Keijo!!!!!!!! [রিভিউ] — Homayed Naser

Keijo

Keijo!!!!!!!!
জনরাঃ শৌনেন, স্পোর্টস

২০১৬ সালের এনিমে জগতে সারা জাগানো একটি এনিমে এটি। এনিমে জগতে এর আগে এভাবে সারা ফেলতে দেখা গিয়েছিল হাইস্কুল ডি এক্স ডি, ফেইরি টেইল এর মত এনিমেকে। হাই স্কুল ডি এক্স ডি যদিও বা আমাদের অনেকেরই প্রিয়, কিন্তু ফেইরি টেইল অধিকাংশ দর্শকদের কাছে মাস্টারপিস হিসেবে বিবেচিত। কিন্তু এ মাস্টারপিস এনিমের ফ্যানরা এখন নিজেরাই ভয়ে আছে কারন এনিমেটি ফ্যানসারভিস জেনারের বিধায় নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে স্বার্থকভাবে সফল হয়েছে। কারণ কেইজো নামের এনিমেটি তথাকথিতভাবে ফেইরি টেইল এনিমেটির মত শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা না চালিয়ে সরাসরি ফ্যান সারভিসকেই একটি নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত হিসেবে স্থাপন করতে পেরেছে যা এনিমে জগতকে আরও সামনের দিকে অগ্রগামিতার ভার বহন করে।

এনিমেটির প্রধান চরিত্র কামিনাশি নোজোমিকে ঘিরেই মুল গল্পের সৃষ্টি।
এবং আরও তিনটি চরিত্র যারা নোজোমির রুমমেট তারাও গল্পে বহুলভূমিকা পালন করে।গল্পটি মূলত একটি শিল্পকলাকে ঘিরে। এবং এ শিল্পকলার মূলে রয়েছে কেইজো নামের একটি খেলা যেখানে পশ্চাতদেশ ও উরোজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিভিন্ন কারুকার্যের মাধ্যমে পশ্চাতদেশ ও উরোজ এর সঠিক ব্যবহার করে একে অপরকে সেগুলো দিয়ে ধাক্কা অথবা ছোয়ার মাধ্যমে পুকুরে অথবা সুইমিং পুল এ ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে খেলাটি সম্পন্ন হয়। খেলাটি ছোট মেয়ে থেকে শুরু করে প্রাপ্ত বয়স্ক মহিলারাও খেলতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যেটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তা হল সুগঠিত পশ্চাতদেশ, এবং বিভিন্ন বেয়ামের মাধ্যমে এনিমের চরিত্রদল তাদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ করে যা এনিমেটিকে একটি অনন্ত মাত্রায় নিয়ে যায় যা অনেক স্পোরটস আনিমেকেই হার মানায়।

প্রতিটি চরিত্রই এক একটি অনন্য কীর্তি। তাদের দেহের শুষম বন্টন এবং পশ্চাতদেশ ও উরোজের প্রয়োগ প্রশংসার দাবিদার। লেখককে এক্ষেত্রে বলতে হবে যে সে খুব চমৎকার ভাবে প্রতিটি চরিত্রকে ধারণ করেছে এবং তার অনন্যতম শৈলীগুলোর একটি।তাদের খেলার সময় ধারনকৃত প্রতিটি বিশেষ হামলা তাদের নিজ নিজ গুনাবলীর বহিঃপ্রকাশ।
এনিমেশনের বেপারে বলতে গেলে এক কথায় অসাধারণ। কারণ অনেক এনিমেই এরকম পশ্চাতদেশ এবং উরোজের মাধুরি দেখাতে গিয়ে খুব বাজে ভাবে ব্যর্থ হয়েছে যা কেইজোর ক্ষেত্রে ঠিক উলটো।
তো এ মাস্টারপিসটিকে অন্তত এ গ্রেড তো দেয়াই যায় নাকি? আপনারা কী বলেন?

Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion [রিভিউ] — Towhid Chowdhury Faiaz

Neon Genesis Evangelion

Neon Genesis Evangelion + End of Evangelion
পর্ব সংখ্যা- ২৬ পর্ব + ১ ছবি
জনরা-সাই-ফাই,মেকা, সাইকোলোজিকাল ড্রামা
M.A.L. রেটিং-৮.৩২/১০
ব্যক্তিগত রেটিং-১০/১০

১৯৯৫ সালের গাইনেক্স প্রযোজিত হিদেয়াকি আনো পরিচালিত নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনকে ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী এনিমে হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৯৯৫ সালে মুক্তির পর এনিমেটি প্রাপ্ত বয়স্ক দর্শকদের মধ্যে প্রশংসা লাভ করে এবং জাপান সহ পৃথিবীর বহু দেশে অনেক খ্যাতি পায়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন আমার সবচেয়ে প্রিয় ৩ টি এনিমের মধ্যে একটি এবং আমার মতে সবচেয়ে সেরা ৫ এনিমের মধ্যে একটি (বাকি ৪ টি হলো কাউবয় বিবপ, মন্সটার, লেজেণ্ড অফ দা গেলাকটিক হিরোস, দা তাতামি গেলাক্সি)। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী সাহসের সাথে বিভিন্ন রকমের ধার্মিক, মনস্তাত্বিক এবং কঠিন বিষয় মোকাবেলা করে। কেবল এনিমের জন্য নয়, টিভি শো কিংবা চলচিত্রতেও এসব বিষয় দুর্লভ।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মূলত অ্যাঞ্জেল নামক দৈত্যরা পৃথিবীতে হামলা করেছে।তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য মানব জাতি ইভানগেলিওন নামক রোবট বানায়। ১৪ বছর বয়সী শিনজি ইকারিকে এই ইভানগেলিওনের সাহায্যে পৃথিবী বাচাতে হবে। আপনি মনে করছেন এখানে জটিল কিংবা কঠিন কাহিনী কোথায়? এটা তো খুবই সাধারণ কাহিনী তাই না? বাংলায় একটি প্রবাদ আছে, ”বহিরাবরণ দেখে কাউকে বিচার করতে নেই”। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনীটাও ঠিক সেরকম। প্রথম দেখায় খুব সহজ মনে হলেও পুরোটাই জিলাপির প্যাঁচে ভর্তি।নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের কাহিনী মানুষের বিভিন্ন মনস্তাত্বিক বিষয় যেমন সমব্যথী, আত্মঘাতী, বিষাদগ্রস্ততা, অন্যান্য মানুষের কাছে নিজের পরিচয় খুঁজে পাওয়া নিয়ে উদ্দিগ্নতা, জীবনের পরিচয় এবং অর্থ উপলব্ধি করা ইত্যাদি বিষয়ের উপর ভিত্তি করে গঠিত। প্রতিটি অসাধারন কাহিনীর পেছনে অসাধারন চরিত্র সমূহের ভূমিকা থাকে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন এনিমেও এই রীতি থেকে ভিন্ন নয়। অনুষ্ঠানটির কাহিনীর মতো এর চরিত্রসমূহও প্রথম দেখাতে সাধারণের বাইরে কিছু মনে হয় না। অনুষ্ঠানটি না দেখেই খুব সহজেই বলে দেয়া যায় যে শিনজি একজন ভীত ছেলে যে নিজের জন্য কিছু করতে পারে না কিংবা আসুকা একজন নিদারুণ প্রকৃতির মানুষ। কিন্তু তা সত্যি নয়। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রেরই রয়েছে কঠিন অতীত জীবন। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের প্রতিটি চরিত্রের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে নিষ্ঠুর নৈতিক প্রেষণা। এখনকার দিনে খুব সহজেই এনিমে বানানো যায় যে ১৫-১৬ বছরের কিশোরেরা বড় বড় দেয়ালের পেছন থেকে আক্রমণ করে বিশাল দৈত্যদের বিরুদ্ধে নির্ভয়ের সাথে যুদ্ধ করছে। কিন্তু বাস্তবতা কি এতই সহজ? এরকম অবস্থায় একজন ১৪-১৫ বছরের কিশোরের মানসিক অবস্থা বাস্তবতার সাথে মিল রেখে ফুটিয়ে তুলেছে নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওন। এটি কোন পৃথিবী রক্ষার সাহসিকতার কোন রুপকথা নয় বরং এটি জীবনের নিষ্ঠুর প্রকৃতির পথ চলা নিয়ে, এরকম কঠিন পরিস্থিতির মোকাবেলায় ধীরে ধীরে মানসিক ভাবে নিজের জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ণ হওয়া নিয়ে। শিনজি এবং আসুকা আমার মতে এনিমের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা দুটি কিশোর চরিত্র। লাইট ইয়াগামি এবং লেলুস যুদ্ধের ক্ষেত্রে খুবই প্রতিভাবান হলেও তাদের চরিত্র লেখার সময় প্রতিটি বিষয় এত যত্নের সাথে সবিস্তরে লেখা হয় নি যেভাবে শিনজি এবং আসুকার চরিত্রে লেখা হয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের এনিম্যাশন সেই সময়ের জন্য বৈপ্লবিক ছিল। এমনকি মুক্তি পাবার ২১ বছর পরেও ইভানগেলিওন ও অ্যাঞ্জেলদের মধ্যকার যুদ্ধ গুলো চোখ ধাদানো মনে হয়। অনুষ্ঠানটির সঙ্গীত প্রযোজনা করেছে শিরো সাগিসু, এবং সে তার ভূমিকা দুর্দান্ত ভাবে পালন করেছে। এনিমেটির সূচনা গান ‘’A Cruel Angel’s Thesis” আমার খুবই পছন্দের।

আপনি যদি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিনের নাম শুনে থাকেন বা দেখে থাকেন তাহলে আপনি নিশ্চয়ই এর শেষ দুই পর্ব নিয়ে জানেন। এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কবাদী দুটি পর্ব। প্রথম দিকে বুঝতে কিছু সমস্যা হলেও আশা হারাবেন না এই পর্ব দুটি নিয়ে। অনেকেই এই পর্ব দুটি দেখে বুঝার চেষ্টা করে না কিন্তু কিছুটা সময় নিয়ে চিন্তা করলেই আপনি পর্ব দুটির মহত্ত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন

End Of Evangelion:
অনেকেই মনে করে যে এই ছবিটি নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের সঠিক সমাপ্তি। কথাটিতে যেমন সত্যতা রয়েছে তেমনি ভুল রয়েছে। নিওন জেনেসিস ইভানগেলিওনের শেষ পর্ব দুটি মূলত এন্ড অফ ইভানগেলিওনের কাহিনীর সময় শিনজি ইকারির মনে এবং মস্তিস্কে কি হচ্ছিল তার উপর। কাহিনীটি পুরোপুরি বুঝতে দুটিরই প্রয়োজন রয়েছে। এই দুটি ভিন্ন সমাপ্তি একত্রে মিলে আপনাকে এনিমের ইতিহাসের সবচেয়ে সন্তুষ্টিকর সমাপ্তি গুলোর মধ্যে একটি দিবে।
এরপর আপনার ইচ্ছা হলে আপনি রিবিল্ড ছবি গুলো দেখতে পারেন। ছবিগুলো খারাপ নয় এবং অনেক বিনোদনকারী, কিন্তু মুল অনুষ্ঠানটির মতো অসাধারণ নয়। এর মূল কারণ আমার কাছে শিনজি, আসুকা এবং রেয়ের চরিত্রের পরিবর্তনের বিষয়টি ভালো লাগে নি।

গ্রেট টিচার ওনিযুকা – আনিমে সাজেশন দিয়েছেন ইশমাম আনিকা

Onizuka.Eikichi.full.291265

কিভাবে একটি টিপিকাল শৌনেন আনিমে বানাবেন যাতে সেটা টিপিকাল না লাগে?

বিখ্যাত কোন একটি টিপিকাল শৌনেন আনিমে (ধরে নিলাম ওয়ান পিস) নিন। সেখান থেকে “গ্রেটেস্ট জলদস্যু হতে চাই” রিপ্লেস করে বসিয়ে দিন “গ্রেটেস্ট টিচার হতে চাই”। নাকামা রিপ্লেস করুন স্টুডেন্ট দিয়ে, শত্রু রিপ্লেস করুন স্কুলের ফ্যাকাল্টি দিয়ে। অবশ্যই শত্রুদের মাঝেও কেউ কেউ হিরোর পক্ষে থাকবে, এবং নাকামারা শুরুতে হিরোকে এক্সেপ্ট করতে পারবে না। এটাও রুলের মধ্যেই পড়ে। হিরো হবে কেয়ারফ্রি এবং যা হতে চায় সেটা হওয়ার পূর্বশর্তেই গোড়ায় গলদ থাকবে (পাইরেটের সাঁতার না জানা, অথবা টিচারের এডুকেশন ব্যাকগ্রাউন্ড জঘন্য হওয়া)। তার কাজকর্ম দেখে নাকামাদের মাথায় হাত পড়া বাধ্যতামূলক, কিন্তু যখন সিচুয়েশন একেবারেই হাতের বাইরে চলে যাবে, তারা বলবে “ইন লিডার/টিচার উই ট্রাস্ট”। এবং দুনিয়ার সব ব্লাণ্ডার ঘটিয়েও আলটিমেটলি যখন প্রোটাগনিস্ট মন থেকে একাগ্রচিত্তে কোন কাজ করতে বসবে নাওয়া খাওয়া ভুলে, ঠিকই অসম্ভবকে সম্ভব করবে। রেসিপি শেষ, আর রেসিপি ফলো করে আমরা পেয়ে গেলাম, এক টুকরো শিক্ষক, থুক্কু, “গ্রেট টিচার ওনিযুকা”।

এখন ওনিযুকা ফ্যানরা আমাকে শাপশাপান্ত শুরু করার আগেই বলি, টিপিকাল শৌনেন তো কোন খারাপ কিছু না! আমি উপরোক্ত রেসিপি দিয়ে ওনিযুকাকে খারাপ বলছি না, আনিমেটা আমার বেশ ভাল লেগেছে। বরং কথাগুলোকে পজেটিভলি এভাবেও নেয়া যায়, সাধারণ শৌনেন প্যাটার্ন ফলো করেও আনিমেটা আমাদের সমাজে প্রচলিত অনেক সমস্যা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে পেরেছে, তাদের বাহবা প্রাপ্য।

ইন্ট্রোতেই বলে দিয়েছি ওনিযুকার কাহিনী কেমন হতে পারে, আর বলার দরকার আছে মনে করছি না। শুধু কিছু পয়েন্ট উল্লেখ করব,

স্টুডিও পিয়েরট এর তৈরি আনিমেটা সেই ১৯৯৯ সালের, আর্ট সেরকম, এটা মাথায় রেখে দেখতে বসলে ভালই লাগে।

এত পার্ভি জিনিসপাতি মাঝেমাঝে ভালই বিরক্তিকর লেগেছে, তবে মনে হয়না সেটা তেমন বেশি মানুষকে ভুগিয়েছে।

জাপানের হাইস্কুলের মেয়েরা মনে হয় সবাই এরকম হাড়বজ্জাত, নইলে মাঙ্গাকা মেয়েদের দেখতে পারে না। একেবারে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জ্বালায়ে শেষ করসে -_-

লাস্ট এপিসোডটা এরকম ফালতু না হলেও পারত। পুরো ৪২ টা এপিসোড ভালই দেখলাম, লাস্টে এসে এমন একটা এন্ডিং দিল :/

যাহোক, ওভার অল আমার মনে হয় সবারই ভাল লাগার মত আনিমে এটি, রিকমেন্ডেড।

২০১৬ সালে আমার দেখা সেরা আনিমেগুলো — Imamul Kabir Rivu

২০১৬ সালে আমার দেখা সেরা আনিমেগুলো:

#4

Anime: Kono Bijutsubu ni wa Mondai ga Aru
Episodes: 12
Genres: Comedy, Romance, School

কখনও এরকম কোন ভালোবাসায় জড়িয়েছেন, যিনি কি না কখনই আপনার দিকে ফিরে তাকায়নি, konobiju 1যত ক্লুই দেন না কেন যে তার প্রতি আপনার এক অন্যরকম দূর্বলতা আছে সে কখনই বুঝেনি। নিজের দুনিয়ার চরিত্রদের নিয়েই পরে রয়েছে, আপনার সাথে ভালো খাতির থাকা সত্বেও কখনও আলাদা রকম ভালোবাসা হয়নি তাও আপনি নিজের মত ভালোবেসে গেছেন সেই মানুষটিকে। এরকম এক প্রেমের মাঝেই জড়িয়ে পরে এই আনিমের প্রধাণ চরিত্র উসামি মিজুকি। তবে কথাগুলো শুনে কোন কষ্টের প্রেমকাহিনী মনে হলেও আনিমেটা আসলে এর ১৮০ ডিগ্রি উল্টো জিনিশ। অতি সাধারণ একটা রমকম আনিমে হলেও, একটা রমকম আনিমে হিসেবে সবদিক থেকে সফল এমন কোন আনিমের উদাহরণ কোনোবিজু।

কাহিনীর মূল সেটিং এক আর্টক্লাব ঘিরে। সেখানেরই দুইজন সদশ্য উসামি মিজুকি এবং উচিমাকি সুবারু, উসামির সুবারুর প্রতি ভালোবাসা জন্মালেও, সুবারুর মন পরে থাকে একগাদা মেয়ের উপর। তবে তারা 3D নয় বরং 2D. তার 3D মেয়েদের প্রতি নুন্যতম আকর্ষনটুকুও নাই। এবং তার আর্টক্লাবে ঢুকার মূল কারণও এক পার্ফেক্ট ওয়াইফু আঁকা। বিভিন্ন রকম উপায়েই উসামি সুবারুর প্রতি যে তার ভালোবাসা আছে তা প্রকাশ করতে যায় এবং সেউ উপায়গুলো অধিক পরিমাণের হাস্যকর, যা এই আনিমের মূল আকর্ষণ। তবে কাহিনী যে এই দুই চরিত্রকে ঘিরে, তা একেবারেই না। সেই ক্লাবেই রয়েছে আরও চরিত্র যেমন তাদের অলস ক্লাব প্রেসিডেন্ট, কোলে-চান, ইমারি, ইয়ুমেকো সেন্সেই এবং আরও অনেক চরিত্র যারা আনিমেটাতে এক বড় ধরণে রোল প্লে করে। তাদের আর্টক্লাবের ভেতরেই উসামি ছাড়া আর কেউ চারুকলা নিয়ে অতটা সিরিয়াস না এবং তাদের প্রতিদিনের হাস্যকর কাজকারবারই আপনার এই আনিমে আরও বেশি করে উপভোগ করাবে।

আর্ট সবমিলায় ভালো ছিল। খুব অসাধারণ কিছু না তবে সুন্দর। মিউজিকের ব্যাপারেও একই মন্তবই। অতি সাধারণ স্তরের জিনিশ হলেও অনেক বেশি উপভোগ করার মত এক আনিমে। ওপেনিং-এন্ডিং সাধারণ মোয়ে আনিমের মতই।

আনিমেটার মূল আকর্ষণ এর কমেডিক এলিমেন্ট এবং মজাদার চরিত্রগুলো। আনিমের সবকিছু সাধারণ হলেও হাসির মুহুর্তগুল যেই সেই আনিমেতে দেখা যায় না এমন।

এর সাথে ছিল আনিমের অসাধারণ ক্যাস্ট। এরকম অসাধারণ রমকম আনিমেতে হিরোইনের কণ্ঠে সবচেয়ে বেশি ওজাওয়া আরিকেই মানায়। আগে গেক্কান শোজোতেই সাকুরা চিয়োর রোলে তা প্রমাণ করে, এবার মিজুকির কণ্ঠেও তিনি সফল ছিলেন । সাথে উচিমাকি সুবারুর কণ্ঠেও ছিল নাৎস্কি সুবারুর সেইয়ু কোবায়াশি ইয়ুস্কে, এর আগেও এরকম অতি সাধারণ কিশোরদের কণ্ঠ দিয়েছেন এই লোক যেমন আর্স্লান (Arslan Senki) এবং তাকামিয়া হোনোকা (Witch Craft Works) এই থেকে বিবেচনা করলে উচিমাকির কণ্ঠে তিনি সফল তা খুবই স্বাভাবিক ছিল এবং তা হয়েছেও। সাথে কোলে-চানের কণ্ঠে উয়েসাকা সুমিরে এবং ইমারির কণ্ঠে তোয়ামা নাও দুইজনই অনেক ভালোভাবেই চরিত্রগুলোকে তুলে ধরতে পেরেছেন। সব মিলায় কাস্ট সিলেক্টিং অনেক ভালো ছিল এবং এর ফলাফলও ভালো। এছাড়া বাকি চরিত্রদের কণ্ঠেও ছিল নানা মিজুকি, কোমাৎসু মিকাকো, তোকুই সোরা এবং মাওর মত ভালো ভালো সেইয়ু।

সবমিলায় শুধু ২০১৬ না বরং যা যা আনিমে দেখেছি, সবকিছুর মাঝেই কোনবিজু আমার অত্যন্ত প্রিয় একটা আনিমে। যদি রমকম আনিমে আপনার অতিপ্রিয় হয়ে থাকে, তাহলে যত তারাতারি পারুন এই আনিমে শুরু করে দেন।

konobiju 2

#3

Anime: JoJo’s Bizarre Adventures Part 4: Diamond is Unbreakable
Episodes: 39
Genre: Action, Adventure, Comedy, Supernatural, Drama, Shounen

কোন সিরিজ নামকরন অনুসারে এতটা সফল না, যতটা না জোজোর ক্ষেত্রে বলা যায়। পুরো jojo 4-1সিরিজটা আসলেই জোস্টার পরিবারের কোন না কোন সদশ্য সংক্ষেপে জোজোকে ঘিরে ঘটা এক ধারাবাহিক উদ্ভট অভিযান। পার্ট ৪-ও আগের ৩ পার্টের মত এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে।

জোজোর এই পার্টের পটভূমি ১৯৯৯ সালে, জাপানের কোন এক স্থানে অবস্থিত কাল্পনিক এক শহর যার নাম মোরিয়োহ। প্রত্যেক পার্টের মত এই পার্টের মূল চরিত্রও এক ভিন্ন জোজো, জোস্টার পরিবারেরই একজন হিগাশিকাতা জোস্কে। যদিও এ পার্টেও পাবেন জোসেফ এবং জোতারোর ভালো পরিমান স্ক্রিনটাইম। পুরো ৩৯ পর্ব জোস্কের মোরিয়ো শহর জুড়ে বিভিন্ন রকম উদ্ভটসব অভিযান নিয়ে হলেও আগের পার্টগুলোর তুলনায় এই পার্টে রয়েছে বেশ ভালো পরিমান নতুনত্ব।

জোজোর আগের পার্টগুলোতে আগে থেকেই এক নির্দিষ্ট লক্ষ ধরেই আগাতে থাকে কাহিনী। কিন্তু এই অংশে জোস্কে, ওকুয়াসু এবং কোইচির অভিযান শুরু হয় এক অজানা লক্ষকে ঘিরেই। কাহিনীর শুরুর দিকটা কিছুটা ধীরে ধীরে আগায়, প্রথমে মনে হবে এ যেন এক স্লাইস অফ লাইফ আনিমে তবে যত পর্ব যেতে থাকে আনিমেটার কাহিনী আস্তে আস্তে জমজমাট হতে থাকে। আর আগের পার্টগুলোর সাথে তুলনা করলে, এ পার্টের ভিলেনের আগমনও তুলনামুলক পরেই ঘটে। তবে জোজো নামটা শুনলেই প্রথমে সবার মনে কোন এক মাচো ব্যক্তির ইমেজ আসে, এই পার্টে তা খুব একটা দেখা যাবে না। এই পার্ট থেকেই ক্লাসিক GAR ভাইব আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। এছাড়া আগের পার্টের তুলনায় এবার স্ট্যান্ড অ্যাবিলিটির মাঝেও দেখা যাবে নতুন অনেক কিছু। সবমিলিয়ে পুরা নতুন এক জোজো বলা যেতে পারে।

আর্টের মাঝেও রয়েছে নতুন এক ছাপ। David Productions-এর আনিমে হলেও তারা আগের পার্টের সেই আর্টস্টাইল ফলো করেনি। চরিত্র এবং স্ট্যান্ডের ডিজাইনেও এনেছে ভালো পরিমান পরিবর্তন। আগের ৩ পার্টের আর্টস্টাইলের সাথে অভ্যস্থ থাকলে, এই পার্টের আর্টের সাথে মানায় নিতে সময় লাগবে, কিন্তু পরে খাপ খেয়ে গেলে আর খারাপ লাগবে না। আর যদি আগের আর্টের সাথে অভ্যস্থ না হয়ে থাকেন কিংবা কোন কারণে পছন্দ না হয় তাহলে হয়তো ভালো লাগতে পারে। জোজোর আর্টের সাথে অভ্যস্থ হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কেউ এই উইনিক আর্টস্টাইলকে খারাপ বলতে শুনিনি।

আনিমেটার থিমের সাথে আনিমের ওএসটিও মানানসই। মেইন থিমটাই বেশ রক্তগরমকারি এবং যেসকল মুহুর্তে বেজে উঠে, সেই মুহুর্তগুলো আসলেই আরও বেশি উপভোগ্য করে তুলে। এছাড়া আগের পার্টের তুলনায় ওপেনিং-এন্ডিং গানের মিউজিক স্টাইলেও অনেক পরিবর্তন আনলেও এই পার্টের থিমের সাথে তা যথাযথভাবে মেনে গেছে। আর জোজোর প্রত্যেকটা ওপেনিং-এর মত এই পার্টের ওপেনিংগুলোও প্রথমে শুনে না ভালো লাগলেও, আস্তে আস্তে যত শুনবেন ততই নেশায় ধরবে। আর এন্ডিং গান পুরো আনিমেতে একটাই, তা হল Savage Garden-এর ‘I want you’, গানটা হয়তো আগেই অনেকেরই শুনা থাকতে পারে কেননা জোজোর প্রত্যেকটা এন্ডিংই বেছে নেওয়া জনপ্রিয় কোন ইংরেজি গান। এই গানটা আমারও অনেক পছন্দের।

এই সিরিজের এক সেরা দিক হল ক্যারাক্টার ডেভলপমেন্ট। বিশেষ করে ওকুয়াসু, কোইচি, হায়াতো এবং জোসকে এই ৪টি চরিত্রের চারিত্রিক ডেভলপমেন্ট ছিল দেখার মত। এছাড়া পুরো আনিমে জুড়েই দেখা যাবে নতুন অনেক চরিত্র। এদের মাঝে পুরো সিরিজে এক বড় রকম প্রভাব রাখে রোহান কিশিবে, ইয়ুকাকো ইয়ামাগিশি, শিগেচি, রেইমি সুগিমোতো এই চরিত্রগুলো। আর খলনায়ক হিসেবে কিরা অনেক ইয়ুনিক একটি চরিত্র, বছরের সেরা খলনায়কের দাবিদার এ। যদিও ব্যক্তিগতভাবে আমার কিরার চেয়ে বরং ডিয়োকেই খলনায়ক হিসেবেই ভালো লাগে।

সবমিলায় বছরের অন্যতম পার্ফেক্ট আনিমে হিসেবে বিবেচনা করলে, জোজো পার্ট ৪ এই তালিকায় অবশ্যই থাকবে। ক্রেডিট বরাবরের মত এবারও ডেভিড প্রোডাকশনেরই।

jojo 4-2

#2

Anime: Re:Zero kara Hajimeru Isekai Seikatsu
Episodes: 25
Genres: Psychological, Drama, Thriller, Fantasy

re zero 1গত বছরের সবচেয়ে জনপ্রিয় আনিমে কোনটা, এ নিয়ে একটা পোল খুললে হয়তো বেশির ভাগ ভোটই যাবে রি: জিরোর ঘরে। সত্যি বলতে আনিমেটা আসলেই উপভোগ্য ছিল বলেই এত বড় একটা ফ্যানবেজ পেয়েছে। যদিও আনিমেটা নিয়ে মতামত অনেকের অনেক রকম। শুরু থেকেই আনিমেটার একটা মাস্টারপিস হওয়ার অনেক পটেনশিয়াল ছিল তবে ২৫ পর্ব শেষে সেই পর্যায়ের কিছুই হয় নাই, কিন্তু হতাশ করার মত আনিমে একেবারেই না।

রি: জিরো তুলনামূলক ডার্ক একটা আনিমে এক ফ্যান্টাসি সেটিং এর উপর। কাহিনীর শুরু হয় আনিমের প্রধান চরিত্র নাৎসুকি সুবারুকে নিয়েই, সে হঠাৎ করেই এক স্টোর থেকে বের হয়ে বোঝার আগেই এক ফ্যান্টাসির জগতে টেলিপোর্ট হয়ে যায়। এরপর পুরা আনিমে জুড়েই দেখানো হয় সুবারুর উপর বিরতিহীন মানসিক অত্যাচার। সুবারু শুরু থেকেই এই নতুন জগত খুব পছন্দ করে এবং এর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এরপর থেকেই নতুন সব অ্যাডভেনচারের জড়িয়ে যান তিনি । যে জিনিশটা আনিমেটাকে আরও ইন্টারেস্টিং করে তুলে সেটা হল সুবারুর মরার পর আবার জীবিত হয়ে আসার ক্ষমতা। অনেকটা রিসেট করার মতই, এর জন্যই হয়তো সিরিজের নাম Re:Zero, শূন্য থেকে আবার শুরু করা । সুবারুর এই ক্ষমতা অনেকটা গেমের এক চেকপয়েন্টে গেম সেভ করার পর যদি আপনার চরিত্র মারা যায় তাহলে সেই চেকপয়েন্ট থেকেই আবার সে রিস্পওন করবে, অনেকটা এরকমই। তবে এই এক ক্ষমতার উপর কাহিনী অনেক নির্ভরশীল। এটা কাহিনীটা অনেক ইন্টারেস্টিং করলেও বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আড়াল করে গিয়েছে। এই পুরো অ্যাডভেনচারটা সুবারুকে ঘিরে হলেও সিরিজের আরও দুইটা ভাইটাল চরিত্র আছে তারা হল গল্পের প্রধান নায়িকা এমিলিয় এবং তার ডেমন মেইড রেম। তাদের জন্যই মূলত সুবারুর এত কিছুর মধ্য দিয়ে যেতে হয়। পুরো সিরিজ ৩টা আর্কের উপর বানানো এবং প্রত্যেকটার কাহিনীই আলাদ আলাদাভাবে ভালো। সবমিলায় গল্পটা অনেক ইন্টারেস্টিং, যদিও অনেক গভিরে গেলে সিরিজে ফ্ল-এর অভাব নাই। কিন্তু সেভাবে না চিন্তা করলে, সিরিজটা অপছন্দ হবে না কারো।

সিরিজের আর্টটা দুর্দান্ত। খুব হাসিখুশি মুহূর্ত অনেক উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরে হঠাৎ কোন ডার্ক মুহূর্তে ডার্ক আনিমেশন অনেক ভালোভাবে তুলে ধরেছে। সিরিজের ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক সুন্দর সাথে চরিত্রের ডিজাইন মনমুগ্ধকর এবং তাদের এক্সপ্রেশনগুলোও ফাটাফাটিভাবে তুলে ধরেছে। আর্টের মাধে এত সুন্দর কালার কম্পোজিশন, সিরিজের সেরা দিকগুলোর একটি।

মিউজিকও ছিল অসাধারণ। ভয়ঙ্কর মুহূর্তগুলোতে যেই মিউজিকটা দেয় সেটা অনেকটা আত্মা কাপানোর মতই। পুরো সিরিজের ইন্সার্ট মিউজিকগুলো অনেক ভালো এবং দৃশ্যের সাথে মানানসই। প্রথম ওপেনিং-টাই গাওয়া কোনোমি সুজুকির, পার্সোনালি অনেক প্রিয় একজন সিঙ্গার, তার প্রত্যেকটা গানই অনেক প্রিয় রিডুও তার ব্যাতিক্রম নয়। তবে ওপেনিং-এন্ডিংগুলো মূলত জমজমাট করে তুলেছে Myth & Roid, এই সিরিজটির আগে তাদের খুব একটা নামডাক ছিল না। কিন্তু তাদের গাওয়া ৩ টি গান Styx Helix, Straight Bet এবং Paradisus-Paradoxum খুবই চমৎকার ছিল, যার প্রথম দুইটি সিরিজের এন্ডিং (Straight Bet যদিও একটি পর্বের এন্ডিং ছিল) এবং আবং শেষটি সিরিজের দ্বিতীয় ওপেনিং। কোন সিরিজে সেই সিরিজের সেইয়ুকে দিয়ে গাওয়ানো কোন গান ওপেনিং-এন্ডিং হিসেবে ব্য়বহর করা নতুন কিছু না। এ সিরিজেও তা ছিল, তাকাহাশি রিয়ের গাওয়া ‘Stay Alive’ এবং মিনাসে ইনোরির গাওয়া ‘Wishing’ অত্যন্ত সুন্দর দুইটা গান ছিল। সিরিজের প্রত্যেকটা গানই বছরের সেরা হওয়ার উপযোগ্য তবে Styx Helix আমার মতে এ বছরের সেরা এন্ডিং।

এন্জোয়মেন্ট এই একটা জিনিশে সিরিজটা অনেক বেশি সফল। সিরিজটা দেখে নানা রকম অনুভুতিই আসছে। কিছু কিছু মুহূর্তে চরিত্রগুলো আপনাকে হাসাবে আবার তার কিছু মুহূর্ত পরই সেই চরিত্রগুলোর কাজকর্ম আপনাকে ক্রিপ আউট করে দিবে। অনেক হরিফিক মুহূর্ত ছিল যা দেখে আপনার অসস্তিকর লাগবে কিন্তু এরপরও বসে থাকবেন “কী হয়? কী হয়?” এটা মাথায় রেখে। সুবারুর ডিপ্রেশনটা যেভাবে আনিমেতে ফুটিয়ে তুলেছে সেটা অসাধারণ ছিল, সুবারুকে দেখেই আপনার খারাপ লাগবে, আবার কিছু কিছু মুহূর্তে তাকে বড়ই প্যাথেটিক মনে হবে, আবার তার কথা বার্তায় নিজের সাথেও মিল খুজে পাবেন। এবং এরপর সিরিজের চরিত্রগুলো বুঝে ওঠার আগেই আপনার অনেক ভালো লাগা শুরু করবে। বুঝতেই পারবেন না কাকে আপনার বেশি ভালো লাগে এমিলিয় না রেম, তবে সিরিজ শেষে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন মতামত। কিন্তু আমার কাছে রেম বছরের সেরা গ্রিল চিকেন।

সিরিজের চরিত্রগুলোও অসাধারণ ছিল। সুবারু কোন ওভারপাওয়ার্ড কোন প্রধাণ চরিত্র ছিল না, তার মাঝে অনেকটা বাস্তব কোন মানুষের চরিত্রের রিফ্লেকশনই দেখা গেছে। ওর মত বারবার অপ্রিতীকর মুহূর্তের মাঝে গেলে যে কেউই সে পর্যায়ের মানসিক যন্ত্রনায় ভুগবে, স্বাভাবিক। এছাড়া এতকিছুর মাঝেও শেষ দিকে গিয়ে তার চারিত্রিক উন্নতি দেখার মত। এমিলিয়া প্রত্যেক দিক থেকেই একটা আদর্শ হিরোইন, দেখতে সুন্দর সাথে আত্মনির্ভর। রেম বছরের সেরা ফিমেল চরিত্র এমনেও জিতবে ওমনেও জিতবে, কেননা আর যাই হোক নানা স্তরের ফ্যানবয়দের মন সে কেড়ে নিয়েছে। তবে চরিত্রটি প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত তার কাজকর্মে অনেক পার্ফেক্ট ছিল বলা যেতে পারে। সাথে তার বোন রামও এক মজার চরিত্র, যার কাজকর্ম নিতান্তই উপভোগ করার মত। এছাড়া সিরিজের বাকি চরিত্রগুলোও আলাদা করে মনে রাখার মতই।

রি: জিরো সব মিলায় একটা ভালো আনিমে বলেই এটার ফ্যানবেজটা এত বড়। আর এত বড় ফ্যানবেজ নানা রকম ভক্ত হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ফ্যানবেজের আচরণের উপর বিচার করে একটা আনিমে অপছন্দ করাটা বোকামি। নিজে থেকে আনিমেটা শুরু করলে, এটা খারাপ লাগর কোন কারণ দেখি না, তাই এখনও আনিমেটা না দেখে থাকলে, শুরু করে ফেলুন এবং নিজের মতামত দিয়েই বিচার করুন।

re zero 2

#1

Anime: New Game
Episodes: 12
Genre: Slice of Life, Comedy

new game 1গত বছরের যে কয়টা আনিমে দেখেছি সবচেয়ে বেশি মজা পেয়েছি এই আনিমেটা দেখেই। যদিও মনের ভেতর AOTY-এর ক্যান্ডিডেট আরও দুটি আনিমে, কোনোসুবা এবং আনসাৎসুর দ্বিতীয় সিজন। বাকি দুটো নিয়ে কথা হলেও, সেই তুলনায় আনিমেটা নিয়ে কম কথা বলা হয়। তাই ঠিক করলাম এটা নিয়েই লেখি।

আনিমেটার কাহিনী এক গেম ডেভেলপার কম্পানিকে ঘিরে। যেহেতু আনিমেটা মূলত ‘cute girls doing cute things’ তাই এখানে সব চরিত্রই মেয়ে। সিরিজের প্রধাণ চরিত্র সুজুকাজে আওব, যিনি কি না হাইস্কুল থেকে পাশ করে একেবারে নতুন চাকুরিজিবি হিসেবে সে কম্পানিতে কাজ করা শুরু করেছে। সেই কম্পানিতে ইয়াগামি কো নামের এক ক্যারেক্টার ডিজাইনারের অধীনে এক টিমের সদশ্য হয় আওবা, আওবার পশাপাশি টিমের বাকি সদশ্য হাজিমে, হিফুমি এবং ইয়ুন। মূলত এই টিমের নানা রকম কাজকর্মকে ঘিরেই এই আনিমের কাহিনী। কাহিনীর সাথে সাথে গল্পের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উছে আরও কিছু চরিত্র যেমন নেনেচ্চি, আহাগন এবং তোয়ামা রিন। এই টাইপ আনিমের কথা উঠলেই অনেকেরই প্রশ্ন থাকে “শিরোবাকোর মত নাকি?” এ সিরিজের কাহিনী শিরোবাকোর মত এতটা সিরিয়াস না, পুরোটাই কেমনে গেম তৈরি করে কিংবা ডেভেলপারদের নানা রকম কষ্ট তুলে ধরে না। আবার পুরো সিরিজটা K-On!-এর মত ফুয়াফুয়া থিমও না। এই দুই আনিমে নিয়ে একটা স্কেল হিসেবে মাপলে, মাঝস্থানে থাকবে New Game। সিরিজে বেশির ভাগ সময়ই একটা লাইট হাসিখুশি থিম নিয়ে থাকলেও, আনিমের শেষের কিছু মুহূর্ত বেশ সিরিয়াস। শেষে গিয়ে আপনার সিরিজের চরিত্রগুলোর প্রতি এক আলাদা রেসপেক্ট ও ভালোবাসা, বিশেষ করে ইয়াগামি কো-এর প্রতি । এর বেশি কিছু বলতে গেলে স্পয়লার হয়ে যাবে ।

সিরিজের আর্টটা অনেক সুন্দর। বিশেষ করে ব্যাকগ্রাউন্ড, সাধারণত মোয়ে আনিমেতে এনিমেশনের এত স্মুথ কাজ দেখা যায় না। সে দিক থেকে নিউ গেম ব্যতিক্রম। ডোগা কোবোর বাকি কাজগুলোর তুলনায় নিউ গেমের আর্ট সবচেয়ে সেরা। চরিত্রের ডিজাইনগুলোও অনেক সুন্দর, খালি চোখগুলো বড় বড় কিন্তু এ নিয়ে হয়তো কারও খুব একটা আপত্তি থাকার কথা না। আর যাই হোক সিরিজের, কালারিংটা পুরোই অন্যরকম এক সৌন্দর্য।

new game 2

সিরিজের সাউন্ডট্র্যাক ভালোই। খুবই আহামোরি কিছু না, অতি সাধারণ সাউন্ডট্র্যাক। ওপেনিং এবং এন্ডিং গানও অনেক কিউট সাথে মেলোডিয়াস। দুইটা গানের ক্রেডিটই সিরিজের মেইন কাস্টের। আমার কাছে অনেক বেশিই ভালো লেগেছে। সিরিজের কাস্টের ভয়েস অ্যাক্টিংও ছিল অসাধারণ। একেবারে অভিগ্য সেইয়ুগুলোর মাঝে ছিল কায়ানো আই (তোয়ামা রিন), হিকাসা ইয়োকো (ইয়াগামি কো) এবং কিতামুরা এরি (হাজুকি শিজুকু) যারা কিনা কোম্পানির অভিজ্ঞ ডেভেলপারদেরই কণ্ঠ দিয়েছে। কিন্তু সিরিজের বাকি চরিত্রদের সেইয়ু একেবারেই নবাগত, কিন্তু তাদের কাজে তা মনে হয়নি। প্রত্যেকটা চরিত্রর কণ্ঠে তাদের স্বভাব এবং ব্যক্তিত্ব অনেক সুন্দর ভাবেই তুলে ধরেছে।

চরিত্রগুলো স্টেরিওটিপিকাল মোয়ে আনিমের চরিত্রগুলোর মতই। প্রধান চরিত্র আওবা যিনি কি না উচ্চাকাঙ্ক্ষী একটা চরিত্র সাধারণ মোয়ে হিরোইনদের মতই তবে খুব একটুও ক্লামজি না। সিরিজের প্রত্যেকটা চরিত্র আলাদা রকম। এত ডাইভার্স চরিত্রের ইন্টারেকশনটাই সিরিজের মূল আকর্ষণ এবং সিরিজটা এতটাই মজার করে তুলেছে।

সবমিলায় সিরিজটা এন্জয়মেন্টের দিক থেকে সফল। সিরিজের বলতে গেলে সবকিছুই অনেক উপভোগ করেছি। শুধু মোয়ে আনিমের স্ট্যান্ডার্ডেই আনিমেটা অনেক ভালো একটা আনিমে না, স্লাইস অফ লাইফের স্ট্যান্ডার্ডে মাপলেও গত বছরের সেরা আনিমেগুলোর একটা। কমেডি কিংবা এক সুন্দর স্লাইস অফ লাইফ উপভোগ করবো এরকম মোন-মানষিকতা নিয়ে বসলে যে কেউ সিরিজটি ভালো লাগবে। খুব বেশি না মাত্র ১২ পর্বের মধ্যে অনেক মজাদার এবং সুন্দর একটি কাহিনী নিউ গেম, সময় নিয়ে দেখে ফেলুন।

new game 3

“শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”; রিভিউ লিখেছেন ইশমাম আনিকা

rakugo

আমার এক বান্ধবী মাঝেমাঝে একটা কথা বলত, “পরীক্ষার সময় দেয়ালের দিকে তাকিয়ে বসে থাকাও অনেক ইন্টারেস্টিং একটা কাজ বলে মনে হয়।” কথাটা শতভাগ সত্যি। এবং এই কথামতই, সারাটা বছর পার করে অবশেষে এই ডিসেম্বর মাসে এসে দেখলাম “শৌওয়া ও গেনরোকু আমলের ভালবাসার যুগ্ম মৃত্যু- রাকুগোর মাধ্যমে”।

আমি সাধারণত কমফোর্টেবল ফিল করি দুই ধরণের আনিমে নিয়ে কথা বলতে গেলে, একটা হল যেখানে কিছুই ঘটেনা, আরেকটা যেখানে আসলেই কিছু ঘটে না :3 সত্যি কথা, হাইস্কুলের পোলাপান দৌড়াদৌড়ি করে বেড়াচ্ছে, মজা করে বেন্তো খাচ্ছে; বা র্যান্ডম কিশোর বালক অ্যাডভেঞ্চার করতে বেরিয়ে দুনিয়া জয় করে ফেলছে, কিংবা খুব থ্রিলিং কম্পিটিশন বা মারামারি চলছে, এমন আনিমে নিয়ে কথা বলাটা আমার কাছে বেশি সহজ মনে হয়। কিন্তু যেখানে আসলেই কিছু ঘটছে, এবং জিনিসটা বাস্তবের খুব কাছাকাছি, সেটা নিয়ে কথা বলাটা বেশ কঠিন হয়ে যায়। তারওপর যখন আনিমেটার মূল থিমই হয় গল্প বলা নিয়ে, সেখানে অনেক খুঁটিনাটি ব্যাপার নিয়ে আলোচনা করাটা গিভেন হয়ে যায়, আর সেটা করতে গেলে গবেষণা করা লাগবে একগাদা, যেটা খুবই বিরক্তিকর একটা বিষয় (আমার জন্য)।

তাহলে কথা যেটা ওঠে এখানে, আমি তাও শৌওয়া নিয়ে লিখছি কেন, আর লিখছিই যখন, কোনরকম গবেষণা না করেই বা লিখছি কেন।

কারণ একটাই, আনিমেটা বেশ ভাল লেগেছে। শুধু ভাল লাগলে হয়ত লিখতে ইচ্ছে হত না, ইচ্ছেটা জেগেছে কারণ আনিমেটার প্লট খুব ইউনিক লেগেছে। বর্তমানের “ইসেকাই”, “তাইমু তোরাবেরু”, “আইদোরু”, বা অযথা এচ্চি দিয়ে ভরে রাখা আনিমের যুগে হাতেগোণা যে কয়টা আনিমে দেখলে মনে হয়, “নাহ! এ জিনিস তো আগে কোনদিন দেখিনি!”- তার মাঝে শৌওয়া অন্যতম।

কাহিনী মূলত জাপানের পটভূমিতে রাকুগো শিল্পের উত্থান পতন নিয়ে, কিন্তু এর পাশাপাশি খুব সুন্দরভাবে এগিয়ে চলেছে এই শিল্পের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত একদল মানুষের জীবনের কাহিনী; তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও রাকুগো মিলেমিশে যেন একাকার হয়ে গেছে।

আনিমেটা আমি এতদিন শুরু করতে পারছিলামনা কারণ টাইটেলটা পড়ে এবং মানু্ষের রিভিউ পড়ে একটু ভয় কাজ করছিল যে সেই শৌওয়া আমলের প্লট, তাও আবার জাপানের বিবর্তন টাইপ জিনিস নিয়ে কারবার, যদি বোর হয়ে যাই! অনেকেই হয়ত এটা ভেবে “ভারী” এই আনিমেটা দেখেননি, বা আমি একাই হয়ত “ইয়োতারো”, কিন্তু আনিমেটার ৪৭ মিনিটের প্রথম এপিসোড দেখেই আমার সেই ধারণা ভেঙে গিয়েছিল। আর যাই হোক, শুরুটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কেবল জেল থেকে ছাড়া পেয়ে এনার্জেটিক এক ছেলে গিয়ে সরাসরি পায়ে পড়ল রাকুগো শিল্পীর- দ্যাটস সামথিং ইউ ডোন্ট গেট টু ওয়াচ এভ্রিডে!!

আনিমের কাহিনী বেশ ভাল লেগেছে, অনেক কিছুই দেখার সময় আগে থেকেই আন্দাজ করে ফেলা যায়, তা মিলেও যায়, কিন্তু মজাটা এখানেই। আপনি জানবেন এরপর এটা আসছে, কিন্তু সেটা কিভাবে সম্ভব তা আপনি ঠাহর করতে পারবেননা। তারপর যখন জিনিসটা ঘটবে, তখন অবাক হয়ে ভাববেন যে এটাই ঘটার কথা ছিল আসলে। এই ব্যাপারটা আমার কাছে আনিমের একটা প্লাস পয়েন্ট বলে মনে হয়েছে। আর সাথে তো রাকুগোর স্কিলফুল পারফরমেন্স গুলো আছেই, যা নিয়ে আমার আগেও অনেকে অনেক কিছু বলেছেন, ভয়েস একটরদের মুন্সিয়ানা গবেষণা করে বা অ্যানিমেশন আর মিউজিকের কম্বিনেশন কিভাবে নিখুঁতভাবে ম্যাচ করানো হয়েছে তা নিয়ে তথ্যবহুল পোস্ট দিয়েছেন, তাই আমি আর কষ্ট করলাম না। খালি দুটো কথা বলব, অ্যানিমেশন এখানে গৌণ ব্যাপার, কাহিনীতে একবার ঢুকে গেলে কিসের অ্যানিমেশন, কিসের কি! ওপেনিং গানটা বেশ ভাল লেগেছে, জাদুভরা কণ্ঠ।

“শৌওয়া গেনরোকু রাকুগো শিনজু” হয়ত আমার টপ ফেভারিট বা এমন কিছু হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাতে কি, ভাল তো লেগেছে, সেটাই যথেষ্ট। আর আমার মনে হয় একবার দেখা শুর করলে আনিমেটা যে কারও ভাল লাগবে।

Hibike! Euphonium:নো-ওয়েইস্টেড-শট! — Fahim Bin Selim

 

hibike__euphonium_wallpaper_hd_by_corphish2-d8ngduu

একটা ভালো অ্যাডাপ্টেশন হওয়ার জন্য কী প্রয়োজন? অনেক বেশি সংখ্যক অ্যানিমে ফ্যান, এবং সামগ্রিকভাবেই ভিজুয়াল ফিকশনের ফ্যানরাই ভালো অ্যাডাপ্টেশন বলতে সম্ভবত বুঝে তার সোর্স ম্যাটেরিয়ালকে পুরোপুরিভাবে অনুসরণ করাকে। কিন্তু সেটা কি তার গল্প বলায় একটা সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করে না? কারণ শেষ পর্যন্ত, “অ্যাডাপ্টেশন” মানেই তো নতুন পরিস্থীতি, নতুন মাধ্যমের সাথে মানিয়ে নেওয়া – গল্পের বিন্যাস, কাঠামো আর বর্ণনা পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে হলেও। কারণ, অবশ্যই, বইয়ের পাতার লেখার মাধ্যমে গল্প বলা, আর টেলিভিশন, সিনেমার পর্দায় ছবি আর শব্দের মিলনে তা বলার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য আছে। একই সাথে পার্থক্য আছে, আসলেই গল্প “বলাতে”, এবং তা  কেবল “দেখানো”-র মাঝেও। ছবি আর শব্দের মেলবন্ধন – আর তা যদি ভালোভাবে ব্যবহার করা যায়, অ্যানিমেশনের সম্ভাবনা অসীম, তৈরি হয় আসলেই ত্রিমাত্রিক অনুভূতির এক জগৎ। কিন্তু অবশ্যই এক্ষেত্রে গল্প বলার ক্ষেত্রে পরিচালকের কল্পনাশক্তির প্রাচুর্য্য থাকা জরুরী, যেহেতু  ছবি এবং শব্দের উপস্থিতি দর্শকদের নিজেদের কল্পনাশক্তি ব্যবহারের সুযোগ অনেকাংশে কেড়ে নিচ্ছে। এবং এটা আরো বিশেষভাবে, যখন একটা উপন্যাসকে অ্যাডাপ্ট করা হয়। কারণ এখানে মাঙ্গার মত আর চরিত্রদের চেহারা, তাদের অঙ্গভঙ্গি কিংবা তাদের আশেপাশের জায়গাগুলোর টেমপ্লেট আগে থেকেই দেওয়া থাকেনা। পুরোপুরিই পরিচালকের নিজের ইন্টারপ্রেটেশনের উপর নির্ভর করে। একজন পরিচালকের প্রতিভার পরিচায়ক তো কেবল সুন্দর কোন গল্প বলাতে নয়, কোন গল্পকে সুন্দরভাবে বলাতেই!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

এখানে আর বাকি সব কিয়োঅ্যানির অ্যানিমের মত সুন্দর অ্যানিমেশন আর ভিজুয়াল উপস্থিত, হয়তো মাঝে মাঝে তুলনামূলক কম ভালোও। কিন্তু Hibike-’র শক্তি বরং এর গল্পবর্ণনায়। এর মূল গল্প বড় এক নভেল সিরিজ থেকে নেওয়া, একারণে গল্প আর চরিত্র – উভয়ের গভীরতাই তুলনামূলক বেশি। কিন্তু এই কারণেই বরং তার পুরোটা টিভির পর্দায় ফুটিয়ে তোলা আরো অনেক, অনেক বেশি কঠিন! কিয়োঅ্যানির ফ্ল্যাগশিপ পরিচালক তাৎসুইয়া ইশিদার কাছ থেকে আসায় যদিও এর সাফল্য নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু তার পরও, ইশিদার বাকি সব অ্যানিমের চেয়ে Hibike আলাদা। Air, Clannad, Haruhi -‘র মত Hibike-তে বড় এনসাম্বলের কাস্ট থাকলেও, এর গল্প অনেক বেশি কানেক্টেড, কমপ্যাক্ট…বাস্তবিক! ফ্যান্টাসি জনরা গায়ে না লেগে থাকা একটা বড় কারণ, কিন্তু এটা বাদ দিলেও Hibike-’র প্রতিযোগীতা, সাফল্য আর ব্যর্থতার গল্প পরিচিত। গল্পবর্ণতাতে আছে আলাদা একটা নিজস্বতা। কেবল “দেখানো”-তেই সীমাবদ্ধ না, Hibike তার গল্পের বড় একটা অংশ “বলে” তার ভিজুয়াল দিয়ে।

“ক্যামেরা”-’র ব্যবহারটাই চিন্তা করা যাক, Hibike-তে ফোকাসিংকে কাজে লাগানো হয়েছে শিল্পের পর্যায়ে। পুরোটা সময় ঘোলাটে ব্যাকগ্রাউন্ড আর চরিত্রদের চেহারার উপর পূর্ণাঙ্গ ফোকাসই বলে দিবে মনোযোগটা কোথায় রাখা জরুরী। কিয়োঅ্যানিমের আর বাকি সব অ্যানিমে থেকেও তো একে এই এক বিষয় দিয়ে আলাদা করা যায়! কুমিকো গল্পের ন্যারেটর, তার স্বগোক্তিতেই সব বলা, প্রতি পর্ব শুরু আর শেষও তা দিয়ে। তার মাথার ভেতর, বিক্ষিপ্ত চিন্তাভাবনা আর স্মৃতি, কুইক-কাট ট্রানজিশনে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে নিয়ে যায়। কুমিকো যদিও বেশিরভাগ সময়ই আশেপাশে চলমান ঘটনার পার্শ্বচরিত্র; প্রভাবক, নীরব দর্শক আর গুপ্ততথ্যের রক্ষক। She sees everything and she understands. একজন ওয়ালফ্লাওয়ার! যার জন্য উপন্যাসের পাতা ভর্তি লেখা প্রয়োজন, তার জন্য এখানে একটি শব্দেরও প্রয়োজন হয় না; চরিত্রদের মুখের অভিব্যক্তি আর প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করলেই হবে। নো-ওয়েইস্টেড-শট!

vlcsnap-2016-11-05-01h07m20s868

দ্বিতীয় সিজনের তৃতীয় পর্ব এর একটি ভালো উদাহরণ। এই পর্বের শুরুটা কুমিকোর মনোলোগ দিয়ে, কানসাই কম্পিটিশনের আগে শেষ প্রস্ততি পর্ব। কুমিকো আর আসুকার ছোট কথোপকথনের পরবর্তী ৩ঃ১৬-৩ঃ১৬ এ তিন সেকেন্ডের ট্রানজিশন, আর তার সাথে সাথে কুমিকোর এক্সপ্রেশন, সম্পূর্ণ ভিন্ন দুইটি সময় আর জায়গার মধ্যে সংযুক্তি। কোন এবরাপ্ট কাট না যেটা গল্পের গতি নষ্ট করে দিবে, অথবা কোন দীর্ঘায়িত অপ্রয়োজনীয় শট না, বরং দুটো একত্রে মিলিয়ে দেওয়া, গল্পের প্রবাহ বজায় রাখার জন্য! অথবা তার পরবর্তী দৃশ্য, আসল পারফর্মেন্সের আগে শেষবারের মত সব পারফর্মারদের একসাথে থাকা শেষ দৃশ্য। নিয়ামা আর হাশিমোতো-সেনসেই এর বিদায়ী ভাষন, উপদেশ। ক্যামেরা একজনের থেকে আরেকজনের পারস্পেকটিভে বদলাতে থাকে অনবরত, কার কোন কোন দূর্বলতা জানান দেয়, এবং তার সাথে সাথে পারফর্মারদের প্রতিক্রিয়া। কুমিকোর চেহারার অবিশ্বাস, আনন্দ, ভয় এবং একই সাথে অস্থিরতা ইউফোনিয়াম সোলোর অংশ হওয়ার খবর পাওয়ায়, রেইনার সন্তুষ্টির অভিব্যক্তি। কিংবা ইয়োরোইযুকার চোখে হাতের ওবোর দিকে স্থির, রোবোটিক দৃষ্টি, যখন হাশিমোতো তাকে যান্ত্রিকভাবে বাজানো বাদ দিয়ে আরো বেশি “এক্সপ্রেসিভ” হওয়ার নির্দেশ দেয়। কিন্তু তার জন্য তো “এক্সপ্রেস” করা সব সময়ই কষ্টকর ছিলো, সংগীত কিংবা শব্দ দিয়েও। তা তার গতবাঁধা জবাবেই আটকানো, “I’ll try to do better.” ব্যাকগ্রাউন্ড ফোকাসে ইউকোর চেহারায় অনিশ্চয়তা! প্রিয় মানুষের জন্য!

vlcsnap-2016-11-08-11h43m53s360  vlcsnap-2016-11-08-11h44m53s455vlcsnap-2016-11-05-01h13m11s868

গল্পটা কুমিকোর মাথার ভেতরে, তাই তো সবকিছু সামনে থেকে দেখা হয় না। রেইনা যখন তাকি-সেনসেইকে নিয়ামা-সেনসেইয়ের সাথে তার সম্পর্কের কথা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করে, আগুনের অপর পাশে। তাদের কথা শোনা যায় না, পর্দায় কেবল দূর থেকে রেইনা আর তাকির শব্দহীন অভিব্যক্তি। কিন্তু অবশ্যই Hibike এই মুহূর্তটা অপচয় করবে না। বরং এপাশে সমান্তরালে হাশিমোতো-সেনসেইয়ের সাথে কুমিকোর কথোপকথন চলতে থাকে। তাকি-সেনসেই এরই অতীত নিয়ে! একই সাথে শব্দ আর ছবি দিয়ে দুটো আলাদা গল্প বলা! কনসার্টেশনে, কোনভাবেই ইনফরমেশনের ওভারফ্লো না, ইকোনমিক! কিংবা আসুকাকে আঁকড়ে ধরা নস্টালজিয়ার প্রতিটি মুহূর্ত, হাইস্কুলের শেষ বছরে এসে। যদিও তা মুখ ফুটে কেবল বেরোয় না সরাসরি। ক্লাবকে আগলে রাখার প্রতিটি চেষ্টায়, প্রতিটি ধাপ পেরোনোর আনন্দের বিহবল হওয়ার পরবর্তী নীরবতায়, অবশ্যম্ভাবী বিদায়ের কথা মনে পড়ায়, গ্রাস করা বিষাদ ঠিকড়ে বেরোয় তার হাসির পেছন থেকে, আর যখন সে বলে,  “I wish this summer would never end”।

vlcsnap-2016-11-05-01h34m13s058 vlcsnap-2016-11-05-01h31m48s174

কিন্তু সবচেয়ে বড় উদাহরণ অবশ্যই এর পারফর্মেন্সের দৃশ্যগুলো! মিউজিক অ্যানিমের সাফল্যের জন্য তো অসাধারণ সঙ্গীতেরই দরকার সবার আগে! Hibike এইক্ষেত্রে বরং Showa Genroku-’র সাথে তুলনীয়। Hibike-’র সঙ্গীতের বিচারক দর্শক নিজেরাই! কোন শর্টকাট না, এমনকি ৮ মিনিটের লম্বা পারফর্মেন্সেও! প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি বিট অ্যানিমেটেড। আর মনে রাখার মত ব্যাপার, অন্যান্য আর বেশিরভাগ অ্যানিমের মত Hibike-’র সঙ্গীত একক পরিবেশনা না, দলীয়! কন্ডাকটরের হাতের নির্দেশনা, প্রতিটি পারফর্মারের চলমান হাত অথবা মুখ, অথবা দুটোই, সঙ্গীতের সাথে মূর্ছনায়; নড়তে থাকা, সামনে, ব্যাকগ্রাউন্ডে একসাথে; ট্রামবোন, ট্রামপেট, টিউবা, ক্ল্যারিনেট, হর্ন, ট্রিমপানি, চাইম, টামবুরিন, ওবো, ফ্লুট, বেস, ইউফোনিয়াম! একসাথে চলতে থাকা! কোন স্ট্যাটিক শট না! আবার যখন রেইনার সোলোর দৃশ্য আসে, তখন পর্দায় রেইনার কল্পনায় ভেসে স্টেজ আর পাহাড়ের কিনারায় মিশে এক হয় কুমিকোর সাথে ফেস্টিভালের সেই রাতের দৃশ্য, কারণ এই পারফর্মেন্স তো তার জন্যই! অথবা ইয়োরোইযুকার কল্পনায় নোজোমি। কাওশিমার সামনে রাখা স্ট্যান্ডে বন্ধুদের সাথে তার ছবি। তাকি-সেনসেইয়ের সামনে তার স্ত্রীর। সবারই আলাদা আলাদা গল্প!

vlcsnap-2016-11-13-02h22m50s007

সামনে বসে থাকা দর্শকরা ফোকাসের বাইরে, পেছনে ব্যাকস্ট্যাজে বন্ধুদের বিচলিত পায়ের নড়াচড়া কেবল। আর এই দূর্দান্ত পরিবেশনার পরের দৃশ্যটাই কী? প্রথমে সবার হাঁপাতে থাকা চেহারা, বন্ধুদের কান্নার দৃশ্য, আর সবার শেষে দর্শকদের করতালি। আর তা ক্ষীন হতে হতে সরাসরি এন্ড ক্রেডিট। কারণ শেষ পর্যন্ত এটা তো তা-ই ছিলো, যা উপন্যাসের পাতায় কখনোই বোঝানো সম্ভব না, পাতার পর পাতা বাক্য দিয়ে ভরে ফেললেও, একইসাথে শব্দ আর চিত্রের পরিবেশনায়ঃ শ্বাসরুদ্ধ, চিত্তসম্মোহিত আর হতবিহবল করা।

নো-ওয়েইস্টেড-শট!

”জাপানিজ শিখুন,জীবন গড়ে তুলুন” – ৫৮ তম পার্ট By অরিন শারমিন

 

এই লেসন শুরু করার আগে ৫৪ নম্বর লেসন ১ম অংশে একটু চোখ বুলায়ে আসলে ভাল হয়
http://www.animeloversbd.com/জাপানিজ-শিখুনজীবন-গড়ে-তু-54

তাও আরেকবার রিপিট করি ….এই শব্দগুলা সবারই কমন পড়ার কথা 🙂

কিয়ৌ-today
কিনৌ-yesterday *(সাকুজিতসু মানেও yesterday)
আশিতা-tomorrow *(আসু মানেও tomorrow)
ওতোতোই- day before yesterday *(ইসসাকুজিতসু মানেও day before yesterday)
আসাততে-day after tomorrow
কোনশুউ-this week
সেনশুউ-last week
রাইশুউ-nest week
কোতোশি-this year
কিয়োনেন-last year *(সাকুনেন মানেও last year)
রাই নেন-next year
*কোন গেতসু-this month
*সেন গেতসু-last month
*রাই গেতসু-next month
*সাকিওতোতোই-three days ago
*শিআসাত্তে-three days from now
*ইসসাকুনেন/ওতোতোশি-the year before last
*সারাইনেন-the year after next
*সেনসেনগেতসু-the month before last
*সেনসেনশুউ-the week before last
*সারাইগেতসু-the month after next
*সারাইশুউ-the week after next
*সেনজিতসু-the other day
*হেইজিতসু-week day
*শুকুজিতসু/সাইজিতসু-national holiday

*দেয়া গুলা আজ নতুন দিলাম… বাকিগুলা ৫৪ নাম্বার লেসনেও আছে

Berserk (2016): [Honest Reaction, Rant, Appreciation] — Tahsin Faruque Aninda

berserk_2016_5127

সর্বকালের সেরা মাঙ্গা বলে কোন নাম উল্লেখ করতে বললে সব চাইতে বেশি নাম যেটা আসবে সেটা হল বার্সার্ক। কেন্তারো মিউরার এই অনবদ্য সৃষ্টি শুধু মাঙ্গা হিসাবেই নয়, কমিক্স/গ্রাফিক্স নোভেল হিসাব করতে গেলেও এরকম মানের জিনিস খুব কমই পাওয়া যায়। প্রায় ৩০ বছর ধরে চলে আসা এই মাঙ্গার গল্প যেমন অসাধারণ, আর্ট তেমনই অবাক করার মত সুন্দর! এত বছর ধরে চলে আসার পরেও গল্পের কোন কুলকিনারা করে উঠা যাচ্ছে না তার একটা বড় কারণ মাঙ্গাকার কয়েকদিন পরপর হায়াটাসে চলে যাওয়া। এক নৌকা ভ্রমণে গল্প ৭ বছর আটকিয়ে রাখার মত আকাম করেছে এই লোক। নাহলে কে জানে, গল্প হয়তো এতদূর এগিয়ে যেত যে গল্পের শেষের দিকে কী হতে পারে না পারে তার কিছুটা হলেও ধারণা পাওয়া যেত।

সে যা হোক, সর্বজনবিদিত এই মাঙ্গার আনিমে এডাপশনের উপর যেন সবসময়েই একটা অভিশাপ লেগে থাকতো। অনেক নামকরা মাঙ্গার মতই এটারও আনিমে এডাপশনের ভাগ্যের শিকে ছিড়ে উঠে নি অনেকদিন। এডাপশন কনফার্ম হলেও আনিমের বাজেট খুবই কম থাকার কারণে স্টিল শট ব্যবহার করার কারণে কুখ্যাত হয়ে উঠে ১৯৯৭ সালের সেই সিরিজ। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের আনিমের খবর বের হলেও দেখা যায় সেটা মুভি ট্রিলজি, তাও আবার ১৯৯৭ সালে গল্প যতটুকু দেখিয়ে রেখে দিয়েছিল, ততটুকুই আবার রিবুট করবে। এই মুভি তিনটি বের হয়ে থাকলেও এরপর আবার খবর নেই। অনেকদিন পর আবার বার্সার্কের নতুন আনিমে এডাপশনের খবর বের হলেও সবাই চিন্তায় থাকে আবার রিবুট না তো! এবার অন্তত রিবুট হবে না এটা মোটামুটি কনফার্ম হবার পরেও সবার মনে আরেকটা চিন্তা উকি দেয় — CG এর ব্যাবহার আনিমের মানটাকে আবার খারাপ করে ফেলবে না তো!

তা শেষ পর্যন্ত কেমন হয়ে উঠে সিরিজটা? এডাপটেশন খারাপ বলে সবাই গলা ছাড়িয়ে বেড়ালেও আর মাঙ্গা পাঠকদের হতাশ করা হয়ে থাকলেও সব মিলিয়ে সিরিজটি কেমন হয়েছে? দেখার মত নাকি একদমই ফেলে দেবার জিনিস?

মাঙ্গা এডাপশন হিসাবে কেমন, সেই টপিক আপাতত সরিয়ে রাখি। ইন্টারনেটে গত তিন মাস উপস্থিত থাকলে যে কেউই এতক্ষণে জেনে গিয়েছে পাঠকদের রিএকশন কেমন। তাই সে কথা বাদ থাক। আগে থেকে কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, আনিমে দিয়েই শুরু করেন, তাহলে তার জন্যে এই লেখাটি একটি গাইডলাইন হতে পারে সিরিজটা সম্পর্কে বিচার করার জন্যে।

শুনতে অবাক লাগলেও, সিরিজটির বেশ ভাল কিছু দিক আছে। সেই ভাল দিকগুলি তুলে ধরার আগে অল্প কথায় সিরিজটির অনাকর্ষণীয় দিকগুলি নিয়ে আসি:

— CG মানেই খারাপ নয়, ভাল CG-এর ব্যবহার একটা সিরিজকে অনেক বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। বার্সার্কে CG-এর ব্যবহার খারাপ ছিল নিঃসন্দেহে, তবে তার চাইতেও বড় সমস্যা হল CG কিভাবে ব্যবহার হয়েছে এখানে। সিরিজ ডিরেক্টর এর আগে যত আনিমেতে কাজ করেছে, সেগুলি ছিল ৩-৪ মিনিটের পর্ব করে slapstick slice of life comedy সিরিজ। সেই ডিরেক্টর (এবং একই সাথে আগের আনিমেগুলির সেই একই স্টুডিওকে) এমন একটি আনিমের দায়িত্ব দেওয়া হল যা ছিল সবদিক থেকে আগের কাজগুলি থেকে একদম আলাদা। comedy slice of life এর জায়গায় dark fantasy horror, 2d এর জায়গায় 3d cg, short fast paced slapstick আনিমের জায়গায় বড় পর্বের action drama সিরিজ। এত কঠিন সব কন্ডিশনের পরেও সিরিজটা চমৎকার হয়ে উঠতে পারে যদি ডিরেক্টরের গুণ অনেক বিশেষ কিছু হয়ে উঠে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এরকম কিছুই হয়ে উঠে নি। অ্যানিমেশন, স্ক্রিনপ্লে, কোরিওগ্রাফি, কোন কিছুই ঠিকমত হয়ে উঠে নি। এই ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে এই ভিডিওটি দেখে ফেলুন, সুন্দর করে সবকিছুর analysis করা হয়েছে:

— গল্পের কাটছাট অনেক বেশি হয়েছে। বিশেষ করে Black Swordsman arc ও Conviction arc এই ১২ পর্বে দেখানোর কথা থাকলেও অর্ধেকের মত গল্পের উপাদানই বাদ দেওয়া হয়েছে এখানে। বাকিটুকুও যা দেখানো হয়েছে সেগুলিও অনেক rushed করে দেখিয়েছে।

— Censoring.
এটা বলার আগেই বুঝে নেওয়া যায়, মাঙ্গায় যে ভয়াবহ রকমের বেশি পরিমাণ nudity আর gore ছিল, তা আনিমেতে কোনভাবেই দেখাতো না। HBO যদি Berserk-এর কোন এডাপশন করে, তাহলেই একমাত্র সেখানে এরকম কিছু দেখা যেত [এবং যার কাছে GoT এর nudity-কে রীতিমত childish পর্যায়ে ফেলে দেওয়া যায়]। তা স্বত্ত্বেও কিছু কিছু যায়গায় সেন্সরিং চোখে পড়ার মত ছিল।

এবার আসি সিরিজটার ভাল দিকগুলির কথায়:

+ শুরুর দিকে সিনেম্যাটোগ্রাফি খারাপ থাকলেও ধীরে ধীরে ভাল হয়ে উঠতে শুরু করে। ডিরেক্টরের কাজ দেখে মনে হয়েছে, প্রথম ৪-৫ পর্ব কোনরকম হয়ে থাকলেও এর মধ্যেই সে অনেক কিছু শিখে উঠে। যার কারণে পরের দিকের পর্বগুলি তুলনামূলক বেশ ভাল হয়।

+ মিউজিক চমৎকার ছিল। এন্ডিং গানটা খুব ভাল না হলেও ওপেনিং গানটা এই বছরের অন্যতম পছন্দের গান। মিউজিকের ব্যবহার ভাল তো ছিলই, আমার কাছে সাউন্ড ইফেক্টও ভাল লেগেছে।

+ ক্যারেক্টার ডিজাইন।
হ্যাঁ, গাটসকে বেশি খারাপ লেগেছে আসলে, মুখটা বেশি চিকন করে ফেলেছে, শরীরটাকেও। কিন্তু বাকি সবাই একদম মাঙ্গার মতই রয়ে গিয়েছে।

+ একশন দৃশ্যগুলি বেশ ভাল ছিল। শুরুর দিকে একশন দৃশ্যের মান খারাপ থাকলেও, প্রথম পয়েন্টটার মত এ ক্ষেত্রেও যথেষ্ট উন্নতি ঘটে শেষের দিকে এসে। বিশেষ করে conviction arc-এর শেষের মারামারিটা বেশ মুগ্ধ করেছে আমাকে।

+ আনিমের জন্যে তৈরি নতুন অংশটি।
যেহেতু অনেকদিন পর আনিমে হিসাবে বার্সার্ক এসেছে আবার, আর তাছাড়া এর আগের সিরিজ/মুভিগুলির কারণে আর একই সাথে এইবারের সিরিজে সময়-স্বল্পতার কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ দিতে হয়েছে, এই জন্যে apostle জিনিসটা কী সেই ব্যাপারে দর্শকদের পরিষ্কার ধারণা না থাকতে পারে। এজন্যে apostle-এর ব্যাপারটা নতুন দর্শকদেরকে ভাল মত introduce করাবার জন্যে শুরুর দিকে একটি anime only mini arc দেখায়। এই অংশটি “ফিলার” বলে দাবী করতে গেলেও একে ফিলার বলা যাবে না আসলে। কারণ মিউরা নিজেই গল্পের এই অংশটুকু লিখেছে। আর এটি বেশ ভালই হয়েছিল, দেখার সময়ে বিরক্তি তো লাগেই নাই, বরং গল্পের অন্যান্য অংশের সাথে মানিয়ে যাবার মত ঘটনাই দেখিয়েছে। মাঙ্গাকা নিজে লিখেছে বলেই এই অংশটুকু ভাল হয়েছে।

+ নতুন জেনারেশনকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া।
আনিমেটাকে মাঙ্গার এডভার্টাইজমেন্ট হিসাবে ধরে নেওয়া হোক বা না হোক, এই সুযোগে এখনকার জেনারেশনের অনেক দর্শক এবং একই সাথে পাঠকদেরকে বার্সার্কের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যে একটা ভাল উদ্যোগ। “READ THE MANGA” বলে চেঁচানোর কারণে অনেকে আনিমে দেখে এরপর আর সাসপেন্স সইতে না পেরে মাঙ্গাটা শুরু করে দিবে সন্দেহ নাই।

সব মিলিয়ে এটুকু বলবো, কেউ যদি মাঙ্গা পড়ে না থাকেন, তার কাছে এই বার্সার্ক একদম ভয়াবহ খারাপ লাগবে না। সব মিলিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং সিরিজ হিসাবেই মনে হবে। মাঙ্গা পড়তে না চাইলে এবং শুধু আনিমে দর্শক হয়ে থাকলে, সিরিজটা উপভোগ্য লাগবে পরের দিকে গিয়ে। বিশেষ করে সময়ের সাথে সাথে সিরিজটার making-এ উন্নতির ছাপটা বুঝা যাবে। তবে মাঙ্গা পড়তে আপত্তি না থেকে থাকলে অবশ্যই মাঙ্গা পড়তে অনুরোধ করবো।

সবশেষে বলবো, যেহেতু এর সিকোয়েল আসবে সামনের বছর, তার অর্থ খুব নিকট ভবিষ্যতে অন্য কোন ভাল স্টুডিওর পক্ষ থেকে এর রিবুট আসছে না। তাই প্রথম সিজনের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে দ্বিতীয় সিজনটা যেন আরও ভাল করে তুলে সেটাই আশা করছি। Falcon of the Millennium Empire Arc-টা কোনভাবেই খারাপ কিছু যেন না হয়ে উঠে এই আশাতেই আছি।

Yuri!!! on ICE [রিএকশন/মিনি রিভিউ] — Mithila Mehjabin

yuri-on-ice

রিএকশন(এপি ১-৩)+মিনি রিভিউ
Yuri!!! on ICE
জনরা: স্পোর্টস
স্ট্যাটাস: অনগোয়িং

এনিমেটার প্রথম পোস্টার দেখে আহামরি কিছু হতে পারে, তা ঘুনাক্ষরেও মনে হয়নি। অথচ গত রাত থেকে এনিমেটার প্রথম তিনটা পর্ব তিনবার করে দেখা শেষ, প্রতিবারই এনিমে স্টার্ট করার আগে ওপেনিং শুনতে শুনতে কান দিয়ে ধোয়া বের হওয়ার আগ পর্যন্ত শুনে গেছি, এত বেশী শুনেছি যে ঘুমের ভেতরেও মাথার ভেতর বাজছে গানটা, বিরক্ত হয়ে ভোর চারটা সময় উঠে পড়তে বাধ্য হই!

ইয়ুরি অন আইস- নামটাই গড়বড়ে!  এনিমের মধ্যে না তো ইউরি আছে না ইয়াওই, ফ্যানসার্ভিস আছে যদিও, এবং ভালো পরিমাণেই আছে! সাবজেক্ট: ফিগার স্কেটিং। সোজা কথায় বরফের ওপর স্পেশাল ধরণের জুতা পড়ে পিছলিয়ে যে নাচ বা খেলা।
ম্যালের মতে, স্টুডিও মাপ্পা’র (MAPPA) চার বছর ধরে প্ল্যান করা অরিজিনাল একটি সিরিজ এটি। ক্রিয়েটর মিত্সুরো কুবো এবং ডিরেক্টর সায়ো ইয়ামামোতো সিরিজ প্ল্যানিং এর আগে রাশিয়া, বার্সেলোনা ও বেইজিং ঘুরে এসেছেন লোকেশন হান্টিং এর জন্য। ক্যারেক্টার ডিজাইনারদের একজন তাদাশি হিরামাত্সু, পরিচিত Parasyte: The Maxim এর ক্যারেক্টার ডিজাইনিংয়ের জন্য, এনিমের মেইন ক্যারেকটার: কাত্সুকি ইউরি কে দেখলেই ইযুমি শিনিচি’র কথা মনে হয়। ওপেনিং থিম “History Maker” গেয়েছেন ডীন ফুজিওকা, এই মাল্টিলিংগুয়াল মডেল, অভিনেতা ও গায়কের গাওয়া ওপেনিংটা সম্পূর্ণ চমৎকার ঝরঝরে ইংরেজীতে!  সাসুগা…ইকেমেনদের জন্য গাওযা ওপেনিং এর গায়কও একজন ইকেমেন!

গল্পের শুরু কাত্সুকি ইউরি’কে নিয়ে, যার ফিগার স্কেটার হওয়ার স্বপ্নের উদ্যোক্তা পরপর পাঁচ বার গ্র্যান্ড প্রিক্স ফাইনাল জেতা ২৭ বছর বয়সী রাশান স্কেটার ভিক্টর নিকিফরভ্! ছোট থেকে দেখে আসা স্বপ্নের পথ ধরে গ্র্যান্ড প্রিক্সে আসার সুযোগ পেলেও সেটা ধরে রাখতে পারে না কাত্সুকি, প্রচন্ড পরিশ্রমের পরও প্রেশারের কাছে পরাজিত হয় সে, এবং জীবনের প্রথম গ্র্যান্ড প্রিক্স এ শেষ স্থান পাওয়ায় তার ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা দেখা দেয়! শেষমেষ সবকিছু ছেড়েছুড়ে, ফিগারের বারোটা বাজিয়ে আপাতত জাপান ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় ও, বাস্তবতার হাত থেকে পালিয়ে!

পাচঁ বছর পর বাড়ী ফিরলেও মন ভালো নেই কাত্সুকি’র, শুয়ে-বসে ডিপ্রেশনে ভুগতে ভুগতে বিরক্ত কাত্সুকি অবশেষে ঘর থেকে বেরোয়, উদ্দেশ্য: ছেলেবেলার স্মৃতিঘর হাসেত্সু আইস ক্যাসেল। ফিগার স্কেটিংয়ের শুরু এখান থেকেই, প্রবেশ করতেই দেখা হয় ছেলেবেলার স্কেটিং সঙ্গীনী ইউ-চান এর সাথে! দুবছরের সিনিয়র মেয়েটি ছিল তার অনুপ্রেরণার আরেক অন্যতম উৎস্য। অফিশিয়াল স্কেটিং থেকে আপাত অবসর নিলেও পঞ্চম গ্র্যান্ড প্রিক্সে ভিক্টরের পারফর্ম করা ডান্স টা আয়ত্ত করেছে ও, ইউ-চান কে দেখাবে বলে। বরফের উপর ভিক্টরের পারফর্ম করা নাচটা পারফর্ম করছে কাত্সুকি, মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখছে ইউ! কি মনে হয়..একটি প্রেমের সূচনা?
মোটেই না, ইউ যখন মুগ্ধ হয়ে কাত্সুকির নাচ দেখছে, তার তিনি বদের হাড্ডি আশেপাশেই কোথাও লুকিয়ে ভিডিও করছে নাচটির!  গোলগাল তিনটে বাচ্চা, জামাই নিশিগোরিও কাছাকাছিই আছে কোথাও!

রিইউনিয়ন ও খুনসুটির পর বাড়ী ফিরে নানান ভাবে ক্লান্ত কাত্সুকি মেসেজ পায় নিশিগোরির কাছ থেকে, খবর হলো: নাচটার ভিডিও অনলাইনে আপলোড করে দিয়েছে তার তিন সুকন্যা! 😀 ব্যাস, আর যায় কই! হাজার হাজার বার রিটুইট হয়ে পৌছে যায় ভিডিওটি স্বয়ং ভিক্টর নিকিফরভের কাছে! তারপর?

তারপর কি হয় জানতে চাইলে দেখতে হবে!  

এনিমেটা সম্বন্ধে প্রথমেই যা বলতে হয়, তা হলো মনোমুগ্ধকর এনিমেশন! এবং যেনতেন ধরণের মনোমুগ্ধকর না, দম বন্ধ করা মনোমুগ্ধকর!  বিশেষ করে ওপেনিংয়ে তাদের ডান্সগুলো দেখলে ঘন্টাখানেক আর অন্য কিছুই দেখতে মন চাইবে না! প্রধান তিনটে ক্যারেকটার রুপোলী চুল ও নীল চোখের ভিক্টর নিকিফরভ, শিনিচির ছোট, হ্যান্ডসাম ভাই কাত্সুকি ইউরি আর সোনালী চুল ও সবুজ চোখের গর্জিয়াস লুকিং পাঙ্ক ইউরি পিলসেতস্কি! ক্যারেক্টার ডিজাইন ছাড়াও লাইট রেফলেকশন, কস্টিউম, ডান্স-কোরিওগ্রাফি আর সং চয়েসে মুন্সিয়ানা দেখিয়েছে মাপ্পা!  নীলাভ সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডটা দারুণ ভাল্লাগে!  ভিএ হিসেবে আছেন ভিক্টর, কাতসুকি আর পিলসেতস্কির জন্য যথাক্রমে জুনিচি সুয়াবে, তোনিশি তোয়োনাগা, কোউকি উচিয়ামা।

স্টোরিটা দারুণ আগাচ্ছে, লেটেস্ট তিন নম্বর এপিসোডটা চমৎকার ছিল!  হালকা ফ্যানসার্ভিসটা, এইরকম একটা স্পোর্টের ক্ষেত্রে তেমন বেমানান কিছু লাগে না। খালি অনসেন-সিনগুলোর সময় ভিক্টরের অস্তিত্বের কথা মাথা থেকে বাদ রাখলেই হয়, দৃশ্যত আর কোনো সমস্যা নেই কোথাও….এখনও পর্যন্ত!  আইস-স্কেটিং বিষয়ে শূণ্য জ্ঞানহীন আমি ইউটিউবে মেন’স ফিগার স্কেটিং সার্চ দিয়ে যে ভিডিওই পাই, কমেন্টবক্সে ইউরি অন আইসের জয়জয়কার!

অনগোয়িং এনিমেটার তিনটে এপিসোড এসেছে এই পর্যন্ত, কত এপিসোডের হবে তা এখনও নির্দিষ্ট করা হয়নি ম্যাল এ। ডাবের এনাউন্সমেন্ট দিয়েছে ফানিমেশন, অক্টোবর ২৪, ২০১৬ অর্থাৎ আগামীকাল ইস্টার্ন টাইম অনুযায়ী রাত ১০ টায় প্রথম এপিসোডের ডাব রিলিজ হওয়ার কথা রয়েছে। *-*

মিনি রিভিউ বলেছিলাম, কিন্তু এরচেয়ে বড় রিভিউ দেয়া আদৌ পসিবল কি না, জানি না!  বালিকার উচ্ছাস কে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইল!

আমার কাছে যে অসাধারণ লেগেছে তা নতুর করে বলা বাহুল্য, এবং আমার কাছে অসাধারণ লেগেছে বলে সবার কাছেই অসাধারণ লাগবে- এরকম হওয়ার কোনো কারণ নেই। কিন্তু অন্তত ওপেনিংটা দেখুন, এবং নিজেরাই বিচার করুন দেখবেন কি দেখবেন না! ওপেনিংটার কথা আলাদা করে বলতেই হয়, ম্যাল অনুযায়ী আমার দেখা এনিমের সংখ্যা মাত্র ১৪১ টা, সেই হিসেবে আহামরি অনেক ওপেনিং দেখা বা শোনা আছে, এটা বলা যায় না। কিন্তু এই ওপেনিংটা আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা ছিল। বেস্ট বলে না, ওয়ান অফ আ কাইন্ড বলে। এরকম অভিভূত করা একটা ওপেনিং সচরাচর চোখে পড়েনা বলেই আমার মনে হয়েছে!  জাপানীজ একজন লোক এরকম শুদ্ধ ইংরেজী উচ্চারণ করতে পারে, না শুনলে বিশ্বাস করাই মুশকিল! এরইমধ্যে এক মিলিয়নের বেশী ভিউ পড়েছে ওপেনিং ভিডিওটিতে, চেক করে আসতে পারেন নিচের লিঙ্কটি থেকে:

 

ভালো এনিমেটা ভালোভাবে শেষ হলে বছরের অন্যতম সেরা এনিমেগুলোর একটি হলেও হতে পারে!  সবাইকেই দেখার অনুরোধ থাকবে!

সকল তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া এবং মাইএনিমেলিস্ট।

yuri-on-ice-2

Yuri!!! on Ice: ফিগার স্কেটিংয়ের ওয়ান-টু-থ্রী! — Mithila Mehjabin

Yuri on Ice দেখার আগে দুনিয়াতে ফিগার স্কেটিং বলে কিছু আছে, তাই জানতাম না! :’) ফিগার স্কেটিং বলতে আইস স্কেটিং বুঝতাম, যার মানে তলা পিছলা জুতা পড়ে বরফের ওপর স্লিপ কাটা! 😐 এবং সেটা যে একটা অফিশিয়াল স্পোর্টস্, সেটাও জানতাম না! ইয়ুরি নিয়ে বিন্দুমাত্র এক্সপেক্টেশন ছিল না, কিন্তু এই জিনিস যে এরকম যাদু করে ছাড়বে, তা কে জানত? >\\\<
ফিগার স্কেটিং বলি বা আইস স্কেটিং বলি, এর ইতিহাস অনেক পূরোনো, এ নিয়ে বেশী কিছু বলার ইচ্ছে নেই আমার। আন্তর্জাতিক ভাবে ফিগার স্কেটিং প্রতিযোগিতা শুরু হয় ১৮৯৬ সাল থেকে, এবং সেটা অলিম্পিকের অংশ হয় ১৯০৮ সাল থেকে। সেই থেকে হাজারো উথান-পতন ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চলে এসেছে ফিগার স্কেটিং, কিন্তু এর সৌন্দর্যতা এখনও মলিন হয়ে যায়নি! :’)
এবং ফিগার স্কেটিংয়ের এই জটিল সৌন্দর্যতাকে এনিমেশনের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার সাহস দেখিয়েছে মাপ্পা, এবং ভালোই মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছে এখন পর্যন্ত! 😀 আমরা দর্শকরাও ভালোই এঞ্জয় করছি! কিন্তু এনিমেটা যেখানে স্পোর্টস্, বারবার সানকাইতেন (আক্ষরিক অর্থ: তিনবার ঘোরা) টো লুপ, বা ইয়োনকাইতেন (চারবার ঘোরা) সালকো বলছে কমেন্টর, আমরা আদৌ কি কোনো পার্থক্য বুঝতে পারছি দুটার মধ্যে? :3 স্কেটার বাতাস উড়াল দিয়ে দুইবার কি তিনবার কি চারবার ঘোরে…এটুকুই বুঝতে পারছি আমরা! XD এবং ইউরি জাম্প মিস করে আছাড় খেলে “এই গেলো গেলো!” বলে মাথায় হাত দিয়ে বসার পর যখন দেখি ভালো মার্কস পেয়ে প্রথম হচ্ছে, তখন নিজেকে বেকুব ছাড়া আর কিছু মনে হচ্ছেনা! :v
কিন্তু ফিগার স্কেটিং শুধু জাম্পস না, অনেক জটিল এলিমেন্টস এর সমন্বয়, এবং এটা শুধু স্পোর্টস্ই না, তার সাথে আর্ট এবং এক্টিংয়ের একটি সুন্দর সমাহার! :’) আমরা ভিউয়ার্সরা না বুঝেই জাজ করতে যাই এটাকে স্পোর্টস ভেবে, এবং পার্ফর্মাররাও সবসময় নিজেদেরকে চ্যালেঞ্জ করতে চায়, কিন্তু পাশাপাশি তার পার্ফর্মেন্স আনন্দদায়কও হতে হবে! সেই সেন্সে বর্তমানে ফিগার স্কেটিঙটা একটা আর্টিস্টিক স্পোর্টস্ অবস্থায় বিরাজ করছে, যেখানে শুধু তার টেকনিকাল ক্যাপাবিলিটি না, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, এক্সপ্রেশন, দর্শককে বিনোদিত এবং চমকিত করার ক্ষমতা, সবই নাম্বার বহন করছে, এবং এ সবকিছু হিসেব করেই নাম্বারিং করা হয় একজন স্কেটারকে, এবং এখানেই ফিগার স্কেটিংয়ের সৌন্দর্যতা এবং সাফল্য! 🙂
তাই এই সোন্দর্যতাকে উপলব্ধির স্বার্থে, এবং এনিমেটাকে পুরোপুরি এনজয়ের স্বার্থে, চলুন জেনে আসি কিছু ব্যাপার! 3:) ^_^
ফিগার স্কেটিং, যেখানে আইস রিংকে প্রবেশ করার পর থেকে স্কেটারের সবকিছুই জাজ করা হয়। শুধু জাম্পস বা এলিমেন্টস না, জাজ করা হয় তার কস্টিউম, কোরিওগ্রাফি, ট্রানজিশন, বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ফুটওয়ার্ক, এক্সপ্রেশন, প্রেজেন্টেশন এবং এলিমেন্টস। সবকিছুর একটা সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করছি! 🙂 বর্ণনায় সঙ্গতি রক্ষার স্বার্থে শব্দ বা টার্মসগুলোকে ইংরেজীতেই ব্যাবহার করা হয়েছে, বোঝার সুবিধার্থে যথাসম্ভব অর্থটা মাথায় রাখার জন্য নিম্নের বিশ্লেষন:
এলিমেন্টস- উপাদান।
কম্পোনেন্ট- কাঠামো উপাদান।
কোরিওগ্রাফি- নৃত্যবিন্যাস বা নাচের পরিকল্পনা।
ফুটওয়ার্ক- পায়ের ব্যাবহার
ট্রানজিশন- রূপান্তর (অঙ্গভঙ্গির এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় পরিবর্তন।
রোটেশন/রেভোলুশন- ঘূর্ণন বা ঘোরা।
টো পিক- পায়ের পাতার আঙ্গুল বা অগ্রভাগ।
এড্জ- কিনারা।
টেকঅফ- মাটি ত্যাগ করা।
ল্যন্ডিং- মাটিতে নামা।
হাইট কাভারেজ- অতিক্রান্ত উচ্চতা বা যতটুকু উচ্চতায় জাম্প করা যায়।
ডিসট্যান্স কাভারেজ- অতিক্রান্ত দূরত্ব, বা জাম্পের সময় যতটুকু দূরত্ব পার করা হয়।
মেন্স সিঙ্গেল- ছেলেদের একক পার্ফরমেন্স।
ইউরি অন আইস যেহেতু মেন্স সিঙ্গেল নিয়ে, তাই এখানে যা কিছু বলা হয়েছে সবকিছু ছেলেদের প্রতিযোগিতার নিয়ম মাথায় রেখেই। লেডিজ সিঙ্গেল, পেয়ার স্কেটিং, আইস ডান্স এবং সিনক্রোনাইজ স্কেটিংয়ের নিয়মে খানিকটা ভিন্নতা আছে।
কম্পিটেটিভ ফিগার স্কেটিং দুটো সেগমেন্টের সমন্বয়, যে দুটির একটি হলো শর্ট প্রোগ্রাম, অপরটি লং প্রোগ্রাম বা ফ্রি স্কেট। শর্ট প্রোগ্রামের সময়সীমা আড়াই মিনিট এবং লং প্রোগ্রামের সাড়ে চার মিনিট। এই দুটি সেগমেন্টের মার্কের সমন্বয়ে স্কেটারের টোটাল মার্ক নির্ধারিত হয়।
এলিমেন্টস:
ফিগার স্কেটিংয়ে প্রধান এলিমেন্ট বলতে যেটা বোঝায়, সেটা হলো জাম্পস।
একেকটা জাম্পকে আমরা বেসিকালি তিনটা জিনিসের সমন্বয় ভাবতে পারি, যেগুলো হলো: টেকঅফ, রোটেশন এবং ল্যান্ডিং। এখন জাম্পগুলোর পার্থক্য কোথায়? সহজ উত্তর হচ্ছে এক্সেকিউশন সিস্টেমে।
দুধরণের এক্সেকিউশন সিস্টেমের একটি হলো টো জাম্প, যেখানে জুতোর সামনের অংশে দিয়ে বরফে খোঁচা মেরে গতিতে ব্রেক সৃষ্টির মাধ্যমে জাম্প করা হয়। আরেকটি হলো এড্জ জাম্প, যেখানে হাটু ভেঙে প্রেসারের বিপরীতে লাফ দেয়া হয়, অনেকটা স্প্রিং এর মত। ফিগার স্কেটিং বিশ্বে এই দুধরণের এক্সেকিউশন সিস্টেমের আন্ডারে মূলত ছয়রকমের জাম্প সবচেয়ে বেশী পরিচিত। তিনটা টো জাম্প হলো: টো-লুপ, ফ্লিপ এবং লুটয্। তিনটি এড্জ জাম্প হলো: সালকো, লুপ এবং এক্সেল। এখন কথা হলো, একই নিয়মে করা প্রতিটা জাম্পকে আলাদা করা হয় কিভাবে? যেমন: ফ্লিপ, টো-লুপ, লুটয্, তিনটাই টো জাম্প, তাহলে ডিফারেন্স টা কোথায়? উত্তর টা হচ্ছে, এড্জ, বা ব্লেডের কিনারার ব্যাবহারে, ল্যান্ডিং এবং টেকঅফে যেটার ভূমিকা বিশাল!
জাম্প বোঝার আগে আমরা স্কেটিংয়ের জন্য ব্যাবহৃত জুতোগুলোর দিকে মনোযোগ দিই। স্কেটিংয়ের জুতাগুলোর নিচে ব্লেড লাগানো থাকে, এটা এখন আমরা সবাই জানি। এই ব্লেড গুলোর কারণেই বরফের ওপর যেকোনোদিকে ভর দিয়ে গ্লাইড করা যায়। ব্লেডের সামনের দিকটায় দাতের মত খাজ কাটা থাকে গতিতে ব্রেক আনার জন্য বা বরফে খোঁচা মেরে টো জাম্পের জন্য। পাশাপাশি দুই পায়ের নিচে দুই জুতার দুটো ব্লেডের মধ্যবর্তী ফাঁকা অংশের দিকে যে কিনারা তাকে বলে ইনসাইড এড্জ বা ভেতরের কিনারা। দুই জুতোর ভিতরের কিনারা দুটি পরপস্পরের দিকে মুখ করে থাকে। আর ব্লেডের বাইরের অংশের দিকের কিনারা, যেক্ষেত্রে দুই জুতোর দুই কিনারা বিপরীতমুখী, তাকে বলে আউটসাইড এড্জ বা বাইরের কিনারা। স্কেটার যেকোনো দিকে ভর দিয়ে বা কাঁত হয়ে এড্জ পরিবর্তন করতে পারে। টেকঅফে বিভিন্ন জাম্পের জন্য বিভিন্ন সাইডের এড্জ ব্যাবহৃত হলেও ল্যান্ডিংয়ে সাধারণত আউটসাইড ব্যাক এড্জ ব্যাবহার করা হয়, অর্থাৎ স্কেটার পায়ের পেছনের অংশে ভর দিয়ে ব্লেডের বাইরের কিনারার দিকে কাঁত হয়ে ল্যান্ডিং করে। শুধু এক্সেল জাম্পে টেকঅফের সময় ফরোয়ার্ড বা সামনের দিকের এড্জ ব্যাবহার করা হয়, যার কারণে এক্সেল জাম্পে একটি এক্সট্রা হাফ রেভোলুশন পাওয়া যায়, এবং এজন্য সবগুলো জাম্পের মধ্যে এক্সেল যথেষ্ট কঠিনও বটে। অবশ্য কার কাছে কোনটা কঠিন, সেটা একেকজনের জন্য একেকরকম, যেমন ইউরি এক্সেল ভালোই করতে পারে, খালি সালকো’র বেলায়ই আছাড় খায়! :'( আবার ইউরিওর কাছে সালকো হোক বা এক্সেল হোক, সবই ডালভাত! টেকঅফ ও ল্যান্ডিংযের সময় এই এড্জ এর ব্যাবহারের দিকে লক্ষ রেখেই জাম্পগুলোর পার্থক্য এবং স্কোরিং করা হয়, এবং যেখানে যে এড্জ ব্যাবহার করার কথা, তা না করে অন্য কোনো এড্জ ব্যাবহার করলে এড্জ ভায়োলেশনের জন্য পয়েন্ট ডিডাকশন হতে পারে।
জাম্পের সময় বাতাসে যে কয়বার ঘোরা হয়, তা সেই জাম্পের নামের সাথে যোগ করা হয়, দুবার ঘুরলে ডাবল্, তিনবার ঘিরলে ট্রিপল্ এবং চারবার ঘুরলে তাকে কুয়াড্রুপল বা কোয়াড বলা হয়। মেন্স সিঙ্গেলে স্কেটাররা সাধারণত ট্রিপল্ এবং কুয়াড্রুপল্ জাম্পের প্রচেষ্টা চালিয়ে থাকে, কারণ রেভোলুশন বেশীর জন্য পয়েন্টও বেশী।
পরপর কয়েকটা জাম্প করা হলে তাকে বলে কম্বিনেশন জাম্প। এড্জ এর জাম্পগুলো সাধারণত পারফর্ম করা মুশকিল, তাই কারও প্ল্যানিংয়ে কম্বিনেশন জাম্প থাকলে সে সাধারণত একটি এড্জ জাম্পের পর একটি টো জাম্প পারফর্ম করে, যেমন: প্রথমে সালকো করা হলে ঠিক পরেরটা হতে পারে টো-লুপ।
তারপর আসি স্পিন এর কথায়! 😀
স্পিন হচ্ছে যখন স্কেটার পায়ের ওপর ভর দিয়ে বরফের ওপর একটি নির্দিষ্ট বিন্দুকে কেন্দ্র করে ঘোরে। সেটা দুপায়ে অথবা একপায়ে হতে পারে, পায়ের মাঝখান এবং আঙ্গুলের মধ্যবর্তী অংশে ভর দিয়ে ঘোরা হয়। বাঁ পায়ে ভর দিয়ে বাম থেকে ডানে ঘোরাকে বলে ফরোয়ার্ড অথবা ফ্রন্ট স্পিন, আর ডান পায়ে ভর দিয়ে ডান থেকে বামে ঘুরলে সেটা হলো ব্যাক স্পিন। স্পিন শুরুর আগে ছোট্ট একটা জাম্প দিয়ে নিলে সেটাকে বলা হয় ফ্লাইং স্পিন। এই তিন ধরণের সিস্টেমের আন্ডারে শরীরের বিভিন্ন অংশের ব্যাবহার, রোটেশন, এড্জ, দাড়ানো বা বসার ভিত্তিতে একেক ধরণের স্পিনকে কম করে হলেও দশ ভাগে ভাগ করা যায়!
অনেকটা কম্বিনেশনের জাম্পের মতই, একই স্পিন এ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির পরিবর্তন, এড্জ বা রোটেশনের পরিবর্তন…অর্থাৎ একই এটেম্পটে পরপর বিভিন্ন ধরণের স্পিন পারফর্ম করাকে বলা হয় কম্বিনেশন স্পিন। কম্বিনেশন স্পিন এবং জাম্প, দুটোই ভারী মার্ক আনতে সক্ষম।
স্পিন এবং জাম্প ছাড়াও স্টেপ সিকুয়েন্স এবং কম্পালসরি ফিগারও ফিগার স্কেটিংয়ের দুইটি আবশ্যক এলিমেন্ট। স্পিন এর মতই, বিভিন্ন ধরণের স্টেপ সিকুযেন্স এবং কম্পালসরি ফিগার আছে। যেমন: পাঁচ নম্বর এপিসোডে ইউরির স্কেটিংয়ের সময় আমরা ভিক্টরকে ইনা বাউয়ার (Ina Bauer), এবং স্প্রেড ঈগল (Spread Eagle) এর কথা বলতে শুনি। স্প্রেড ঈগল হলো কিছুটা দুই পায়ের পাতা দুদিকে ছড়িয়ে দেয়ার ভঙ্গি, যেখান দুপায়ের গোড়ালী একে অপরের দিকে মুখ করে থাকে, এবং দুপায়ের সম্মুখভাগ তথা আঙ্গুল থাকে পরস্পরের থেকে সবচেয়ে দূরে। স্কেটার যেকোন সাইডের এডজ ব্যাবহার করে স্প্রেড ঈগল পারফর্ম করতে পারে। ইনা বাউয়ার ঠিক স্প্রেড ঈগল এর মতই, শুধু এটার বেলায় হাটু ভেঙে করা হয়। ভালো করে বোঝার জন্য পঞ্চম এপিসোডে ইউরির করা স্প্রেড ঈগল আর ইনা বাউয়ার দেখলেই পার্থক্য টা পরিষ্কার বোঝা যায়।
স্পাইরাল হচ্ছে যখন এক পায়ের ওপর ভর দিযে পুরো শরীর কে বিভিন্নভাবে বাঁকিয়ে ফেলা পজিশন, সাধারণত কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত সামনের দিকে বাকিয়ে দুহাত ও এক পা ছড়িয়ে দিয়ে পাখির ওড়ার মত করে পজিশন নিয়ে এক পা দিয়ে স্কেট করা হয়। এটাতেও, যেকোন এড্জ ব্যাবহার করতে পারে স্কেটার। ইউরি অন আইস এর পারফর্মেন্সে ইউরিকে আমরা স্পাইরাল করতে দেখেছি।
এ তিনটা ছাড়াও আরও বিভিন্ন রকমের অনেক স্টেপ সিকুয়েন্স এবং কম্পালসরি ফিগার রয়েছে।
কস্টিউম, সং এবং থিম:
ফিগার স্কেটিংকে একটা আর্টিস্টিক স্পোর্টস হিসেবে ধরা হয়, এখানে স্কেটারের টেকনিকাল এ্যাসপেক্টক গুলো যতটা মূল্য বহন করে, তারচেয়ে বেশী মূল্য বহন করে দর্শককে চমকিত বা বিনোদিত করতে পারার ক্ষমতা! তাই কস্টিউম, সং চয়েস এবং থিম একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ বৈ কি!
কম্পিটিশন ফিগার স্কেটিংয়ের কস্টিউম সাধারণত চাকচিক্যময় ও দৃষ্টিনন্দন হয়। পোশাকের ডিজাইন স্কেটার নিজেও করতে পারে অথবা প্রফেশনাল ফ্যাশন ডিজাইনারকে দিয়েও করাতে পারে। স্কেটিংয়ের জন্য ডিজাইনকৃত কস্টিউম অনেক এক্মপেন্সিভ হয় এর উপর ক্রিস্টালের ব্যাবহারের কারণে। এসব ক্রিস্টাল হাতে বসাতে হয়, যাতে প্রচুর সময় লাগে।
মেন্স ফিগার স্কেটিংয়ে কস্টিউম রুল একটাই, সেটা হলো ট্রাউজার থাকতে হবে, কোনোপ্রকার টাইট্স বা অন্য কিছু পড়া যাবে না। তারমানে এই না যে শুধু ট্রাউজারই পড়বে, গায়ে কিছু থাকতে হবে বৈ কি! এরেঞ্জাররা সবসময়ই চায় স্কেটারের পোশাক দৃষ্টিনন্দন, কিন্তু পরিশীলীত হোক। সুন্দর পোশাকে সুন্দর প্রেজেন্টেশনে সহায়ক, কস্টিউম রুল ব্রেক করলে পয়েন্ট ডিডাকশন হতে পারে।
ফিগার স্কেটিং সং চয়েসে সাধারণত কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, কিন্তু স্কেটারকে সং এর টেম্পোর সাথে তাল মিলিয়ে প্রেজেন্টেশন করার ক্ষমতা থাকতে হবে। আগে কম্পিটিটিভ স্কেটিংয়ের সং এ লিরিক্স এলাউড ছিল না, সম্প্রতি লিরিক্স এলাউ করেছে ISU।
থিম বা টেম্পো হল স্কেটারের আর্টিস্টিক ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, যার মাধ্যমে সে কোনো না কোনো ধরণের ইমোশন ডেলিভার করতে চায়। সং এর ফিলিং এবং বিট এর সাথে মিল রেখে থিম ঠিক করা হয়, অথবা যেধরণের থিম এ পারফরমেন্স করতে চায় স্কেটার, সেধরণের থিম অনুযায়ী সং সেলেকশন হয়ে থাকে। ভালো প্রেজেন্টেশন এবং দর্শককে বিনোদিত করার জন্য একটা সুন্দর থিমের তুলনা নেই!
এবার আসি ফিগার স্কেটিঙয়ের গভর্নিং বডি, কম্পিটিশন লেভেল এবং স্কোরিং ও জাজমেন্ট সিস্টেমে।
ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন লেভেলকে আমরা প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করতে পারি, ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল লেভেল, সেটা জুনিয়র বা সিনিয়র যাই হোক না কেন। যেকোনো দেশের অভ্যন্তরীন ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন হলো ন্যাশনাল কম্পিটিশন, যেমন: পঞ্চম এপিসোডে ইউরি যে কম্পিটিশনে পারফর্ম করল।
যেকোন ধরণের আন্তর্জাতিক ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন পরিচালিত হয় এই স্পোর্টসের সর্বোচ্চ গভর্নিং বডি, ISU (International Skating Union) এর তত্বাবধায়নে। ন্যাশনাল কম্পিটিশনগুলোও ISU এর রুল মেইনটেইন করে কম্পিটিশন পরিচালনা করে থাকে।
ISU এর সরাসরি তত্বাবধায়নে পরিচালিত আন্তর্জাতিক কম্পিটিশনগুলো হলো:-
♦World Championship
♦European Championship
♦Four Continents Championship
♦World Junior Championship
♦Olympic Games
♦ISU Grand Prix Championship
ISU Grand Prix কে ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশনের সর্বোচ্চ ফিল্ড হিসেবে ধরা হয়। ISU Grand Prix এর ফাইনালে যেতে হলে Grand Prix কতৃক আয়োজিত অন্তত দুটি কম্পিটিশনে জিততে হয়। Grand Prix আয়োজিত কম্পিটিশনের প্রাথমিক ধাপ পরিচালনার দায়িত্ব নির্দিষ্ট ছয়টি দেশ পেয়ে থাকে, যেমন: ইউরির ক্ষেত্রে তার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে তাকে চায়নায় এসাইন করা হয়েছে, একই জায়গায় এসাইন করা হয়েছে ওর রিংক মেট পিচিত চুলানন্ত কে। সেখানে ভালো পারফর্ম করতে পারলে তার পরবর্তী ধাপ হবে রাশিয়া, যেখানে তাকে ইউরি প্লিসেত্স্কির সাথে প্রতিযোগিতা করতে হবে।
এখানে ইউরির ব্যাপারটা ক্লিয়ার হওয়া যাক। গ্র্যান্ড প্রিক্সের মত ফিল্ডে কম্পিট করতে হলে একটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হয়। ISU রাঙ্কিঙে যারা ভালো স্কেটার হিসেব স্থান পায়, তারাই গ্রান্ড প্রিক্সে কম্পিট করার সুযোগ পায়। আবার ISU এর রাঙ্কিঙে স্থান পায় তখনি, যখন ন্যাশনাল লেভেলে ভালো পারফর্ম করে।
এখন চায়নাতে পারফর্ম করতে ইউরি তো আর নিজের টাকায় উড়ে যাচ্ছে না, তাকে নিযে যাবে ন্যাশনাল এরেঞ্জমেন্ট। ইউরি আগের বছর গ্র্যান্ড প্রিক্সে ষষ্ঠ হয়েছে, ISU নিয়মস্বরুপ গ্রান্ড প্রিক্স কমিটি তাকে এবছর আবার এ্যাসাইন করেছে চায়নাতে। কিন্তু আগেরবার খারাপ করার কারণে, এবার যদি সে যোগ্য পারফর্ম করতে না পারে, ন্যাশনাল টিম তাকে চায়নায় উড়াবার দায়িত্ব নেবে না। সুতরাং, তাকে প্রথমে তার ন্যাশনাল টিমের সাপোর্ট পাওয়ার জন্য নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করতে হবে, সেজন্যই চুগোকু, শিকোকু এবং কিয়ুশু চ্যাম্পিনশিপ থেকে ব্লক পর্যায়ে পারফরমেন্স শুরু করে ইউরি।
yuri-on-ice
এবার স্কোরিং সিস্টেম:
সত্য কথা বলতে কি, ফিগার স্কেটিংয়ের স্কোরিং সিস্টেমের মত ভেজাইল্যা স্কোরিং সিস্টেম দুনিয়ার আর কোথাও আছে কিনা, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার! >:( এমনকি হিসাব বিজ্ঞানের (যেটাতে আমার চেয়ে বেশী কাঁচা হওয়া মানব ইতিহাসের আরও কারও পক্ষেই সম্ভব না!) ফাইনাল একাউন্টস নামক খবিশটাও মেলা সোজা ছিল এর চেয়ে! :'( যাই হোক, প্রাথমিক একটা ধারণা দেযার চেষ্টা করছি:
আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি যেকোনো পর্যায়ের ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন মূলত দুটি ধাপের সমন্বয়, যে দুটি হলো শর্ট প্রোগ্রাম এবং ফ্রি-স্কেট বা লং প্রোগ্রাম।
আগের সিক্স পয়েন্ট জিরো সিস্টেমে এই দুটি প্রোগ্রামকে আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্যের জন্য আলাদাভাবে স্কোরিং করা হত। কিন্তু ২০০২ এর অলিম্পিকে ফিগার স্কেটিং স্ক্যান্ডাল (যেখানে ফিক্সিং এর অভিযোগ ভয়াবহ গুরুতর পর্যায়ে চলে যায়) এর পর থেকে IJS (International Judging System) এর আন্ডারে স্কোরিং করা হয়, যেটা ISU এর দ্বারাই গঠিত এবং বাস্তবায়িত। ISU জাজিং সিস্টেমের আন্ডারে, প্রতিটা স্কেটিং এলিমেন্ট এর জন্য ইন্ডিভিজুয়াল মার্কিং করা হয়, এবং এই এলিমেন্ট মার্কিং করে টেকনিকাল স্পেশালিস্ট রা। একেকটা স্পিন বা জাম্প, সব এলিমেন্টই ক্যামেরায় রেকর্ডের মাধ্যমে বারবার রিপ্লে করে করে দেখা হয় স্কেটারের স্টেপ সিকুয়েন্স বা কম্পালসরি ফিগারের যথার্থতা, জাম্পের সময়কার টেকঅফ এবং ল্যান্ডিং পজিশন, হাইট কাভারেজ, ডিসট্যান্স কাভারেজ, এবং কোনোধরণের ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সেজন্যে নাম্বার ডিডাকশন করে সবগুলো টেকনিকাল এলিমেন্টের জন্য বেস ভ্যালু বা প্রাথমিক স্কোর নির্ধারন করেন টেকনিকাল স্পেশালিস্টরা।
ফিগার স্কেটিং কম্পিটিশন পর্যবেক্ষণ বা জাজ করার জন্য টেকনিকাল স্পেশালিস্ট ছাড়াও নয়জন জাজ থাকেন, যাদের কাছে স্কেটারের টেকনিকাল মার্ক কম্পিউটারের মাধ্যমে প্রেরণ করেন টেকনিকাল বিশেষজ্ঞ দল। জাজেস প্যানেল তখন স্কেটারদের গ্রেড অফ এক্সিকিউশন (GOE) অর্থাৎ এলিমেন্টসগুলোর এক্সেকিউশনের মানের ওপর একটা কোয়ালিটি মার্কিং করে থাকেন, যেটা সাধারণত -৩ থেকে +৩ (খারাপ হলে -১, তার চেয়ে বেশী খারাপ হলে -২ এবং জঘন্য হলে -৩, একইভাবে মোটামুটি হলে ১, ভালো হলে ২, বেশী ভালো হলে ৩) এর পূর্ণসংখ্যার একটি স্কেলের মধ্যে হয়ে থাকে। গ্রেড অফ এক্সেকিউশনের নাম্বারকে আবার ISU এর SOV (Scale of Value) তালিকা অনুযায়ী আরেকটি নাম্বারে রুপান্তরিত করা হয়। এই রুপান্তরিত সংখ্যাকে আবার trimmed mean বা ছাটাইকরণ পদ্ধতিতে গড় করা হয়। এই গড় সংখ্যাকে (ধনাত্নক বা ঋণাত্নক, দুটোই হতে পারে) তখন টেকনিকাল স্পেশালিস্টদের দেয়া বেস ভ্যালুর সাথে যোগ করে এলিমেন্টের টোটাল স্কোরিং করা হয়। টোটাল এলিমেন্টস স্কোরকেই স্কোরবোর্ডে TES হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
এলিমেন্ট ছাড়াও জাজে’স প্যানেল আরও যা জাজ করেন তা হলো স্কেটিং স্কিল, কস্টিউম, কোরিওগ্রাফি, ফুটওয়ার্ক, ট্রানজিশন এবং ল্যান্ডিঙ, পারফরমেন্স ও এক্সেকিউশন, এবং সবশেষে থিম এবং গানের সাথে স্কেটারের বডি ল্যাঙ্গুয়েজের সামঞ্জস্যতা এবং টাইমিঙ। এসকল কিছুর প্রতিটাকে ০.২৫ থেকে ১০ পর্যন্ত একটা স্কেলের মধ্যে স্কোরিং করা হয়, যেগুলোকে আবার ছাটাইকরণ পদ্ধতিতে গড় করে কম্পোনেন্ট ভ্যালু বের করা হয়। এখন এই কম্পোনেন্ট স্কোরকে আবার কম্পিটিশন লেভেল, ডিসিপ্লিন ও সেগমেন্টের হার্ডনেস লেভেল অনুযায়ী একটা ভগ্নাংশ সংখ্যা দিয়ে গুণ করে একটা ভগ্নাংশে রুপান্তর করা হয়। তারপর যেটা পাওয়া যায়, সেটা হলো টোটাল কম্পোনেন্ট স্কোর।
টোটাল কম্পোনেন্ট স্কোরের সাথে টোটাল এলিমেন্ট স্কোর যোগ করে তারপর সেটা থেকে মাইনাস স্কোর বা ডিডাকশন ভ্যালু বাদ দিলেই যেটা পাওয়া যায় সেটা হলো স্কেটারের প্রাপ্ত নম্বর যেটাকে স্কোরবোর্ডে TSS বা টোটাল সেগমেন্ট স্কোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়! শর্ট এবং ফ্রি প্রোগ্রামের TSS যোগ করে যে নম্বর পাওয়া যায, সেটা হচ্ছে স্কেটারের প্রাপ্ত মোট নম্বর, যেটাকে স্কোরবোর্ডে TOTAL হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়!
পাঠক এই মুহুর্তে কি ভাবছেন, বুঝতে পারছি! “জাহান্নামে যাক শালার স্কোরিং সিস্টেম! এত ঝামেলা কেউ করে?!” >:( আমিও একমত, বিষযটাকে এতটা জটিল করে তোলার কারণ বা যথার্থতা বিশেষজ্ঞরাই ভালো বলতে পারবে, কিন্তু এই সিস্টেমও যে সর্বজন স্বীকৃত, তা কিন্তু নয়! বরং উল্টোটাই সত্য, এ সিস্টেম নিয়ে সমালোচনা করার মানুষ রয়েছেন প্রচুর! এমনকি টেকনিকাল মার্কিং নিয়েও প্রচুর কন্ট্রোভার্সি রয়েছে স্বয়ং বিশেষজ্ঞদের মধ্যেই। তবে ব্যাপারটা পড়তে বা শুনতে যতটা জটিল মনে হয়, আসলে অতটা জটিল নয়, কম্পিউটারাইয্ড্ প্রোগ্রামের কারণে পারফর্মেন্সের কিছুক্ষণের মধ্যেই ফলাফল দেখতে বা জানতে পারে স্কেটার ও দর্শকরা। প্রতিটা পার্ফরমারের প্রাপ্ত নম্বর তার প্রোগ্রাম শেষ হওয়ার পরই দিয়ে দেয়া হয়।
এখানে একটা ব্যাপার লক্ষণীয় যে, জাম্প মিস করার কারণে নাম্বার ডিডাকশন করা হয় প্রেজেন্টেশনের রিদম্ নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে কম্পোনেন্ট স্কোর থেকে, টেকনিকাল স্কোর থেকে না। জাম্পের যে অংশটা (টেকঅফ, ল্যান্ডিং বা রোটেশন) মিস করবে স্কেটার, সে অংশের জন্য সে টেকনিকাল নম্বর পাবে না, কিন্তু এজন্য নম্বর ডিডাকশনও হবে না। টেকনিকাল মার্ক ডিডাকশন হতে পারে শুধুমাত্র কোনো এলিমেন্টের টেকনিকাল রুলের অন্যথা ঘটলে, যেমন এড্জ ভায়োলেশন (ভুল এড্জ এর ব্যাবহার), টাইম ভায়োলেশন (অতিরিক্ত সময় নেয়া বা সময়ের আগে শেষ করে ফেলা) ইত্যাদি ঘটলে। তাই ফিগার স্কেটিঙয়ে প্রেজেন্টেশন অনেক গুরুত্ব বহন করে। সং এর থিম বা টেম্পোর সাথে মিল রেখে গানের সাথে নিজের পারফর্মেন্সের ছন্দ বজায় রাখা ভালো প্রেজেন্টেশন মার্কের জন্য আবশ্যক। জাম্প মিস করলে ছন্দপতন ঘটে, যার জন্য প্রেজেন্টেশনের রিদম্ নষ্ট হয়ে যায়, সেজন্যই স্কেটারদের আত্নবিশ্বাসী থাকাটা খুব বেশী গুরুত্বপূর্ণ, রিংকে নামলে আক্ষরিক অর্থেই নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর রাজপুত্র বা রাজকন্যা মনে করে স্কেটাররা, যার পড়ে যাওয়ার মত সামান্য ভুলটা কোনো ভুলই না! এই আত্নবিশ্বাসই পড়ে যাওয়ার পরও তাদেরকে রিদম্ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করে, এবং এ কাজে যে যতটা সফল হয়, ডিডাকশনের ভয় তার তত কম!
সুতরাং, পরে যাওয়া, বা জাম্প মিস তথা ল্যান্ডিং মিস করাটাকে আমরা যতটা ভয়াবহ অপরাধ মনে করি, ততটা ভয়াবহ নয় আসলে! :3 এমনকি জাজেস রা যদি মনে করেন কারও প্রেজেন্টেশন, এড্জ এর ব্যাবহার, টেকঅফ এবং রোটেশন এর ব্যাবহার ভালো হয়েছে অনেকগুলো ল্যান্ডিং মিস করার পরও, তাহলে তাকেই বরং কম্পিটিশনে এগিয়ে থাকার সুযোগ দেয়া হয় তার চেয়ে বেশী, যে কোনো জাম্পই মিস করেনি, কিন্তু প্রেজেন্টশনে গানের রিদম্ ধরে রাখতে পারেনি। একটা সুন্দর উদাহারণ হলো ইউরির এরোস, এবং ইউরিওর আগাপে! রিয়েল লাইফ উদাহারণও প্রচুর আছে, উল্লেখযোগ্য একটা হতে পারে ২০১৪ এর উইন্টার অলিম্পিকের ফিগার স্কেটিং মেন্স সিঙ্গেলে ইউযুরু হানইয়্যু’র পারফর্মেন্স টা। একটা সালকো ও একটা ফ্লিপ পুরাপুরি মিস করার পরও সেবছর গোল্ড মেডেল পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে সে! 😀 অতএব ফিগার স্কেটিং আসলে যতটা দেখা যায়, তারচেয়ে অনেক বেশী কিছু! মাপ্পাকে আমরা অভিনন্দন জানাতেই পারি এই জটিল ব্যাপারটাকে সুন্দর করে ফুটিয়ে তোলার সাহস দেখানোর জন্য! ^_^
আশা করি পাঠকরা এখন খানিকটা হলেও বুঝতে পারছেন ফিগার স্কেটিংয়ের রুলস্ এন্ড রেগুলেশন! :’) পোস্টটা বিশাল বড় হয়ে গেছে বলে দুঃখিত, এবং যারা কষ্ট করে পড়েছেন (আদৌ যদি কেউ পড়ে থাকেন!), তাদেরকে অভিনন্দন! 🙁 :’) ^_^ সবধরণের তথ্যই বারবার পড়ে ও দেখে যাচাই করা হয়েছে, তারপরও যদি কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকে, সেটাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখে সঠিক তথ্যটা জানালে কৃতজ্ঞ থাকব! 🙂 ফিগার স্কেটিং একটা স্পোর্টস বটে, এই জিনিসটা মাথায় রেখে এনিমের ব্রোমান্স আন্ডারটোনটাকে উপেক্ষা করতে পারলে এই পোস্টের উদ্দেশ্য স্বার্থক! :’)
সবাইকে শুভেচ্ছা এবং শুভকামনা। ^_^ Yuri!!! on Ice দেখুন, এঞ্জয় করুন এবং ভালো থাকুন! 😀 ^_^
তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া, ইউটিউব, এবং আরো অন্যন্য কিছু ওয়েবসাইট।