Ichi the killer [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ

Ichi the Killer

বিশ্বের অনেক দেশেই সরকারের পর সবচেয়ে শক্তিশালী অঙ্গ হল সে দেশের মাফিয়া, কোন কোন ক্ষেত্র মাফিয়াই শক্তিশালি। তো বিভিন্ন গ্যাংয়ের সহবস্থানে চলে এই মাফিয়া ইন্ডাস্ট্রি। এই অন্দ্ধকারে ঢাকা এবং সকলের অগোচরে থাকা এই ইন্ডাস্ট্রির একটি ছোট্ট ঘটনা নিয়েই মাঙ্গা ইচি দ্যা কিলার।
ইচিকে প্রথম দেখায় মনে হবে চোখ টলটলে এক সদ্য কৈশোর পেরোনো যুবক। ভীত হচকিত ভাব, যেন ভাজামাছ উল্টে খেতে জানে না। আসলে তাই, ছোটবেলা থেকে বুলিয়িং এর শিকার হয়ে তার মাথার স্ক্রু ২ একটা আলগা হয়ে গেছে। বড়ধরনের মানসিক সমস্যাতে ভুগছে সে। কিন্তু সে মার্শাল আর্টে দক্ষ এবং তার পায়ে অসুরের জোর। তো এই ইচিকে কাজে লাগিয়ে জিন সান নামক এক বুড়ো লোক। ভুল বুঝিয়ে, ম্যানুপলেশনের মাধ্যমে ইচিকে কাজে লাগিয়ে সে বেশ কয়েকটা খুন করায় এবং ইচি এই খুনগুলো করে ঘোরের মধ্যে, এই ইচির শিকারের হয় যারা তাদের আর এক খন্ডে পাওয়া যায় না। তো এক গ্যাং লিডারকে খুন করে টাকার জন্য এবং সেই খুনের সূত্রে তারা এক পাগলা সাইকো গ্যাং লিডার কাকিহারার সামনে পরে যায় যাকে দেখলে মনে হবে কোন দুঃস্বপ্নের দানব এবং তাদের মধ্যে চলতে থাকে ইদুর বেড়াল খেলা।
প্রথমেই এই মাঙ্গা পড়তে হলে মানসিকতা যথেষ্ট শক্ত থাকতে হবে। নুইড্যিটি, ভায়োলেন্স, গোর টর্চার আরও প্রচুর এডাল্ট আর অবসেন্স দৃশ্য আছে যা সকলের কাছে হজম নাও হতে পারে। আর্টও বেশ ডিস্টার্বিং। এই মাঙ্গার উপর ভিত্তি করে ২০০১ সালে একটি মুভিও বানানো হয়। এর ক্যারেকটারগুলো ইন্টারেস্টিং এবং চালবাজিগুলো অসাধারণ। যারা গোর এবং একশানের ভক্ত তারা পড়ে দেখতে পারেন এই ১০ভলিউমের মাঙ্গা ইচি দ্যা কিলার।

 

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৯

ইফ ইউ লাইকড ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru

Madoka 1

আপনার কাছে ‘Mahou Shoujo Madoka★Magica ভালো লাগলে ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru ও ভালো লাগতে পারে
কারণ-
Mahou Shoujo Madoka★Magica’ ও ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru’ এর মধ্যে মিল-
* সেইম কনসেপ্ট।
* মাহৌ শৌজোদের (ম্যাজিকাল গার্ল) নিয়ে কাহিনি।
* ড্রামা আর ম্যাজিক জনরার মিল।
* পৃথিবীর মানুষকে বিভিন্ন ক্ষতিকর ক্রিয়েচারের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য একদল মেয়ের এইসব ক্রিয়েচারের বিরুদ্ধে ফাইট করা নিয়ে কাহিনি।
* ফাইট করতে করতে অবশেষে সত্যি জানতে পারা।
* ম্যাজিকাল গার্ল হওয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে ক্যারেক্টারদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব।
* দুই অ্যানিমের ক্যারেক্টারদের মাঝে মিল।
* সিমিলার ভাইব।
* কাহিনি আগানোর সাথে প্লট ডার্ক হতে থাকা।
* ভালো OST.
Yuki Yuna
Mahou Shoujo Madoka★Magica ও ‘Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru এর মধ্যে অমিল-
* Mahou Shoujo Madoka★Magica তুলনামূলকভাবে বেশি ডার্ক আর সাইকোলজিক্যাল জনরার ম্যাটেরিয়াল বেশি।
* Mahou Shoujo Madoka★Magica এর সিকুয়েল হিসেবে মুভি আছে, Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru শুধু ১২ এপিসোড এর সিরিস।
* Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru এর এন্ডিং Mahou Shoujo Madoka★Magica এর এন্ডিং এর তুলনায় লাইট।
* Mahou Shoujo Madoka★Magica, Shaft studio এর করা। Yuuki Yuuna wa Yuusha de Aru, Studio Gokumi এর করা।
Yuuki Yuuna Madoka MagicaYuuki YuunaMadoka 2

 

 

Behind the Voices – 22

 

Hirakawa Daisuke

আনিমে জগতের সবচেয়ে কুখ্যাত চরিত্রগুলোর একজন হল School Days-এর প্রধাণ চরিত্র মাকোতো এবং এই চরিত্রের কণ্ঠের পিছনে যে কাজ করেছেন সে হল হিরাকাওয়া দাইস্কে । সাধারণত হিরাকাওয়া দাইস্কে তার আনিমের রোলগুলোর তুলনায় বরং হলিউড এবং কোরিয়ান মুভিগুলোর জাপানি ডাব ভার্শনের রোলগুলোর জন্য পরিচিত বেশি । ওর্ল্যান্ডো ব্লূমের সব জনপ্রিয় রোলগুলো এবং মার্ভেল ইউনিভার্স-এর লোকির জাপানি ডাবে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি ।

তার কণ্ঠটা বেশ গম্ভীর এবং সাধারণত সিরিয়াস স্বভাবের চরিত্রের রোলই বেশি করে । মাকোতো বাদে তার আরও জনপ্রিয় রোলগুলো হল রিয়ুগাজাকি রেই (Free!), নাওকি ইরিয়ে (Itazura na Kiss), কাকিয়োইন নোরিয়াকি (JJBASC) । আমার কাছে তার সবচেয়ে পছন্দের রোল কাকিয়োইন (JJBA) এছাড়া রেই (Free!), আকাবা হায়াতো (ES 21) , রেন হাকুয়ূ (Magi) , মুনেয়াকিরা ইয়াগিয়ু (Samurai Girls) , তানাকা সেন্সেই (Ao Haru Ride), সেনবনজাকুরা (Bleach), নোরিকি (Kyoukai Senjou no Horizon) । তিনি Assassin’s Creed Syndicate-এর প্রধাণ চরিত্র জাকব ফ্রায়ের কণ্ঠও দিয়েছেন, গেমটির জাপানি ডাবে আর কি । তিনি Brothers Conflict, Free!, Dance with Devils, Prince of Stride এই আনিমেগুলোর এন্ডিং সেই আনিমেগুলোর সেইয়ূ ইউনিটের সাথে এবং Omamori Himari-র শেষ পর্বের এন্ডিং”Sakamichi no Hate” গানটা নিজে গেয়েছেন ।

তার জন্ম ৪ জুন, ১৯৭৩ । TV আনিমেতে তার কণ্ঠ দেওয়া শুরু ২০০৩ সাল থেকে । তার নাম নিয়ে একটি মজার ব্যাপার হল, তার নামের সাথে নামিকাওয়া দাইস্কের নাম ওনেকেই গোলমাল করে ফেলে কেননা দুইজনের নামের মাঝে মাত্র একটা কান্জির পার্থক্য । JJBASC-এর আমার সবচেয়ে পছন্দের চরিত্রের কণ্ঠ অভিনেতা তিনি, তার আরও রোল সামনে দেখবো তা অবশ্যই আশা করি ।

Hirakawa Daisuke

 

Kotobuki Minako

কোতোবুকি নামটা শুনলেই সবার আগে যে চরিত্রটার কথা মনে আসে সে হল K-On-এর কোতোবুকি সুমুগি, মজার ব্যাপার হল চরিত্রটির কণ্ঠ দিয়েছেন যিনি তার নামটাও চরিত্রটির নামের সাথে ব্যপক মিল কেননা দুইজনেরই ফ্যামিলি নেম কোতোবুকি । তিনি সাধারণত ওজৌ-সামা গোছের চরিত্রদেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তবে কিছু বয়িশ চরিত্র করেও ভালো নাম কুড়িয়েছেন তিনি । সে তার কানসাই অ্যাক্সেন্টের জন্যও বেশ পরিচিত এবং অনেকের মতেই শিরাইশি রিয়োকোর পরে তিনি এই অ্যাক্সেন্টে কথা বলে এমন সব চরিত্র নির্ভুলভাবে তুলে ধরতে পারেন ।

তার ক্যারিয়ার শুরু হয় একজন অভিনেত্রী হিসেবে ২০০৫ সালে ‘Hibi’ নামক এই লাইভ-অ্যাকশন ফিল্মটি দিয়ে । তবে তার পরের বছরই তিনি Red Garden নামক আনিমেটিতে তার প্রথম কণ্ঠ অভিনয়ের রোল পায় । ২০০৬ সালে অভিষেক হলেও কণ্ঠ অভিনয়ের জগতে তার সফলতা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও ৩ বছর । ২০০৯ সালে সে তার প্রথম বড় মাপের রোল পায় এবং সেটা K-On!-এর মুগি । মুগি বাদেও তার বাকি উল্লেখযোগ্য রোলগুলো হল নেকোমি নাবেশিমা (Medaka Box), মিৎসুকো কঙ্গো (Index/Railgun), কারিনা লাইল (Tiger & Bunny), মিজুকি কানজাকি (Aikatsu), আসুকা তানাকা (Hibike Euphonium), ভিভিয়ান (Nanatsu no Taizai) এবং নাৎসু তাকাসাকি (Baby Steps) । সাধারণত আকি তোয়োসাকির সাথে সে বেশির ভাগ সময় একই আনিমেতেই কাজ করে, যদিও Sphere-এর বাকি সদশ্যদের সাথেও তার একই আনিমেতে ভালো পরিমাণ রোল আছে । বেশ কিছু আনিমে মুভি এবং লাইভ অ্যাকশন মুভিতেও তার রোল আছে । এছাড়া How to Train your Dragon মুভিটির জাপানি ডাবে তিনি অ্যাস্ট্রিডের কণ্ঠও দিয়েছিলেন । তার করা আমার পছন্দের রোলগুলো হল মুগি (K-On!), নাৎসুমি (Natsu-iro Kiseki), তাচিবানা গিন (Kyoukai Senjou no Horizon), নেকোমি সেনপাই (Medaka Box), হিকিওতানি ইতো (Punchline), ইয়ূকো নিশি (A-Channel), তোকুগাওয়া সেন (Samurai Girls) এবং দাইদাই (Otome Youkai Zakuro) ।

HTT-এর বাকি সব মেম্বারদের মত তারও গানের ক্যারিয়ার শুরু ২০০৯ সালে K-On!-এর ওপেনিং ‘Kagayake Girls’ গানটা দিয়ে । এরপর তিনি এখন পর্যন্ত এককভাবে ১০ টি সিঙ্গেল এবং ২টি অ্যালবাম বের করেছেন । Sphere-এর হয়ে ৪টি অ্যালবাম এবং ১৮টি সিঙ্গেল । Sphere-এর গানগুলো বাদে সে A-Channel!, Samurai Girls, Chuu-Bra! এই আনিমেগুলোর এন্ডিং-এ তার কণ্ঠ ছিল, আনিমেগুলোর কাস্টের বাকি সেইয়ূদের সাথে ।

তার জন্ম ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৯১ । তার এবং মাৎসুওকা ইয়োশিৎসুগুর জন্মদিন একই দিনেই কিন্তু সে ৫ (মিনাকো) বছরের ছোট । Sphere গ্রুপটির সর্ব কনিষ্ঠ সদশ্য হলেও তার আচারণ বেশ পরিপক্ব এবং বলা হয় যে ব্যক্তিগত জীবনে সে নাকি অনেক সার্কাস্টিক একজন মানুষ । তার কণ্ঠ-অভিনয় খুবই অসাধারণ । তার যত রোল পাওয়া দরকার সে তুলনায় কম রোলই পেয়েছেন তিনি, সামনে আরও রোল পাবে এই আশা রইলো ।

Kotobuki Minako

One Outs [রিভিউ] — MD Fahim Iftekhar

 

One Outs 3

আনিমেঃ এক আউট
জনরাঃ সাইকোলজিকাল, সেইনেন, স্পোর্টস
পর্বঃ ২৫

প্লটঃ ONE OUTS তথা এক আউট এর কাহিনি তোউয়া তোকুচি নামক একজন চরমপন্থী জুয়াড়িকে নিয়ে যার যুদ্ধ জাপানি প্যাসিফিক বেসবল লীগে তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করা এবং সম্ভবত কম গুরুত্বপূর্ণভাবে একটি নিরেট বেতন উপার্জন করা।

গল্পের শুরু ওকিনাওয়া দ্বীপে, লাইকাওনস এর তারকা খেলোয়াড় কোজিমা হিরোমিচি এর অনুশীলন দিয়ে, যার ইচ্ছা আসন্ন মৌসুমে অন্ধকারময় দলকে নেতৃত্ব দিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপ জিতানোর। এখানে প্রকাশিত হয় যে খেলাটি মূলত ব্যাটার ও পিচার এর মধ্যে বাজির খেলা যেখানে দুই পক্ষই একে অপরকে দমনের প্রচেষ্টা চালায়। তোকুচি এই খেলার অবিসংবাদিত রাজা যে কিনা লাইকাওনস এর তারকা খেলোয়াড় কোজিমা হিরোমিচির অনুরোধে লাইকাওনস এ যোগদান করে।

লাইকাওনস এর মালিক, সাইকাওয়া প্রাথমিক প্রতিদ্বন্দ্বী প্রকাশিত হন যে কিনা কেবল মাত্র অর্থের ব্যাপারে তৎপর, দলের ব্যাপারে না। তোকুচি ও সাইকাওয়া এর মধ্যে এক আউট চুক্তি গঠিত হয় এবং একটি যুদ্ধের মঞ্চ তৈরি হয় যেখানে তোকুচিকে লীগের অন্য দলের সাথে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি জয় লাভের জন্য মোকাবিলা করতে হয়েছে। একটি মজার ব্যাপার হল প্রতিটি গেমের পর তোকুচির বর্তমান বেতন দেখানো যা দ্বারা দর্শক বুঝতে পারেন ঠিক কতটা সৈনাপত্যের সাথে সে পালাচ্ছে।

One Outs 2

এখানে দেখানো হয় প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর জিতার বিভিন্ন উপায়, দেখানো হয় তারকা খেলোয়াড় থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞদের গভীর পরিকল্পনা, দেখানো হয় কিভাবে প্রতারনার কৌশল অবলম্বন করে এবং কিভাবে তা ধ্বংস হয়। যেহেতু প্রতিটি দলেরই ছিল তাদের জয়ের বহু রাস্তা, তাই তিন ম্যাচ এর সিরিজ কখনই তাড়াতাড়ি শেষ হতো না বরং দেখা যেত উভয় দলের ক্রমাগত একে অপরকে ফাঁদে ফেলার প্রয়াস। অর্থাৎ বলা যায় খেলাগুলা সাইকোলজিক্যালি গ্যাম্বলিং এর মতো করে দেখানো হয়েছে, আর দেখানো হয়েছে প্রোফেশনাল খেলার জগতের কিছু নেগেটিভ দিক।

বলা বাহুল্য সিরিজ পুরোটাই একজনকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকে। স্পট লাইট ফেলা হয় এমন এক জনের উপর যে কিনা মাত্রাতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী, ঠাণ্ডা মাথায় যে কিনা প্রতিপক্ষ দলকে নিজ ফাঁদে ফেলে। আপনি তখনই ভুল হবেন যখনই ভাববেন যে তোকুচি হেরে যাবে-এতে শর্ত যাই হোক না কেন।

২৫ পর্বের এই সিরিজটি তাই প্রদান করে একজন দর্শক একটি মানসিক এবং / অথবা জুয়া ভিত্তিক সিরিজ এ যা চান। সিরিজটির আর্টওয়ার্ক এবং অডিও উভয়ই ভালো।
আশা করি সবার সিরিজটি ভালো লাগবে।

One Outs 1

Behind the Voices – 21

 

Okamoto Nobuhiko

ওকামোতো নোবুহিকো সাধারণত একটু গরম মেজাজের আর চিল্লাচিল্লি করে এরকম চরিত্র অথবা একেবারে ঠাণ্ডা স্বভাবের নাহলে বেশ ভাব মারে এরকম চরিত্রগুলোর কণ্ঠ দেওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত । A Certain Magical Index আনিমেটায় অ্যাক্সেলারেটর চরিত্রটি দিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি সফলতা পেয়েছেন, Third Seiyuu Awards-এ Best New Actor Award এবং Fifth Seiyuu Awards-এ Best Supporting Actor এই দুইটা অ্যাওয়ার্ডেই অন্য কয়েকটা চরিত্রের পাশাপাশি এই চরিত্রটার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন ।

তার কণ্ঠ-অভিনায়ক হিসেবে অভিষেক ২০০৬ সালে এবং সেই বছরেই তার প্রথম মেজর রোল পেয়ে যান, Ghost Hunt আনিমেটিতে জন ব্রাউন চরিত্রটি । তার সবচেয়ে জনপ্রিয় রোলগুলো হল উসুই তাকুমি (Maid-Sama), ওকুমুরা রিন (Blue Exorcist), নিজুমা এইজি (Bakuman) এবং আকাবানে কার্মা (Assasination Classroom) । আমার কাছে তার কণ্ঠ দেওয়া পছন্দের রোলগুলো হল কার্মা (Assassination Classroom), উসুই (Maid-Sama), মিকোশিবা (Gekkan Shoujo Nozak-kun), নিজুমা এইজি (Bakuman), রিন (Blue Exorcist), কোমিনাতো রিয়োস্কে (Ace of Diamond), হিসায়া মিকি (Beelzebub), কুরোকিবা (Shokugeki no Souma), মিজুকি (Kamisama Hajimemashitae), ওগামি রেই (Code Breaker), নিশিনয়া (Haikyuu!), অন্দৌ জুলাই (Inou Battle wa Nichijou-kei no Naka de) এবং শিন-আহ (Akatsuki no Yona) ।

কণ্ঠ-অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন গায়কও । তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু ২০১২ সাল থেকে, Acchi Kocchi আনিমেটির ওপেনিং দিয়ে । যদিও সেটায় তার সাথে ওকুবো রুমি, নাবাতামে হিতোমি, আসানুমা শিনতারো এবং ফুকুহারা কাওরি এই ৪ জন সেইয়ূও কণ্ঠ দিয়েছিলেন । Brothers Conflict, Assassination Classroom, Pretty Rhythm, Aoi Sekai no Chuushin de এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং সে গেয়েছিলেন তবে অন্য সেইয়ূদের সাথে মিলে । তার পুরো ক্যারিয়ার নিজের ব্যক্তিগতভাবে গাওয়া গান এখন পর্যন্ত একটাই, “Shunkan Beat” নামক এই গানটি ।

তার জন্ম ২৪ অক্টোবর, ১৯৮৬ । অত্যন্ত ভালো কণ্ঠ অভিনয় করেন তিনি এবং সামনে আরো বেশি রোল পাবেন এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায় ।

Okamoto Nobuhiko

 

Toyosaki Aki

‘হিরাসাওয়া ইয়ুই’ এই নামটা যারা রেগুলার আনিমে দর্শক তাদের কাছে নিশ্চয়ই পরিচিত একটি নাম । মোয়ে আনিমের জগৎে অন্যতম জনপ্রিয় একটি চরিত্র তিনি এবং তার কণ্ঠ দেওয়ার জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিচিত তোয়োসাকি আকি । তার কণ্ঠটা বেশ হাই পিচ্ড অনেকটা এবং সে নিজেই তার স্কুল জীবনে নিজের স্বরটা কেন জানি অপছন্দ করতেন । সাধারণত সহজ-সরল স্বভাবের চরিত্রদেরই কণ্ঠ দিয়ে থাকেন তিনি কিন্তু কিছু অন্য গোছের চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েও বেশ সফলতা পেয়েছেন তিনি ।

তার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং সফল রোল ছিল ইয়ুই, এই রোলটা আর Kanamemo আনিমেটির কানা নাকামাচি এই দুইটি রোলের জন্যে তিনি 4th seiyuu awards-এ “Best New Actress” হিসেবে জিতেছিলেন তিনি । এছাড়া তিনি 5th Seiyu Awards-এ “Best Lead Actress” এবং “Best Personality” এই দুই অ্যাওয়ার্ড জিতেছিলেন, এখানেও সে মূলত ইয়ুই চরিত্রটির জন্য জিতেছিলেন । তার আরও কিছু জনপ্রিয় রোল হল কুনিয়েদা আয়োই (Beelzebub), কুরোকামি মেদাকা (Medaka Box), কোফুকু (Noragami) এবং মোমো (To-Love-Ru) । আমার কাছে তার পছন্দের রোলগুলো হল হিরাসাওয়া ইয়ুই (K-On!), কুনিয়েদা আয়োই (Beelzebub), চিহায়া মেগুমি (Servant x Service), কন (Tokyo Ravens), কুরোকামি মেদাকা (Medaka Box), ওতোহিমে(Ookami-san to Shichinin no Nakamatachi), ইয়োরি(Kokoro Connect), উইহারু(Index/Railgun), কোফুকু (Noragami), ওগিনোমে মোমোকা (Mawaru Penguindrum), নাগাসে জুন(Kami nomi zo Shiru Sekai), রিঙ্কো(Natsuiro Kiseki) এবং মোমো (To-Love-Ru) ।

তার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু হয় K-On!-এর ওপেনিং এবং এন্ডিং গাওয়ার মাধ্যমেই । ঠিক একই বছর (২০০৯), সে এবং আরও ৩ জন সেইয়ূ মিলে Sphere নামক এই আইডল গ্রুপটি খুলেন এবং এর প্রথম গানটি রিলিজ হয় ২০০৯ সালের এপ্রিল মাসেই এবং গানটির নাম ছিল “Future Stream” । Sphere-এ তার পাশাপাশি বাকি ৩ জন মেম্বার হল কোতোবুকি মিনাকো, তাকাগাকি আয়াহি এবং তোমাৎসু হারুকা । তাদেরকে একসাথে অনেক আনিমের কাস্টেই পাওয়া গিয়েছে এবং K-On! আনিমেটিতেও তোয়োসাকি আকির পাশাপাশি ছিল কোতোবুকি মিনাকো যিনি মুগির কণ্ঠ দিয়েছিলেন । তার প্রথম সোলো সিঙ্গেলটিও রিলিজ পায় ২০০৯ সাল, love your life নামক এই গানটি । Sphere-এর হয়ে ১৮টি সিঙ্গেল এবং ৫টি অ্যালবাম, HTT-এর হয়ে দুইটি এবং ব্যক্তিগতভাবে ১৩টি সিঙ্গেল এবং ৩টি অ্যালবাম । গ্রুপ অথবা ব্যক্তিগত সব মিলিয়ে তার Bakuman s3, Cat Planet Cuties, D-Frag, Demon King Daimao, Hanasaku Iroha, Hatsukoi Limited, K-On!, Kanamemo, Koiken, Ken to Mahou to Gakuen Mono s2, Medaka Box, Ryuugajou Nanana no Maizoukin, Natsuiro Kiseki, Seikon no Qwaser, The Sacred Blacksmith, Servant x Service, Shugo Chara, Shinryaku Ika Musume s2, Otome Youkai Zakuro, Sora no Manami, Kami-nomi zo Shiru Sekai s2 এই আনিমেগুলোর ওপেনিং/এন্ডিং/ইন্সার্ট সং গেয়েছিলেন ।

তার জন্ম ২৮ অক্টোবর, ১৯৮৬। কণ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে অভিষেক তার ২০০৭ সালে, Kenkou Zenrakei Suieibu Umishou-এর আমুরো নিনাগাওয়া এবং Shugo Chara!-এর সু এই ২ চরিত্র দিয়ে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি কানায়ে ইতৌর বেশ ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এবং বেশ কয়েকটা আনিমেতেই তাদের একত্রে রোল ছিল। তার কণ্ঠটা আমার কাছে খুব কিউট লাগে এবং খুব সহজেই ধরতে পারি। আমি প্রথম প্রথম যখন কিছু সেইয়ূদের চেনা শুরু করি তখনকার দিকের অন্যতম প্রিয়দের মধ্যে একজন ছিলেন তিনি, এখনও আছেন । সে সামনে আরো ভালো রোল পাবে তা আশা।

Toyosaki Aki

Lucifer and the Biscuit Hammer [Manga Recommendation] — Rezo D. Skylight

Lucifer and the Biscuit Hammer

Manga Recommendation:
Lucifer and the Biscuit Hammer
(Alternative names: Wakusei no Samidare, Hoshi no Samidare)
জনরা: Action, Adventure, Psychological, Comedy, Drama, Seinen
মাঙ্গাকা: Satoshi Mizukami
চ্যাপ্টার সংখ্যা: ৬৫
মাইএনিমেলিস্ট রেটিং: ৮.৫৬
পার্সোনাল রেটিং: ১০/১০

যারা অ্যাডভেঞ্চার, কমেডি, ড্রামা, সাইকোলজিকাল, স্লাইস অফ লাইফ থেকে শুরু করে অ্যাকশান, শৌনেন প্রায় সব জনরারই পাঁচমিশালী স্বাদ খুঁজছেন তারা Lucifer and the biscuit hammer মাঙ্গাটি পড়ে দেখতে পারেন।

এর কাহিনী তেমন আহামরি কিছু না। বলতে গেলে কাহিনীর শুরুটা হয় এক অদ্ভুত প্লট দিয়ে কিন্তু সমাপ্তি হয় ক্লাইম্যাক্সের মাধ্যমে। শুরুতে এনিমাস নামের এক জাদুকর “Biscuit Hammer” নামক এক বিশাল হাতুড়ির ব্যবহার করে নির্দিষ্ট সময় পর পুরো পৃথিবীকে ধ্বংস করে দিবে বলে প্রতিজ্ঞা করে। সোজা কথায় জাদুকর চায় পৃথিবীতে কিয়ামত ডেকে আনতে। কারণ সে নিজেকে প্রভু বলে দাবি করত এবং তার ধারণা ছিল পৃথিবীর জন্ম-মৃত্যু সবই তার হাতে। আর পৃথিবীকে এই ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী প্রিন্সেস এনিমা (প্রিন্সেস এনিমা কে তা মাঙ্গা পড়লে একসময় জানা যাবে) পৃথিবী থেকে ১২ জন মানুষ বাছাই করে ও তাদেরকে “Beast knight” এর শক্তি দান করে। এভাবেই এই ১২ জন “Beast knight” এর সাথে জাদুকর এনিমাসের এর যুদ্ধ নিয়ে শুরু হয় “Lucifer and the Biscuit Hammer” মাঙ্গার কাহিনী।

প্রথমে প্রথমে Lucifer মাঙ্গা তেমন একটা ইন্টারেস্টিং নাও লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যদি কষ্ট করে ১৩-১৪ টা চ্যাপ্টার পড়েন, এরপর আপনি আর পড়া থামাতে পারবেন না। মাঙ্গার আর্ট মুটামুটি ভালই। বিশেষ করে শেষ চ্যাপ্টারগুলার অার্ট খুবই ভাল। আর এই মাঙ্গার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, একই সাথে কিছুটা স্লাইস অফ লাইফ আবার অ্যাকশন-শৌনেন (যদিও জনরা সেইনেন দেয়া কিন্তু আমার কাছে শৌনেন টাইপের লেগেছে।) এর স্বাদ পাবেন, যা অন্যান্য মাঙ্গায় তেমন পাওয়া যায় না। তাই Lucifer এর মত মাঙ্গা খুব কমই আছে বলতে গেলে। সুতরাং, আপনারা সময় পেলে “Fate of the world” নিয়ে এই ব্যতিক্রমধর্মী মাঙ্গাটি পড়ে ফেলুন।

‘ইফ ইউ লাইক দিস ইউ মে অলসো লাইক দ্যাট’ – ১৮

 

ইফ ইউ লাইকড ‘Working!!’ ইউ মে অলসো লাইক ‘Servant x Service

Working 1

আপনার কাছে ‘Working!!’ ভালো লাগলে ‘Servant x Service’ ও ভালো লাগতে পারে
কারণ-
Working!!’ ও ‘Servant x Service’ এর মধ্যে মিল-
* দুইটাই একই মাঙ্গাকার (Takatsu, Karino) লেখা মাঙ্গা।
* একই স্টুডিও, A-1 Pictures, এডাপশন করেছে।
* একই আর্ট স্টাইল।
* কাজের জায়গায় (work-based setting) নিত্যদিনের ঘটা মজার কাহিনি নিয়ে অ্যানিমেই।
* মজার এবং ইউনিক ক্যারেক্টার।
* সেইম জনরার- Comedy, Slice of Life.
* হালকা রোমান্স জনরা এর ভাইব।
Servant x Service 1
Working!!’ ও ‘Servant x Service’ এর মধ্যে অমিল-
* ‘Working!!’ এর সেটিংস রেস্টুরেন্ট এ, ‘Servant x Service’ এর সেটিংস সরকারী অফিসে।
Working Wagnaria

Chirin no Suzu (Ringing Bell) [মুভি রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab

Chirin no Suzu

Chirin no Suzu (Ringing Bell)- ১৯৭৪ সালে স্টুডিও Sanrio থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত একটি কন্ট্রোভার্শাল মুভি। এই মুভি ছোটদের জন্য টার্গেট করা হলেও এর কন্টেন্ট অনেক পাওয়ারফুল যার কারণে অনেক দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়। জীবন ও মৃত্যু সম্পর্কে কড়া বাস্তবতা ফুটে উঠেছে এই মুভিতে যা হয়ত ছোট বাচ্চাদের মনে গভীর ছাপ ফেলতে পারে।

এর প্রধান চরিত্র হল চিরিন নামের ছোট্ট ও দুষ্টু এক ভেড়ার ছানা, ঘুরে-বেড়ানো ছিল যার অন্যতম শখ। সে তার চঞ্চলতায় আশেপাশের সবাইকে মাতিয়ে রাখত। এ কারণে তার মা’র তাকে নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। একদিন কিছু সময়ের জন্য চিরিনকে খুঁজে না পাওয়ায় তার মা’র উৎকন্ঠা আমাদেরকে মা ও সন্তানের মধ্যে যে নাড়ির টান ও পবিত্র আত্মার বাঁধন রয়েছে তা নতুনভাবে জানিয়ে দেয়। ভেড়াগুলির চারণক্ষেত্র একটি বেড়ায় বেষ্টিত। বেড়ার অপরদিকে দূরের এক পাহাড়ের দিকে ইংগিত করে মা চিরিনকে একদিন বলেন ওখানে এক ভয়ংকর নেকড়ে বাস করে। ভুলেও এই বেড়ার বাইরে না যাওয়ার প্রতিজ্ঞা করায় চিরিনকে। চিরিনও তার মা’র কথা অবজ্ঞা করেনা। এক গভীর রাতে ঐ দূর পাহাড়ের নেকড়েরাজা ‘Woe’ ভেড়ার খামারে আক্রমণ করে। একপর্যায়ে চিরিনকে রক্ষা করার জন্য তার মা ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে আগলে ধরে রাখে। এরই মধ্যে মা-ভেড়া জখম হয় এবং ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সকালে ঘুম থেকে উঠে চিরিন যখন বুঝতে পারে তার মা আর এ পৃথাবীতে নেই তখন তার হৃদয়বিদারক কান্না সত্যিই বুকে বিঁধে। এরপর চিরিনের মধ্যে পরিবর্তন আসে। সে তার মনে ঠিক করে ফেলে সে শক্তিশালী হবে। নিজের জীবন এমন সহজে বিলিয়ে দেবেনা আর। তার জন্য সে ঐ নেকড়ের কাছে যায়। নেকড়েকে শিক্ষা দিতে বলে, তাকে শিক্ষানবিশ বানানোর অনুরোধ করে। প্রথমে নেকড়ে ‘Woe’ তাকে একটুও পরোয়া না করলেও যখন সে চিরিনের প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও সাহসী মনোভাব দেখে, তখন রাজি হয়ে যায়। তাদের মধ্যে একটি প্যাক্ট হয়। চিরিন একদিন নেকড়ের চেয়েও শক্তিশালী হবে এবং তখন সে তার মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিবে। নেকড়ে Woe চিরিনকে নিয়মিত ট্রেইনিং দিতে থাকে। জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য ভয়ংকর সব সত্যের মুখোমুখি হয় চিরিন। এই সত্যি উপলদ্ধি করে চিরিনের মানসিকতার পরিবর্তন এবং তার জন্য অনুশোচনা আমাদেরকে ভাবায় আমাদের জীবন কী তুচ্ছ।

‘Someone has to die so that someone else can live.’ এই চরম সত্যটি আমরা কখনই হয়ত মেনে নিতে পারব না। কিন্তু আমাদের সার্ভাইভালের জন্য এটা মেনে নিতে আমরা বাধ্য। আমাদের অস্তিত্ব প্রতিদিনই সংকটের মুখে। জীবনে এমন কিছু পরিস্থিতি আসে যেখানে সিদ্ধান্ত নেয়া কঠিন হয়। তাই আমরা কতটুকু স্যাক্রিফাইস করতে প্রস্তুত তা ভেবেই সিদ্ধান্ত নেয়া উচিৎ যেখানে আফসোসের কোন অবকাশ থাকবেনা। থাকবেনা কোন পিছুটান।। প্রকৃতির এসব নিষ্ঠুর নিয়ম মেনে নিয়ে বেঁচে থাকার সার্থকতার কথাই জানান দেয় এই মুভি।

এই মুভির প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত খুব মনোযোগ দিয়ে দেখতে হবে। কারণ এই মুভির মেসেজগুলি এত বেশি পাওয়ারফুল যা আপনাকে বারবার রিপিট করে দেখতে বাধ্য করবে। চারপাশের কিছু সুন্দর দৃশ্য আপনাকে বিমুগ্ধ করবে। তার সাথে সুন্দর কিন্তু করুণ ওপেনিং সং এবং ভয়েস এ্যাকটরদের নৈপুণ্যতায় আপনি মিশে যাবেন এর কাহিনীতে। এটা অবশ্যই ‘Must Watch’ লিস্টে রাখার যোগ্যতা রাখে।

Yowamushi Pedal, Season 1 [রিভিউ] — Shifat Mohiuddin

এনিমেঃ Yowamushi pedal সিজন ১
জনরাঃ স্পোর্টস(সাইক্লিং/রোড রেসিং)
এপিসোডঃ ৩৮
স্টুডিওঃ TMS
উৎসঃ Yowamushi pedal মাঙ্গা
¤
Yowamushi pedal শব্দটির শাব্দিক অর্থ weakling pedal.যার সুন্দর বঙ্গানুবাদ করেছিল আমার বন্ধু Siam Maksud,’হে দুর্বল,প্যাডাল ঘুরা।’তো এনিমের প্রধান চরিত্র যে অতি দুর্বল দেখামাত্রই আপনি তা স্বীকার করবেন।প্রধান চরিত্র,ওনোদা সাকামিচি একজন এক্সট্রিম লেভেলের এনিমখোর অর্থ্যাৎ সোজা কথায় বলতে গেলে ‘ওতাকু’।তো বেশিরভাগ ওতাকুদের মত সেও লিকলিকে শরীর এবং গোল কাঁচের চশমার অধিকারী।আশ্চর্যজনক ভাবে সমগ্র মিডল স্কুল লাইফে সে একজন এনিমখোর বন্ধুও খুঁজে পায়নি।তাই হাইস্কুলে একটি এনিমে ক্লাব প্রতিষ্ঠার ধণুকভাঙ্গা পণ নিয়ে সে তার বাইসাইকেল সহ স্কুলের দিকে রওনা দেয়।পথিমধ্যে তার সামনে পড়ে দুই কিলোমিটার ব্যপ্তি বিশিষ্ট এক ঢাল যা সে তার ‘মমা বাইক’ অর্থ্যাৎ সাধারন সাইকেল চালিয়েই গুণগুণ করে গান গেয়ে অনায়াসেই পাড়ি দিতে থাকে।এই অস্বাভাবিক দৃশ্য দেখে অবাক হয় ‘ইমাইজুমি’ ওরফে ‘হটশট’ যে কিনা মিডল স্কুল রোড রেসিং কম্পিটিশনে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে এই সোহোকু হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে।তাই অনেকটা হিংসার বশবর্তী হয়েই সে ওনোদাকে রেসের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।অপ্রস্তুত ওনোদা,ইমাইজুমির বিপক্ষে অসাধারন ভালো ফলাফলের কারণে স্কুলের বাইসাইকেল ক্লাবের সিনিয়রদের সুনজরে পড়ে।ওনোদা আর ইমাইজুমি দুজনেই বাইসাইকেল ক্লাবে জয়েন করে।তারা কি পারবে সিনিয়রদের সাথে লড়াই করে ক্লাবে টিকে থাকতে?তারা কি পারবে ইন্টার হাই রোড রেসিং টুর্নামেন্টের মত মহাযজ্ঞে অংশগ্রহণ করতে?
¤
Yowamushi pedal এর সবচেয়ে আকর্ষনীয় দিক সম্পর্কে বলতে গেলে সবার আগে বলতে হবে এর ক্যারেকটার ডেভেলপমেন্টের কথা।যেহেতু রোড রেসিং একটি দলগত খেলা তাই এখানে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে সম্পূর্ণ একটি রেস জেতা সম্ভব না।সোহোকো রেসিং ক্লাবের ছয়জন সদস্যের উপরেই স্পটলাইটের আলো সমান ভাবে পড়েছে।খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ,মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব,একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা সুন্দর করেই তুলে ধরা হয়েছে।বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়দের উপরও সমান আলোকপাত করা হয়েছে।প্রধান খল চরিত্র ‘মিডৌসুজি আকিরা’ এর চালচলন এবং সিদ্ধান্তগুলো পুরোপরি আনপ্রেডিক্টেবল মনে হবে আপনার কাছে।সোহোকু একাডেমির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হাকোনে একাডেমির রেসারদের সিরিজের মাঝপথে দেখলে আপনি ধন্দে পড়ে যাবেন যে এরাই নায়ক কিনা।পক্ষ-বিপক্ষ প্রতিটি দলের খেলোয়াড়েরই রয়েছে অম্লমধুর অতীত যা আপনার হৃদয়কে নাড়া দেবে।দলগত খেলা হওয়ার পরও সোহোকু আর হাকোনে একাডেমির সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যকার খন্ড লড়াই আপনাকে অন্যরকম একটা থ্রিল এনে দেবে।
¤
অ্যানিমেশন কোয়ালিটির কথা বলতে গেলে একে গড়পড়তার মধ্যেই ফেলা যায়।আর এনিমের বেশির ভাগ স্ক্রিনটাইম রেসিং ট্র্যাকের ওপর হওয়ায় অ্যানিমেশনের কোয়ালিটির অতটা গুরুত্বও ছিল না।তবে পাহাড়,গাছ-পালা ও রেসিং ট্র্যাকের আশেপাশের পরিবেশের গ্রাফিক্স আরেকটু ভালো হওয়া দরকার ছিল।
¤
এনিমেটির সাউন্ডট্র্যাক যথেষ্ট থ্রিলিং ছিল।বিশেষ করে সোহোকুর রেসারদের রেসে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় অসাধারন কিছু সাউন্ডট্র্যাক ব্যবহার করা হয়েছে।চারটি ওপেনিং সংয়ের মধ্যে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে Rookiez Is PunkD এর গাওয়া প্রথম ওপেনিং ‘reclimb’.এছাড়া এন্ডিং সংগুলোও ভালোমানের ছিল।
¤
Yowamushi Pedal দেখলে আপনি একটা জিনিস নিশ্চিত জানতে পারবেন তা হল সাইক্লিংয়ের নিয়মকানুন ও খুঁটিনাটি।বাংলাদেশে অনেকে শখ করে সাইকেল চালালেও নেশা হিসেবে সাইক্লিংকে খুব কম মানুষই বেছে নেন।তার উপর ট্র্যাকের অপ্রতুলতা এবং এসএ গেমসে চিটিংয়ের অভিযোগে বাংলাদেশ সাইক্লিং ফেডারেশনের ভাবমূর্তি অনেকটাই ক্ষুণ্ণ। কিন্তু Yowamushi pedal সাইক্লিংয়ের প্রতি আপনার পুরনো ভালোবাসাকে জাগিয়ে তুলবে।এনিমেটা দেখে থাকলে পরিচিত হবেন gear shifting, dancing, climbing, sprinting, cadence, king of the mountain ইত্যাদি সাইক্লিং বিষয়ক টার্মের সাথে।এছাড়া সাইকেল চালানোর সময় চালকরা যে মুক্ত বিহঙ্গ মার্কা অনুভূতি পেয়ে থাকে তার সাথেও পুনরায় সুপরিচিত হবেন।তাই যারা জীবনে একবার হলেও সাইকেল চালানো শিখেছেন তাদের প্রত্যেকেরই উচিত এনিমেটা দেখা।
¤
পুরোটা এনিমে দেখে আমি একটা বিষয় খুব ভালোভাবেই বুঝেছি যে,যতদিন পর্যন্ত না এদেশের যুবসমাজ গিয়ার সাইকেল চালানোকে পার্ট ধরার সরঞ্জাম হিসেব গণ্য করা বন্ধ না করবে ততদিন পর্যন্ত এদেশের সাইক্লিংয়ের ভবিষ্যত অন্ধকার।(এটাকে অনেকে ধৃষ্টতা হিসেবে নিতে পারেন কিন্তু ইহাই বাস্তব সত্য।)
¤
খুবই টানটান উত্তেজনাময় এক মূহূর্তে এনিমেটার প্রথম সিজন হয়ে যাই।তাই আজকে দ্বিতীয় সিজন নামানোর খুশিতে এই লেখা।ধন্যবাদ Siam Maksud ও M.M Rezwan কে এই অসাধারন এনিমেটি সাজেস্ট করার জন্য।

Annarasumanara — Zahin Mobashshir

Annarasumanara

Annarasumanara.
ইংরেজি নাম: Do you believe in Magic.
চ্যাপ্টার সংখ্যা: ২৭
Genre: Mystry, Drama, Romance, School, Psychological, Seinen.

আপনে কি ম্যাজিকে বিশ্বাস করেন?
এই এক প্রশ্ন নিয়ে কোরিয়ান এই মানহুয়াটি শুরু হয়। শেষ পর্যন্তও এই একই প্রশ্নই থেকে যাবে কিন্তু অর্থ হয়ত পালটে যাবে।

এক হাই স্কুল পড়ুয়া এক বালিকার কাহিনী। ছোটবেলা থেকেই সে ম্যাজিক পছন্দ করত কিন্তু পারিবারিক সমস্যার কারনে বর্তমানে তার আর্থিক অবস্থা খুবই করুন। তাই এসময়ে তার মাথায় ম্যাজিকের চিন্তা আসাও হারাম। নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সে নিয়মিত পড়াশোনা করে ফলাফল ভাল করছে কারন তার মতে বড় হয়ে চাকরি নিলেই তাদের সব চিন্তা চলে যাবে। ছোট একটা বোনকে নিয়ে একটা খুপড়ি ঘরে থেকেও সে তাই মনোবল হারাচ্ছে না। এগিয়ে যাচ্ছে তার নির্দিস্ট গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।

হঠাৎ একদিন তার কস্টে উপার্জিত টাকা বাতাসে উড়ে গেল। সেই টাকার পিছনে ধাওয়া করতে করতে সে এসে পৌছাল একটা পুরানো চিত্তবিনোদন উদ্যানে। সেখানেই তার দেখা হয়ে যায় এক যাদুকরের সাথে, এরপরেই পাল্টাতে থাকে তার জীবন।

যাদুকর তাকে তার পুরানো স্মৃতি ঘুরিয়ে এনে তাকে জাদু শিখতে রাজি করায়। এরপরে যাদুকরের সাথে বালিকাটি সময় কাটাতে থাকে এবং ধীরে ধীরে সে যাদুকরের আসল পরিচয় জানতে পারে।
কিন্তু ততদিনে তার নিজের জীবনও অতিস্ট হয়ে পড়ে। তার ফলাফল খারাপ হতে থাকে, তাকে সবাই খারাপ চরিত্রের মনে করে। তার একমাত্র সংগী যাদুকরও কি তাকে তার সাথে ধোঁকাবাজি করল? কে এই যাদুকর? তার আসল পরিচয় কি?

মানহুয়াটার সবচেয়ে সুন্দর জিনিস হল এর আর্ট। অসাধারণ আর্টের সাথে রয়েছে আবার অসাধারণ কালার, যা আপনাকে মুগ্ধ করবেই। চরিত্র গঠনের দিকেও অনেক লক্ষ্য রাখা হয়েছে।

বি.দ্র: মানহুয়াটা পড়ার সময় অবশ্যই লক্ষ্য রাখবেন যেন প্রতি চ্যাপ্টারের পেজ যেন ৭-৯টা হয়। এটার পেজটা আসলে অনেক লম্বা কিন্তু আপনি যদি কাটা পেজ পড়েন তাহলে আর্টটার মজা পাবেন না