুহূর্তেই সাস্কের সুসানোর একটা পাশ ওর সুসানোর ড্রিল মেশিনের-সদৃশ অস্ত্র দিয়ে ভেঙে ফেলেছে শিসুই। প্রায় একই সাথে দু’জন-নারুটো আর মিনাটো ফ্লাইং রাইজিন অর্থাৎ টেলিপোরট করল। মিনাটো জিরাইয়াকে নিয়ে ফাইনাল ভ্যালী তে আর নারুটো টেলিপোরট করে সাস্কে আর শিসুই এর ঠিক মাঝখানে পৌঁছে গেল।
এসেই মিনাটো আর জিরাইয়া দেখল, নারুটো হ্যান্ড ওয়েভ করছে। ওর হ্যান্ড সাইন দেখে দু’জনেই ভীষণ চমকে ওঠে। জিরাইয়া নড়ে উঠতেই মিনাটো ওকে বাধা দেয়। বলে,”জিরাইয়া সেন্সে, নারুটো ওর ডিসিশান নিয়েছে। আমার মনে হয় আমাদের সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখানো উচিৎ। আর তাছাড়া, আমাদের এখন আর কিছু করারও নেই। ”
জিরাইয়ার মুখ দিয়ে কথা সরে না। ওর চোখের পাতা শুধু বার কয়েক কেপে ওঠে। মুখ দিয়ে কোন শব্দ বেরোয় না।”
কিন্তু, ওদিকে সাস্কে ভয়ানক চমকে গেছে অন্য কারনে। নারুটো বাদে একমাত্র সেই দেখতে পাচ্ছে শিনিগামী কে। হুম, রিপার ডেথ সিল ইয়্যুজ করেছে নারুটো। সাস্কের হতভম্ব ভাব কাটবার আগেই সুসানোর ফাটল দিয়ে ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেয় শিনিগামী।
একবার ঘুরে এরো সেননীনের দিকে তাকায় নারুটো। শুধু বলল,
“sorry Pervy sage. i’m not the child of prophecy. am just another utter disappointment. ”
মিনাটোর দিকে ফিরে বলল, “গোমেননা সাই, তো-চান”।
বলেই ধীরে ধীরে ঢলে পরলো। প্রায় একই সাথে সাস্কের প্রানহীন দেহও পরে গেল নিচে।
ধীরে ধীরে ফাইনাল ভ্যালীতে ডুবে যেতে থাকে ওদের মৃতদেহ। ডুবে যেতে থাকে আশুরা আর ইন্দ্রার রি- ইনকারনেশান।
(সমাপ্ত)
—————————————–
[স্পেশ্যাল থ্যাংকসঃ নিয়াজ রাশীদ]

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 3] — Rahat Rubayet

———– Naruto Fan Fiction- part:3—————————-
————————————————————–
ফাইনাল ভ্যালীর পরিবেশ শান্ত-সমাহিত। কোন অস্থিরতা নেই কোথাও। তবে ভাল করে খেয়াল করলেই বোঝা যায়, বাতাসে একটা গুমোট ভাব। কোন ঝড়ের পূর্বাভাস যেন। প্রকান্ড দুই প্রতিমূর্তি মাদারা আর হাশিরামার পাশেই ছোট্ট একটা বিলের মতন। বিলের ওপর ঠায় দাড়িয়ে আছে সাস্কে আর নারুটো। সাস্কে নাইন টেইল-অর্থাৎ বিজু মোডে আর নারুটো সেইজ মোডে।
সাস্কের চোখে অবজ্ঞার দৃষ্টি। অবজ্ঞা করবে না-ই বা কেন? ভাবে সাস্কে। নারুটোর মতো ল্যুজারকে ইচ্ছে করলেই পিষে ফেলতে পারে ও। ভাবতে ভাবতেই নিজেকে নিয়ে গর্ব অনুভব করে সাস্কে। বলল,
“নারুতো, আমার সাথে ফাইট করে কি লাভ? তোমাকে খুন করতে ১মিনিট সময় লাগবে না আমার। তার চাইতে বরং আমার কাছে প্রানভিক্ষা চাও। এক সময়কার কমরেডের জন্য এটুকুন……..।”
“ইনাফ অলরেডি।” গমগম করে ওঠে নারুটোর কণ্ঠস্বর। মাথার লিফ-নিনজার সাইন সমেত হেডব্যান্ড টা শক্ত করে বেধে নেয়। তারপর একটা হাত মুঠি করে সামনে নেয় নারুটো। তারপর বলে,
” আমার গ্রামের নামে শপথ করে বলছি, সাস্কে। i will take you down.” বলেই হাতে থাকা কুনাই টা আলতো করে উপরে ছুড়ে দেয় নারুটো। অনেকটা খেলাচ্ছলে যেন। সাস্কে দেখলো কুনাইটা নিচে পরার আগেই হাওয়া হয়ে গেছে নারুটো। মনে মনে প্রমাদ গুনল। ও জানে ঠিক ঘাড়ের পেছনেই হাজির হবে নারুটো। বাকা একটু হাসল সাস্কে। ও এক ভুল ২ বার করে না। ঘাড়ের পেছনে নির্দয়ভাবে চিদোরি সোওরড চালিয়ে দিল। নারুটোর বুক বরাবর ঢুকল তা। বিস্ময়ে হা হয়ে গেছে নারুটো।
পরক্ষনেই ভুল ভাঙল সাস্কের। ওটা নারুটোর কাগে বুনশিন বা শ্যাডো ক্লোন ছিল। নারুটো তার কাগে বুনশিন কে টেলিপোরট করেছে। আর ওদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া কুনাইতে নিজেকে টেলিপোরট করে নিয়ে যায় পানির ভেতর। সাস্কের ঠিক নিচে থেকেই উঠে আসে আচমকা। হাতে ম্যাসিভ রাসেঙ্গান।
কিন্তু বিজু মোডে থাকায় তা সেন্স করতে পারলো সাস্কে। অনেকটা বাউলি কেটে একপাশে সরে যায় ও। তবুও ম্যাসিভ রাসেঙ্গানের একটা অংশ নাগাল পেয়ে গেল ওর। কিন্তু, গায়ে নাইন টেইল- চাকরা ক্লোক থাকায় সাস্কের গায়ে আঁচড়টি পর্যন্ত কাটলো না, ভয়ঙ্কর ওই জ্যুতসু।
সাস্কে পাশ কেটে গেলে, নারুটোকে পুরোপুরি অফ-গার্ডে পেয়ে গেল সাস্কে। ও শুধু নারুটোর কব্জিটা ধরলো। নারুটো তাকিয়ে দেখলো, সাস্কের চোখে ক্রূঢ় হাসি। বুঝলো এই মুহূর্তে সড়ে যেতে হবে ওর। কিন্তু ততক্ষনে সাস্কে আমাতেরাসু কাস্ট করে ফেলল, ওর ওপর।
অসহ্য যন্ত্রণায় চেচিয়ে ঊঠল, নারুটো। ডাঙ্গায় তোলা মাছের মতো খাবি খেতে লাগলো। মাংস পোড়া উৎকট গন্ধ বেড়িয়েছে। পাগলের মতো শরীরে পানি লাগাতে থাকল। কিন্তু, কিছুতেই আগুন নেভেনা। ব্যথা-যন্ত্রনায় চোখে পানি চোলে আসে নারুটোর। হটাতই, বিদ্যুৎ চমকের মতন একটা কথা মাথায় চলে আসে নারুটোর। এতক্ষন ধরে পুড়তে থাকলে নিশ্চিতভাবেই মারা যাবার কথা ওর। কিন্তু, প্রচন্ড যন্ত্রনা স্বত্বেও হাত-পা ঠিকই নারাতে পারছে ও। নিজেকে তিরস্কার করল মনে মনে। এভাবে সাস্কের গেঞ্জ্যুতসুতে আক্রান্ত হওয়াটা চরম মূর্খতা। কি করে ছাড়া ভাবে এই যন্ত্রণাকর জ্যুতসু থেকে, ভাবতে থাকে নারুটো। এরো সেননীনের শেখানো চাকরা ব্লাস্ট করাটাও এখন পসিবল হবে না ওর পক্ষে। কোনভাবে যদি এর থেকে বের হওয়া যায়,……… আরে তাই তো। কোন ভাবে যদি ও সাস্কের নিয়ন্ত্রনের বাইরে যেতে পারে, তবেই তো তা ব্রেক হবে।
সময় নষ্ট না করে, সেখান থেকেই ফ্লাইং রাইজিন ইয়্যুজ করল ও। একেবারে ইচিরাকুর দোকানের সামনেটায় চলে এল ও। মুহূর্তেই বেড়িয়ে এল গেনজ্যুতসু কাস্টার সাস্কের নিয়ন্ত্রণ-বলয় থেকে। এতে গেনজ্যুতসু সহজেই ভেঙে গেল।
পরপর দু’বার টেলিপোর্ট করল নিজেকে। পরক্ষনেই সাস্কের ঠিকে মাথার ওপরে পৌঁছে গেল। হাতে বেড়িয়ে এল রাসেঙ্গান। সাস্কের পিঠে সিমপ্লি বসিয়ে দিল ওই মারণাস্ত্র। সাস্কের নাইন টেইল চাকরা ক্লোক প্রায় পুরো আঘাতটাই ঠেকিয়ে দেয়। তবে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কার পুরোটাই টের পেল। বুল্ডোজার চালিয়েছে যেন ওর ওপর কেউ। ছিটকে ১০ হাত দূরে গিয়ে পরলো তবে উঠে দাঁড়াল সাথে সাথেই। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়েই থমকে দাঁড়ায় ও। হটাত, চিরচেনা কন্ঠের সেই ডাক শুনতে পেয়েছে ,”সাস্কে”।
ঘুড়ে তাকাতেই দেখল, ইটাচি আর শিসুই দাড়িয়ে আছে। ইটাচি বলতে থাকে,
“তুমি কোনোহার একজন শিনোবি। তোমার কাজ গ্রাম রক্ষা করা, ধ্বংস করা না। গ্রামের প্রত্যেক ক্ল্যান-প্রত্যেকে একে অন্যের ফ্যামিলি।”
সাস্কে অবাক হওয়ার ভান করে,”ফ্যামিলি??? তুমি কি করেছ তোমার ফ্যামিলির জন্যে? উপরন্তু, হোকাগের দাস হয়ে নিজের ক্ল্যানের ওপরই স্পাইগিরি করছ। শিসুইকে দিয়ে বাবা-মার ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে রেখেছ। আর যাই হোক, তোমার মুখে ফ্যামিলি শব্দটা মানায় না, ইতাচি। তার’চে আমাদের সাথে যোগ দাও। পুরো নিনজা সিস্টেমকেই আমরা নতুন করে গরে তুলবো।”
ক্লান্ত চোখে বেশকিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে ইটাচি। তারপর বলে,
“তুমি কি আমার উত্তরের অপেক্ষা করছো? তাহলে, তুমি জানো আমার উত্তর কি।
সাস্কে এখনো সুযোগ আছে। লর্ড হোকাগের সাথে আমি কথা,…………….­ ” ওকে মাঝপথেই থামিয়ে দেয় সাস্কে। অবজ্ঞার দৃষ্টিতে ৩জনের দিক তাকাল একবার। তারপর ফুলবডি কুরামা(নাইন টেইল শেপ) মোডে গেল। আর তারপর ফুলবডি আরমার্ড সুসানো দিয়ে তা ঢেকে দিল।
শিসুই আর ইটাচিও সুসানো এরাইজ করলো-ফুলবডি সুসানো। ইটাচির সুসানো লাল রঙের। এক হাতে টোতস্কা ব্লেড, আরেক হাতে ইয়াটা মিরর। শিসুই এর সুসানো সবুজ দেখতে। অয়েপন হিসেবে এক হাতে ড্রিল মেশিনের মতো কিছু একটা ধরা। তাছাড়া সুসানোর বুকে চাকরা নিডলস তো রয়েছেই। আর সাস্কের সুসানোর এক হাতে সোওরড। সুসানোর নিচে নাইন টেইল। ওদিকে নারুটো সামোন করল গামাকিচিকে। গামাচিকির শারীরিক গ্রোথ মানুষের মতো নয়। তাই গতবারের চাইতে এবার অনেক বেশিই বড় লাগছে ওকে।
সাস্কে শুরুতেই আক্রমন করল ইটাচিকে। সুসানোর পাখায় ভর করে ইটাচির ঠিক ওপরে এসেই হাল্কা মতন সোওরড টা ঘুরাল কেবল। সেই সাথে নাইন টেইলের লেজ গুলো দিয়ে প্রচন্ড বাড়ি বসালো শিসুইয়ের সুসানোর ওপর। নেই, মুহূর্ত আগেই সুসানো সমেত স্রেফ গায়েব হয়ে গেছে ও। আর ওদিকে সহজেই সাস্কের সুসানো-সোওরডকে এরিয়ে গেল ইটাচি। হটাত, এক লাফে গামাকিচি সাস্কের ঠিক সামনেই চলে আসে। তার ওপর নারুটো। ওর হাতে উইন্ড স্টাইলের রাসেন-শুরিকেন। সাস্কেকে অফ-গারড পেয়েই আর এক সেকেন্ডও দেরি করে নি নারুটো। ওর সবচাইতে শক্তিশালী অস্ত্র দিয়ে আঘাত করতে চাইল সুসানোকে।
সাস্কের মাঙ্গেকিইয়্যু শারিঙ্গানের এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তার পর্যবেক্ষণী ক্ষমতা। ইটাচি আর শিসুইকে আক্রমন করলেও ঠিকই খেয়াল করল নারুটো কে। সুসানোর আরেক হাট দিয়ে চেপে ধরলো নারুটোর ওই জ্যুতসু। প্রচন্ড শব্দে কানে তালা লেগে যাবার যোগাড়। হটাত, ঠিক সামনেই শিসুই সুসানো সমেত হাজির হল। সবকিছুই এত দ্রুত ঘটে গেল, সাস্কে প্রতিক্রিয়া দেখাবার সময় পেল না। তার আগেই শিসুই এর অজস্র চাকরা নিডলস আঘাত করতে থাকল সাস্কের সুসানোতে।
উপায়ন্তর না দেখে নাইন টেইলের লেজ দিয়ে প্রচন্ড আঘাত হানল, শিসুই এর সুসানো লক্ষ্য করে। কিন্তু তার আগেই গায়েব হয়ে গেছে যেন শিসুই। একই সাথে হাতের সুসানো-সোওরড দিয়ে ইটাচি কে আঘাত করে সাস্কে। ইটাচি অনায়াসে পাশ কেটে বেড়িয়ে যায়। ওদিকে ওকে অফ-গারড পেয়েই লাফিয়ে সামনে চলে এল গামাকিচি। নারুটো তার ওপর রাসেন-শুরিকেন হাতে দাড়িয়ে আছে। কাছে আসতেই আঘাত করল। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল সাস্কে। একই ঘটনা এর আগেই ঘটে গেছে। এক হাতে নারুটোর জ্যুতসু ঠেকিয়েই প্রমাদ গুনলো। ঠিক এক সেকেন্ড পরেই শিসুই তার সবুজ সুসানো নিয়ে হাজির হল। সুসানোর বুক থেকে হাজার হাজার চাকরা নিডল বেড়িয়ে আসছে।
আসলে ইটাচি সাস্কের ওপর ইজানামি ইয়্যুজ করেছে। তাই বাস্তব দুনিয়ায় এক জায়গায় ঠায় দাড়িয়ে থাকলেও, সাস্কে তার মনের ভেতর একই লুপে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছে। যতক্ষন না সংশোধিত হচ্ছে ও, এর থেকে মুক্তি নেই কোন। এই জ্যুতসু আসলে ফেইট সিলিং বা ভাগ্য নির্ধারণী জ্যুতসু। ভয়ঙ্কর এই জ্যুতসু কাস্টারকে চরম মূল্যও দিতে হয়ে এর জন্যে। যে এই জ্যুতসু ইয়্যুজ করবে, তার এক চোখ নষ্ট হয়ে যাবে। শর্তানুযায়ী ইটাচি তার একচোখ হারাল। ওর সুসানো ব্রেক হয়ে গেল তাতে।
সাস্কেকে এক জায়গায় দাড়িয়ে থাকতে দেখে আর ইটাচির একচোখ সাদা হতে দেখেই যা বুঝার বুঝে নিল শিসুই। কিন্তু নারুটো, স্রেফ বোকা বনে গেছে ঘটনার আকস্মিকতায়। জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকাতেই ইটাচি বলতে শুরু করলো,
“যত যাই হোক, দিনশেষে ও আমার ভাই। ওর যাবতীয় দায়ভার আমারই”, একটু থামল। তারপর যোগ করল, “আমি আমার দায়িত্ব পালন করেছি, শিসুই।”
“i wonder!” হটাতই পেছন থেকে সাস্কের গলা শুনে ভয়ানক চমকে ওঠে ওরা তিনজন। সামনে ঠায় দাড়িয়ে থাকা সুসানো-শ্যাডো ক্লোন টা মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। “কি মনে করেছ আমাকে? অত সহজেই তোমার ফাঁদে পা দেবো?” বলতে থাকে সাস্কে,”আমি জানতাম তোমরা গেনজ্যুতসু টাইপ কিছু কাস্ট করবে। তাই……….” কথা শেষ না করেই থেমে যায় ও। সুসানো দিয়ে ঢাকা কুরামার আল্টিমেট অস্ত্র টেইল বিস্ট বম্ব তৈরি করছে। তারপর বলল, “একটা উপদেশ দিই। never underestimate an uchiha” বলেই ইটাচির দিকে ছুড়ে দিল তা।
তখনো হতভম্ব ভাবটা কাটিয়ে ওঠে নি ওরা কেউ। তবে শিসুই দ্রুত নড়ে উঠলো। ইটাচিকে টেইল বিস্ট বম্বের লাইন থেকে সরিয়ে নিল। কিন্তু, সাস্কের চোখে-মুখে পৈশাচিক হাসি থামে নি। কারন খুজতেই পেছনে তাকায় নারুটো। দেখল, ইটাচিকে মিস করা টেইল বিস্ট বম্ব গ্রামের একটা অংশ স্রেফ উরিয়ে দিয়েছে। কতজন মারা গেছে তার ইয়ত্তা নেই।
রাগ-ক্ষোভ, দুঃখ-হতাশা আর ক্রোধের মিশ্র অনুভূতি খেলা করতে থাকে নারুটোর ভেতর। থরথর করে কাঁপছে ওর সারা শরীর। ক্রোধের অনুভূতিটা সবকিছুকেই ছাপিয়ে গেল। মাথার লাল চুল থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত থরথর করে কাঁপছে। চোখ দুটো হিরের মতো জ্বলজ্বল করছে যেন। ওর নিল-সাদা চোখ দুটো ধীরে ধীরে রঙ বদলে বেগুনি রঙ ধারন করতে থাকে। তার সাথে অদ্ভুত এক প্যাটার্ন লক্ষ্য করল ইটাচি আর শিসুই। দেখা মাত্র চিনে ফেলল।
রিনেঙ্গান!!!!!!!!!
———————————————–

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 2] — Rahat Rubayet

 

————-Naruto Fan Fiction — Part: 2————————-
—————————————————————————-
(১৬ বছর আগে)
নাইন টেইল ফক্স কে উচিহা ক্লানের বিশেষ এক সিলিং জ্যুতসু দিয়ে এক বাচ্চার ভেতরে সিল করে দেয় ক্ল্যান লিডার ফুগাকু। এই সিলিং জ্যুতসুর বৈশিষ্ট হল তা প্রায় বাড়তি কোন চাকরা ছারাই নাইন টেইল বিস্ট চাকরাকে সিল করে রাখবে। বলাবাহুল্য, উপায়ন্তর না দেখেই এ কাজ করতে হয়েছে ফুগাকুর। কারন, ডানযো আর ৩য় হোকাগে মিলে আধডজন টেইল বিস্ট বম্ব সিল করে পৌঁছে গেছে ক্লান্তির সীমায়। শেষে তাই, বাধ্য হয়েই নিজের ছোট্ট ছেলে সাস্কের ভেতর নাইন টেইল সিল করে দেন ফুগাকু।
সাস্কের ভেতর টেইল বিস্ট সিল করতে দেখেই যেন বাতাসে উড়ে এল ডানযো। উদ্দেশ্য- শিশু সাস্কে, তথা উচিহাদের কাছ থেকে নাইন টেইলকে ছিনিয়ে নেয়া। আরেক অর্থে সাস্কে কে খুন করা। মরিয়া ফুগাকুর সাথে সেখানে লড়াইয়ে বেঘোড়ে মারা পড়ে ডানযো। এর পর ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। সাস্কের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করেন লর্ড হোকাগে। উচিহারাও সব বিবেচনা করে তা মেনেই নিয়েছিল। প্রায় ৯ বছরের মত সময় সব ভালমতোই কাটে।
তবে ধীরে ধীরে উচিহাদের ভেতর চাপা ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে। নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কে বড় হতে থাকলে ঘটনা আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। এর মাঝে অভ্যন্তরীণ ক্যু ঘটাবার জন্যে প্ল্যান করতে থাকে তারা। উপায়ন্তর না দেখে, শিসুই উচিহা তাদের ক্ল্যান লিডার ফুগাকুর ওপর কোতো-আমাত্সুকামি নামক গেনজ্যুতসু কাস্ট করে,। এরপর সবকিছুই শান্ত হয়ে আসে।
এসবের প্রায় ৭ বছর হতে চলল। আজ আবার সেই উচিহাদের থেকেই সঙ্কটের উৎপত্তি। উচিহাদের থেকে ক্যু এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৭ বছর বয়স্ক সাস্কে উচিহা। এরই মাঝে সে ফুল-নাইন টেইল এর চাকরার ওপর কন্ট্রোল নিয়ে নিয়েছে। এতে তার শারিঙ্গান আর ওই বিশেষ সিলিং জ্যুতসুর কৃতিত্বই বেশি। তাই বিজু মোডেও যেতে পারে সে।
আজকের এই ক্যু এর কারন একটাই। উচিহাদের দাবি, গ্রামের শাসন ব্যবস্থা উচিহারা কন্ট্রোল করবে। অন্য যেকোন ক্ল্যানের থেকে তারা শারিঙ্গানের জন্যে অনেক বেশি শক্তিশালী। উপরন্তু তাদের মাঝে ফুল নাইন টেইল কন্ট্রোলিং জিনঝুরিকি , শিসুই দ্য বডি ফ্লিকার, ইটাচি উচিহা রয়েছে। কাজেই তারা গ্রাম পরিচালনা করলে অন্য গ্রামের কেউ ভুলেও আক্রমন করার স্পর্ধা দেখাবে না। শিসুই আর ইতাচি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করায়, তারা সাস্কের নেতৃত্বে ক্যু ঘটাবার প্ল্যান করেছে।
এতক্ষন ধরে সেই উচিহাদের ব্যাপারেই ব্রিফ করছিলেন জিরাইয়া সেন্সে। তিনি থামতেই মিনাটো বলল,
“নারুটো তোমাকে না মাকে নিয়ে বাড়ি যেতে বললাম। আমরা এখনো জানি না, ওরা কি প্ল্যান করছে। তুমি কুশিনা কে এ………”
মিনাটো কথা শেষ করতে পারলো না, তার আগেই নারুটো বাতাসে মিলিয়ে গেছে যেন।
ওদিকে হোকাগের বাড়ির দরোজার ঠিক বাইরে হাজির সাস্কে। কুশিনাকে জিজ্ঞেস করে মিনাটো আর নারুটো কোথায়। ওর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। হোকাগে কে সপরিবারে খুন করে গ্রামের দায়িত্ব হাতে নেবে। আর তারপর ঢেলে সাজাবে কলুষিত এই নিনজা সিস্টেমকে।
তাই, হোকাগে বাসায় নেই শুনে সাস্কে বলল, “কি আর করা, তোমাকে সপরিবারে মারা যাওয়ার আনন্দ দিতে না পারায় দুঃখিত, লেডি কুশিনা।’
কুশিনা কিছু বুঝতে পারে না। শুধু বলতে গেল, “নারুটো সম্ভবত ইরুকার সাথে আছে।”
কিন্তু বলতে পারল না। তার আগেই দেখল, সাস্কের চোখের চাহনি পাল্টে গেছে হটাত করে। কিছু বুঝে উঠার আগে শুধু শুনলো, “আমাতেরাসু”।
ওদিকে সাস্কে আমাতেরাসু ইয়ুজ করেই তাজ্জব বনে গেছে। হটাতই উধাও হয়ে গেছে কুশিনা। শারিঙ্গান দিয়ে খুঁজেও কোন চাকরার অস্তিত্বই খুঁজে পেল না। হটাত, কানের কাছে নারুটোর গলা শুনতে পায়।
“ফ্লাইং রাইজিন, লেভেল ৩”
পরক্ষনে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কা খায় সাস্কে। ইতিমধ্যে হাফবডি সুসানো বের করে ফেলেছিল সে। তাই রাসেঙ্গানের ঝড় টা তার ওপরই গেছে। শব্দ লক্ষ্য করে সোরড চালাতেই অবাক হয়ে দেখল, নারুটো তার ৫গজ সামনে দাড়িয়ে আছে।
নারুটোই মুখ খোলে প্রথমে, “আমি জানি না, তুমি নিনজা সিস্টেম চেঞ্জ করবে কি করবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে তুমি আমার বাড়ির সদর দরজায় দাড়িয়ে আমার মাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করতে যাচ্ছিলে। তুমি আমার বন্ধু হতে পারো। কিন্তু, এই মুহূর্তে তুমি আমার শত্রু। আর এর ফয়সালা করতে যা করা প্রয়োজন আমি তা নির্দ্বিধায় করবো।”, বলে এক মুহূর্ত থামল ও। তারপর বলল,”তুমি জান, আমাদের কোথায় যাওয়া উচিৎ”
বলতে বলতেই হাওায় মিলিয়ে যায় নারুটো। তার বাবার কাছ থেকে শেখা, স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু ইয়ুজ করেছে সে। আর এদিকে সাস্কেও ফাইনাল ভ্যালির পথ ধরে।
ওদিকে, উচিহা ক্ল্যানের সকলে গ্রাম আক্রমন করে বসেছে। তাদের আক্রমনের ধরনটা খুবই সিম্পল-কিন্তু ভয়ঙ্কর। অন্য ক্ল্যানের লোকজনের ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে তাদের দিয়েই আক্রমন করছে তারা। আর তা ঠেকাতেই, গ্রামের আনবু, জৌনিন-চুনিনদের জলদঘর্ম অবস্থা। উপায়ন্তর না দেখে, ৩য় আর ৪র্থ হোকাগে ছুটে গেছে ক্যু থামাতে। কিন্তু নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কেকে কোথাও না পাওয়া যাওয়ায় ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে ওঠে ৪র্থ হোকাগে। সে নিজে সেন্সরি-টাইপ নিনজা। কাজেই নাইন টেইল চাকরা ইনফিউজ করতে শুরু করলেই ধরতে পারবে তা।
হটাতই, নাইন টেইলের বিশাল চাকরার ভর সেন্স করতে পারে সে, সেই সাথে নারুটোর সেইজ চাকরা-আসছে ফাইনাল ভ্যালী থেকে। এদিকের কাজ ফেলে যাওয়াও অসম্ভব। অগত্যা, তার হাইলি কোওালিফাইড আর বিশ্বস্ত দুই নিনজা কে পাঠাল, নারুটোকে সাহায্য করতে।
ওদের উদ্দেশ্যে বলল,” শিসুই, ইতাচি! সাস্কে আর নারুটো ফাইনাল ভ্যালী তে। বিজু মোডে সাস্কেকে থামাতে পারবে না, নারুটো। আমি চাই, ওকে তোমরা এসিস্ট কর।”
“জী, লর্ড হোকাগে”, বলে বডি ফ্লিকার দিয়ে উধাও হয়ে যায় ওরা।
মিনাটো ভাবতে থাকে, খুব কি দেরি করে ফেলবে ওরা পৌঁছতে?
———————————————————————————–

নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 1] — Rahat Rubayet

 

নারুটো ফ্যান-ফিকশান (Naruto Fan-Fiction)
————————- Part- 1—————————-
—————————————————————————–
ইচিরাকুর রামেনশপে আজ যেন মেলা বসেছে। হইহুল্লোড়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সেই বিকেল থেকেই। স্বয়ং ৪র্থ হোকাগে উপস্থিত আজ। সপরিবারে গোগ্রাসে রামেন গিলে চলেছে ওঁরা। এর মাঝেই লিজেন্ডারী সাননীন দের একজন, জিরাইয়া এসে প্রবেশ করলো। মিনাটো- মানে ৪র্থ হোকাগে আর তার ছেলে নারুটো দুজনেই ওঁর ছাত্র। মিনাটোর হাতে খড়ি হয় জিরাইয়া সেন্সের কাছে। তারপর থেকে ওঁকে গরে পিটে একদম গ্রামের প্রধান-অর্থাৎ হোকাগে হওয়া পর্যন্ত, সবসময়ই জিরাইয়া ওঁর পাশে ছিল একজন দায়িত্ববান শিক্ষক হিসেবে।
ওদিকে নারুটো নিঞ্জা একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে তার নিঞ্জা স্কিল বাড়াতে জিরাইয়ার কাছে জুতসু শেখা শুরু করে। আর তার বাবা হোকাগে হিসেবে ব্যস্ত থাকলেও, সময় পেলেই নারুটোর খোঁজ নিতে ছুটে যায় তার টেলিপোরটেশান জুতসু দিয়ে।
জাজ্ঞে, ফিরে আসি ইচিরাকুর রামেনশপে।
কুশিনা আর মিনাটো বহু আগেই খাওয়া শেষ করেছে, তবে নারুটো তার ১১ নম্বর পেয়ালাটা খালি করে মাত্রই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। ফুলে ওঠা পেটে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবল, আজ বোধয় একটু বেশিই খাওয়া হয়ে গেছে। আর চোখে একবার মায়ের দিকে তাকায় ও। রাতের খাবারের যদি একটা ফোঁটাও নষ্ট করে নারুটো আজ ওর কপালে বেধড়ক মার আছে। ঘুরে বাবার দিকে তাকাতেই দেখল, জিরাইয়া সেন্সের সাথে কি নিয়ে যেন নিচু গলায় কথা বলছে সে। নারুটো তাতে যোগ দিতে গেলে দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।
-‘নারুটো, তোমার মাকে নিয়ে বাড়ি যাও। আমার একটু জরুরী কাজ পরে গেছে। এক্ষুনি বেরোতে হবে। আর কুশিনা, আমার ফিরতে রাত হবে, খাবার ঢেকে রেখে ঘুমিয়ে পোরো।”
কপট রাগ আর অভিযোগের সুরে কিছু বলতে গেলো কুশিনা। কিন্তু, কাকে বলবে? এর মধ্যেই যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে মিনাটো আর জিরাইয়া সেন্সে। কুশিনা জানে, মিনাটো তার ফ্লাইং রাইজিন জ্যুতসু ইয়ুজ করেছে। ক্লান্ত চোখে নারুটোর দিকে তাকাল।
নেই, সুযোগ বুঝে কেটে পরেছে সে। আজ আসুক বাড়িতে, ওর একদিন কি আমার একদিন, ভাবতে থাকে কুশিনা। কি এমন জরুরী কাজ পরে গেল- এত তারাহুরো করল মিনাটো? ভাবতে ভাবতেই বাড়ির পথ ধরল। কপালে চিন্তার রেখা।
ওদিকে নারুটো গেছে ইরুকা সেন্সের সাথে দেখা করতে। ইরুকা, নারুটোর নিঞ্জা একাডেমিতে থাকাকালীন টিচার, বড় স্নেহ করে ওকে। ইরুকা সেন্সের ঘরের সদর দরজায় তালা ঝুলছে, বাসায় নেই। পথে নেজি, শিকামারু, সাই, কাকাশি-সেন্সে সবার বাসায়ই একবার করে ঢু মারল। অবাক হয়ে দেখল, এদের কেউই বাসায় নেই।
সবাই গেল কোথায়-ভাবতে ভাবতে হোকাগের অফিসের নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল এই সময়েও লাইট জলছে সেখানে। মানে, তার বাবা এখন অফিসেই এসেছেন। কি মনে করে গিয়ে অফিসে ঢুকল ও। ভেতরে ঢুকেই দেখল গ্রামের সব জোনিন আর চুনিন নিঞ্জারা হাজির। নিশ্চয় কোন জরুরী মিশন। কিন্তু তাই বলে সবাই এভাবে জড় হবার মানে হয় না। ব্যাপারটা কি? ভাবতে থাকে নারুটো। তার উত্তর পেতে হলে, বাবার সাথে কথা বলতে হবে। ভীর ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় নারুটো। মিনাটো একবার তাকাল শুধু ওর দিকে, কিন্তু কিছু বলল না। কপালে চিন্তার ভাঁজ। জিরাইয়া সেন্সে- নারুটোর ভাষায় এরো সেননীন কথা বলছেন।
আড়চোখে একবার পুরো রুমটা দেখে নেয় নারুটো। ৩য় হোকাগেও আছেন রুমে। সব ক্লানের নিঞ্জাই আছে শুধু উচিহা ক্লান বাদে। উচিহাদের ভেতর শুধু শিসুই আর ইটাচি রয়েছে এখানে। বাকিদের জানানো হয় নি। কারন, আজকের সংকটের মধ্যমণি ওই উচিহারাই। জিরাইয়া সেন্সে তার ব্রিফিং মাত্রই শেষ করলেন। তবু, নারুটো নামিকাজে আর আমার পাঠকের সুবিধার জন্যে জিরাইয়া সেন্সের ব্রিফিঙের চুম্বকাংশ আমিই তুলে ধরছি।
আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে মাদারা উচিহা স্বয়ং গ্রাম-আক্রমন করেন। মাদারার সাথে ফেইস ট্যু ফেইস ব্যাটেল করেন ৪র্থ হোকাগে মিনাটো। মাদারা শুধু যে নিজে গ্রাম আক্রমন করে তাই না, সাথে নাইন টেইল ফক্সকেও নিয়ে আসে।
৪র্থ হোকাগে মাদারার সাথে লড়াই করতে থাকার এক পর্যায়ে নাইন টেইল ফক্স কে মাদারার কমপ্লিট সুসানো থেকে আলাদা করে ফেলে। সাথে সাথে ৩য় হোকাগে, ডানযো আর উচিহা ক্ল্যান লিডার ফুগাকু সবাই মিলে নাইন টেইলকে সিল করতে চেষ্টা করতে থাকে। অপর দিকে ওরোচিমারু(রোগ নিঞ্জা) ভিলেইজ এটাক করে বসে, উদ্দেশ্য নাইন টেইল এর চাকরা নিয়ে তার জিনঝুরিকি হওয়া। তার সাথে লড়াই হয় তারই একসময়ের সতীর্থ জিরাইয়ার।
আর এদিকে মিনাটো লড়তে থাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা আর ভয়ংকর ধুরন্ধর শিনোবি মাদারা উচিহার সাথে। ওঁর ফুল বডি সুসানোর সাথে ফাইট করতে ভীষণ বেগ পেতে হয় মিনাটোর। শেষ ৩০ সেকেন্ডে সে ক্রমাগত-সেকেন্ডে ২ বার করে ফ্লাইং রাইজিন ইয়ুজ করেছে। শুধুমাত্র মাদারাকে কনফিউজড করে দেবার জন্যে সে গত আধ মিনিটে ৬০ বার টেলিপোরট করেছে নিজেকে। পৌঁছে গেছে ক্লান্তির চরম মাত্রায়। কিন্তু তার পরেও থামে না, মিনাটো। চোখের সামনে কুশিনা আর ছোট্ট নারুটোর মুখ টা ভেসে উঠতেই ভেতর থেকে দায়িত্ববোধের বিশাল একটা ধাক্কা অনুভব করে সে।
মিনাটো জানে, যতই বাড়াবাড়ি মনে হোক, এটুকু পরিশ্রম প্রাপ্য- অসম্ভব বুদ্ধিমান শিনোবি ওই মাদারা উচিহার। তাই আক্রমন না করে শুধু বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগলো। সেইজ মোডের চাকরাটুকু নিঃশেষ হতেই তার রিজার্ভ করা চাকরার বাকিটুকু সামোন করল। ওঁর টেলিপোরটেশান জ্যুতসুর একটা অনন্য বৈশিষ্ট হল, এর মার্কার তার ইয়ুজারের ইচ্ছা অনুসারে মুভ করতে পারে। ক্রমাগত ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করার পাশাপাশি ওঁর জ্যুতসু মার্কারকে মাদারার সুসানোর ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিতে থাকে মিনাটো।
ওদিকে মাদারা তার দৈত্যাকৃতির সুসানো নিয়ে দাড়িয়ে আছে। চারপাশে শুধু মিনাটোর আফটার ইমেজ দেখছে। বুঝতে পারছে, ভয়ংকর কোন ফাঁদ আঁটছে এই হলুদ-চুলো ছোকরা। টেলিপোরটেশানের প্যাটার্ন বের করতে গিয়েও হতাশ হল। অবশ্য অবাক হলেও থেমে নেই তার ক্ষুরধার বুদ্ধি আর এটারনাল মাঙ্গেকিয়্যু শারিঙ্গান। একবার ভাবল, গেনজ্যুতসু কাস্ট করবে। পরক্ষনে বাদ দেয় চিন্তাটা। ‘স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু’র ওপর মোটেই এফেক্টিভ নয় গেনজ্যুতসু। তার থেকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে কোর্স অব একশান ঠিক করে নেয় সে।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আমার ফুলবডি সুসানো ভাঙার মতো শক্তিশালী কোন জ্যুতসু নেই এই ছোকরার কাছে, ভাবতে থাকে মাদারা। কাজেই সোরড গুলো ইয়ুজ করা যেতে পারে।
সুসানোর দু’হাতের সোরড দুটো দিয়ে বিশেষ ভঙ্গিমায় বাতাসে আঘাত করতে থাকে সে। লক্ষ্য, চারপাশে, মিনাটোর আফটার ইমেজ। সোরডের ধারালো অংশ সাময়িক সময়ের জন্য ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মতো তৈরি করল সুসানোর চারিপাশে। মিনাটোর আফটার ইমেইজগুলো যেন কর্পূরের মতন উবে গেল। ঠোঁটে বাকা একটা হাসি ফুটতে শুরু করে মাদারা উচিহার।
ওদিকে, মিনাটো যেন এরই অপেক্ষা করছিল। অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা, ন্যাচারাল স্পীড আর ফ্লাইং রাইজিনের সমন্বয়ে সেকেন্ডের ২০ ভাগেরও কম সময়ের ভেতর ৫০ গজ দূরত্ব পেরিয়ে যায় সে। হাজির হয় তার মার্কার এর ঠিক ওপর, অর্থাৎ মাদারার ঠিক পাশেই। সঙ্গে সঙ্গে হাতে চলে আসে রাসেঙ্গান। পাশ ফেরারও সময় পায় না মাদারা, তার আগেই মিনাটোর রাসেঙ্গান সাদা হতে শুরু করে দিয়েছে, ওতে তার চাকরা নেচ্যার অ্যাড হচ্ছে অতি দ্রুত। একইসাথে সুসানোর কাস্টার আর কোর অংশে আঘাত করতে থাকে ভয়ংকর মারাত্মক ওই জ্যুতসু।
ঘটনার আকস্মিকতায় মূর্তির মতো জমে গেছে মাদারা। প্রতিক্রিয়া দেখাতে মূল্যবান আধা সেকেন্ড সময় নষ্ট করে ফেলেছে সে। কিন্তু এরই মাঝে মিনাটো তার সুসানো আর ‘এদো টেন্সে’র শরীর গুড়িয়ে দিয়েছে। শূন্য থেকেই যেন আবার তৈরি হতে থাকে মাদারার শরীর। মিনাটো বুঝতে পারে, ওঁকে সিল করার এটাই মোক্ষম সময়। কুশিনার কাছ থেকে শেখা- উজ্যুমাকিদের বিশেষ ফ্যুইনজ্যুতসু দিয়ে সিল করে ইতিহাসের দুর্ধর্ষ এই শিনোবিকে!
—————————————————————————–

Naruto Fan Fiction: ৪র্থ হোকাগে: সাকুমো হাতাকে — Rahat Rubayet

———–Naruto Fan Fiction——
———-৪র্থ হোকাগে: সাকুমো হাতাকে———

বোরুটো আজ তার প্রথম মিশন শেষ করেছে। সেই উপলক্ষে আজ পারিবারিক ভোজের আয়োজন করেছে মিনাটো। ফ্যামিলির সবাই বলতে, মিনা-কুশি, নারুটো, বরুটো, হিনাটা আর হিমাওয়ারি ছাড়াও আরেকজন রয়েছেন খাবার টেবিলে। মাউন্ট ওবুকুর সেইজ জিরাইয়া। এরো সেন্নিন বলেই যাকে চিনি আমরা। হাসি-ঠাট্টা আর খোশগল্পে পুরোটা সময় মাতিয়ে রাখলো সবাইকে। মাত্র সাত বছর বয়সেই অন্য গ্রামের ৫ জন জোউনিন শিনোবির হাত থেকে কিভাবে মিনাটো একা কুশিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে সে গল্প করতেই কুশিনা লজ্জায় লাল হয়ে যেতে থাকে। আড় চোখে একবার মিনাটোর দিকে তাকাল নারুটো আর বোরুটো দু’জনে। অপ্রভিত হাসি হাসছে মিনাটো।
নারুটো বলতে থাকে, “বাবা, তুমি কি তখন থেকেই মাকে ফলো করতে? না হলে জানলে কিভাবে যে…”
উত্তরে কিছু না বলে তার ভুবনভোলানো হাসি দিয়ে উদ্ধার পাবার চেষ্টা করে মিনাটো। জিরাইয়া সেন্সেই শেষমেশ উদ্ধার করলেন ওকে। এবার বলতে শুরু করলেন, কিভাবে নারুটো ওরোচিমারুকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিল সে বর্ণনা। এসব শুনতে শুনতেই বোরুটো মনে মনে ভাবতে থাকে তার বাবা আর দাদা দু’জনেই কত বড় মাপের শিনোবি। ও জানে, নাইন টেইল সমেত মাদারা উচিহাকেও হারিয়েছে মিনাটো আর নারুটো মিলে। তাও আজ থেকে ১৫ বছর আগের কথা। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ও, “i will surpass both of you, Grandpa, Papa”
খাওয়া দাওয়া শেষ হতেই হিনাটা আর কুশিনা থালাগুলো রান্নাঘরে নিয়ে যেতে থাকে। বাকি সবাই তখনো খাবার টেবিলেই আড্ডায় মেতে আছে। প্রায় বিকেল পর্যন্ত চলল আড্ডা।
এর পর নেজী এসে বোরুটো আর হিমাওয়ারিকে নিয়ে মেলা দেখতে বেরুলো। বোরুটোর হাতটা এক হাতে ধরে হিমাওয়ারিকে কাধে নিয়ে হাটছে ও। একগাল হাসি আর নীলরঙা চোখে তাকিয়ে মেলার রঙবেরঙের জিনিষ দেখছে বোরুটো। হটাতই, দাঁড়িয়ে পরে নেজি। একপাশে সরে গিয়ে একটা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি খবর, সাতোশি? মিশন শেষ করে ফিরলে কবে?”
বোরুটো বড় বড় চোখে সাতোশির দিকে তাকিয়ে থাকে। বয়সে বোরুটোর থেকে মাস দুয়েকের বড় সাতোশি। কিন্তু, এরই মাঝে চুনিন হয়ে গেছে। শুধু তাই না। চারিদিকে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, রিসেন্ট পারফরমান্স বিবেচনায় এনে তাকে আরেক ধাপ প্রোমোশন দেয়া হবে। ভাবা যায়? বোরুটো যেখানে কেবল নিনজা একাডেমী থেকে গেনিন হয়ে বের হল, ওর বয়সেই জৌনিন হতে চলেছে সাতোশি। অবশ্য ওর দাদা সাকুমো হাতাকে গ্রামের ৪র্থ হোকাগে। সেক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা নিশ্চয়ই ও পায়, ভাবতে থাকে বোরুটো।
হিমাওয়ারি আর বোরুটোর সাথে কুশল বিনিময় শেষে নিজের ছেলেকে নিয়ে লাইব্রেরির দিকে এগোয় কাকাশি। কথা ছিল, চুনিন এক্সামের মার্কে কাকাশিকে(কাকাশির নিজের চুনিন এক্সামের মার্ক) পেছনে ফেলতে পারলে, ছেলে সাতোশিকে জিরাইয়া সেন্সের নতুন বই কিনে দেবে ও। সাতোশি চুনিন এক্সামের ইতিহাসে রেকর্ড মার্ক তুলে পেছনে ফেলেছে কাকাশিকে। এখন চুনিন এক্সামের ইতিহাসের ২য় সেরা স্কোরধারি সে। ১ম স্থান যৌথভাবে মিনাটো আর ইটাচির দখলে।
ওয়েল, সাতোশির কাছে জিরাইয়া সেন্সের ‘মেক আউট ট্যাক্টিক্স’ এর শেষ খন্ড বিক্রি করবে না লাইব্রেরিয়ান। তাই, কাকাশিই কিনে দেয় বাধ্য হয়ে।
দ্রুত পা চালায় কাকাশি। রাতে সপরিবারে রিন-অবিতোর বাসায় দাওয়াত আছে ওর ।
—-
হোকাগে অফিস। সাকুমো হাতাকে অফিসের জানালা ধরে দাড়িয়ে আছেন। ধূসর চোখে বাইরের শান্ত পরিবেশ দেখছেন। বয়সের সাথে সাথে মন্থর হয়ে আসছে তার শরীরও। কিছুদিন পর হয়তো মস্তিষ্কেও দানা বাধবে স্থবিরতা-ভাবতে লাগলেন তিনি। তার আগেই সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে। তারপর এই চেয়ারে কাউকে বসিয়ে দিয়ে অবসর নেবেন তিনি। লর্ড থার্ড অবসর নেবার পর প্রায় ২৫ বছর গ্রামে শান্তি বজায় রেখেছেন। একের পর এক উদ্ভট সমস্যার জট খুলে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর মধ্যেও সাম্যাবস্থা বজায় রেখেছেন। যেকোন গ্রামের যেকোন বিপদেই পাশে দাড়িয়েছেন। এই তো সেদিনও হিডেন রেইন ভিলেইজ আক্রমণ করে বসে আকাটসুকিরা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনজনের একটা ফুলস্কেল ব্যাটেল টিম পাঠিয়ে দিলেন-যদিও তা হিডেন লিফের জন্যে মোটেই মাথা ব্যাথার কারন ছিল না। তবুও, গ্রামগুলোয় শান্তি বজায় রাখতে যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত তিনি। তাই, ফুলস্কেল ব্যাটেল হবে জেনেও হাজার খানেক শিনোবির সামনে- অনেকটা নিশ্চিত মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেন নিজ গ্রামের সব থেকে চৌকশ ৩ জন শিনোবিকে। মিনাটোকে ইনচার্জ করে কাকাশি আর শিসুইকে সে মিশনে পাঠান তিনি।

ভয়ঙ্কর এক বাজিই ধরেন তিনি। এমন মিশনে যাবার জন্যে কাউকে অর্ডার করা যায় না। কিন্তু, মিনাটোর ওপর আস্থা ছিল তার। যে শিনোবি, নাইন টেইল আর মাদারাকে তার ১৭ বছরের ছেলেকে নিয়ে আটকে দিতে পারে, অন্তত তার প্রতিটা কথার গুরুত্ব বোঝেন সাকুমো। তাই, মিনাটো যখন একাই এই নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঝাপ দেবার জন্যে ওর ডিসিশান জানাল, বাধা দেন নি তিনি। তবে, নিজের ছেলে অর্থাৎ, কাকাশিকেও সাথে দিয়ে দেন ওর। কাকাশিকে আগুনে ঝাপ দিতে বলার অধিকার তিনি রাখেন। নিজের ছেলেকে ভালই চেনেন সাকুমো।
ওদিকে একেবারে শেষ সময়ে আরো দু’জন স্বেচ্ছাসেবক জুটে যায়-ইটাচি আর শিসুই। কিন্তু, ইটাচিকে লিস্ট থেকে বাদ দেন সাকুমো কারন, শিসুই আর ইটাচির কেউই না ফিরলে, উচিহাদের ভেতর অসন্তোষ দানা বাধবে, সেই সাথে দূরত্বও তৈরি হবে- যেটা তিনি চান না।
এক হাজার এর বিরুদ্ধে মাত্র ৩ জন। এক অসম আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মারা পড়ে প্রায় ছয়শোর ওপর শিনোবি। আশ্চর্য জনক হলেও সত্য মিনাটো, শিসুই, কাকাশি কেউই সিরিয়াসলি ইঞ্জুরড পর্যন্ত হয় নি। কিভাবে এই মরণপণ যুদ্ধে স্রোতের মতো আসতে থাকা শত্রুকে হারিয়ে প্রায় অক্ষতভাবেই গ্রামে ফিরলো ওরা, সে গল্প আরেকদিন।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। পরবর্তীতে কাকে তার চেয়ারে বসাবেন। দরোজায় নক হতেই পিছন ফিরলেন সাকুমো। জিরাইয়া ঢুকছে রুমে। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন,
“তারপর, কি খবর তোমার? সাহিত্যচর্চা কেমন চলছে?”
-“তা তোমার ছেলেকেই জিগ্যেস করো না। সে-ই ভালো বলতে পারবে।”
খোঁচাটা হাসিমুখেই হজম করলেন সাকুমো। তারপর, শান্তস্বরে বললেন, “সারাটা জীবন কি এমন ভবঘুরে হয়েই কাটিয়ে দেবে নাকি?”
-“এই বয়সে বিয়ে থা করতে বলছ নাকি?”
সাকুমো কিছু বললেন না। তিনি জানেন জিরাইয়া বিয়েশাদি করে থিতু হওয়ার মানুষ না, ভবঘুরে টাইপ। যে’কদিন বাঁচবে, এভাবেই কাটিয়ে দেবে। দীর্ঘশ্বাস টা চাপা দিয়ে কাজের কথা পারলেন তিনি, “আকাটসুকির হালচাল কেমন, কোন খবর পেলে?”
-“ওরা আপাতত রেডিও সাইলেন্স মেইন্টেইন করছে। ”
“তাহলে তো ভালই”, বলে উদাস চোখে গ্রামের যেখানটায় পাথরে খোদাই করে হোকাগেদের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে সেদিকটায় তাকিয়ে থাকলেন। ভাবতে লাগলেন, তার অবসর নেবার সময় এসে পরেছে।
—-
ওদিকে সারাদাকে কুনাই-জ্যুতসু শেখাচ্ছে ইটাচি। ইতিমধ্যে ফায়ার বল জ্যুতসু আয়ত্তে নিয়ে এসেছে ও। কুনাই জ্যুতসুও খুব তাড়াতাড়িই রপ্ত করছে। এতো দ্রুত শিখে ফেলার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হল ইটাচি। কিছুক্ষন কি যেন ভাবল, তারপর সারাদাকে জিগ্যেস করল,
“আচ্ছা সারাদা, তোমার জীবনের লক্ষ্য কি?”
-“আমি? আমি বড় হয়ে হোকাগে হব”, বলেই দু’হাতে থাকা আটটা কুনাই ছুড়ে মারলো। লক্ষ্য- গাছের সাথে লাগোয়া আটটা হিট পয়েন্ট, সবগুলোই লক্ষ্যভেদ হল।তারপর, ঘুড়ে দেখল, ইটাচি উঠে দাঁড়িয়েছে।
“আজকের মতো ট্রেইনিং শেষ। চলো, বাড়ি ফেরা যাক। দেরি হলে আবার তোমার মা রাগ করবেন”, স্মিতহেসে বলল ইটাচি।
-“কিন্তু, তুমি না আজ বুনশিন জ্যুতসু শেখাবে….”
ইটাচি মুখে হাসিটা ধরে রেখেই ইশারায় কাছে ডাকে সারাদাকে। কাছে আসতেই কপালে টোকা দেয়ার মতো আলতো করে আঙুল ছোঁয়ালো যেন। তারপর, ওকে নিয়ে বাড়ির পথ ধরে।
————————————————
এ পর্যন্ত লিখেই থামলেন এ গল্পের লেখক। তিনি তার গল্পের স্বল্প পরিসরে সবাইকে সুখি একটা জীবন দেয়ার চেষ্টা করেছেন। চেষ্টা করেছেন, দুঃখ-কষ্ট ব্যাধি-মৃত্যুহীন একটা সুখি লিফ ভিলেজেইর ছবি আঁকতে, যেখানে সবাই মিলে শান্তিতে বাস করতে পারবে।

সাইতামা x ইটাচি উচিহা [ফ্যান ফিকশান ক্রসওভার(প্যারোডি)] — Rahat Rubayet

সুপার হিরোরা ভিলেইনদের সাথে মারামারি করবে, পিটিয়ে লাশ বানিয়ে প্যাকেট করে দেবে এটাই অলিখিত নিয়ম। একা একা না পারলে আরো দশটা হিরোর সাহায্য নিবে। এটলিস্ট জাস্টিস লিগ আর এভেঞ্জারস থেকে তাই শিখেছি আমরা। কিন্তু, এক হিরোকে আরেক হিরোর সাথে লড়তে সচরাচর দেখা যায় না। Assosiation of Super-heroes Fans নামক এক সংগঠন আবার এক কাঠি সরেস। তারা প্রায় সকল এনিমে, মাঙ্গা, কমিক থেকে সবচাইতে শক্তিশালী একজন হিরো/ক্যারেক্টার কে আমন্ত্রন জানিয়ে এক কম্পিটিশানের আমন্ত্রন জানিয়েছে।
সেই কম্পিটিশানের ফাইনাল আজ। ফাইনালে উঠেছে নারুটো থেকে উচিহা ইটাচি আর অভাররেটেড পাঞ্চ ম্যান থুক্কু, ওয়ান পাঞ্চ ম্যান থেকে সাইতামাতামা।
ওয়েল, নারুটো থেকে সবচাইতে শক্তিশালী হিসেবে জুবি মাদারা তার ব্যাগ আর রিনেঙ্গান প্যাক করে রেডি হচ্ছিল। নারুটো আর সাস্কে বাইরে দাড়িয়ে উশখুশ করলেও কিছু বলার সাহস পাচ্ছিল না। এমন সময়, ইতাচি এসে মাদারার মাথায় এক চাটি মেরে বসিয়ে দিয়ে তার হাত থেকে সেই ইনভাইটেশান কার্ড নিয়ে হাঁটা শুরু করলো। মাদারা ভয়ে ভয়ে বলতে শুরু করে,
“ইটাচি সেনপাই, আপনি কেন কষ্ট করে আসতে গেলেন? আমি নিজেই আপ্নার বাসায় গিয়ে দিয়ে আসতাম।”
ইটাচি মুখে কিছু না বলে অগ্নিদৃষ্টি হানলো জুবি রিকোডু সেন্নিন মাদারার ওপর, যা আক্ষরিক অর্থেই ছিল অগ্নিদৃষ্টি। কারন, ইটাচির আমাতেরাসুর আগুন ধরে গেল মাদারার গায়ে। টেন টেইল সমেত ইটাচির আমাতেরাসুতে ভস্মীভূত হল রিকোডু সেন্নিন মাদারা। মারা যাবার সময় শুধু বলল,”মাথ্যে ইথা যো হাশিরামা!”
ইটাচি ইনভাইটেশান কার্ড টা নিয়ে সাস্কের দিকে ঘুরেই বলল, “সাস্কে, তোমার জন্যে আমি এই চ্যাম্পিয়ন ট্রফিটা এনে দেব। এরপর আর কেউ এডওয়ার্ড এলরিককে আমার থেকে সেরা ভাই বলতে পারবে না।”
এতো গেল ইটাচির কম্পিটিশানে আসার ফিলার। সাইতামার আসার কারনটা বলা যাক এবার। ওর বিষয়টা আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। কারন, এই কম্পিটিশান জিতলেই, সে C র‍্যাঙ্ক থেকে এক লাফে S র‍্যাঙ্ক হিরো হয়ে যাবে। এতে ওর এলাউন্সও বাড়বে। আর তার ফলে ওকে ছাড়সমেত কেনাকাটার জন্যে শপিং মল চষে ফেলতে হবে না। সাইতামাকে চিয়ার আপ করার জন্যে গ্যালারিতে বসে আছে মুমেন রাইডার, অত্যন্ত সুপুরুষ পুরিপুরি প্রিজনার আর সাইতামার একমাত্র শিষ্য জেনোস।
পুরিপুরি প্রিজনার চুপচাপ বসে থাকলেও মুমেন রাইডার সাইতামার জন্যে “হিরো হিরো” বলে চিৎকার করে কি এক জ্ঞান গেয়ে যাচ্ছে। কিন্তু জেনোসের এসব দিকে মন দেবার সময় নেই মোটেই। সে ব্যস্ত তার সেন্সের অপোনেন্টকে স্ক্যান করতে। ইটাচির ফুলবডি স্ক্যান করে এসে চোখের কাছে আস্তেই চারদিকে এরোর ম্যাসেজ দেখতে পায় জেনোস। কিছু বুঝে উঠার আগেই ইটাচির গেনজ্যুতসুতে তলিয়ে যায় রোবোটিক দেহসম্পন্ন জেনোস। যদিও যারা চাকরা ইয়্যু করে না, তাদের ওপর গেনজ্যুতসু কাজ করে না। তবুও সামহাউ তা কাজ করল।
ওদিকে ইটাচিকে সমর্থন দিতে গ্যালারীতে দেখা যাচ্ছে সাস্কে আর শিসুই উচিহাকে। বুড়ো ধামরা এক ছোকরা যদি এক গাড়ির কোম্পানির নাম বলে চিৎকার করতে থাকে, তবে তাকে অস্বাভাবিক বলে ধরে নেয়ার নিয়ম। শিসুই আর থাকতে না পেরে, সাস্কেকে জিজ্ঞেস করল, “আচ্ছা সাস্কে। তোমার কি মনে হয়, কে জিতবে?”
-“কেন? নি-সান। ওই টেকো লোকটাকে হারাতে এক মিনিট টাইম লাগবে না নি-সানের।”
“কেন তোমার এমন মনে হল সাস্কে?” কিছুটা বিরক্তি মিশিয়ে জানতে চাইল শিসুই।
-“কেন আবার? কিশিমোটো সেন্সেই হিমসেলফ সেইড দ্যাট,……”
মাঝপথেই হাত তুলে ওকে থামিয়ে দেয় শিসুই। তারপর বলে,”আচ্ছা সাস্কে। তোমার নি-সান যেন আমার সাথে ব্যাটেলে কয়বার জিতেছে?”
সাস্কে হাতের কড় গুনতে থাকে,”১,২,৩,৪,…” হটাতই মুখ টা কালো হয়ে যায় ওর। কিন্তু, দৃঢ় গলায় বলল, “তাই বলে ওই টাকলুটা নি-সানের জন্যে কোন ম্যাচই না”
-“বাকা,… আই মিন, বোকা! ওই চকচকে টাকটাই ইটাচির গেনজ্যুতসুর বিরুদ্ধে ওর প্রধান অস্ত্র। ইটাচি এর জন্যেই গেনজ্যুতসু কাস্ট করতে পারবে না। কারন, তা সাইতামার ওই চকচকে টাকে লেগে রিফ্লেক্ট করবে। উলটো ইটাচি নিজেই নিজের জ্যুতসুর স্বীকার হবে।”
সাস্কে অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে সাইতামার দিকে।
ওদিকে ব্যাটল শুরু ইঙ্গিত দিল রেফারি ইযায়া ওরিহারা। ম্যাচ হচ্ছে একটা বিশাল উপত্যকার মতন জায়গায়, যার চারিপাশে স্টেডিয়ামের মতন করে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জায়ান্ট স্ক্রিনও আছে দর্শকের সুবিধার জন্য। কমেন্ট্রির দায়িত্ব রয়েছে হিসোকা আর গিনতোকির ওপর। আজকের ফাইনাল ম্যাচের আগে এবারের এইচ.এস.সি পরীক্ষার মতোই ২৮ দিনের মতো গ্যাপ পায় ওরা প্রিপারেশানের জন্যে। সে জাজ্ঞে।
লড়াই শুরু হয়ে গেল। কিন্তু, একি!! সাইতামা তখন তার বেল্ট ঠিক করছে। ইটাচি থমকে দাড়িয়ে ওকে জাজ করতে থাকে ওর শারিঙ্গান দিয়ে। এর পরে অ্যাটাকে যাবে কেয়ারফুল্লি।
সাইতামা বেল্ট পরিষ্কার করতে থাকে।

সাইতামা বেল্ট পরিষ্কার করে ওর দিকে তাকিয়ে ছোট্ট করে একটু মাথা ঝাকায় । যার অর্থ, সে রেডি। এরপর, হটাতই ইটাচির একেবারে সামনে এসে পরে। সাইতামা নিরাসক্ত শুরে শুধু বলল, “কঞ্জিকিউটিভ নরমাল পাঞ্চো”
ইটাচি দেখলো সাতামা লুফির থার্ড গিয়ার ইয়্যুজ করলো যেন। দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখালেও সাইতামার শক্তি আর এজিলিটি দেখে প্রশংসার সুরে বলল, “উইদ আউট অ্যা ডাউট ইয়্যু আর স্ট্রং, বাট নট ম্যাচিউরড”। বলেই কাক হয়ে উড়ে যেতে থাকে ও। ওদিকে সাইতামা কঞ্জিকিউটিভ নরমাল পাঞ্চ দিতে গিয়েই বোকা বনে যায়। কাকে পাঞ্চ করবে এই মহাশক্তিধর এক ঘুষি-মানব? ইটাচি তার আগেই স্রেফ উড়ে গেছে ওখান থেকে। শুধু অবাক হওয়ার এক্সপ্রেশান দেখা যায় সাইতামার চোখেমুখে। মুখে শুধু বলল, “ও……..”
পাঞ্চ থামিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সাইতামা। ইটাচি বুঝলো এটাই তার মোক্ষম সময় আঘাত হানার একই সাথে অপনেন্টকে রিড করার। হ্যান্ড সাইন ওয়েভ করে বল্লল, “ফায়ার স্টাইল, ফিনিক্স ফ্লাওার জ্যুতসু”
অবাক হয়ে পুরো গ্যালারী দেখল, ফিনিক্স পাখির মতোই ইটাচির মুখ দিয়ে বিশাল আগুনের গোলা ছুটে গেল সাইতামার দিকে। ওদিকে কিছু বুঝে উঠবার আগেই সাইতামা দেখলো তার দিকে ভয়ঙ্কর রকমের আগুন তেড়েফুড়ে আসছে। ইটাচি দেখল, মুহূর্তের নোটিসে হাওয়া হয়ে গেছে সাইতামা। ও জানে এই সুযোগ হাতছাড়া করবে না ওই টেকো লোকটা। আক্রমনে যাবেই। তাই সাথে সাথেই সুসানো এরাইজ করলো ও। ওর লাল রঙ্গা সুসানোর এক হাতে ইয়াটা মিরর অন্য হাতে টোতস্কা ব্লেইড।
চোখের কোনে হালকা নড়াচড়া ধরা পরতেই, ইয়াটা মিরর টা সেদিকে পেতে দিল ও। ইয়াটা মিররের বিশেষত্ব হল, তা যে কোন নিনজ্যুতসুকেই কাউন্টার করতে পারে তার আরেকটা চাকরা নেচার দিয়ে। কিন্তু, পিউর এনার্জির কথা আলাদা। তবে এক ঘুষি মানবের ভয়ানক “নরমাল পাঞ্চ” তা ঠেকিয়ে দিতে পারল কোনোমতে। তবে এর পেছনে ইটাচি ফ্যানদের কারসাজি ছিল নাকি সাইতামার ঘুষি আসলেই অতটা পাওয়ারফুল না, সে বিতর্কে না যাই।
ঘুষিটা ঠেকিয়ে দিতে দাতে দাত বাড়ি খায় ইটাচির। কিন্তু, একি!! পুরো গ্যালারি লক্ষ্য করলো একটা ঝোড়ো বাতাসের গতিতে কিছু একটা প্রচন্ড গতিতে ছুটে বেড়িয়ে যায় গ্যালারী থেকে। সবাই তাকিয়ে দেখল, সাইতামার টিকিটিও নেই ব্যাটেল গ্রাউন্ডে।
নিয়মানুযায়ী মঠে প্রতিযোগী ১০ সেকেন্ডের বেশি সময় অনুপস্থিত থাকলে সে ডিস্কোয়ালিফাইড হয়ে যাবে। রেফারি, ইযায়া অরিহারা গুনতে শুরু করে, “১,…..২” দুই গুনে শেষও করতে পারে না, তার আগেই ঠিক ইটাচির পেছনে ধুমকেতুর বেগে হাজির হল সাইতামা। দ্রুত নড়াচড়া ধরা পড়ল ক্যামেরায়। ইটাচির ব্রেইন নড়াচড়া করার জন্যে শরীরে সিগ্ন্যাল পাঠানোর সময়টুকু পায় না। এইটুকুন সময়ের ভিতরেই পুরো পৃথিবী একবার প্রদক্ষিণ করে এসেছে এই C র‍্যাঙ্ক হিরো সাইতামা। তার ডান হাতটা ওর পিঠের ৪ ফিট দূরে এনেই থামিয়ে দিল সাইতামা।
প্রচন্ড ধাক্কায় ইটাচি যেন স্রেফ উড়ে গেল, গ্যালারীর কাছাকাছি জায়গায় মাটিতে আছাড় খেয়ে পড়ল। সুসানো আগেই ভেঙে গেছে ওর। ঊঠে দাঁড়াতে গিয়ে টলতে থাকে। অনেকটাই বিধ্বস্ত লাগছে ওকে। আর রেফারি ইযায়া তখন মিটিমিটি হাসছে। হাঁসতে হাঁসতেই মনে মনে বলল, “অয়েল নাউ। ডাজেন্ট হী রিমাইন্ড মি এবাউট শিজ্যু-চান?”
পরবর্তী ৫মিনিট ইটাচি ক্রমাগত তাইজ্যুতসু স্কিল এর প্রদর্শনী দেখিয়ে গেল। সাইতামা ওর একের পর আঘাতগুলো ঠেকিয়ে দিতে থাকে। কিন্তু, পালটা কোন আঘাত ইচ্ছে করেই হানছে না, নাকি তার ফুসরত পাচ্ছে না, তা নিয়ে খুনোখুনি বেধে গেছে গ্যালারিতে।
তবে, ওদিকে ইটাচি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। যেভাবেই হোক এডওয়ার্ড এলরিক কে পেছনে ফেলে সেরা ভাইয়ের তকমা তার চাই-ই চাই। তার জন্যে ট্রফিটা সাস্কে কে উপহার দেবে। এতে যদি তার ইজানামি ইয়্যুজ করতে হয়, তবে তাই করবে ও। হুম, ইযানামিই ইয়্যুজ করবে ও। ইজানামি তে একটা চোখ হারাবে সে। কিন্তু তাতে কি? নাগাটোর কাছে থেকে তার রিনেঙ্গান টা ছিনিয়ে নেয়া ওর জন্যে 1-2 এর ব্যপার।
ইটাচি দাড়িয়ে দাড়িয়ে চিন্তা করছিল। ওকে দাঁড়াতে দেখেই, সাইতামাও দাঁড়িয়ে পড়লো। এক আঙ্গুল দিয়ে কান চুলকাতে থাকে ও। তারপর সে আঙ্গুল দিয়ে আবার নাক চুলকাতে শুরু করল, সবশেষে পশ্চাতদেশ। ঠিক সে মুহূর্তেই ইজানামি কাস্ট করল ইটাচি।
এতে যা হবার তাই হল। সাইতামা, কান, নাক আর পশ্চাতদেশ চুলকানোর ভেতর একটা লুপে আটকে গেল। বাড়বার ঘুরে ফিরে একই কাজ করতে থাকল সে। মনে মনে হাসলো ইটাচি। ওর কাছে হার স্বীকার না করা পর্যন্ত এই লুপ থামবে না। বাস্তব জগতে স্থির হয়ে দাড়িয়ে থাকাতেই, হটাত সাইতামা লক্ষ্য করলো ওর গালে একটা মশা বসে রক্ত খেতে শুরু করে দিয়েছে। আর যাই হোক, সাইতামা মশা সহ্য করতে পারে না। সঙ্গে সঙ্গেই টাশশশশ! করে চড় বসাল নিজের গালেই। মশাটা মারা পড়ল তৎক্ষণাৎ।
আর ওদিকে ইটাচি অবাক হয়ে দেখল, স্রেফ মশা মারতে গিয়ে ওর ইজানামি ব্রেক করে ফেলেছে ওই C র‍্যাংক হিরো সাইতামা। আর ইজানামি ইয়ুজ করার সাথে সাথেই ওর এক চোখ সাদা হয়ে গেছে। তার সাথে সাইতামার সেই চার ফিট দূরে থামিয়ে দেয়া ঘুষির এফেক্ট দুইয়ে মিলে কাবু করে ফেলেছে ইটাচিকে। মুখ থেকে গলগল করে রক্ত বেরুতে থাকে ওর। হাটু গেরে বসে পড়ল।
দেখতে পেয়েই ছুটে এল সাইতামা। “তুমি অসুস্থ! ওয়ে, জেনোসে! ওকে হাস্পাতাল নিতে হবে!” বলে চিৎকার করে ও। ফিরল, ইটাচির দিকে।
ইটাচি যেন মৃদুস্বরে বলতে থাকে,”বাস্টার্ড! ইয়্যু অয়্যারন্ট ইভেন ফাইটিং!”
ম্যচ রেফরি ম্যাচ সমাপ্ত গোষনা করতেই গ্যালারী চঞ্চনল হয়ে উঠলো আবার।
আর ওদিকে কমেন্টেটোর গিন্তোকি বলতে থাকে, “ইভেন ইফ আর দ্যা মেইন ক্যারেক্টার অফ ইয়োর শো, ইয়্যু স্টিল মেয় ডাই। আই বেটার বি কেয়ারফুলাত্তাবায়ো”
——————–­সমাপ্ত————–­———–
বিঃদ্রঃ সকল ইটাচিটারডদের জন্যে ফিকশানটা উৎসর্গ করা হল!
(আই বেটার বি কেয়ারফুল, দাত্তেবায়ো wink emoticon )

ক্যারেক্টার রিভিউ: গারা [আনিমে – নারুতো] — Goutam Debnath Sagar

Gaara-gaara-of-suna-27045252-1024-768

নামঃ গারা, গারা অফ দা সেন্ড, গারা অফ দা ডেজার্ট।
এনিমেঃ নারুতো

সে এখন বালুর দেশের প্রধানমন্ত্রী (বা ঐ রকমের কিছু :v)। জাপানের ভাষায় কাজেকাগে। তার গাঁয়ের সবাই এখন তার প্রতি নির্ভরশীল, তাকে ভালোবাসে। বারে বারে এখন বলছি কেন? কারন তার অতীত খুব একটা সুখকর ছিল না। চলুন তার জন্ম থেকেই শুরু করি।
তথাকথিত সকল গ্রামের মধ্যে শক্তির সুষম বন্টনের শিকার হয়ে তাকে ‘শুকাকু’ এর জিঞ্ছুরিকি হতে হয়। এটি সম্পন্ন করতে গিয়ে তার মায়ের করুন মৃত্যু হয় আর সে তার ‘গারা'(শাব্দিক অর্থ হচ্ছে ‘ a self loving carnage’ মানে যে অসুর শুধু নিজেকে ভালবাসে) নামটি পায়। সবার ঘৃণার জন্যই হোক বা নিজের নামের সার্থক করার জন্যই হোক গারা দিনে দিনে এক অসুরে পরিণত হয়, সে খুনের মধ্যেই তার জীবনের অর্থ খুঁজে পায়।
এখন কথা হচ্ছে নারুতোও তো একজন জিঞ্ছুরিকি, গারা কেন নারুতোর মতো হল না? কারণ নারুতো পেয়েছিল একজন ইরুকা সেন্সেই, একজন কাকাশি সেন্সেই। অপর দিকে গারার একমাত্র আপনজন ছিল ইউশিমুরা (তার মামা) যে নাকি মারা যাওয়ার সময় গারার জীবনকে আরো অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেয়। যাইহোক পৃথিবীর সকলকে খুন করার আগেই নারুতোর সাথে চুনিন এক্সামের সময় গারা ‘ভালবাসা’, ‘ব্যাথা’, আবেগ ইত্যাদি বুঝতে সক্ষম হয় এবং দেশ ও দশের কল্যানে নিজেকে বিলিয়ে দেওয়া শুরু করে।
কেন ভালবাসবেনঃ (সম্পুর্ণ নিজস্ব মতামত)
সমস্ত নারুতো সিরিজে গারাকেই একমাত্র ভয় জাগানিয়া (fearfull) ভিলেন লেগেছে।
তার সেইয়ু (সাব ডাব দুইটারই) অসম্ভব সুন্দর কাজ করেছেন।
ওর মত খুব সহজে খুন করার প্রতিভা নারুতোতে খুব কম দেখা গেছে।
তার ট্রেজেডিক জীবন তাকে ভালোলাগার অন্যতম কারন।
সর্বোপরি তার calm nature এনিমে জগতে তাকে অন্যতম উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

শেষ করতে চাই এইটা বলে, কিশিমত সেন্সেই at least ওরে কোন মাইয়ার সাথে জুইড়া দিতে পারতো। গারার সমস্ত জীবন গেল অন্যের জন্য কাজ করতে করতে। T-T

4381168-4379879-gaara-wallpaper-1024