নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 2] — Rahat Rubayet
————-Naruto Fan Fiction — Part: 2————————-
—————————————————————————-
(১৬ বছর আগে)
নাইন টেইল ফক্স কে উচিহা ক্লানের বিশেষ এক সিলিং জ্যুতসু দিয়ে এক বাচ্চার ভেতরে সিল করে দেয় ক্ল্যান লিডার ফুগাকু। এই সিলিং জ্যুতসুর বৈশিষ্ট হল তা প্রায় বাড়তি কোন চাকরা ছারাই নাইন টেইল বিস্ট চাকরাকে সিল করে রাখবে। বলাবাহুল্য, উপায়ন্তর না দেখেই এ কাজ করতে হয়েছে ফুগাকুর। কারন, ডানযো আর ৩য় হোকাগে মিলে আধডজন টেইল বিস্ট বম্ব সিল করে পৌঁছে গেছে ক্লান্তির সীমায়। শেষে তাই, বাধ্য হয়েই নিজের ছোট্ট ছেলে সাস্কের ভেতর নাইন টেইল সিল করে দেন ফুগাকু।
সাস্কের ভেতর টেইল বিস্ট সিল করতে দেখেই যেন বাতাসে উড়ে এল ডানযো। উদ্দেশ্য- শিশু সাস্কে, তথা উচিহাদের কাছ থেকে নাইন টেইলকে ছিনিয়ে নেয়া। আরেক অর্থে সাস্কে কে খুন করা। মরিয়া ফুগাকুর সাথে সেখানে লড়াইয়ে বেঘোড়ে মারা পড়ে ডানযো। এর পর ধীরে ধীরে সব স্বাভাবিক হয়ে আসতে থাকে। সাস্কের ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারির ব্যবস্থা করেন লর্ড হোকাগে। উচিহারাও সব বিবেচনা করে তা মেনেই নিয়েছিল। প্রায় ৯ বছরের মত সময় সব ভালমতোই কাটে।
তবে ধীরে ধীরে উচিহাদের ভেতর চাপা ক্ষোভ আর অসন্তোষ দেখা দিতে থাকে। নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কে বড় হতে থাকলে ঘটনা আরও খারাপের দিকে মোড় নেয়। এর মাঝে অভ্যন্তরীণ ক্যু ঘটাবার জন্যে প্ল্যান করতে থাকে তারা। উপায়ন্তর না দেখে, শিসুই উচিহা তাদের ক্ল্যান লিডার ফুগাকুর ওপর কোতো-আমাত্সুকামি নামক গেনজ্যুতসু কাস্ট করে,। এরপর সবকিছুই শান্ত হয়ে আসে।
এসবের প্রায় ৭ বছর হতে চলল। আজ আবার সেই উচিহাদের থেকেই সঙ্কটের উৎপত্তি। উচিহাদের থেকে ক্যু এর নেতৃত্ব দিচ্ছে ১৭ বছর বয়স্ক সাস্কে উচিহা। এরই মাঝে সে ফুল-নাইন টেইল এর চাকরার ওপর কন্ট্রোল নিয়ে নিয়েছে। এতে তার শারিঙ্গান আর ওই বিশেষ সিলিং জ্যুতসুর কৃতিত্বই বেশি। তাই বিজু মোডেও যেতে পারে সে।
আজকের এই ক্যু এর কারন একটাই। উচিহাদের দাবি, গ্রামের শাসন ব্যবস্থা উচিহারা কন্ট্রোল করবে। অন্য যেকোন ক্ল্যানের থেকে তারা শারিঙ্গানের জন্যে অনেক বেশি শক্তিশালী। উপরন্তু তাদের মাঝে ফুল নাইন টেইল কন্ট্রোলিং জিনঝুরিকি , শিসুই দ্য বডি ফ্লিকার, ইটাচি উচিহা রয়েছে। কাজেই তারা গ্রাম পরিচালনা করলে অন্য গ্রামের কেউ ভুলেও আক্রমন করার স্পর্ধা দেখাবে না। শিসুই আর ইতাচি প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করায়, তারা সাস্কের নেতৃত্বে ক্যু ঘটাবার প্ল্যান করেছে।
এতক্ষন ধরে সেই উচিহাদের ব্যাপারেই ব্রিফ করছিলেন জিরাইয়া সেন্সে। তিনি থামতেই মিনাটো বলল,
“নারুটো তোমাকে না মাকে নিয়ে বাড়ি যেতে বললাম। আমরা এখনো জানি না, ওরা কি প্ল্যান করছে। তুমি কুশিনা কে এ………”
মিনাটো কথা শেষ করতে পারলো না, তার আগেই নারুটো বাতাসে মিলিয়ে গেছে যেন।
ওদিকে হোকাগের বাড়ির দরোজার ঠিক বাইরে হাজির সাস্কে। কুশিনাকে জিজ্ঞেস করে মিনাটো আর নারুটো কোথায়। ওর উদ্দেশ্য পরিষ্কার। হোকাগে কে সপরিবারে খুন করে গ্রামের দায়িত্ব হাতে নেবে। আর তারপর ঢেলে সাজাবে কলুষিত এই নিনজা সিস্টেমকে।
তাই, হোকাগে বাসায় নেই শুনে সাস্কে বলল, “কি আর করা, তোমাকে সপরিবারে মারা যাওয়ার আনন্দ দিতে না পারায় দুঃখিত, লেডি কুশিনা।’
কুশিনা কিছু বুঝতে পারে না। শুধু বলতে গেল, “নারুটো সম্ভবত ইরুকার সাথে আছে।”
কিন্তু বলতে পারল না। তার আগেই দেখল, সাস্কের চোখের চাহনি পাল্টে গেছে হটাত করে। কিছু বুঝে উঠার আগে শুধু শুনলো, “আমাতেরাসু”।
ওদিকে সাস্কে আমাতেরাসু ইয়ুজ করেই তাজ্জব বনে গেছে। হটাতই উধাও হয়ে গেছে কুশিনা। শারিঙ্গান দিয়ে খুঁজেও কোন চাকরার অস্তিত্বই খুঁজে পেল না। হটাত, কানের কাছে নারুটোর গলা শুনতে পায়।
“ফ্লাইং রাইজিন, লেভেল ৩”
পরক্ষনে পিঠে প্রচন্ড ধাক্কা খায় সাস্কে। ইতিমধ্যে হাফবডি সুসানো বের করে ফেলেছিল সে। তাই রাসেঙ্গানের ঝড় টা তার ওপরই গেছে। শব্দ লক্ষ্য করে সোরড চালাতেই অবাক হয়ে দেখল, নারুটো তার ৫গজ সামনে দাড়িয়ে আছে।
নারুটোই মুখ খোলে প্রথমে, “আমি জানি না, তুমি নিনজা সিস্টেম চেঞ্জ করবে কি করবে না। কিন্তু এই মুহূর্তে তুমি আমার বাড়ির সদর দরজায় দাড়িয়ে আমার মাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করতে যাচ্ছিলে। তুমি আমার বন্ধু হতে পারো। কিন্তু, এই মুহূর্তে তুমি আমার শত্রু। আর এর ফয়সালা করতে যা করা প্রয়োজন আমি তা নির্দ্বিধায় করবো।”, বলে এক মুহূর্ত থামল ও। তারপর বলল,”তুমি জান, আমাদের কোথায় যাওয়া উচিৎ”
বলতে বলতেই হাওায় মিলিয়ে যায় নারুটো। তার বাবার কাছ থেকে শেখা, স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু ইয়ুজ করেছে সে। আর এদিকে সাস্কেও ফাইনাল ভ্যালির পথ ধরে।
ওদিকে, উচিহা ক্ল্যানের সকলে গ্রাম আক্রমন করে বসেছে। তাদের আক্রমনের ধরনটা খুবই সিম্পল-কিন্তু ভয়ঙ্কর। অন্য ক্ল্যানের লোকজনের ওপর গেনজ্যুতসু কাস্ট করে তাদের দিয়েই আক্রমন করছে তারা। আর তা ঠেকাতেই, গ্রামের আনবু, জৌনিন-চুনিনদের জলদঘর্ম অবস্থা। উপায়ন্তর না দেখে, ৩য় আর ৪র্থ হোকাগে ছুটে গেছে ক্যু থামাতে। কিন্তু নাইন টেইলের জিনঝুরিকি সাস্কেকে কোথাও না পাওয়া যাওয়ায় ভেতরে ভেতরে অস্থির হয়ে ওঠে ৪র্থ হোকাগে। সে নিজে সেন্সরি-টাইপ নিনজা। কাজেই নাইন টেইল চাকরা ইনফিউজ করতে শুরু করলেই ধরতে পারবে তা।
হটাতই, নাইন টেইলের বিশাল চাকরার ভর সেন্স করতে পারে সে, সেই সাথে নারুটোর সেইজ চাকরা-আসছে ফাইনাল ভ্যালী থেকে। এদিকের কাজ ফেলে যাওয়াও অসম্ভব। অগত্যা, তার হাইলি কোওালিফাইড আর বিশ্বস্ত দুই নিনজা কে পাঠাল, নারুটোকে সাহায্য করতে।
ওদের উদ্দেশ্যে বলল,” শিসুই, ইতাচি! সাস্কে আর নারুটো ফাইনাল ভ্যালী তে। বিজু মোডে সাস্কেকে থামাতে পারবে না, নারুটো। আমি চাই, ওকে তোমরা এসিস্ট কর।”
“জী, লর্ড হোকাগে”, বলে বডি ফ্লিকার দিয়ে উধাও হয়ে যায় ওরা।
মিনাটো ভাবতে থাকে, খুব কি দেরি করে ফেলবে ওরা পৌঁছতে?
———————————————————————————–
নারুটো ফ্যান-ফিকশান [Part 1] — Rahat Rubayet
নারুটো ফ্যান-ফিকশান (Naruto Fan-Fiction)
————————- Part- 1—————————-
—————————————————————————–
ইচিরাকুর রামেনশপে আজ যেন মেলা বসেছে। হইহুল্লোড়ের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে সেই বিকেল থেকেই। স্বয়ং ৪র্থ হোকাগে উপস্থিত আজ। সপরিবারে গোগ্রাসে রামেন গিলে চলেছে ওঁরা। এর মাঝেই লিজেন্ডারী সাননীন দের একজন, জিরাইয়া এসে প্রবেশ করলো। মিনাটো- মানে ৪র্থ হোকাগে আর তার ছেলে নারুটো দুজনেই ওঁর ছাত্র। মিনাটোর হাতে খড়ি হয় জিরাইয়া সেন্সের কাছে। তারপর থেকে ওঁকে গরে পিটে একদম গ্রামের প্রধান-অর্থাৎ হোকাগে হওয়া পর্যন্ত, সবসময়ই জিরাইয়া ওঁর পাশে ছিল একজন দায়িত্ববান শিক্ষক হিসেবে।
ওদিকে নারুটো নিঞ্জা একাডেমি থেকে গ্রাজুয়েট হয়ে তার নিঞ্জা স্কিল বাড়াতে জিরাইয়ার কাছে জুতসু শেখা শুরু করে। আর তার বাবা হোকাগে হিসেবে ব্যস্ত থাকলেও, সময় পেলেই নারুটোর খোঁজ নিতে ছুটে যায় তার টেলিপোরটেশান জুতসু দিয়ে।
জাজ্ঞে, ফিরে আসি ইচিরাকুর রামেনশপে।
কুশিনা আর মিনাটো বহু আগেই খাওয়া শেষ করেছে, তবে নারুটো তার ১১ নম্বর পেয়ালাটা খালি করে মাত্রই তৃপ্তির ঢেকুর তোলে। ফুলে ওঠা পেটে হাত বুলাতে বুলাতে ভাবল, আজ বোধয় একটু বেশিই খাওয়া হয়ে গেছে। আর চোখে একবার মায়ের দিকে তাকায় ও। রাতের খাবারের যদি একটা ফোঁটাও নষ্ট করে নারুটো আজ ওর কপালে বেধড়ক মার আছে। ঘুরে বাবার দিকে তাকাতেই দেখল, জিরাইয়া সেন্সের সাথে কি নিয়ে যেন নিচু গলায় কথা বলছে সে। নারুটো তাতে যোগ দিতে গেলে দুজনেই কথা থামিয়ে দিল।
-‘নারুটো, তোমার মাকে নিয়ে বাড়ি যাও। আমার একটু জরুরী কাজ পরে গেছে। এক্ষুনি বেরোতে হবে। আর কুশিনা, আমার ফিরতে রাত হবে, খাবার ঢেকে রেখে ঘুমিয়ে পোরো।”
কপট রাগ আর অভিযোগের সুরে কিছু বলতে গেলো কুশিনা। কিন্তু, কাকে বলবে? এর মধ্যেই যেন বাতাসে মিলিয়ে গেছে মিনাটো আর জিরাইয়া সেন্সে। কুশিনা জানে, মিনাটো তার ফ্লাইং রাইজিন জ্যুতসু ইয়ুজ করেছে। ক্লান্ত চোখে নারুটোর দিকে তাকাল।
নেই, সুযোগ বুঝে কেটে পরেছে সে। আজ আসুক বাড়িতে, ওর একদিন কি আমার একদিন, ভাবতে থাকে কুশিনা। কি এমন জরুরী কাজ পরে গেল- এত তারাহুরো করল মিনাটো? ভাবতে ভাবতেই বাড়ির পথ ধরল। কপালে চিন্তার রেখা।
ওদিকে নারুটো গেছে ইরুকা সেন্সের সাথে দেখা করতে। ইরুকা, নারুটোর নিঞ্জা একাডেমিতে থাকাকালীন টিচার, বড় স্নেহ করে ওকে। ইরুকা সেন্সের ঘরের সদর দরজায় তালা ঝুলছে, বাসায় নেই। পথে নেজি, শিকামারু, সাই, কাকাশি-সেন্সে সবার বাসায়ই একবার করে ঢু মারল। অবাক হয়ে দেখল, এদের কেউই বাসায় নেই।
সবাই গেল কোথায়-ভাবতে ভাবতে হোকাগের অফিসের নিচে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল এই সময়েও লাইট জলছে সেখানে। মানে, তার বাবা এখন অফিসেই এসেছেন। কি মনে করে গিয়ে অফিসে ঢুকল ও। ভেতরে ঢুকেই দেখল গ্রামের সব জোনিন আর চুনিন নিঞ্জারা হাজির। নিশ্চয় কোন জরুরী মিশন। কিন্তু তাই বলে সবাই এভাবে জড় হবার মানে হয় না। ব্যাপারটা কি? ভাবতে থাকে নারুটো। তার উত্তর পেতে হলে, বাবার সাথে কথা বলতে হবে। ভীর ঠেলে সামনে এগিয়ে যায় নারুটো। মিনাটো একবার তাকাল শুধু ওর দিকে, কিন্তু কিছু বলল না। কপালে চিন্তার ভাঁজ। জিরাইয়া সেন্সে- নারুটোর ভাষায় এরো সেননীন কথা বলছেন।
আড়চোখে একবার পুরো রুমটা দেখে নেয় নারুটো। ৩য় হোকাগেও আছেন রুমে। সব ক্লানের নিঞ্জাই আছে শুধু উচিহা ক্লান বাদে। উচিহাদের ভেতর শুধু শিসুই আর ইটাচি রয়েছে এখানে। বাকিদের জানানো হয় নি। কারন, আজকের সংকটের মধ্যমণি ওই উচিহারাই। জিরাইয়া সেন্সে তার ব্রিফিং মাত্রই শেষ করলেন। তবু, নারুটো নামিকাজে আর আমার পাঠকের সুবিধার জন্যে জিরাইয়া সেন্সের ব্রিফিঙের চুম্বকাংশ আমিই তুলে ধরছি।
আজ থেকে প্রায় ১৬ বছর আগে মাদারা উচিহা স্বয়ং গ্রাম-আক্রমন করেন। মাদারার সাথে ফেইস ট্যু ফেইস ব্যাটেল করেন ৪র্থ হোকাগে মিনাটো। মাদারা শুধু যে নিজে গ্রাম আক্রমন করে তাই না, সাথে নাইন টেইল ফক্সকেও নিয়ে আসে।
৪র্থ হোকাগে মাদারার সাথে লড়াই করতে থাকার এক পর্যায়ে নাইন টেইল ফক্স কে মাদারার কমপ্লিট সুসানো থেকে আলাদা করে ফেলে। সাথে সাথে ৩য় হোকাগে, ডানযো আর উচিহা ক্ল্যান লিডার ফুগাকু সবাই মিলে নাইন টেইলকে সিল করতে চেষ্টা করতে থাকে। অপর দিকে ওরোচিমারু(রোগ নিঞ্জা) ভিলেইজ এটাক করে বসে, উদ্দেশ্য নাইন টেইল এর চাকরা নিয়ে তার জিনঝুরিকি হওয়া। তার সাথে লড়াই হয় তারই একসময়ের সতীর্থ জিরাইয়ার।
আর এদিকে মিনাটো লড়তে থাকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা আর ভয়ংকর ধুরন্ধর শিনোবি মাদারা উচিহার সাথে। ওঁর ফুল বডি সুসানোর সাথে ফাইট করতে ভীষণ বেগ পেতে হয় মিনাটোর। শেষ ৩০ সেকেন্ডে সে ক্রমাগত-সেকেন্ডে ২ বার করে ফ্লাইং রাইজিন ইয়ুজ করেছে। শুধুমাত্র মাদারাকে কনফিউজড করে দেবার জন্যে সে গত আধ মিনিটে ৬০ বার টেলিপোরট করেছে নিজেকে। পৌঁছে গেছে ক্লান্তির চরম মাত্রায়। কিন্তু তার পরেও থামে না, মিনাটো। চোখের সামনে কুশিনা আর ছোট্ট নারুটোর মুখ টা ভেসে উঠতেই ভেতর থেকে দায়িত্ববোধের বিশাল একটা ধাক্কা অনুভব করে সে।
মিনাটো জানে, যতই বাড়াবাড়ি মনে হোক, এটুকু পরিশ্রম প্রাপ্য- অসম্ভব বুদ্ধিমান শিনোবি ওই মাদারা উচিহার। তাই আক্রমন না করে শুধু বাতাসে ভেসে বেড়াতে লাগলো। সেইজ মোডের চাকরাটুকু নিঃশেষ হতেই তার রিজার্ভ করা চাকরার বাকিটুকু সামোন করল। ওঁর টেলিপোরটেশান জ্যুতসুর একটা অনন্য বৈশিষ্ট হল, এর মার্কার তার ইয়ুজারের ইচ্ছা অনুসারে মুভ করতে পারে। ক্রমাগত ফ্লায়িং রাইজিন ইয়ুজ করার পাশাপাশি ওঁর জ্যুতসু মার্কারকে মাদারার সুসানোর ভেতর প্রবেশ করিয়ে নিতে থাকে মিনাটো।
ওদিকে মাদারা তার দৈত্যাকৃতির সুসানো নিয়ে দাড়িয়ে আছে। চারপাশে শুধু মিনাটোর আফটার ইমেজ দেখছে। বুঝতে পারছে, ভয়ংকর কোন ফাঁদ আঁটছে এই হলুদ-চুলো ছোকরা। টেলিপোরটেশানের প্যাটার্ন বের করতে গিয়েও হতাশ হল। অবশ্য অবাক হলেও থেমে নেই তার ক্ষুরধার বুদ্ধি আর এটারনাল মাঙ্গেকিয়্যু শারিঙ্গান। একবার ভাবল, গেনজ্যুতসু কাস্ট করবে। পরক্ষনে বাদ দেয় চিন্তাটা। ‘স্পেস-টাইম নিনজ্যুতসু’র ওপর মোটেই এফেক্টিভ নয় গেনজ্যুতসু। তার থেকে পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন করে কোর্স অব একশান ঠিক করে নেয় সে।
স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে, আমার ফুলবডি সুসানো ভাঙার মতো শক্তিশালী কোন জ্যুতসু নেই এই ছোকরার কাছে, ভাবতে থাকে মাদারা। কাজেই সোরড গুলো ইয়ুজ করা যেতে পারে।
সুসানোর দু’হাতের সোরড দুটো দিয়ে বিশেষ ভঙ্গিমায় বাতাসে আঘাত করতে থাকে সে। লক্ষ্য, চারপাশে, মিনাটোর আফটার ইমেজ। সোরডের ধারালো অংশ সাময়িক সময়ের জন্য ম্যাগনেটিক ফিল্ডের মতো তৈরি করল সুসানোর চারিপাশে। মিনাটোর আফটার ইমেইজগুলো যেন কর্পূরের মতন উবে গেল। ঠোঁটে বাকা একটা হাসি ফুটতে শুরু করে মাদারা উচিহার।
ওদিকে, মিনাটো যেন এরই অপেক্ষা করছিল। অস্বাভাবিক ক্ষিপ্রতা, ন্যাচারাল স্পীড আর ফ্লাইং রাইজিনের সমন্বয়ে সেকেন্ডের ২০ ভাগেরও কম সময়ের ভেতর ৫০ গজ দূরত্ব পেরিয়ে যায় সে। হাজির হয় তার মার্কার এর ঠিক ওপর, অর্থাৎ মাদারার ঠিক পাশেই। সঙ্গে সঙ্গে হাতে চলে আসে রাসেঙ্গান। পাশ ফেরারও সময় পায় না মাদারা, তার আগেই মিনাটোর রাসেঙ্গান সাদা হতে শুরু করে দিয়েছে, ওতে তার চাকরা নেচ্যার অ্যাড হচ্ছে অতি দ্রুত। একইসাথে সুসানোর কাস্টার আর কোর অংশে আঘাত করতে থাকে ভয়ংকর মারাত্মক ওই জ্যুতসু।
ঘটনার আকস্মিকতায় মূর্তির মতো জমে গেছে মাদারা। প্রতিক্রিয়া দেখাতে মূল্যবান আধা সেকেন্ড সময় নষ্ট করে ফেলেছে সে। কিন্তু এরই মাঝে মিনাটো তার সুসানো আর ‘এদো টেন্সে’র শরীর গুড়িয়ে দিয়েছে। শূন্য থেকেই যেন আবার তৈরি হতে থাকে মাদারার শরীর। মিনাটো বুঝতে পারে, ওঁকে সিল করার এটাই মোক্ষম সময়। কুশিনার কাছ থেকে শেখা- উজ্যুমাকিদের বিশেষ ফ্যুইনজ্যুতসু দিয়ে সিল করে ইতিহাসের দুর্ধর্ষ এই শিনোবিকে!
—————————————————————————–
Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki [রিভিউ] — Nudrat Mehraj Sadab
Chika Gentou Gekiga: Shoujo Tsubaki – ১৯৯২ সালে নির্মিত ৫০ মিনিটের ট্রেডিশনাল জাপানিজ হরর মুভি। এই ‘disgustingly beautiful piece of art’ তৈরির নেপথ্যে মূলত একজন- Hiroshi Harada। দীর্ঘ ৫ বছরের এই প্রজেক্টের কাজে তিনি তার সারাজীবনের কামাই ঢেলে দিয়েছেন। তার এই অসামান্য ডেডিকেশনের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই রিভিউ লেখা।
আমরা কম-বেশি সবাই নিষ্ঠুর। অন্যজনের কাছে এই নিষ্ঠুরতা কতখানি প্রকাশ করব তার উপর ভিত্তি করেই আমরা মানুষ বিচার করি। কিন্তু এমনকিছু ঘটনা থাকে যার কাছে সব ধরণের নিষ্ঠুরতা হার মানে। Shoujo tsubaki এমন একটি মুভি যার মাঝে নিষ্ঠুরতার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাব।
মিদোরির মায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু দিয়ে কাহিনীর শুরু হয়। তার বাবা আগেই মারা গেছে। একদিন এক ভদ্রলোক মিদোরির দুর্দশা দেখে তার খরচাপাতি বহন করার প্রস্তাব দেয়। স্কুলে যেতে পারবে- এই মিথ্যা আশায় মিদোরির নিষ্পাপ মন আনন্দে নেচে উঠে। কিন্তু হায়! তার ভাগ্যে কি এ-ই অপেক্ষা করছিল?? তার ঠাঁই হয়েছে এক ‘ফ্রিক শো’ তে, যেখানে মানুষরূপী কিছু পশুর অত্যাচার ও লাঞ্চনা ছিল প্রতিদিনের রুটিন। কিন্তু তার তো আর কোথাও যাওয়ার নেই। বের হলেই সে ট্রেনের দিকে হাত নাড়ত। মনে শুধু একটাই আশা ছিল কোন এক রাজপুত্র তাকে উদ্ধার করবে এই নরক থেকে। শারীরিক ও মানসিক দিক দিয়ে চরমভাবে বিপর্যস্ত হবার পর যখন মিদোরি আশা ছেড়ে দেবার কথা চিন্তা করে তখনই আবির্ভাব হয় ‘আরাশি’ নামের এক জাদুকরের। যে কিনা মিদোরির ত্রাণকর্তা।
জাদুকর আরাশি ও মিদোরির মাঝে এক প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। তাদের মত এমন রোমান্টিক জুটি এই জগতে মেলা ভার। তাদের একসাথে থাকার স্বপ্ন মনকে নাড়া দেয়।
কিন্তু এই নির্ভেজাল ভালবাসার মধ্যে যখন ঈর্ষা কাজ করে তখন সবকিছু একটু কঠিন হয়ে যায়। বামন জাদুকর আরাশি যখন দেখে তাদের দলের একজন মিদোরিকে পছন্দ করে, তখন তাকে অদ্ভুতভাবে মেরে ফেলে। একদিন কোন এক কারণে আরাশির মেজাজ খারাপ থাকে। তখন সে তার দর্শকদের উপর চড়াও হয়। যার ফল হয় মারাত্মক। কত ব্রুটালি মানুষকে মারা যায় তা দেখে হতবাক হয়ে যেতে হয়। মিদোরিও ক্রমশ আরাশিকে ভয় পাওয়া শুরু করে। মিদোরি কি পারবে এই নরক থেকে ফিরে আসতে? সে কি তার স্বপ্নের পথে আগাবে? নাকি জাদুকরের ধূম্রজালে আটকা পড়বে?
কোন একটি সৃষ্টির সার্থকতা তখনই যখন তা থেকে শিক্ষা নেয়া যায়। যখন আপনার সাথে কেউ নিষ্ঠুর আচরণ করবে তখন চুপচাপ বসে না থেকে ট্যাক্টফুলি কীভাবে তার মোকাবেলা করা যায় তা আপনাকেই ভাবতে হবে। যদি এমন কোন অবস্থায় পড়েন যেখানে চারপাশে আপনার শত্রু তখন চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। নাইলে মিদোরির মতই আপনার কোন প্রিয় মানুষকে রেঁধে খাওয়ালেও আপনি হয়ত জানবেন না। এছাড়া মানুষকে সবসময় তার এ্যাপিয়ারেন্স দিয়ে বিচার করতে নেই এই সত্যিটাও আমরা শিখতে পারি এ মুভি থেকে। ট্রান্সভেস্টাইটদের অধিকার সম্পর্কেও ভাবায় এই মুভি। আর সবচেতে বড় শিক্ষা হল জীবনযুদ্ধে কখনই হার মানা যাবেনা। মিদোরি এত নিপীড়ন সহ্য করার পরও যখন সুন্দর ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তখন মনে হয় এই পৃথাবীতে কিছুই অসম্ভব না।
সাস্পেন্স, থ্রিলার, হরর, রোমান্স এ সবকিছুর মিশেল এই মুভি। আপনার হার্ট যদি ভুল জায়গায় হয় এবং আপনি যদি স্যাডিস্ট হন, তাহলে এটা আপনার জন্য পারফেক্ট মুভি। আর এম্নিই যদি দেখতে ইচ্ছা করে তবে caution নিতে ভুলবেন না।
Vinland Saga [মাঙ্গা রিভিউ] — আতা-এ রাব্বি আব্দুল্লাহ
কল্পনা করুন আপনি ১১শতকের দিকে নদীর পারে একটি ছোট্ট শহরের বাসিন্দা । সকালে উঠে নদীর পাড়ে ঘুরতে গেছেন । শীতের সকাল , কুয়াশায় মোড়া সবকিছু । সেই কুয়াশা ভেদ করে এগিয়ে আসছে কিছু জাহাজ । দম দম করে দামামা বাজছে । কিছুক্ষনের মধ্যেই বোঝা গেল যে তারা আর কেউ নয় , তারা হল ডেনিশ জলদস্যু অর্থাত্ ভাইকিং । অসুরের মত শক্তি , হাতে কারুকাজ খচিত অস্ত্র , মাথার শিংযুক্ত শিরস্ত্রাণ যেন তাদেরকে আরও অসুরীয় করে তুলছে । তারা এগিয়ে আসছে রক্তলোলুপ নেকড়ের দলের মত । যেন হিমদল চিরশীতের দেশ থেকে তার বাহিনী নিয়ে এগিয়ে আসছে । চোখের পলকে তারা হত্যা করছে , নারী ,পুরুষ , শিশু , বৃদ্ধ কারো রেহাই নেই । পুরুষদের দাস , নারীদের যৌনদাসী হিসেবে বিক্রি করে দিচ্ছে । ভাইকিংদের লক্ষ্য তিনটি : মদ , নারী ও যুদ্ধ । এই ভয়াল জাতটিকে নিয়ে বহু কাহিনীর প্রচলন আছে , বহু গান গাওয়া হয়েছে । আরে এদের নিয়ে মাঙ্গা হবে না তা কি হয় !? এই ভয়ডরহীন রক্তলোলুপ যোদ্ধাদের নিয়েই মাঙ্গা ভিনল্যান্ড সাগা ।
এর কাহিনী ১১শতকের ইংল্যান্ডে ডেনিশ রাজা Sweyn Forkbeard এর আক্রমন এবং তার ২পুত্র Harlard আর Canute মধ্যে চলা সিংহাসনের খেল নিয়ে । এবং এর প্রধান চরিত্র বলা যায় থরফিনকে । ভাইকিং বীর আসকাল্যাড এর অধীনে এক কিশোর হিংস্র যোদ্ধা । তার লক্ষ্য একটাই আসকাল্যাডকে সম্মুখযুদ্ধে হত্যা করা , কেননা এই আসকাল্যাডই থরফিনের পিতার ঘাতক । জ্বী , থরফিন কাজ করছে তার পিতার ঘাতকের আন্ডারে । কাহিনী তো সবে শুরু । রাজপুত্র Canute এর মসনদে বসার অভিপ্রায় । থরকেল এর মত চরিত্র যার নিষ্ঠুরতা সীমাছাড়া কিন্তু তাকে ভাল না লেগে পারবে না । এক অসাধারণ কাহিনীর জন্য যে অসাধারণ চরিত্রের দরকার তা সবই আছে ।
প্রথম কথা হল মাঙ্গার আর্ট । এর আর্ট সেরা পাঁচে থাকার যোগ্য । প্রতিটা ক্যারেকটারের অভিব্যাক্তি , এক্সপ্রেশন নিঁখুত ভাবে দেখানো হয়েছে । প্রতিটা দৃশ্য ডিটেইলড । অস্ত্র , পোষাক , জাহাজ সবকিছুর ডিজাইন ডিটেইলড যেন বইয়ের মেইন কভারের আর্টের মত । বার্সাক এর কথা বারবার মনে পড়ে যায় কিছু জায়গায় এর আর্ট দেখলে ।
ভাইকিং ইতিহাস , তাদের জীবনযাত্রা , তাদের মানসিকতা ,সে সময়কার সমাজের জীবনধারার উপর একটা কোর্সই হয়ে যাবে এই মাঙ্গা পড়লে । এরকম নিঁখুত ইতিহাস ভিত্তিক মাঙ্গা আর পড়েছি কেবল কিংডম । যুদ্ধের স্ট্র্যাটেজি , Game of thrones অর্থাত্ মসনদে বসার খেল সবই আছে এই মাঙ্গায় ।

এই মাঙ্গার প্রত্যেকটা ক্যারেকটারের ডেভলপমেন্ট চোখে পড়ার মতো । সবচেয়ে নির্মম যে তারও অতীত ছিল হৃদয় বিদারক । এবং সবই রুঢ় বাস্তবতার আলোকে ।তবে আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্যারেকটার আসকাল্যাড ।
এই মাঙ্গা পড়ার সময় একরকম ঘোরে চলে যাবেন । যেন টাইম মেশিনে করে ভ্রমণ । খুবই কম মাঙ্গা এটা করতে পারে । তো এই মাঙ্গা না পড়ার কোন কারণ আমি দেখি না । পড়ে ভাল না লাগার কোন চান্স নেই ।
মাঙ্গার চ্যাপ্টার 127 টি এবং অনগোয়িং । রেগুলারলি আপডেট হয় ।
পড়তে পারেন এখানে :http://kissmanga.com/Manga/Vinland-Saga
পড়ার সময় Ensiferum বা Equilibrium এর যে কোন এলবাম ছেড়ে নিলে তো সোনায় সোহাগা ।
Ensiferum :https://www.youtube.com/watch…
Equlibrium:https://www.youtube.com/watch…
তো সময় থাকতে পড়ে ফেলুন অসাধারণ এক মাঙ্গা Vinland Saga!
Dareka no Manazashi [রিভিউ] — Shahoriar Rafi Amil
Dareka no Manazashi
Genre : Drama, Slice Of Life
Duration : 6min
MAL Rating : 7.6
Directed By Makoto Shinkai
পরিবারে জন্ম হলেও অন্যান্য জিনিসের জাঁকজমকে আমরা সেটার মর্ম ভুলে যাই। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবতে থাকি। আর পরিবারের মধ্যে সৃষ্টি হয় এক না চাওয়া দূরত্ব। তখন কি আর এই জাঁকজমক ভালো লাগে?
এমনই স্বাভাবিক ঘটনা ঘটছে “আয়া অকুমার” জীবনে যে পড়ালেখা শেষ করে নতুন চাকরি তে ঢুকেছে। চাকরির খাতিরে সে আলাদা বাসায় থাকে। তার মা ও চাকরির সুবাদে দূরে থাকে। আর তাদের বাসায় শুধু থেকে যায় আয়ার বাবা আর তার ছোট বেলার খেলার সাথী “মি” নামের বিড়াল যে কিনা এখন শেষ বয়সে। এক ঝামেলাপূর্ন দিন শেষে আয়া তার বাসায় এসে বিছানায় কেবল গা এলিয়েছে আর তার বাবা ফোন আসলো!! কেমন আছে না আছে আলাপে মেয়ে বাবা দুই জনেই নিজেদের মিথ্যা সুখের কথা বলে। কিন্তু তার পর এমন কিছু ঘটে যা তাদের আবার এক হতে বাধ্য করে!!
আর্ট দেখে সহজেই মাকোতো শিনকাই এর কাজ বোঝা যায়, এই মাত্র ৬ মিনিটে অনেক তাড়াতাড়ি একটা গল্প বলা হয়েছে যার সাথে আপনি তখনই মিশে যাবেন এবং সব শেষে এটা আপনাকে অনুপ্রাণিত করবে। বুঝতে পারবেন পরিবারের কাছে ফিরে যেতে কারন লাগে না চাইলেই যাওয়া যায়। কেননা পরিবার পরিবারই!!
লিংক: https://kissanime.to/Anime/Dareka-no-Manazashi/Episode?id=51158
A Brief Discussion on KanColle (+Review) — Imamul Kabir Rivu
কোন সাধারণ আনিমে ভক্তকে যদি প্রশ্ন করা হয় কয়েকটি উদ্ভট আনিমের নাম বলতে তাহলে সে তালিকায় Kancolle-র নামটা আসাটাই স্বাভাবিক। তবে যদি গেমটির সাথে অথবা জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জলযুদ্ধগুলোর সাথে পরিচিত থাকেন তাহলে আনিমেটার মূল ধারণা এবং কি দেখাতে চাচ্ছে সে বিষয়টা অনেকটা হলেও ধরতে পারবেন। Kancolle আনিমেটা মূলত ৮০% গেম এবং ২০% দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সংমিশ্রনে তৈরি একটা আনিমে। মূলত কথা হল, সেই সময়ে জাপানের নৌ বাহিনী তাদের গর্বের এক অংশ ছিল আর এখন তাদের সব বিষয় মোয়েতে পরিবর্তন করা তাদের গর্ব। তো সেকাল এবং একাল, এই দুই ভিন্ন যূগের গর্বের ফলাফল হল Kancolle.
Kancolle-এর কাহিনী মূলত জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত জাহাজগুলোকে কিউট কিউট মেয়েদের রুপে তুলে ধরা এবং প্যাসিফিক ফ্রন্টের নৌযুদ্ধগুলোকে তাদের কাজ কর্মের মাঝে তুলে ধরা। এখানে আপনাকে সরাসরি আমেরিকার জাহাজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে তা দেখাবে না বরং ধারণা অনেকটাই ওরকম সে বিষয়টা ধরিয়ে দিবে। এই হল সাধারণ ব্যাখ্যা। তবে আসল কাহিনী চিনজুফু (naval district)-এর কানমুসুদের সাধারণ দিনগুলো তুলে ধরা। এ বিষয়টা আরো ভালো ভাবে উপলবদ্ধি করতে হলে আপনার অন্তত গেমটার সাথে পরিচিত হতে হবে।
Pacific War-এর নানা রকম সংঘর্ষ আনিমেটিতে কিছুটা প্যারোডির মত করে তুলে ধরেছে যেমন Battle of the Wake Island-কে প্যারোডি করে “W Island” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে । তবে Operation FS, RY, MI এগুলো কোন প্যারোডি নয় বরং বাস্তব মিশনগুলোর রেফারেন্স ছিল যেগুলো হল জাপানের ওশানিয়ার দ্বীপুঞ্জগুলো দখলের প্ল্যান আর MI হল মিডওয়ের রেফারেন্স ছিল এবং “curry ocean raid’ ছিল Indian Ocean Raid. এছাড়া প্রথম পর্বেই ইয়ূদাচি এবং মুৎসুকির আকাগি এবং কাগার প্রতি প্রশংসা সেটা ‘Pearl Harbour’-এর রেফারেন্স ছিল। এছাড়া ‘Battle of Santa Cruz’-এর ও হালকা রেফারেন্স ছিল আনিমেতে। আনিমের শেষ সংঘর্ষটি ছিল মূলত Battle of Midway-এর উপর তবে এটা জাপানি আনিমে এবং তাই সংঘর্ষটি একটু জাপানের পক্ষপাতেই থাকবে, আগে থেকে বলে দেই এটা স্পয়লার না। কথা হল রেফারেন্সগুলো Pacific War সম্পর্কে বেশ ভালো ধারণা থাকলে ধরতে পারবেন নাহলে পারবেন না। আর পাশাপাশি এক্সেডিশন মিশনের যে ব্যাপারটা নিয়ে অনেক সময়ই আনিমেতে উল্লেখ করে সেটা বুঝতে হলে আসলে গেমটা খেলতে হবে কিন্তু মূলত ‘Commerce Raiding’ বিষয়টাই এখানে এক্সপেডিশন হিসেবে দেখিয়েছে।
কাঙ্কোলের চরিত্রগুলোর মাঝে ইন্টারেকশন মূলত বাস্তব জীবনে জাহাজগুলোর নাবিকদলের একে অপরের প্রতি আচরণের উপরই তুলে ধরেছে। যেমন কাগা যেভাবে জুইকাকু এবং শৌকাকুকে ছোট চোখে দেখে বলা আছে বাস্তবেই সেই জাহাজগুলোর নাবিকদল তা করেছে। একেক চরিত্রের ব্যক্তিত্ব এবং ‘catch phrase’ মূলত গেমে যা আছে ওটাই হুবাহু বসায় দিয়েছে। গেমটা না খেলা থাকলে একেকজনকে একেক ‘unique’ চরিত্র হিসেবে উপোভগ করতে পারবেন তবে গেমটা খেলা থাকলে বিষয়টা আরেকভাবে মজা পাবেন, বুঝতে পারবেন যে সেইয়ূরা গেমে ব্যবহৃত লাইনগুলো আনিমের বহু দৃশ্যে অনেকবার রিপিট করেছে। তবে যারা গেমের সাথে পরিচিত নয় তারাও কয়েকটা চরিত্রের catch phrase ধরতে পারবেন, সেগুলো হল সেন্দাই-এর ‘yasen (night battle)’, কঙ্গৌর ‘Burning Love’, 6th Destroyer Division-এর একেকজনের catchphrase, আতাগোর ‘Pan Paka Pan’ এবং ইয়ূদাচির ‘POI’. যা সাধারণত কেউ ধরতে পারে না সেটা হল আকাগির ‘Manshinshite wa dame’, আশিগারার ‘Shouri wo Kizamu (will snatch victory) কিংবা Ueta Ookami (Hungry Wolf)’. আনিমের পার্শ চরিত্রগুলো সবাই কম-বেশি বেশ ইন্টারেস্টিং ছিল সুধু প্রধাণ চরিত্র ফুবুকি বাদে।
আনিমেটার সেইয়ূ কাস্টটা অনেক মজার। ২-৩ টা চরিত্র একই আনিমেতে একজন সেইয়ূকে দিয়ে কণ্ঠ দেওয়া বিষয়টা অসাভাবিক কিছুই নয় তবে একাধিক জনেক ৮-৯ টা করে জিনিশটা বড়ই হাস্যকর। আনিমেটায় সাকুরা আয়ানের ৮টা, তৌয়ামা নাওর ৬টা, সুজাকি আয়ার ৬টা রোল, ইগুচি ইয়ুকার ৩টা রোল পুরা কাস্টা হল হাজার হাজার চরিত্র কিন্তু ঘুরে ফিরে কণ্ঠ দিয়েছে মাত্র হাতেগোনা কয়েকজন। ফুজিতা সাকি, তানেদা রিসা, কায়ানো আই, হোরিয়ে ইয়ুই এরাও গেমটিতে অনেকগুলো চরিত্রের কণ্ঠ দিলেও কায়ানোন এবং হোচ্চানের (মামিয়া বাদে) কোন রোলই ছিল না, সাকির শুধু মাত্র আকাগি এবং রিসার নাচি ও হাগুরো থাকলেও মূলত কথা বলার সুজোগ পেয়েছে আশিগারা। তবে কণ্ঠ অভিনয় অসাধারণ, সাকুরা আয়ানে যে নাগাতোর মত এত ডিপ কণ্ঠে কথা বলতে পারে কাঙ্কোলে না চিনলে বিষয়টা অজানাই থাকতো। আর পুরো আনিমের এতোগুলো জাহাজের সেইয়ূ যে হাতেগোনা কয়েকজন বিষয়টা আপনি না ঘাটলে ধরতেই পারবেন না, মনে হবে অনেকগুলো সেইয়ূই আছে পুরো কাস্টে। আর একটা বিষয় পরিষ্কার করে দেই, আসলে গেমে প্রত্যেকটা জাহাজের ক্লাসের জন্য একজন করে সেইয়ূ এবং এর জন্যই একজন এতোগুলো চরিত্রের কণ্ঠ দিয়েছে। অবশ্য ব্যতিক্রমও আছে, যেমন শিরাৎসুয়ু ক্লাসের হারুসামের কণ্ঠ দিয়েছে কানেমোতো হিসাকো কিন্তু বাকি ৩ জনের কণ্ঠে ছিল তানিবে ইয়ুমি। আনিমেটির কাস্টে এ কয়জন ছাড়া নোতো মামিকো, কাওয়াসুমি আয়াকো, উয়েসাকা সুমিরেও আছে।
আনিমের আর্টটা সুন্দর খালি অনেকগুলো অ্যাকশনেই বেখাপ্পা CG ব্যবহার করেছে সে বিষয়টা বাদে। OST-টা অসাধারণ, ওপেনিং মীরো (https://goo.gl/0uczzL) এবং এন্ডিং ফুবুকি (https://goo.gl/ZA8wIU) এই দুইটা গান যে কারো ভালো লাগবে। থীমটার সঙ্গে মানানসই ছিল সবই।
গেমটা না খেলা থাকলে পুরা আনিমে জুড়ে ৩টা বিষয় আপনার কাছে অস্পষ্ট লাগবে (না লাগতোও পারে), সেইগুলোর উত্তর একটু বলে দিচ্ছি। প্রথমত Abyssal জিনিশটা কি? অনেকেই ধরে নেয় এটা হয়তো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আমেরিকা এবং ব্রিটেইনের জাহাজগুলোকে Abyssal হিসেবে দেখানো হয়েছে। ধারণাটা কিছু কিছু দিক থেকে ঠিক আবার কিছু কিছু দিক থেকে ভুল। গেমটার বসগুলো অনেক সময় কিছুটা হলেও বিভিন্ন বিখ্যাত নৌযুদ্ধে জাপানের প্রতিপক্ষগুলোর (আমেরিকা) প্যারোডি থাকে। যেমন মিডওয়ে প্রিন্সেস যে কি না আনিমের মূল খলনায়িকা থাকে সে কিন্তু মিডওয়ের আমেরিকার ক্যারিয়ারগুলোরই প্যারোডি। বিষয়টা কখনই পরিষ্কার করে না, ধারণা হিসেবেই রেখে দেয় কেননা আমেরিকা এখন জাপানের খুব ভালো বন্ধু। তবে মিডওয়ে প্রিন্সেসের ব্যবহৃত প্লেনগুলোর নাম ছিল Abyssal Cat Fighter, Abyssal Revenge Torpedo Bomber, Abyssal Hell Dive Bomber যেগুলো কিনা আমেরিকার ব্যবহৃত F6F Hellcat, TBF Avenger, SBC Helldiver এর প্যারোডি ছিল। এ ধারণাটা অনেকটাই সঠিক হলেও একেবারে সঠিক না কেননা আজকে থেকে গেমে শুরু হতে যাওয়া Spring 2016 ইভেন্টেই আসছে আমেরিকার অন্যতম বিখ্যাত রণজাহাজগুলোর একটি USS Iowa. তাই তাদের অনেকটা Bleach-এর Hollow-দের মত কিছু একটা ধরেই আনিমেটা উপভোগ করা শ্রেয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটি হল, ‘অ্যাডমিরাল কে’? গেমে মূলত অ্যাডমিরাল হলেন আপনি মানে গেমের প্লেয়ার। তো এই ক্ষেত্রে সাধারণত আপনার naval district-তে কানমুসুগুলোর (Ship girl) দৈনন্দিন জীবনই আনিমের রুপে দেখানো হয়েছে। আর ইয়ূদাচির বিবর্তনটাও অনেকে বুঝে না। এ বিষয়টা হল গেমে চরিত্রগুলোকে খেলায় লেভেল আপ করানো হয়। তো এক নির্দিষ্ট লেভেল পর্যন্ত লেভেল-আপ করলে জাহাজগুলোকে রি-মডেল করা যায়। তো এই রি-মডেলের দুই পার্ট আছে, প্রথমটা হল kai যেটা lvl 18,20,25,30 একেক জাহাজের জন্য এক লেভেলে করা যায়, ইয়ামাতো এবং মুসাশিপ জন্য সেটা lvl 60 অবশ্য। দ্বিতীয়টা হল kai ni যেটা lvl 55, 60, 65, 70, 75, 77 এ করা যায় এখানেও একেক জাহাজের জন্য একেক লেভেল আর অনেকেরই kai ni নেই অথবা এখনো আসে নাই। তো kai ni করলে জাহাজের চেহারা এবং রুপের পরিবর্তন ঘটে, ইয়ূদাচির ক্ষেত্রে ঠিক তাই হয়েছে। ফুবুকিকেও kai ni করা হয়েছিলো, চেহারায় পরিবর্তন হয়নি কিন্তু গেমে কিছুটা হলেও হয়। Kai ni করতে হলে জাহাজগুলোকে একাধিক ‘sortie’-তে পাঠাতে হয়, আনিমেতে সে বিষয়টা অনেকটাই মিশন এবং ট্রেইনিং-এর মাধ্যমে দেখানো হয়েছে।
আনিমেটি দেখার উপভোগ করার ক্ষেত্রে অনেক কিছুই নির্ভর করে আবার এতকিছু না চিন্তা করে সাধারণ একটা আনিমে হিসেবেও উপভোগ করা যায়। প্রধাণত গেমটা খেলা থাকলে একভাবে উপোভগ করবেন, না খেলা থাকলে আরেকভাবে। খেলা থাকলে চরিত্রদের অনেক কিছুই ধরতে পারবেন। আনিমেটাতে যে ওশিয়ো, কুরোশিয়ো, রিয়ুজৌ, হিরয়ূ, সোরয়ু, আসাশিয়ো, কাগোরৌ এরা ছিল এ বিষয়টা ধরতে পারবেন। না খেলা থাকলে ওদের সুধু চিনজুফুর সাধারণ কানমুসু হিসেবে দেখবেন অবশ্য বিষয়টা ধরতে পারা কিংবা না পারা এটা তেমন কোন বড় বিষয় না। জাহাজ এবং সংঘর্ষগুলো সম্পর্কে ধারণা থাকলে একভাবে উপোভগ করবেন, না থাকলে আরেকভাবে। মূলত আনিমেটা বুঝতে চাইলে wiki-তে নৌবাহিনির নানা রকম যুদ্ধের জাহাজ, জাপানের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাহাজ, নৌযুদ্ধ এ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা করুন কিংবা গেমটা খেলুন তারপর আনিমেটা ধরুন আর যদি উপভোগ করতে চান তাহলে সাধারণ ‘Daily life of cutie ship girls’ এভাবে ধরেই আনিমেটি উপভোগ করুন। যদি আপনার এই নানা রকম জিনিশ মোয়েফাই করা এ বিষয়টা নিয়ে আপত্যি থাকে তবে আমার মতে এই আনিমো না ধরাই ভালো।
ডিয়ার গ্রীন [মাঙ্গা রিভিউ] — Fatiha Subah
ডিয়ার গ্রীন
ধরণঃ ওয়ানশট
জানরাঃ ড্রামা, রোমান্স, শৌজো
মাঙ্গাকাঃ সাকুরা আমইয়ূ
মাইআনিমেলিস্ট রেটিং: ৭.৯০
ব্যক্তিগত রেটিং: ৮
মাত্র একটি চ্যাপ্টারের মাঝে কতটুকু গল্পই বা বলা সম্ভব? শৌজো ওয়ানশটগুলোতে সাধারণত নায়ক-নায়িকার ধুমধাম হঠাৎ দেখা হবে তারপর কিছু ঝক্কি-ঝামেলা পোহানোর পর মধুর মিলন হবে কাহিনী এখানেই শেষ। ভালো, নতুনত্ব থাকা গল্প পাওয়াই কঠিন। সেখানে অর্থপূর্ণ কোন ওয়ানশট মাঙ্গা তো আশা করাও ভুল। কিন্তু সাকুরা আমইয়ূ তার ডিয়ার গ্রিন মাঙ্গাটি মাত্র একটি চ্যাপ্টারেই তুলে ধরেছেন অর্থবহ একটি গল্প যেটির অভিজ্ঞতা বাস্তবে আমাদের সবারই কম-বেশি আছে।
কাউকে ভাইবোনের সাথে তুলনা করা আমাদের সমাজে নিত্তনৈমিত্তিক ব্যাপার। যখন এই তুলনা চলে তখন কেউ ভেবে দেখে না যে মানুষটিকে তুলনা করা হচ্ছে তার উপর তাদের মন্তব্য কি বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অপর ভাই বা বোনটি যদি হয় মেধাবী, প্রতিভাবান তাহলে তো কথাই নেই। আওয়ি শুন এমনই এক হতভাগা মেয়ে যার সেই ছোটবেলা থেকে গুণী বড় বোনের সাথে তুলনা চলে। সারাক্ষণ এই তুলনা দেখতে দেখতে সে বিরক্ত। শুন বাঁশি বাজাতে পছন্দ করলেও বোনের কারণে তাও আত্মবিশ্বাসের অভাবে ঠিক মত চালিয়ে যেতে পারে না। সবকিছুর প্রতি উদাসীনতা, নিজের ইচ্ছামত চলা আর শহরের লুকানো এক সুন্দর জায়গায় একা একা বাঁশি বাজানো নিয়েই তার জীবন। সেখানে শুন একদিন একজন তরুণ ফটোগ্রাফারের দেখা পায়। এই ফটোগ্রাফারই শুনের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনে। সবকিছু থেকে পালিয়ে বেড়ানোর স্বভাব আর হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতার চেয়ে নিজেকে আরও ভালো করে তোলা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা সে বুঝতে পারে।
শুন চরিত্রটির সাথে অনেকেই নিজের মিল খুঁজে পাবেন। বোন হিসেবে আওয়ি মিয়ো ভালো লাগার মত যদিও খুব ক্ষুদ্র সময়ের জন্য তাকে দেখা যায়। আর ইয়োহসুকের মত অনুপ্রেরণা জোগানো মানুষ বোধ হয় প্রতিটি মানুষের জীবনেই দরকার।
মাঙ্গাটির আর্ট খারাপ না আবার খুব আহামরি কিছুও না। একদম সচরাচর শৌজো মাঙ্গায় যেরকম আর্ট দেখা যায় তেমনটাই।
৫৪টি পৃষ্ঠা দিয়ে মাঙ্গাকা একটি কথাই বলতে চেয়েছেন। নিজেকে সম্মান করতে শিখ, নিজেকে ভালবাসতে শিখ। বড় বড় মাঙ্গাতেও এরকম সুন্দর কোন বার্তা পাওয়া যায় না। তাই ওয়ানশট হলেও এটি পড়ার মতই একটি মাঙ্গা।
Naruto Fan Fiction: ৪র্থ হোকাগে: সাকুমো হাতাকে — Rahat Rubayet
———–Naruto Fan Fiction——
———-৪র্থ হোকাগে: সাকুমো হাতাকে———
বোরুটো আজ তার প্রথম মিশন শেষ করেছে। সেই উপলক্ষে আজ পারিবারিক ভোজের আয়োজন করেছে মিনাটো। ফ্যামিলির সবাই বলতে, মিনা-কুশি, নারুটো, বরুটো, হিনাটা আর হিমাওয়ারি ছাড়াও আরেকজন রয়েছেন খাবার টেবিলে। মাউন্ট ওবুকুর সেইজ জিরাইয়া। এরো সেন্নিন বলেই যাকে চিনি আমরা। হাসি-ঠাট্টা আর খোশগল্পে পুরোটা সময় মাতিয়ে রাখলো সবাইকে। মাত্র সাত বছর বয়সেই অন্য গ্রামের ৫ জন জোউনিন শিনোবির হাত থেকে কিভাবে মিনাটো একা কুশিনাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে সে গল্প করতেই কুশিনা লজ্জায় লাল হয়ে যেতে থাকে। আড় চোখে একবার মিনাটোর দিকে তাকাল নারুটো আর বোরুটো দু’জনে। অপ্রভিত হাসি হাসছে মিনাটো।
নারুটো বলতে থাকে, “বাবা, তুমি কি তখন থেকেই মাকে ফলো করতে? না হলে জানলে কিভাবে যে…”
উত্তরে কিছু না বলে তার ভুবনভোলানো হাসি দিয়ে উদ্ধার পাবার চেষ্টা করে মিনাটো। জিরাইয়া সেন্সেই শেষমেশ উদ্ধার করলেন ওকে। এবার বলতে শুরু করলেন, কিভাবে নারুটো ওরোচিমারুকে ঘোল খাইয়ে ছেড়েছিল সে বর্ণনা। এসব শুনতে শুনতেই বোরুটো মনে মনে ভাবতে থাকে তার বাবা আর দাদা দু’জনেই কত বড় মাপের শিনোবি। ও জানে, নাইন টেইল সমেত মাদারা উচিহাকেও হারিয়েছে মিনাটো আর নারুটো মিলে। তাও আজ থেকে ১৫ বছর আগের কথা। এসব কথা ভাবতে ভাবতেই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে ও, “i will surpass both of you, Grandpa, Papa”
খাওয়া দাওয়া শেষ হতেই হিনাটা আর কুশিনা থালাগুলো রান্নাঘরে নিয়ে যেতে থাকে। বাকি সবাই তখনো খাবার টেবিলেই আড্ডায় মেতে আছে। প্রায় বিকেল পর্যন্ত চলল আড্ডা।
এর পর নেজী এসে বোরুটো আর হিমাওয়ারিকে নিয়ে মেলা দেখতে বেরুলো। বোরুটোর হাতটা এক হাতে ধরে হিমাওয়ারিকে কাধে নিয়ে হাটছে ও। একগাল হাসি আর নীলরঙা চোখে তাকিয়ে মেলার রঙবেরঙের জিনিষ দেখছে বোরুটো। হটাতই, দাঁড়িয়ে পরে নেজি। একপাশে সরে গিয়ে একটা ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“কি খবর, সাতোশি? মিশন শেষ করে ফিরলে কবে?”
বোরুটো বড় বড় চোখে সাতোশির দিকে তাকিয়ে থাকে। বয়সে বোরুটোর থেকে মাস দুয়েকের বড় সাতোশি। কিন্তু, এরই মাঝে চুনিন হয়ে গেছে। শুধু তাই না। চারিদিকে কানাঘুষা শোনা যাচ্ছে, রিসেন্ট পারফরমান্স বিবেচনায় এনে তাকে আরেক ধাপ প্রোমোশন দেয়া হবে। ভাবা যায়? বোরুটো যেখানে কেবল নিনজা একাডেমী থেকে গেনিন হয়ে বের হল, ওর বয়সেই জৌনিন হতে চলেছে সাতোশি। অবশ্য ওর দাদা সাকুমো হাতাকে গ্রামের ৪র্থ হোকাগে। সেক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা নিশ্চয়ই ও পায়, ভাবতে থাকে বোরুটো।
হিমাওয়ারি আর বোরুটোর সাথে কুশল বিনিময় শেষে নিজের ছেলেকে নিয়ে লাইব্রেরির দিকে এগোয় কাকাশি। কথা ছিল, চুনিন এক্সামের মার্কে কাকাশিকে(কাকাশির নিজের চুনিন এক্সামের মার্ক) পেছনে ফেলতে পারলে, ছেলে সাতোশিকে জিরাইয়া সেন্সের নতুন বই কিনে দেবে ও। সাতোশি চুনিন এক্সামের ইতিহাসে রেকর্ড মার্ক তুলে পেছনে ফেলেছে কাকাশিকে। এখন চুনিন এক্সামের ইতিহাসের ২য় সেরা স্কোরধারি সে। ১ম স্থান যৌথভাবে মিনাটো আর ইটাচির দখলে।
ওয়েল, সাতোশির কাছে জিরাইয়া সেন্সের ‘মেক আউট ট্যাক্টিক্স’ এর শেষ খন্ড বিক্রি করবে না লাইব্রেরিয়ান। তাই, কাকাশিই কিনে দেয় বাধ্য হয়ে।
দ্রুত পা চালায় কাকাশি। রাতে সপরিবারে রিন-অবিতোর বাসায় দাওয়াত আছে ওর ।
—-
হোকাগে অফিস। সাকুমো হাতাকে অফিসের জানালা ধরে দাড়িয়ে আছেন। ধূসর চোখে বাইরের শান্ত পরিবেশ দেখছেন। বয়সের সাথে সাথে মন্থর হয়ে আসছে তার শরীরও। কিছুদিন পর হয়তো মস্তিষ্কেও দানা বাধবে স্থবিরতা-ভাবতে লাগলেন তিনি। তার আগেই সবকিছু গুছিয়ে নিতে হবে। তারপর এই চেয়ারে কাউকে বসিয়ে দিয়ে অবসর নেবেন তিনি। লর্ড থার্ড অবসর নেবার পর প্রায় ২৫ বছর গ্রামে শান্তি বজায় রেখেছেন। একের পর এক উদ্ভট সমস্যার জট খুলে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোর মধ্যেও সাম্যাবস্থা বজায় রেখেছেন। যেকোন গ্রামের যেকোন বিপদেই পাশে দাড়িয়েছেন। এই তো সেদিনও হিডেন রেইন ভিলেইজ আক্রমণ করে বসে আকাটসুকিরা। সঙ্গে সঙ্গেই তিনজনের একটা ফুলস্কেল ব্যাটেল টিম পাঠিয়ে দিলেন-যদিও তা হিডেন লিফের জন্যে মোটেই মাথা ব্যাথার কারন ছিল না। তবুও, গ্রামগুলোয় শান্তি বজায় রাখতে যে কোন মূল্য দিতে প্রস্তুত তিনি। তাই, ফুলস্কেল ব্যাটেল হবে জেনেও হাজার খানেক শিনোবির সামনে- অনেকটা নিশ্চিত মৃত্যুর দিকেই ঠেলে দেন নিজ গ্রামের সব থেকে চৌকশ ৩ জন শিনোবিকে। মিনাটোকে ইনচার্জ করে কাকাশি আর শিসুইকে সে মিশনে পাঠান তিনি।
ভয়ঙ্কর এক বাজিই ধরেন তিনি। এমন মিশনে যাবার জন্যে কাউকে অর্ডার করা যায় না। কিন্তু, মিনাটোর ওপর আস্থা ছিল তার। যে শিনোবি, নাইন টেইল আর মাদারাকে তার ১৭ বছরের ছেলেকে নিয়ে আটকে দিতে পারে, অন্তত তার প্রতিটা কথার গুরুত্ব বোঝেন সাকুমো। তাই, মিনাটো যখন একাই এই নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে ঝাপ দেবার জন্যে ওর ডিসিশান জানাল, বাধা দেন নি তিনি। তবে, নিজের ছেলে অর্থাৎ, কাকাশিকেও সাথে দিয়ে দেন ওর। কাকাশিকে আগুনে ঝাপ দিতে বলার অধিকার তিনি রাখেন। নিজের ছেলেকে ভালই চেনেন সাকুমো।
ওদিকে একেবারে শেষ সময়ে আরো দু’জন স্বেচ্ছাসেবক জুটে যায়-ইটাচি আর শিসুই। কিন্তু, ইটাচিকে লিস্ট থেকে বাদ দেন সাকুমো কারন, শিসুই আর ইটাচির কেউই না ফিরলে, উচিহাদের ভেতর অসন্তোষ দানা বাধবে, সেই সাথে দূরত্বও তৈরি হবে- যেটা তিনি চান না।
এক হাজার এর বিরুদ্ধে মাত্র ৩ জন। এক অসম আর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মারা পড়ে প্রায় ছয়শোর ওপর শিনোবি। আশ্চর্য জনক হলেও সত্য মিনাটো, শিসুই, কাকাশি কেউই সিরিয়াসলি ইঞ্জুরড পর্যন্ত হয় নি। কিভাবে এই মরণপণ যুদ্ধে স্রোতের মতো আসতে থাকা শত্রুকে হারিয়ে প্রায় অক্ষতভাবেই গ্রামে ফিরলো ওরা, সে গল্প আরেকদিন।
এসব কথা ভাবতে ভাবতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। পরবর্তীতে কাকে তার চেয়ারে বসাবেন। দরোজায় নক হতেই পিছন ফিরলেন সাকুমো। জিরাইয়া ঢুকছে রুমে। হাসিমুখে জিজ্ঞেস করলেন,
“তারপর, কি খবর তোমার? সাহিত্যচর্চা কেমন চলছে?”
-“তা তোমার ছেলেকেই জিগ্যেস করো না। সে-ই ভালো বলতে পারবে।”
খোঁচাটা হাসিমুখেই হজম করলেন সাকুমো। তারপর, শান্তস্বরে বললেন, “সারাটা জীবন কি এমন ভবঘুরে হয়েই কাটিয়ে দেবে নাকি?”
-“এই বয়সে বিয়ে থা করতে বলছ নাকি?”
সাকুমো কিছু বললেন না। তিনি জানেন জিরাইয়া বিয়েশাদি করে থিতু হওয়ার মানুষ না, ভবঘুরে টাইপ। যে’কদিন বাঁচবে, এভাবেই কাটিয়ে দেবে। দীর্ঘশ্বাস টা চাপা দিয়ে কাজের কথা পারলেন তিনি, “আকাটসুকির হালচাল কেমন, কোন খবর পেলে?”
-“ওরা আপাতত রেডিও সাইলেন্স মেইন্টেইন করছে। ”
“তাহলে তো ভালই”, বলে উদাস চোখে গ্রামের যেখানটায় পাথরে খোদাই করে হোকাগেদের প্রতিকৃতি তৈরি করা হয়েছে সেদিকটায় তাকিয়ে থাকলেন। ভাবতে লাগলেন, তার অবসর নেবার সময় এসে পরেছে।
—-
ওদিকে সারাদাকে কুনাই-জ্যুতসু শেখাচ্ছে ইটাচি। ইতিমধ্যে ফায়ার বল জ্যুতসু আয়ত্তে নিয়ে এসেছে ও। কুনাই জ্যুতসুও খুব তাড়াতাড়িই রপ্ত করছে। এতো দ্রুত শিখে ফেলার ক্ষমতা দেখে বিস্মিত হল ইটাচি। কিছুক্ষন কি যেন ভাবল, তারপর সারাদাকে জিগ্যেস করল,
“আচ্ছা সারাদা, তোমার জীবনের লক্ষ্য কি?”
-“আমি? আমি বড় হয়ে হোকাগে হব”, বলেই দু’হাতে থাকা আটটা কুনাই ছুড়ে মারলো। লক্ষ্য- গাছের সাথে লাগোয়া আটটা হিট পয়েন্ট, সবগুলোই লক্ষ্যভেদ হল।তারপর, ঘুড়ে দেখল, ইটাচি উঠে দাঁড়িয়েছে।
“আজকের মতো ট্রেইনিং শেষ। চলো, বাড়ি ফেরা যাক। দেরি হলে আবার তোমার মা রাগ করবেন”, স্মিতহেসে বলল ইটাচি।
-“কিন্তু, তুমি না আজ বুনশিন জ্যুতসু শেখাবে….”
ইটাচি মুখে হাসিটা ধরে রেখেই ইশারায় কাছে ডাকে সারাদাকে। কাছে আসতেই কপালে টোকা দেয়ার মতো আলতো করে আঙুল ছোঁয়ালো যেন। তারপর, ওকে নিয়ে বাড়ির পথ ধরে।
————————————————
এ পর্যন্ত লিখেই থামলেন এ গল্পের লেখক। তিনি তার গল্পের স্বল্প পরিসরে সবাইকে সুখি একটা জীবন দেয়ার চেষ্টা করেছেন। চেষ্টা করেছেন, দুঃখ-কষ্ট ব্যাধি-মৃত্যুহীন একটা সুখি লিফ ভিলেজেইর ছবি আঁকতে, যেখানে সবাই মিলে শান্তিতে বাস করতে পারবে।
Ajin [রিভিউ] — Nazmus Sakib Oyon
আনিমের নাম : Ajin
এপিসোড : ১৩
ম্যাল রেটিং- ৭.৮৯
ব্যক্তিগত রেটিং- ৮.৪
জনরা – Seinen, Action, Horror, Mystery, Supernatural
সিনপ্সিস : আজিন নামক এক ধরনের বিশেষ প্রজাতি আবিষ্কৃত হয় আফ্রিকাতে সতের বছর আগে। এর পর পুরো দুনিয়া জুড়ে আরও বেশ কিছু সংখ্যক আজিন আবিষ্কৃত হয়। আজিনরা অমর এবং অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী। আনিমের প্রধান চরিত্র কেই, একজন সাধারণ হাই-স্কুলের ছাত্র। অবশ্য একটি ঘটনা তার পুরো জীবন কে পাল্টে দেয়।
চরিত্রসমূহ: কেই নাগাই নামের একজন ছাত্র আনিমেটার প্রধান চরিত্র। এছাড়াও কেই এর বাল্যবন্ধু কাইতো, বোন এরিকো, হেলথ মিনিস্ট্রি এর অফিসার তোসাকি, আজিন সাতউ ইত্যাদি চরিত্র সহকারী রুপে থাকে এবং কাহিনীর এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে।
আর্ট এন্ড এনিমেশন : আনিমেটার আর্ট বেশ পরিচ্ছন্ন ও সাবলীল। চরিত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড বেশ সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এনিমেশন এর ক্ষেত্রে CGI এনিমেশন ব্যবহার করা হয়েছে।
সাউন্ড : আনিমেটার ওপেনিং সং ভালো। এন্ডিং মোটামুটি। কিন্তু এর ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক অসাধারণ। আনিমের হরর এবং সুপারন্যাচারাল আবহ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক এর মাধ্যমে খুব ভালোভাবে ফুটে উঠেছে।
আনিমেটার যে দিকগুলো ভালো লেগেছে :
১। প্রধান চরিত্র ” I have done nothing wrong” ঘরানার হলেও এই ধরনের অন্য চরিত্রগূলো হতে বেশ আলাদা। যেখানে এই ধরনের চরিত্রসমূহ সহজে নিজেদের পরিবর্তনের
সাথে খাপ খাওয়াতে পারে না, কেই সেদিক দিয়ে অনেকটাই ভিন্ম। সে বেশ চালাক এবং সহজেই খাপ খাইয়ে নেয়। বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হলেও সে নিজ বুদ্ধি খাটিয়ে বেরিয়ে আসে।
২। CGI এনিমেশনের ব্যবহারের ফলে আনিমেটার ভূতুড়ে আবহ বেশ ভালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে।
৩। অসাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক পুরো আনিমেটাকেই ভিন্মমাত্রা দিয়েছে।
আনিমের যে দিকগুলো খারাপ লেগেছে :
১। CGI এনিমেশনের ফলে চরিত্রগুলোর চলাফেরা কিছুটা আড়ষ্ট এবং ধীরগতির মনে হয়েছে। ফলে এর বেশ ভালো একশন দৃশ্যগুলো পুরোপুরিভাবে ফুটে উঠেনি।
সবশেষে একটা কথাই বলবো, আনিমেটা বেশ ভালো। দেখে টাইম ওয়েস্ট বলে মনে হবে না।

















